সূরা ফাত্বির বাংলা উচ্চারণ সহ অনুবাদ,সূরা ফাত্বির বাংলা উচ্চারণ, সূরা আল ফাত্বির বাংলা তরজমা,সূরা ফাত্বির বাংলা তাফসীর, আমল সূরা আল ফাত্বির, সকল আমল সূরা আল ফাত্বির

0

 

৩৫ . ফাত্বির - ( فاطر ) | আদি স্রষ্টা

মাক্কী, মোট আয়াতঃ ৪৫


بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ


اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ فَاطِرِ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ جَاعِلِ الۡمَلٰٓئِکَۃِ رُسُلًا اُولِیۡۤ اَجۡنِحَۃٍ مَّثۡنٰی وَثُلٰثَ وَرُبٰعَ ؕ یَزِیۡدُ فِی الۡخَلۡقِ مَا یَشَآءُ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ


আল হামদুলিল্লা-হি ফা-তিরিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিজা‘ইলিল মালাইকাতি রুছুলান ঊলীআজনিহাতিম্মাছনা-ওয়া ছুলা-ছা ওয়া রুবা-‘আ ইয়াঝীদুফিল খালকিমা-ইয়াশাউ ইন্নাল্লা-হা আ‘লা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।


Mufti Taqi Usmani

All praise belongs to Allah, the Originator of the heavens and the earth, who appoints the angels as messengers having wings, in twos, threes and fours. He adds to the creation what He wills. Indeed, Allah is powerful to do every thing.


মুফতী তাকী উসমানী

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, যিনি ফেরেশতাদেরকে বার্তাবাহীরূপে নিযুক্ত করেছেন, যারা দু’-দুটি, তিন-তিনটি ও চার-চারটি পাখা বিশিষ্ট। তিনি তাঁর সৃষ্টিতে যা-ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন। ১ নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আসমান ও যমীনের স্রষ্টা এবং ফেরেশতাগণকে করেছেন বার্তাবাহক-তারা দুই দুই, তিন তিন ও চার চার পাখাবিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টি মধ্যে যা ইচ্ছা যোগ করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সক্ষম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সকল প্রশংসা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ র ই-যিনি বাণীবাহক করেন ফেরেশতাদেরকে যারা দুই দুই, তিন তিন বা চার চার পক্ষবিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন। আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।


মাওলানা জহুরুল হক

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র -- মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর আদিস্রষ্টা, ফিরিশ্‌তাদের সৃষ্টিকর্তা বাণীবাহকরূপে -- দুই বা তিন বা চারখানা ডানা সংযুক্ত। তিনি সৃষ্টির সঙ্গে বাড়াতে থাকেন যা-কিছু তিনি চান। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ সব-কিছুর উপরে সর্বশক্তি মান।


তাফসীরঃ

১. পূর্বের বাক্যের সাথে মিলিয়ে দেখলে এর অর্থ হয় এই যে, আল্লাহ তাআলা যে ফেরেশতার পাখা-সংখ্যা বাড়াতে চান বাড়িয়ে দেন। সুতরাং হাদীস দ্বারা জানা যায়, হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালামের ছয়শত পাখা আছে। কিন্তু শব্দ সাধারণ হওয়ায় যে-কোনও সৃষ্টিই এর অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির যাকে ইচ্ছা হয় তাকে বিশেষ কোন গুণ বেশি দান করেন।



مَا یَفۡتَحِ اللّٰہُ لِلنَّاسِ مِنۡ رَّحۡمَۃٍ فَلَا مُمۡسِکَ لَہَا ۚ وَمَا یُمۡسِکۡ ۙ فَلَا مُرۡسِلَ لَہٗ مِنۡۢ بَعۡدِہٖ ؕ وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ


মা ইয়াফতাহিল্লা-হু লিন্না-ছি মির রাহমাতিন ফালা-মুম ছিকা লাহা- ওয়া মা-ইউমছিক ফালা-মুরছিলা লাহূমিম বা‘দিহী ওয়া হুওয়াল ‘আঝীঝুল হাকীম।


Mufti Taqi Usmani

Whatever blessing Allah opens for the people, there is none to hold it back, and whatever He holds back, there is none to release it thereafter. He is the Mighty, the Wise.


মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহ মানুষের জন্য যে রহমত খুলে দেন, তা রোধ করার কেউ নেই, আর যা তিনি রুদ্ধ করেন, এমন কেউ নেই যে তারপর তা উন্মুক্ত করতে পারে। তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহ মানুষের জন্য অনুগ্রহের মধ্য থেকে যা খুলে দেন, তা ফেরাবার কেউ নেই এবং তিনি যা বারণ করেন, তা কেউ প্রেরণ করতে পারে না তিনি ব্যতিত। তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহ্ মানুষের প্রতি কোন অনুগ্রহ অবারিত করলে কেউ তা নিবারণকারী নেই এবং তিনি কিছু নিরুদ্ধ করতে চাইলে তৎপর কেউ এর উন্মুক্তকারী নেই। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।


মাওলানা জহুরুল হক

আল্লাহ্ লোকেদের জন্য করুণা থেকে যা খুলে ধরেন সেটি তবে রোধ করবার কেউ থাকবে না, আর যা তিনি রোধ করে রাখেন সেটি তবে এরপরে পাঠানোর কেউ থাকবে না। আর তিনি মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।



یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اذۡکُرُوۡا نِعۡمَتَ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ ؕ ہَلۡ مِنۡ خَالِقٍ غَیۡرُ اللّٰہِ یَرۡزُقُکُمۡ مِّنَ السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ ؕ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۫ۖ فَاَنّٰی تُؤۡفَکُوۡنَ


ইয়াআইয়ুহান্না-ছুযকুরূনি‘মাতাল্লা-হি ‘আলাইকুম হাল মিন খা-লিকিন গাইরুল্লা-হি ইয়ারঝুকুকুম মিনাছ ছামাই ওয়াল আরদি লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ফাআন্নাতু’ফাকূন।


Mufti Taqi Usmani

O mankind, remember Allah’s blessing upon you. Is there any creator other than Allah who gives you provision from the sky and the earth? There is no god but He. So, to where are you being turned around (by your desires)?


মুফতী তাকী উসমানী

হে মানুষ! আল্লাহ তোমাদের প্রতি যে নি‘আমত বর্ষণ করেছেন তা স্মরণ কর। আল্লাহ ছাড়া আর কোন খালেক আছে কি, যে আসমান ও যমীন থেকে তোমাদেরকে রিযক দান করে? তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। সুতরাং তোমরা বিপথগামী হয়ে কোন দিকে যাচ্ছ?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে মানুষ, তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর। আল্লাহ ব্যতীত এমন কোন স্রষ্টা আছে কি, যে তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে রিযিক দান করে? তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব তোমরা কোথায় ফিরে যাচ্ছ?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মানুষ! তোমাদের প্রতি আল্লাহ্ র অনুগ্রহ স্মরণ কর। আল্লাহ্ ব্যতীত কি কোন স্রষ্টা আছে, যে তোমাদেরকে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী হতে রিযিক দান করে ? তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই। সুতরাং কোথায় তোমরা বিপথে চালিত হচ্ছো ?


মাওলানা জহুরুল হক

ওহে মানবগোষ্ঠী! তোমাদের উপরে আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ স্মরণ করো। আল্লাহ্ ছাড়া কি অন্য স্রষ্টা রয়েছে যে মহাকাশ ও পৃথিবী থেকে তোমাদের জীবিকা দান করে? তিনি ব্যতীত অন্য উপাস্য নেই, সুতরাং কোথা থেকে তোমাদের ফেরানো হচ্ছে!



وَاِنۡ یُّکَذِّبُوۡکَ فَقَدۡ کُذِّبَتۡ رُسُلٌ مِّنۡ قَبۡلِکَ ؕ وَاِلَی اللّٰہِ تُرۡجَعُ الۡاُمُوۡرُ


ওয়া ইয়ঁইউকাযযিবূকা ফাকাদ কুযযিবাত রুছুলুম মিন কাবলিকা ওয়া ইলাল্লা-হি তুর জা‘উল উমূর।


Mufti Taqi Usmani

(O Prophet,) if they reject you, (it is not something new, because) many messengers have been rejected before you. It is to Allah that all matters are to be referred.


মুফতী তাকী উসমানী

এবং (হে রাসূল!) তারা যদি তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে, তবে তোমার পূর্বেও রাসূলগণকে মিথ্যাবাদী বলা হয়েছিল। যাবতীয় বিষয় শেষ পর্যন্ত আল্লাহরই কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা যদি আপনাকে মিথ্যাবাদী বলে, তবে আপনার পূর্ববর্তী পয়গম্বরগণকেও তো মিথ্যাবাদী বলা হয়েছিল। আল্লাহর প্রতিই যাবতীয় বিষয় প্রত্যাবর্তিত হয়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা যদি তোমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে তবে তোমার পূর্বেও রাসূলগণের প্রতি মিথ্যা আরোপ করা হয়েছিল। আল্লাহ্ র নিকটই সকল বিষয় প্রত্যানীত হবে।


