কোরআন ও হাদিসের আলোতে সূরা নূর সকল তথ্য আল,নূর আলমল ও ফজিলত, সূরা নূর কতো বার পাঠ করলে কোন আলম ও ফজিলত, সূরা নূর নাযিলের কারন গুলো কি কি

0

 

সূরা নূর বাংলা উচ্চারণ সহ অনুবাদ,সূরা নূর বাংলা উচ্চারণ, সূরা আল নূর বাংলা তরজমা,সূরা নূর বাংলা তাফসীর, আমল সূরা আল নূর, সকল আমল সূরা আল নূর

২৪ . আন নূর - ( النّور ) | আলো

মাদানী, মোট আয়াতঃ ৬৪


بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ


سُورَةٌ أَنزَلْنَاهَا وَفَرَضْنَاهَا وَأَنزَلْنَا فِيهَا آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ لَّعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ


ছূরাতুন আনঝালনা-হা-ওয়া ফারাদনা-হা-ওয়া আনঝালনা-ফীহাআ-য়া-তিম বাইয়িনাতিল লা‘আল্লাকুম তাযাক্কারূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এটি একটি সূরা, যা আমি নাযিল করেছি এবং যা (অর্থাৎ যার বিধানাবলী) আমি ফরয করেছি এবং এতে আমি নাযিল করেছি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এটা একটা সূরা যা আমি নাযিল করেছি, এবং দায়িত্বে অপরিহার্য করেছি। এতে আমি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এটা একটি সূরা, এটা আমি অবতীর্ণ করেছি এবং এটার বিধান-কে অবশ্যপালনীয় করেছি, এতে আমি অবতীর্ণ করেছি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।



الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ ۖ وَلَا تَأْخُذْكُم بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۖ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِّنَ الْمُؤْمِنِينَ


আঝঝা-নিয়াতুওয়াঝঝা-নী ফাজলিদূকুল্লা ওয়াহিদিম মিনহুমা-মিআতা জালদাতিওঁ ওয়ালা-তা’খুযকুম বিহিমা-রা’ফাতুন ফী দীনিল্লা-হি ইন কুনতুম তু’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়াল ইয়াওমিল আ-খিরি ওয়াল ইয়াশহাদ ‘আযা-বাহুমা-তাইফাতুম মিনাল মু’মিনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী তাদের প্রত্যেককে একশত চাবুক মারবে। ১ তোমরা যদি আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখ, তবে আল্লাহর দীনের ব্যাপারে তাদের প্রতি করুণাবোধ যেন তোমাদেরকে প্রভাবিত না করে। আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশ’ করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকর কারণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী-এদের প্রত্যেককে এক শত কশাঘাত করবে, আল্লাহ্ র বিধান কার্যকরীকরণে এদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে প্রভাবান্বিত না করে, যদি তোমরা আল্লাহে এবং পরকালে বিশ্বাসী হও; মু’মিনদের একটি দল যেন এদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।


তাফসীরঃ

১. ‘একশত চাবুক’ এটা ব্যভিচারের শাস্তি। কুরআন মাজীদ ব্যভিচারকারী নারী-পুরুষ প্রত্যেকের জন্য এ শাস্তি নির্ধারণ করেছে। পরিভাষায় এ শাস্তিকে ব্যভিচারের ‘হদ্দ’ বলে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বিভিন্ন বাণী ও বাস্তব কর্ম দ্বারা ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন যে, ব্যভিচার কোন অবিবাহিত পুরুষ বা অবিবাহিতা নারী করলে তখনই এ শাস্তি প্রযোজ্য হবে। পক্ষান্তরে এ অপরাধ যদি কোন বিবাহিত পুরুষ বা বিবাহিতা নারী করে, তবে সেক্ষেত্রে এ শাস্তি প্রযোজ্য নয়। তাদের শাস্তি হল ‘রজম’ করা অর্থাৎ, পাথর মেরে হত্যা করা। এ মাসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আমার রচিত ‘আদালতী ফায়সালা’ শীর্ষক বইখানি দেখা যেতে পারে।



الزَّانِي لَا يَنكِحُ إِلَّا زَانِيَةً أَوْ مُشْرِكَةً وَالزَّانِيَةُ لَا يَنكِحُهَا إِلَّا زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌ ۚ وَحُرِّمَ ذَٰلِكَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ


আঝঝা-নী লা-ইয়ানকিহুইল্লা-ঝা-নিইয়াতান আও মুশরিকাতাওঁ ওয়াঝঝা-নিয়াতুলাইয়ানকিহুহাইল্লা-ঝা-নিন আও মুশরিকুওঁ ওয়া হুররিমা যা-লিকা ‘আলাল মু’মিনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

ব্যভিচারী কেবল ব্যভিচারিণী বা মুশরিক নারীকেই বিবাহ করে। আর ব্যভিচারিণীকে বিবাহ করে কেবল সেই পুরুষ যে নিজে ব্যভিচারকারী বা মুশরিক। ২ মুমিনদের জন্য এটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ৩


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ব্যভিচারী পুরুষ কেবল ব্যভিচারিণী নারী অথবা মুশরিকা নারীকেই বিয়ে করে এবং ব্যভিচারিণীকে কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিক পুরুষই বিয়ে করে এবং এদেরকে মুমিনদের জন্যে হারাম করা হয়েছে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ব্যভিচারী-ব্যভিচারিণীকে বা মুশরিক নারীকে ব্যতীত বিবাহ করে না এবং ব্যভিচারিণী-তাকে ব্যভিচারী বা মুশরিক ব্যতীত কেউ বিবাহ করে না, মু’মিনদের জন্যে এটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।


তাফসীরঃ

২. অর্থাৎ, বিবাহের জন্য ব্যভিচারী বা ব্যভিচারিণীকে পছন্দ করা মুমিনদের জন্য হারাম। জীবনসঙ্গী বা জীবনসঙ্গিনী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাদের উচিত চারিত্রিক পবিত্রতাকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় রাখা। এটা ভিন্ন কথা যে, কেউ কোন ব্যভিচারী বা ব্যভিচারিণীকে বিবাহ করে ফেললে তার সে বিবাহকে বাতিল করা হবে না এবং বিবাহজনিত সমস্ত বিধান ও দায়-দায়িত্ব সেক্ষেত্রে কার্যকর হবে। কিন্তু সে কেন ভুল নির্বাচন করল, সেজন্য অবশ্যই গুনাহগার হবে। প্রকাশ থাকে যে, এ বিধান কেবল সেই ব্যভিচারীর জন্য, যে ব্যভিচারে অভ্যস্ত হয়ে গেছে এবং তা থেকে তাওবার গরজ বোধ করে না। কেউ যদি ব্যভিচারের পর আন্তরিকভাবে তাওবা করে ফেলে, তার সঙ্গে বিবাহে কোন দোষ নেই। আয়াতটির উপরে বর্ণিত ব্যাখ্যা ছাড়া অন্য ব্যাখ্যাও করা হয়েছে, কিন্তু তার চেয়ে এ ব্যাখ্যাই বেশি সহজ ও নিখুঁত। ‘বয়ানুল কুরআন’ গ্রন্থে হযরত হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী (রহ.)ও এ ব্যাখ্যাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।


৩. অর্থাৎ, যে ব্যক্তি ব্যভিচার করতে অভ্যস্ত এবং এ কারণে সে মোটেই লজ্জিত নয় আর না তাওবা করার কোন গুরুত্ব বোধ করে, তার অভিরুচি হয় কেবল ব্যভিচারিণী নারীতেই। কাজেই প্রথমত সে বিবাহ নয়, বরং ব্যভিচারেরই ধান্ধায় থাকে। অগত্যা যদি বিবাহ করতেই হয়, তবে এমন কোন নারীকেই খুঁজে নেয়, যে তার মতই একজন ব্যভিচারিণী, হোক না সে মুশরিক। এমনিভাবে যে নারী ব্যভিচারে অভ্যস্ত, তারও অভিরুচি হয় কেবল ব্যভিচারী পুরুষে। তাই তাকে বিবাহও করে এমন কোন ব্যক্তি যার নিজেরও ব্যভিচারের অভ্যাস আছে। তার স্ত্রী একজন ব্যভিচারিণী এ কারণে সে কোন গ্লানি বোধ করে না। সে নারী নিজেই ওই রকম পুরুষই পছন্দ করে, হোক না সে পুরুষটি মুশরিক।

আরো পড়ুন :-

স্মরণ শক্তি বৃদ্ধির দোয়া,মেধা বৃদ্ধির দোয়া,স্মৃতি শক্তি বাড়ানোর দোয়া!নামাজের পর ২১ বাড় পড়ুন

গর্ভের সন্তান কখন নষ্ট করা যাবে?,কতদিনের বাচ্চা নষ্ট করলে গুনাহ হবে না?, বাচ্চা নষ্ট করা জায়েজ আছে?, 

দোয়াটি পড়লে সাথে সাথে রাগ কমে যায়, রাগ কমানোর দোয়া,শিশুদের রাগ কমানোর আমল

(ads2)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#b50404)


وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً وَلَا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَدًا ۚ وَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ


ওয়াল্লাযীনা ইয়ারমূনাল মুহসানা-তি ছুম্মা লাম ইয়া’তূবিআরবা‘আতি শুহাদাআ ফাজলিদূ হুম ছামা-নীনা জালদাতাওঁ ওয়ালা-তাকবালূলাহুম শাহা-দাতান আবাদা- ওয়া উলাইকা হুমুল ফা-ছিকূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যারা সতী-সাধ্বী নারীকে অপবাদ দেয়, তারপর চারজন সাক্ষী উপস্থিত করে না। তাদেরকে আশিটি চাবুক মারবে ৪ এবং তাদের সাক্ষ্য কখনও গ্রহণ করবে না। ৫ তারা নিজেরাই তো ফাসেক।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অতঃপর স্বপক্ষে চার জন পুরুষ সাক্ষী উপস্থিত করে না, তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করবে এবং কখনও তাদের সাক্ষ্য কবুল করবে না। এরাই না’ফারমান।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যারা সাধ্বী রমণীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং চারজন সাক্ষী উপস্থিত করে না, তাদেরকে আশিটি কশাঘাত করবে এবং কখনও তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না; এরাই তো সত্যত্যাগী।


তাফসীরঃ

৪. এটাও মিথ্যা অপবাদের জন্য নির্ধারিত শাস্তির একটা অংশ যে, কোন মামলা-মোকদ্দমায় অপবাদদাতার সাক্ষ্য গৃহীত হবে না।


৫. ব্যভিচার যেমন চরম ঘৃণ্য অপরাধ, যে কারণে তার জন্য শাস্তিও নির্ধারণ করা হয়েছে অতি কঠিন, তেমনি কোন নির্দোষ ব্যক্তিকে ব্যভিচারের অপবাদ দেওয়াও অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। তাই তার জন্যও কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যে ব্যক্তি এরূপ অপরাধ করবে তাকে আশিটি দোররা মারা হবে। পরিভাষায় একে ‘হদ্দে কযফ’ বলে।



إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِن بَعْدِ ذَٰلِكَ وَأَصْلَحُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ


ইল্লাল্লাযীনা তা-বূমিম বা‘দি যা-লিকা ওয়া আসলাহূ ফাইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

অবশ্য যারা তারপর তাওবা করে এবং নিজেকে সংশোধন করে, (তাদের জন্য) তো আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ৬


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

কিন্তু যারা এরপর তওবা করে এবং সংশোধিত হয়, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তবে যদি এটার পর এরা তওবা করে ও নিজেদেরকে সংশোধন করে, আল্লাহ্ তো অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


তাফসীরঃ

৬. তাওবা দ্বারা মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে ঠিক, কিন্তু উপরে যে শাস্তি বর্ণিত হয়েছে তা অবশ্যই কার্যকর করা হবে।



وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُن لَّهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنفُسُهُمْ فَشَهَادَةُ أَحَدِهِمْ أَرْبَعُ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ ۙ إِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ


ওয়াল্লাযীনা ইয়ারমূনা আঝওয়া-জাহুম ওয়ালাম ইয়াকুল লাহূম শুহাদাউ ইল্লাআনফুছুহুম ফাশাহা-দাতুআহাদিহিম আরবা‘উ শাহা-দা-তিম বিল্লা-হি ইন্নাহূলামিনাসসা-দিকীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যারা নিজেদের স্ত্রীদেরকে অপবাদ দেয়, ৭ আর নিজেরা ছাড়া তাদের কোন সাক্ষী থাকে না, এরূপ কোন ব্যক্তির সাক্ষ্য এই যে, সে চারবার আল্লাহর কসম করে বলবে, সে (স্ত্রীকে দেওয়া অভিযোগের ব্যাপারে) অবশ্যই সত্যবাদী।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং যারা তাদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং তারা নিজেরা ছাড়া তাদের কোন সাক্ষী নেই, এরূপ ব্যক্তির সাক্ষ্য এভাবে হবে যে, সে আল্লাহর কসম খেয়ে চারবার সাক্ষ্য দেবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অথচ নিজেরা ব্যতীত তাদের কোন সাক্ষী নেই, তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হবে যে, সে আল্লাহ্ র নামে চারবার শপথ করে বলবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী,


তাফসীরঃ

৭. কোন স্বামী নিজ স্ত্রীকে ব্যভিচারের অপবাদ দিলে উপরে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী তাকেও চারজন সাক্ষী উপস্থিত করতে হবে। কিন্তু সে যদি তা করতে ব্যর্থ হয়, তবে নিয়ম অনুযায়ী যদিও আশি দোররার শাস্তি তার উপরও আরোপ হওয়ার কথা, কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর বিশেষ সম্পর্কের কারণে আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য এক বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছেন। পরিভাষায় তাকে ‘লিআন’ বলে। এখান থেকে ৯নং আয়াত পর্যন্ত সেই বিশেষ ব্যবস্থারই বিবরণ। তার সারমর্ম এই যে, কাযী (বিচারক) স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যেককে পাঁচবার করে কসম করতে বলবে। তাদেরকে কসম করতে হবে কুরআন মাজীদে বর্ণিত পদ্ধতিতে এবং সেই শব্দাবলীতে। তার আগে কাযী তাদেরকে নসীহত করবে। তাদেরকে বলবে, দেখ, আখেরাতের আযাব দুনিয়ার শাস্তি অপেক্ষা অনেক কঠিন। কাজেই তোমরা মিথ্যা কসম করো না। তার চেয়ে বরং প্রকৃত ঘটনা স্বীকার করে ফেল। স্ত্রী কসম না করে নিজ অপরাধ স্বীকার করলে তার উপর ব্যভিচারের ‘হদ্দ’ আরোপ করা হবে। আর যদি স্বামী কসম করার পরিবর্তে স্বীকার করে নেয় যে, সে স্ত্রীর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিল, তবে তার উপর ‘হদ্দে কযফ’ আরোপিত হবে, যা ৪নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। যদি উভয়েই কসম করে, তবে দুনিয়ায় তাদের কারও উপর কোন শাস্তি জারি করা হবে না। অবশ্য কাযী তাদের মধ্যকার বিবাহ রহিত করে দেবে। অতঃপর সে নারীর কোন সন্তান জন্ম নিলে এবং স্বামী তাকে নিজ সন্তান বলে স্বীকার না করলে তাকে মায়ের সাথেই সম্পৃক্ত করা হবে (অর্থাৎ তার পিতৃ পরিচয় থাকবে না, মায়ের পরিচয়ে সে পরিচিত হবে)।



وَالْخَامِسَةُ أَنَّ لَعْنَتَ اللَّهِ عَلَيْهِ إِن كَانَ مِنَ الْكَاذِبِينَ


ওয়াল খা-মিছাতুআন্না লা‘নাতাল্লা-হি ‘আলাইহি ইন কা-না মিনাল কা-যিবীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং পঞ্চমবার সে বলবে, সে যদি (তার দেওয়া অভিযোগে) মিথ্যুক হয়, তবে তার প্রতি আল্লাহর লানত।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং পঞ্চমবার বলবে যে, যদি সে মিথ্যাবাদী হয় তবে তার উপর আল্লাহর লানত।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং পঞ্চমবারে বলবে যে, সে মিথ্যাবাদী হলে তার ওপর নেমে আসবে আল্লাহর লা‘নত।



وَيَدْرَأُ عَنْهَا الْعَذَابَ أَن تَشْهَدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ ۙ إِنَّهُ لَمِنَ الْكَاذِبِينَ


ওয়া ইয়াদরাউ ‘আনহাল ‘আযা-বা আন তাশহাদা আরবা‘আ শাহা-দা-তিম বিল্লা-হি ইন্নাহূ লামিনাল কা-যিবীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আর নারীটি হতে (ব্যভিচারের) শাস্তি রদ করার উপায় এই যে, সে চারবার আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য দেবে, (কথিত অভিযোগে) তার স্বামী মিথ্যাবাদী।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং স্ত্রীর শাস্তি রহিত হয়ে যাবে যদি সে আল্লাহর কসম খেয়ে চার বার সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামী অবশ্যই মিথ্যাবাদী;


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তবে স্ত্রীর শাস্তি রহিত হবে যদি সে চারবার আল্লাহ্ র নামে শপথ করে সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামীই মিথ্যাবাদী,



وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِن كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ


ওয়াল খা-মিছাতা আন্না গাদাবাল্লা-হি ‘আলাইহাইন কা-না মিনাসসা-দিকীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আর পঞ্চমবার সে বলবে, সে (অর্থাৎ স্বামী) সত্যবাদী হলে তার নিজের প্রতি আল্লাহর গযব পড়ুক।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং পঞ্চমবার বলে যে, যদি তার স্বামী সত্যবাদী হয় তবে তার ওপর আল্লাহর গযব নেমে আসবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং পঞ্চমবারে বলে যে, তার স্বামী সত্যবাদী হলে তার নিজের ওপর নেমে আসবে আল্লাহ্ র গযব।


১০


وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ وَأَنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ حَكِيمٌ


ওয়া লাওলা- ফাদলুল্লা-হি ‘আলাইকুমওয়ারাহমাতুহূওয়া আন্নাল্লা-হা তাওওয়া-বুন হাকীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তোমাদের প্রতি আল্লাহর ফযল ও তাঁর রহমত না হলে এবং আল্লাহ যে অত্যধিক তাওবা কবুলকারী ও হিকমতের মালিক এটা না হলে (চিন্তা করে দেখ তোমাদের দশা কী হত)। ৮


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে এবং আল্লাহ তওবা কবুল কারী, প্রজ্ঞাময় না হলে কত কিছুই যে হয়ে যেত।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের প্রতি আল্লাহ্ র অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তোমাদের কেউই অব্যাহতি পেতে না; এবং আল্লাহ্ তওবা গ্রহণকারী ও প্রজ্ঞাময়।


তাফসীরঃ

৮. অর্থাৎ, লিআনের যে ব্যবস্থা তোমাদেরকে দেওয়া হয়েছে, তা আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহ। অন্যথায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও সাধারণ নিয়ম কার্যকর হলে মহা মুশকিল দেখা দিত। কেননা সেক্ষেত্রে কোন স্বামী তার স্ত্রীকে অন্যের সাথে পাপকার্যে লিপ্ত দেখলেও যতক্ষণ পর্যন্ত চারজন সাক্ষী না পেত ততক্ষণ মুখ খুলত না। মুখ খুললে তার নিজেকেই আশি দোররা খেতে হত। লিআনের ব্যবস্থা দ্বারা আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে সেই সংকট থেকে উদ্ধার করেছেন।


১১


إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالْإِفْكِ عُصْبَةٌ مِّنكُمْ ۚ لَا تَحْسَبُوهُ شَرًّا لَّكُم ۖ بَلْ هُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ ۚ لِكُلِّ امْرِئٍ مِّنْهُم مَّا اكْتَسَبَ مِنَ الْإِثْمِ ۚ وَالَّذِي تَوَلَّىٰ كِبْرَهُ مِنْهُمْ لَهُ عَذَابٌ عَظِيمٌ


