কুরবানি দেওয়ার ফজিলত, 'কুরবানি' এর গুরুত্ব ও ফজিলত, কুরবানীর গুরুত্ব ও ফযিলত, কুরবানির ফজিলত ও আহকাম, কুরবানির কিছু জরুরি মাসায়েল

0



আজকের বিষয়: ঈদুল আযহা ও কুরবানির ফজিলত,ঈদুল আযহা ও কুরবানির আমল, ঈদুল আযহা ও কুরবানির মাসআলা, কুরবানি দেওয়ার ফজিলত, 'কুরবানি' এর গুরুত্ব ও ফজিলত, কুরবানীর গুরুত্ব ও ফযিলত, কুরবানির ফজিলত ও আহকাম, কুরবানির কিছু জরুরি মাসায়েল,কুরবানীর ফাযায়েল ও মাসায়েল, কুরবানির ফজিলত ও মাসআলা

কুরবানি কী? কুরবানির ফজিলত কী? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের প্রশ্নের উত্তরে সুস্পষ্ট ও সুন্দর জবাব দিয়েছেন। যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন হজরত যায়েদ ইবনে আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু। কী আছে সেই হাদিসের বর্ণনায়?

সাহাবায়ে কেরাম একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেনহে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই কুরবানি কি?

জবাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘এটা তোমাদের পিতা হজরত ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর সুন্নাত (রীতিনীতি)।

তাঁকে আবারও জিজ্ঞাসা করা হলোহে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এতে আমাদের কি ফজিলত (পূণ্য রয়েছে)?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন, ‘(কুরবানির জন্তুর) প্রতিটি লোমের পরিবর্তে (একটি করে) নেকি রয়েছে।’

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

তাঁরা আবারও জিজ্ঞাসা করলেনপশম বিশিষ্ট পশুর বেলায় কি হবে? (পশুরতো পশম অনেক বেশি)। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনপশমওয়ালা পশুর প্রতিটি পশমের পরিবর্তেও একটি করে নেকি রয়েছে। (মুসনাদে আহমদইবনে মাজাহমিশকাত)

আল্লাহর নৈকট্য পাওয়ার আশায় জিলহজ মাসের ১০-১২ তারিখ উট, গরু-মহিষ ও ছাগল-ভেড়া জবেহ করাই হলো কুরবানি। আর এ পশুর পশম যতবেশিই হোক না কেন, প্রতিট পশমের বিনিময়ে রয়েছে একটি করে সাওয়াব।

আরবি করব বা কুরবান (قرب বা قربان) শব্দ থেকে উর্দূ ও ফার্সিতে কুরবানি শব্দটির উৎপত্তি। যার অর্থ দাঁড়ায়-নৈকট্য বা সান্নিধ্য। কুরবান হল, প্রত্যেক সেই বস্তু, যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। আর সেখান থেকেই ফারসী বা উর্দু-বাংলাতে গৃহীত হয়েছে ‘কুরবানি’ শব্দটি।

মুসলমানের জন্য কুরবানি করা মহান আল্লাহর নির্দেশ। কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনাও তাই। আল্লাহ তাআলা বলেন-

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ

‘অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ পড় এবং কুরবানি কর।’ (সুরা কাউসার : আয়াত ২)

আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে নামাজ ও কুরবানি করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সবচেয়ে বেশি এ দুইটি ইবাদত করেছেন। তিনি যেমন অধিক নামাজ আদায় করেছেন তেমনি বেশি কুরবানিও করেছেন।

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কুরবানি প্রসঙ্গে একাধিক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তাহলো-

১. হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১০ বছর মদিনায় অবস্থান করেছেন। মদিনায় অবস্থানকালীন প্রত্যেক বছরেই কুরবানি করেছেন।’ (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি)

২. হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীর্ঘ (ও সুন্দর) দুই শিং বিশিষ্ট সাদা-কালো মিশ্রিত (মেটে বা ছাই) রঙের দুইটি দুম্বা কুরবানি করেছেন।’ (বুখারি, মুসলিম)

৩. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো বছর কুরবানি থেকে বিতর থাকেননি। তিনি কর্মে দ্বারা যেমন কুরবানি করতে অনুপ্রাণিত করেছেন আবার বক্তব্য দিয়ে কুরবানির প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। হাদিসে এসেছে-



আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

‘যে ব্যক্তি (ঈদের) নামাজের আগে (পশু) জবেহ করে সে নিজের জন্য জবেহ করে। আর যে নামাজের পর জবেহ করে তার কুরবানি সিদ্ধ হয় এবং সে মুসলমানদের তরিকার অনুসারী হয়।’ (বুখারি)

৪. সামর্থ্যবানদের মধ্যে যারা কুরবানি করে না, তাদের প্রতি তিনি এভাবে হুশিয়ারী করেছেন। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে কুরবানি করে না, সে যেন অবশ্যই আমাদের ঈদগাহের ধারে-কাছেও না আসে।’ (মুসনাদে আহামদ, ইবনে মাজাহ, মুসতাদরেকে হাকেম)

মুসলিম উম্মাহ এ ব্যাপারে একমত যে, কুরবানি কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা মোতাবেক বিধেয়। এ ব্যাপারে কারো কোনো বিরোধ নেই। কিন্তু কুরবানি করা ওয়াজিব না সুন্নাত -এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। যে কারণে সম্পদের মালিকের জন্য অনেক ইসলামিক স্কলার ও সংস্কারক কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে মতামত দেন। আবার অনেক সাহাবা, তাবেঈ, তাবে-তাবেঈ এবং ইসলামিক স্কলারগণ কুরবানিকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বলেছেন।

তবে মুসলিম উম্মাহর জন্য এটা উত্তম যে, সামর্থ্য থাকলে কুরবানি ত্যাগ না করাই উত্তম। সক্ষম হলে নিজের ও পরিবার-পরিজনের পক্ষ থেকেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরবানি করা। যার মাধ্যমে যেমন আল্লাহর নির্দেশ মানা হয় তেমনি সাহাবাদের অনুসরণ ও অনুকরণেও রয়েছে বিশাল সাওয়াবের হাতছানি।

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

মনে রাখতে হবে

কুরবানি অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে অর্থ খরচ করে স্বার্থ ত্যাগ করে এ ইবাদত করতে হয়। এতে যেমন হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সুন্নাত জাগ্রত হয়। আবার ইসলামের নির্দশনও প্রকাশ পায়।

কুরবানির মাধ্যমে পরিবার ও দরিদ্রজনের উপর খরচ করা হয় এবং আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের জন্য হাদিয়া ও উপঢৌকন পেশ করার সুযোগ হয়। কুরবানির মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য করতে পেরেই মুমিন মুসলমান আনন্দলাভ করতে পারে। আর সেই খুশিই হলো কুরবানির খুশি।

এমনটি যেন না হয়

হজ না করে হজের টাকা সাদকাহ করলে যেমন ফরজ আদায় হয় না। তেমনি কুরবানি না করে কুরবানির টাকা গরিব-দুঃখীর মাঝে বণ্টন করলেও কুরবানির হক আদায় হবে না। কেননা কুরবানিতে আল্লাহর জন্য পশু জবেহ করা হলো ইবাদত ও দ্বীন ইসলামের নির্দশন এবং প্রতীক। এ কারণেই ইমাম ইবনে তাইমিয়া বলেন-

‘কুরবানি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ এবং সমগ্র মুসলিম জাতির এক আমল। আর কোথাও কথিত নেই যে, তাঁদের কেউ কুরবানির পরিবর্তে তার মূল্য সাদকাহ করেছেন। আবার যদি তা উত্তম হতো তবে তাঁরা নিশ্চয়ই তার ব্যতিক্রম করতেন না।’ (ফাতাওয়ায়ে ইবনে তাইমিয়া)

কুরবানি দ্বারা জবেহ উদ্দেশ্য। সুতরাং পশু জবেহ করা কুরবানির মূল্য সাদকাহ করা অপেক্ষা উত্তম। যদিও সে তা কুরবানির চেয়ে পরিমাণে অধিক হয়। কারণ, কুরবানিতে জবেহ হলে উদ্দেশ্য। আল্লাহ তাআলা কুরআনে কুরবানি সম্পর্কে বলেছেন-

১. فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ

‘অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের জন্য নামাজ পড় এবং কুরবানি কর।(সুরা কাউসার : আয়াত ২)

২. قُلْ إِنَّ صَلاَتِيْ وَنُسُكِيْ وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِيْ للهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ

‘(হে রাসুল! আপনি) বলুন, অবশ্যই আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমার জীবন, আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই।’ (সুরা আনআম : আয়াত ১৬২)

সুতরং কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী নামাজ ও কুরবানির ইবাদত অর্থ দিয়ে আদায় করলে হবে না। এর অন্যতম প্রমাণ হলো- হজের ক্ষেত্রে যারা তামাত্তু ও কিরান হজ করবেন, তারা যদি কুরবানির পরিবর্তে ৩গুণ বা তারচেয়েও বেশি সাদকাহ করে তাতে তার পরিবর্তন হবে না। ঠিক কুরবানিও তাই। আর আল্লাহ তাআলাই অধিক জানেন।’ (তুহফাতুল মাওদুদ)

কুরবানি নামাজের মতো স্বাতন্ত্র ইবাদত। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে কুরবানির ফজিলত ও সাওয়াব অনেক বেশি। আর এটা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সুন্নাত হওয়ার কারণেই প্রিয়নবি নিজে তা পালন করেছেন। সে কারণে তা উম্মতে মুহাম্মাদির সামর্থবানদের জন্যও তা আদায় করা আবশ্যক।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর প্রত্যেক সামর্থ্যবানকে কুরবানি করার তাওফিক দান করুন। কুরবানির ফজিলত পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।



ধর্মপ্রান মুসলমানদের বড় ধর্মীয় উৎসবগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, ঈদুল আজহা। হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হয়ে থাকে। ঈদুল আজহার সবচেয়ে বড় আমল হলো, কুরবানি করা। ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মুহাম্মদ, লাইস ইবন সাআদ, ইমাম আওযায়ী প্রমুখের মতে, সামর্থনবানদের উপর কুরবানি করা ওয়াজিব।

হযরত মুহাম্মদ (সা.) এ সম্পর্কে ইরশাদ করেন, তোমরা মোটা তাজা পশু দেখে কোরবানি কর, কারণ এ পশুই পুলসিরাতের বাহক হবে। (মুসলিম-২৬৩৯)

কুরবানি

কোরবানি (قربانى) শব্দটি আরবি।‘কোরবানুন’ মাসদার থেকে শব্দটির উৎপত্তি। কুরবানি শব্দের অর্থ হলো, নিকটবর্তী হওয়া, সান্নিধ্য লাভ, আত্নত্যাগ, জবেহ ইত্যাদি। শরীয়তের পরিভাষায়, মহান আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তোষ লাভের আশায় নির্ধারিত তারিখের মধ্যে হালাল কোন পশু আল্লাহর নামে জবেহ করা।

কুরবানির গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন:

وَلِكُلِّ اُمَّةٍ جَعَلۡنَا مَنۡسَكًا لِّيَذۡكُرُوا اسۡمَ اللّٰهِ عَلٰى مَا رَزَقَهُمۡ مِّنۡۢ بَهِيۡمَةِ الۡاَنۡعَامِ ؕ فَاِلٰهُكُمۡ اِلٰـهٌ وَّاحِدٌ فَلَهٗۤ اَسۡلِمُوۡا​ ؕ وَبَشِّرِ الۡمُخۡبِتِيۡنَ ۙ‏-

‘আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানি নির্ধারণ করেছি যাতে তারা হালাল পশু জবেহ করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। (সূরা হজ-৩৪)।

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন:
لَنۡ يَّنَالَ اللّٰهَ لُحُـوۡمُهَا وَلَا دِمَآؤُهَا وَلٰـكِنۡ يَّنَالُهُ التَّقۡوٰى مِنۡكُمۡ​ؕ كَذٰلِكَ سَخَّرَهَا لَـكُمۡ لِتُكَبِّرُوا اللّٰهَ عَلٰى مَا هَدٰٮكُمۡ​ؕ وَبَشِّرِ الۡمُحۡسِنِيۡنَ‏-