মাওলানা জহুরুল হক

আর যদি তারা মিথ্যা আরোপ করে তবে তোমার আগেও রসূলগণ অবশ্য মিথ্যাবাদী আখ্যায়িত হয়েছিলেন। আর আল্লাহ্‌র তরফেই সব ব্যাপারকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।



یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اِنَّ وَعۡدَ اللّٰہِ حَقٌّ فَلَا تَغُرَّنَّکُمُ الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا ٝ وَلَا یَغُرَّنَّکُمۡ بِاللّٰہِ الۡغَرُوۡرُ


ইয়াআইয়ুহান্না-ছুইন্না ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুন ফালা-তাগুররান্নাকুমুল হায়াতুদ্দনইয়া- ওয়ালা-ইয়াগুররান্নাকুম বিল্লা-হিল গারূর।


Mufti Taqi Usmani

O mankind, Allah’s promise is definitely true, therefore, the worldly life must not deceive you, nor should you be deceived about Allah by the big deceiver (Satan).


মুফতী তাকী উসমানী

হে মানুষ! নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য। সুতরাং এই পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে কিছুতেই ধোঁকায় না ফেলে এবং আল্লাহর সম্পর্কেও যেন মহা ধোঁকাবাজ (শয়তান) তোমাদেরকে ধোঁকায় না ফেলে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে মানুষ, নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। সুতরাং, পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে প্রতারণা না করে। এবং সেই প্রবঞ্চক যেন কিছুতেই তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রবঞ্চিত না করে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মানুষ ! নিশ্চয়ই আল্লাহ্ র প্রতিশ্রুতি সত্য; সুতরাং পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে কিছুতেই প্রতারিত না করে এবং সেই প্রবঞ্চক যেন কিছুতেই আল্লাহ্ সম্পর্কে তোমাদেরকে প্রবঞ্চিত না করে।


মাওলানা জহুরুল হক

ওহে মানবগোষ্ঠী! নিঃসন্দেহ আল্লাহ্‌র ওয়াদা ধ্রুব সত্য, কাজেই এই দুনিয়ার জীবন তোমাদের যেন কিছুতেই প্রবঞ্চনা না করে।



اِنَّ الشَّیۡطٰنَ لَکُمۡ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوۡہُ عَدُوًّا ؕ  اِنَّمَا یَدۡعُوۡا حِزۡبَہٗ لِیَکُوۡنُوۡا مِنۡ اَصۡحٰبِ السَّعِیۡرِ ؕ


ইন্নাশশাইতা-না লাকুম ‘আদুওউন ফাত্তাখিযূহু আ‘দুওওয়ান ইন্নামা-ইয়াদ‘ঊ হিঝবাহূ লিইয়াকূনূমিন আসহা-বিছছা‘ঈর।


Mufti Taqi Usmani

Surely ShaiTān (Satan) is an enemy for you. So, take him as an enemy. He only invites his group (to falsehood) so that they become inmates of the blazing fire.


মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু। সুতরাং তাকে শত্রুই গণ্য করো। সে তার অনুসারীদেরকে দাওয়াত দেয় কেবল এ জন্যই, যাতে তারা জাহান্নামবাসী হয়ে যায়।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

শয়তান তোমাদের শত্রু; অতএব তাকে শত্রু রূপেই গ্রহণ কর। সে তার দলবলকে আহবান করে যেন তারা জাহান্নামী হয়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

শয়তান তো তোমাদের শত্রু ; সুতরাং তাকে শত্রু হিসেবে গ্রহণ কর। সে তো তার দলবলকে আহ্বান করে কেবল এজন্যে যে, এরা যেন জাহান্নামী হয়।


মাওলানা জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ শয়তান তোমাদের শত্রু, কাজেই তাকে শত্রু হিসেবে গ্রহণ কর! সে তো তার সাঙ্গোপাঙ্গকে কেবলই আহ্বান করে যেন তারা জ্বলন্ত আগুনের বাসিন্দা হয়।



اَلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَہُمۡ عَذَابٌ شَدِیۡدٌ ۬ؕ  وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَہُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ وَّاَجۡرٌ کَبِیۡرٌ ٪


আল্লাযীনা কাফারূলাহুম ‘আযা-বুন শাদীদুওঁ ওয়াল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসালিহা-তি লাহুম মাগফিরাতুওঁ ওয়া আজরুন কাবীর।


Mufti Taqi Usmani

Those who disbelieve will have a severe punishment; and those who believe and do righteous deeds will have forgiveness and a great reward.