ইন্নাল্লাযীনা জাঊ বিলইফকি ‘উসবাতুম মিনকুম লা তাহছাবূহু শাররাল্লাকুম বাল হুওয়া খাইরুল লাকুম লিকুল্লিমরিয়িম মিনহুম মাকতাছাবা মিনাল ইছমি ওয়াল্লাযী তাওয়াল্লা-কিবরাহূমিনহুম লাহূ‘আযা-বুন ‘আজীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই, যারা এই মিথ্যা অপবাদ রচনা করে এনেছে তারা তোমাদেরই মধ্যকার একটি দল। ৯ তোমরা একে তোমাদের জন্য অনিষ্টকর মনে করো না; বরং এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। ১০ তাদের প্রত্যেকের ভাগে রয়েছে নিজ কৃতকর্মের গুনাহ। তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এর (অর্থাৎ এ অপবাদের) ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা নিয়েছে, তার জন্য আছে কঠিন শাস্তি। ১১


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা মিথ্যা অপবাদ রটনা করেছে, তারা তোমাদেরই একটি দল। তোমরা একে নিজেদের জন্যে খারাপ মনে করো না; বরং এটা তোমাদের জন্যে মঙ্গলজনক। তাদের প্রত্যেকের জন্যে ততটুকু আছে যতটুকু সে গোনাহ করেছে এবং তাদের মধ্যে যে এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে, তার জন্যে রয়েছে বিরাট শাস্তি।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যারা এই অপবাদ রচনা করেছে তারা তো তোমাদেরই একটি দল; এটাকে তোমরা তোমাদের জন্যে অনিষ্টকর মনে কর না; বরং এটা তো তোমাদের জন্যে কল্যাণকর; এদের প্রত্যেকের জন্যে আছে এদের কৃত পাপকর্মের ফল এবং এদের মধ্যে যে এই ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছে, তার জন্যে আছে মহাশাস্তি।


তাফসীরঃ

৯. এখান থেকে ২৬ নং পর্যন্ত আয়াতসমূহে যে ঘটনার প্রতি ইশারা, তার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ, মদীনা মুনাওয়ারায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভাগমনের পর ইসলামের ক্রমবিস্তারে যে গতি সঞ্চার হয়, তা দেখে কুফরী শক্তি ক্ষোভে-আক্রোশে দাঁত কিড়মিড় করছিল। কাফেরদের মধ্যে একদল ছিল মুনাফেক, যারা মুখে মুখে ইসলাম গ্রহণ করেছিল, কিন্তু তাদের অন্তর ছিল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিস ওয়াসাল্লামের প্রতি বিদ্বেষে ভরা। তাদের সার্বক্ষণিক চেষ্টা ছিল কিভাবে মুসলিমদের বদনাম করা যায় এবং কি উপায়ে তাদেরকে উত্যক্ত করা যায়। খোদ মদীনা মুনাওয়ারার ভেতরই তাদের একটি বড়সড় দল বাস করত। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বনুল মুস্তালিকের বিরুদ্ধে অভিযান চালান তখন তাদের একটি দলও সে অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিল। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহা এ যুদ্ধে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলেন। অভিযান থেকে ফেরার পথে এক জায়গায় শিবির ফেলা হয়েছিল। সেখানে হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহার হার হারিয়ে যায়। তিনি তার খোঁজে শিবিরের বাইরে চলে গিয়েছিলেন। বিষয়টি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জানা ছিল না। তিনি সৈন্যদেরকে রওয়ানা হওয়ার হুকুম দিলেন। হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা ফিরে এসে দেখেন কাফেলা চলে গেছে। আল্লাহ তাআলা তাঁকে প্রখর বুদ্ধিমত্তা ও অসাধারণ সংযম শক্তি দিয়েছিলেন। তিনি অস্থির হয়ে এদিক ওদিক ছোটাছুটি না করে সেখানেই বসে থাকলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন টের পাবেন তিনি কাফেলায় নেই, তখন হয় নিজেই তাঁর খোঁজে এখানে আসবেন অথবা অন্য কাউকে পাঠাবেন। তাছাড়া মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিয়ম ছিল এক ব্যক্তিকে কাফেলার পিছনে রেখে আসা। কাফেলা চলে যাওয়ার পর কোন কিছু থেকে গেল কি না তা সেই ব্যক্তি দেখে আসত। এ কাফেলায় এ কাজের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছিল হযরত সাফওয়ান ইবন মুআত্তাল রাযিয়াল্লাহু আনহুকে। তিনি খোঁজ নিতে গিয়ে যখন হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা যেখানে ছিলেন, সেখানে পৌঁছলেন তখন কী দুর্ঘটনা ঘটে গেছে তা বুঝে ফেললেন। কালবিলম্ব না করে নিজের উটটি হযরত উম্মুল মুমিনীনের সামনে পেশ করলেন। তাতে সওয়ার হয়ে তিনি মদীনা মুনাওয়ারায় পৌঁছলেন। মুনাফিকদের সর্দার আবদুল্লাহ ইবন উবাই যখন এ ঘটনা জানতে পারল সে তিলকে তাল করে প্রচার করতে লাগল এবং আমাদের প্রাণের চেয়েও প্রিয় এ মায়ের প্রতি এমন ন্যাক্কারজনক অপবাদ দিল, যা কোন আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন মুসলিমের পক্ষে উচ্চারণ করাও কঠিন। আবদুল্লাহ ইবনে উবাই এ অপবাদকে এতটাই প্রসিদ্ধ করে তুলল যে, জনা কয়েক সরলমতি মুসলিমও তার প্রচারণার ফাঁদে পড়ে গেল। মুনাফিক শ্রেণী বেশ কিছুদিন এই মাথামু-হীন বিষয় নিয়ে মেতে রইল এবং মদীনা মুনাওয়ারার শান্তিময় পরিবেশকে বিষাক্ত করে তুলল। পরিশেষে আল্লাহ তাআলা সূরা নূরের এ আয়াতসমূহ নাযিল করলেন। এর দ্বারা এক দিকে হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযিয়াল্লাহু আনহার চারিত্রিক নির্মলতার পক্ষে ঐশী সনদ দিয়ে দেওয়া হল, অন্যদিকে যারা চক্রান্তটির রুই-কাতলা ছিল তাদেরকে জানানো হল কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারী বার্তা।


১০. অর্থাৎ, যদিও আপাতদৃষ্টিতে এ ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল, কিন্তু পরিণাম বিচারে এটি তোমাদের পক্ষে বড়ই কল্যাণকর। এক তো এ কারণে যে, যারা নবী-পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিল, এ ঘটনা দ্বারা তাদের মুখোশ খুলে গেল। দ্বিতীয়ত এর দ্বারা মানুষের কাছে হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযিয়াল্লাহু আনহার উচ্চ মর্যাদা প্রকাশ ও প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল। তৃতীয়ত এ ঘটনায় মুমিনগণ যে কষ্ট পেয়েছিল, তার বিনিময়ে আল্লাহ তাআলার কাছে প্রভূত সওয়াবের অধিকারী হল।


১১. এর দ্বারা আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে বোঝানো হয়েছে। সে ছিল মুনাফেকদের সর্দার এবং এ ষড়যন্ত্রে সেই অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিল।


১২


لَّوْلَا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ ظَنَّ الْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بِأَنفُسِهِمْ خَيْرًا وَقَالُوا هَـٰذَا إِفْكٌ مُّبِينٌ


লাওলাইযছামি‘তুমূহু জান্নাল মু’মিনূনা ওয়াল মু’মিনা-তুবিআনফুছিহিম খাইরাওঁ ওয়া কা-লূহা-যাইফকুম মুবীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যখন তোমরা তা শুনলে, তখন কেন মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীগণ নিজেদের সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করলে না এবং বললে না এটা সুস্পষ্ট মিথ্যা? ১২


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমরা যখন একথা শুনলে, তখন ঈমানদার পুরুষ ও নারীগণ কেন নিজেদের লোক সম্পর্কে উত্তম ধারণা করনি এবং বলনি যে, এটা তো নির্জলা অপবাদ?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন তারা এটা শুনল তখন মু’মিন পুরুষ এবং মু’মিন নারীগণ আপন লোকদের সম্পর্কে কেন ভাল ধারণা করল না এবং বলল না, ‘এটা তো সুস্পষ্ট অপবাদ!’


তাফসীরঃ

১২. এ আয়াতে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, দীন ও ঈমানের ভিত্তিতে সকল মুমিন নর-নারী একান্তই আপনজন। কাজেই কোন মুমিন-নারী সম্পর্কে কোন মন্দ প্রচারণা শুনলে আপনজন হিসেবে তাতে কর্ণপাত না করে তার প্রতি সুধারণা রাখা চাই এবং ‘মিথ্যা অপবাদ’ বলে তার নিন্দা জানানো চাই। যে সকল মুমিন এ নীতি অবলম্বন করেনি, আয়াতে তাদেরকে তিরস্কার করা হয়েছে। তবে অনেকেই এমন ছিলেন, যারা প্রথমেই এ প্রচারণাকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। যেমন হযরত আবু আইয়ুব আনসারীকে (রা.) তার স্ত্রী যখন বললেন, লোকে আয়েশা সিদ্দীকা সম্পর্কে কি বলছে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ শুনেছি, কিন্তু তা সম্পূর্ণ মিথ্যা! হে আইয়ুবের মা! তুমি কি কখনও এরূপ কাজ করবে? স্ত্রী বললেন, আল্লাহর কসম! কক্ষণও নয়। তিনি বললেন, তা হলে আয়েশা তো আল্লাহর কসম তোমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ! (তাঁর দ্বারা এটা কি করে সম্ভব?)। -অনুবাদক


১৩


لَّوْلَا جَاءُوا عَلَيْهِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ ۚ فَإِذْ لَمْ يَأْتُوا بِالشُّهَدَاءِ فَأُولَـٰئِكَ عِندَ اللَّهِ هُمُ الْكَاذِبُونَ


লাওলা-জাঊ ‘আলাইহি বিআরবা‘আতি শুহাদাআ ফাইযলাম ইয়া’তূ বিশশুহাদাই ফাউলাইকা ‘ইনদাল্লা-হি হুমুল কা-যিবূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তারা (অর্থাৎ অপবাদদাতাগণ) এ বিষয়ে কেন চারজন সাক্ষী উপস্থিত করল না? সুতরাং তারা যখন সাক্ষী উপস্থিত করল না, তখন আল্লাহর নিকট তারাই মিথ্যুক।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা কেন এ ব্যাপারে চার জন সাক্ষী উপস্থিত করেনি; অতঃপর যখন তারা সাক্ষী উপস্থিত করেনি, তখন তারাই আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদী।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারা কেন এই ব্যাপারে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করে নাই ? যেহেতু তারা সাক্ষী উপস্থিত করে নাই, সে কারণে তারা আল্লাহ্ র নিকট মিথ্যাবাদী।


১৪


وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ لَمَسَّكُمْ فِي مَا أَفَضْتُمْ فِيهِ عَذَابٌ عَظِيمٌ


ওয়া লাওলা- ফাদলুল্লা-হি আলাইকুমওয়ারাহমাতুহূফিদদুনইয়া-ওয়াল আ-খিরাতি লামছছাকুম ফী মাআফাদতুম ফীহি ‘আযা-বুন ‘আজীম।

আরো পড়ুন :-

স্মরণ শক্তি বৃদ্ধির দোয়া,মেধা বৃদ্ধির দোয়া,স্মৃতি শক্তি বাড়ানোর দোয়া!নামাজের পর ২১ বাড় পড়ুন

গর্ভের সন্তান কখন নষ্ট করা যাবে?,কতদিনের বাচ্চা নষ্ট করলে গুনাহ হবে না?, বাচ্চা নষ্ট করা জায়েজ আছে?, 

দোয়াটি পড়লে সাথে সাথে রাগ কমে যায়, রাগ কমানোর দোয়া,শিশুদের রাগ কমানোর আমল

(ads1)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#b50404)

অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

দুনিয়া ও আখেরাতে তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না হলে তোমরা যে বিষয়ে জড়িয়ে পড়েছিলে তজ্জন্য তোমাদেরকে স্পর্শ করত কঠিন শাস্তি,


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যদি ইহকালে ও পরকালে তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত, তবে তোমরা যা চর্চা করছিলে, তজ্জন্যে তোমাদেরকে গুরুতর আযাব স্পর্শ করত।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

দুনিয়া ও আখিরাতে তোমাদের প্রতি আল্লাহ্ র অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে, তোমরা যাতে লিপ্ত ছিলে তার জন্যে মহাশাস্তি অবশ্যই তোমাদেরকে স্পর্শ করত,


১৫


إِذْ تَلَقَّوْنَهُ بِأَلْسِنَتِكُمْ وَتَقُولُونَ بِأَفْوَاهِكُم مَّا لَيْسَ لَكُم بِهِ عِلْمٌ وَتَحْسَبُونَهُ هَيِّنًا وَهُوَ عِندَ اللَّهِ عَظِيمٌ


ইযতালাক্কাওনাহূবিআলছিনাতিকুম ওয়া তাকূলূনা বিআফওয়া-হিকুম মা-লাইছা লাকুম বিহী ‘ইলমুওঁ ওয়া তাহছাবূনাহূহাইয়িনাওঁ ওয়া হুওয়া ‘ইনদাল্লা-হি ‘আজীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যখন তোমরা নিজ রসনা দ্বারা তা একে অন্যের থেকে প্রচার করছিলে ১৩ এবং নিজ মুখে এমন কথা বলছিলে, যে সম্পর্কে তোমাদের কিছু জানা নেই আর তোমরা এ ব্যাপারটাকে মামুলি মনে করছিলে, অথচ আল্লাহর কাছে এটা ছিল গুরুতর।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখন তোমরা একে মুখে মুখে ছড়াচ্ছিলে এবং মুখে এমন বিষয় উচ্চারণ করছিলে, যার কোন জ্ঞান তোমাদের ছিল না। তোমরা একে তুচ্ছ মনে করছিলে, অথচ এটা আল্লাহর কাছে গুরুতর ব্যাপার ছিল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন তোমরা মুখে মুখে এটা ছড়াচ্ছিলে এবং এমন বিষয় মুখে উচ্চারণ করছিলে যার কোন জ্ঞান তোমাদের ছিল না এবং তোমরা এটাকে তুচ্ছ গণ্য করেছিলে, যদিও আল্লাহ্ র নিকট এটা ছিল গুরুতর বিষয়।


তাফসীরঃ

১৩. নিষ্ঠাবান ও খাঁটি মুমিনদের অধিকাংশেরই বিশ্বাস ছিল এ ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও গুরুতর অপবাদ। তা সত্ত্বেও মুনাফেকদের সোৎসাহ প্রচারণার ফলে মুমিনদের মজলিসেও এ নিয়ে কথা শুরু হয়ে গিয়েছিল। এ আয়াত সাবধান করছে যে, এরূপ ভিত্তিহীন বিষয়ে মুখ খোলাও কারও জন্য জায়েয নয়।


১৬


وَلَوْلَا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ قُلْتُم مَّا يَكُونُ لَنَا أَن نَّتَكَلَّمَ بِهَـٰذَا سُبْحَانَكَ هَـٰذَا بُهْتَانٌ عَظِيمٌ


ওয়া লাওলাইযছামি‘তুমূহু কুলতুম মা-ইয়াকূনুলানাআন নাতাকাল্লামা বিহা-যা- ছুবহা-নাকা হা-যা-বুহতা-নুন ‘আজীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তোমরা যখন একথা শুনেছিলে তখনই কেন বলে দিলে না ‘একথা মুখে আনার কোন অধিকার আমাদের নেই; হে আল্লাহ! তুমি পবিত্র। এটা তো মারাত্মক অপবাদ।’


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমরা যখন এ কথা শুনলে তখন কেন বললে না যে, এ বিষয়ে কথা বলা আমাদের উচিত নয়। আল্লাহ তো পবিত্র, মহান। এটা তো এক গুরুতর অপবাদ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তোমরা যখন এটা শুনলে তখন কেন বললে না, ‘এ বিষয়ে বলাবলি করা আমাদের উচিত নয়; আল্লাহ্ পবিত্র, মহান। এটা তো এক গুরুতর অপবাদ!’


১৭


يَعِظُكُمُ اللَّهُ أَن تَعُودُوا لِمِثْلِهِ أَبَدًا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ


ইয়া‘ইজু কুমুল্লা-হু আন তা‘ঊদূলিমিছলিহীআবাদান ইন কুনতুম মু’মিনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহ তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন, এ রকম আর কখনও যেন না কর যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহ তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন, তোমরা যদি ঈমানদার হও, তবে তখনও পুনরায় এ ধরণের আচরণের পুনরাবৃত্তি করো না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহ্ তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন, ‘তোমরা যদি মু’মিন হও তবে কখনও অনুরূপ আচরণের পুনরাবৃত্তি কর না।’


১৮


وَيُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ ۚ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ


ওয়া ইউবাইয়িনুল্লা-হু লাকুমুল আ-য়া-তি ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুন হাকীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহ তোমাদের সামনে হেদায়াতের বাণী সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করছেন। আল্লাহ জ্ঞানেরও মালিক, হেকমতেরও মালিক।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহ তোমাদের জন্যে কাজের কথা স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহ্ তোমাদের জন্যে আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করেন এবং আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।


১৯


إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَن تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ۚ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ


ইন্নাল্লাযীনা ইউহিববূনা আন তাশী‘আল ফা-হিশাতুফিল্লাযীনা আ-মানূলাহুম ‘আযা-বুন আলিমুন ফিদদুনইয়া-ওয়াল আ-খিরাতি ওয়া ল্লা-হু ইয়া‘লামুওয়া আনতুম লাতা‘লামূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

স্মরণ রেখ, যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার হোক এটা কামনা করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে আছে যন্ত্রণাময় শাস্তি এবং আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা পছন্দ করে যে, ঈমানদারদের মধ্যে ব্যভিচার প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে ইহাকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যারা মু’মিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে তাদের জন্যে আছে দুনিয়া ও আখিরাতের মর্মন্তুদ শাস্তি এবং আল্লাহ্ জানেন, তোমরা জান না।


২০


وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ وَأَنَّ اللَّهَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ


ওয়া লাওলা-ফাদলুল্লা-হি ‘আলাইকুম ওয়া রাহমাতুহূওয়া আন্নাল্লা-হা রাঊফুর রাহীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যদি না তোমাদের প্রতি আল্লাহর ফযল ও রহমত থাকত এবং না হতেন আল্লাহ অতি মমতাশীল, পরম দয়ালু (তবে রক্ষা পেতে না তোমরাও)।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত এবং আল্লাহ দয়ালু, মেহেরবান না হতেন, তবে কত কিছুই হয়ে যেত।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের প্রতি আল্লাহ্ র অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তোমাদের কেউই অব্যাহতি পেতে না এবং আল্লাহ্ দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু।


২১


۞ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ ۚ وَمَن يَتَّبِعْ خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهُ يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ ۚ وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ مَا زَكَىٰ مِنكُم مِّنْ أَحَدٍ أَبَدًا وَلَـٰكِنَّ اللَّهَ يُزَكِّي مَن يَشَاءُ ۗ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ


ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা-তাত্তাবি‘উ খুতুওয়া-তিশশাইতা-নি ওয়া মাইঁ ইয়াত্তাবি’ খুতুওয়া-তিশশাইতা-নি ফাইন্নাহূইয়া’মরু বিল ফাহশাই ওয়াল মুনকারি ওয়া লাওলা-ফাদলুল্লা-হি ‘আলাইকুম ওয়া রাহমাতুহূমা-ঝাকা-মিনকুম মিন আহাদিন আবাদাওঁ ওয়ালা-কিন্নাল্লা-হা ইউঝাক্কী মাইঁ ইয়াশাউ ওয়াল্লা-হু ছামী‘উন ‘আলীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