‘নিশ্চই আমার নিকট কোরবানির পশুর গোশত ও রক্ত কিছুই কবুল হয় না, তবে আমার নিকট পৌঁছে একমাত্র তাকওয়া। (সূরা হজ-৩৭)।

হয়রত আয়েশা (রা.) বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.)ইরশাদ করেছেন, ‘কোরবানির দিন কোরবানির চেয়ে উত্তম কোনো আমল আল্লাহর কাছে নেই।’

হযরত যায়দ বিন আরকাম রা.থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সাহাবিগণ বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এই কোরবানী কী? তিনি বলেন, তোমাদের পিতা ইব্রাহিম আ. এর সুন্নত। তারা পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন, হে আল্লাহর রাসূল! এতে আমাদের জন্য কী (সওয়াব) রয়েছে? তিনি বলেন, প্রতিটি পশমের বিনিময় নেকি হবে। সাহাবাগণ বললেন,দুম্বা ও ভেড়ার পশমের কী হুকুম? তিনি বলেন, দুম্বা ও ভেড়ার প্রতিটি পশমের বিনিময়েও একটি করে নেকী রয়েছে। (সুনানে ইবনে মাজাহ-৩১২৭)

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

কুরবানির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটঃ হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীনের কাছে নেক সন্তানের দোয়া করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর এ দোয়া কবুল করে সহনশীল এক ছেলে সন্তান দান করেছিলেন। তিনি হলেন হজরত ইসমাইল (আ)।

হজরত ইবরাহিম (আ)-এর প্রার্থনাঃ

رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ 

’হে আমার প্রভু! আমাকে এক সৎ ছেলে সন্তান দান করুন।’ (সুরা সাফফাত-১০০)

হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর বয়স যখন মতান্তরে ৯০ বা ১০০ বা ১২০ বছর তখন বিবি হাজেরার গর্ভে পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করলো। তার নাম রাখা হয় ইসমাঈল। এই পুত্রকে নিয়ে কিছুদিন পর কঠিন পরীক্ষায় উপনীত হলেন পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.)।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,
অতঃপর সে (ইসমাঈল) যখন পিতার সঙ্গে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হলো, তখন ইব্রাহিম তাকে বলল, বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে জবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কি দেখ। সে বলল, পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। যখন পিতা-পুত্র উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইব্রাহিম (আ.) তাকে জবেহ করার জন্য শায়িত করল, তখন আমি তাকে ডেকে বললাম : হে ইব্রাহিম, তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে। আমি এভাবেই সত্কর্মীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। নিশ্চয় এটা এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তার পরিবর্তে দিলাম জবেহ করার জন্য এক মহান জন্তু।’ (সূরা সাফফাত-১০২-১০৭)

এই ঘটনাকে স্মরণ করে সারা বিশ্বের মুসলমানগন মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য প্রতি বছর এই দিবসটি উদযাপন করে থাকে।

কুরবানির গুরুত্বপূর্ণ আমল

  • গোসল করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, সর্বোত্তম কাপড় পরিধান করা সুন্নত।
  • ঈদের সালাত আদায় করা ওয়াজিব।
  • পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নত।
  • মসজিদের বাইরে উন্মুক্ত ময়দানে ঈদের জামাত করা সুন্নত।
  • এক রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ঈদগাহ থেকে ফিরে আসা সুন্নত।
  • ঈদের জামাত শেষে খুতবা শোনা ওয়াজিব।
  • ঈদগাহে যাওয়া ও আসার পথে নিম্নোক্ত তাকবির পাঠ করা সুন্নত:

اَللهُ َكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، لَاإِلَهَ إِلاَّ اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ وَلِلهِ الحَمْدُ (আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ)।

ঈদের দিনে শুভেচ্ছা বিনিময়

হাফেজ ইবনে হাজার রহ. বলেন ‘যুবাইর ইবনে নফীর থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় সাহাবায়ে কেরাম ঈদের দিন সাক্ষাৎকালে একে অপরকে বলতেন, تَقَبَّلَ اللهُ مِنَّا وَمِنْكَم (তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম)। অর্থ আল্লাহ তা‘আলা আমাদের ও আপনার ভালো কাজগুলো কবুল করুন। (ফাতহুল বারী শরহু সহীহিল বুখারী-৬/২৩৯, আসসুনানুল কুবরা লিলবাইহাকী ৬৫২১)