মুফতী তাকী উসমানী

যারা কুফর অবলম্বন করেছে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য আছে মাগফিরাত ও মহা পুরস্কার।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা কুফর করে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর আযাব। আর যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও মহা পুরস্কার।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যারা কুফরী করে তাদের জন্যে আছে কঠিন শাস্তি এবং যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্যে আছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।


মাওলানা জহুরুল হক

যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের জন্য আছে কঠোর শাস্তি। পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে তাদের জন্য রয়েছে পরিত্রাণ ও এক বিরাট প্রতিদান।



اَفَمَنۡ زُیِّنَ لَہٗ سُوۡٓءُ عَمَلِہٖ فَرَاٰہُ حَسَنًا ؕ فَاِنَّ اللّٰہَ یُضِلُّ مَنۡ یَّشَآءُ وَیَہۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ ۫ۖ فَلَا تَذۡہَبۡ نَفۡسُکَ عَلَیۡہِمۡ حَسَرٰتٍ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلِیۡمٌۢ بِمَا یَصۡنَعُوۡنَ


আফামান ঝুইয়িনা লাহূছূউ ‘আমালিহী ফারাআ-হু হাছানান ফাইন্নাল্লা-হা ইউদিল্লুমাইঁ ইয়াশাউ ফালা-তাযহাব নাফছুকা ‘আলাইহিম হাছারাতিন ইন্নাল্লা-হা ‘আলীমুম বিমা-ইয়াসনা‘ঊন।


Mufti Taqi Usmani

Then, can the one whose evil deed is so much adorned for him that he deems it really good (be equal to the one who differentiates between good and evil)? The fact, therefore, is that Allah lets go astray whomsoever He wills, and leads to the right path whomsoever He wills. So, (O Prophet,) let not your soul collapse in grief for them. Surely Allah knows well what they are doing.


মুফতী তাকী উসমানী

তবে কি যার দৃষ্টিতে তার মন্দ কাজগুলো সুদৃশ্য করে দেখানো হয়েছে, ফলে সে তার মন্দ কাজকে ভালো মনে করে, (সে কি সৎকর্মশীল ব্যক্তির সমান হতে পারে?)। বস্তুত আল্লাহ যাকে চান বিপথগামী করেন আর যাকে চান সঠিক পথে পরিচালিত করেন। ২ সুতরাং (হে নবী!) এমন যেন না হয় যে, তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) জন্য আফসোস করতে করতে তোমার প্রাণটাই চলে যায়। নিশ্চয়ই তারা যা-কিছু করছে, সে সম্পর্কে আল্লাহ পূর্ণ জ্ঞাত।

(ads1)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#084dc4)

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যাকে মন্দকর্ম শোভনীয় করে দেখানো হয়, সে তাকে উত্তম মনে করে, সে কি সমান যে মন্দকে মন্দ মনে করে। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচছা সৎপথ প্রদর্শন করেন। সুতরাং আপনি তাদের জন্যে অনুতাপ করে নিজেকে ধ্বংস করবেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন তারা যা করে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কাউকেও যদি তার মন্দকর্ম শোভন করে দেখান হয় এবং সে এটাকে উত্তম মনে করে, সেই ব্যক্তি কি তার সমান যে সৎকর্ম করে ? আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন। অতএব এদের জন্যে আক্ষেপ করে তোমার প্রাণ যেন ধ্বংস না হয়। এরা যা করে নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা জানেন।


মাওলানা জহুরুল হক

কাউকেও যদি তার মন্দ কাজকে তার কাছে চিত্তাকর্ষক করা হয় এবং সেও এটি ভাল বলে দেখে সে কি তবে? সুতরাং আল্লাহ্ অবশ্য বিপথে চলতে দেন যাকে তিনি ইচ্ছা করেন, আর সৎপথে পরিচালিত করেন যাকে তিনি ইচ্ছা করেন। অতএব তুমি তাদের জন্য আক্ষেপের দ্বারা তোমার নিজেকে বিনাশ হতে দিয়ো না। নিঃসন্দেহ তারা যা করে সে সন্বন্ধে আল্লাহ্ সর্বজ্ঞাতা।


তাফসীরঃ

২. এর মানে এ নয় যে, আল্লাহ তাআলা যাকে চান জোরপূর্বক বিপথগামী করেন। বরং এর অর্থ হল, যখন কেউ হঠকারিতা করে নিজেই বিপথগামিতাকে বেছে নেয়, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে বিপথগামিতায় লিপ্ত রেখে তার অন্তরে মোহর করে দেন। দেখুন সূরা বাকারা (২ : ৭)।