হে মুমিনগণ! তোমরা শয়তানের অনুগামী হয়ো না। কেউ শয়তানের অনুগামী হলে শয়তান তো সর্বদা অশ্লীল ও অন্যায় কাজেরই নির্দেশ দেবে। তোমাদের প্রতি আল্লাহর ফযল ও রহমত না হলে তোমাদের মধ্যে কেউ কখনও পাক-পবিত্র হতে পারত না। কিন্তু আল্লাহ যাকে চান পবিত্র করে দেন এবং আল্লাহ সকল কথা শোনেন ও সকল বিষয় জানেন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে ঈমানদারগণ, তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। যে কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তখন তো শয়তান নির্লজ্জতা ও মন্দ কাজেরই আদেশ করবে। যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া তোমাদের প্রতি না থাকত, তবে তোমাদের কেউ কখনও পবিত্র হতে পারতে না। কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পবিত্র করেন। আল্লাহ সবকিছু শোনেন, জানেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! তোমরা শয়তানের পদাংক অনুসরণ কর না। কেউ শয়তানের পদাংক অনুসরণ করলে শয়তান তো অশ্লীলতা ও মন্দ কাজের নির্দেশ দেয়। আল্লাহ্ র অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তোমাদের কেউই কখনও পবিত্র হতে পারতে না, তবে আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা পবিত্র করে থাকেন এবং আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।


২২


وَلَا يَأْتَلِ أُولُو الْفَضْلِ مِنكُمْ وَالسَّعَةِ أَن يُؤْتُوا أُولِي الْقُرْبَىٰ وَالْمَسَاكِينَ وَالْمُهَاجِرِينَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۖ وَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا ۗ أَلَا تُحِبُّونَ أَن يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ


ওয়ালা-ইয়া’তালি উলুল ফাদলি মিনকুম ওয়াছছা‘আতি আইঁ ইউ’তূউলিল কুরবা-ওয়াল মাছা-কীনা ওয়ালমুহা-জিরীনা ফী ছাবীলিল্লা-হি ওয়ালইয়া‘ফূওয়ালইয়াসফাহূ আলা-তুহিববূনা আইঁ ইয়াগফিরাল্লা-হু লাকুম ওয়াল্লা-হু গাফরুর রাহীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তোমাদের মধ্যে যারা সম্পদ ও স্বচ্ছলতার অধিকারী, তারা যেন এরূপ কসম না করে যে, আত্মীয়-স্বজন, অভাবগ্রস্ত ও আল্লাহর পথে হিজরতকারীদেরকে কিছু দেবে না। ১৪ তারা যেন ক্ষমা করে ও ঔদার্য প্রদর্শন করে। তোমরা কি কামনা কর না আল্লাহ তোমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করুন? আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমাদের মধ্যে যারা উচ্চমর্যাদা ও আর্থিক প্রাচুর্যের অধিকারী, তারা যেন কসম না খায় যে, তারা আত্নীয়-স্বজনকে, অভাবগ্রস্তকে এবং আল্লাহর পথে হিজরতকারীদেরকে কিছুই দেবে না। তাদের ক্ষমা করা উচিত এবং দোষক্রটি উপেক্ষা করা উচিত। তোমরা কি কামনা কর না যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করেন? আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের মধ্যে যারা ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন শপথ গ্রহণ না করে যে, তারা আত্মীয়-স্বজন ও অভাবগ্রস্তকে এবং আল্লাহ্ র রাস্তায় যারা হিজরত করেছে তাদেরকে কিছুই দিবে না; তারা যেন এদেরকে ক্ষমা করে এবং এদের দোষত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ক্ষমা করুন ? এবং আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


তাফসীরঃ

১৪. যে দু’-তিনজন সরলপ্রাণ মুসলিম মুনাফেকদের অপপ্রচারের শিকার হয়েছিল, তাদের একজন মিসতাহ ইবনে উছাছা (রাযি.)। ইনি একজন মুহাজির সাহাবী ছিলেন। হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে তাঁর আত্মীয়তা ছিল। তিনি গরীব ছিলেন। হযরত সিদ্দীকে আকবার রাযিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে আর্থিক সাহায্য করতেন। তিনি যখন জানতে পারলেন মিসতাহ রাযিয়াল্লাহু আনহুও হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযিয়াল্লাহু আনহা সম্পর্কে অনুচিত কথাবার্তা বলছে, তখন শপথ করলেন, আমি ভবিষ্যতে কখনও তাকে আর্থিক সাহায্য করব না। হযরত মিসতাহ রাযিয়াল্লাহু আনহুর ভুল অবশ্যই হয়েছিল, কিন্তু তিনি সে ভুলের উপরই গোঁ ধরে বসে থাকেননি; বরং সেজন্য অনুতপ্ত হয়েছিলেন ও খাঁটিমনে তাওবা করেছিলেন। তাই আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে দেন যে, তাকে আর্থিক সহযোগিতা না করার শপথ করা উচিত নয়। যখন তিনি তাওবা করে ফেলেছেন, তাকে ক্ষমা করা উচিত। [বিশেষত এ কারণেও যে, তোমাদেরও তো কত ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকে। তোমরা কি চাও না আল্লাহ তাআলা সেগুলো ক্ষমা করে দিন? তা চাইলে তোমরা অন্যের প্রতি ক্ষমাপ্রবণ হও। তাহলে আল্লাহ তাআলার কাছে তোমরাও ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে। এ আয়াত নাযিল হলে হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযিয়াল্লাহু আনহু চিৎকার করে বলে ওঠেন, অবশ্যই হে আমাদের রব! আমরা চাই তুমি আমাদের ক্ষমা কর -অনুবাদক] অনন্তর তিনি পুনরায় তার অর্থ সাহায্য জারি করে দেন এবং কসমের কাফফারা আদায় করেন। সেই সাথে ঘোষণা করে দেন, আর কখনও এ সাহায্য বন্ধ করব না।


২৩


إِنَّ الَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ لُعِنُوا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ


ইন্নাল্লাযীনা ইয়ারমূনাল মুহসানা-তিল গা-ফিলা-তিল মু’মিনা-তি লু‘ইনূফিদদুনইয়া-ওয়াল আ-খিরাতি ওয়া লাহুম ‘আযা-বুন ‘আজীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

স্মরণ রেখ, যারা চরিত্রবতী, সরলমতী মুমিন নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা দুনিয়া ও আখেরাতে অভিশপ্ত হয়েছে আর তাদের জন্য রয়েছে ভয়ানক শাস্তি।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা সতী-সাধ্বী, নিরীহ ঈমানদার নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা ইহকালে ও পরকালে ধিকৃত এবং তাদের জন্যে রয়েছে গুরুতর শাস্তি।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যারা সাধ্বী, সরলমনা ও ঈমানদার নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত এবং তাদের জন্যে আছে মহাশাস্তি।


২৪


يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُم بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ


ইয়াওমা তাশহাদু‘আলাইহিম আলছিনাতুহুম ওয়া আইদীহিম ওয়া আরজুলুহুম বিমা-কা-নূ ইয়া‘মালূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যে দিন তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তাদের বিরুদ্ধে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও তাদের পা সাক্ষ্য দেবে


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যেদিন প্রকাশ করে দেবে তাদের জিহবা, তাদের হাত ও তাদের পা, যা কিছু তারা করত;


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যেই দিন তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে তাদের জিহ্বা, তাদের হস্ত ও তাদের চরণ তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে-


২৫


يَوْمَئِذٍ يُوَفِّيهِمُ اللَّهُ دِينَهُمُ الْحَقَّ وَيَعْلَمُونَ أَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ الْمُبِينُ


ইয়াওমায়িযিইঁ ইউওয়াফফীহিমুল্লা-হু দীনাহুমুলহাক্কাওয়াইয়া‘লামূনা আন্নাল্লা-হা হুওয়াল হাক্কুল মুবীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

সে দিন আল্লাহ তাদেরকে তাদের উপযুক্ত প্রতিদান পুরোপুরি দান করবেন এবং তারা জানতে পারবে আল্লাহই সত্য, তিনিই যাবতীয় বিষয় সুস্পষ্টকারী।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সেদিন আল্লাহ তাদের সমুচিত শাস্তি পুরোপুরি দেবেন এবং তারা জানতে পারবে যে, অল্লাহই সত্য, স্পষ্ট ব্যক্তকারী।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেই দিন আল্লাহ্ তাদের প্রাপ্য প্রতিফল পুরোপুরি দিবেন এবং তারা জানিবে, আল্লাহ্ই সত্য, স্পষ্ট প্রকাশক।


২৬


الْخَبِيثَاتُ لِلْخَبِيثِينَ وَالْخَبِيثُونَ لِلْخَبِيثَاتِ ۖ وَالطَّيِّبَاتُ لِلطَّيِّبِينَ وَالطَّيِّبُونَ لِلطَّيِّبَاتِ ۚ أُولَـٰئِكَ مُبَرَّءُونَ مِمَّا يَقُولُونَ ۖ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ


আলখাবীছা-তুলিলখাবীছীনা ওয়াল খাবীছূনা লিলখাবীছা-তি ওয়াততাইয়িবা-তু লিততাইয়িবীনা ওয়াততাইয়িবূনা লিততাইয়িবা-ত উলাইকা মুবাররাঊনা মিম্মাইয়াকূলূনা লাহুম মাগরিফাতুওঁ ওয়ারিঝকুন কারীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

অপবিত্র নারীগণ অপবিত্র পুরুষদের উপযুক্ত এবং অপবিত্র পুরুষগণ অপবিত্র নারীদের উপযুক্ত। পবিত্র নারীগণ পবিত্র পুরুষদের উপযুক্ত এবং পবিত্র পুরুষগণ পবিত্র নারীদের উপযুক্ত। ১৫ তারা (অর্থাৎ পবিত্র নারী-পুরুষ) লোকে যা রটনা করে তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। তাদের (অর্থাৎ পবিত্রদের) জন্য রয়েছে মাগফিরাত ও সম্মানজনক জীবিকা।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

দুশ্চরিত্রা নারীকূল দুশ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং দুশ্চরিত্র পুরুষকুল দুশ্চরিত্রা নারীকুলের জন্যে। সচ্চরিত্রা নারীকুল সচ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং সচ্চরিত্র পুরুষকুল সচ্চরিত্রা নারীকুলের জন্যে। তাদের সম্পর্কে লোকে যা বলে, তার সাথে তারা সম্পর্কহীন। তাদের জন্যে আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্যে; দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্যে; সচ্চরিত্রা নারী সচ্চরিত্র পুরুষের জন্যে এবং সচ্চরিত্র পুরুষ সচ্চরিত্রা নারীর জন্যে। লোকে যা বলে এরা তা হতে পবিত্র; এদের জন্যে আছে ক্ষমা এবং সম্মানজনক জীবিকা।


তাফসীরঃ

১৫. মূলনীতি বলে দেওয়া হল যে, পবিত্র ও চরিত্রবতী নারী পবিত্র ও চরিত্রবান পুরুষেরই উপযুক্ত। এর ভেতর দিয়ে এই ইশারাও করে দেওয়া হল যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ পবিত্রতা ও আখলাক-চরিত্রের সর্বোচ্চ মার্গে অবস্থিত। কেননা বিশ্বজগতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপেক্ষা বেশি পূত চরিত্রের অধিকারী আর কে হতে পারে? কাজেই এটা কখনও সম্ভবই নয় যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর স্ত্রী হিসেবে এমন কাউকে মনোনীত করবেন যার চরিত্র পবিত্র ও নিষ্কলুষ নয় (নাউযুবিল্লাহ)। কেউ যদি এতটুকু বিষয় চিন্তা করত তবে তার কাছে মুনাফিকদের দেওয়া অপবাদের স্বরূপ উন্মোচিত হয়ে যেত।


২৭


يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّىٰ تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَىٰ أَهْلِهَا ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ


ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা তাদখুলূবুয়ূতান গাইরা বুয়ূতিকুম হাত্তা-তাছতা’নিছূওয়া তুছালিলমূ‘আলাআহলিহা- যা-লিকুম খাউরুল্লাকুম লা‘আল্লাকুম তাযাক্কারূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

হে মুমিনগণ! নিজ গৃহ ছাড়া অন্যের গৃহে প্রবেশ করো না, যতক্ষণ না অনুমতি গ্রহণ কর ও তার বাসিন্দাদেরকে সালাম দাও। ১৬ এ পন্থাই তোমাদের জন্য শ্রেয়। আশা করা যায়, তোমরা লক্ষ রাখবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত আলাপ-পরিচয় না কর এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম না কর। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য কারও গৃহে গৃহবাসীদের অনুমতি না নিয়ে এবং তাদেরকে সালাম না করে প্রবেশ কর না। এটাই তোমাদের জন্যে শ্রেয়, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।


তাফসীরঃ

১৬. মৌলিকভাবে যেসব কারণে সমাজে অশ্লীলতা বিস্তার লাভ করে সেগুলো বন্ধ ও নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষে এবার কিছু বিধান দেওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে প্রথম বিধান দেওয়া হয়েছে এই যে, অন্য কারও ঘরে প্রবেশের আগে গৃহকর্তার অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। এর উপকারিতা বহুবিধ। যেমন, এর ফলে অন্যের ঘরে অনাবশ্যক প্রবেশ বা অসময় প্রবেশ বন্ধ হয়ে যাবে। এরূপ প্রবেশের ফলে গৃহবাসীদের কষ্ট হয়ে থাকে। তাছাড়া বিনা অনুমতিতে প্রবেশের ফলে অন্যায়-অশ্লীল কাজ সংঘটিত হওয়া বা তার বিস্তার ঘটার সম্ভাবনা থাকে। অনুমতি গ্রহণ দ্বারা তারও রোধ হবে। অনুমতি কিভাবে গ্রহণ করতে হবে আয়াতে তাও শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম হল, বাহির থেকে ‘আস-সালামু আলাইকুম’ বলতে হবে। যদি মনে হয় গৃহবাসী সালাম শুনবে না, তবে করাঘাত করবে বা বেল টিপবে। তারপর গৃহবাসী যখন সামনে আসবে তখন সালাম দেবে।


২৮


فَإِن لَّمْ تَجِدُوا فِيهَا أَحَدًا فَلَا تَدْخُلُوهَا حَتَّىٰ يُؤْذَنَ لَكُمْ ۖ وَإِن قِيلَ لَكُمُ ارْجِعُوا فَارْجِعُوا ۖ هُوَ أَزْكَىٰ لَكُمْ ۚ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ


ফাইল লাম তাজিদূফীহাআহাদান ফালা-তাদখুলূহা-হাত্তা-ইউ’যানা লাকুম ওয়া ইন কীলা লাকুমুর জি‘ঊ ফারজি‘ঊ হুওয়া আঝকা-লাকুম ওয়াল্লা-হু বিমা-তা‘মালূনা ‘আলীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তোমরা যদি তাতে কাউকে না পাও, তবুও যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদেরকে অনুমতি দেওয়া না হয়, তাতে প্রবেশ করো না। ১৭ তোমাদেরকে যদি বলা হয়, ‘ফিরে যাও’ তবে ফিরে যেও। এটাই তোমাদের পক্ষে শুদ্ধতর। তোমরা যা-কিছুই কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞাত।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যদি তোমরা গৃহে কাউকে না পাও, তবে অনুমতি গ্রহণ না করা পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করো না। যদি তোমাদেরকে বলা হয় ফিরে যাও, তবে ফিরে যাবে। এতে তোমাদের জন্যে অনেক পবিত্রতা আছে এবং তোমরা যা কর, আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যদি তোমরা গৃহে কাউকেও না পাও তা হলে এতে প্রবেশ করবে না যতক্ষণ না তোমাদেরকে অনুমতি দেওয়া হয়। যদি তোমাদেরকে বলা হয়, ‘ফিরে যাও’, তবে তোমরা ফিরে যাবে, এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, এবং তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আল্লাহ্ সবিশেষ অবহিত।


তাফসীরঃ

১৭. অর্থাৎ, অন্যের কোন ঘর যদি খালি মনে হয়, তবুও তাতে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা জায়েয নয়। কেননা এমনও তো হতে পারে ভিতরে কোন লোক আছে, যাকে বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে না। আর যদি কেউ নাও থাকে, তবুও ঘরটি যেহেতু অন্যের তাই তার অনুমতি ছাড়া তাতে প্রবেশ করার অধিকার কারও থাকতে পারে না।


২৯


لَّيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ مَسْكُونَةٍ فِيهَا مَتَاعٌ لَّكُمْ ۚ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا تَكْتُمُونَ


লাইছা ‘আলাইকুম জুনা-হুন আন তাদখুলূবুয়ূতান গাইরা মাছকূনাতিন ফীহা-মাতা-‘উল লাকুম ওয়াল্লা-হু ইয়া‘লামুমা-তুবদূ না ওয়ামা-তাকতুমূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যে ঘরে কেউ বাস করে না এবং তার ভেতর তোমাদের কোন উপকার (বা প্রয়োজন) আছে, ১৮ তাতে তোমাদের (অনুমতি ছাড়া) প্রবেশে কোন গুনাহ নেই। তোমরা যে কাজ প্রকাশ্যে কর এবং যা গোপনে কর আল্লাহ তা জানেন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যে গৃহে কেউ বাস করে না, যাতে তোমাদের সামগ্রী আছে এমন গৃহে প্রবেশ করাতে তোমাদের কোন পাপ নেই এবং আল্লাহ জানেন তোমরা যা প্রকাশ কর এবং যা গোপন কর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে গৃহে কেউ বাস করে না তাতে তোমাদের জন্যে দ্রব্যসামগ্রী থাকলে সেখানে তোমাদের প্রবেশে কোনও পাপ নেই এবং আল্লাহ্ জানেন যা তোমরা প্রকাশ কর এবং যা তোমরা গোপন কর।


তাফসীরঃ

১৮. এর দ্বারা এমন পাবলিক নিবাস বোঝানো হয়েছে, যা ব্যক্তিবিশেষের মালিকানাধীন নয়; বরং সাধারণভাবে তা যে-কারও ব্যবহার করার অনুমতি আছে, যেমন গণ-মুসাফিরখানা, হোটেলের বহিরাংশ, হাসপাতাল, ডাকঘর, পার্ক, মাদরাসা ইত্যাদি। অনুমতি গ্রহণ-সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধি-বিধানের জন্য ‘মা‘আরিফুল কুরআন’ গ্রন্থে আলোচ্য আয়াতসমূহের তাফসীর দেখুন। তাতে বিশদ আলোচনা ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের সাথে এ সংক্রান্ত জরুরী মাসাইল উল্লেখ করা হয়েছে।


৩০


قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ


কুল লিলমু’মিনীনা ইয়াগুদদূ মিন আবসা-রিহিম ওয়া ইয়াহফাজূ’ ফুরূজাহুম যালিকা আঝকা-লাহুম ইন্নাল্লা-হা খাবীরুম বিমা ইয়াসনা‘ঊন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

মুমিন পুরুষদের বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য শুদ্ধতর। তারা যা-কিছু করে আল্লাহ সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ অবগত।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মু’মিনদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে; এটাই তাদের জন্যে উত্তম। এরা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ্ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।


৩১


وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ۖ وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ ۖ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَىٰ عَوْرَاتِ النِّسَاءِ ۖ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ ۚ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ


ওয়া কুল লিলমু’মিনা-তি ইয়াগদুদনা মিন আবসা-রিহিন্না ওয়া ইয়াহফাজনা ফুরূজাহুন্না ওয়ালা-ইউবদীনা ঝীনাতাহুন্না ইল্লা-মা-জাহারা মিনহা-ওয়াল ইয়াদরিবনা বিখুমুরিহিন্না ‘আলা-জুয়ূবিহিন্না ওয়ালা-ইউবদীনা ঝীনাতাহুন্না ইল্লা-লিবু‘উলাতিহিন্না আও আবাইহিন্না আও আ-বাই বু‘উলাতিহিন্না আও আবনাইহিন্না আও আবনাই বু‘উলাতিহিন্না আও ইখওয়া-নিহিন্না আও বানীইখওয়া-নিহিন্না আও বানীআখাওয়া-তিহিন্না আও নিছাইহিন্না আও মা-মালাকাত আইমা-নুহুন্না আবিত তা-বি‘ঈনা গাইরি ঊলিল ইরবাতি মিনার রিজা-লি আবিততিফলিল্লাযীনা লাম ইয়াজহারূ‘আলা-‘আওরাতিননিছাই ওয়ালা-ইয়াদরিবনা বিআরজুলিহিন্না লিইউ‘লামা মা-ইউখফীনা মিন ঝীনাতিহিন্না ওয়াতূবূইলাল্লা-হি জামী‘আন আইয়ুহাল মু’মিনূনা লা‘আল্লাকুম তুফলিহূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং মুমিন নারীদের বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং নিজেদের ভূষণ অন্যদের কাছে প্রকাশ না করে, যা আপনিই প্রকাশ পায় তা ছাড়া ১৯ এবং তারা যেন তাদের ওড়নার আঁচল নিজ বক্ষদেশে নামিয়ে দেয় এবং নিজেদের ভূষণ ২০ যেন স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাতিজা, ভাগিনেয়, আপন নারীগণ, ২১ যারা নিজ মালিকানাধীন, ২২ যৌনকামনা নেই এমন পুরুষ খেদমতগার ২৩ এবং নারীদের গোপনীয় অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ২৪ ছাড়া আর কারও সামনে প্রকাশ না করে। মুসলিম নারীদের উচিত ভূমিতে এভাবে পদক্ষেপ না করা, যাতে তাদের গুপ্ত সাজ জানা হয়ে যায়। ২৫ হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলতা অর্জন কর।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর মু’মিন নারীদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে ও তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে; তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশ থাকে তা ব্যতীত তাদের আভরণ প্রদর্শন না করে, তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন মাথার কাপড় দিয়ে আবৃত করে, তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, আপন নারীগণ, তাদের মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনা-রহিত পুরুষ এবং নারীদের গোপন অঙ্গ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ব্যতীত কারও নিকট তাদের আভরণ প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন আভরণ প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদক্ষেপ না করে। হে মু’মিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহ্ র দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।


তাফসীরঃ

১৯. এখানে ভূষণ দ্বারা শরীরের সেই অংশ বোঝানো হয়েছে, যাতে অলংকার বা আকর্ষণীয় পোশাক পরিধান করা হয়। এভাবে এ আয়াতে নারীদেরকে হুকুম করা হয়েছে, তারা যেন গায়রে মাহরাম বা পরপুরুষের সামনে নিজেদের গোটা শরীর বড় চাদর বা বোরকা দ্বারা ঢেকে রাখে, যাতে তারা তার সাজসজ্জার অঙ্গসমূহ দেখতে না পায়। তবে শরীরের এ রকম অংশ যদি কাজকর্ম করার সময় আপনিই খুলে যায় বা বিশেষ প্রয়োজনবশত খোলার দরকার পড়ে, তাতে গুনাহ হবে না। সে সম্পর্কে বলা হয়েছে ‘যা আপনিই প্রকাশ পায় তা ছাড়া’। ইবনে জারীর তাবারী (রহ.) তাঁর তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নারী যে চাদর দ্বারা শরীর ঢাকে, এ ব্যতিক্রম দ্বারা সেটাই বোঝানো উদ্দেশ্য, যেহেতু তা আবৃত করা সম্ভব নয়। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু ব্যাখ্যা করেন, বিশেষ প্রয়োজনে যদি চেহারা বা হাত খুলতে হয়, তবে এ আয়াত তার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু চেহারাই যেহেতু রূপ ও সৌন্দর্যের কেন্দ্রস্থল তাই সাধারণ অবস্থায় তা ঢেকে রাখতে হবে, যেমন সূরা আহযাবে হুকুম দেওয়া হয়েছে (৩৩ : ৫৯)। হ্যাঁ বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিলে সেটা ভিন্ন কথা। তখন চেহারাও খোলা যাবে, কিন্তু পুরুষের প্রতি নির্দেশ হল তখন যেন সে নিজ দৃষ্টি অবনমিত রাখে, যেমন এর আগের আয়াতে গেছে।


২০. যে সকল পুরুষের সামনে নারীর পর্দা রক্ষা জরুরী নয়, এবার তাদের তালিকা দেওয়া হচ্ছে।


২১. ‘আপন নারীগণ’ কোন কোন মুফাসসির বলেন, এর অর্থ মুসলিম নারীগণ। সুতরাং অমুসলিম নারীদের সামনে মুসলিম নারীর জন্য পর্দা রক্ষা জরুরী। কিন্তু বিভিন্ন হাদীস দ্বারা জানা যায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণের কাছে অমুসলিম নারীরা আসা-যাওয়া করত। এর দ্বারা উপরিউক্ত ব্যাখ্যা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। কাজেই অন্যান্য মুফাসসিরগণ বলেন, ‘আপন নারীগণ’ বলতে এমন নারীদের বোঝানো হয়েছে, যাদের সঙ্গে মেলামেশা হয়ে থাকে। তা মুসলিম নারী হোক বা অমুসলিম নারী। নারীদের জন্য এরূপ নারীর সঙ্গে পর্দা করা জরুরী নয়। ইমাম রাযী (রহ.) ও আল্লামা আলুসী (রহ.) এ ব্যাখ্যাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন (মাআরিফুল কুরআন)।


২২. ‘যারা নিজ মালিকানাধীন’-এর দ্বারা দাসীগণকে বোঝানো হয়েছে। দাসী (চাকরানী নয়) মুসলিম হোক বা অমুসলিম, তার সঙ্গে পর্দা করা আবশ্যিক নয়। কোন কোন ফকীহ গোলামকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন, অর্থাৎ তার সঙ্গেও পর্দা নেই।


২৩. ‘যৌন কামনা নেই এমন খেদমতগার’। কুরআন মাজীদে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে اَلتَّابِعِيْنَ অর্থাৎ এমন লোক, যে অন্যের অধীন থাকে। অধিকাংশ মুফাসসির বলেন, এক ধরনের হাবাগোবা লোক থাকে, যারা কোন পরিবারের সঙ্গে লেগে থাকে, তাদের ফুট-ফরমাশ খাটে আর তারা কিছু দিলে খায় কিংবা কোন মেহমানের সাথে জুটে যায় এবং বিনা দাওয়াতে হাজির হয়ে যায়। পেটে কিছু খাবার দেওয়া ছাড়া তাদের আর কোন লক্ষ্য নেই। যৌন চাহিদার কোন ব্যাপারও তাদের থাকে না। সেকালেও এ ধরনের লোক ছিল। আয়াতের ইশারা তাদের দিকেই। ইমাম শাবী (রহ.) বলেন, এর দ্বারা বয়স্ক চাকর-বাকরকে বোঝানো হয়েছে, বয়সজনিত জরায় যাদের অন্তর থেকে নারী-আসক্তি লোপ পেয়ে গেছে (তাফসীরে ইবনে জারীর)।


২৪. অর্থাৎ সেই নাবালেগ শিশু, নর-নারীর যৌন সম্পর্কের বিষয়ে যার কোন ধারণা সৃষ্টি হয়নি।


২৫. অর্থাৎ পায়ে যদি নূপুর পরা থাকে, তবে হাঁটার সময় এমনভাবে পা ফেলবে না, যাতে নূপুরের আওয়াজ কেউ শুনতে পায় বা অলংকারের পারস্পরিক ঘর্ষণজনিত আওয়াজ কোন গায়রে মাহরাম পুরুষের কানে পৌঁছে।


৩২


وَأَنكِحُوا الْأَيَامَىٰ مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ ۚ إِن يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ ۗ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ


ওয়া আনকিহুল আয়া-মা-মিনকুম ওয়াসসা-লিহীনা মিন ‘ইবা-দিকুম ওয়াইমাইকুম ইয়ঁইয়াকূনূফুকারাআ ইউগনিহিমুল্লা-হু মিন ফাদলিহী ওয়াল্লা-হু ওয়া-ছি‘উন ‘আলীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত (তারা পুরুষ হোক বা নারী) তাদের বিবাহ সম্পাদন কর এবং তোমাদের গোলাম ও বাঁদীদের মধ্যে যারা বিবাহের উপযুক্ত, তাদেরও। তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দিবেন। ২৬ আল্লাহ অতি প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের মধ্যে যারা ‘আয়্যিম’ তাদের বিবাহ সম্পাদন কর এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরও। তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ্ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দিবেন; আল্লাহ্ তো প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।


তাফসীরঃ

২৬. এ সূরায় অশ্লীলতা ও ব্যভিচার রোধ করার লক্ষে যেমন বিভিন্ন বিধি-বিধান দেওয়া হয়েছে তেমনি মানুষকে উৎসাহিত করা হয়েছে, সে যেন তার স্বভাবগত যৌনচাহিদা বৈধ পন্থায় পূরণ করে। সে হিসেবেই এ আয়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বালেগ নারী-পুরুষ যদি বিবাহের উপযুক্ত হয়, তবে অভিভাবকদের উচিত তাদের বিবাহের জন্য চেষ্টা করা। এ ব্যাপারে বর্তমান সামর্থ্যই যথেষ্ট। বিবাহের পর স্ত্রী ও সন্তানদের ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে সে অভাবে পড়তে পারে এই আশঙ্কায় বিবাহ বিলম্বিত করা সমীচীন নয়। চরিত্র রক্ষার উদ্দেশ্যে আল্লাহ তাআলার উপর ভরসা করে বিবাহ দিলে অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহের জন্য আল্লাহ তাআলাই উপযুক্ত কোন ব্যবস্থা করে দেবেন। বাকি যাদের বর্তমান অবস্থাও সচ্ছল নয় এবং বিবাহ করার মত অর্থ-সম্পদ হাতে নেই, তারা কী করবে? পরের আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা নিজ অনুগ্রহে যতক্ষণ পর্যন্ত তাদেরকে সামর্থ্য দান করেন, ততক্ষণ তারা সংযম অবলম্বন করবে এবং নিজ চরিত্র রক্ষায় যত্নবান থাকবে।


৩৩


وَلْيَسْتَعْفِفِ الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ نِكَاحًا حَتَّىٰ يُغْنِيَهُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ ۗ وَالَّذِينَ يَبْتَغُونَ الْكِتَابَ مِمَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ فَكَاتِبُوهُمْ إِنْ عَلِمْتُمْ فِيهِمْ خَيْرًا ۖ وَآتُوهُم مِّن مَّالِ اللَّهِ الَّذِي آتَاكُمْ ۚ وَلَا تُكْرِهُوا فَتَيَاتِكُمْ عَلَى الْبِغَاءِ إِنْ أَرَدْنَ تَحَصُّنًا لِّتَبْتَغُوا عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۚ وَمَن يُكْرِههُّنَّ فَإِنَّ اللَّهَ مِن بَعْدِ إِكْرَاهِهِنَّ غَفُورٌ رَّحِيمٌ


ওয়ালইয়াছতা‘ফিফিল্লাযীনা লা-ইয়াজিদূ না নিকা-হান হাত্তা-ইউগনিয়াহুমুল্লা-হু মিন ফাদলিহী ওয়াল্লাযীনা ইয়াবতাগূনাল কিতা-বা মিম্মা-মালাকাত আইমা-নুকুম ফাকাতিবূহুম ইন ‘আলিমতুম ফীহিম খাইরাওঁ ওয়াআ-তূহুম মিম মা-লিল্লা-হিল্লাযীআ-তাকুম ওয়ালা-তুকরিহূফাতায়া-তিকুম ‘আলাল বিগাই ইন আরদনা তাহাসসুনাল লিতাবতাগূ‘আরাদাল হায়া-তিদদুনইয়া- ওয়া মাইঁ ইউকরিহহুন্না ফাইন্নাল্লা-হা মিম বা‘দি ইকরা-হিহিন্না গাফূরুর রাহীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যাদের বিবাহ করার সামর্থ্য নেই, তারা সংযম অবলম্বন করবে, যতক্ষণ না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করেন। তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীদের মধ্যে যারা ‘মুকাতাবা’ করতে চায়, তোমরা তাদের সঙ্গে মুকাতাবা করবে ২৭ যদি তাদের মধ্যে ভালো কিছু দেখ ২৮ এবং (হে মুসলিমগণ!) আল্লাহ তোমাদেরকে যে সম্পদ দিয়েছেন তা থেকে তাদেরকেও দাও এবং তোমরা নিজ দাসীদেরকে দুনিয়ার ধন-সম্পদ অর্জনের জন্য ব্যভিচারে বাধ্য করো না ২৯ যদি তারা পুতপবিত্র থাকতে চায়। কেউ তাদেরকে বাধ্য করলে, তাদেরকে বাধ্য করার পর (তারা ক্ষমার আশা রাখতে পারে। কেননা) আল্লাহ তো অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ৩০


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা বিবাহে সামর্থ নয়, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে যে পর্যন্ত না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেন। তোমাদের অধিকারভুক্তদের মধ্যে যারা মুক্তির জন্য লিখিত চুক্তি করতে চায়, তাদের সাথে তোমরা লিখিত চুক্তি কর যদি জান যে, তাদের মধ্যে কল্যাণ আছে। আল্লাহ তোমাদেরকে যে, অর্থ-কড়ি দিয়েছেন, তা থেকে তাদেরকে দান কর। তোমাদের দাসীরা নিজেদের পবিত্রতা রক্ষা করতে চাইলে তোমরা পার্থিব জীবনের সম্পদের লালসায় তাদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য কারো না। যদি কেহ তাদের উপর জোর-জবরদস্তি করে, তবে তাদের উপর জোর-জবরদস্তির পর আল্লাহ তাদের প্রতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাদের বিবাহের সামর্থ্য নেই, আল্লাহ্ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত না করা পর্যন্ত তারা যেন সংযম অবলম্বন করে এবং তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীদের মধ্যে কেউ তার মুক্তির জন্যে লিখিত চুক্তি চাইলে, তাদের সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ হও, যদি তোমরা এদের মধ্যে মঙ্গলের সন্ধান পাও। আল্লাহ্ তোমাদেরকে যে সম্পদ দিয়েছেন তা হতে তোমরা এদেরকে দান করবে। তোমাদের দাসিগণ, সতীত্ব রক্ষা করতে চাইলে পার্থিব জীবনের ধনলালসায় তাদেরকে ব্যভিচারিণী হতে বাধ্য কর না, আর যে তাদেরকে বাধ্য করে, তবে তাদের ওপর জবরদস্তির পর আল্লাহ্ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


তাফসীরঃ

২৭. দাস-দাসীর প্রচলন থাকাকালে অনেক সময় দাস-দাসীগণ অর্থের বিনিময়ে মুক্তি লাভের জন্য মনিবদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হত। উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ধার্য করা হত। তারা যথাসময়ে মনিবকে সে অর্থ পরিশোধ করলে দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে যেত। মুক্তি লাভের জন্য সম্পাদিত এ চুক্তিকেই ‘মুকাতাবা’ বা ‘কিতাবা’ বলা হয়। এ আয়াতে মনিবদেরকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, দাস-দাসীগণ এরূপ চুক্তি করতে চাইলে তারা যেন তাতে সম্মত হয়। আর অন্যান্য মুসলিমকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে তারা যেন এরূপ দাস-দাসীর মুক্তির লক্ষ্যে তাদেরকে অর্থসাহায্য করে।


২৮. আয়াতে বলা হয়েছে, যদি তাদের মধ্যে ভালো কিছু দেখ। অর্থাৎ যদি মনে হয় এরূপ চুক্তি দাস-দাসীর পক্ষে বাস্তবিকই কল্যাণকর হবে। অর্থাৎ, মুক্তি লাভের পর তারা চুরি, ব্যভিচার, অন্যায়-অপকর্ম করে বেড়াবে না। এরূপ ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদেরকে মুক্তি লাভের সুযোগ দেওয়া উচিত, যাতে তারা মুক্তি লাভের পর আত্মসংশোধনের পথে উন্নতি লাভ করতে পারে এবং কোথাও বিবাহ করতে চাইলে স্বাধীনভাবে তা করতে সমর্থ হয়; দাসত্বের কারণে ক্ষেত্র সংকুচিত না থাকে -অনুবাদক তাফসীরে উসমানী থেকে


২৯. জাহেলী যুগে রেওয়াজ ছিল, দাস-দাসীর মালিকগণ তাদের দাসীদেরকে দিয়ে দেহ বিক্রি করাত এবং এভাবে তাদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য করে অর্থোপার্জন করত। এ আয়াত তাদের সেই ঘৃণ্য প্রথাকে একটি গুরুতর গুনাহ সাব্যস্ত করত সমাজ থেকে তার মূলোৎপাটন করেছে।


৩০. অর্থাৎ, যেই দাসীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ব্যভিচারে বাধ্য করা হয়েছে, সে যদি ব্যভিচার থেকে বাঁচার যথাসাধ্য চেষ্টা করে থাকে, তবে সে যেহেতু অপারগ হয়ে তা করেছে তাই তার কোন গুনাহ হবে না এবং ব্যভিচারের শরয়ী শাস্তিও তার উপর আরোপিত হবে না। হাঁ যে ব্যক্তি তার সাথে ব্যভিচার করেছে তাকে অবশ্যই শরয়ী শাস্তি দেওয়া হবে এবং যেই মনিব তাকে দেহ বিক্রি করতে বাধ্য করেছে, বিচারক তাকেও উপযুক্ত শাস্তি (তাযীর) দেবে।


৩৪


وَلَقَدْ أَنزَلْنَا إِلَيْكُمْ آيَاتٍ مُّبَيِّنَاتٍ وَمَثَلًا مِّنَ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُمْ وَمَوْعِظَةً لِّلْمُتَّقِينَ


ওয়া লাকাদ আনঝালনাইলাইকুমআ-য়া-তিম মুবাইয়িানা-তিওঁ ওয়া মাছালাম মিনাল্লাযীনা খালাও মিন কাবলিকুম ওয়া মাও‘ইজাতাল লিল মুত্তাকীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আমি তোমাদের প্রতি নাযিল করেছি প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্টকারক আয়াত, তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহের দৃষ্টান্ত এবং মুত্তাকীদের জন্য উপকারী উপদেশ।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ, তোমাদের পূর্ববর্তীদের কিছু দৃষ্টান্ত এবং আল্লাহ ভীরুদের জন্যে দিয়েছি উপদেশ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তো তোমাদের নিকট অবতীর্ণ করেছি সুস্পষ্ট আয়াত, তোমাদের পূর্ববর্তীদের দৃষ্টান্ত এবং মুত্তাকীদের জন্যে উপদেশ।


৩৫


۞ اللَّهُ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ مَثَلُ نُورِهِ كَمِشْكَاةٍ فِيهَا مِصْبَاحٌ ۖ الْمِصْبَاحُ فِي زُجَاجَةٍ ۖ الزُّجَاجَةُ كَأَنَّهَا كَوْكَبٌ دُرِّيٌّ يُوقَدُ مِن شَجَرَةٍ مُّبَارَكَةٍ زَيْتُونَةٍ لَّا شَرْقِيَّةٍ وَلَا غَرْبِيَّةٍ يَكَادُ زَيْتُهَا يُضِيءُ وَلَوْ لَمْ تَمْسَسْهُ نَارٌ ۚ نُّورٌ عَلَىٰ نُورٍ ۗ يَهْدِي اللَّهُ لِنُورِهِ مَن يَشَاءُ ۚ وَيَضْرِبُ اللَّهُ الْأَمْثَالَ لِلنَّاسِ ۗ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ


আল্লা-হু নূরুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি মাছালুনূরিহী কামিশকা-তিন ফীহা-মিসবাহুন আলমিসবা-হুফী ঝুজা-জাতিন আঝঝুজা-জাতুকাআন্নাহা-কাওকাবুন দুররিইইউঁইউকাদুমিন শাজারাতিম মুবা-রাকাতিন ঝাইতূনাতিল লা-শারকিইইয়াতিওঁ ওয়ালাগারবিইইয়াতিইঁ ইয়াকা-দুঝাইতুহা- ইউদীঊ ওয়ালাও লাম তামছাছহু না-রুন নূরুন ‘আলা-নূরিন ইয়াহদিল্লা-হু লিনূরিহী মাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইয়াদরিবুল্লা-হুল আমছা-লা লিন্না-ছি ওয়াল্লা-হু বিকুল্লি শাইয়িন ‘আলীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর নূর। ৩১ তাঁর নূরের দৃষ্টান্ত যেন এক তাক, যাতে আছে এক প্রদীপ। ৩২ প্রদীপটি একটি কাচের আবরণের ভেতর। যেন তা (অর্থাৎ কাচ) নক্ষত্র, মুক্তার মত উজ্জ্বল। প্রদীপটি প্রজ্বলিত বরকতপূর্ণ যয়তুন বৃক্ষের তেল দ্বারা, যা (কেবল) পুবেরও নয়, (কেবল) পশ্চিমের নয়। ৩৩ মনে হয়, যেন আগুনের ছোঁয়া না লাগলেও তা এমনিই আলো দেবে। ৩৪ নূরের উপর নূর। আল্লাহ যাকে চান তাকে নিজ নূরে উপনীত করেন। আল্লাহ মানুষের কল্যাণার্থে দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেন। আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের জ্যোতি, তাঁর জ্যোতির উদাহরণ যেন একটি কুলঙ্গি, যাতে আছে একটি প্রদীপ, প্রদীপটি একটি কাঁচপাত্রে স্থাপিত, কাঁচপাত্রটি উজ্জ্বল নক্ষত্র সদৃশ্য। তাতে পুতঃপবিত্র যয়তুন বৃক্ষের তৈল প্রজ্বলিত হয়, যা পূর্বমুখী নয় এবং পশ্চিমমুখীও নয়। অগ্নি স্পর্শ না করলেও তার তৈল যেন আলোকিত হওয়ার নিকটবর্তী। জ্যোতির উপর জ্যোতি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথ দেখান তাঁর জ্যোতির দিকে। আল্লাহ মানুষের জন্যে দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেন এবং আল্লাহ সব বিষয়ে জ্ঞাত।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহ্ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর জ্যোতি, তাঁর জ্যোতির উপমা যেন একটি দীপাধার যার মধ্যে আছে এক প্রদীপ, প্রদীপটি একটি কাচের আবরণের মধ্যে স্থাপিত, কাচের আবরণটি উজ্জ্বল নক্ষত্রসদৃশ; এটা প্রজ্বলিত করা হয় পূত-পবিত্র যায়তূন বৃক্ষের তৈল দিয়ে যা প্রাচ্যের নয়, প্রতীচ্যেরও নয়, অগ্নি একে স্পর্শ না করলেও যেন এর তৈল উজ্জ্বল আলো দিতেছে; জ্যোতির ওপর জ্যোতি! আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা পথনির্দেশ করেন তাঁর জ্যোতির দিকে। আল্লাহ্ মানুষের জন্যে উপমা দিয়ে থাকেন এবং আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।


তাফসীরঃ

৩১. ‘আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর নূর’ এ বাক্যের সরল অর্থ তো এই যে, আসমান-যমীনের সমস্ত মাখলুক হেদায়েতের আলো পায় কেবল আল্লাহ তাআলারই নিকট থেকে। [তবে এর আরও গূঢ় অর্থ ও গভীর তাৎপর্য রয়েছে। এর ভেতর আছে পণ্ডিতমনষ্ক ব্যক্তিবর্গের চিন্তার খোরাক। আছে তত্ত্বানুসন্ধানীদের জন্য কৌতুহলী অভিযাত্রার আহ্বান।-অনুবাদক] ইমাম গাযালী (রহ.) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় একটি স্বতন্ত্র নিবন্ধ রচনা করেছেন। তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্ম দার্শনিক ভঙ্গিতে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ইমাম রাযী (রহ.) নিজ তাফসীর গ্রন্থে এ আয়াতের অধীনে সম্পূর্ণ নিবন্ধটি উদ্ধৃত করেছেন। জ্ঞানপিপাসু পাঠকের তা একবার পড়া উচিত।


৩২. ইমাম রাযী (রহ.) বলেন, সূর্যের আলো যদিও প্রদীপের আলো অপেক্ষা অনেক বেশি, তা সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলা তাঁর হেদায়াতের আলোকে সূর্যের সাথে নয়; প্রদীপের সাথে তুলনা করেছেন। এর কারণ, এখানে উদ্দেশ্য হল এমন হেদায়েতের দৃষ্টান্ত দেখানো, যা গোমরাহীর অন্ধকারের মাঝখানে থেকে পথ প্রদর্শন করে। আর সে দৃষ্টান্ত প্রদীপের দ্বারাই হয়। কেননা প্রদীপই সর্বদা অন্ধকারের ভেতর থেকে আলো দান করে। সূর্যের ব্যাপারটা সে রকম নয়। সূর্যের বর্তমানে অন্ধকারের অস্তিত্বই থাকে না। ফলে অন্ধকারের সাথে তার তুলনা যুগপৎভাবে প্রকাশ পায় না (তাফসীরে কাবীর)।


৩৩. অর্থাৎ, সে বৃক্ষ এমন উন্মুক্ত স্থানে অবস্থিত যে, সূর্য পূর্বে থাকুক বা পশ্চিম দিকে, তার আলো সর্বাবস্থায়ই তাতে পড়ে। এরূপ গাছের ফল খুব ভালো হয়, তা পাকেও ভালো এবং তার তেল খুব স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল হয়।


৩৪. পাকা যয়তুনের তেল খাঁটি হলে তা বড় স্বচ্ছ ও ঝলমলে হয়। দূর থেকে মনে হয় আলো ঠিকরাচ্ছে।


৩৬


فِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَن تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ يُسَبِّحُ لَهُ فِيهَا بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ


ফী বুয়ূতিন আযিনাল্লা-হু আন তুরফা‘আ ওয়া ইউযকারা ফীহাছমুহূ ইউছাব্বিহুলাহূ ফীহা-বিলগুদুওবিওয়াল আ-সা-ল।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহ যে ঘরগুলিকে উচ্চমর্যাদা দিতে এবং তাতে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে আদেশ করেছেন, তাতে সকাল ও সন্ধ্যায় তাসবীহ পাঠ করে


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহ যেসব গৃহকে মর্যাদায় উন্নীত করার এবং সেগুলোতে তাঁর নাম উচ্চারণ করার আদেশ দিয়েছেন, সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে;


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে সকল গৃহে যাকে সমুন্নত করতে এবং যাতে তাঁর নাম স্মরণ করতে আল্লাহ্ নির্দেশ দিয়েছেন, সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে,


৩৭


رِجَالٌ لَّا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَن ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ ۙ يَخَافُونَ يَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ وَالْأَبْصَارُ

আরো পড়ুন :-

স্মরণ শক্তি বৃদ্ধির দোয়া,মেধা বৃদ্ধির দোয়া,স্মৃতি শক্তি বাড়ানোর দোয়া!নামাজের পর ২১ বাড় পড়ুন

গর্ভের সন্তান কখন নষ্ট করা যাবে?,কতদিনের বাচ্চা নষ্ট করলে গুনাহ হবে না?, বাচ্চা নষ্ট করা জায়েজ আছে?, 

দোয়াটি পড়লে সাথে সাথে রাগ কমে যায়, রাগ কমানোর দোয়া,শিশুদের রাগ কমানোর আমল

(ads2)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#b50404)

রিজা-লুল লা-তুলহীহিম তিজা-রাতুওঁ ওয়ালা-বাই‘উন ‘আন যিকরিল্লা-হি ওয়া ইকামিসসালা-তি ওয়া ইতাইঝঝাকা-তি ইয়াখা-ফূনা ইয়াওমান তাতাকাল্লাবুফীহিল কুলূবু ওয়াল আবসা-র।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এমন লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বেচাকেনা আল্লাহর স্মরণ, নামায কায়েম ও যাকাত আদায় থেকে গাফেল করতে পারে না। ৩৫ তারা ভয় করে সেই দিনকে, যে দিন অন্তর ও দৃষ্টি ওলট-পালট হয়ে যাবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এমন লোকেরা, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে, নামায কায়েম করা থেকে এবং যাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেসব লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহ্ র স্মরণ হতে এবং সালাত কায়েম ও যাকাত প্রদান হতে বিরত রাখে না, তারা ভয় করে সেই দিনকে যেই দিন অনেক অন্তর ও দৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে-


তাফসীরঃ

৩৫. পূর্বের আয়াতে বলা হয়েছিল আল্লাহ তাআলা যাকে চান হিদায়াতের আলোতে উপনীত করেন। এবার যারা হেদায়াতের আলোপ্রাপ্ত হয়, তাদের বৈশিষ্ট্যাবলী বর্ণিত হচ্ছে। সুতরাং এ আয়াতে বলা হয়েছে, তারা মসজিদ ও ইবাদতখানায় আল্লাহর তাসবীহ ও যিকির করে। মসজিদ ও ইবাদতখানা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার হুকুম হল, এগুলোকে যেন উচ্চমর্যাদা দেওয়া হয় ও সম্মান করা হয়। যারা এসব ইবাদতখানায় ইবাদত করে, তারা যে দুনিয়ার কাজকর্ম বিলকুল ছেড়ে দেয় এমন নয়; বরং আল্লাহ তাআলার হুকুম অনুসারে জীবিকা উপার্জনের কাজও করে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বেচাকেনায়ও লিপ্ত হয়। তবে ব্যবসায়িক ধান্ধায় পড়ে তারা আল্লাহ তাআলার স্মরণ ও তাঁর হুকুম-আহকাম পালন থেকে গাফেল হয়ে যায় না। তারা ওয়াক্ত মত নামায পড়ে, যাকাত ফরয হলে তাও আদায় করে এবং কখনওই একথা ভুলে যায় না যে, এমন একদিন অবশ্যই আসবে, যে দিন জীবনের সব কাজ-কর্মের হিসাব দিতে হবে। সে দিনটি অত্যন্ত বিভীষিকাময়। তখন সমস্ত মানুষের বিশেষত নাফরমানদের অন্তরাত্মা শুকিয়ে যাবে, চোখ উল্টে যাবে।


৩৮


لِيَجْزِيَهُمُ اللَّهُ أَحْسَنَ مَا عَمِلُوا وَيَزِيدَهُم مِّن فَضْلِهِ ۗ وَاللَّهُ يَرْزُقُ مَن يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ


লিইয়াজঝিইয়াহুমুল্লা-হু আহছানা মা-‘আমিলূওয়া ইয়াঝীদাহুম মিন ফাদলিহী ওয়াল্লা-হু ইয়ারঝুকুমাইঁ ইয়াশাউ বিগাইরি হিছা-ব।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

ফলে আল্লাহ তাদেরকে তাদের কাজের উত্তম বিনিময় দান করবেন এবং নিজ অনুগ্রহে অতিরিক্ত আরও কিছু দিবেন। ৩৬ আল্লাহ যাকে চান, তাকে দান করেন অপরিমিত।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

(তারা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে) যাতে আল্লাহ তাদের উৎকৃষ্টতর কাজের প্রতিদান দেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও অধিক দেন। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রুযী দান করেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাতে তারা যে কর্ম করে তার জন্যে আল্লাহ্ তাদেরকে উত্তম পুরস্কার দেন এবং নিজ অনুগ্রহে তাদের প্রাপ্যের অধিক দেন। আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত জীবিকা দান করেন।


তাফসীরঃ

৩৬. ‘নিজ অনুগ্রহে অতিরিক্ত আরও কিছু দিবেন’। আল্লাহ তাআলা সৎকর্মের যেসব পুরস্কার দান করবেন, তার কিছু কিছু তো কুরআন ও হাদীসে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেক কিছু রাখা হয়েছে অব্যক্ত। এ আয়াতে কৌতুহলোদ্দীপক ভাষায় বলা হয়েছে, কুরআন ও হাদীসে যা প্রকাশ করা হয়েছে, পুণ্যবানদের প্রাপ্তব্য পুরস্কার তার মধ্যেই সীমিত নয়। বরং আল্লাহ তাআলা তার বাইরেও এমন অনেক নি‘আমত দান করবেন, যা কুরআন-হাদীসে তো বর্ণিত হয়ইনি, কারও অন্তর তা কল্পনা করতেও সক্ষম নয়।


৩৯


وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَعْمَالُهُمْ كَسَرَابٍ بِقِيعَةٍ يَحْسَبُهُ الظَّمْآنُ مَاءً حَتَّىٰ إِذَا جَاءَهُ لَمْ يَجِدْهُ شَيْئًا وَوَجَدَ اللَّهَ عِندَهُ فَوَفَّاهُ حِسَابَهُ ۗ وَاللَّهُ سَرِيعُ الْحِسَابِ


ওয়াল্লাযীনা কাফারূআ‘মা-লুহুম কাছারা-বিম বিকী‘আতিইঁ ইয়াহছাবুহুজ্জামআ-নু মাআন হাত্তাইযা-জাআহূলাম ইয়াজিদহু শাইআওঁ ওয়া ওয়াজাদাল্লা-হা ‘ইনদাহূ ফাওয়াফফা-হু হিছা-বাহূ ওয়াল্লা-হু ছারী‘উল হিছা-ব।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং (অন্যদিকে) যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তাদের কার্যাবলী যেন মরুভূমির মরীচিকা, যাকে পিপাসার্ত লোক মনে করে পানি, অবশেষে যখন সে তার কাছে পৌঁছে, তখন বুঝতে পারে তা কিছুই নয়। ৩৭ সেখানে সে পায় আল্লাহকে। আল্লাহ তার হিসাব পরিপূর্ণরূপে চুকিয়ে দেন। ৩৮ আল্লাহ অতি দ্রুত হিসাব গ্রহীতা।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা কাফের, তাদের কর্ম মরুভুমির মরীচিকা সদৃশ, যাকে পিপাসার্ত ব্যক্তি পানি মনে করে। এমনকি, সে যখন তার কাছে যায়, তখন কিছুই পায় না এবং পায় সেখানে আল্লাহকে, অতঃপর আল্লাহ তার হিসাব চুকিয়ে দেন। আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যারা কুফরী করে তাদের কর্ম মরুভূমির মরীচিকাসদৃশ, পিপাসার্ত যাকে পানি মনে করে থাকে, কিন্তু সে এর নিকট উপস্থিত হলে দেখবে তা কিছু নয় এবং সে পাবে সেখানে আল্লাহ্কে, এরপর তিনি তার কর্মফল পূর্ণ মাত্রায় দিবেন। আল্লাহ্ হিসেব গ্রহণে তৎপর।


তাফসীরঃ

৩৭. মরুভূমিতে যে বালুরাশি চিকচিক করে, দূর থেকে তাকে মনে হয় পানি। আসলে তো তা পানি নয়; মরীচিকা। আরবীতে বলে سَرَابٌ (সারাব)। সফরকালে মুসাফিরগণ ভ্রমবশত তাকে পানি মনে করে বসে। কিন্তু বাস্তবে তা কিছুই নয়। ঠিক এ রকমই কাফেরগণ যে ইবাদত ও সৎকর্ম করে আর ভাবে বেশ নেকী কামাচ্ছে, প্রকৃতপ্রস্তাবে তার কিছুই কামাই হয় না, তা মরীচিকার মতই ফাঁকি।


৩৮. যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে, কিন্তু তাওহীদ ও রিসালাতকে স্বীকার করে না, এটা সেই সকল কাফেরের উপমা। বোঝানো হচ্ছে, কাফেরগণ তাদের সেসব কাজ সম্পর্কে মনে করে আখেরাতে তা তাদের উপকারে আসবে। প্রকৃতপক্ষে তখন তা কোনওই উপকারে আসবে না, মৃত্যুর পর তারা দেখতে পাবে, আল্লাহ তাআলা তাদের সকল কাজের হিসাব বুঝিয়ে দিবেন পুরোপুরি। তারপর দেখা যাবে তারা তাদের কৃতকর্মের কারণে জান্নাতের নয়; বরং সম্পূর্ণরূপে জাহান্নামের উপযুক্ত হয়ে গেছে। এভাবে তারা দেখতে পাবে তাদের কর্ম তাদের কোন উপকারে আসেনি বরং ক্ষতিরই কারণ হয়েছে।


৪০


أَوْ كَظُلُمَاتٍ فِي بَحْرٍ لُّجِّيٍّ يَغْشَاهُ مَوْجٌ مِّن فَوْقِهِ مَوْجٌ مِّن فَوْقِهِ سَحَابٌ ۚ ظُلُمَاتٌ بَعْضُهَا فَوْقَ بَعْضٍ إِذَا أَخْرَجَ يَدَهُ لَمْ يَكَدْ يَرَاهَا ۗ وَمَن لَّمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لَهُ نُورًا فَمَا لَهُ مِن نُّورٍ


আও কাজুলুমা-তিন ফী বাহরিল লুজ্জিইয়িইঁ ইয়াগশা-হু মাওজুম মিন ফাওকিহী মাওজুম মিন ফাওকিহী ছাহা-বুন জু লুমা-তুম বা‘দুহা-ফাওকা বা‘দিন ইযাআখরাজা ইয়াদাহূলাম ইয়াকাদ ইয়ারা-হা- ওয়া মাল লাম ইয়াজ‘আলিল্লা-হু লাহূনূরান ফামালাহূমিননূর।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

অথবা (তাদের কার্যাবলী) যেন গভীর সমুদ্রে বিস্তৃত অন্ধকার, যাকে আচ্ছন্ন করে তরঙ্গ, যার উপর আরেক তরঙ্গ এবং তার উপর মেঘরাশি। স্তরের উপর স্তরে বিন্যস্ত আধারপুঞ্জ। কেউ যখন নিজ হাত বের করে, তাও দেখতে পায় না। ৩৯ বস্তুত আল্লাহ যাকে আলো না দেন, তার নসীবে কোন আলো নেই।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অথবা (তাদের কর্ম) প্রমত্ত সমুদ্রের বুকে গভীর অন্ধকারের ন্যায়, যাকে উদ্বেলিত করে তরঙ্গের উপর তরঙ্গ, যার উপরে ঘন কালো মেঘ আছে। একের উপর এক অন্ধকার। যখন সে তার হাত বের করে, তখন তাকে একেবারেই দেখতে পায় না। আল্লাহ যাকে জ্যোতি দেন না, তার কোন জ্যোতিই নেই।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অথবা তাদের কর্ম গভীর সমুদ্র তলের অন্ধকার সদৃশ, যাকে আচ্ছন্ন করে তরঙ্গের ওপর তরঙ্গ, যার ঊর্ধ্বে মেঘপুঞ্জ, অন্ধকারপুঞ্জ স্তরের ওপর স্তর, এমনকি সে হাত বের করলে তা আদৌ দেখতে পাবে না। আল্লাহ যাকে জ্যোতি দান করেন না তার জন্যে কোন জ্যোতিই নেই।


