সূরা মু’মিন কতো বার পাঠ করলে কোন আলম ও ফজিলত,সকল রোগের ঔষধ সূরা মু’মিন,সূরা আল-মু’মিন বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ এবং বৈশিষ্ট্য ও ফজিলত অডিও সূরা আল মু’মিন

0

 

আল মু'মিন  - ( غافر ) | বিশ্বাসী

মাক্কী, মোট আয়াতঃ ৮৫


بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ


حٰمٓ ۚ


হা-মীম


Mufti Taqi Usmani

Hā Mīm .


মুফতী তাকী উসমানী

হা-মীম।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হা-মীম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হা-মীম।


মাওলানা জহুরুল হক

হা, মীম!



تَنۡزِیۡلُ الۡکِتٰبِ مِنَ اللّٰہِ الۡعَزِیۡزِ الۡعَلِیۡمِ ۙ


তানঝীলুল কিতা-বি মিনাল্লা-হিল ‘আঝীঝিল ‘আলীম।


Mufti Taqi Usmani

This is revelation of the Book from Allah, the Mighty, the All-Knowing,


মুফতী তাকী উসমানী

এ কিতাব নাযিল করা হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ হতে, যিনি মহা ক্ষমতাবান, সর্বজ্ঞানের অধিকারী।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে, যিনি পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এই কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহ্ র নিকট হতে-


মাওলানা জহুরুল হক

এই গ্রন্থের অবতারণ মহাশক্তিশালী, সর্বজ্ঞাতা আল্লাহ্‌র কাছ থেকে,



غَافِرِ الذَّنۡۢبِ وَقَابِلِ التَّوۡبِ شَدِیۡدِ الۡعِقَابِ ۙ ذِی الطَّوۡلِ ؕ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ؕ اِلَیۡہِ الۡمَصِیۡرُ


গাফিরিযযামবি ওয়া কাবিলিততাওবি শাদীদিল ‘ইকা-বি যিততাওলি লাইলাহা ইল্লা-হুওয়া, ইলাইহিল মাসীর।


Mufti Taqi Usmani

the One who forgives sins and accepts repentance, the One who is severe in punishment, the One who is the source of all power. There is no god but He. To Him is the ultimate return (of all).


মুফতী তাকী উসমানী

যিনি গুনাহ ক্ষমাকারী, তাওবা কবুলকারী, কঠিন শাস্তিদাতা, অত্যন্ত শক্তিমান। তিনি ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত আর কেউ নেই। তাঁরই কাছে সকলকে ফিরে যেতে হবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

পাপ ক্ষমাকারী, তওবা কবুলকারী, কঠোর শাস্তিদাতা ও সামর্থবান। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তাঁরই দিকে হবে প্রত্যাবর্তন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যিনি পাপ ক্ষমা করেন, তওবা কবুল করেন, যিনি শাস্তি দানে কঠোর, শক্তিশালী। তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই। প্রত্যাবর্তন তাঁরই নিকট।


মাওলানা জহুরুল হক

পাপ থেকে পরিত্রাণকারী ও তওবা কবুলকারী, প্রতিফলদানে কঠোর, উদারতার অধীশ্বর। তিনি ছাড়া অন্য উপাস্য নেই, তাঁরই কাছে শেষ-আগমন।

(ads2)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#f50707)


مَا یُجَادِلُ فِیۡۤ اٰیٰتِ اللّٰہِ اِلَّا الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا فَلَا یَغۡرُرۡکَ تَقَلُّبُہُمۡ فِی الۡبِلَادِ


মা-ইউজা-দিলুফীআ-য়া-তিল্লা-হি ইল্লাল্লাযীনা কাফারূফালা-ইয়াগরুরকা তাকাল্লুবুহুম ফিল বিলা-দ।


Mufti Taqi Usmani

No one quarrels about the verses of Allah, except those who disbelieve. So, their (prosperous) movements in the cities should not deceive you.


মুফতী তাকী উসমানী

যারা কুফর অবলম্বন করেছে তারাই আল্লাহর আয়াতে বিতর্ক সৃষ্টি করে। সুতরাং নগরে-নগরে তাদের (আয়েশী) পরিভ্রমণ যেন তোমাকে ধোঁকায় না ফেলে। ১


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

কাফেররাই কেবল আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে। কাজেই নগরীসমূহে তাদের বিচরণ যেন আপনাকে বিভ্রান্তিতে না ফেলে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কেবল কাফিররাই আল্লাহ্ র নিদর্শন সম্বন্ধে বিতর্ক করে; সুতরাং দেশে দেশে তাদের অবাধ বিচরণ যেন তোমাকে বিভ্রান্ত না করে।


মাওলানা জহুরুল হক

আল্লাহ্‌র নির্দেশাবলী সন্বন্ধে কেউ বচসা করে না, কেবল তারা ছাড়া যারা অবিশ্বাস করে, সুতরাং শহরে-নগরে তাদের চলাফেরা যেন তোমাকে প্রতারিত না করে।


তাফসীরঃ

১. অর্থাৎ কাফেরগণ তাদের কুফর সত্ত্বেও যে আরাম-আয়েশে আছে তা দেখে কেউ যেন এই ধোঁকায় না পড়ে যে, তাদের বুঝি কৃতকর্মের শাস্তি ভোগ করতে হবে না।



کَذَّبَتۡ قَبۡلَہُمۡ قَوۡمُ نُوۡحٍ وَّالۡاَحۡزَابُ مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ ۪ وَہَمَّتۡ کُلُّ اُمَّۃٍۭ بِرَسُوۡلِہِمۡ لِیَاۡخُذُوۡہُ وَجٰدَلُوۡا بِالۡبَاطِلِ لِیُدۡحِضُوۡا بِہِ الۡحَقَّ فَاَخَذۡتُہُمۡ ۟ فَکَیۡفَ کَانَ عِقَابِ


কাযযাবাত কাবলাহুম কাওমুনূহিওঁ ওয়াল আহঝা-বুমিম বা‘দিহিম ওয়া হাম্মাত কুল্লুউম্মাতিম বিরাছূলিহিম লিইয়া’খুযূহু ওয়া জা-দালূবিলবা-তিলি লিইউদহিদূ বিহিল হাক্কা ফাআখাযতুহুম ফাকাইফা কা-না ‘ইকা-ব।


Mufti Taqi Usmani

Before these, the people of NūH and the groups after them had rejected (the messengers). Every group intended to seize their messenger, and raised disputes on the basis of falsehood, so that they might refute the truth with it, hence I seized them. So, how was My punishment?


মুফতী তাকী উসমানী

তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায় এবং তাদের পর বহু দল (নবীগণকে) অস্বীকার করেছিল। প্রত্যেক জাতি নিজ নিজ রাসূলকে গ্রেফতার করার অভিসন্ধি করেছিল এবং তারা মিথ্যাকে আশ্রয় করে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল তার মাধ্যমে সত্যকে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য। পরিণামে আমি তাদেরকে ধৃত করি। সুতরাং (দেখ) আমার শাস্তি কেমন (কঠোর) ছিল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায় মিথ্যারোপ করেছিল, আর তাদের পরে অন্য অনেক দল ও প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ পয়গম্বরকে আক্রমণ করার ইচ্ছা করেছিল এবং তারা মিথ্যা বিতর্কে প্রবৃত্ত হয়েছিল, যেন সত্যধর্মকে ব্যর্থ করে দিতে পারে। অতঃপর আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম। কেমন ছিল আমার শাস্তি।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায় এবং তাদের পরে অন্যান্য দলও অস্বীকার করেছিল। প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ রাসূলকে আবদ্ধ করার অভিসন্ধি করেছিল এবং এরা অসার তর্কে লিপ্ত হয়েছিল, তা দিয়ে সত্যকে ব্যর্থ করে দিবার জন্যে। ফলে আমি এদেরকে পাকড়াও করলাম এবং কত কঠোর ছিল আমার শাস্তি!


মাওলানা জহুরুল হক

এদের আগে নূহের স্বজাতি প্রত্যাখ্যান করেছিল, আর তাদের পরের অন্যান্য দলও, আর প্রত্যেক সম্প্রদায়ই তাদের রসূল সন্বন্ধে মতলব করেছিল তাঁকে ধরে আনতে, আর তারা তর্কাতর্কি করত মিথ্যার সাহায্যে যেন তার দ্বারা তারা সত্যকে পঙ্গু করে ফেলতে পারে, ফলে আমি তাদের পাকড়াও করলাম, সুতরাং কেমন ছিল আমার শাস্তিদান!



وَکَذٰلِکَ حَقَّتۡ کَلِمَتُ رَبِّکَ عَلَی الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَنَّہُمۡ اَصۡحٰبُ النَّارِ ۘؔ


ওয়া কাযা-লিকা হাক্কাত কালিমাতুরাব্বিকা ‘আলাল্লাযীনা কাফারূআন্নাহুম আসহা-বুন্নার।


Mufti Taqi Usmani

And similarly, the word of your Lord has become due against those who disbelieve-that they are the people of the Fire.


মুফতী তাকী উসমানী

এভাবেই যারা কুফর অবলম্বন করেছে তাদের সম্পর্কে তোমার প্রতিপালকের এই কথা অবধারিত হয়ে গেছে যে, তারা জাহান্নামী হবে।

(ads1)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#f50707)

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এভাবে কাফেরদের বেলায় আপনার পালনকর্তার এ বাক্য সত্য হল যে, তারা জাহান্নামী।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এইভাবে কাফিরদের ক্ষেত্রে সত্য হল তোমার প্রতিপালকের বাণী-এরা জাহান্নামী।


মাওলানা জহুরুল হক

আর এভাবেই তোমার প্রভুর বাণী সত্য প্রমাণিত হয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে যারা অবিশ্বাস করেছিল -- যে তারাই হচ্ছে আগুনের বাসিন্দা।



اَلَّذِیۡنَ یَحۡمِلُوۡنَ الۡعَرۡشَ وَمَنۡ حَوۡلَہٗ یُسَبِّحُوۡنَ بِحَمۡدِ رَبِّہِمۡ وَیُؤۡمِنُوۡنَ بِہٖ وَیَسۡتَغۡفِرُوۡنَ لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ۚ رَبَّنَا وَسِعۡتَ کُلَّ شَیۡءٍ رَّحۡمَۃً وَّعِلۡمًا فَاغۡفِرۡ لِلَّذِیۡنَ تَابُوۡا وَاتَّبَعُوۡا سَبِیۡلَکَ وَقِہِمۡ عَذَابَ الۡجَحِیۡمِ


আল্লাযীনা ইয়াহমিলূনাল‘আরশা ওয়া মান হাওলাহূইউছাব্বিহূনা বিহামদি রাব্বিহিমওয়া ইউ’মিনূনা বিহী ওয়া ইয়াছতাগফিরূনা লিল্লাযীনা আ-মানূ রাব্বানা-ওয়াছি‘তা কুল্লা শাইয়িররাহমাতাওঁ ওয়া ‘ইলমান ফাগফির লিল্লাযীনা তা-বূওয়াত্তাবা‘ঊ ছাবীলাকা ওয়াকিহিম ‘আযা-বাল জাহীম।


Mufti Taqi Usmani

Those who are bearing the Throne and those who are around it pronounce the purity of your Lord along with His praise, and believe in Him, and pray for the forgiveness of those who believe, (saying): “Our Lord, Your mercy and knowledge comprehends everything; so forgive those who repent and follow Your way, and save them from the punishment of the Fire.


মুফতী তাকী উসমানী

যারা (অর্থাৎ যে ফেরেশতাগণ) আরশ ধারণ করে আছে এবং যারা তাঁর চারপাশে আছে, তারা তাদের প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে তাঁর তাসবীহ পাঠ করে ও তাঁর প্রতি ঈমান রাখে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য মাগফিরাতের দুআ করে (যে,) হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার রহমত ও জ্ঞান সমস্ত কিছু জুড়ে ব্যাপ্ত। সুতরাং যারা তাওবা করেছে ও তোমার পথের অনুসারী হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করে দাও এবং তাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। অতএব, যারা তওবা করে এবং আপনার পথে চলে, তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যারা ‘র্আশ ধারণ করে আছে এবং যারা এটার চতুষ্পার্শ্ব ঘিরিয়া আছে, তারা তাদের প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে প্রশংসার সঙ্গে এবং তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মু’মিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার দয়া ও জ্ঞান সর্বব্যাপী। অতএব যারা তওবা করে ও তোমার পথ অবলম্বন করে তুমি তাদেরকে ক্ষমা কর এবং জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা কর।’


মাওলানা জহুরুল হক

যারা আরশ বহন করে আর যারা এর চারপাশে রয়েছে তারা তাদের প্রভুর প্রশংসায় জপতপ করছে আর তাঁর প্রতি বিশ্বাস করছে, আর পরিত্রাণ প্রার্থনা করছে তাদের জন্য যারা বিশ্বাস করেছে -- "আমাদের প্রভু! তুমি সব-কিছুকে পরিবেষ্টন করে রয়েছ করুণার ও জ্ঞানের দ্বারা, কাজেই তুমি পরিত্রাণ করো তাদের যারা ফিরেছে ও তোমার পথ অনুসরণ করেছে, আর তাদের রক্ষা করো জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি থেকে।



رَبَّنَا وَاَدۡخِلۡہُمۡ جَنّٰتِ عَدۡنِۣ الَّتِیۡ وَعَدۡتَّہُمۡ وَمَنۡ صَلَحَ مِنۡ اٰبَآئِہِمۡ وَاَزۡوَاجِہِمۡ وَذُرِّیّٰتِہِمۡ ؕ  اِنَّکَ اَنۡتَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ۙ


রাব্বানা-ওয়া আদখিলহুম জান্না-তি ‘আদনি নিল্লাতী ওয়া ‘আত্তাহুম ওয়া মান সালাহা মিন আবাইহিম ওয়া আঝওয়া-জিহিম ওয়া যুররিইয়া-তিহিম ইন্নাকা আনতাল ‘আঝীঝুল হাকীম।


Mufti Taqi Usmani

And, our Lord, admit them to the eternal gardens of Jannah (Paradise) that You have promised for them, and (admit) those as well who did good from among their fathers and wives and children. You, only You, are the Mighty, the Wise,


মুফতী তাকী উসমানী

হে আমাদের প্রতিপালক! তাদেরকে দাখিল কর স্থায়ী জান্নাতে, যার ওয়াদা তুমি তাদের সাথে করেছ এবং তাদের পিতা-মাতা, স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যারা নেক লোক তাদেরকেও। নিশ্চয়ই তুমিই পরাক্রশালী, প্রজ্ঞাময়।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে আমাদের পালনকর্তা, আর তাদেরকে দাখিল করুন চিরকাল বসবাসের জান্নাতে, যার ওয়াদা আপনি তাদেরকে দিয়েছেন এবং তাদের বাপ-দাদা, পতি-পত্নী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করে তাদেরকে। নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি তাদেরকে দাখিল কর স্থায়ী জান্নাতে, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাদেরকে দিয়েছ এবং তাদের পিতামাতা, পতি-পত্নী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করেছে তাদেরকেও। তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।


মাওলানা জহুরুল হক

"আমাদের প্রভু! আর তাদের প্রবেশ করাও নন্দন-কাননে যা তুমি ওয়াদা করেছিলে তাদের জন্য, আর যারা সৎকর্ম করেছে -- তাদের বাপদাদাদের ও তাদের পতি-পত্নীদের ও তাদের সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে থেকে। নিঃসন্দেহ তুমি নিজেই মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।



وَقِہِمُ السَّیِّاٰتِ ؕ  وَمَنۡ تَقِ السَّیِّاٰتِ یَوۡمَئِذٍ فَقَدۡ رَحِمۡتَہٗ ؕ  وَذٰلِکَ ہُوَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡمُ ٪


ওয়া কিহিমুছ ছাইয়িআ-তি ওয়া মান তাকিছ ছাইয়িআ-তি ইয়াওমায়িযিন ফাকাদ রাহিমতাহূ ওয়া যা-লিকা হুওয়াল ফাওঝুল ‘আজীম।


Mufti Taqi Usmani

and save them from evils (of punishment). And whomsoever you save from evils that day, it is surely because you bless him with mercy. And that is the great achievement indeed.”


মুফতী তাকী উসমানী

এবং তাদেরকে সকল মন্দ বিষয় থেকে রক্ষা কর। ২ সে দিন তুমি যাকে সব মন্দ থেকে রক্ষা করবে, তার প্রতি তুমি অবশ্যই দয়া করলে। আর এটাই মহাসাফল্য।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং আপনি তাদেরকে অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন। আপনি যাকে সেদিন অমঙ্গল থেকে রক্ষা করবেন, তার প্রতি অনুগ্রহই করবেন। এটাই মহাসাফল্য।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং তুমি তাদেরকে শাস্তি হতে রক্ষা কর। সেই দিন তুমি যাকে শাস্তি হতে রক্ষা করবে, তাকে তো অনুগ্রহই করবে; এটাই তো মহাসাফল্য।’


মাওলানা জহুরুল হক

আর তাদের রক্ষা করো মন্দ থেকে। আর সেইদিন যাকে তুমি মন্দ থেকে রক্ষা করবে তাকে তো তুমি আলবৎ করুণা করেছ। আর এইটিই খোদ মহাসাফল্য।


তাফসীরঃ

২. ‘মন্দ বিষয়’ দ্বারা জাহান্নামের কষ্ট বোঝানো হয়েছে অথবা তারা দুনিয়ায় যেসব মন্দ কাজ করেছে তা। দ্বিতীয় অবস্থায় এর অর্থ হবে, তাদেরকে দুনিয়ায় কৃত মন্দ কাজের পরিণাম থেকে রক্ষা কর, তথা সেগুলো ক্ষমা করে দাও।


১০


اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا یُنَادَوۡنَ لَمَقۡتُ اللّٰہِ اَکۡبَرُ مِنۡ مَّقۡتِکُمۡ اَنۡفُسَکُمۡ اِذۡ تُدۡعَوۡنَ اِلَی الۡاِیۡمَانِ فَتَکۡفُرُوۡنَ


ইন্নাল্লাযীনা কাফারূইউনা-দাওনা লামাকতুল্লা-হি আকবারু মিম্মাকতিকুম আনফুছাকুম ইয তুদ‘আওনা ইলাল ঈমা-নি ফাতাকফুরূন।


Mufti Taqi Usmani

Those who disbelieve will be addressed (by a voice saying): “Allah’s hatred (for you), when you were invited to the true faith and you refused, was greater than your hatred for yourselves (today when you are hating your own selves out of remorse).


মুফতী তাকী উসমানী

যারা কুফর অবলম্বন করেছে তাদেরকে ডাক দিয়ে বলা হবে, (আজ) তোমাদের নিজেদের প্রতি নিজেদের যে ক্ষোভ হচ্ছে, ৩ তার চেয়ে বেশি ক্রোধ হত আল্লাহর, যখন তোমাদেরকে ঈমানের দাওয়াত দেওয়া হত আর তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করতে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা কাফের তাদেরকে উচ্চঃস্বরে বলা হবে, তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের আজকের এ ক্ষোভ অপেক্ষা আল্লার ক্ষোভ অধিক ছিল, যখন তোমাদেরকে ঈমান আনতে বলা হয়েছিল, অতঃপর তোমরা কুফরী করছিল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় কাফিরদেরকে উচ্চকণ্ঠে বলা হবে, ‘তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের ক্ষোভ অপেক্ষা আল্লাহ্ র অপ্রসন্নতা ছিল অধিক-যখন তোমাদেরকে ঈমানের প্রতি আহ্বান করা হয়েছিল আর তোমরা তা অস্বীকার করেছিলে।’


মাওলানা জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের ঘোষণা করা হবে -- "আল্লাহ্‌র বিরূপতা তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের বিরক্তির চেয়েও অনেক বেশী ছিল, কেননা ধর্মবিশ্বাসের প্রতি তোমাদের আহ্বান করা হচ্ছিল অথচ তোমরা প্রত্যাখ্যান করছিলে!"


তাফসীরঃ

৩. একথা বলা হবে সেই সময়, যখন কাফেরগণ জাহান্নামে পৌঁছে শাস্তি ভোগ করতে শুরু করবে। তখন তারা নিজেরা নিজেদের প্রতি ক্ষুব্ধ হবে যে, আমরা দুনিয়ায় কেন কুফরের পথ অবলম্বন করেছিলাম!


১১


قَالُوۡا رَبَّنَاۤ اَمَتَّنَا اثۡنَتَیۡنِ وَاَحۡیَیۡتَنَا اثۡنَتَیۡنِ فَاعۡتَرَفۡنَا بِذُنُوۡبِنَا فَہَلۡ اِلٰی خُرُوۡجٍ مِّنۡ سَبِیۡلٍ


কা-লূ রাব্বানা আমাত্তানাছনাতাইনি ওয়া আহয়াইতানাছনাতাইনি ফা‘তারাফনাবিযুনূবিনা ফাহাল ইলা-খুরূজিম মিন ছাবীল।


Mufti Taqi Usmani

They will say, “Our Lord, You gave us death twice and You gave us life twice. Now we confess our sins. So, is there any way to come out of here?”


মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে দু’বার মৃত্যু দিয়েছ ৪ এবং দু’বার জীবন দিয়েছ। এবার আমরা আমাদের গুনাহের কথা স্বীকার করছি। কাজেই (আমাদের জাহান্নাম থেকে) নিষ্কৃতির কোন পথ আছে কি?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা বলবে হে আমাদের পালনকর্তা! আপনি আমাদেরকে দু’বার মৃত্যু দিয়েছেন এবং দু’ বার জীবন দিয়েছেন। এখন আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি। অতঃপর এখন ও নিস্কৃতির কোন উপায় আছে কি?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে প্রাণহীন অবস্থায় দুইবার রেখেছ এবং দুইবার আমাদেরকে প্রাণ দিয়েছ। আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি; এখন নিষ্ক্রমণের কোন পথ মিলবে কি ?’


মাওলানা জহুরুল হক

তারা বলবে -- "আমাদের প্রভু! তুমি দুইবার আমাদের মৃত্যুমুখে ফেলেছ, আর তুমি আমাদের দুইবার জীবন দান করেছ, কাজেই আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি সুতরাং বেরুনোর কোনো পথ আছে কী?"