وَاللّٰہُ الَّذِیۡۤ اَرۡسَلَ الرِّیٰحَ فَتُثِیۡرُ سَحَابًا فَسُقۡنٰہُ اِلٰی بَلَدٍ مَّیِّتٍ فَاَحۡیَیۡنَا بِہِ الۡاَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِہَا ؕ کَذٰلِکَ النُّشُوۡرُ


ওয়াল্লা-হুল্লাযীআরছালার রিইয়া-হা ফাতুছীরু ছাহা-বান ফাছুকনা-হু ইলা-বালাদিম মাইয়িতিন ফাআহইয়াইনা-বিহিল আরদা বা‘দা মাওতিহা- কাযা-লিকান নুশূর।


Mufti Taqi Usmani

Allah is the One who sends the winds, then they raise up the clouds, then We drive them to a dead land and revive the land through them after its death. In similar way shall be the Resurrection.


মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহই সেই সত্তা, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন, তারপর তা মেঘ সঞ্চারিত করে, তারপর আমি তা চালিয়ে নিয়ে যাই এমন নগরের দিকে, যা (খরার কারণে) নির্জীব হয়ে গেছে। তারপর আমি তা (অর্থাৎ বৃষ্টি) দ্বারা ভূমিকে তার মৃত্যুর পর সঞ্জীবিত করি। এভাবেই পুনরুত্থান হবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহই বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর সে বায়ু মেঘমালা সঞ্চারিত করে। অতঃপর আমি তা মৃত ভূ-খন্ডের দিকে পরিচালিত করি, অতঃপর তদ্বারা সে ভূ-খন্ডকে তার মৃত্যুর পর সঞ্জীবিত করে দেই। এমনিভাবে হবে পুনরুত্থান।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহ্ই বায়ু প্রেরণ করে তা দিয়ে মেঘমালা সঞ্চারিত করেন। এরপর আমি তা নির্জীব ভ‚খণ্ডের দিকে পরিচালিত করি, এরপর আমি তা দিয়ে ধরিত্রীকে এর মৃত্যুর পর সঞ্জীবিত করি। এইরূপেই মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করে উঠানো হবে।


মাওলানা জহুরুল হক

আর আল্লাহ্‌ই তিনি যিনি বায়ুপ্রবাহ পাঠান, ফলে এটি মেঘমালা সঞ্চালিত করে, তারপর আমরা তাকে নিয়ে যাই মৃত ভূখন্ডের দিকে, ফলে তার দ্বারা আমরা পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পরে জীবনদান করি। এইভাবেই পুনরুত্থান হয়।


১০


مَنۡ کَانَ یُرِیۡدُ الۡعِزَّۃَ فَلِلّٰہِ الۡعِزَّۃُ جَمِیۡعًا ؕ اِلَیۡہِ یَصۡعَدُ الۡکَلِمُ الطَّیِّبُ وَالۡعَمَلُ الصَّالِحُ یَرۡفَعُہٗ ؕ وَالَّذِیۡنَ یَمۡکُرُوۡنَ السَّیِّاٰتِ لَہُمۡ عَذَابٌ شَدِیۡدٌ ؕ وَمَکۡرُ اُولٰٓئِکَ ہُوَ یَبُوۡرُ


মান কা-না ইউরীদুল ‘ইঝঝাতা ফালিল্লা-হিল ‘ইঝঝাতুজামী‘আন ইলাইহি ইয়াস‘আদুল কালিমুততাইয়িবুওয়াল ‘আমালুসসা-লিহুইয়ারফা‘উহূ ওয়াল্লাযীনা ইয়ামকুরূনাছ ছাইয়িআ-তি লাহুম ‘আযা-বুন শাদীদুওঁ ওয়া মাকরূউলাইকা হুওয়া ইয়াবূর।


Mufti Taqi Usmani

Whoever desires honor, then all honor lies with Allah alone. Towards Him ascends the pure word, and the righteous deed uplifts it. As for those who plot evils, for them there is a severe punishment, and their plot itself will perish.