তাফসীরঃ

৩৯. যেসব কাফের আখেরাতকেও মানে না, এটা তাদের দৃষ্টান্ত। বিশ্বাসের দিক থেকে এরা অধিকতর নিঃস্ব হওয়ার কারণে এরা অতটুকু আলোও পাবে না, যতটুকু প্রথমোক্ত দল পেয়েছিল। তারা তো অন্তত এই আশা করতে পেরেছিল যে, তাদের কর্ম আখেরাতে তাদের উপকারে আসবে, কিন্তু এই দলের সে রকম আশারও লেশমাত্র থাকবে না। কোন কোন মুফাসসির উপমা দু’টির পার্থক্য ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে যে, কাফেরদের কর্ম দু’রকম হয়ে থাকে। (এক) সেই সকল কাজ, যাকে তারা পুণ্য মনে করে এবং সেই বিশ্বাসেই তা করে। তাদের আশা তা করলে তাদের উপকার হবে। এ জাতীয় কাজের দৃষ্টান্ত হল মরীচিকা। (দুই) এমন সব কাজ যাকে তারা পুণ্য মনে করে না এবং তাতে তাদের উপকারের আশাও থাকে না। এর দৃষ্টান্ত হল পুঞ্জীভূত অন্ধকার, যাতে আলোর লেশমাত্র থাকে না। এখানে সমুদ্রগর্ভের অন্ধকার হল তাদের কুফরী আকীদা-বিশ্বাসের উপমা। তাতে এক তরঙ্গ তাদের অসৎকর্মের আর দ্বিতীয় তরঙ্গ জেদ ও হঠকারিতার উপমা। এভাবে উপর-নিচ স্তরবিশিষ্ট নিবিড় অন্ধকার পুঞ্জীভূত হয়ে গেল। এরূপ ঘন অন্ধকারের ভেতর মানুষ যেমন নিজের হাতও দেখতে পায় না, তেমনিভাবে কুফর ও নাফরমানীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন থাকার কারণে তারা নিজেদের স্বরূপও উপলব্ধি করতে পারছে না।


৪১


أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يُسَبِّحُ لَهُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالطَّيْرُ صَافَّاتٍ ۖ كُلٌّ قَدْ عَلِمَ صَلَاتَهُ وَتَسْبِيحَهُ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِمَا يَفْعَلُونَ


আলাম তারা আন্নাল্লা-হা ইউছাব্বিহুলাহূমান ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়াততাইরু সাফফা-তিন কুল্লুন কাদ ‘আলিমা সালা-তাহূওয়া তাছবীহাহূও ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুম বিমা-ইয়াফ‘আলুন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তুমি কি দেখনি আসমান ও যমীনে যা-কিছু আছে, তারা আল্লাহরই তাসবীহ পাঠ করে এবং পাখিরাও, যারা পাখা বিস্তার করে উড়ছে। প্রত্যেকেরই নিজ-নিজ নামায ও তাসবীহের পদ্ধতি জানা আছে। ৪০ আল্লাহ তাদের যাবতীয় কাজ সম্পর্কে পুরোপুরি জ্ঞাত।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তুমি কি দেখ না যে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যারা আছে, তারা এবং উড়ন্ত পক্ষীকুল তাদের পাখা বিস্তার করতঃ আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে? প্রত্যেকেই তার যোগ্য এবাদত এবং পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণার পদ্ধতি জানে। তারা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি কি দেখ না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যারা আছে তারা এবং উড্ডীয়মান বিহঙ্গকুল আল্লাহ্ র পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে ? প্রত্যেকেই জানে তার ‘ইবাদতের ও পবিত্রতা ঘোষণার পদ্ধতি এবং এরা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ্ সম্যক অবগত।


তাফসীরঃ

৪০. সূরা বনী ইসরাঈলে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, বিশ্বজগতের প্রতিটি বস্তু আল্লাহ তাআলার তাসবীহ পাঠ করে। কিন্তু তোমরা তাদের তাসবীহ বুঝতে পার না (১৭ : ৪৪)। এখানে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, প্রত্যেক জিনিসের তাসবীহের পদ্ধতি আলাদা। বিশ্বজগতের প্রতিটি বস্তু আপন-আপন পন্থায় আল্লাহ তাআলার তাসবীহ আদায়ে রত আছে। সূরা বনী ইসরাঈলের উল্লিখিত আয়াতের টীকায় আমরা উল্লেখ করেছি যে, কুরআন মাজীদের বহু আয়াত দ্বারা জানা যায়, দুনিয়ায় আমরা যে সকল বস্তুকে অনুভূতিহীন মনে করি, তাদের মধ্যে কিছু না কিছু অনুভূতি অবশ্যই আছে। এখন তো আধুনিক বিজ্ঞানও একথা ক্রমশ স্বীকার করছে।


৪২


وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ


ওয়ালিল্লা-হি মুলকুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়া ইলাল্লা-হিল মাসীর।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব আল্লাহরই এবং আল্লাহরই দিকে (সকলের) ফিরে যেতে হবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব আল্লাহ্ র ই এবং আল্লাহ্ র ই দিকে প্রত্যাবর্তন।


৪৩


أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يُزْجِي سَحَابًا ثُمَّ يُؤَلِّفُ بَيْنَهُ ثُمَّ يَجْعَلُهُ رُكَامًا فَتَرَى الْوَدْقَ يَخْرُجُ مِنْ خِلَالِهِ وَيُنَزِّلُ مِنَ السَّمَاءِ مِن جِبَالٍ فِيهَا مِن بَرَدٍ فَيُصِيبُ بِهِ مَن يَشَاءُ وَيَصْرِفُهُ عَن مَّن يَشَاءُ ۖ يَكَادُ سَنَا بَرْقِهِ يَذْهَبُ بِالْأَبْصَارِ


আলাম তারা আন্নাল্লা-হা ইউঝজী ছাহা-বান ছুম্মা ইউআলিলফুবাইনাহূছু ম্মা ইয়াজ‘আলুহূ রুকা-মান ফাতারাল ওয়াদকা ইয়াখরুজুমিন খিলা-লিহী ওয়া ইউনাঝঝিলুমিনাছছামাই মিন জিবা-লিন ফীহা-মিম বারাদিন ফাইউসীবুবিহী মাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইয়াসরিফুহূ‘আম মাইঁ ইয়াশাউ ইয়াকা-দুছানা-বারকিহী ইয়াযহাবুবিলআবসা-র।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তোমরা কি দেখনি আল্লাহ মেঘমালা হাঁকিয়ে নেন, তারপর তাকে পরস্পর জুড়ে দেন, তারপর তাকে পুঞ্জীভূত ঘনঘটায় পরিণত করেন। তারপর তোমরা তার ভেতর থেকে বৃষ্টি নির্গত হতে দেখ। তিনি আকাশে (মেঘরূপে) যে পর্বতমালা আছে, তা থেকে শিলা বর্ষণ করেন। তারপর তা দ্বারা যাকে চান বিপন্ন করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা হয়, তা অন্য দিকে ফিরিয়ে দেন। তার বিদ্যুতের ঝলক দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেওয়ার উপক্রম করে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ মেঘমালাকে সঞ্চালিত করেন, অতঃপর তাকে পুঞ্জীভূত করেন, অতঃপর তাকে স্তরে স্তরে রাখেন; অতঃপর তুমি দেখ যে, তার মধ্য থেকে বারিধারা নির্গত হয়। তিনি আকাশস্থিত শিলাস্তুপ থেকে শিলাবর্ষণ করেন এবং তা দ্বারা যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা, তা অন্যদিকে ফিরিয়ে দেন। তার বিদ্যুৎঝলক দৃষ্টিশক্তি যেন বিলীন করে দিতে চায়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি কি দেখ না, আল্লাহ্ সঞ্চালিত করেন মেঘমালাকে, তৎপর তাদেরকে একত্র করেন এবং পরে পুঞ্জীভূত করেন, এরপর তুমি দেখতে পাও, এর মধ্য হতে নির্গত হয় বারিধারা; আকাশস্থিত শিলাস্তূপ হতে তিনি বর্ষণ করেন শিলা এবং এটা দিয়ে তিনি যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন এবং যাকে ইচ্ছা তার ওপর হতে এটা অন্য দিকে ফিরিয়ে দেন। মেঘের বিদ্যুৎ ঝলক দৃষ্টিশক্তি প্রায় কেড়ে নেয়।


৪৪


يُقَلِّبُ اللَّهُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَعِبْرَةً لِّأُولِي الْأَبْصَارِ


ইউকালিলবুল্লা-হুল লাইলা ওয়ান্নাহা-রা ইন্না ফী যা-লিকা লা‘ইবরাতাল লিঊলিল আবসার।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহ রাত ও দিনকে পরিবর্তিত করেন। নিশ্চয়ই এর মধ্যে চক্ষুষ্মানদের জন্য শিক্ষা আছে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহ দিন ও রাত্রির পরিবর্তন ঘটান। এতে অর্ন্তদৃষ্টি-সম্পন্নগণের জন্যে চিন্তার উপকরণ রয়েছে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহ্ দিবস ও রাত্রির পরিবর্তন ঘটান, এতে শিক্ষা রয়েছে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্যে।


৪৫


وَاللَّهُ خَلَقَ كُلَّ دَابَّةٍ مِّن مَّاءٍ ۖ فَمِنْهُم مَّن يَمْشِي عَلَىٰ بَطْنِهِ وَمِنْهُم مَّن يَمْشِي عَلَىٰ رِجْلَيْنِ وَمِنْهُم مَّن يَمْشِي عَلَىٰ أَرْبَعٍ ۚ يَخْلُقُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ


ওয়াল্লা-হু খালাকাকুল্লা দাব্বাতিম মিম মাইন ফামিনহুম মাইঁ ইয়ামশী ‘আলাবাতনিহী ওয়া মিনহুম মাইঁ ইয়ামশী ‘আলা-রিজলাইনি ওয়া মিনহুম মাইঁ ইয়ামশী ‘আলাআরবা‘ইন ইয়াখলুকুল্লা-হু মা-ইয়াশাউ ইন্নাল্লা-হা ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহ ভূমিতে বিচরণকারী প্রতিটি জীব সৃষ্টি করেছেন পানি দ্বারা। তার মধ্যে কতক এমন, যারা পেটে ভর করে চলে, কতক এমন, যারা দু’ পায়ে ভর করে চলে এবং কতক এমন, যারা চার পায়ে ভর করে চলে। আল্লাহ যা চান তাই সৃষ্টি করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সববিষয়ে সক্ষম।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহ প্রত্যেক চলন্ত জীবকে পানি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। তাদের কতক বুকে ভয় দিয়ে চলে, কতক দুই পায়ে ভর দিয়ে চলে এবং কতক চার পায়ে ভর দিয়ে চলে; আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু করতে সক্ষম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহ্ সমস্ত জীব সৃষ্টি করেছেন পানি হতে, এদের কতক পেটে ভর দিয়ে চলে, কতক দুই পায়ে চলে এবং কতক চলে চার পায়ে, আল্লাহ্ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।


৪৬


لَّقَدْ أَنزَلْنَا آيَاتٍ مُّبَيِّنَاتٍ ۚ وَاللَّهُ يَهْدِي مَن يَشَاءُ إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ


লাকাদ আনঝালনাআ-য়া-তিম মুবাইয়িনা-তিওঁ ওয়াল্লা-হু ইয়াহদী মাইঁ ইয়াশাউ ইলা-সিরা-তিম মুছতাকীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই আমি (সত্য) পরিস্ফুটনকারী আয়াতসমূহ নাযিল করেছি। আল্লাহ যাকে চান সরল পথে পৌঁছে দেন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি তো সুস্পষ্ট আয়াত সমূহ অবর্তীর্ণ করেছি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালনা করেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তো সুস্পষ্ট নিদর্শন অবতীর্ণ করেছি, আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।


৪৭


وَيَقُولُونَ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالرَّسُولِ وَأَطَعْنَا ثُمَّ يَتَوَلَّىٰ فَرِيقٌ مِّنْهُم مِّن بَعْدِ ذَٰلِكَ ۚ وَمَا أُولَـٰئِكَ بِالْمُؤْمِنِينَ


ওয়া ইয়াকূলূনা আ-মান্না-বিল্লা-হি ওয়া বিররাছূলি ওয়া আতা‘না-ছু ম্মা ইয়াতাওয়াল্লাফারীকুম মিনহুম মিম বা‘দি যা-লিকা ওয়ামাউলাইকা বিলমু’মিনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তারা (অর্থাৎ মুনাফিকগণ) বলে, আমরা আল্লাহর প্রতি ও রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি এবং আমরা অনুগত হয়েছি। অতঃপর তাদের একটি দল এরপরও মুখ ফিরিয়ে নেয়। (প্রকৃতপক্ষে) তারা মুমিন নয়। ৪১


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা বলেঃ আমরা আল্লাহ ও রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং আনুগত্য করি; কিন্তু অতঃপর তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তারা বিশ্বাসী নয়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা বলে, ‘আমরা আল্লাহ্ ও রাসূলের প্রতি ঈমান আনলাম এবং আমরা আনুগত্য স্বীকার করলাম’, কিন্তু এটার পর এদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয়; বস্তুত এরা মু’মিন নয়।


তাফসীরঃ

৪১. মুনাফিক শ্রেণী কেবল মুখেই ঈমানের দাবি করত, আন্তরিকভাবে তারা ঈমান আনত না। আর সে কারণেই তারা সর্বদা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক আচরণে লিপ্ত থাকত। যেমন একবারের ঘটনা, জনৈক ইয়াহুদীর সাথে বিশর নামক এক মুনাফিকের ঝগড়া লেগে যায়। ইয়াহুদী জানত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিচার সর্বদা ইনসাফভিত্তিক হয়। তাই সে বিশরকে প্রস্তাব দিল, চলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যাই, তিনি আমাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিবেন। বিশর তো মুনাফিক। তার মনে ছিল ভয়। তাই সে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিচারক বানাতে রাজি হল না। সে প্রস্তাব দিল ইয়াহুদীদের নেতা কাব ইবনে আশরাফের কাছে যাওয়া যাক। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হয়েছে (ইবনে জারীর তাবারী)।


৪৮


وَإِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ إِذَا فَرِيقٌ مِّنْهُم مُّعْرِضُونَ


ওয়া ইযা-দু’ঊইলাল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী লিইয়াহকুমা বাইনাহুম ইযা-ফারীকুমমিনহুম মু‘রিদূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তাদেরকে যখন আল্লাহ ও তার রাসূলের দিকে ডাকা হয়, যাতে রাসূল তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেন, তখন সহসা তাদের একটি দল মুখ ফিরিয়ে নেয়।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তাদের মধ্যে ফয়সালা করার জন্য যখন তাদেরকে আল্লাহ ও রসূলের দিকে আহবান করা হয তখন তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং যখন এদেরকে আহ্বান করা হয় আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের দিকে এদের মধ্যে ফয়সালা করে দিবার জন্যে তখন এদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয়।


৪৯


وَإِن يَكُن لَّهُمُ الْحَقُّ يَأْتُوا إِلَيْهِ مُذْعِنِينَ


ওয়াইয়ঁইয়াকুল লাহুমুল হাক্কুইয়া’তূইলাইহি মুয’ইনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আর যদি তাদের হক উসুল করার থাকে, তবে অত্যন্ত বাধ্যগত হয়ে রাসূলের কাছে চলে আসে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সত্য তাদের স্বপক্ষে হলে তারা বিনীতভাবে রসূলের কাছে ছুটে আসে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যদি এদের প্রাপ্য থাকে তা হলে এরা বিনীতভাবে রাসূলের নিকট ছুটে আসে।


৫০


أَفِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ أَمِ ارْتَابُوا أَمْ يَخَافُونَ أَن يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَرَسُولُهُ ۚ بَلْ أُولَـٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ


আফী কুলূবিহিম মারাদুন আমিরতা-বূআম ইয়াখা-ফূনা আইঁ ইয়াহীফাল্লা-হু ‘আলাইহিম ওয়া রাছূলুহূ বাল উলাইকা হুমুজ্জা-লিমূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তবে কি তাদের অন্তরে কোন ব্যাধি আছে, না কি তারা সন্দেহে নিপতিত, না তারা আশঙ্কাবোধ করে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাদের প্রতি জুলুম করবেন? না, বরং তারা নিজেরাই জুলুমকারী। ৪২


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তাদের অন্তরে কি রোগ আছে, না তারা ধোঁকায় পড়ে আছে; না তারা ভয় করে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাদের প্রতি অবিচার করবেন? বরং তারাই তো অবিচারকারী ?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এদের অন্তরে কি ব্যাধি আছে, না এরা সংশয় পোষণ করে ? না এরা ভয় করে যে, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল এদের প্রতি জুলুম করবেন ? বরং এরাই তো জালিম।


তাফসীরঃ

৪২. শরীআতী বিচার-ব্যবস্থায় যাদের আস্থা নেই, যারা তা গ্রহণে প্রস্তত নয় বা তার যথার্থতা ও উপযোগিতায় সন্দেহ পোষণ করে এসব আয়াত তাদের জন্য এক সুস্পষ্ট সতর্কবাণী। বলা হচ্ছে, তাদের অন্তরে কি মুনাফিকীর ব্যাধি আছে, না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যতা সম্পর্কে তারা সন্দিহান, নাকি মনে করে আল্লাহ ও তার রাসূলের বিচার ইনসাফভিত্তিক নয়? বলা বাহুল্য এরূপ কোন কারণে কেউ ইসলামী বিচারব্যবস্থাকে অপছন্দ করলে তার ঈমান ও ইসলামের দাবিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। আল্লাহ তাআলা এরূপ লোকদেরকে জালিম সাব্যস্ত করেছেন। তারা আল্লাহ ও রাসূলের বিচারকে উপেক্ষা করে কেবল নিজেদের প্রতিই জুলুম করে না, অনৈসলামিক বিচার-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখে সমাজেও জুলুম-নির্যাতন বিস্তারের পথ করে দেয়। -অনুবাদক


৫১


إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَن يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۚ وَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ


ইন্নামা-কা-না কাওলাল মু’মিমীনা ইযা-দু‘উইলাল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী লিইয়াহকুমা বাইনাহুম আইঁ ইয়াকূলূছামি‘না-ওয়া আতা‘না- ওয়া উলাইকা হুমুল মুফলিহূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

মুমিনদেরকে যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয়, যাতে রাসূল তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেন, তখন তাদের কথা কেবল এটাই হয় যে, তারা বলে আমরা (হুকুম) শুনলাম এবং মেনে নিলাম। আর তারাই সফলকাম।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

মুমিনদের বক্তব্য কেবল এ কথাই যখন তাদের মধ্যে ফয়সালা করার জন্যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের দিকে তাদেরকে আহবান করা হয়, তখন তারা বলেঃ আমরা শুনলাম ও আদেশ মান্য করলাম। তারাই সফলকাম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মু’মিনদের উক্তি তো এই-যখন তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিবার জন্যে আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের দিকে আহ্বান করা হয় তখন তারা বলে, ‘আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম।’ আর এরাই তো সফলকাম।


৫২


وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَخْشَ اللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ


ওয়া মাইঁ ইউতি‘ইল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূওয়া ইয়াখশাল্লা-হা ওয়া ইয়াত্তাকহি ফাউলাইকা হুমুল ফাইঝূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে ও তার অবাধ্যতা পরিহার করে চলে, তারাই কৃতকার্য হয়।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর শাস্তি থেকে বেঁচে থাকে তারাই কৃতকার্য।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহ্কে ভয় করে ও তাঁর অবাধ্যতা হতে সাবধান থাকে তারাই সফলকাম।


৫৩


۞ وَأَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ لَئِنْ أَمَرْتَهُمْ لَيَخْرُجُنَّ ۖ قُل لَّا تُقْسِمُوا ۖ طَاعَةٌ مَّعْرُوفَةٌ ۚ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ


ওয়া আকছামূবিল্লা-হি জাহদা আইমা-নিহিম লাইন আমারতাহুম লাইয়াখরুজুন্না কুল লাতুকছিমূ তা-‘আতুম মা‘রূফাতুন ইন্নাল্লা-হা খাবীরুম বিমা-তা‘মালূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তারা (অর্থাৎ মুনাফিকগণ)। অত্যন্ত জোরালোভাবে আল্লাহর নামে শপথ করে যে, (হে নবী!) তুমি নির্দেশ দিলে তারা অবশ্যই বের হবে। (তাদেরকে) বলে দাও, তোমরা শপথ করো না। (তোমাদের) আনুগত্য সকলের জানা। ৪৩ তোমরা যা-কিছু কর আল্লাহ নিশ্চয়ই তার পুরোপুরি খবর রাখেন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা দৃঢ়ভাবে আল্লাহর কসম খেয়ে বলে যে, আপনি তাদেরকে আদেশ করলে তারা সবকিছু ছেড়ে বের হবেই। বলুনঃ তোমরা কসম খেয়ো না। নিয়মানুযায়ী তোমাদের আনুগত্য, তোমরা যা কিছু কর নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে জ্ঞাত।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা দৃঢ়ভাবে আল্লাহ্ র শপথ করে বলে যে, তুমি এদেরকে আদেশ করলে এরা অবশ্যই বের হবে; তুমি বল, ‘শপথ কর না, যথার্থ আনুগত্যই কাম্য। তোমরা যা কর নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।’


তাফসীরঃ

৪৩. যখন জিহাদ থাকত না, মুনাফিকরা তখন কসম করে বড় মুখে বলত, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করলে তারা ঘরবাড়ি ছেড়ে জিহাদে বের হয়ে পড়বে। কিন্তু জিহাদের ঘোষণা এসে গেলে তারা নানা ছলছুতা দেখিয়ে গা বাঁচাত। এজন্যই বলা হয়েছে, তোমাদের আনুগত্যের স্বরূপ সকলেরই জানা আছে। বহুবার পরীক্ষা হয়ে গেছে সময়কালে তোমরা কেমন আনুগত্য দেখাও। তখন আর কসমের কথা মনে থাকে না।


৫৪


قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ ۖ فَإِن تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا عَلَيْهِ مَا حُمِّلَ وَعَلَيْكُم مَّا حُمِّلْتُمْ ۖ وَإِن تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا ۚ وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ


কুল আতী‘উল্লা-হা ওয়া আতী‘উররাছূলা ফাইন তাওয়াল্লাও ফাইন্নামা -‘আলাইহি মাহুম্মিলা ওয়া ‘আলাইকুম মা-হুম্মিলতুম ওয়া ইন তুতী‘ঊহু তাহতাদূ ওয়ামা‘আলার রাছূলি ইল্লাল বালা-গুল মুবীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

(তাদেরকে) বলে দাও, আল্লাহর আনুগত্য কর এবং আনুগত্য কর রাসূলের। তথাপি যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে রাখ, তবে রাসূলের দায় ততটুকুই, যতটুকুর দায়িত্ব তার উপর অর্পণ করা হয়েছে। আর তোমাদের উপর যে ভার অর্পিত হয়েছে, তার দায় তোমাদেরই উপর। তোমরা তাঁর আনুগত্য করলে হেদায়াত পেয়ে যাবে। রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল পরিষ্কারভাবে পৌঁছে দেওয়া।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বলুনঃ আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রসূলের আনুগত্য কর। অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে সে দায়ী এবং তোমাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে তোমরা দায়ী। তোমরা যদি তাঁর আনুগত্য কর, তবে সৎ পথ পাবে। রসূলের দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টরূপে পৌছে দেয়া।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘আল্লাহ্ র আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর।’ এরপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে লও, তবে তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্যে সে-ই দায়ী এবং তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্যে তোমরাই দায়ী; এবং তোমরা তার আনুগত্য করলে সৎপথ পাবে, আর রাসূলের কাজ তো কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।


তাফসীরঃ

৪৪. মক্কা মুকাররমায় সাহাবায়ে কেরামকে অশেষ জুলুম-নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছিল। হিজরত করে মদীনা মুনাওয়ারায় আসার পরও তারা স্বস্তি পাননি। কাফেরদের পক্ষ থেকে সব সময়ই হামলার আশঙ্কা ছিল। সেই পরিস্থিতিতে জনৈক সাহাবী জিজ্ঞেস করেছিলেন, এমন কোনও দিন কি আসবে, যখন আমরা অস্ত্র রেখে শান্তিতে সময় কাটাতে পারব? তার উত্তরে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, হাঁ, অচিরেই সে দিন আসছে। এ আয়াত সেই প্রেক্ষাপটেই নাযিল হয়েছে। এতে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, আল্লাহর যমীনে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের জন্য একদিন পরিবেশ সম্পূর্ণ অনুকূল হয়ে যাবে। তখন তাদের কোন ভয় থাকবে না। চারদিকে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। পৃথিবীর ক্ষমতা তখন তাদেরই হাতে থাকবে। তারা অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির অধিকারী হয়ে যাবে। ফলে তারা নির্বিঘ্নে আল্লাহ তাআলার ইবাদত-বন্দেগী করতে থাকবে। আল্লাহ তাআলার এ ওয়াদা পূর্ণ হতে বেশি দিন লাগেনি। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানায়ই সমগ্র জাযীরাতুল আরব ইসলামের ঝাণ্ডাতলে এসে গিয়েছিল। আর খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে ইসলামী রাষ্ট্রের সীমানা অর্ধজাহানে বিস্তার লাভ করেছিল।


৫৫


وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَىٰ لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُم مِّن بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا ۚ يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا ۚ وَمَن كَفَرَ بَعْدَ ذَٰلِكَ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ


ওয়া ‘আদাল্লা-হুল লাযীনা আ-মানূ মিনকুম ওয়া আমিলুসসা-লিহা-তি লাইয়াসতাখলিফান্নাহুম ফিল আরদিকামাছ তাখলাফাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম ওয়া লাইউমাক্কিনান্না লাহুম দীনাহুমুল্লাযির তাদা-লাহুম ওয়ালা ইউবাদ্দিলান্নাহুম মিম বা‘দি খাওফিহিম আমনা- ইয়া‘বুদূ নানী লা-ইউশরিকূনা বী শাইআওঁ ওয়া মান কাফারা বা‘দা যা-লিকা ফাউলাইকা হুমুল ফা-ছিকূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে নিজ খলীফা বানাবেন, যেমন খলীফা বানিয়েছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তাদের জন্য তিনি সেই দীনকে অবশ্যই প্রতিষ্ঠা দান করবেন, যে দীনকে তাদের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তারা যে ভয়-ভীতির মধ্যে আছে, তার পরিবর্তে তাদেরকে অবশ্যই নিরাপত্তা দান করবেন। তারা আমার ইবাদত করবে। আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না। এরপরও যারা অকৃতজ্ঞতা করবে, তারাই অবাধ্য সাব্যস্ত হবে। ৪৪


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসনকর্তৃত্ব দান করবেন। যেমন তিনি শাসনকর্তৃত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববতীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের ধর্মকে, যা তিনি তাদের জন্যে পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে শান্তি দান করবেন। তারা আমার এবাদত করবে এবং আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না। এরপর যারা অকৃতজ্ঞ হবে, তারাই অবাধ্য।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ্ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্যে প্রতিষ্ঠিত করবেন তাদের দীনকে যা তিনি তাদের জন্যে পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ভীতির পরিবর্তে তাদেরকে অবশ্য নিরাপত্তা দান করবেন। তারা আমার ‘ইবাদত করবে, আমার কোন শরীক করবে না, এরপর যারা অকৃতজ্ঞ হবে তারা তো সত্যত্যাগী।


৫৬


وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ


ওয়া আকীমুসসালা-তা ওয়া-আ-তুঝঝাকা-তা ওয়া আতী‘উর রাছূলা লা‘আল্লাকুম তুরহামূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নামায কায়েম কর, যাকাত আদায় কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর, যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয়।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নামায কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং রসূলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হও।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং রাসূলের আনুগত্য কর, যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পার।


৫৭


لَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مُعْجِزِينَ فِي الْأَرْضِ ۚ وَمَأْوَاهُمُ النَّارُ ۖ وَلَبِئْسَ الْمَصِيرُ


লা-তাহছাবান্নাল্লাযীনা কাফারূমু‘জিঝীনা ফিল আর দি ওয়ামা’ওয়া-হুমুন্না-রু ওয়ালাবি’ছাল মাসীর।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যারা কুফরের পথ অবলম্বন করেছে তুমি কিছুতেই তাদেরকে মনে করো না পৃথিবীতে (কোথাও পালিয়ে গিয়ে) তারা আমাকে অক্ষম করে দেবে। তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। নিশ্চয়ই তা অতি মন্দ ঠিকানা।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমরা কাফেরদেরকে পৃথিবীতে পরাক্রমশালী মনে করো না। তাদের ঠিকানা অগ্নি। কতই না নিকৃষ্ট এই প্রত্যাবর্তনস্থল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি কাফিরদেরকে পৃথিবীতে কখনো প্রবল মনে কর না। এদের আশ্রয়স্থল দোযখ; কত নিকৃষ্ট এই পরিণাম!


৫৮


يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِيَسْتَأْذِنكُمُ الَّذِينَ مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ وَالَّذِينَ لَمْ يَبْلُغُوا الْحُلُمَ مِنكُمْ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ۚ مِّن قَبْلِ صَلَاةِ الْفَجْرِ وَحِينَ تَضَعُونَ ثِيَابَكُم مِّنَ الظَّهِيرَةِ وَمِن بَعْدِ صَلَاةِ الْعِشَاءِ ۚ ثَلَاثُ عَوْرَاتٍ لَّكُمْ ۚ لَيْسَ عَلَيْكُمْ وَلَا عَلَيْهِمْ جُنَاحٌ بَعْدَهُنَّ ۚ طَوَّافُونَ عَلَيْكُم بَعْضُكُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ ۚ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ


ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলিইয়াছতা’যিনকুমুল্লাযীনা মালাকাত আইমা-নুকুম ওয়াল লাযীনা লাম ইয়াবলুগুল হুলুমা মিনকুম ছালা-ছা মাররা-তিন মিন কাবলি সালা-তিল ফাজরি ওয়া হীনা তাদা‘ঊনা ছিয়া-বাকুম মিনাজ্জাহীরাতি ওয়া মিম বা‘দি সালা-তিল ‘ইশাই ছালা-ছু‘আওরা-তিল্লাকুম লাইছা ‘আলাইকুম ওয়ালা-‘আলাইহিম জুনা-হুম বা‘দাহুন্না তাওওয়া-ফূনা ‘আলাইকুম বা‘দুকুম ‘আলা-বা‘দিন কাযালিকা ইউবাইয়িনুল্লা-হু লাকুমুল আ-য়া-তি ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুন হাকীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

হে মুমিনগণ! তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীগণ এবং তোমাদের মধ্যে যারা এখনও সাবালকত্বে পৌঁছেনি সেই শিশুগণ যেন তিনটি সময়ে (তোমাদের কাছে আসার জন্য) অনুমতি গ্রহণ করে ফজরের নামাযের আগে, দুপুর বেলা যখন তোমরা পোশাক খুলে রাখ এবং ইশার নামাযের পর। ৪৫ এ তিনটি তোমাদের গোপনীয়তা অবলম্বনের সময়। এ ছাড়া অন্য সময়ে তোমাদের ও তাদের প্রতি কোন কঠোরতা নেই। তোমাদের পরস্পরের মধ্যে তো সার্বক্ষণিক যাতায়াত থাকেই। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের কাছে আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে থাকেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে মুমিনগণ! তোমাদের দাসদাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা প্রাপ্ত বয়স্ক হয়নি তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে অনুমতি গ্রহণ করে, ফজরের নামাযের পূর্বে, দুপুরে যখন তোমরা বস্ত্র খুলে রাখ এবং এশার নামাযের পর। এই তিন সময় তোমাদের দেহ খোলার সময়। এ সময়ের পর তোমাদের ও তাদের জন্যে কোন দোষ নেই। তোমাদের একে অপরের কাছে তো যাতায়াত করতেই হয়, এমনি ভাবে আল্লাহ তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ বিবৃত করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসিগণ এবং তোমাদের মধ্যে যারা বয়ঃপ্রাপ্ত হয় নাই তারা যেন তোমাদের কক্ষে প্রবেশ করতে তিন সময়ের অনুমতি গ্রহণ করে, ফজরের সালাতের পূর্বে, দ্বিপ্রহরে যখন তোমরা তোমাদের পোশাক খুলে রাখ তখন এবং ‘ইশার সালাতের পর; এই তিন সময় তোমাদের গোপনীয়তার সময়। এই তিন সময় ব্যতীত অন্য সময়ে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করলে তোমাদের জন্যে এবং তাদের জন্যে কোন দোষ নেই। তোমাদের এক-কে অপরের নিকট তো যাতায়াত করতেই হয়। এইভাবে আল্লাহ্ তোমাদের নিকট তাঁর নির্দেশ সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করেন। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।


তাফসীরঃ

৪৫. ২৭-২৯ আয়াতসমূহে হুকুম দেওয়া হয়েছিল, কেউ যেন অন্যের ঘরে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ না করে। মুসলিমগণ সাধারণভাবে এ হুকুম মেনে চলছিল। কিন্তু ঘরের দাস-দাসী ও নাবালেগ ছেলে-মেয়েদের যেহেতু বারবার এ ঘর-ও ঘর করতে হয় বা এক কামরা থেকে অন্য কামরায় যাতায়াত করতে হয়, তাই তাদের ব্যাপারে তারা এ নিয়ম রক্ষা করত না। এর ফলে অনেক সময় এমনও ঘটে যেত যে, কেউ হয়ত আরাম করছে বা একা খোলামেলা অবস্থায় আছে আর এ সময় হঠাৎ কোন দাস-দাসী বা ছেলে-মেয়ে সেখানে ঢুকে পড়ল। এতে যে কেবল বিশ্রামের ব্যাঘাত হত তাই নয়, অনেক সময় পর্দাও নষ্ট হত। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হল। এতে স্পষ্টভাবে বিধান জানিয়ে দেওয়া হল যে, অন্ততপক্ষে তিনটি সময়ে দাস-দাসী ও শিশুদেরকেও অনুমতি নিতে হবে। বিনা অনুমতিতে তারাও অন্য ঘরে বা অন্য কক্ষে প্রবেশ করবে না। বিশেষভাবে এ তিনটি সময় (অর্থাৎ ফজরের পূর্বে, দুপুর বেলা ও ইশার পর)-এর কথা বলা হয়েছে এ কারণে যে, এ সময়গুলোতে মানুষ সাধারণত একা থাকতে ভালোবাসে। একটু খোলামেলা থাকতে স্বচ্ছন্দবোধ করে। তাই একান্ত জরুরী পোশাক ছাড়া অন্য কাপড় খুলে রাখে। এ অবস্থায় হঠাৎ করে কেউ এসে পড়লে পর্দাহীনতার আশঙ্কা থাকে আর আরাম তো নষ্ট হয়ই। এছাড়া অন্যান্য সময়ে যেহেতু এসব ভয় থাকে না আবার এদের বেশি-বেশি আসা-যাওয়া করারও প্রয়োজন থাকে, তাই হুকুম শিথিল রাখা হয়েছে। তখন তারা অনুমতি ছাড়াও প্রবেশ করতে পারবে।


৫৯


وَإِذَا بَلَغَ الْأَطْفَالُ مِنكُمُ الْحُلُمَ فَلْيَسْتَأْذِنُوا كَمَا اسْتَأْذَنَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۚ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ


ওয়া ইযা-বালাগাল আতফা-লুমিনকুমুল হুলুমা ফালইয়াছতা’যিনূকামাছতা’যানাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম কাযা-লিকা ইউবাইয়িনুল্লা-হু লাকুম আ-য়া-তিহী ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুন হাকীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং তোমাদের শিশুরা সাবালকত্বে উপনীত হলে তারাও যেন অনুমতি গ্রহণ করে, যেমন তাদের আগে বয়ঃপ্রাপ্তগণ অনুমতি গ্রহণ করে আসছে। এভাবেই আল্লাহ নিজ আয়াতসমূহ তোমাদের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে থাকেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমাদের সন্তান-সন্ততিরা যখন বায়োপ্রাপ্ত হয়, তারাও যেন তাদের পূর্ববর্তীদের ন্যায় অনুমতি চায়। এমনিভাবে আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহ তোমাদের কাছে বর্ণনা করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তোমাদের সন্তান-সন্ততি বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তারাও যেন অনুমতি প্রার্থনা করে যেমন অনুমতি প্রার্থনা করে থাকে তাদের বয়োজ্যেষ্ঠগণ। এইভাবে আল্লাহ্ তোমাদের জন্যে তাঁর নির্দেশ সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করেন, আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।


৬০


وَالْقَوَاعِدُ مِنَ النِّسَاءِ اللَّاتِي لَا يَرْجُونَ نِكَاحًا فَلَيْسَ عَلَيْهِنَّ جُنَاحٌ أَن يَضَعْنَ ثِيَابَهُنَّ غَيْرَ مُتَبَرِّجَاتٍ بِزِينَةٍ ۖ وَأَن يَسْتَعْفِفْنَ خَيْرٌ لَّهُنَّ ۗ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ


ওয়াল কাওয়া-‘ইদুমিনাননিছাইল্লা-তী লা-ইয়ারজুনা নিকা-হান ফালাইছা ‘আলাইহিন্না জুনা-হুন আইঁ ইয়াদা‘না ছিয়া-বাহুন্না গাইরা মুতাবাররিজা-তিম বিঝীনাতিও ওয়া আইঁ ইয়াছতা‘ফিফনা খাইরুল লাহুন্না ওয়াল্লা-হু ছামী‘উন ‘আলীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যে বৃদ্ধা নারীদের বিবাহের কোন আশা নেই, তাদের জন্য এতে কোন গুনাহ নেই যে, তারা নিজেদের (বাড়তি) কাপড় (বহির্বাস, গায়রে মাহরাম পুরুষদের সামনে) খুলে রাখবে, সৌন্দর্য প্রদর্শনের ইচ্ছা ব্যতিরেকে। ৪৬ আর যদি তারা সাবধানতা অবলম্বন করে, তবে সেটাই তাদের পক্ষে শ্রেয়। আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও সকল বিষয় জানেন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বৃদ্ধা নারী, যারা বিবাহের আশা রাখে না, যদি তারা তাদের সৌন্দর্য বিকাশ না করে তাদের বস্ত্র খুলে রাখে। তাদের জন্যে দোষ নেই, তবে এ থেকে বিরত থাকাই তাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বৃদ্ধা নারী, যারা বিবাহের আশা রাখে না, তাদের জন্যে অপরাধ নেই, যদি তারা তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে তাদের বহির্বাস খুলে রাখে; তবে এটা হতে তাদের বিরত থাকাই তাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।


তাফসীরঃ

৪৬. চরম বার্ধক্যে পৌঁছার কারণে যারা বিবাহের উপযুক্ত থাকে না, ফলে তাদের প্রতি কারও আকর্ষণ সৃষ্টি হয় না, এ ধরনের বৃদ্ধা নারীদের জন্যই এ বিধান। তাদেরকে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে যে, গায়রে মাহরাম পুরুষের সামনে অন্যান্য নারীদেরকে যেমন বড় কোন চাদর জড়িয়ে বা বোরকা পরে যেতে হয়, তাদের জন্য তা জরুরী নয়। এ রকম বৃদ্ধা নারীগণ তা ছাড়াই পরপুরুষের সামনে যেতে পারবে। তবে শর্ত হল, তারা তাদের সামনে সেজেগুঁজে যেতে পারবে না। এর সাথে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিধানের এ শিথিলতা কেবলই জায়েয পর্যায়ের। সুতরাং তারা যদি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করে এবং অন্যান্য নারীদের মত তারাও পরপুরুষের সামনে পুরোপুরি পর্দা রক্ষা করে চলে তবে সেটাই উত্তম।