তাফসীরঃ

৪. ‘দু’বার মৃত্যু দিয়েছ’ প্রথমবারের মৃত্যু দ্বারা অস্তিহীনতার কথা বোঝানো হয়েছে। মানুষ তার জন্মের আগে নাস্তির ভেতর ছিল, যেন সে মৃত ছিল। আর দ্বিতীয় মৃত্যু হল সেই মৃত্যু, যা জীবনের অবসানে ঘটে থাকে। কাফেরগণ একথা দ্বারা বোঝাতে চাবে যে, আমরা দুনিয়ায় বিশ্বাস করতাম জন্মের আগে আমরা অস্তিত্বহীন ছিলাম এবং এটাও বিশ্বাস করতাম যে, শেষ পর্যন্ত একদিন মৃত্যু আসবে, কিন্তু দ্বিতীয়বারের জীবনকে বিশ্বাস করতাম না। এবার আমাদের মনে সেই দ্বিতীয় জীবনেরও ইয়াকীন সৃষ্টি হয়ে গেছে।


১২


ذٰلِکُمۡ بِاَنَّہٗۤ اِذَا دُعِیَ اللّٰہُ وَحۡدَہٗ کَفَرۡتُمۡ ۚ وَاِنۡ یُّشۡرَکۡ بِہٖ تُؤۡمِنُوۡا ؕ فَالۡحُکۡمُ لِلّٰہِ الۡعَلِیِّ الۡکَبِیۡرِ


যা-লিকুম বিআন্নাহূইযা-দু‘ইয়াল্লা-হু ওয়াহদাহূকাফারতুম ওয়া ইয়ঁইউশরাক বিহী তু’মিনূ ফালহুকমুলিল্লা-হিল ‘আলিইয়িল কাবীর।


Mufti Taqi Usmani

(The reply will be, “No.) This is because whenever Allah alone was invoked, you used to disbelieve, and if partners were associated with Him, you used to believe. Now the decision lies with Allah, the High, the Great.”


মুফতী তাকী উসমানী

(উত্তর দেওয়া হবে,) তোমাদের এ অবস্থার কারণ হল, যখন এক আল্লাহকে ডাকা হত, তখন তোমরা তাকে অস্বীকার করতে। আর যদি তার সাথে অন্য কাউকে শরীক করা হত, তোমরা তাতে বিশ্বাস করতে। অতএব এখন ফায়সালা কেবল আল্লাহরই, যিনি সমুচ্চ, সুমহান।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমাদের এ বিপদ এ কারণে যে, যখন এক আল্লাহকে ডাকা হত, তখন তোমরা কাফের হয়ে যেতে যখন তার সাথে শরীককে ডাকা হত তখন তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করতে। এখন আদেশ তাই, যা আল্লাহ করবেন, যিনি সর্বোচ্চ, মহান।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমাদের এই শাস্তি তার জন্য যে, যখন এক আল্লাহ্কে ডাকা হত তখন তোমরা তাঁকে অস্বীকার করতে এবং আল্লাহ্ র শরীক স্থির করা হলে তোমরা তা বিশ্বাস করতে।’ বস্তুত সমুচ্চ, মহান আল্লাহ্ র ই সমস্ত কর্তৃত্ব।


মাওলানা জহুরুল হক

"এটিই তোমাদের, কেননা যখন আল্লাহ্‌কে তাঁর একত্ব সন্বন্ধে ঘোষণা করা হতো তখন তোমরা অবিশ্বাস করতে, আর যদি তাঁর সঙ্গে অংশী দাঁড় করানো হতো তাহলে তোমরা বিশ্বাস করতে। বস্তুতঃ হুকুম আল্লাহ্‌র -- মহোচ্চ, মহামহিম।


১৩


ہُوَ الَّذِیۡ یُرِیۡکُمۡ اٰیٰتِہٖ وَیُنَزِّلُ لَکُمۡ مِّنَ السَّمَآءِ رِزۡقًا ؕ وَمَا یَتَذَکَّرُ اِلَّا مَنۡ یُّنِیۡبُ


হুওয়াল্লাযী ইউরীকুম আ-য়া-তিহী ওয়া ইউনাঝঝিলুলাকুম মিনাছ ছামাই রিঝকাওঁ ওয়ামা-ইয়াতাযাক্কারু ইল্লা-মাইঁ ইউনীব।


Mufti Taqi Usmani

It is He who shows you His signs and sends down provision for you from the sky; and no one takes lesson but the one who turns to Him.


মুফতী তাকী উসমানী

তিনিই তোমাদেরকে নিজ নিদর্শনাবলী দেখিয়ে থাকেন এবং তোমাদের জন্য আসমান থেকে রিযক অবতীর্ণ করেন। উপদেশ তো সেই গ্রহণ করে, যে (হেদায়াতের জন্য) আন্তরিকভাবে রুজু হয়।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান এবং তোমাদের জন্যে আকাশ থেকে নাযিল করেন রুযী। চিন্তা-ভাবনা তারাই করে, যারা আল্লাহর দিকে রুজু থাকে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান এবং আকাশ হতে প্রেরণ করেন তোমাদের জন্যে রিযিক, আল্লাহ্্-অভিমুখী ব্যক্তিই উপদেশ গ্রহণ করে।


মাওলানা জহুরুল হক

তিনিই সেইজন যিনি তোমাদের তাঁর নিদর্শনাবলী দেখিয়ে থাকেন এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে পাঠিয়ে থাকেন রিযেক। আর কেউ মনোনিবেশ করে না সে ব্যতীত যে ফেরে।


১৪


فَادۡعُوا اللّٰہَ مُخۡلِصِیۡنَ لَہُ الدِّیۡنَ وَلَوۡ کَرِہَ الۡکٰفِرُوۡنَ


ফাদ‘উল্লা-হা মুখলিসীনা লাহুদ্দীনা ওয়ালাও কারিহাল কা-ফিরূন।


Mufti Taqi Usmani

So, worship Allah, making your submission exclusive for Him, even though the disbelievers dislike (it).


মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং (হে মানুষ!) তোমরা আল্লাহকে ডাক তার জন্য আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে, তা কাফেরদের পক্ষে যতই অপ্রীতিকর হোক।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতএব, তোমরা আল্লাহকে খাঁটি বিশ্বাস সহকারে ডাক, যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুতরাং আল্লাহ্কে ডাক তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে, যদিও কাফিররা এটা অপছন্দ করে।


মাওলানা জহুরুল হক

সুতরাং আল্লাহ্‌কেই আহ্‌বান করো তাঁর প্রতি ধর্মে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে, যদিও অবিশ্বাসীরা বিরূপ হয়।


১৫


رَفِیۡعُ الدَّرَجٰتِ ذُو الۡعَرۡشِ ۚ  یُلۡقِی الرُّوۡحَ مِنۡ اَمۡرِہٖ عَلٰی مَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِہٖ لِیُنۡذِرَ یَوۡمَ التَّلَاقِ ۙ


রাফী’উদ্দাজা-তি যুল ‘আরশি ইউলকির রূহা মিন আমরিহী ‘আলা-মাইঁ ইয়াশাউ মিন ‘ইবা-দিহী লিইউনযিরা ইয়াওমাত্তালা-ক।


Mufti Taqi Usmani

He is High in stations, the Lord of the Throne. He sends the spirit down, under His command, on whomever He wills from among His servants, so that he warns of the Day of Encounter -


মুফতী তাকী উসমানী

তিনি সমুচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের অধিপতি। তিনি নিজ বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা নিজ হুকুমে রূহ (অর্থাৎ ওহী) নাযিল করেন। ৫ এই জন্য যে, সে সাক্ষাত দিবস সম্পর্কে সতর্ক করবে


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তিনিই সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের মালিক, তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা তত্ত্বপূর্ণ বিষয়াদি নাযিল করেন, যাতে সে সাক্ষাতের দিন সম্পর্কে সকলকে সতর্ক করে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি সমুচ্চ মর্যাদার অধিকারী, ‘আরশের অধিপতি, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা ওহী প্রেরণ করেন স্বীয় আদেশসহ, যাতে সে সতর্ক করতে পারে কিয়ামত দিবস সম্পর্কে।


মাওলানা জহুরুল হক

তিনি স্তরে স্তরে উন্নয়ণকারী, আরশের অধিপতি। তিনি তাঁর আদেশক্রমে রূহ পাঠিয়ে থাকেন তাঁর বান্দাদের মধ্যের যার প্রতি তিনি ইচ্ছা করে থাকেন, যেন সে সতর্ক করতে পারে মহামিলনের দিন সম্পর্কে --


তাফসীরঃ

৫. ওহীকে রূহ বলা হয় এ কারণে যে, তা মানবাত্মায় সঞ্চারিত হয়, যেমন রূহ সঞ্চারিত হয় মানুষের দেহে। অতঃপর দেহ যেমন রূহের দ্বারা জীবন লাভ করে তেমনি মানবাত্মাও ওহীর হিদায়াত দ্বারা সঞ্জীবিত হয়ে ওঠে। বস্তুত ওহীর স্পর্শবিহীন মানুষ তার দেহ ও আত্মাসমেত নিষ্প্রাণ জড়পিণ্ড তুল্য। তাতে সত্যিকারের মানবিক প্রাণসঞ্চারের জন্যই আল্লাহ ‘ওহী’ নামক রূহের ব্যবস্থা করেন এবং ডাক দিয়ে বলেন, ‘তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দাও, যখন তোমাদেরকে ডাক দেন সেই জিনিসের দিকে যা তোমাদেরকে প্রাণবান করে তুলবে’ (সূরা আনফাল ৮ : ২৪)। -অনুবাদক


১৬


یَوۡمَ ہُمۡ بٰرِزُوۡنَ ۬ۚ لَا یَخۡفٰی عَلَی اللّٰہِ مِنۡہُمۡ شَیۡءٌ ؕ لِمَنِ الۡمُلۡکُ الۡیَوۡمَ ؕ لِلّٰہِ الۡوَاحِدِ الۡقَہَّارِ


ইয়াওমা হুম বা-রিঝূনা লা-ইয়াখফা-‘আলাল্লা-হি মিনহুম শাইউল লিমানিল মুলকুল ইয়াওমা লিল্লা-হিল ওয়া-হিদিল কাহহা-র।


Mufti Taqi Usmani

the day they will come in open view. Nothing about them will remain hidden from Allah. To whom belongs the kingdom today? To Allah alone, the One, the All-Dominant.


মুফতী তাকী উসমানী

যে দিন তারা সকলে প্রকাশ্যে এসে যাবে। আল্লাহর কাছে তাদের কোন কিছুই গোপন থাকবে না। ৬ (বলা হবে) আজ রাজত্ব কার? (উত্তর হবে একটিই যে,) কেবল আল্লাহর, যিনি এক, পরাক্রমশালী।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যেদিন তারা বের হয়ে পড়বে, আল্লাহর কাছে তাদের কিছুই গোপন থাকবে না। আজ রাজত্ব কার? এক প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যেদিন মানুষ বের হয়ে পড়বে সেদিন আল্লাহ্ র নিকট এদের কিছুই গোপন থাকবে না। আজ কর্তৃত্ব কার ? আল্লাহরই, যিনি এক, পরাক্রমশালী।


মাওলানা জহুরুল হক

যেদিন তারা বের হয়ে পড়বে, আল্লাহ্‌র সমক্ষে তাদের সন্বন্ধে কিছুই লুকোনো থাকবে না। "আজকের দিনে কার রাজত্ব?" "একক সার্বভৌম কর্তৃত্বশীল আল্লাহ্‌র।"


তাফসীরঃ

৬. আল্লাহ তাআলার কাছে তো কোনও দিনই কারও কিছু গোপন থাকে না, তা সত্ত্বেও হাশর দিবস সম্পর্কে বিশেষভাবে একথা বলা হয়েছে এজন্য যে, দুনিয়ায় মানুষ গুপ্তস্থানে, প্রাচীরের ভেতর, ঘরের মধ্যে বা এরকম লোকচক্ষুর আড়ালে যেসব কাজ করে সে সম্পর্কে মনে করে কেউ তা দেখছে না। কিন্তু হাশরের ময়দানে এ রকম কোনো আড়াল থাকবে না। সকলেই উন্মুক্ত স্থানে সমবেত হয়ে থাকবে। ফলে এদিন কেউ এ রকম কিছু ভাবতে পারবে না। সকলেই নিশ্চিত থাকবে যে, তাদের সব কিছুই আল্লাহ তাআলার দৃষ্টির সামনে রয়েছে। -অনুবাদক


১৭


اَلۡیَوۡمَ تُجۡزٰی کُلُّ نَفۡسٍۭ بِمَا کَسَبَتۡ ؕ لَا ظُلۡمَ الۡیَوۡمَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ سَرِیۡعُ الۡحِسَابِ


আল ইয়াওমা তুজঝা-কুল্লুনাফছিম বিমা-কাছাবাত লা- জু ল মাল ইয়াওমা ইন্নাল্লাহা ছারী‘উল হিছা-ব।


Mufti Taqi Usmani

Today, everyone will be recompensed for what one earned. There is no injustice today. Surely, Allah is swift in reckoning.


মুফতী তাকী উসমানী

আজ প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের প্রতিফল দেওয়া হবে। আজ কোন জুলুম হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আজ প্রত্যেকেই তার কৃতকর্মের প্রতিদান পাবে। আজ যুলুম নেই। নিশ্চয় আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আজ প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের ফল দেওয়া হবে; আজ কোন জুলুম করা হবে না। আল্লাহ্ হিসেব গ্রহণে তৎপর।


মাওলানা জহুরুল হক

সেইদিন প্রত্যেক সত্ত্বাকে প্রতিদান দেওয়া হবে যা সে অর্জন করেছে তার দ্বারা। সেইদিন কোনো অবিচার হবে না। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ হিসাব গ্রহণে তৎপর।


১৮


وَاَنۡذِرۡہُمۡ یَوۡمَ الۡاٰزِفَۃِ اِذِ الۡقُلُوۡبُ لَدَی الۡحَنَاجِرِ کٰظِمِیۡنَ ۬ؕ  مَا لِلظّٰلِمِیۡنَ مِنۡ حَمِیۡمٍ وَّلَا شَفِیۡعٍ یُّطَاعُ ؕ


ওয়া আনযিরহুম ইয়াওমাল আ-ঝিফাতি ইযিল কুলূবুলাদাল হানা-জিরি কা-জিমীনা মা-লিজ্জা-লিমীনা মিন হামীমিওঁ ওয়ালা-শাফী‘ইঁ ইউতা-‘।


Mufti Taqi Usmani

And warn them of the Day of approaching horror, when hearts will jump up into the throats, (and they will be) choked. There will be neither a friend for the unjust, nor an intercessor to be listened to.


মুফতী তাকী উসমানী

(হে রাসূল!) তাদেরকে সতর্ক করে দাও আসন্ন দিন সম্পর্কে, যখন বেদম কষ্টে মানুষের প্রাণ কণ্ঠাগত হয়ে যাবে। জালেমদের থাকবে না কোন বন্ধু এবং কোন সুপারিশকারী, যার কথা গ্রহণ করা হবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আপনি তাদেরকে আসন্ন দিন সম্পর্কে সতর্ক করুন, যখন প্রাণ কন্ঠাগত হবে, দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। পাপিষ্ঠদের জন্যে কোন বন্ধু নেই এবং সুপারিশকারীও নেই; যার সুপারিশ গ্রাহ্য হবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এদেরকে সতর্ক করে দাও আসন্ন দিন সম্পর্কে যখন দুঃখ-কষ্টে এদের প্রাণ কণ্ঠাগত হবে। জালিমদের জন্যে কোন অন্তরংগ বন্ধু নেই, যার সুপারিশ গ্রাহ্য হবে এমন কোন সুপারিশকারীও নাই।


মাওলানা জহুরুল হক

আর তুমি তাদের সাবধান করে দাও আসন্ন দিন সম্পর্কে যখন হৃৎপিন্ডগুলো দুঃখকষ্টে কন্ঠাগত হবে। অন্যায়াচারীদের জন্য কোনো বন্ধু থাকবে না, আর থাকবে না কোনো সুপারিশকারী শুনবার মতো।


১৯


یَعۡلَمُ خَآئِنَۃَ الۡاَعۡیُنِ وَمَا تُخۡفِی الصُّدُوۡرُ


ইয়া‘লামুখাইনাতাল আ‘ইউনি ওয়ামা-তুখফিস সুদূর।


Mufti Taqi Usmani

He knows the treachery of the eyes and whatever is concealed by hearts.


মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহ জানেন চোখের অসাধুতা এবং সেইসব বিষয়ও, যা বক্ষদেশ লুকিয়ে রাখে।

(ads2)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#f50707)

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

চোখের চুরি এবং অন্তরের গোপন বিষয় তিনি জানেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

চোখের অপব্যবহার ও অন্তরে যা গোপন আছে সে সম্বন্ধে তিনি অবহিত।


মাওলানা জহুরুল হক

তিনি জানেন চোখগুলোর চুপিসারে চাওয়া আর যা বুকগুলো লুকিয়ে রাখে।


২০


وَاللّٰہُ یَقۡضِیۡ بِالۡحَقِّ ؕ  وَالَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِہٖ لَا یَقۡضُوۡنَ بِشَیۡءٍ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡبَصِیۡرُ ٪


ওয়াল্লা-হু ইয়াকদী বিলহাক্কি ওয়াল্লাযীনা ইয়াদ‘ঊনা মিন দূ নিহী লা-ইয়াকদূ না বিশাইয়িন ইন্নাল্লা-হা হুওয়াছ ছামী‘উল বাসীর।


Mufti Taqi Usmani

He will give His judgment with truth. And those whom they invoke beside Him cannot judge anything. Surely, it is Allah who is Hearing, Seeing.


মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহ ন্যায়বিচার করেন। আর তারা তাকে ছেড়ে যাদেরকে (অর্থাৎ যেই মিথ্যা উপাস্যদেরকে) ডাকে তারা কোন কিছুর বিচার করতে পারে না। নিশ্চয়ই আল্লাহই এমন, যিনি সব কথা শোনেন, সবকিছু দেখেন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহ ফয়সালা করেন সঠিকভাবে, আল্লাহর পরিবর্তে তারা যাদেরকে ডাকে, তারা কিছুই ফয়সালা করে না। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু শুনেন, সবকিছু দেখেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহ্ই বিচার করেন সঠিকভাবে। আল্লাহ্ র পরিবর্তে এরা যাদেরকে ডাকে তারা বিচার করতে অক্ষম। আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।


মাওলানা জহুরুল হক

আর আল্লাহ্ বিচার করেন সঠিকভাবে, কিন্ত তাঁকে বাদ দিয়ে যাদের তারা আহ্বান করে তারা কোনো কিছুরই সমাধান করতে পারে না। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ -- তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।


২১


اَوَلَمۡ یَسِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَیَنۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الَّذِیۡنَ کَانُوۡا مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ؕ کَانُوۡا ہُمۡ اَشَدَّ مِنۡہُمۡ قُوَّۃً وَّاٰثَارًا فِی الۡاَرۡضِ فَاَخَذَہُمُ اللّٰہُ بِذُنُوۡبِہِمۡ ؕ وَمَا کَانَ لَہُمۡ مِّنَ اللّٰہِ مِنۡ وَّاقٍ


আওয়ালাম ইয়াছীরূফিল আরদিফাইয়ানজুরূকাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল্লাযীনা কা-নূমিন কাবলিহিম কা-নূহুম আশাদ্দা মিনহুম কুওওয়াতাঁওয়া আ-ছা-রান ফিল আরদি ফাআখাযাহুমুল্লা-হু বিযুনূবিহিম ওয়ামা-কা-না লাহুম মিনাল্লা-হি মিওঁ ওয়া-ক।


Mufti Taqi Usmani

Have they not traveled through the earth and seen how was the fate of those who used to be before them? They were stronger than these in power and in traces left on the earth, but Allah seized them because of their sins. There was no one to save them from Allah.


মুফতী তাকী উসমানী

তারা কি ভূমিতে বিচরণ করে দেখেনি, তাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের কী পরিণাম হয়েছে? তারা শক্তিতেও ছিল তাদের অপেক্ষা প্রবলতর এবং পৃথিবীতে রেখে যাওয়া কীর্তিতেও। অতঃপর আল্লাহ তাদের গুনাহের কারণে তাদেরকে ধৃত করেন। তাদের এমন কেউ ছিল না, যে তাদেরকে আল্লাহ হতে রক্ষা করবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা কি দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করে না, যাতে দেখত তাদের পূর্বসুরিদের কি পরিণাম হয়েছে? তাদের শক্তি ও কীর্তি পৃথিবীতে এদের অপেক্ষা অধিকতর ছিল। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে তাদের গোনাহের কারণে ধৃত করেছিলেন এবং আল্লাহ থেকে তাদেরকে রক্ষাকারী কেউ হয়নি।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না ? করলে দেখত-এদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কী হয়েছিল। পৃথিবীতে এরা ছিল এদের অপেক্ষা শক্তিতে এবং কীর্তিতে প্রবলতর। এরপর আল্লাহ্ এদেরকে শাস্তি দিয়েছিলেন এদের অপরাধের জন্যে এবং আল্লাহর শাস্তি হতে এদেরকে রক্ষা করার কেউ ছিল না।


মাওলানা জহুরুল হক

এরা কি দুনিয়াতে পরিভ্রমণ করে নি, করলে দেখত কেমন হয়েছিল তাদের পরিণাম যারা ছিল এদের পূর্ববর্তী? তারা তো ছিল বলবিক্রমে এদের চেয়েও প্রবল আর দুনিয়াদারির কৃতিত্বেও, কিন্ত আল্লাহ্ তাদের পাকড়াও করলেন তাদের অপরাধের জন্য, আর তাদের জন্য আল্লাহ্‌র থেকে কোনো রক্ষাকারী নেই।


২২


ذٰلِکَ بِاَنَّہُمۡ کَانَتۡ تَّاۡتِیۡہِمۡ رُسُلُہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ فَکَفَرُوۡا فَاَخَذَہُمُ اللّٰہُ ؕ اِنَّہٗ قَوِیٌّ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ


যা-লিকা বিআন্নাহুম কা-নাত্তা’তীহিম রুছুলুহুম বিলবাইয়িনা-তি ফাকাফারূফাআখাযাহুমুল্লা-হু ইন্নাহূকাবিওউন শাদীদুল ‘ইকা-ব।


Mufti Taqi Usmani

That was because messengers used to come to them with clear signs, but they disbelieved. Then, Allah seized them. Surely, He is Strong, severe in punishment.