মুফতী তাকী উসমানী

যে ব্যক্তি মর্যাদা লাভ করতে চায় (সে জেনে রাখুক) সমস্ত মর্যাদা আল্লাহরই হাতে। পবিত্র কালেমা তাঁরই দিকে আরোহণ করে এবং সৎকর্ম তাকে উপরে তোলে। ৩ যারা মন্দ কাজের ষড়যন্ত্র করে, তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি আর তাদের ষড়যন্ত্র সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে যাবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

কেউ সম্মান চাইলে জেনে রাখুন, সমস্ত সম্মান আল্লাহরই জন্যে। তাঁরই দিকে আরোহণ করে সৎবাক্য এবং সৎকর্ম তাকে তুলে নেয়। যারা মন্দ কার্যের চক্রান্তে লেগে থাকে, তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি। তাদের চক্রান্ত ব্যর্থ হবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কেউ সম্মান ও ক্ষমতা চাইলে সে জেনে রাখুক, সকল সম্মান ও ক্ষমতা তো আল্লাহ্ র ই। তাঁরই দিকে পবিত্র বাণীসমূহ সমুত্থিত হয় এবং সৎকর্ম একে উন্নীত করে, আর যারা মন্দ কাজের ফন্দি আঁটে তাদের জন্যে আছে কঠিন শাস্তি। তাদের ফন্দি ব্যর্থ হবেই।


মাওলানা জহুরুল হক

যে কেউ মানসম্মান চায় সমস্ত মানসম্মান তো আল্লাহ্‌র। তাঁরই দিকে উত্থিত হয় সকল খাঁটি বাক্যালাপ, আর পূণ্যময় কাজ -- তিনি তার উন্নতি সাধন করেন। আর যারা মন্দ কাজের ফন্দি আঁটে তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি। আর এদের ফন্দি -- তা ব্যর্থ হবেই।


তাফসীরঃ

৩. ‘পবিত্র কালেমা’ বলতে মানুষ যা দ্বারা নিজ ঈমানের স্বীকারোক্তি দেয়, সেই কালেমাকে বোঝানো হয়েছে। তাছাড়া আল্লাহ তাআলার যিকির সম্পর্কিত অন্যান্য শব্দাবলীও এর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলার দিকে তার আরোহণ করার অর্থ তা তাঁর কাছে কবুল হয়ে যায়। আর সৎকর্ম যে তাকে উপরে তোলে তার মানে সৎকর্মের অছিলায় পবিত্র কালেমাসমূহ পরিপূর্ণরূপে কবুল হয়।


১১


وَاللّٰہُ خَلَقَکُمۡ مِّنۡ تُرَابٍ ثُمَّ مِنۡ نُّطۡفَۃٍ ثُمَّ جَعَلَکُمۡ اَزۡوَاجًا ؕ وَمَا تَحۡمِلُ مِنۡ اُنۡثٰی وَلَا تَضَعُ اِلَّا بِعِلۡمِہٖ ؕ وَمَا یُعَمَّرُ مِنۡ مُّعَمَّرٍ وَّلَا یُنۡقَصُ مِنۡ عُمُرِہٖۤ اِلَّا فِیۡ کِتٰبٍ ؕ اِنَّ ذٰلِکَ عَلَی اللّٰہِ یَسِیۡرٌ


ওয়াল্লা-হু খালাকাকুম মিন তুরা-বিন ছু ম্মা জা‘আলাকুম আঝওয়া-জাওঁ ওয়ামাতাহমিলুমিন উনছা-ওয়ালা-তাদা‘উ ইল্লা-বি‘ইলমিহী ওয়ামা-ইউ‘আম্মারু মিম মু‘আম্মারিওঁ ওয়ালা-ইউনকাসুমিন ‘উমুরিহী ইল্লা ফী কিতা-বিন ইন্না যা-লিকা ‘আলাল্লা-হি ইয়াছীর।


Mufti Taqi Usmani

Allah has created you from dust, then from a drop of semen, then He made you couples. No female conceives (a baby) nor gives birth (to it) without His knowledge; and no aged person is made to advance in age, nor is a part curtailed from his age, but all this is (recorded) in a book. Surely all this is easy for Allah.


মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহ তোমাদেরকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন তারপর শুক্রবিন্দু দ্বারা। তারপর তোমাদেরকে জোড়া-জোড়া বানিয়ে দিয়েছেন। নারী যা গর্ভে ধারণ করে এবং যা সে প্রসব করে তা আল্লাহর জ্ঞাতসারেই করে। কোন দীর্ঘায়ু ব্যক্তিকে যে আয়ু দেওয়া হয় এবং তার আয়ুতে যা হ্রাস করা হয়, তা সবই এক কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। ৪ বস্তুত এসব কিছুই আল্লাহর পক্ষে অতি সহজ।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহ তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে, তারপর করেছেন তোমাদেরকে যুগল। কোন নারী গর্ভধারণ করে না এবং সন্তান প্রসব করে না; কিন্তু তাঁর জ্ঞাতসারে। কোন বয়স্ক ব্যক্তি বয়স পায় না। এবং তার বয়স হ্রাস পায় না; কিন্তু তা লিখিত আছে কিতাবে। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহ্ তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মৃত্তিকা হতে ; এরপর শুক্রবিন্দু হতে, এরপর তোমাদেরকে করেছেন যুগল ! আল্লাহ্ র অজ্ঞাতসারে কোন নারী গর্ভধারণ করে না এবং প্রসবও করে না। কোন দীর্ঘায়ু ব্যক্তির আয়ু বৃদ্ধি করা হয় না এবং তার আয়ু হ্রাস করা হয় না, কিন্তু তা তো রয়েছে ‘কিতাবে’। এটা আল্লাহ্ র জন্যে সহজ।