৬১


لَّيْسَ عَلَى الْأَعْمَىٰ حَرَجٌ وَلَا عَلَى الْأَعْرَجِ حَرَجٌ وَلَا عَلَى الْمَرِيضِ حَرَجٌ وَلَا عَلَىٰ أَنفُسِكُمْ أَن تَأْكُلُوا مِن بُيُوتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ آبَائِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أُمَّهَاتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ إِخْوَانِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَخَوَاتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَعْمَامِكُمْ أَوْ بُيُوتِ عَمَّاتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَخْوَالِكُمْ أَوْ بُيُوتِ خَالَاتِكُمْ أَوْ مَا مَلَكْتُم مَّفَاتِحَهُ أَوْ صَدِيقِكُمْ ۚ لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَأْكُلُوا جَمِيعًا أَوْ أَشْتَاتًا ۚ فَإِذَا دَخَلْتُم بُيُوتًا فَسَلِّمُوا عَلَىٰ أَنفُسِكُمْ تَحِيَّةً مِّنْ عِندِ اللَّهِ مُبَارَكَةً طَيِّبَةً ۚ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ


লাইছা ‘আলাল আ‘মা-হারাজুইঁওয়ালা-‘আলাল আ‘রাজি হারাজুওঁ ওয়ালা ‘আলাল মারীদি হারাজুওঁ ওয়ালা-‘আলা- আনফুছিকুম আন তা’কুলূমিম বুয়ূতিকুম আও বুয়ূতি আ-বাইকুম আও বুয়ূতি উম্মাহা-তিকুম আও বুয়ূতি ইখওয়া-নিকুম আও বুয়ূতি আখাওয়া-তিকুম আও বুয়ূতি আ‘মা-মিকুম আও বুয়ূতি ‘আম্মা-তিকুম আও বুয়ূতি আখওয়া-লিকুম আও বুয়ূতি খা-লাতিকুম আও মা-মালাকতুম মাফা-তিহাহূআও সাদীকিকুম লাইছা ‘আলাইকুম জুনা-হুন আন তা‘কুলূজামী‘আন আও আশতা-তান ফাইযা-দাখাল তুম বূয়ূতান ফাছালিল-মূ‘আলা আনফুছিকুম তাহিইইয়াতাম মিন ‘ইনদিল্লা-হি মুবা-রাকাতান তাইয়িবাতান কাযা-লিকা ইউবাইয়িনুল্লা-হু লাকুমুল আ-য়া-তি লা‘আল্লাকুম তা’কিলূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

অন্ধের জন্য গুনাহ নেই, খোড়া ব্যক্তির জন্য গুনাহ নেই, অসুস্থ ব্যক্তির জন্য গুনাহ নেই এবং নেই তোমাদের নিজেদের জন্যও, তোমাদের নিজেদের ঘরে আহার করাতে ৪৭ বা তোমাদের বাপ-দাদার ঘরে, তোমাদের মায়েদের ঘরে, তোমাদের ভাইদের ঘরে, ৪৮ তোমাদের বোনদের ঘরে, তোমাদের চাচাদের ঘরে, তোমাদের ফুফুদের ঘরে, তোমাদের মামাদের ঘরে, তোমাদের খালাদের ঘরে বা এমন কোন ঘরে যার চাবি তোমাদের কর্তৃত্বাধীন ৪৯ কিংবা তোমাদের বন্ধুদের ঘরে। তোমরা একত্রে খাও বা পৃথক-পৃথক তাতেও তোমাদের কোন গুনাহ নেই। যখন তোমরা ঘরে ঢুকবে নিজেদের লোকদেরকে সালাম করবে কারণ এটা সাক্ষাতের জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে প্রদত্ত বরকতপূর্ণ ও পবিত্র দোয়া। এভাবেই আল্লাহ আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা বুঝতে পার।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অন্ধের জন্যে দোষ নেই, খঞ্জের জন্যে দোষ নেই, রোগীর জন্যে দোষ নেই, এবং তোমাদের নিজেদের জন্যেও দোষ নেই যে, তোমরা আহার করবে তোমাদের গৃহে অথবা তোমাদের পিতাদের গৃহে অথবা তোমাদের মাতাদের গৃহে অথবা তোমাদের ভ্রাতাদের গৃহে অথবা তোমাদের ভগিণীদের গৃহে অথবা তোমাদের পিতৃব্যদের গৃহে অথবা তোমাদের ফুফুদের গৃহে অথবা তোমাদের মামাদের গৃহে অথবা তোমাদের খালাদের গৃহে অথবা সেই গৃহে, যার চাবি আছে তোমাদের হাতে অথবা তোমাদের বন্ধুদের গৃহে। তোমরা একত্রে আহার কর অথবা পৃথকভবে আহার কর, তাতে তোমাদের কোন দোষ নেই। অতঃপর যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ কর, তখন তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম বলবে। এটা আল্লাহর কাছ থেকে কল্যাণময় ও পবিত্র দোয়া। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্যে আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ননা করেন, যাতে তোমরা বুঝে নাও।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অন্ধের জন্যে দোষ নাই, খঞ্জের জন্যে দোষ নাই, রুগ্নের জন্যে দোষ নাই এবং তোমাদের নিজেদের জন্যেও দোষ নাই আহার করা তোমাদের গৃহে বা তোমাদের পিতৃগণের গৃহে, মাতৃগণের গৃহে, ভ্রাতৃগণের গৃহে, ভগ্নিগণের গৃহে, পিতৃব্যদের গৃহে, ফুফুদের গৃহে, মাতুলদের গৃহে, খালাদের গৃহে বা সেইসব গৃহে যার চাবির মালিক তোমরা বা তোমাদের বন্ধুদের গৃহে। তোমরা একত্রে আহার কর বা পৃথক পৃথকভাবে আহার কর তাতে তোমাদের জন্যে কোন অপরাধ নেই। তবে যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ করবে তখন তোমরা তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম করবে অভিবাদনস্বরূপ যা আল্লাহ্ র নিকট হতে কল্যাণময় ও পবিত্র। এইভাবে আল্লাহ্ তোমাদের জন্যে তাঁর নির্দেশ বিশদভাবে বিবৃত করেন যাতে তোমরা বুঝতে পার।


তাফসীরঃ

৪৭. এ আয়াত নাযিলের প্রেক্ষপট এই যে, অন্ধ ও বিকলাঙ্গ শ্রেণীর লোক অনেক সময় অন্যদের সাথে খাবার খেতে সঙ্কোচবোধ করত। তারা ভাবত অন্যরা তাদের সাথে বসে খেতে অস্বস্তি বোধ করে থাকবে। কখনও তাদের এ রকম চিন্তাও হত যে, প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে তারা পাছে অন্যদের তুলনায় বেশি জায়গা আটকে ফেলে কিংবা দেখতে না পাওয়ার ফলে অন্যদের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলে। অপরদিকে অনেক সময় সুস্থ ব্যক্তিরাও মনে করত, মাযূর হওয়ার কারণে তারা হয়ত সুস্থদের সাথে একযোগে চলতে পারবে না; হয়ত কম খাবে, নয়ত খাদ্যের পাত্র থেকে অন্যদের মত নিজ অভিরুচি বা নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার তুলে নিতে পারবে না। তাদের এসব অনুভূতির উৎস হল শরীয়তের এমন কিছু বিধান, যাতে অন্যকে কষ্ট দেওয়াকে গুনাহ সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে নিজের কোন আচার-আচরণ অন্যের পক্ষে অপ্রীতিকর না হয়। সেই সঙ্গে আছে যৌথ জিনিসপত্র ব্যবহারেও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ। তো এ আয়াত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আপনজনদের হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে এতটা হিসাবী দৃষ্টির দরকার নেই।


৪৮. আরব জাতির মধ্যে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের পারস্পরিক চাল-চলনের ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল বড় উদার। উপরে যে সকল আত্মীয়-স্বজনের কথা বলা হল, তারা যদি অনুমতি ছাড়া একে অন্যের ঘর থেকে কিছু খেযে ফেলত, সেটাকে দোষের তো মনে করা হতই না; বরং তাতে তারা অত্যন্ত খুশী হত। যখন বিধান দেওয়া হল কারও জন্য অন্যের কোনবস্তু তার আন্তরিক সম্মতি ছাড়া ব্যবহার করা জায়েয নয়, তখন সাহাবায়ে কেরাম এ ব্যাপারে সতর্ক হয়ে গেলেন। কোন কোন সাহাবী এত কঠোরতা অবলম্বন করলেন যে, যদি কারও বাড়িতে যেতেন আর গৃহকর্তা উপস্থিত না থাকত, তবে সেখানে খাদ্যগ্রহণ করতে দ্বিধাবোধ করতেন। গৃহকর্ত্রী ও তার ছেলেমেয়েরা আতিথেয়তা স্বরূপ কিছু পেশ করলে তারা চিন্তা করতেন, ঘরের আসল মালিক তো উপস্থিত নেই। তার অনুমতি ছাড়া এখানে খাওয়া আমাদের সমীচীন হবে কি? এ আয়াত স্পষ্ট করে দিয়েছে যেখানে এই নিশ্চয়তা থাকে যে, আতিথেয়তা গ্রহণ করলে গৃহকর্তা খুশী হবে, সেখানে তা গ্রহণ করাতে কোন দোষ নেই। কিন্তু যেখানে বিষয়টি সন্দেহযুক্ত সেখানে সাবধানতাই শ্রেয়, তাতে সে যত নিকটাত্মীয়ই হোক (রূহুল মাআনী, মাআরিফুল কুরআন)।


৪৯. অনেকে জিহাদে যাওয়ার সময় ঘরের চাবি এমন কোন মাযূর ব্যক্তির কাছে দিয়ে যেত, যে জিহাদে যাওয়ার উপযুক্ত নয়। তাকে বলে যেত, ঘরের কোন জিনিস খেতে চাইলে আপনি নির্দ্বিধায় খাবেন। কিন্তু এরূপ অনুমতি থাকা সত্ত্বেও মাযূর ব্যক্তিগণ সাবধানতা অবলম্বন করতেন এবং খাওয়া হতে বিরত থাকতেন। এ আয়াত তাদেরকে বলছে, এতটা সাবধানতার দরকার নেই। মালিকের পক্ষ হতে যখন চাবি পর্যন্ত সমর্পণ করা হয়েছে এবং অনুমতিও দিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন খাওয়াতে কোন দোষ থাকতে পারে না।


৬২


إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِذَا كَانُوا مَعَهُ عَلَىٰ أَمْرٍ جَامِعٍ لَّمْ يَذْهَبُوا حَتَّىٰ يَسْتَأْذِنُوهُ ۚ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَأْذِنُونَكَ أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ۚ فَإِذَا اسْتَأْذَنُوكَ لِبَعْضِ شَأْنِهِمْ فَأْذَن لِّمَن شِئْتَ مِنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمُ اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ


ইন্নামাল মু’মিনূনাল্লাযীনা আ-মানূ বিল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী ওয়া ইযা-কা-নূ মা‘আহূ‘আলা আমরিন জামি‘ইল লাম ইয়াযহাবূহাত্তা-ইয়াছতা’যিনূহু ইন্নাল্লাযীনা ইয়াছতা’যিনূনাকা উলাইকাল্লাযীনা ইউ’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী ফাইযাছতা’যানূকা লিবা‘দি শা’নিহিম ফা’যাল লিমান শি’তা মিনহুম ওয়াছতাগফির লাহুমুল্লা-হা ইন্নাল্লা-হা গাফরুর রাহীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

মুমিন তো কেবল তারাই, যারা আল্লাহ ও তার রাসূলকে আন্তরিকভাবে মানে এবং যখন রাসূলের সাথে সমষ্টিগত কোন কাজে শরীক হয়, তখন তার অনুমতি ছাড়া কোথাও যায় না। ৫০ (হে নবী!) যারা তোমার অনুমতি নেয়, তারাই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সত্যিকারভাবে মানে। সুতরাং তারা যখন তাদের কোন কাজের জন্য তোমার কাছে অনুমতি চায়, তখন তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হয় অনুমতি দিও এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে মাগফিরাতের দোয়া কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

মুমিন তো তারাই; যারা আল্লাহর ও রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং রসূলের সাথে কোন সমষ্টিগত কাজে শরীক হলে তাঁর কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণ ব্যতীত চলে যায় না। যারা আপনার কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে, তারাই আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে। অতএব তারা আপনার কাছে তাদের কোন কাজের জন্যে অনুমতি চাইলে আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুমতি দিন এবং তাদের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, মেহেরবান।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মু’মিন তো তারাই যারা আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলে ঈমান আনে এবং রাসূলের সঙ্গে সমষ্টিগত ব্যাপারে একত্র হলে তারা অনুমতি ব্যতীত সরে পড়ে না; যারা তোমার অনুমতি প্রার্থনা করে তারাই আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলে বিশ্বাসী। অতএব তারা তাদের কোন কাজে বাহিরে যাবার জন্যে তোমার অনুমতি চাইলে তাদের মধ্যে যাদেরকে ইচ্ছা তুমি অনুমতি দিও এবং তাদের জন্যে আল্লাহ্ র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ্ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


তাফসীরঃ

৫০. এ আয়াত নাযিল হয়েছিল খন্দক যুদ্ধের প্রাক্কালে। এ যুদ্ধে আরবের বেশ কয়েকটি গোত্র একাট্টা হয়ে মদীনা মুনাওয়ারায় হামলা করতে এসেছিল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মদীনা মুনাওয়ারার পাশে পরিখা খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি মুমিনদেরকে একত্র করে খননকার্য বণ্টন করে দিলেন। তারা সকলে কাজ করে যাচ্ছিলেন। কারও কোন প্রয়োজন দেখা দিলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অনুমতি নিয়ে যেতেন। কিন্তু মুনাফিকরা ছিল এর সম্পূর্ণ বিপরীত। একে তো তারা এ কাজে অংশ নিতেই অলসতা করত। আর যদি কখনও এসেও পড়ত নানা বাহানায় চলে যেত। অনেক সময় অনুমতি ছাড়াই চুপি চুপি সরে পড়ত। এ আয়াতে তাদের নিন্দা জানানো হয়েছে এবং মুখলিস ও নিষ্ঠাবান মুমিনদের, যারা অনুমতি ছাড়া যেত না, প্রশংসা করা হয়েছে।


৬৩


لَّا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُم بَعْضًا ۚ قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنكُمْ لِوَاذًا ۚ فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ


লা-তাজ‘আলূদু‘আআররাছূলি বাইনাকুম কাদু‘আই বা‘দিকুম বা‘দান কাদ ইয়ালামুল্লা-হুল্লাযীনা ইয়াতাছাল্লালূনা মিনকুম লিওয়া-যান ফালইয়াহযারিল্লাযীনা ইউখালিফূনা ‘আন আমরিহীআন তুসীবাহুম ফিতনাতুন আও ইউসীবাহুম ‘আযা-বুন আলীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

(হে মানুষ!) তোমরা নিজেদের মধ্যে রাসূলের ডাককে তোমাদের পারস্পরিক ডাকের মত (মামুলি) মনে করো না; ৫১ তোমাদের মধ্যে যারা একে অন্যের আড়াল নিয়ে চুপিসারে সরে পড়ে আল্লাহ তাদেরকে ভালো করে জানেন। সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তাদের ভয় করা উচিত না জানি তাদের উপর কোন বিপদ আপতিত হয় অথবা যন্ত্রণাদায়ক কোন শাস্তি তাদেরকে আক্রান্ত করে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

রসূলের আহবানকে তোমরা তোমাদের একে অপরকে আহ্বানের মত গণ্য করো না। আল্লাহ তাদেরকে জানেন, যারা তোমাদের মধ্যে চুপিসারে সরে পড়ে। অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদেরকে স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

রাসূলের আহ্বানকে তোমরা তোমাদের একে অপরের প্রতি আহ্বানের মত গণ্য কর না; তোমাদের মধ্যে যারা অলক্ষ্যে সরে পড়ে আল্লাহ্ তো তাদেরকে জানেন। সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের ওপর আপতিত হবে বা আপতিত হবে তাদের ওপর মর্মন্তুদ শাস্তি।


তাফসীরঃ

৫১. সমপর্যায়ের লোক যখন একে অন্যকে ডাকে তখন তার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কাজেই তাতে সাড়া দিয়ে না গেলে যেমন দোষ মনে করা হয় না, তেমনি যাওয়ার পর যদি অনুমতি ছাড়া চলে আসে তাও বিশেষ দূষণীয় হয় না। কিন্তু বড়দের ডাকের ব্যাপারটা ভিন্ন। তাদের ডাককে বিশেষ গুরুত্বের সাথে নেওয়াই নিয়ম। আর সে ডাক যদি হয় রাসূলের, তার গুরুত্ব হয় অপরিসীম। আয়াতে বলা হচ্ছে, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে কোন কাজের জন্য ডাকেন, তখন তাকে তোমাদের আপসের ডাকের মত মামুলি গণ্য করো না যে, চাইলে সাড়া দিলে আর চাইলে দিলে না। বরং তাঁর ডাকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে সাড়া দিয়ে পত্রপাঠ ছুটে যাওয়া উচিত। আর যাওয়ার পরও যেন এমন না হয় যে, ইচ্ছা হল আর অনুমতি ছাড়া উঠে গেলে। যদি যাওয়ার বিশেষ প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে তাঁর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তবেই যাবে। এ আয়াতের এ রকম তরজমা করাও সম্ভব যে, ‘তোমরা রাসূলকে ডাকার বিষয়টিকে তোমাদের পরস্পরে একে অন্যকে ডাকার মত (মামুলি) গণ্য করো না’। এ হিসেবে ব্যাখ্যা হবে, তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লক্ষ্য করে যখন কোন কথা বলবে, তখন তোমরা নিজেরা একে অন্যকে যেমন ডাক দিয়ে থাক, যেমন হে অমুক! শোন, তাকেও সেভাবে ডাক দিও না। সুতরাং তাকে লক্ষ্য করে ‘হে মুহাম্মাদ!’ বলা কিছুতেই উচিত নয়। বরং তাঁকে সম্মানের সাথে ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ!’ বলে সম্বোধন করা চাই।


৬৪


أَلَا إِنَّ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ قَدْ يَعْلَمُ مَا أَنتُمْ عَلَيْهِ وَيَوْمَ يُرْجَعُونَ إِلَيْهِ فَيُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُوا ۗ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ


আলাইন্না লিল্লা-হি মা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি কাদ ইয়া‘লামুমাআনতুম ‘আলাইহি ওয়া ইয়াওমা ইউরজা‘ঊনা ইলাইহি ফাইউনাব্বিঊহুম বিমা-‘আমিলূ ওয়াল্লা-হু বিকুল্লি শাইয়িন ‘আলীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

স্মরণ রেখ, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে সব আল্লাহরই মালিকানাধীন। তোমরা যে অবস্থায়ই থাক, আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন। যে দিন সকলকে তার কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, সে দিন তিনি তাদেরকে তারা যা-কিছু করত তা জানিয়ে দেবেন। আল্লাহ প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

মনে রেখো নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা আছে, তা আল্লাহরই। তোমরা যে অবস্থায় আছ তা তিনি জানেন। যেদিন তারা তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে, সেদিন তিনি বলে দেবেন তারা যা করেছে। আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ই জানেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

জেনে রাখ, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা আল্লাহ্ র ই; তোমরা যাতে ব্যাপৃত তিনি তা জানেন। যেদিন তারা তাঁর নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে সেদিন তিনি তাদেরকে জানিয়ে দিবেন তারা যা করত। আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।

আরো পড়ুন :-

স্মরণ শক্তি বৃদ্ধির দোয়া,মেধা বৃদ্ধির দোয়া,স্মৃতি শক্তি বাড়ানোর দোয়া!নামাজের পর ২১ বাড় পড়ুন

গর্ভের সন্তান কখন নষ্ট করা যাবে?,কতদিনের বাচ্চা নষ্ট করলে গুনাহ হবে না?, বাচ্চা নষ্ট করা জায়েজ আছে?, 

দোয়াটি পড়লে সাথে সাথে রাগ কমে যায়, রাগ কমানোর দোয়া,শিশুদের রাগ কমানোর আমল

(ads1)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#b50404)

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
Post a Comment (0)

islamicinfohub Top Post Ad1

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !
To Top