মুফতী তাকী উসমানী

তা এ কারণে যে, তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আসলে তারা তাদেরকে অস্বীকার করত। ফলে আল্লাহ তাদেরকে পাকড়াও করেন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী, শাস্তিদানে কঠোর।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এর কারণ এই যে, তাদের কাছে তাদের রসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আগমন করত, অতঃপর তারা কাফের হয়ে যায়, তখন আল্লাহ তাদের ধৃত করেন। নিশ্চয় তিনি শক্তিধর, কঠোর শাস্তিদাতা।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এটা এইজন্যে যে, এদের নিকট এদের রাসূলগণ নিদর্শনসহ আসলে এরা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। ফলে আল্লাহ্ এদেরকে শাস্তি দিলেন। তিনি তো শক্তিশালী, শাস্তিদানে কঠোর।


মাওলানা জহুরুল হক

এমনটাই! কেন না তাদের ক্ষেত্রে -- তাদের রসূলগণ তাদের কাছে এসেছিলেন সুস্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে, কিন্ত তারা অবিশ্বাস করেছিল, কাজেই আল্লাহ্ তাদের পাকড়াও করলেন। নিঃসন্দেহ তিনি মহাশক্তিশালী, প্রতিফলদানে কঠোর।


২৩


وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا مُوۡسٰی بِاٰیٰتِنَا وَسُلۡطٰنٍ مُّبِیۡنٍ ۙ


ওয়ালাকাদ আরছালনা-মূছা-বিআ-য়া-তিনা-ওয়া ছুলতা-নিম মুবীন।


Mufti Taqi Usmani

Indeed We sent Mūsā with Our signs and a manifest proof


মুফতী তাকী উসমানী

আমি মুসাকে আমার নিদর্শনাবলী এবং সুস্পষ্ট প্রমাণ দিয়ে পাঠিয়েছিলাম,


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি আমার নিদর্শনাবলী ও স্পষ্ট প্রমাণসহ মূসাকে প্রেরণ করেছি।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি আমার নিদর্শন ও স্পষ্ট প্রমাণসহ মূসাকে প্রেরণ করেছিলাম,


মাওলানা জহুরুল হক

আর আমরা নিশ্চয়ই মূসাকে পাঠিয়েছিলাম আমাদের নির্দেশাবলী ও স্পষ্ট কর্তৃত্ত্ব দিয়ে,


২৪


اِلٰی فِرۡعَوۡنَ وَہَامٰنَ وَقَارُوۡنَ فَقَالُوۡا سٰحِرٌ کَذَّابٌ


ইলা-ফির‘আওনা ওয়া হা-মা-না ওয়া কা-রূনা ফাকা-লূছা-হিরুন কাযযা-ব।


Mufti Taqi Usmani

to Pharaoh and Hāmān and Qārūn, but they said, “He is a sorcerer, a liar.”


মুফতী তাকী উসমানী

ফির‘আউন, হামান ও কারূনের কাছে কিন্তু তারা বলল, সে তো একজন যাদুকর ঘোর মিথ্যাবাদী।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ফেরাউন, হামান ও কারুণের কাছে, অতঃপর তারা বলল, সে তো জাদুকর, মিথ্যাবাদী।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন, হামান ও কারূনের নিকট কিন্তু এরা বলেছিল, ‘এই লোকটা তো এক জাদুকর, চরম মিথ্যাবাদী।’


মাওলানা জহুরুল হক

ফিরআউন ও হামান ও ক্কারূনের কাছে, কিন্ত তারা বলল -- "একজন জাদুকর, মিথ্যাবাদী।"


২৫


فَلَمَّا جَآءَہُمۡ بِالۡحَقِّ مِنۡ عِنۡدِنَا قَالُوا اقۡتُلُوۡۤا اَبۡنَآءَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَعَہٗ وَاسۡتَحۡیُوۡا نِسَآءَہُمۡ ؕ وَمَا کَیۡدُ الۡکٰفِرِیۡنَ اِلَّا فِیۡ ضَلٰلٍ


ফালাম্মা-জাআ হুম বিলহাক্কিমিন ‘ইনদিনা-কা-লুকতুলূআবনাআল্লাযীনা আ-মানূ মা‘আহু ওয়াছতাহইঊ নিছাআহুম ওয়ামা-কাইদুল কা-ফিরীনা ইল্লা-ফী দালা-ল।


Mufti Taqi Usmani

And when he brought them the truth from Us, they said, “Kill the sons of those who have accepted faith with him, and spare the lives of their women.” But the plot of the disbelievers is nothing but a failure.


মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর সে যখন আমার পক্ষ হতে সত্য নিয়ে তাদের কাছে উপস্থিত হল, ৭ তখন তারা বলল, তার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছে তাদের পুত্রদেরকে হত্যা কর এবং তাদের নারীদেরকে জীবিত রেখে দাও। অথচ কাফেরদের চক্রান্ত পরিণামে তো ব্যর্থই হয়।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর মূসা যখন আমার কাছ থেকে সত্যসহ তাদের কাছে পৌঁছাল; তখন তারা বলল, যারা তার সঙ্গী হয়ে বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা কর, আর তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখ। কাফেরদের চক্রান্ত ব্যর্থই হয়েছে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরপর মূসা আমার নিকট হতে সত্য নিয়ে এদের নিকট উপস্থিত হলে এরা বলল, ‘মূসার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছে, তাদের পুত্র-সন্তানদেরকে হত্যা কর এবং তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখ।’ কিন্তু কাফিরদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবেই।


মাওলানা জহুরুল হক

তারপর যখন তিনি আমাদের তরফ থেকে সত্য নিয়ে তাদের কাছে এলেন তখন তারা বলল, "তার সঙ্গে যারা বিশ্বাস করেছে তাদের ছেলেদের কোতল করো ও বাঁচতে দাও তাদের মেয়েদের।" বস্তুতঃ অবিশ্বাসীদের চক্তান্ত ব্যর্থ বৈ তো নয়।


তাফসীরঃ

৭. অর্থাৎ যখন তিনি সত্য দীনের ডাক নিয়ে জনসাধারণের কাছে গেলেন এবং বহু লোক তাঁর প্রতি ঈমান আনল, তখন ফির‘আউনের লোকজন প্রস্তাব রাখল, যেসব পুরুষ লোক ঈমান এনেছে তাদের পুত্রদেরকে হত্যা করে ফেল আর নারীদেরকে জীবিত রাখ, যাতে দাসী হিসেবে তাদেরকে ব্যবহার করা যায়। এ রকম একটা নির্দেশ হযরত মুসা আলাইহিস সালামের জন্মের আগেও দেওয়া হয়েছিল, যা বিস্তারিতভাবে সূরা ‘তোয়া-হা’ ও সূরা ‘কাসাস’-এ বর্ণিত হয়েছে। সে নির্দেশের কারণ ছিল এক জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী। জ্যোতিষী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, বনী ইসরাঈলে এমন একটি শিশুর জন্ম হবে, বড় হওয়ার পর যার হাতে ফির‘আউনের সিংহাসন উল্টে যাবে। তাই ফির‘আউন ফরমান জারি করেছিল, এখন থেকে বনী ইসরাঈলে যত পুত্র সন্তান জন্ম নেবে তাদেরকে হত্যা করা হোক। তার পক্ষ হতে দ্বিতীয়বার এরূপ ফরমান জারি হয়েছিল হযরত মুসা আলাইহিস সালামের নবুওয়াত লাভের পর, যখন মানুষ তাঁর প্রতি ঈমান আনতে শুরু করে। পুত্রদেরকে হত্যা করার লক্ষ্য ছিল যাতে মুমিনদের বংশ বিস্তার হতে না পারে। তাছাড়া এর দ্বারা মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করাও উদ্দেশ্য ছিল। কেননা মানুষ সাধারণত পুত্র হত্যার ফলে বেশি দুঃখ পেয়ে থাকে। কাজেই পুত্রদেরকে হত্যা করা শুরু হলে কেউ আর ভয়ে ঈমান আনবে না। কিন্তু আল্লাহ তাআলা সামনে ইরশাদ করেছেন, কাফেরদের এ জাতীয় ষড়যন্ত্র শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে যায় এবং আল্লাহ তাআলা যা ফায়সালা করেন সেটাই প্রবল থাকে। সুতরাং তাই হল। শেষ পর্যন্ত ফির‘আউন সাগরে ডুবে মরল এবং বনী ইসরাঈল জয়লাভ করল।


২৬


وَقَالَ فِرۡعَوۡنُ ذَرُوۡنِیۡۤ اَقۡتُلۡ مُوۡسٰی وَلۡیَدۡعُ رَبَّہٗ ۚ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اَنۡ یُّبَدِّلَ دِیۡنَکُمۡ اَوۡ اَنۡ یُّظۡہِرَ فِی الۡاَرۡضِ الۡفَسَادَ


ওয়া কা-লা ফির‘আওনুযারূনীআকতুল মুছা-ওয়াল ইয়াদ‘উ রাব্বাহূ ইন্নীআখা-ফু আইঁ ইউবাদ্দিলা দীনাকুম আও আইঁ ইউজহিরা ফিল আরদিল ফাছা-দ।


Mufti Taqi Usmani

And Pharaoh said, “Let me kill Mūsā, and let him call his Lord. I am afraid that he will change your religion or he will cause havoc to appear in the land.”


মুফতী তাকী উসমানী

ফির‘আউন বলল, আমাকে ছেড়ে দাও, আমি মূসাকে হত্যা করব আর সে তার রবকে ডাকুক। ৮ আমার আশঙ্কা সে তোমাদের দীন বদলে ফেলবে অথবা দেশে অশান্তি বিস্তার করবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ফেরাউন বলল; তোমরা আমাকে ছাড়, মূসাকে হত্যা করতে দাও, ডাকুক সে তার পালনকর্তাকে! আমি আশংকা করি যে, সে তোমাদের ধর্ম পরিবর্তন করে দেবে অথবা সে দেশময় বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন বলল, ‘আমাকে ছেড়ে দাও আমি মূসাকে হত্যা করি এবং সে তার প্রতিপালকের শরণাপন্ন হোক। আমি আশংকা করি যে, সে তোমাদের দীনের পরিবর্তন ঘটাবে বা সে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।’


মাওলানা জহুরুল হক

আর ফিরআউন বলল -- "আমাকে ছেড়ে দাও যাতে আমি মূসাকে বধ করতে পারি, আর সে তার প্রভুকে ডাকতে থাকুক, নিঃসন্দেহ আমি আশঙ্কা করছি যে সে তোমাদের ধর্মমত বদলে দেবে, অথবা সে দেশের মধ্যে বিপর্যয়ের প্রসার করবে।


তাফসীরঃ

৮. অর্থাৎ সে তার রব্ব সম্পর্কে যা বলে ওসব নিয়ে তোমরা ভেব না। কারণ তার কোন বাস্তবতা নেই। বড় রব্ব তো আমিই। তোমরা বল তো এখনই আমি তাকে খতম করে দেই। আর সে তার রবকে ডাকুক। দেখি সে তাকে আমার হাত থেকে কেমন করে বাঁচায়। এতদিন কেবল তোমাদের দিকে তাকিয়েই তাকে কিছু বলিনি। আসলে সে একথা বলছিল তাদের মনোরঞ্জন ও নিজের মান রক্ষার বাহানায়। প্রকৃতপক্ষে সে হযরত মূসা (আ.)-কে হত্যা করতে চাচ্ছিল না। কেননা তাঁর মহা মুজিযা দেখে তার মনে বিশ্বাস জন্মেছিল যে, তিনি সত্য নবী। কাজেই তাঁকে হত্যা করলে নিজের পক্ষে পরিণাম ভয়ঙ্কর হতে পারে। কিন্তু মহাদর্পিত একনায়ককে প্রজাসাধারণের কাছে মুখরক্ষাও তো করতে হবে। তাই ভাব দেখাচ্ছিল যে, তাদের পক্ষ হতে বাধাপ্রাপ্ত হয়েই যেন সে হত্যা করা হতে বিরত থাকছে। এমনও হতে পারে যে, সে এসব কথা বলছিল তামাশাচ্ছলে। -অনুবাদক


২৭


وَقَالَ مُوۡسٰۤی اِنِّیۡ عُذۡتُ بِرَبِّیۡ وَرَبِّکُمۡ مِّنۡ کُلِّ مُتَکَبِّرٍ لَّا یُؤۡمِنُ بِیَوۡمِ الۡحِسَابِ ٪


ওয়া কা-লা মূছাইন্নী ‘উযতুবিরাববী ওয়া রাব্বিকুম মিন কুল্লি মুতাকাব্বিরিল লা-ইউ’মিনু বিইয়াওমিল হিছা-ব।


Mufti Taqi Usmani

And Mūsā said, “I have sought protection of my Lord and your Lord from every arrogant man who does not believe in the Day of Reckoning.”


মুফতী তাকী উসমানী

মূসা বলল, হিসাব দিবসে বিশ্বাস করে না এমন প্রত্যেক অহংকারী থেকে আমি সেই সত্তার আশ্রয় গ্রহণ করেছি, যিনি আমার প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

মূসা বলল, যারা হিসাব দিবসে বিশ্বাস করে না এমন প্রত্যেক অহংকারী থেকে আমি আমার ও তোমাদের পালনকর্তার আশ্রয় নিয়ে নিয়েছি।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা বলল, ‘যারা বিচার দিবসে বিশ্বাস করে না, সেই সকল উদ্ধত ব্যক্তি হতে আমি আমার ও তোমাদের প্রতিপালকের শরণাপন্ন হয়েছি।’


মাওলানা জহুরুল হক

আর মূসা বললেন -- "আমি নিশ্চয়ই আমার প্রভুর ও তোমাদের প্রভুর আশ্রয় চাইছি প্রত্যেক অহংকারী থেকে যে হিসেব- নিকেশের দিনের প্রতি বিশ্বাস করে না।"


২৮


وَقَالَ رَجُلٌ مُّؤۡمِنٌ ٭ۖ مِّنۡ اٰلِ فِرۡعَوۡنَ یَکۡتُمُ اِیۡمَانَہٗۤ اَتَقۡتُلُوۡنَ رَجُلًا اَنۡ یَّقُوۡلَ رَبِّیَ اللّٰہُ وَقَدۡ جَآءَکُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ مِنۡ رَّبِّکُمۡ ؕ وَاِنۡ یَّکُ کَاذِبًا فَعَلَیۡہِ کَذِبُہٗ ۚ وَاِنۡ یَّکُ صَادِقًا یُّصِبۡکُمۡ بَعۡضُ الَّذِیۡ یَعِدُکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِیۡ مَنۡ ہُوَ مُسۡرِفٌ کَذَّابٌ


ওয়া কা-লা রাজুলুম মু’মিনুম মিন আ-লি ফির‘আওনা ইয়াকতুমুঈমা-নাহূ আতাকতুলূনা রাজূলান আইঁ ইয়াকূলা রাব্বিয়াল্লা-হু ওয়া কাদ জাআকুম বিলবাইয়িনা-তি মির রাব্বিকুম ওয়া ইয়ঁইয়াকুকা-যিবান ফা‘আলাইহি কাযিবুহূওয়া ইয়ঁইয়াকুসাদিকাইঁ ইউসিবকুম বা‘দুল্লাযী ইয়া‘ইদুকুম ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াহদী মান হুওয়া মুছরিফুন কাযযাব।


Mufti Taqi Usmani

And said a believing man from the House of Pharaoh who had kept his faith secret, “Would you kill a man because he says - ‘Allah is my Lord’ - while he has come to you with clear signs from your Lord? If he is a liar, his lie will fall back on himself, and if he is truthful, some of that (punishment) of which he warns you will afflict you. Indeed, Allah does not give guidance to anyone who is transgressor, a liar.


মুফতী তাকী উসমানী

ফির‘আউনের খান্দানের এক মুমিন ব্যক্তি, ৯ যে এ পর্যন্ত নিজ ঈমানের কথা গোপন রেখেছিল, বলে উঠল, তোমরা কি একজন লোককে কেবল এ কারণে হত্যা করবে যে, সে বলে, আমার প্রতিপালক আল্লাহ? অথচ সে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমাদের কাছে উজ্জ্বল নিদর্শন নিয়ে এসেছে। সে মিথ্যাবাদী হলে তো তার মিথ্যাবাদীতার জন্য সেই দায়ী হবে। ১০ আর যদি সে সত্যবাদী হয়, তবে সে যে শাস্তি সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ক করছে, তার কিছু তো তোমাদের উপর অবশ্যই আপতিত হবে। আল্লাহ কোন সীমালংঘনকারী, মিথ্যুককে হেদায়াত দান করেন না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ফেরাউন গোত্রের এক মুমিন ব্যক্তি, যে তার ঈমান গোপন রাখত, সে বলল, তোমরা কি একজনকে এজন্যে হত্যা করবে যে, সে বলে, আমার পালনকর্তা আল্লাহ, অথচ সে তোমাদের পালনকর্তার নিকট থেকে স্পষ্ট প্রমাণসহ তোমাদের নিকট আগমন করেছে? যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে তার মিথ্যাবাদিতা তার উপরই চাপবে, আর যদি সে সত্যবাদী হয়, তবে সে যে শাস্তির কথা বলছে, তার কিছু না কিছু তোমাদের উপর পড়বেই। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালংঘনকারী, মিথ্যাবাদীকে পথ প্রদর্শন করেন না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন বংশের এক ব্যক্তি, যে মু’মিন ছিল এবং নিজ ঈমান গোপন রাখত, বলল, ‘তোমরা কি এক ব্যক্তিকে এইজন্যে হত্যা করবে যে, সে বলে, ‘আমার প্রতিপালক আল্লাহ্,’ অথচ সে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ তোমাদের নিকট এসেছে ? সে মিথ্যাবাদী হলে তার মিথ্যাবাদিতার জন্যে সে দায়ী হবে, আর যদি সে সত্যবাদী হয়, সে তোমাদেরকে যে শাস্তির কথা বলে, তার কিছু তো তোমাদের ওপর আপতিত হবেই।’ নিশ্চয় আল্লাহ্ সীমালংঘনকারী ও মিথ্যাবাদীকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।


মাওলানা জহুরুল হক

আর ফিরআউনের লোকদের থেকে একজন বিশ্বাসী ব্যক্তি যে তার ঈমান লুকিয়ে রেখেছিল, বলল -- "তোমরা কি একজন লোককে হত্যা করবে যেহেতু তিনি বলেন, 'আমার প্রভু আল্লাহ্‌’, আর নিঃসন্দেহ তিনি তোমাদের প্রভুর কাছ থে কে স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছেন? আর তিনি যদি মিথ্যাবাদী হতেন তাহলে তিনি তোমাদের যে-সবের ভয় দেখান তার কতকটা তোমাদের উপরে আপতিত হবে। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ তাকে সৎপথে পরিচালিত করেন না যে অমিতাচারী, প্রত্যাখ্যানকারী।


তাফসীরঃ

৯. এই ব্যক্তি কে ছিলেন, কী তার নাম কুরআন মাজীদে তা উল্লেখ করা হয়নি। কোন কোন বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, তিনি ছিলেন ফির‘আউনের চাচাত ভাই এবং তার নাম ছিল শামআন।


১০. অর্থাৎ যে ব্যক্তি মিথ্যা নবুওয়াতের দাবি করে আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতেই তাকে লাঞ্ছিত করেন। কাজেই সে যদি মিথ্যাবাদী হয়, তবে আল্লাহ তাআলা নিজেই তাকে লাঞ্ছিত করবেন। তোমাদের কোন দরকার নেই তাকে হত্যা করার।


২৯


یٰقَوۡمِ لَکُمُ الۡمُلۡکُ الۡیَوۡمَ ظٰہِرِیۡنَ فِی الۡاَرۡضِ ۫ فَمَنۡ یَّنۡصُرُنَا مِنۡۢ بَاۡسِ اللّٰہِ اِنۡ جَآءَنَا ؕ قَالَ فِرۡعَوۡنُ مَاۤ اُرِیۡکُمۡ اِلَّا مَاۤ اَرٰی وَمَاۤ اَہۡدِیۡکُمۡ اِلَّا سَبِیۡلَ الرَّشَادِ


ইয়া-কাওমি লাকুমুল ইয়াওমা জা-হিরীনা ফিল আরদি ফামাইঁ ইয়ানসুরুনা-মিম বা’ছিল্লা-হি ইন জাআনা- কা-লা ফির‘আওনুমাউরীকুম ইল্লা-মাআরাওয়ামাআহদীকুম ইল্লা-ছাবীলার রাশা-দ।


Mufti Taqi Usmani

O my people, the kingdom is yours today, while you are dominant on the land. But, who is going to help us against Allah’s punishment, if it comes upon us?” Pharaoh said, “I do not give you an opinion unless I myself believe it to be correct, and I do not direct you to anything but to the right way.”