কুরবানির হুকুম

কুরবানি প্রত্যেক স্বাধীন মুসলমান মুকিমের ওপর ওয়াজিব অর্থাৎ যিনি কুরবানির ঈদের দিন নিসাব পরিমান সম্পদের মালিক থাকবে। জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ সকাল থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোনো মুসলিম যদি সাহেবে নিসাব অর্থাৎ সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ ভরি রৌপ্য অথবা এর যেকোনো একটির মূল্যের সমপরিমাণ নগদ অর্থ বা ব্যবসার পণ্যের মালিক হন, তাঁর ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ ঈদের নামাজ পড়ার পর থেকে জিলহজ্ব মাসের বারো তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত কোরবানি করা যাবে।

সামর্থ্য থাকা সত্বেও যারা কুরবানী করে না,তাদের প্রতি কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারণ করে রাসুল (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে। (ইবনে মাজাহ-৩১২৩)

কুরবানির পশুর বয়স

ইসলামি শরিয়ত অনুসারে নির্ধারিত ৬ ধরনের গৃহপালিত পশু দিয়ে কুরবানি করা যাবেঃ উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়াও দুম্বা। এগুলোকে পবিত্র কুরআনের ভাষায় বলা হয় ‘বাহীমাতুল আনআম’।

উটের বয়স ৫ বছর হতে হবে। গরু/ মহিষ এর বয়স ২ বছর হতে হবে। এবং একটি গরু/মহিষে ৩,৫ বা ৭ জন শরীক হতে পারবেন। ছাগল, দুম্বা, ভেড়ার ক্ষেত্রে ১ বছর হতে হবে।

হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, হরজত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা (কোরবানিতে) ‘মুছিন্না’ ছাড়া জবেহ করবে না। তবে সংকটের অবস্থায় ছ’মাস বয়সী ভেড়া-দুম্বা জবেহ করতে পারবে।’ (সহিহ মুসলিম-২/১৫৫)

যে ধরনের পশু দিয়ে কুরবানি হবে না

দুই চোখ অন্ধ, এক চোখ অন্ধ, পা ভাঙা যা জবেহের স্থান পর্যন্ত হেটে যেতে পারে না, এমন বু্ড়ো যে হাড্ডিতে মজ্জা নেই এ ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি করা যাবে না। কান কাটা ও লেজ কাটা, অথবা কান অথবা লেজের বেশি অংশ অংশ কাটা পশু দিয়ে কুরবানি করলে হবে না। তবে কান বা লেজের বেশি অবশিষ্ট থাকলে বৈধ হবে।

হজরত বারা ইবনে আযিব (রা.) কোরবানির পশু সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) হাত দিয়ে ইশারা করেছেন এবং বলেছেন, চার ধরনের পশু দ্বারা কোরবানি করা যায় না। সেগুলো হলো- যে পশুর এক চোখের দৃষ্টিহীনতা স্পষ্ট, যে পশু অতিশয় রুগ্ন, যে পশু সম্পূর্ণ খোড়া এবং যে পশু এত শীর্ণ যে- তার হাড়ে মজ্জা নেই। লোকেরা বলল, আমরা তো দাঁত, কান ও লেজে ত্রুটিযুক্ত প্রাণী (দ্বারা কোরবানি করা)ও অপছন্দ করি? তিনি বললেন, যা ইচ্ছা অপছন্দ করতে পারো। তবে তা অন্যের জন্য হারাম করো না। (সহিহ ইবনে হিব্বান-৫৯১৯)

সর্বোপরি, ঈদুল আজহার গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। পশু জবাই করে গোশত আহার করার মধ্যে কুরবানি সীমাবদ্ধ নয়। কুরবানি হচ্ছে, আন্তত্যাগ। অর্থাৎ নিজেদের বিভিন্ন কিছুর মাধ্যমে আল্লাহকে সন্তুষ্টি করার জন্য আমরা যা কিছু করি। তাই প্রত্যেক সামর্থবানদের উচিত একনিষ্ঠভাবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরবানি করা।

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
Post a Comment (0)

islamicinfohub Top Post Ad1

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !
To Top