মাওলানা জহুরুল হক

আর আল্লাহ্ তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর শুক্রকীট থেকে, তারপরে তিনি তোমাদের বানিয়েছেন যুগল। আর কোনো নারী গর্ভধারণ করে না অথবা প্রসব করে না তাঁর জানার বাইরে। আর কোনো বয়স্ক লোকের বয়েস বাড়ে না এবং তার বয়েস থেকে কিছু কমেও না, বরং তা রয়েছে কিতাবে। এটি নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌র পক্ষে সহজসাধ্য।


তাফসীরঃ

৪. এর ইশারা ‘লাওহে মাহফুজ’-এর প্রতি।


১২


وَمَا یَسۡتَوِی الۡبَحۡرٰنِ ٭ۖ ہٰذَا عَذۡبٌ فُرَاتٌ سَآئِغٌ شَرَابُہٗ وَہٰذَا مِلۡحٌ اُجَاجٌ ؕ وَمِنۡ کُلٍّ تَاۡکُلُوۡنَ لَحۡمًا طَرِیًّا وَّتَسۡتَخۡرِجُوۡنَ حِلۡیَۃً تَلۡبَسُوۡنَہَا ۚ وَتَرَی الۡفُلۡکَ فِیۡہِ مَوَاخِرَ لِتَبۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِہٖ وَلَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ


ওয়ামা-ইয়াছতাবিলবাহরা-নি হা-যা-‘আযবুন ফুরা-তুন ছাইগুন শারা-বুহূওয়া হা-যা-মিলহুন উজা-জুওঁ ওয়া মিন কুল্লিন তা’কুলূনা লাহমান তারিইইয়াওঁ ওয়া তাছতাখরিজূনা হিলয়াতান তালবাছূনাহা-ওয়া তারাল ফুলকা ফীহি মাওয়া-খিরাঁলিতাবতাগু মিন ফাদলিহী ওয়া লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন।


Mufti Taqi Usmani

And two seas are not alike; this one is sweet, saturating, pleasant to drink, and that one is salt, bitter. But from each, you eat fresh meat, and derive ornaments that you wear. And you see the boats therein cleaving through water, so that you may search for His grace, and that you may be grateful.


মুফতী তাকী উসমানী

দু’টি দরিয়া সমান নয়। একটি মিঠা, তৃষ্ণা নিবারক, সুপেয় আর অন্যটি অতি লোনা। প্রত্যেকটি থেকেই তোমরা খাও (মাছের) তাজা গোশত ও আহরণ কর অলংকার, যা তোমরা পরিধান কর। আর তোমরা জলযানসমূহকে দেখ তা (দরিয়ার) পানি চিরে চলাচল করে, যাতে তোমরা অনুসন্ধান করতে পার আল্লাহর অনুগ্রহ ৫ এবং যাতে তোমরা শোকর আদায় কর।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

দু’টি সমুদ্র সমান হয় না-একটি মিঠা ও তৃষ্ণানিবারক এবং অপরটি লোনা। ঊভয়টি থেকেই তোমরা তাজা গোশত (মৎস) আহার কর এবং পরিধানে ব্যবহার্য গয়নাগাটি আহরণ কর। তুমি তাতে তার বুক চিরে জাহাজ চলতে দেখ, যাতে তোমরা তার অনুগ্রহ অন্বেষণ কর এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

দরিয়া দুইটি একরূপ নয় : একটির পানি সুমিষ্ট ও সুপেয়, অপরটির পানি লোনা, খর। প্রত্যেকটি হতে তোমরা তাজা গোশ্ত আহার কর এবং আহরণ কর অলংকার যা তোমরা পরিধান কর, এবং তোমরা দেখ এর বুক চিরিয়া নৌযান চলাচল করে যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করতে পার এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।