মুফতী তাকী উসমানী

হে আমার সম্প্রদায়! আজ তো রাজত্ব তোমাদের, দেশে তোমরাই প্রবল। কিন্তু আমাদের উপর যদি আল্লাহর আযাব এসে পড়ে, তবে এমন কে আছে, যে তাঁর বিপরীতে আমাদেরকে সাহায্য করবে? ফির‘আউন বলল, আমি যা সঠিক মনে করি সেই রায়ই তো তোমাদেরকে দেব। আমি তো তোমাদেরকে কেবল সঠিক পথই দেখিয়ে থাকি।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে আমার কওম, আজ এদেশে তোমাদেরই রাজত্ব, দেশময় তোমরাই বিচরণ করছ; কিন্তু আমাদের আল্লাহর শাস্তি এসে গেলে কে আমাদেরকে সাহায্য করবে? ফেরাউন বলল, আমি যা বুঝি, তোমাদেরকে তাই বোঝাই, আর আমি তোমাদেরকে মঙ্গলের পথই দেখাই।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমার সম্প্রদায়! আজ কর্তৃত্ব তোমাদের, দেশে তোমরাই প্রবল; কিন্তু আমাদের ওপর আল্লাহ্ র শাস্তি এসে পড়িলে কে আমাদেরকে সাহায্য করবে ?’ ফির‘আওন বলল, ‘আমি যা বুঝি, আমি তোমাদেরকে তাই বলছি। আমি তোমাদেরকে কেবল সৎপথই দেখিয়ে থাকি।’


মাওলানা জহুরুল হক

হে আমার স্বজাতি! তোমাদেরই আজ রাজত্ব চলছে, তোমরা দেশে সর্বপ্রধান, কিন্ত কে আমাদের সাহায্য করবে আল্লাহ্‌র দুর্যোগ থেকে যদি তা আমাদের উপরে এসে পড়ে?" ফিরআউন বলল -- "আমি তোমাদের দেখাই না যা আমি না দেখি, আর আমি তোমাদের পরিচালিত করি না সঠিক পথে ছাড়া।


৩০


وَقَالَ الَّذِیۡۤ اٰمَنَ یٰقَوۡمِ اِنِّیۡۤ اَخَافُ عَلَیۡکُمۡ مِّثۡلَ یَوۡمِ الۡاَحۡزَابِ ۙ


ওয়াকালাল্লাযী আ-মানা ইয়াকাওমি ইন্নীআখা-ফু‘আলাইকুম মিছলা ইয়াওমিল আহঝা-ব।


Mufti Taqi Usmani

Said he who had believed, “I fear for you something like a day of the (disbelieving) groups (of the past),


মুফতী তাকী উসমানী

যে ব্যক্তি ঈমান এনেছিল, সে বলল, হে আমার কওম! আমি তোমাদের জন্য আশঙ্কা করি পূর্ববর্তী সম্প্রদায়গুলোর অনুরূপ দিনের (শাস্তির)।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সে মুমিন ব্যক্তি বললঃ হে আমার কওম, আমি তোমাদের জন্যে পূর্ববর্তী সম্প্রদায়সমূহের মতই বিপদসঙ্কুল দিনের আশংকা করি।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মু’মিন ব্যক্তিটি বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্যে পূর্ববর্তী সম্প্রদায়সমূহের শাস্তির দিনের অনুরূপ দুর্দিনের আশংকা করি-


মাওলানা জহুরুল হক

আর যে বিশ্বাস করেছিল সে বলল -- "হে আমার স্বজাতি! আমি নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আশঙ্কা করছি যেমনটা ঘটেছিল সম্মিলিতগোষ্ঠীর দিনে,


৩১


مِثۡلَ دَاۡبِ قَوۡمِ نُوۡحٍ وَّعَادٍ وَّثَمُوۡدَ وَالَّذِیۡنَ مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ ؕ وَمَا اللّٰہُ یُرِیۡدُ ظُلۡمًا لِّلۡعِبَادِ


মিছলা দা’বি কাওমি নূহিওঁ ওয়া ‘আ-দিওঁ ওয়া ছামূদা ওয়াল্লাযীনা মিম বা‘দিহিম ওয়া মাল্লা-হু ইউরীদুজুলমাল লিল‘ইবা-দ।


Mufti Taqi Usmani

like the fate of the people of NūH and ‘Ād and Thamūd and those who were after them - and Allah does not intend to do any injustice to His servants.


মুফতী তাকী উসমানী

(এবং না জানি তোমাদের অবস্থাও সে রকম হয়) যেমন অবস্থা হয়েছিল নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর কওমের, আদ ও ছামুদের এবং তাদের পরবর্তী কালে যারা এসেছিল তাদের। আল্লাহ তো বান্দাদের প্রতি জুলুম করতে চান না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যেমন, কওমে নূহ, আদ, সামুদ ও তাদের পরবর্তীদের অবস্থা হয়েছিল। আল্লাহ বান্দাদের প্রতি কোন যুলুম করার ইচ্ছা করেন না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যেমন ঘটিয়াছিল নূহ্, ‘আদ, সামূদ এবং তাদের পূর্ববর্তীদের ব্যাপারে। আল্লাহ্ তো বান্দাদের প্রতি কোন জুলুম করতে চান না।


মাওলানা জহুরুল হক

"যেমন ধরনে নূহ-এর ও 'আদ-এর ও ছামুদের সম্প্রদায়ের উপরে, আর যারা ছিল তাদের পরবর্তী। আর আল্লাহ্ বান্দাদের প্রতি কোনো জুলুম চান না।


৩২


وَیٰقَوۡمِ اِنِّیۡۤ اَخَافُ عَلَیۡکُمۡ یَوۡمَ التَّنَادِ ۙ


ওয়া ইয়া-কাওমি ইন্নীআখা-ফু‘আলাইকুম ইয়াওমাততানা-দ।


Mufti Taqi Usmani

And O my people, I fear for you a day in which people will call one another,


মুফতী তাকী উসমানী

হে আমার কওম! আমি তোমাদের জন্য ভয় করি আর্তনাদ-দিবসের। ১১


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে আমার কওম, আমি তোমাদের জন্যে প্রচন্ড হাঁক-ডাকের দিনের আশংকা করি।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্যে আশংকা করি আর্তনাদ দিবসের,


মাওলানা জহুরুল হক

"আর হে আমার স্বজাতি! আমি নিঃসন্দেহ তোমাদের জন্য আশঙ্কা করছি পরস্পর ডাকাডাকির দিন সন্বন্ধে --


তাফসীরঃ

১১. অর্থাৎ কিয়ামত-দিবসের, যে দিনটি হবে অত্যন্ত বিভীষিকাময়। মানুষ ভয়ে আর্তনাদ করবে। অপরাধীরা মৃত্যু ও ধ্বংসকে ডাকবে। কারও মতে এর দ্বারা লোহিতসাগরে ফিরআওনী সম্প্রদায়ের ডুবে মরার দিনকে বোঝানো হয়েছে, মৃত্যুর বিভীষিকায় যখন তারা আর্তনাদ করছিল ও পরস্পরে ডাকাডাকি করছিল। -অনুবাদক


৩৩


یَوۡمَ تُوَلُّوۡنَ مُدۡبِرِیۡنَ ۚ مَا لَکُمۡ مِّنَ اللّٰہِ مِنۡ عَاصِمٍ ۚ وَمَنۡ یُّضۡلِلِ اللّٰہُ فَمَا لَہٗ مِنۡ ہَادٍ


ইয়াওমা তুওয়াললূনা মুদবিরীনা মা-লাকুম মিনাল্লা-হি মিন ‘আ-সিমিওঁ ওয়া মাইঁ ইউদলিলিল্লা -হু ফামা-লাহূমিন হা-দ।


Mufti Taqi Usmani

a day when you will turn back on your heels, having no one to save you from Allah - but, whomever Allah lets go astray, for him there is no one to guide.


মুফতী তাকী উসমানী

যে দিন তোমরা পিছন ফিরে পালাতে চাইবে, (কিন্তু) আল্লাহ হতে তোমাদের কোন রক্ষাকারী থাকবে না। আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেন, তার কোন পথ-প্রদর্শক থাকে না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যেদিন তোমরা পেছনে ফিরে পলায়ন করবে; কিন্তু আল্লাহ থেকে তোমাদেরকে রক্ষাকারী কেউ থাকবে না। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যেদিন তোমরা পশ্চাৎ ফিরে পলায়ন করতে চাইবে। আল্লাহ্ র শাস্তি হতে তোমাদেরকে রক্ষা করার কেউ থাকবে না। আল্লাহ্ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্যে কোন পথপ্রদর্শক নেই।’


মাওলানা জহুরুল হক

"সেইদিন তোমরা ফিরবে পলায়নপর হয়ে, আল্লাহ্‌র থেকে তোমাদের জন্য কোনো রক্ষাকারী থাকবে না। আর যাকে আল্লাহ্ পথভ্রষ্ট হতে দেন তার জন্য তবে কোনো পথপ্রদর্শক থাকবে না।


৩৪


وَلَقَدۡ جَآءَکُمۡ یُوۡسُفُ مِنۡ قَبۡلُ بِالۡبَیِّنٰتِ فَمَا زِلۡتُمۡ فِیۡ شَکٍّ مِّمَّا جَآءَکُمۡ بِہٖ ؕ  حَتّٰۤی اِذَا ہَلَکَ قُلۡتُمۡ لَنۡ یَّبۡعَثَ اللّٰہُ مِنۡۢ بَعۡدِہٖ رَسُوۡلًا ؕ  کَذٰلِکَ یُضِلُّ اللّٰہُ مَنۡ ہُوَ مُسۡرِفٌ مُّرۡتَابُۨ ۚۖ


ওয়ালা কাদ জাআকুম ইঊছুফুমিন কাবলুবিলবাইয়িনা-তি ফামা-ঝিলতুম ফী শাক্কিম মিম্মাজাআকুম বিহী হাত্তাইযা-হালাকা কুলতুম লাইঁ ইয়াব‘আছাল্লা-হু মিম বা‘দিহী রাছূলান কাযা-লিকা ইউদিল্লুল্লা-হু মান হুওয়া মুছরিফুম মুরতা-ব।


Mufti Taqi Usmani

And Yūsuf had already come to you earlier with clear signs, but you remained in suspicion about what he brought to you - until when he died, you said, ‘Allah will never send a messenger after him.’ That is how Allah lets go astray anyone who crosses limits and lives in doubt, -


মুফতী তাকী উসমানী

বস্তুত এর আগে ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) তোমাদের কাছে এসেছিলেন উজ্জ্বল নিদর্শনাবলী নিয়ে। ১২ তখনও তোমরা তার নিয়ে আসা বিষয়ে সন্দেহে পতিত ছিলে। তারপর যখন তার ওফাত হয়ে গেল, তখন তোমরা বললে, তারপর আর আল্লাহ কোন রাসূল পাঠাবেন না। ১৩ এভাবেই আল্লাহ প্রত্যেক এমন ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় ফেলে রাখেন, যে হয় সীমালংঘনকারী, সন্দিহান।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ইতিপূর্বে তোমাদের কাছে ইউসুফ সুস্পষ্ট প্রামাণাদিসহ আগমন করেছিল, অতঃপর তোমরা তার আনীত বিষয়ে সন্দেহই পোষণ করতে। অবশেষে যখন সে মারা গেল, তখন তোমরা বলতে শুরু করলে, আল্লাহ ইউসুফের পরে আর কাউকে রসূলরূপে পাঠাবেন না। এমনিভাবে আল্লাহ সীমালংঘনকারী, সংশয়ী ব্যক্তিকে পথভ্রষ্ট করেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পূর্বেও তোমাদের নিকট ইউসুফ এসেছিল স্পষ্ট নিদর্শনসহ; কিন্তু সে তোমাদের নিকট যা নিয়ে এসেছিল তোমরা তাতে বারবার সন্দেহ পোষণ করতে। পরিশেষে যখন ইউসুফের মৃত্যু হল তখন তোমরা বলেছিলে, ‘তার পরে আল্লাহ্্ আর কোন রাসূল প্রেরণ করবেন না।’ এইভাবে আল্লাহ্ বিভ্রান্ত করেন সীমালংঘনকারী ও সংশয়বাদীদেরকে-


মাওলানা জহুরুল হক

"আর নিশ্চয়ই তোমাদের কাছে এর আগে ইউসুফ এসেছিলেন স্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে, কিন্ত তোমরা বরাবর সন্দেহের মধ্যে ছিলে তিনি যা নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছিলেন সে-সন্বন্ধে। কিন্ত যখন তিনি মৃতুবরণ করলেন তখন তোমরা বললে -- 'আল্লাহ্ কখনো তাঁর পরে কোনো রসূল দাঁড় করাবেন না।’ এইভাবেই আল্লাহ্ পথভ্রষ্ট হতে দেন তাকে যে স্বয়ং অমিতাচারী, সন্দেহভাজন --


তাফসীরঃ

১২. মুমিন ব্যক্তি একথা বলেছিলেন ফির‘আউনের কওম অর্থাৎ কিবতীদের লক্ষ্য করে। হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম কিবতীদের মধ্যে হেদায়াতের বাণী প্রচার করেছিলেন, কিন্তু তারা তা গ্রাহ্য করেনি।


১৩. অর্থাৎ প্রথমে তো তোমরা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের নবুওয়াতকেই মাননি। অতঃপর যখন তার ওফাত হয়ে গেল, তখন তাঁর কীর্তিসমূহ স্মরণ করে তোমরা বললে, তিনি যদিও রাসূল ছিলেন, কিন্তু এখন আর তার মত মানুষ জন্ম নেবে না। এভাবে তোমরা ভবিষ্যতের জন্যও নবীর প্রতি ঈমান আনার দরজা নিজেদের জন্য বন্ধ করে ফেললে।


৩৫


الَّذِیۡنَ یُجَادِلُوۡنَ فِیۡۤ اٰیٰتِ اللّٰہِ بِغَیۡرِ سُلۡطٰنٍ اَتٰہُمۡ ؕ کَبُرَ مَقۡتًا عِنۡدَ اللّٰہِ وَعِنۡدَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ؕ کَذٰلِکَ یَطۡبَعُ اللّٰہُ عَلٰی کُلِّ قَلۡبِ مُتَکَبِّرٍ جَبَّارٍ


আল্লাযীনা ইউজা-দিলূনা ফীআ-য়া-তিল্লা-হি বিগাইরি ছুলতা-নিন আতা-হুম কাবুরা মাকতান ‘ইনদাল্লা-হি ওয়া ‘ইনদাল্লাযীনা আ-মানূ কাযা-লিকা ইয়াতবা‘উল্লা-হু ‘আলা-কুল্লি কালবি মুতাকাব্বিরিন জাব্বা-র।


Mufti Taqi Usmani

those who quarrel in Allah’s verses without any authority having reached them. It is terribly hateful with Allah and with those who believe. That is how Allah stamps a seal on the entire heart of an arrogant tyrant.”


মুফতী তাকী উসমানী

যারা তাদের কাছে কোন প্রমাণ আসা ছাড়াই আল্লাহর আয়াতসমূহ সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তাদের এ কাজ আল্লাহর কাছে অতি ঘৃণার্হ এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের কাছেও। এভাবেই আল্লাহ প্রত্যেক অহংকারী, স্বেচ্ছাচারী ব্যক্তির অন্তরে মোহর করে দেন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা নিজেদের কাছে আগত কোন দলীল ছাড়াই আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের একজন আল্লাহ ও মুমিনদের কাছে খুবই অসন্তোষজনক। এমনিভাবে আল্লাহ প্রত্যেক অহংকারী-স্বৈরাচারী ব্যক্তির অন্তরে মোহর এঁটে দেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যারা নিজেদের নিকট কোন দলীল-প্রমাণ না থাকলেও আল্লাহ্ র নিদর্শন সম্পর্কে বিতণ্ডায় লিপ্ত হয়, তাদের এই কর্ম আল্লাহ্ এবং মু’মিনদের দৃষ্টিতে অতিশয় ঘৃণার্হ। এইভাবে আল্লাহ্ প্রত্যেক উদ্ধত ও স্বৈরাচারী ব্যক্তির হৃদয়কে মোহর করে দেন।


মাওলানা জহুরুল হক

যারা তর্ক করে আল্লাহ্‌র বাণী সন্বন্ধে তাদের কাছে কোনো দলিল-প্রমাণের আগমন ব্যতীত। এটি খুবই ঘৃণিত আল্লাহ্‌র কাছে ও যারা ঈমান এনেছে তাদের কাছে। এইভাবেই আল্লাহ্ মোহর মেরে দেন প্রত্যেক গর্বিত স্বৈরাচারীর হৃদয়ের উপরে।


৩৬


وَقَالَ فِرۡعَوۡنُ یٰہَامٰنُ ابۡنِ لِیۡ صَرۡحًا لَّعَلِّیۡۤ اَبۡلُغُ الۡاَسۡبَابَ ۙ


ওয়া কা-লা ফির‘আওনুইয়া-হা-মা-নুবনি লী সারহাল্লা‘আললীআবলুগুল আছবা-ব।


Mufti Taqi Usmani

And Fir‘aun (Pharaoh) said, “O Hāmān, make a tower for me, perhaps I could reach the ways -


মুফতী তাকী উসমানী

এবং ফির‘আউন (তার মন্ত্রীকে) বলল, হে হামান! আমার জন্য একটি উঁচু প্রাসাদ নির্মাণ কর, যাতে আমি সেই সব পথে পৌঁছতে পারি


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ফেরাউন বলল, হে হামান, তুমি আমার জন্যে একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ কর, হয়তো আমি পৌঁছে যেতে পারব।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন বলল, ‘হে হামান! আমার জন্যে তুমি নির্মাণ কর এক সুউচ্চ প্রাসাদ যাতে আমি পাই অবলম্বন-


মাওলানা জহুরুল হক

আর ফিরআউন বলল -- "হে হামান! আমার জন্য একটি মিনার তৈরি কর যাতে আমি পথ পেতে পারি --


৩৭


اَسۡبَابَ السَّمٰوٰتِ فَاَطَّلِعَ اِلٰۤی اِلٰہِ مُوۡسٰی وَاِنِّیۡ لَاَظُنُّہٗ کَاذِبًا ؕ  وَکَذٰلِکَ زُیِّنَ لِفِرۡعَوۡنَ سُوۡٓءُ عَمَلِہٖ وَصُدَّ عَنِ السَّبِیۡلِ ؕ  وَمَا کَیۡدُ فِرۡعَوۡنَ اِلَّا فِیۡ تَبَابٍ ٪


আছবা-বাছছামা-ওয়া-তি ফাআত্তালি‘আ ইলাইলা-হি মূছা-ওয়া ইন্নী লাআজুন্নুহূকাযিবাওঁ ওয়া কাযা-লিকা ঝুইয়িনা লিফির‘আওনা ছূউ ‘আমালিহী ওয়াসুদ্দা ‘আনিছছাবীলি ওয়ামা-কাইদুফির‘আওনা ইল্লা-ফী তাবা-ব।


Mufti Taqi Usmani

the ways to the heavens, and peek towards the God of Mūsā. And indeed I deem him a liar.” That is how his evil deeds were made attractive to Fir‘aun, and (how) he was held back from the way. The evil design of Fir‘aun was (to end) in nothing but ruin.


মুফতী তাকী উসমানী

যা আসমানের পথ। তারপর আমি উঁকি মেরে মূসার মাবুদকে দেখব। ১৪ আমি অবশ্যই তাকে মিথ্যুক মনে করি। ১৫ এভাবেই ফির‘আউনের দুষ্কর্মকে তার দৃষ্টিতে শোভন করে তোলা হয়েছিল এবং তাকে সঠিক পথ থেকে নিবৃত্ত করা হয়েছিল। ১৬ ফির‘আউনের ষড়যন্ত্র তো সম্পূর্ণ নস্যাৎ হয়ে গিয়েছিল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আকাশের পথে, অতঃপর উঁকি মেরে দেখব মূসার আল্লাহকে। বস্তুতঃ আমি তো তাকে মিথ্যাবাদীই মনে করি। এভাবেই ফেরাউনের কাছে সুশোভিত করা হয়েছিল তার মন্দ কর্মকে এবং সোজা পথ থেকে তাকে বিরত রাখা হয়েছিল। ফেরাউনের চক্রান্ত ব্যর্থ হওয়ারই ছিল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘অবলম্বন আসমানে আরোহণের, যেন দেখতে পাই মূসার ইলাহ্কে; তবে আমি তো একে মিথ্যাবাদীই মনে করি।’ এইভাবে ফির‘আওনের নিকট শোভনীয় করা হয়েছিল তার মন্দ কর্মকে এবং তাকে নিবৃত্ত করা হয়েছিল সরল পথ হতে এবং ফির‘আওনের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছিল সম্পূর্ণরূপে।


মাওলানা জহুরুল হক

"মহাকাশমন্ডলীর পথ, যাতে আমি মূসার উপাস্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করতে পারি, কিন্ত আমি নিঃসন্দেহ তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি।" আর এইভাবেই ফিরআউনের জন্য চিত্তাকর্ষক করা হয়েছিল তার কাজের মন্দদিকটা, আর তাকে নিবৃত্ত করা হয়েছিল পথ থেকে। আর ফিরআউনের ফন্দি ধ্বংসের মধ্যে ছাড়া আর কিছু নয়।


তাফসীরঃ

১৪. এটাই প্রকাশ যে, ফির‘আউন একথা বলেছিল ঠাট্টাচ্ছলে। কেননা সে নিজেই নিজেকে খোদা বলে দাবি করত এবং সে হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে বলেছিল, আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে খোদা মানলে তোমাকে বন্দী করব (দেখুন সূরা শুআরা ২৬ : ২৯)।


১৫. অর্থাৎ সে যে নিজেকে রাসূল বলে দাবি করে তাতেও আমি তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি এবং তার এই কথায়ও যে, বিশ্ব-জগতের আরও একজন মাবুদ আছে। আমি তো নিজেকে ছাড়া আর কোন মাবুদ দেখছি না। যেমন সূরা কাসাসে আছে, ‘আমি তো আমার নিজেকে ছাড়া তোমাদের অন্য কোন মাবুদ আছে বলে জানি না (কাসাস ২৮ : ৩৮)। -অনুবাদক


১৬. অর্থাৎ তার মনের খেয়াল-খুশী তাকে সরল পথের অনুসরণ থেকে ফিরিয়ে রেখেছিল। তাকে বুঝিয়েছিল, তুমি যে কাজ করছ তা খুবই ভালো।


৩৮


وَقَالَ الَّذِیۡۤ اٰمَنَ یٰقَوۡمِ اتَّبِعُوۡنِ اَہۡدِکُمۡ سَبِیۡلَ الرَّشَادِ ۚ


ওয়াকালাল্লাযীআ-মানা ইয়া-কাওমিততাবি‘ঊনি আহদিকুম ছাবীলার রাশা-দ।


Mufti Taqi Usmani

And said he who had believed, “O my people, follow me, I will show you the path of guidance.


মুফতী তাকী উসমানী

যে ব্যক্তি ঈমান এনেছিল, সে বলল, হে আমার কওম! আমার কথা মান। আমি তোমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করব।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

মুমিন লোকটি বললঃ হে আমার কওম, তোমরা আমার অনুসরণ কর। আমি তোমাদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করব।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মু’মিন ব্যক্তিটি বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমার অনুসরণ কর, আমি তোমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করব।


মাওলানা জহুরুল হক

আর যে ঈমান এনেছিল সে বলল -- "হে আমার স্বজাতি! তোমরা আমার অনুসরণ করো, আমি তোমাদের চালিয়ে নিয়ে যাব সঠিক পথ ধরে।


৩৯


یٰقَوۡمِ اِنَّمَا ہٰذِہِ الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا مَتَاعٌ ۫ وَّاِنَّ الۡاٰخِرَۃَ ہِیَ دَارُ الۡقَرَارِ


ইয়া-কাওমি ইন্নামা-হা-যিহিল হায়া-তুদ দুনইয়া-মাতা-‘উওঁ ওয়া ইন্নাল আ-খিরাতা হিয়া দা-রুল কারা-র।


Mufti Taqi Usmani

O my people, this life of the world is only a (momentary) benefit, while the Hereafter is, indeed, the place of permanent living.


মুফতী তাকী উসমানী

হে আমার কওম! এই পার্থিব জীবন তো তুচ্ছ ভোগ মাত্র। নিশ্চয়ই আখেরাতই অবস্থিতির প্রকৃত নিবাস।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে আমার কওম, পার্থিব এ জীবন তো কেবল উপভোগের বস্তু, আর পরকাল হচ্ছে স্থায়ী বসবাসের গৃহ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমার সম্প্রদায়! এই পার্থিব জীবন তো অস্থায়ী উপভোগের বস্তু এবং আখিরাতই হচ্ছে চিরস্থায়ী আবাস।


মাওলানা জহুরুল হক

"হে আমার স্বজাতি! নিশ্চয় দুনিয়ার এই জীবনটা সুখভোগ মাত্র, আর অবশ্য পরকাল -- সেটি হচ্ছে চিরস্থায়ী আবাস।


৪০


مَنۡ عَمِلَ سَیِّئَۃً فَلَا یُجۡزٰۤی اِلَّا مِثۡلَہَا ۚ وَمَنۡ عَمِلَ صَالِحًا مِّنۡ ذَکَرٍ اَوۡ اُنۡثٰی وَہُوَ مُؤۡمِنٌ فَاُولٰٓئِکَ یَدۡخُلُوۡنَ الۡجَنَّۃَ یُرۡزَقُوۡنَ فِیۡہَا بِغَیۡرِ حِسَابٍ


মান ‘আমিলা ছাইয়িআতান ফালা-ইউজঝাইল্লা-মিছলাহা- ওয়ামান ‘আমিলা সালিহাম মিন যাকারিন আও উনছা-ওয়া হুওয়া মু’মিনুন ফাউলাইকা ইয়াদখুলূনাল জান্নাতা ইউরঝাকূনা ফীহা-বিগাইরি হিছা-ব।


Mufti Taqi Usmani

The one who does something evil will not be punished but in its equal proportion, but the one who does a righteous deed, be he male or female, while he is a believer, then, such people will enter the Jannah (Paradise) where they will be provided with bounties beyond reckoning.


মুফতী তাকী উসমানী

যে ব্যক্তি কোন মন্দ কাজ করবে, তাকে কেবল তার কর্মের অনুরূপ শাস্তিই দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি সৎকর্ম করবে, তা সে নর হোক বা নারী, যদি সে মুমিন হয়ে থাকে, তবে এরূপ লোকই প্রবেশ করবে জান্নাতে, সেখানে তাদেরকে রিযক দেওয়া হবে অপরিমিত।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যে মন্দ কর্ম করে, সে কেবল তার অনুরূপ প্রতিফল পাবে, আর যে, পুরুষ অথবা নারী মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করে তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তথায় তাদেরকে বে-হিসাব রিযিক দেয়া হবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘কেউ মন্দ কর্ম করলে সে কেবল তার কর্মের অনুরূপ শাস্তি পাবে এবং পুরুষ কিংবা নারীর মধ্যে যারা মু’মিন হয়ে সৎকর্ম করে তারা দাখিল হবে জান্নাতে, সেখানে তাদেরকে দেওয়া হবে অপরিমিত জীবনোপকরণ।


মাওলানা জহুরুল হক

"যে কেউ মন্দ কাজ করে তাকে তবে প্রতিদান দেওয়া হবে না তার সমান-সমান ব্যতীত, আর যে কেউ ভাল কাজ করে -- সে পুরুষ হোক বা নারী, আর সে মুমিন হয় -- তাহলে তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেখানে তাদের বেহিসাব রিযেক দেওয়া হবে।


৪১


وَیٰقَوۡمِ مَا لِیۡۤ اَدۡعُوۡکُمۡ اِلَی النَّجٰوۃِ وَتَدۡعُوۡنَنِیۡۤ اِلَی النَّارِ ؕ


ওয়া ইয়া-কাওমি মা-লীআদ‘ঊকুম ইলান নাজা-তি ওয়া তাদ‘ঊনানীইলান্না-র।


Mufti Taqi Usmani

And O my people, what is wrong with me that I call you to salvation and you call me to the Fire?


মুফতী তাকী উসমানী

হে আমার সম্প্রদায়! কী ব্যাপার, আমি তোমাদেরকে মুক্তির দিকে ডাকছি আর তোমরা আমাকে ডাকছ আগুনের দিকে?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে আমার কওম, ব্যাপার কি, আমি তোমাদেরকে দাওয়াত দেই মুক্তির দিকে, আর তোমরা আমাকে দাওয়াত দাও জাহান্নামের দিকে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমার সম্প্রদায়! কী আশ্চর্য! আমি তোমাদেরকে আহ্বান করছি মুক্তির দিকে, আর তোমরা আমাকে ডাকছি অগ্নির দিকে!


মাওলানা জহুরুল হক

"আর হে আমার স্বজাতি! আমার কী হয়েছে যে আমি তোমাদের আহ্বান করছি মুক্তির দিকে, অথচ তোমরা আমাকে ডাকছো আগুনের দিকে?


৪২


تَدۡعُوۡنَنِیۡ لِاَکۡفُرَ بِاللّٰہِ وَاُشۡرِکَ بِہٖ مَا لَیۡسَ لِیۡ بِہٖ عِلۡمٌ ۫ وَّاَنَا اَدۡعُوۡکُمۡ اِلَی الۡعَزِیۡزِ الۡغَفَّارِ


তাদ‘ঊনানী লিআকফুরা বিল্লা-হি ওয়া উশরিকা বিহী মা-লাইছা লী বিহী ‘ইলমুওঁ ওয়াআনা আদ‘ঊকুম ইলাল ‘আঝীঝিল গাফফা-র।


Mufti Taqi Usmani

You invite me to reject my belief in Allah and ascribe to Him partners about whom I have no knowledge, while I invite you to (Him who is) the Mighty, the Most-Forgiving.


মুফতী তাকী উসমানী

তোমরা আমাকে দাওয়াত দিচ্ছ যেন আমি আল্লাহকে অস্বীকার করি এবং তাঁর সঙ্গে এমন বস্তুকে শরীক করি, যাদের সম্পর্কে আমার কোন জ্ঞান নেই। অপর দিকে আমি তোমাদেরকে সেই সত্তার দিকে ডাকছি যিনি অতি ক্ষমতাবান, পরম ক্ষমাশীল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমরা আমাকে দাওয়াত দাও, যাতে আমি আল্লাহকে অস্বীকার করি এবং তাঁর সাথে শরীক করি এমন বস্তুকে, যার কোন প্রমাণ আমার কাছে নেই। আমি তোমাদেরকে দাওয়াত দেই পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল আল্লাহর দিকে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমরা আমাকে বলছো আল্লাহ্কে অস্বীকার করতে এবং তাঁর সমকক্ষ দাঁড় করাতে, যার সম্পর্কে আমার কোন জ্ঞান নেই; পক্ষান্তরে আমি তোমাদেরকে আহ্বান করছি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল আল্লাহ্ র দিকে।


মাওলানা জহুরুল হক

"তোমরা আমাকে আহ্বান করছ যেন আমি আল্লাহ্‌কে অবিশ্বাস করি ও তাঁর সঙ্গে শরীক করি তাকে যার সন্বন্ধে আমার কোনো জ্ঞান নেই, পক্ষান্তরে আমি তোমাদের ডাকছি মহাশক্তিশালী, পরিত্রাণকারীর দিকে।


৪৩


لَا جَرَمَ اَنَّمَا تَدۡعُوۡنَنِیۡۤ اِلَیۡہِ لَیۡسَ لَہٗ دَعۡوَۃٌ فِی الدُّنۡیَا وَلَا فِی الۡاٰخِرَۃِ وَاَنَّ مَرَدَّنَاۤ اِلَی اللّٰہِ وَاَنَّ الۡمُسۡرِفِیۡنَ ہُمۡ اَصۡحٰبُ النَّارِ


লা-জারামা আন্নামা-তাদ‘ঊনানীইলাইহি লাইছা লাহূদা‘ওয়াতুনফিদ্দুনইয়া-ওয়ালা-ফিল আ-খিরাতি ওয়া আন্না মারাদ্দানাইলাল্লা-হি ওয়া আন্নাল মুসরিফীনা হুম আসহা-বুন্না-র।


Mufti Taqi Usmani

It is obvious that those (gods) to whom you are inviting me are not worth calling, neither in this world nor in the world to come, and that we have to return back to Allah, and that the transgressors are indeed the people of the Fire.


মুফতী তাকী উসমানী

সত্য তো এই যে, তোমরা যার দিকে আমাকে ডাকছ, তা কোন ডাকের উপযুক্তই নয়, না দুনিয়ায় এবং না আখেরাতে। ১৭ প্রকৃতপক্ষে আমাদের সকলকে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে আর যারা সীমালংঘনকারী, তারা হবে অগ্নিবাসী।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এতে সন্দেহ নেই যে, তোমরা আমাকে যার দিকে দাওয়াত দাও, হইকালে ও পরকালে তার কোন দাওয়াত নেই! আমাদের প্রত্যাবর্তন আল্লাহর দিকে এবং সীমা লংঘকারীরাই জাহান্নামী।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিঃসন্দেহে তোমরা আমাকে আহ্বান করছো এমন একজনের দিকে যে দুনিয়া ও আখিরাতে কোথাও আহ্বানযোগ্য নয়। বস্তুত আমাদের প্রত্যাবর্তন তো আল্লাহ্ র নিকট এবং সীমালংঘনকারীরাই জাহান্নামের অধিবাসী।


মাওলানা জহুরুল হক

"কোনো সন্দেহ নেই যে তোমরা আমাকে যার প্রতি আহ্বান করছ তার কোনো দাবি এই দুনিয়াতে নেই এবং পরকালেও নেই, আর আমাদের প্রত্যাবর্তন তো আল্লাহ্‌রই কাছে, আর নিশ্চয় সীমালংঘনকারীরা -- তারাই আগুনের বাসিন্দা।


তাফসীরঃ

১৭. এর দু’টো ব্যাখ্যা হতে পারে (ক) তোমরা যে প্রতিমাদের পূজা কর তারা যে তাদের পূজা করার জন্য কাউকে ডাকবে সে ক্ষমতাই তাদের নেই। (খ) তোমরা যাদের পূজা করার দাওয়াত আমাকে দিচ্ছ, তারা এ দাওয়াতের উপযুক্ত নয় আদৌ।


৪৪


فَسَتَذۡکُرُوۡنَ مَاۤ اَقُوۡلُ لَکُمۡ ؕ وَاُفَوِّضُ اَمۡرِیۡۤ اِلَی اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ بَصِیۡرٌۢ بِالۡعِبَادِ


ফাছাতাযকুরূনা মাআকূলুলাকুম ওয়া উফাওবিদুআমরীইলাল্লা-হি ইন্নাল্লাহা বাসীরুম বিল‘ইবা-দ।


Mufti Taqi Usmani

Soon you will remember what I am saying to you. And I entrust my matter with Allah. Surely, Allah has all (His) servants in sight.”


মুফতী তাকী উসমানী

আমি তোমাদেরকে যা বলছি তোমরা অচিরেই তা স্মরণ করবে। আমি আমার বিষয় আল্লাহর উপর ন্যস্ত করছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের সম্যক দ্রষ্টা।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি তোমাদেরকে যা বলছি, তোমরা একদিন তা স্মরণ করবে। আমি আমার ব্যাপার আল্লাহর কাছে সমর্পণ করছি। নিশ্চয় বান্দারা আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তোমাদেরকে যা বলিতেছি, তোমরা তা অচিরেই স্মরণ করবে এবং আমি আমার ব্যাপার আল্লাহ্তে অর্পণ করছি; আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের প্রতি সবিশেষ দৃষ্টি রাখেন।’


মাওলানা জহুরুল হক

সেজন্য অচিরেই তোমরা স্মরণ করবে আমি তোমাদের যা বলছি, আর আমার কাজের ভার আল্লাহ্‌তে অর্পণ করছি। নিশ্চয় আল্লাহ্ বান্দাদের সম্পর্কে সর্বদ্রষ্টা।


৪৫


فَوَقٰىہُ اللّٰہُ سَیِّاٰتِ مَا مَکَرُوۡا وَحَاقَ بِاٰلِ فِرۡعَوۡنَ سُوۡٓءُ الۡعَذَابِ ۚ


ফাওয়াকা-হুল্লা-হুছাইয়িআ-তি মা-মাকারূওয়া হা-কাবিআ-লি ফির‘আওনা ছূ উল ‘আযা-ব।


Mufti Taqi Usmani

Then Allah saved him from the evils of what they designed, and the House of Pharaoh was encircled by an evil punishment.


মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর তারা যেসব নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্র করেছিল, আল্লাহ তাকে (সেই মুমিন ব্যক্তিকে) তা হতে রক্ষা করলেন আর ফির‘আউনের সম্প্রদায়কে পরিবেষ্টন করল নিকৃষ্টতম শাস্তি।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর আল্লাহ তাকে তাদের চক্রান্তের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করলেন এবং ফেরাউন গোত্রকে শোচনীয় আযাব গ্রাস করল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরপর আল্লাহ্ তাকে এদের ষড়যন্ত্রের অনিষ্ট হতে রক্ষা করলেন এবং কঠিন শাস্তি পরিবেষ্টন করল ফির‘আওন সম্প্রদায়কে।


মাওলানা জহুরুল হক

তারপর আল্লাহ্ তাঁকে তারা যা ফন্দি এটেছিলঁ তার অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেছিলেন, আর ফিরআউনের লোকদের জন্য এক ভীষণ শাস্তি ঘেরাও করেছিল, --


৪৬


اَلنَّارُ یُعۡرَضُوۡنَ عَلَیۡہَا غُدُوًّا وَّعَشِیًّا ۚ وَیَوۡمَ تَقُوۡمُ السَّاعَۃُ ۟ اَدۡخِلُوۡۤا اٰلَ فِرۡعَوۡنَ اَشَدَّ الۡعَذَابِ


আন্না-রু ইউ‘রাদূ না ‘আলাইহা-গুদুওওয়াওঁ ওয়া ‘আশিইইয়াওঁ ওয়া ইয়াওমা তাকূমুছ ছা‘আতু আদখিলূআ-লা ফির‘আওনা আশাদ্দাল ‘আযা-ব।


Mufti Taqi Usmani

It is the Fire before which they are presented morning and evening. And on the day when the Hour (of final judgment) will take place, (the order will be released,): “Admit the family of Pharaoh into the most severe punishment.”


মুফতী তাকী উসমানী

আগুন, যার সামনে তাদেরকে প্রতি সকাল-সন্ধ্যায় পেশ করা হয়। ১৮ আর যে দিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সে দিন (আদেশ করা হবে) ফির‘আউনের সম্প্রদায়কে কঠিনতম শাস্তিতে প্রবেশ করাও।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সকালে ও সন্ধ্যায় তাদেরকে আগুনের সামনে পেশ করা হয় এবং যেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন আদেশ করা হবে, ফেরাউন গোত্রকে কঠিনতর আযাবে দাখিল কর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এদেরকে উপস্থিত করা হয় আগুনের সামনে সকাল ও সন্ধ্যায় এবং যেদিন কিয়ামত ঘটবে সেদিন বলা হবে, ‘ফিরআওন-সম্প্রদায়কে নিক্ষেপ কর কঠিন শাস্তিতে।’


মাওলানা জহুরুল হক

আগুন -- তাদের এর কাছে আনা হবে সকালে ও সন্ধ্যায়, আর যেদিন ঘড়িঘন্টা এসে দাঁড়াবে -- "ফিরআউনের লোকদের প্রবেশ করাও কঠোরতম শাস্তিতে।"


তাফসীরঃ

১৮. মৃত্যুর পর কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত মানুষের রূহ যে জগতে থাকে, তাকে ‘বরযখের জগত’ বলে। এ আয়াতে জানানো হয়েছে যে, ফির‘আউন ও তার অনুসারীদেরকে বরযখের জগতে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় জাহান্নামের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়, যাতে তারা জানতে পারে তাদের ঠিকানা কোথায়।


৪৭


وَاِذۡ یَتَحَآجُّوۡنَ فِی النَّارِ فَیَقُوۡلُ الضُّعَفٰٓؤُا لِلَّذِیۡنَ اسۡتَکۡبَرُوۡۤا اِنَّا کُنَّا لَکُمۡ تَبَعًا فَہَلۡ اَنۡتُمۡ مُّغۡنُوۡنَ عَنَّا نَصِیۡبًا مِّنَ النَّارِ


ওয়া ইযইয়াতাহাজ্জূনা ফিন্না-রি ফাইয়াকূলুদদু ‘আফাউ লিল্লাযীনাছতাকবারূইন্নাকুন্না-লাকুম তাবা‘আন ফাহাল আনতুম মুগনূনা ‘আন্না-নাসীবাম মিনান্না-র।


Mufti Taqi Usmani

And (worth remembering is the time) when they (the infidels) will argue with each other in the Fire. So, the weak will say to those who were arrogant, “Surely, we used to be your followers, would you, then, stand for us in (suffering at least a) part of the (punishment of) Fire?”


মুফতী তাকী উসমানী

এবং সেই সময়কে স্মরণ রাখ, যখন তারা জাহান্নামে একে অন্যের সঙ্গে ঝগড়া করবে। সুতরাং (দুনিয়ার) দুর্বলগণ আত্মগর্বীদেরকে বলবে, আমরা তো তোমাদের অনুগামী ছিলাম। তা তোমরা কি আমাদের থেকে আগুনের কিছু অংশ প্রতিহত করবে?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখন তারা জাহান্নামে পরস্পর বিতর্ক করবে, অতঃপর দূর্বলরা অহংকারীদেরকে বলবে, আমরা তোমাদের অনুসারী ছিলাম। তোমরা এখন জাহান্নামের আগুনের কিছু অংশ আমাদের থেকে নিবৃত করবে কি?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন এরা জাহান্নামে পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হবে তখন দুর্বলেরা দাম্ভিকদেরকে বলবে, ‘আমরা তো তোমাদেরই অনুসারী ছিলাম, এখন কি তোমরা আমাদের হতে জাহান্নামের আগুনের কিয়দংশ নিবারণ করবে ?’


মাওলানা জহুরুল হক

আর দেখো! তারা আগুনের মধ্যে পরস্পর তর্কাতর্কি করবে, তখন দুর্বলেরা বলবে তাদের যারা হামবড়াই করত -- "অবশ্য আমরা তো তোমাদেরই তাঁবেদার ছিলাম, সুতরাং তোমরা কি আমাদের থেকে আগুনের কিছুটা অংশ সরিয়ে নেবে?"


৪৮


قَالَ الَّذِیۡنَ اسۡتَکۡبَرُوۡۤا اِنَّا کُلٌّ فِیۡہَاۤ ۙ اِنَّ اللّٰہَ قَدۡ حَکَمَ بَیۡنَ الۡعِبَادِ


কা-লাল্লাযী নাছতাকরারূইন্না-কুল্লুন ফীহা ইন্নাল্লা-হা কাদ হাকামা বাইনাল ‘ইবা-দ।


Mufti Taqi Usmani

Those who were arrogant will say, “We all are in it. Allah has already passed the judgment between (His) servants.


মুফতী তাকী উসমানী

যারা আত্মগর্বী ছিল তারা বলবে, আমরা সকলেই জাহান্নামে আছি। আল্লাহ বান্দাদের মধ্যে ফায়সালা করে ফেলেছেন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অহংকারীরা বলবে, আমরা সবাই তো জাহান্নামে আছি। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ফয়সালা করে দিয়েছেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

দাম্ভিকেরা বলবে, ‘আমরা সকলেই তো জাহান্নামে আছি, নিশ্চয় আল্লাহ্ বান্দাদের বিচার তো করে ফেলেছেন।’


মাওলানা জহুরুল হক

যারা হামবড়াই করত তারা বলবে -- "আমরা তো সব-ক’জনই এর মধ্যে রয়েছি। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ বিচার-মীমাংসা করে ফেলেছেন বান্দাদের মধ্যে।"


৪৯


وَقَالَ الَّذِیۡنَ فِی النَّارِ لِخَزَنَۃِ جَہَنَّمَ ادۡعُوۡا رَبَّکُمۡ یُخَفِّفۡ عَنَّا یَوۡمًا مِّنَ الۡعَذَابِ


ওয়া কা-লাল্লাযীনা ফিন্না-রি লিখাঝানাতি জাহান্নামাদ‘ঊ রাব্বাকুম ইউখাফফিফ ‘আন্নাইয়াওমাম মিনাল ‘আযা-ব।


Mufti Taqi Usmani

And those in the Fire will say to the keepers of Jahannam (Hell), “Pray to your Lord to lighten the punishment for us some day.”


মুফতী তাকী উসমানী

যারা আগুনের ভেতর থাকবে, তারা জাহান্নামের প্রহরীদেরকে বলবে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে দুআ কর, তিনি যেন আমাদের এক দিনের শাস্তি লাঘব করেন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা জাহান্নামে আছে, তারা জাহান্নামের রক্ষীদেরকে বলবে, তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে বল, তিনি যেন আমাদের থেকে একদিনের আযাব লাঘব করে দেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অগ্নিবাসীরা জাহান্নামের প্রহরীদেরকে বলবে, ‘তোমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা কর তিনি যেন আমাদের হতে লাঘব করেন এক দিনের শাস্তি।’


মাওলানা জহুরুল হক

আর যারা আগুনের মধ্যে রয়েছে তারা জাহান্নামের রক্ষীদের বলবে -- "তোমাদের প্রভুকে ডেকে বল তিনি যেন একটা দিন আমাদের থেকে শাস্তির কিছুটা লাঘব করে দেন।"


৫০


قَالُوۡۤا اَوَلَمۡ تَکُ تَاۡتِیۡکُمۡ رُسُلُکُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ ؕ  قَالُوۡا بَلٰی ؕ  قَالُوۡا فَادۡعُوۡا ۚ  وَمَا دُعٰٓؤُا الۡکٰفِرِیۡنَ اِلَّا فِیۡ ضَلٰلٍ ٪


কা-লূআওয়ালাম তাকুতা’তীকুম রুছুলুকুম বিলবাইয়িনা-তি কা-লূবালা- কালূফাদ‘ঊ ওয়ামা-দু‘আউল কা-ফিরীনা ইল্লা-ফী দালা-ল।


Mufti Taqi Usmani

They will say, “Had your messengers not been coming to you with open signs?” They will say, “Of course, (they had come).” They (the keepers) will say, “Then, keep praying” - but praying of disbelievers (in the Hereafter) is only in vain.


মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলবে, তোমাদের কাছে কি তোমাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আসেনি? জাহান্নামীগণ বলবে, অবশ্যই (তারা একের পর এক এসেছিল)। তারা বলবে, তাহলে তোমরাই দুআ কর। আর কাফেরদের দুআ তো নিস্ফলই হয়ে যায়।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

রক্ষীরা বলবে, তোমাদের কাছে কি সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তোমাদের রসূল আসেননি? তারা বলবে হঁ্যা। রক্ষীরা বলবে, তবে তোমরাই দোয়া কর। বস্তুতঃ কাফেরদের দোয়া নিস্ফলই হয়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারা বলবে, ‘তোমাদের নিকট কি স্পষ্ট নিদর্শনসহ তোমাদের রাসূলগণ আসে নাই ?’ জাহান্নামীরা বলবে, ‘অবশ্যই এসেছিল।’ প্রহরীরা বলবে, ‘তবে তোমরাই প্রার্থনা কর; আর কাফিরদের প্রার্থনা ব্যর্থই হয়।


মাওলানা জহুরুল হক

তারা বলবে, "এমনটি কি তোমাদের ক্ষেত্রে নয় যে তোমাদের রসূলগণ তোমাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে এসেছিলেন?" তারা বলবে, "হ্যাঁ।" তারা বলবে -- "তাহলে ডাকতে থাকো, বস্তুতঃ অবিশ্বাসীদের আর্তনাদ ব্যর্থতায় বৈ তো নয়।"


৫১


اِنَّا لَنَنۡصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَیَوۡمَ یَقُوۡمُ الۡاَشۡہَادُ ۙ


ইন্না- লানানসুরু রুছুলানা- ওয়াল্লাযীনা আ-মানূফিল হায়া-তিদ্দুনইয়া-ওয়া ইয়াওমা ইয়াকূ মুল আশহা-দ ।


Mufti Taqi Usmani

Surely, We do help Our messengers and the believers, in the worldly life, as well as (we will help them) on the day in which witnesses will stand (to give their testimony)-


মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলগণকে এবং মুমিনদেরকে পার্থিব জীবনেও সাহায্য করি এবং সেই দিনও করব, যে দিন সাক্ষীগণ দাঁড়িয়ে যাবে ১৯


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি সাহায্য করব রসূলগণকে ও মুমিনগণকে পার্থিব জীবনে ও সাক্ষীদের দন্ডায়মান হওয়ার দিবসে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদেরকে ও মু’মিনদেরকে সাহায্য করব পার্থিব জীবনে এবং যেই দিন সাক্ষিগণ দণ্ডায়মান হবে।


মাওলানা জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ আমরা অবশ্যই আমাদের রসূলগণকে ও যারা ঈমান এনেছে তাদের সাহায্য করে থাকি এই দুনিয়ার জীবনে আর সেইদিন যখন সাক্ষীরা দাঁড়াবে, --


তাফসীরঃ

১৯. অর্থাৎ মানুষের কর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্যদানের জন্য যখন সাক্ষীদের ডাকা হবে তখন সাক্ষীগণ দাঁড়িয়ে যাবে। এ সাক্ষী ফেরেশতাও হতে পারেন এবং নবী-রাসূল ও অন্যান্যরাও হতে পারেন।


৫২


یَوۡمَ لَا یَنۡفَعُ الظّٰلِمِیۡنَ مَعۡذِرَتُہُمۡ وَلَہُمُ اللَّعۡنَۃُ وَلَہُمۡ سُوۡٓءُ الدَّارِ


ইয়াওমা লা-ইয়ানফা‘উজ্জা-লিমীনা মা‘যিরাতুহুম ওয়ালাহুমুল লা‘নাতুওয়ালাহুম ছূ উদ্দা র।


Mufti Taqi Usmani

a day when apology of the unjust will bring them no benefit, and on them shall be the curse, and for them will be the evil abode.


মুফতী তাকী উসমানী

যে দিন জালেমদের ওজর-আপত্তি কোন কাজে আসবে না। তাদের জন্য রয়েছে লানত এবং তাদের জন্য আছে নিকৃষ্ট নিবাস।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সে দিন যালেমদের ওযর-আপত্তি কোন উপকারে আসবে না, তাদের জন্যে থাকবে অভিশাপ এবং তাদের জন্যে থাকবে মন্দ গৃহ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যেদিন জালিমদের ‘ওযর-আপত্তি কোন কাজে আসবে না, আর এদের জন্যে রয়েছে লা‘নত এবং এদের জন্যে রয়েছে নিকৃষ্ট আবাস।


মাওলানা জহুরুল হক

সেদিন অন্যায়াচারীদের কোনো উপকারে লাগবে না তাদের অজুহাতগুলো, আর তাদের জন্য থাকবে ধিক্কার, আর তাদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্ট আবাস।


৫৩


وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا مُوۡسَی الۡہُدٰی وَاَوۡرَثۡنَا بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ الۡکِتٰبَ ۙ


ওয়া লাকাদ আ-তাইনা-মূছাল হুদা-ওয়া আওরাছনা-বানীইছরাঈলাল কিতা-ব।


Mufti Taqi Usmani

We gave Guidance to Mūsā, while We made the children of Isrā’īl inherit the Book -


মুফতী তাকী উসমানী

আমি মূসাকে দান করেছিলাম পথনির্দেশ আর বনী ইসরাঈলকে করেছিলাম সেই কিতাবের ওয়ারিশ


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নিশ্চয় আমি মূসাকে হেদায়েত দান করেছিলাম এবং বনী ইসরাঈলকে কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছিলাম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি অবশ্যই মূসাকে দান করেছিলাম পথনির্দেশ এবং বনী ইসরাঈলকে উত্তরাধিকারী করেছিলাম সেই কিতাবের,


মাওলানা জহুরুল হক

আর আমরা ইতিপূর্বে মূসাকে পথনির্দেশ দিয়েছিলাম, এবং ইসরাইলের বংশধরদের উত্তরাধিকার করতে দিয়েছিলাম ধর্মগ্রন্থ --


৫৪


ہُدًی وَّذِکۡرٰی لِاُولِی الۡاَلۡبَابِ


হুদাওঁ ওয়া যিকরা-লিউলিল আলবা-ব।


Mufti Taqi Usmani

as a guide and advice for people of understanding.


মুফতী তাকী উসমানী

যা বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্য ছিল হেদায়াত ও নসীহত।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বুদ্ধিমানদের জন্যে উপদেশ ও হেদায়েত স্বরূপ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পথনির্দেশ ও উপদেশস্বরূপ বোধশক্তিসম্পন্ন লোকদের জন্যে।


মাওলানা জহুরুল হক

পথনির্দেশ ও স্মরণীয় বার্তা বুদ্ধিবিবেচনা থাকা লোকদের জন্য।


৫৫


فَاصۡبِرۡ اِنَّ وَعۡدَ اللّٰہِ حَقٌّ وَّاسۡتَغۡفِرۡ لِذَنۡۢبِکَ وَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّکَ بِالۡعَشِیِّ وَالۡاِبۡکَارِ


ফাসবির ইন্না ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুওঁ ওয়াছতাগফির লিযামবিকা ওয়া ছাব্বিহ বিহামদি রাব্বিকা বিল‘আশিইয়ি ওয়াল ইবকা-র।


Mufti Taqi Usmani

So, be patient - surely the promise of Allah is true - and seek forgiveness for your sins, and proclaim the purity and praise of your Lord in the afternoon and at dawn.


মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং (হে রাসূল!) সবর অবলম্বন কর। নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং নিজ ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর ২০ এবং সকাল ও সন্ধ্যায় নিজ প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে তাসবীহ পাঠ করতে থাক।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতএব, আপনি সবর করুন নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আপনি আপনার গোনাহের জন্যে ক্ষমা প্রর্থনা করুন এবং সকাল-সন্ধ্যায় আপনার পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করুন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর ; নিশ্চয়ই আল্লাহ্ র প্রতিশ্রুতি সত্য, তুমি তোমার ত্রুটির জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর সকাল ও সন্ধ্যায়।


মাওলানা জহুরুল হক

সুতরাং তুমি অধ্যবসায় চালিয়ে যাও, নিঃসন্দেহ আল্লাহ্‌র ওয়াদা ধ্রুবসত্য। আর তুমি তোমার দোষত্রুটির জন্য পরিত্রাণ খুঁজো এবং তোমার প্রভুর প্রশংসার সাথে রাত্রি ও প্রভাতে জপতপ করো।


তাফসীরঃ

২০. আল্লাহ তাআলা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গুনাহ থেকে পবিত্র বানিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও তিনি অত্যধিক ইস্তিগফার করতেন। কুরআন মাজীদেও তাঁকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে ইস্তিগফার করতে বলা হয়েছে। উদ্দেশ্য উম্মতকে শিক্ষা দেওয়া যে, যখন মাছুম হওয়া সত্ত্বেও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের এমন সব কাজের জন্যও ক্ষমা প্রার্থনা করতেন, যা প্রকৃতপক্ষে গুনাহ নয়, বরং তিনি নিজ সমুচ্চ মর্যাদার কারণে তাকে গুনাহ বা অন্যায় মনে করতেন, তখন যারা মাছুম নয়, তাদের তো অনেক বেশি ইস্তিগফার করা উচিত।


৫৬


اِنَّ الَّذِیۡنَ یُجَادِلُوۡنَ فِیۡۤ اٰیٰتِ اللّٰہِ بِغَیۡرِ سُلۡطٰنٍ اَتٰہُمۡ ۙ اِنۡ فِیۡ صُدُوۡرِہِمۡ اِلَّا کِبۡرٌ مَّا ہُمۡ بِبَالِغِیۡہِ ۚ فَاسۡتَعِذۡ بِاللّٰہِ ؕ اِنَّہٗ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡبَصِیۡرُ


ইন্নাল্লাযীনা ইউজা-দিলূনা ফীআ-য়া-তিল্লা-হি বিগাইরি ছুলতা-নিন আতা-হুম ইন ফী সূদূ রিহিম ইল্লা-কিবরুম মা-হুম ব্বিা-লিগীহি ফাছতা‘ইযবিল্লা-হি ইন্নাহূহুওয়াছ ছামী‘উল বাসীর।


Mufti Taqi Usmani

Surely, those who quarrel in Allah’s verses without any authority having reached them, there is nothing in their hearts but pride of greatness that they are not (able) to reach. So, seek refuge with Allah. Surely, He is the All-Hearing, the All-Seeing.


মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক সৃষ্টি করে, অথচ তাদের কাছে (তাদের দাবির সপক্ষে) কোন প্রমাণ আসেনি, তাদের অন্তরে অহমিকা ছাড়া আর কিছুই নেই, যাতে তারা কখনও সফল হওয়ার নয়। ২১ সুতরাং তুমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। নিশ্চয় তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নিশ্চয় যারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে তাদের কাছে আগত কোন দলীল ব্যতিরেকে, তাদের অন্তরে আছে কেবল আত্নম্ভরিতা, যা অর্জনে তারা সফল হবে না। অতএব, আপনি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি সবকিছু শুনেন, সবকিছু দেখেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যারা নিজেদের নিকট কোন দলীল না থাকলেও আল্লাহ্ র নিদর্শন সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়, এদের অন্তরে আছে কেবল অহংকার, যারা এই ব্যাপারে সফলকাম হবে না। অতএব আল্লাহ্ র শরণাপন্ন হও; তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।


মাওলানা জহুরুল হক

নিঃসন্দহ যারা আল্লাহ্‌র বাণীসমূহ নিয়ে তর্কবিতর্ক করে তাদের কাছে কোনো দলিল-প্রমাণের আগমন ব্যতিরেকে, তাদের অন্তরে রয়েছে হামবড়াই বৈ তো নয়, যা তারা কখনো লাভ করতে পারবে না। সুতরাং আল্লাহ্‌র কাছে আশ্রয় চাও। নিঃসন্দেহ তিনি স্বয়ং সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।


তাফসীরঃ

২১. অর্থাৎ নিজের সম্পর্কে তাদের ধারণা তারা অনেক উচু মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। তাদের এ ধারণা সম্পূর্ণ গলত। বর্তমানেও যেমন তারা বিশেষ কোন মর্যাদার অধিকারী নয়, তেমনি ভবিষ্যতেও তারা কখনও বিশেষ মর্যাদা লাভে সফল হবে না।


৫৭


لَخَلۡقُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ اَکۡبَرُ مِنۡ خَلۡقِ النَّاسِ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَعۡلَمُوۡنَ


লাখালকুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি আকবারু মিন খালকিন্না-ছি ওয়ালা-কিন্না আকছারান্না-ছি লা-ইয়া‘লামূন।


Mufti Taqi Usmani

Certainly, the creation of the heavens and the earth is greater than the creation of human beings, but most human beings do not know.


মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই মানব সৃষ্টি অপেক্ষা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি বেশি কঠিন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ (এতটুকু কথাও) বোঝে না। ২২


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

মানুষের সৃষ্টি অপেক্ষা নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের সৃষ্টি কঠিনতর। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মানব সৃজন অপেক্ষা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি তো কঠিনতর, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটা জানে না।’


মাওলানা জহুরুল হক

মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি নিশ্চয়ই মানুষের সৃষ্টির চেয়ে কঠিনতর, কিন্ত অধিকাংশ লোকেই জানে না।


তাফসীরঃ

২২. আরবের মুশরিকগণ আল্লাহ সম্পর্কে এটা স্বীকার করত যে, তিনিই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা। আল্লাহ তাআলা বলছেন, এতটুকু কথাও তাদের বুঝে আসছে না, যেই মহান সত্তা এমন বিশাল সব বস্তুকে নাস্তি থেকে অস্তিতে আনয়ন করতে পারেন, তার পক্ষে মানুষকে পুনরায় অস্তিতে আনা কঠিন হবে কেন? এই সহজ কথাটা বোঝে না বলেই তারা আখেরাত ও পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে।


৫৮


وَمَا یَسۡتَوِی الۡاَعۡمٰی وَالۡبَصِیۡرُ ۬ۙ وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَلَا الۡمُسِیۡٓءُ ؕ قَلِیۡلًا مَّا تَتَذَکَّرُوۡنَ


ওয়ামা-ইয়াছতাবিল আ‘মা-ওয়াল বাসীরু ওয়াল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসালিহা-তি ওয়ালাল মুছীউ কালীলাম মা-তাতাযাক্কারূন।


Mufti Taqi Usmani

The blind one and the sighted one are not equal, and those who believed and did good deeds and the evil ones are not (equal) either. Little you heed to the advice!


মুফতী তাকী উসমানী

অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয় এবং তারাও না, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে এবং যারা অসৎকর্মশীল। (কিন্তু) তোমরা খুব কমই অনুধাবন কর।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয়, আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং কুকর্মী। তোমরা অল্পই অনুধাবন করে থাক।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সমান নয় অন্ধ ও চক্ষুষ্মান এবং যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং যারা দুষ্কৃতিপরায়ণ। তোমরা অল্পই উপদেশ গ্রহণ করে থাক।


মাওলানা জহুরুল হক

আর অন্ধ ও চক্ষুষ্মান একসমান নয়, আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করছে এবং দুস্কর্মকারীরাও নয়। সামান্যই তা যা তোমরা মনোনিবেশ করে থাকো!


৫৯


اِنَّ السَّاعَۃَ لَاٰتِیَۃٌ لَّا رَیۡبَ فِیۡہَا وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ


ইন্নাছ ছা-‘আতা লা- আ-তিয়াতুল লা-রাইবা ফীহা-,ওয়ালা-কিন্না আকছারান্না-ছি লাইউ’মিনূন।


Mufti Taqi Usmani

Certainly, the Hour is bound to come. There is no doubt in it, but most of the people do not believe.


মুফতী তাকী উসমানী

কিয়ামতকাল অবশ্যই আসবে, তাতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। কিন্তু অধিকাংশ লোক ঈমান আনে না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

কেয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে সন্দেহ নেই; কিন্ত অধিকাংশ লোক বিশ্বাস স্থাপন করে না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী, এতে কোন সন্দেহ নেই; কিন্তু অধিকাংশ লোক বিশ্বাস করে না।


মাওলানা জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ ঘড়িঘন্টা প্রায় এসেই গেছে, এতে কোনো সন্দেহ নাই। কিন্ত অধিকাংশ লোকই বিশ্বাস করে না।


৬০


وَقَالَ رَبُّکُمُ ادۡعُوۡنِیۡۤ اَسۡتَجِبۡ لَکُمۡ ؕ  اِنَّ الَّذِیۡنَ یَسۡتَکۡبِرُوۡنَ عَنۡ عِبَادَتِیۡ سَیَدۡخُلُوۡنَ جَہَنَّمَ دٰخِرِیۡنَ ٪


ওয়া কা-লা রাব্বুকুমুদ ‘ঊনীআছতাজিব লাকুম ইন্নাল্লাযীনা ইয়াছতাকবিরূনা ‘আন ‘ইবা-দাতী ছাইয়াদখুলূনা জাহান্নামা দা-খিরীন।


Mufti Taqi Usmani

Your Lord has said, “Call Me, I will respond to you. Definitely those who show arrogance against worshipping Me shall enter Jahannam (Hell) with disgrace.


মুফতী তাকী উসমানী

তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন, আমাকে ডাক। আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয়ই অহংকারবশে যারা আমার ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব। যারা আমার এবাদতে অহংকার করে তারা সত্বরই জাহান্নামে দাখিল হবে লাঞ্ছিত হয়ে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের প্রতিপালক বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। যারা অহংকারবশে আমার ‘ইবাদতে বিমুখ, এরা অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত হয়ে।’


মাওলানা জহুরুল হক

আর তোমাদের প্রভু বলেন -- "তোমরা আমাকে আহ্বান করো, আমি তোমাদের প্রতি সাড়া দেব। নিঃসন্দেহ যারা আমাকে উপাসনা করার বেলা অহংকার বোধ করে তারা অচিরেই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত অবস্থায়।"


৬১


اَللّٰہُ الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمُ الَّیۡلَ لِتَسۡکُنُوۡا فِیۡہِ وَالنَّہَارَ مُبۡصِرًا ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَذُوۡ فَضۡلٍ عَلَی النَّاسِ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَشۡکُرُوۡنَ


আল্লা-হুল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল্লাইলা লিতাছকুনূফীহি ওয়ান্নাহা-রা মুবসিরান- ইন্নাল্লা-হা লাযূফাদলিন ‘আলান্না-ছি ওয়ালা-কিন্না আকছারান্না-ছি লা-ইয়াশকুরূন।


Mufti Taqi Usmani

Allah is the One who made for you the night, so that you may have rest in it, and the day to let you see. Surely, Allah is most kind to people, but most of the people do not offer gratitude.


মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহই তো, যিনি তোমাদের জন্য রাত সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাতে বিশ্রাম গ্রহণ করতে পার আর দিনকে বানিয়েছেন দেখার জন্য। বস্তুত আল্লাহ মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল, কিন্তু অধিকাংশ লোক শোকর আদায় করে না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তিনিই আল্লাহ যিনি রাত্র সৃষ্টি করেছেন তোমাদের বিশ্রামের জন্যে এবং দিবসকে করেছেন দেখার জন্যে। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহ্ই তোমাদের বিশ্রামের জন্যে সৃষ্টি করেছেন রাত্রিকে এবং আলোকোজ্জ্বল করেছেন দিবসকে। আল্লাহ্ তো মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।


মাওলানা জহুরুল হক

আল্লাহ্‌ই তিনি যিনি তোমাদের জন্য রাতকে সৃষ্টি করেছেন যেন তোমরা তাতে বিশ্রাম করতে পারো, আর দিনকে দেখবার জন্য। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ তো মানুষের প্রতি করুণাভান্ডারের অধিকারী, কিন্ত অধিকাংশ লোকই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।


৬২


ذٰلِکُمُ اللّٰہُ رَبُّکُمۡ خَالِقُ کُلِّ شَیۡءٍ ۘ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۫ۚ فَاَنّٰی تُؤۡفَکُوۡنَ


যা-লিকুমুল্লা-হু রাব্বুকুম খা-লিকুকুল্লি শাইয় । লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ফাআন্নাতু’ফাকূন।


Mufti Taqi Usmani

This is Allah, your Lord, the Creator of everything. There is no god but He. Then, from where are you being reversed (by your selfish desires)?


মুফতী তাকী উসমানী

তিনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদের প্রতিপালক, প্রতিটি জিনিসের স্রষ্টা। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। সুতরাং কোথা হতে কোন বস্তু তোমাদেরকে বিপথগামী করছে?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তিনি আল্লাহ, তোমাদের পালনকর্তা, সব কিছুর স্রষ্টা। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই আল্লাহ্, তোমাদের প্রতিপালক, সব কিছুর স্রষ্টা; তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই; সুতরাং তোমাদেরকে কোথায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে ?


মাওলানা জহুরুল হক

এইই আল্লাহ্‌, তোমাদের প্রভু, সব-কিছুর সৃষ্টিকর্তা, তিনি ছাড়া অন্য উপাস্য নেই, সুতরাং কার কাছ থেকে তোমরা ফিরে যাচ্ছ?


৬৩


کَذٰلِکَ یُؤۡفَکُ الَّذِیۡنَ کَانُوۡا بِاٰیٰتِ اللّٰہِ یَجۡحَدُوۡنَ


কাযা-লিকা ইউ’ফাকুল্লাযীনা কা-নূবিআ-য়া-তিল্লা-হি ইয়াজহাদূন।


Mufti Taqi Usmani

Similarly reversed were those who used to deny Our verses.


মুফতী তাকী উসমানী

এমনিভাবে (পূর্বে) যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করত, তারাও বিপথগামী হয়েছিল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এমনিভাবে তাদেরকে বিভ্রান্ত করা হয়, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এইভাবেই বিপথগামী করা হয় তাদেরকে যারা আল্লাহ্ র নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করে।


মাওলানা জহুরুল হক

এইভাবেই ফিরে যাচ্ছিল তারা যারা আল্লাহ্‌র নির্দেশাবলীকে প্রত্যাখ্যান করছিল।


৬৪


اَللّٰہُ الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمُ الۡاَرۡضَ قَرَارًا وَّالسَّمَآءَ بِنَآءً وَّصَوَّرَکُمۡ فَاَحۡسَنَ صُوَرَکُمۡ وَرَزَقَکُمۡ مِّنَ الطَّیِّبٰتِ ؕ ذٰلِکُمُ اللّٰہُ رَبُّکُمۡ ۚۖ فَتَبٰرَکَ اللّٰہُ رَبُّ الۡعٰلَمِیۡنَ


আল্লা-হুল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আরদা কারা-রাওঁ ওয়াছ ছামাআ বিনাআওঁ ওয়া সাওওয়ারাকুম ফাআহছানা ছুওয়ারাকুম ওয়া রাঝাকাকুম মিনাত্তাইয়িবা-তি যালিকুমুল্লা-হু রাব্বাকুম ফাতাবা-রাকাল্লা-হু রাব্বুল ‘আ-লামীন।


Mufti Taqi Usmani

Allah is the One who made for you the earth a place to live, and the sky a roof, and shaped you, and made your shapes so good - and provided you with a lot of good things. That is Allah, your Lord. So, Glorious is Allah, the Lord of the worlds.


মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহই তো, যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করেছেন অবস্থানস্থল এবং আকাশকে করেছেন (উঁচু গম্বুজস্বরূপ) এক ছাদ এবং তোমাদের আকৃতিকে করেছেন সুন্দর আর উৎকৃষ্ট বস্তু হতে তোমাদেরকে রিযক দান করেছেন। তিনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদের প্রতিপালক। তিনি অতি বরকতময়, জগতসমূহের প্রতিপালক।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহ, পৃথিবীকে করেছেন তোমাদের জন্যে বাসস্থান, আকাশকে করেছেন ছাদ এবং তিনি তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর তোমাদের আকৃতি সুন্দর করেছেন এবং তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন পরিচ্ছন্ন রিযিক। তিনি আল্লাহ, তোমাদের পালনকর্তা। বিশ্বজগতের পালনকর্তা, আল্লাহ বরকতময়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহ্ই তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন বাসোপযোগী এবং আকাশকে করেছেন ছাদ এবং তিনি তোমাদের আকৃতি গঠন করেছেন এবং তোমাদের আকৃতি করেছেন সুন্দর এবং তোমাদেরকে দান করেছেন উৎকৃষ্ট রিযিক; তিনিই আল্লাহ্, তোমাদের প্রতিপালক। জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ্ কত মহান!


মাওলানা জহুরুল হক

আল্লাহ্‌ই তিনি যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে বাসোপযোগী বানিয়েছেন আর আকাশকে একটি চাঁদোয়া, আর তিনি তোমাদের আকৃতি গঠন করেছেন, সুতরাং তিনি তোমাদের আকৃতি কত সুন্দর করেছেন! আর তিনি তোমাদের জীবিকা দিয়েছেন উৎকৃষ্ট বস্তু থেকে। এইই হচ্ছেন আল্লাহ্ -- তোমাদের প্রভু। অতএব সকল মহিমার পাত্র আল্লাহ্ -- বিশ্বজগতের প্রভু।


৬৫


ہُوَ الۡحَیُّ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ فَادۡعُوۡہُ مُخۡلِصِیۡنَ لَہُ الدِّیۡنَ ؕ اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ


হুওয়াল হাইয়ুলাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ফাদ‘ঊহু মুখলিসীনা লাহুদ্দীনা আলহামদু লিল্লা হি রাব্বিল ‘আ-লামীন।


Mufti Taqi Usmani

He is Ever-living. There is no god but He. So worship Him making your submission exclusive for Him. All praise belongs to Allah, the Lord of all the worlds.


মুফতী তাকী উসমানী

তিনি চিরঞ্জীব। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। সুতরাং তোমরা তাঁকে ডাক, তাঁর জন্য আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব, তাঁকে ডাক তাঁর খাঁটি এবাদতের মাধ্যমে। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই। সুতরাং তোমরা তাঁকেই ডাক, তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ্ র ই।


মাওলানা জহুরুল হক

তিনি সদাজীবিত, তিনি ছাড়া অন্য উপাস্য নেই, সুতরাং ধর্মে তাঁর প্রতি একনিষ্ঠচিত্তে তাঁকেই ডাকো। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র যিনি বিশ্বজগতের প্রভু।


৬৬


قُلۡ اِنِّیۡ نُہِیۡتُ اَنۡ اَعۡبُدَ الَّذِیۡنَ تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ لَمَّا جَآءَنِیَ الۡبَیِّنٰتُ مِنۡ رَّبِّیۡ ۫ وَاُمِرۡتُ اَنۡ اُسۡلِمَ لِرَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ


কুল ইন্নী নুহীতুআন আ‘বুদাল্লাযীনা তাদ‘ঊনা মিন দূ নিল্লা-হি লাম্মা-জাআনিয়াল বাইয়িনা-তুমিররাববী ওয়া উমিরতুআন উছলিমা লিরাব্বিল ‘আ-লামীন।


Mufti Taqi Usmani

Say, “I have been ordered not to worship those whom you invoke beside Allah when clear signs from my Lord have (already) come to me, and I have been ordered that I should submit to the Lord of the worlds.”

(ads1)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#f50707)

মুফতী তাকী উসমানী

(হে রাসূল! কাফেরদেরকে) বলে দাও, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তাদের ইবাদত করতে আমাকে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে যখন আমার কাছে আমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী এসে গেছে। আর আমাকে আদেশ করা হয়েছে, আমি যেন জগতসমূহের প্রতিপালকের সামনে আনুগত্য স্বীকার করি।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বলুন, যখন আমার কাছে আমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণাদি এসে গেছে, তখন আল্লাহ ব্যতীত তোমরা যার পূজা কর, তার এবাদত করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে। আমাকে আদেশ করা হয়েছে বিশ্ব পালনকর্তার অনুগত থাকতে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘তোমরা আল্লাহ্ ব্যতীত যাদেরকে আহ্বান কর, তাদের ‘ইবাদত করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে যখন আমার প্রতিপালকের নিকট হতে আমার নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শন এসেছে। এবং আমি আদিষ্ট হয়েছি জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট আত্মসমর্পণ করতে।


মাওলানা জহুরুল হক

বলো -- "নিঃসন্দেহ আমাকে নিষেধ করা হয়েছে তাদের উপাসনা করতে যাদের তোমরা উপাসনা কর আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে, -- যখন আমার কাছে আমার প্রভুর কাছ থেকে স্পষ্ট প্রমাণাবলী এসেছে, আর আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমি বিশ্বজগতের প্রভুর প্রতি আ‌ত্মসমর্পণ করি।


৬৭


ہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ مِّنۡ تُرَابٍ ثُمَّ مِنۡ نُّطۡفَۃٍ ثُمَّ مِنۡ عَلَقَۃٍ ثُمَّ یُخۡرِجُکُمۡ طِفۡلًا ثُمَّ لِتَبۡلُغُوۡۤا اَشُدَّکُمۡ ثُمَّ لِتَکُوۡنُوۡا شُیُوۡخًا ۚ وَمِنۡکُمۡ مَّنۡ یُّتَوَفّٰی مِنۡ قَبۡلُ وَلِتَبۡلُغُوۡۤا اَجَلًا مُّسَمًّی وَّلَعَلَّکُمۡ تَعۡقِلُوۡنَ


হুওয়াল্লাযীখালাকাকুম মিন তুরা-বিন ছুম্মা মিন নুতফাতিন ছুম্মা মিন‘আলাকাতিন ছুম্মা ইউখরিজুকুম তিফলান ছুম্মা লিতাবলুগূআশুদ্দাকুম ছু ম্মা লিতাকূনূশুয়ূখাও ওয়া মিনকুম মাইঁ ইউতাওয়াফফা-মিন কাবলুওয়া লিতাবলুগূআজালাম মুছাম্মাওঁ ওয়া লা‘আল্লাকুম তা‘কিলূন।


Mufti Taqi Usmani

He is the One who created you from dust, then from a drop of semen, then from a clot. After that, He takes you out as an infant. Then, (He makes you grow) so that you reach your full maturity, and, thereafter, become old - and some of you die earlier - and so that you reach the appointed term, and so that you understand.


মুফতী তাকী উসমানী

তিনিই তো তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মাটি হতে, তারপর শুক্রবিন্দু হতে, তারপর জমাট রক্ত হতে। তারপর তিনি তোমাদেরকে শিশুরূপে বের করেন তারপর (তোমাদেরকে প্রতিপালন করেন,) যাতে তোমরা উপনীত হও পূর্ণ বলবত্তায় তারপর হও বৃদ্ধ। তোমাদের মধ্যে কতক এমনও আছে, যারা তার আগেই মারা যায় এবং যাতে তোমরা এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত পৌঁছ এবং যাতে তোমরা বুদ্ধিকে কাজে লাগাও।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তিনি তো তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা, অতঃপর শুক্রবিন্দু দ্বারা, অতঃপর জমাট রক্ত দ্বারা, অতঃপর তোমাদেরকে বের করেন শিশুরূপে, অতঃপর তোমরা যৌবনে পদর্পণ কর, অতঃপর বার্ধক্যে উপনীত হও। তোমাদের কারও কারও এর পূর্বেই মৃত্যু ঘটে এবং তোমরা নির্ধারিত কালে পৌঁছ এবং তোমরা যাতে অনুধাবন কর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মৃত্তিকা হতে, পরে শুক্রবিন্দু হতে, তারপর আলাকা হতে, তারপর তোমাদেরকে বের করেন শিশুরূপে, এরপর যেন তোমরা উপনীত হও তোমাদের যৌবনে, তারপর হয়ে যাও বৃদ্ধ। আর তোমাদের মধ্যে কারও মৃত্যু ঘটে এটার পূর্বেই! যাতে তোমরা নির্ধারিত কাল প্রাপ্ত হও এবং যেন তোমরা অনুধাবন করতে পার।


মাওলানা জহুরুল হক

"তিনিই সেইজন যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর শুক্রকীট থেকে, তারপর রক্তপিন্ড থেকে, তারপর তিনি তোমাদের বের করে আনেন শিশুরূপে, তারপর যেন তোমরা বাড়তে পারো তোমাদের পূর্ণযৌবনে, তারপর যেন তোমরা বৃদ্ধ হতে পারো, আর তোমাদের মধ্যে কাউকে মরতে দেওয়া হয় আগেই, -- কাজেকাজেই তোমরা যেন নির্ধারিত সময়সীমায় পৌঁছুতে পারো, আর যেন তোমরা বুঝতে-সুঝতে পারো।


৬৮


ہُوَ الَّذِیۡ یُحۡیٖ وَیُمِیۡتُ ۚ  فَاِذَا قَضٰۤی اَمۡرًا فَاِنَّمَا یَقُوۡلُ لَہٗ کُنۡ فَیَکُوۡنُ ٪


হুওয়াল্লাযী ইউহয়ী ওয়া ইউমীতু ফাইযা-কাদাআমরান ফাইন্নামা-ইয়াকূলুলাহূ কুন ফাইয়াকূন।


Mufti Taqi Usmani

He is the One who gives life and brings death, and when He decides to do something, He only says to it: “Be” and it comes to be.


মুফতী তাকী উসমানী

তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান এবং তিনি যখন কোনও বিষয়ে ফায়সালা করেন, তখন কেবল বলেন, ‘হয়ে যাও’, অমনি তা হয়ে যায়।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তিনিই জীবিত করেন এবং মৃত্যু দেন। যখন তিনি কোন কাজের আদেশ করেন, তখন একথাই বলেন, হয়ে যা’-তা হয়ে যায়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান এবং যখন তিনি কিছু করা স্থির করেন তখন তিনি এর জন্যে বলেন, ‘হও’, আর তা হয়ে যায়।’


মাওলানা জহুরুল হক

তিনিই সেইজন যিনি জীবনদান করেন ও মৃত্যু ঘটান, সুতরাং তিনি যখন কোনো ব্যাপারের বিধান করেন তখন শুধুমাত্র তিনি সে-সন্বন্ধে বলেন -- 'হও’, ফলে তা হয়ে যায়।


৬৯


اَلَمۡ تَرَ اِلَی الَّذِیۡنَ یُجَادِلُوۡنَ فِیۡۤ اٰیٰتِ اللّٰہِ ؕ  اَنّٰی یُصۡرَفُوۡنَ ۖۛۚ


আলাম তারা ইলাল্লাযীনা ইউজা-দিলূনা ফীআ-য়া-তিল্লা-হি আন্না ইউসরাফূন।


Mufti Taqi Usmani

Have you not seen those who quarrel in Allah’s verses? From where are they being turned away (by their selfish desires?)


মুফতী তাকী উসমানী

তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে বিতর্ক সৃষ্টি করে? কে কোথা হতে তাদের মুখ ফিরিয়ে দেয়?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তারা কোথায় ফিরছে?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি কি লক্ষ্য কর না এদেরকে যারা আল্লাহ্ র নিদর্শন সম্পর্কে বিতর্ক করে ? কিভাবে এদেরকে বিপথগামী করা হচ্ছে?’


মাওলানা জহুরুল হক

তুমি কি তাদের দিকে চেয়ে দেখো নি যারা আল্লাহ্‌র নির্দেশাবলী নিয়ে বিতর্ক করে? ওরা কেমন করে ফিরে যাচ্ছে --


৭০


الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِالۡکِتٰبِ وَبِمَاۤ اَرۡسَلۡنَا بِہٖ رُسُلَنَا ۟ۛ  فَسَوۡفَ یَعۡلَمُوۡنَ ۙ


আল্লাযীনা কাযযাবূবিলকিতা-বি ওয়া বিমা আরছালনা- বিহী রুছুলানা- ফাছাওফা ইয়া‘লামূন।


Mufti Taqi Usmani

- those who rejected the Book and what We sent with Our messengers. So, they will soon come to know,


মুফতী তাকী উসমানী

এরাই তারা, যারা অস্বীকার করেছে এ কিতাব এবং আমার রাসূলগণকে যা সহ প্রেরণ করেছিলাম তাও। সুতরাং তারা অচিরেই জানতে পারবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা কিতাবের প্রতি এবং যে বিষয় দিয়ে আমি পয়গম্বরগণকে প্রেরণ করেছি, সে বিষয়ের প্রতি মিথ্যারোপ করে। অতএব, সত্বরই তারা জানতে পারবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যারা অস্বীকার করে কিতাব ও যা সহ আমার রাসূলগণকে প্রেরণ করেছিলাম তা; শীঘ্রই এরা জানতে পারবে-


মাওলানা জহুরুল হক

যারা গ্রন্থখানাকে প্রত্যাখ্যান করছে, আর যা দিয়ে আমরা আমাদের রসূলগণকে পাঠিয়েছিলাম? কিন্ত শীগগিরই তারা বুঝতে পারবে --


৭১


اِذِ الۡاَغۡلٰلُ فِیۡۤ اَعۡنَاقِہِمۡ وَالسَّلٰسِلُ ؕ  یُسۡحَبُوۡنَ ۙ


ইযিল আগলা-লুফীআ‘না-কিহিম ওয়াছ ছালা-ছিলু ইউসহাবূন।


Mufti Taqi Usmani

when shackles will be round their necks, and chains. They will be dragged


মুফতী তাকী উসমানী

যখন তাদের গলায় থাকবে বেড়ি ও শিকল, তাদেরকে হেঁচড়ানো হবে,


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখন বেড়িও শৃঙ্খল তাদের গলদেশে পড়বে। তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন এদের গলদেশে বেড়ি ও শৃংখল থাকবে, এদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে


মাওলানা জহুরুল হক

যখন তাদের গলায় বেড়ি হবে আর হবে শিকল। তাদের টেনে নিয়ে যাওয়া হবে --


৭২


فِی الۡحَمِیۡمِ ۬ۙ  ثُمَّ فِی النَّارِ یُسۡجَرُوۡنَ ۚ


ফিল হামীমি ছু ম্মা ফিন্না-রি ইউছজারূন।


Mufti Taqi Usmani

into the hot water after which they will be thrown into the Fire as a fuel.


মুফতী তাকী উসমানী

গরম পানিতে, তারপর আগুনে দগ্ধ করা হবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ফুটন্ত পানিতে, অতঃপর তাদেরকে আগুনে জ্বালানো হবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফুটন্ত পানিতে, এরপর এদেরকে দগ্ধ করা হবে অগ্নিতে।


মাওলানা জহুরুল হক

ফুটন্ত পানির মধ্যে, তারপর তাদের জ্বলতে দেওয়া হবে আগুনের মধ্যে।


৭৩


ثُمَّ قِیۡلَ لَہُمۡ اَیۡنَ مَا کُنۡتُمۡ تُشۡرِکُوۡنَ ۙ


ছু ম্মা কীলা লাহুম আইনা মা-কুনতুম তুশরিকূন।


Mufti Taqi Usmani

Then, it will be said to them, “Where are those whom you used to associate (in worship)


মুফতী তাকী উসমানী

তারপর তাদেরকে বলা হবে, কোথায়, যাদেরকে তোমরা (তাঁর প্রভুত্বে) শরীক করতে?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর তাদেরকে বলা হবে, কোথায় গেল যাদেরকে তোমরা শরীক করতে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পরে এদেরকে বলা হবে, ‘কোথায় তারা যাদেরকে তোমরা শরীক করতে,


মাওলানা জহুরুল হক

তখন তাদের বলা হবে -- "কোথায় আছে তারা যাদের তোমরা শরিক করতে --


৭৪


مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ؕ قَالُوۡا ضَلُّوۡا عَنَّا بَلۡ لَّمۡ نَکُنۡ نَّدۡعُوۡا مِنۡ قَبۡلُ شَیۡئًا ؕ کَذٰلِکَ یُضِلُّ اللّٰہُ الۡکٰفِرِیۡنَ


মিন দূ নিল্লা-হি কা-লূদাললূ‘আন্না-বাল লাম নাকুন নাদ‘ঊ মিন কাবলুশাইআন কাযা-লিকা ইউদিল্লুল্লা-হুল কা-ফিরীন।


Mufti Taqi Usmani

beside Allah?” They will say, “They are lost to us, rather, we used to invoke nothing at all.” This is how Allah makes disbelievers get lost.


মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহ ছাড়া তারা (অর্থাৎ তোমাদের সেই মাবুদগণ), তারা বলবে, তারা তো আমাদের থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে; বরং পূর্বে আমরা কোন কিছুকে ডাকতামই না। ২৩ এভাবে আল্লাহ কাফেরদেরকে বিভ্রান্ত করেন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহ ব্যতীত? তারা বলবে, তারা আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেছে; বরং আমরা তো ইতিপূর্বে কোন কিছুর পূজাই করতাম না। এমনি ভাবে আল্লাহ কাফেরদেরকে বিভ্রান্ত করেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আল্লাহ্ ব্যতীত ?’ এরা বলবে, ‘এরা তো আমাদের নিকট হতে উধাও হয়েছে; বস্তুত পূর্বে আমরা এমন কিছুকে আহ্বান করি নাই।’ এইভাবে আল্লাহ্ কাফিরদেরকে বিভ্রান্ত করেন।


মাওলানা জহুরুল হক

আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে?" তারা বলবে, "তারা আমাদের থেকে উধাও হয়েছে, বস্তুতঃ আমরা ইতিপূর্বে এমন কিছুকে আহ্বান করে চলি নি।" এভাবেই আল্লাহ্ পথভ্রষ্ট হতে দেন অবিশ্বাসীদের।


তাফসীরঃ

২৩. ‘আমরা পূর্বে কোন কিছুকে ডাকতামই না’ আখেরাতের বিভীষিকাময় অবস্থা দেখে কাফেরগণ এভাবে মিথ্যা বলবে এবং সাফ জানিয়ে দেবে তারা কোন রকম শিরক করত না, যেমন সূরা আনআমে (৬ : ২৩) বর্ণিত হয়েছে। এর এরূপ ব্যাখ্যাও করা যায় যে, আখেরাতে তারা স্বীকার করতে বাধ্য হবে যে, আমরা দুনিয়ায় দেব-দেবী, প্রতিমা ইত্যাদিকে যে ডাকতাম সেটা আমাদের মারাত্মক ভুল ছিল। এখন আমরা বুঝতে পেরেছি সেগুলোর কোন বাস্তবতা ছিল না। মূলত আমরা কোন বাস্তব জিনিসের নয়; বরং কতগুলো অবাস্তব বস্তুরই পূজা করছিলাম।


৭৫


ذٰلِکُمۡ بِمَا کُنۡتُمۡ تَفۡرَحُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ بِغَیۡرِ الۡحَقِّ وَبِمَا کُنۡتُمۡ تَمۡرَحُوۡنَ ۚ


যা-লিকুমবিমা- কুনতুম তাফরাহূনা ফিল আরদি বিগাইরিল হাক্কি ওয়া বিমা-কুনতুম তামরাহূন।


Mufti Taqi Usmani

(It will be said to them,) “This is because you used to rejoice on the earth wrongfully, and because you used to show arrogance.


মুফতী তাকী উসমানী

এসব হয়েছে এ কারণে যে, পৃথিবীতে তোমরা অন্যায় বিষয় নিয়ে উল্লাস করতে এবং এ কারণে যে, তোমরা অহমিকা দেখাতে। ২৪


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এটা একারণে যে, তোমরা দুনিয়াতে অন্যায়ভাবে আনন্দ-উল্লাস করতে এবং এ কারণে যে, তোমরা ঔদ্ধত্য করতে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এটা এই কারণে যে, তোমরা পৃথিবীতে অযথা উল্লাস করতে এবং এইজন্যে যে, তোমরা দম্ভ করতে।


মাওলানা জহুরুল হক

এমনটাই তোমাদের জন্য কেননা তোমরা দুনিয়াতে বেপরোয়া ব্যবহার করতে কোনো যুক্তি ব্যতীত, আর যেহেতু তোমরা হামবড়াই করতে।


তাফসীরঃ

২৪. সরাসরিভাবে যদিও এ সতর্কবাণী কাফেরদের সম্পর্কে উচ্চারিত, কিন্তু এ দোষ যেসব মুমিনদের মধ্যেও আছে, যারা শরীআতবিরোধী মত ও পথ নিয়ে উল্লাস করে, হারাম রোজগার ও নিষিদ্ধ পানাহার নিয়ে ফুর্তি করে এবং অহমিকাপূর্ণ আচার-আচরণ করে, তারাও এর আওতায় পড়ে যায়। সুতরাং সাবধান হওয়া দরকার সকলেরই। -অনুবাদক


৭৬


اُدۡخُلُوۡۤا اَبۡوَابَ جَہَنَّمَ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ۚ فَبِئۡسَ مَثۡوَی الۡمُتَکَبِّرِیۡنَ


উদখুলূআবওয়া-বা জাহান্নামা খা-লিদীনা ফীহা- ফাবি’ছা মাছওয়াল মুতাকাববিরীন।


Mufti Taqi Usmani

Enter the gates of Jahannam to live in it forever. So, how evil is the abode of the arrogant.


মুফতী তাকী উসমানী

যাও, জাহান্নামের দরজা দিয়ে প্রবেশ কর, তাতে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য। কেননা অহংকারীদের ঠিকানা বড়ই মন্দ।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

প্রবেশ কর তোমরা জাহান্নামের দরজা দিয়ে সেখানে চিরকাল বসবাসের জন্যে। কত নিকৃষ্ট দাম্ভিকদের আবাসস্থল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা জাহান্নামের বিভিন্ন দরজা দিয়ে প্রবেশ কর এতে স্থায়িভাবে অবস্থিতির জন্যে, আর কতই না নিকৃষ্ট উদ্ধতদের আবাসস্থল!


মাওলানা জহুরুল হক

তোমরা জাহান্নামের দরজাগুলো দিয়ে প্রবেশ করো তাতে অবস্থানের জন্য। সুতরাং গর্বিতদের আবাসস্থল কত নিকৃষ্ট!


৭৭


فَاصۡبِرۡ اِنَّ وَعۡدَ اللّٰہِ حَقٌّ ۚ فَاِمَّا نُرِیَنَّکَ بَعۡضَ الَّذِیۡ نَعِدُہُمۡ اَوۡ نَتَوَفَّیَنَّکَ فَاِلَیۡنَا یُرۡجَعُوۡنَ


ফাসবির ইন্না ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুন ফাইম্মা-নুরিয়ান্নাকা বা‘দাল্লাযী না‘ইদুহুম আও নাতাওয়াফফাইয়ান্নাকা ফাইলাইনা-ইউরজা‘ঊন।


Mufti Taqi Usmani

Therefore, be patient. Surely, Allah’s promise is true. Then, (O Prophet,) whether We show you (in your life) a part of the promise We are making to them, or make you die (before they are punished), in any case they have to be returned to Us.


মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি সবর অবলম্বন কর। নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আমি তাদেরকে (অর্থাৎ কাফেরদেরকে) যার (অর্থাৎ যে শাস্তির) ভয় দেখাচ্ছি, আমি তার কিছুটা তোমাকে (তোমার জীবনে) দেখিয়ে দেই অথবা (তার আগেই) তোমাকে দুনিয়া থেকে তুলে নেই, সর্বাবস্থায় তাদেরকে আমার কাছেই ফিরিয়ে আনা হবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতএব আপনি সবর করুন। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। অতঃপর আমি কাফেরদেরকে যে শাস্তির ওয়াদা দেই, তার কিয়দংশ যদি আপনাকে দেখিয়ে দেই অথবা আপনার প্রাণ হরণ করে নেই, সর্বাবস্থায় তারা তো আমারই কাছে ফিরে আসবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুতরাং তুমি ধৈর্য ধারণ কর। নিশ্চয় আল্লাহ্ র প্রতিশ্রুতি সত্য। আমি এদেরকে যে প্রতিশ্রুতি প্রদান করি তার কিছু যদি তোমাকে দেখিয়েই দেই বা তোমার মৃত্যু ঘটাই-এদের প্রত্যাবর্তন তো আমারই নিকট।


মাওলানা জহুরুল হক

কাজেই তুমি অধ্যবসায় চালিয়ে যাও, নিশ্চয় আল্লাহ্‌র ওয়াদা সত্য। সুতরাং তাদের যা ওয়াদা করা হয়েছে আমরা যদি তার কিছুটা তোমাকে দেখিয়েই দিই অথবা তোমার মৃত্যুই ঘটাই, সর্বাবস্থায় আমাদেরই কাছে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।


৭৮


وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا رُسُلًا مِّنۡ قَبۡلِکَ مِنۡہُمۡ مَّنۡ قَصَصۡنَا عَلَیۡکَ وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ لَّمۡ نَقۡصُصۡ عَلَیۡکَ ؕ  وَمَا کَانَ لِرَسُوۡلٍ اَنۡ یَّاۡتِیَ بِاٰیَۃٍ اِلَّا بِاِذۡنِ اللّٰہِ ۚ  فَاِذَا جَآءَ اَمۡرُ اللّٰہِ قُضِیَ بِالۡحَقِّ وَخَسِرَ ہُنَالِکَ الۡمُبۡطِلُوۡنَ ٪


ওয়া লাকাদ আরছালনা-রুছুলাম মিন কাবলিকা মিনহুম মান কাসাসনা-‘আলাইকা ওয়া মিনহুম মাল্লাম নাকসুস ‘আলাইকা ওয়ামা-কা-না লিরাছূলিন আইঁ ইয়া’তিয়া বিআয়াতিন ইল্লা-বিইযনিল্লা-হি ফাইযা-জাআ আমরুল্লা-হি কুদিয়া বিলহাক্কিওয়া খাছিরা হুনা-লিকাল মুবতিলূন।


Mufti Taqi Usmani

We had sent messengers before you. Among them there are those whose history We have narrated to you, and of them there are those whose history We did not narrate to you. And it is not up to a messenger that he could come up with a sign without permission from Allah. So, when the command of Allah will come, matters will stand decided justly, and on that occasion all adherents of falsehood will turn into losers.


মুফতী তাকী উসমানী

বস্তুত আমি তোমার পূর্বেও বহু রাসূল পাঠিয়েছি। তাদের মধ্যে কতক এমন, যাদের কতিপয়ের বৃত্তান্ত আমি তোমাকে জানিয়ে দিয়েছি আর কতক এমন যাদের বৃত্তান্ত তোমাকে জানাইনি। কোন রাসূলের এই এখতিয়ার নেই যে, সে আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কোন মুজিযা পেশ করবে। ২৫ অতঃপর যখন আল্লাহর আদেশ আসবে, তখন ন্যায়সঙ্গতভাবে ফায়সালা হয়ে যাবে। আর মিথ্যার অনুসারীরা তখন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি আপনার পূর্বে অনেক রসূল প্রেরণ করেছি, তাদের কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করেছি এবং কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করিনি। আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোন নিদর্শন নিয়ে আসা কোন রসূলের কাজ নয়। যখন আল্লাহর আদেশ আসবে, তখন ন্যায় সঙ্গত ফয়সালা হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে মিথ্যাপন্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তো তোমার পূর্বে অনেক রাসূল প্রেরণ করেছিলাম। আমি তাদের কারও কারও কথা তোমার নিকট বিবৃত করেছি এবং কারও কারও কথা তোমার নিকট বিবৃত করি নাই। আল্লাহ্ র অনুমতি ব্যতীত কোন নিদর্শন উপস্থিত করা কোন রাসূলের কাজ নয়। আল্লাহ্ র আদেশ আসলে ন্যায়সংগতভাবে ফয়সালা হয়ে যাবে। তখন মিথ্যাশ্রয়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


মাওলানা জহুরুল হক

আর নিশ্চয়ই আমরা তোমার আগে রসূলগণকে পাঠিয়ে দিয়েছি, তাঁদের মধ্যের কারো কারো সন্বন্ধে তোমার কাছে আমরা বিবৃত করেছি, আর তাদের মধ্যের অন্যদের সন্বন্ধে আমরা তোমার কাছে বিবৃত করি নি। আর কোনো রসূলেরই কাজ নয় যে তিনি আল্লাহ্‌র অনুমতি ব্যতীত কোনো নিদর্শন নিয়ে আসবেন, কিন্ত যখন আল্লাহ্‌র নির্দেশ এসে যাবে, তখন মীমাংসা হয়ে যাবে ন্যায়সংগতভাবে, আর বাতিল করার প্রচেষ্টাকারীরা তখন তখনই নাজেহাল হবে।


তাফসীরঃ

২৫. মক্কার কাফেরগণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিত্য-নতুন মুজিযার ফরমায়েশ করত এবং পীড়াপীড়ি করত, তারা যে মুজিযা দাবি করছে তাদেরকে যেন সেটাই দেখানো হয়। কিন্তু এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য ছিল কেবলই কালক্ষেপণ করা। কেননা তিনি তো তাদেরকে বহু মুজিযা দেখিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও তারা ঈমান আনতে প্রস্তুত হয়নি। তাই এস্থলে উত্তর শেখানো হচ্ছে যে, তাদেরকে বলুন, মুজিযা দেখানো কোন নবীর নিজ এখতিয়ারের বিষয় নয়। তা কেবল আল্লাহ তাআলার হুকুমেই দেখানো যেতে পারে। সুতরাং আপনি তাদেরকে পরিষ্কার বলে দিন, আমি তোমাদের নতুন-নতুন ফরমায়েশ পূরণ করতে অক্ষম।


৭৯


اَللّٰہُ الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمُ الۡاَنۡعَامَ لِتَرۡکَبُوۡا مِنۡہَا وَمِنۡہَا تَاۡکُلُوۡنَ ۫


আল্লা-হুল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আন‘আ-মা লিতারকাবূমিনহা-ওয়া মিনহা-তা’কুলূন।


Mufti Taqi Usmani

Allah is the One who made for you the cattle, so that you may ride some of them,- and of them you eat;


মুফতী তাকী উসমানী

তিনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন চতুষ্পদ জন্তু, যাতে তার কতকে তোমরা আরোহণ কর। আর কতক তোমরা খাও।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহ তোমাদের জন্যে চতুস্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যাতে কোন কোনটিই বাহন হিসাবে ব্যবহার কর এবং কোন কোনটিকে ভক্ষণ কর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহ্ই তোমাদের জন্যে আন‘আম সৃষ্টি করেছেন, যাতে এদের কতকের ওপর তোমরা আরোহণ কর এবং কতক তোমরা আহার কর।


মাওলানা জহুরুল হক

আল্লাহই তিনি যিনি তেমাদের জন্য গবাদি-পশু সৃষ্টি করেছেন যেন তোমরা তাদের কতকগুলোয় চড়তে পরো ও তাদের কতকটা তোমরা খেতে পারো,


৮০


وَلَکُمۡ فِیۡہَا مَنَافِعُ وَلِتَبۡلُغُوۡا عَلَیۡہَا حَاجَۃً فِیۡ صُدُوۡرِکُمۡ وَعَلَیۡہَا وَعَلَی الۡفُلۡکِ تُحۡمَلُوۡنَ ؕ


ওয়ালাকুম ফীহা-মানা-ফি‘উ ওয়ালিতাবলগূ ‘আলাইহা-হা-জাতান ফী সদূরিকুম ওয়া ‘আলাইহা-ওয়া ‘আলাল ফুলকি তুহমালূন।


Mufti Taqi Usmani

and for you there are (other) benefits in them- and so that, (by riding) on them, you meet any need you have in your hearts; and on them and on boats you are carried.


মুফতী তাকী উসমানী

আর তাতে আছে তোমাদের প্রচুর উপকার এবং তার উদ্দেশ্য এটাও যে, তোমাদের অন্তরে (কোথাও যাওয়ার) যে প্রয়োজন আছে, তা পূরণ করতে পার। আর তোমাদেরকে সেই সব পশুতে এবং নৌযানে চড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তাতে তোমাদের জন্যে অনেক উপকারিতা রয়েছে আর এজন্যে সৃষ্টি করেছেন; যাতে সেগুলোতে আরোহণ করে তোমরা তোমাদের অভীষ্ট প্রয়োজন পূর্ণ করতে পার। এগুলোর উপর এবং নৌকার উপর তোমরা বাহিত হও।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এতে তোমাদের জন্যে রয়েছে প্রচুর উপকার। তোমরা অন্তরে যা প্রয়োজন বোধ কর, এটা দিয়ে যেন তা পূর্ণ করতে পার, আর এদের ওপর ও নৌযানের ওপর তোমাদেরকে বহন করা হয়।


মাওলানা জহুরুল হক

আর তোমাদের জন্য তাদের মধ্যে রয়েছে মুনাফা, আর যেন তাদের সাহায্যে তোমরা পূরণ করতে পারো তোমাদের অন্তরের বাসনা, আর তাদের উপরে ও জাহাজের উপরে তোমাদের বহন করা হয়।


৮১


وَیُرِیۡکُمۡ اٰیٰتِہٖ ٭ۖ فَاَیَّ اٰیٰتِ اللّٰہِ تُنۡکِرُوۡنَ


ওয়া ইউরীকুম আ-য়া-তিহী ফাআইয়া আ-য়া-তিল্লা-হি তুনকিরূন।


Mufti Taqi Usmani

He shows you His signs. Then, which of the signs of Allah would you (still) deny?


মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহ তোমাদেরকে নিজ নিদর্শনাবলী দেখিয়ে থাকেন। সুতরাং তোমরা কোন কোন নিদর্শন অস্বীকার করবে?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান। অতএব, তোমরা আল্লাহর কোন কোন নিদর্শনকে অস্বীকার করবে?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখিয়ে থাকেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহ্ র কোন্ কোন্ নিদর্শনকে অস্বীকার করবে ?


মাওলানা জহুরুল হক

আর তিনি তোমাদের দেখিয়ে থাকেন তাঁর নিদর্শনসমূহ। সুতরাং আল্লাহ্‌র নিদর্শনাবলীর কোনটি তোমরা প্রত্যাখ্যান করবে?


৮২


اَفَلَمۡ یَسِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَیَنۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ؕ کَانُوۡۤا اَکۡثَرَ مِنۡہُمۡ وَاَشَدَّ قُوَّۃً وَّاٰثَارًا فِی الۡاَرۡضِ فَمَاۤ اَغۡنٰی عَنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یَکۡسِبُوۡنَ


আফালাম ইয়াছীরূফিল আরদিফাইয়ানজুরূকাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল্লাযীনা মিন কাবলিহিম কা-নূআকছারা মিনহুম ওয়া আশাদ্দা কুওওয়াতাঁও ওয়া আছা-রান ফিল আরদিফামাআগনা-‘আনহুম মা-কা-নূইয়াকছিবূন।


Mufti Taqi Usmani

Have they not traveled through the earth and seen how was the fate of those before them? Most of them were more in numbers than these, and superior in vigor and vestiges left on the earth. So then, whatever they used to earn did not work for them at all.


মুফতী তাকী উসমানী

তবে কি তারা ভূমিতে বিচরণ করে দেখেনি, তাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের পরিণাম কী হয়েছে? তারা সংখ্যায় তাদের চেয়ে বেশি ছিল এবং শক্তিতে ও পৃথিবীতে রেখে যাওয়া কীর্তিতেও তাদের উপরে ছিল। তা সত্ত্বেও তারা যা অর্জন করত তা তাদের কোন কাজে আসেনি।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি? করলে দেখত, তাদের পূর্ববর্তীদের কি পরিণাম হয়েছে। তারা তাদের চেয়ে সংখ্যায় বেশী এবং শক্তি ও কীর্তিতে অধিক প্রবল ছিল, অতঃপর তাদের কর্ম তাদেরকে কোন উপকার দেয়নি।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে নাই ও দেখে নাই এদের পূর্ববর্তীদের কী পরিণাম হয়েছিল ? পৃথিবীতে তারা ছিল এদের অপেক্ষা সংখ্যায় অধিক এবং শক্তিতে ও কীর্তিতে অধিক প্রবল। তারা যা করত তা তাদের কোন কাজে আসে নাই।


মাওলানা জহুরুল হক

ওরা কি তবে পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করে নি, তাহলে ওরা দেখতে পেতো কেমন হয়েছিল তাদের পরিণাম যারা ওদের পূর্ববর্তী ছিল? তারা ওদের চেয়ে অধিকসংখ্যক ছিল আর শক্তিতে প্রবলতর ও দুনিয়াতে কীর্তিস্থাপনে ছিল পারদর্শী। কিন্ত তারা যা অর্জন করে চলেছিল তা তাদের কোনো কাজে আসে নি।


৮৩


فَلَمَّا جَآءَتۡہُمۡ رُسُلُہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ فَرِحُوۡا بِمَا عِنۡدَہُمۡ مِّنَ الۡعِلۡمِ وَحَاقَ بِہِمۡ مَّا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ


ফালাম্মা-জাআতহুম রুছুলুহুম বিলবাইয়িনা-তি ফারিহূবিমা-‘ইনদাহুম মিনাল ‘ইলমি ওয়া হা-কা বিহিম মা-কা-নূবিহী ইয়াছতাহঝিঊন।


Mufti Taqi Usmani

When their messengers came to them with manifest signs, they exulted because of whatever knowledge they had, and they were encircled by what they used to ridicule.


মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং তাদের রাসূলগণ যখন তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আসল, তখনও তারা তাদের কাছে যে জ্ঞান ছিল তারই বড়াই করতে লাগল। ফলে তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত তাই তাদেরকে পরিবেষ্টন করে ফেলল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তাদের কাছে যখন তাদের রসূলগণ স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ আগমন করেছিল, তখন তারা নিজেদের জ্ঞান-গরিমার দম্ভ প্রকাশ করেছিল। তারা যে বিষয় নিয়ে ঠাট্টাবিদ্রুপ করেছিল, তাই তাদেরকে গ্রাস করে নিয়েছিল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এদের নিকট যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ এদের রাসূল আসত তখন এরা নিজেদের জ্ঞানের দম্ভ করত। এরা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত তাই এদেরকে বেষ্টন করল।


মাওলানা জহুরুল হক

তারপর যখন তাদের রসূলগণ তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে এসেছিলেন তখন তাদের কাছে জ্ঞানের যা রয়েছে সেজন্য তারা বেপরোয়া থাকতো, আর ওরা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রপ করত তাই তাদের ঘেরাও করল।


৮৪


فَلَمَّا رَاَوۡا بَاۡسَنَا قَالُوۡۤا اٰمَنَّا بِاللّٰہِ وَحۡدَہٗ وَکَفَرۡنَا بِمَا کُنَّا بِہٖ مُشۡرِکِیۡنَ


ফালাম্মা-রাআও বা’ছানা-কা-লূআ-মান্না-বিল্লা-হি ওয়াহদাহূওয়া কাফার না-বিমাকুন্না-বিহী মুশরিকীন।


Mufti Taqi Usmani

When they saw Our punishment, they said, “We have (now) come to believe in Allah alone, and We have rejected everything we used to ascribe (to Him) as partners.”


মুফতী তাকী উসমানী

অনন্তর তারা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন বলল, আমরা এক আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম আর আমরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক করতাম তাদেরকে অস্বীকার করলাম।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন বলল, আমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করলাম এবং যাদেরকে শরীক করতাম, তাদেরকে পরিহার করলাম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরপর এরা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল তখন বলল, ‘আমরা এক আল্লাহ্তেই ঈমান আনলাম এবং আমরা তাঁর সঙ্গে যাদেরকে শরীক করতাম তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করলাম।’


মাওলানা জহুরুল হক

সুতরাং তারা যখন আমাদের দুর্যোগ দেখতে পেল তখন বলল, "আমরা আল্লাহ্‌তে, তাঁর একত্বে, বিশ্বাস করছি, আর যাদের আমরা তাঁর সঙ্গে শরীক করেছিলাম তাদের আমরা অস্বীকার করছি।"


৮৫


فَلَمۡ یَکُ یَنۡفَعُہُمۡ اِیۡمَانُہُمۡ لَمَّا رَاَوۡا بَاۡسَنَا ؕ  سُنَّتَ اللّٰہِ الَّتِیۡ قَدۡ خَلَتۡ فِیۡ عِبَادِہٖ ۚ  وَخَسِرَ ہُنَالِکَ الۡکٰفِرُوۡنَ ٪


ফালাম ইয়াকুইয়ানফা‘উহুম ঈমা-নুহুম লাম্মা-রাআও বা’ছানা- ছুন্নাতাল্লা-হিল্লাতী কাদ খালাত ফী ‘ইবা-দিহী ওয়া খাছিরা হুনা-লিকাল কা-ফিরূন।


Mufti Taqi Usmani

But, their profession of faith was not (competent) to benefit them, once they had seen Our punishment - a customary practice of Allah that has been there all along in the matter of His servants - and hence, the disbelievers became the losers.


মুফতী তাকী উসমানী

কিন্তু তারা যখন আমার আযাব দেখে ফেলল, তখন আর তাদের ঈমান তাদের কোন উপকারে আসার ছিল না। জেনে রেখ, এটাই আল্লাহর রীতি, যা তার বান্দাদের মধ্যে পূর্ব থেকে চলে আসছে। আর সেক্ষেত্রে কাফেরগণ হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর তাদের এ ঈমান তাদের কোন উপকারে আসল না যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করল। আল্লাহর এ নিয়মই পূর্ব থেকে তাঁর বান্দাদের মধ্যে প্রচলিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে কাফেররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল তখন এদের ঈমান এদের কোন উপকারে এলো না। আল্লাহ্ র এই বিধান পূর্ব হতেই তাঁর বান্দাদের মধ্যে চলে আসছে এবং সেই ক্ষেত্রে কাফিররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


মাওলানা জহুরুল হক


Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
Post a Comment (0)

islamicinfohub Top Post Ad1

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !
To Top