মাওলানা জহুরুল হক

আর দুটি সাগর একসমান নয়, এই একটি বিশুদ্ধ, তৃষ্ণানিবারক, যার পানকরণ সুমিষ্ট, আর এইটি লোনা, বিস্বাদ। তবুও তাদের প্রত্যেকটি থেকে তোমরা টাটকা মাংস খাও, আর বের করে আনো অলংকার যা তোমরা পরো। আর তুমি দেখতে পাও জাহাজগুলো তাতে বুকচিরে চলছে যেন তোমরা তাঁর করুণাভান্ডার থেকে রোজগার করতে পারো, আর যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো।


তাফসীরঃ

৫. পূর্বে একাধিকবার বলা হয়েছে, কুরআন মাজীদের পরিভাষায় আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ সন্ধানের অর্থ ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে জীবিকা আহরণ করা। এ পরিভাষার ভেতর ইঙ্গিত রয়েছে যে, মানুষ যা কামাই-রোজগার করে, তাকে তারা তাদের মেহনতের ফসল মনে করে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ। তিনি অনুগ্রহ না করলে তাদের যাবতীয় মেহনত বৃথা যেত, তাদের অর্জিত হত না কিছুই। সুতরাং যা-কিছু রোজগার হয়, তার জন্য আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করা উচিত।


১৩


یُوۡلِجُ الَّیۡلَ فِی النَّہَارِ وَیُوۡلِجُ النَّہَارَ فِی الَّیۡلِ ۙ  وَسَخَّرَ الشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَ ۫ۖ  کُلٌّ یَّجۡرِیۡ لِاَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ  ذٰلِکُمُ اللّٰہُ رَبُّکُمۡ لَہُ الۡمُلۡکُ ؕ  وَالَّذِیۡنَ تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِہٖ مَا یَمۡلِکُوۡنَ مِنۡ قِطۡمِیۡرٍ ؕ


ইঊলিজুল্লাইলা ফিন্নাহা-রি ওয়া ইঊলিজুন্নাহা-রা ফিল্লাইলি ওয়া ছাখখারাশশামছা ওয়াল কামারা কুল্লুইঁ ইয়াজরী লিআজালিম মুছাম্মান যা-লিকুমুল্লা-হু রাব্বাকুম লাহুল মুলকু ওয়াল্লাযীনা তাদ‘ঊনা মিন দূ নিহী মা-ইয়ামলিকূনা মিন কিতমীর।


Mufti Taqi Usmani

He makes the night enter into the day and makes the day enter into the night, and He has subjugated the sun and the moon; each one of them is running towards an appointed time. That is Allah, your Lord. To Him belongs the kingdom. And those whom you invoke beside Him do not own even the membrane on a date-stone.


মুফতী তাকী উসমানী

তিনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবিষ্ট করান এবং দিনকে প্রবিষ্ট করান রাতের মধ্যে। তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে লাগিয়ে রেখেছেন। (এর) প্রত্যেকটি এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে। ইনিই আল্লাহ তোমাদের প্রতিপালক। সকল রাজত্ব তাঁরই। তাঁকে ছেড়ে যাদেরকে (অর্থাৎ যেসব অলীক প্রভুকে) তোমরা ডাক, তারা খেজুর বীচির আবরণের সমানও কিছুর অধিকার রাখে না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তিনি রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন। তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকটি আবর্তন করে এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত। ইনি আল্লাহ; তোমাদের পালনকর্তা, সাম্রাজ্য তাঁরই। তাঁর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে ডাক, তারা তুচ্ছ খেজুর আঁটিরও অধিকারী নয়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করান এবং দিবসকে প্রবিষ্ট করান রাত্রিতে, তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে করেছেন নিয়মাধীন ; প্রত্যেকে পরিভ্রমণ করে এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত। তিনিই আল্লাহ্, তোমাদের প্রতিপালক। আধিপত্য তাঁরই। এবং তোমরা আল্লাহ্ র পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তারা তো খর্জুর আঁটির আবরণেরও অধিকারী নয়।


মাওলানা জহুরুল হক

তিনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান ও দিনকে প্রবেশ করান রাতের মধ্যে, আর তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়ন্ত্রণাধীন করেছেন -- প্রত্যেকটিই ভেসে চলে এক নির্দিষ্টকালের জন্য। এই হচ্ছেন আল্লাহ্‌, তোমাদের প্রভু, তাঁরই হচ্ছে সার্বভৌমত্ব। কিন্তু তাঁকে বাদ দিয়ে যাদের তোমরা ডাক তারা তো তুচ্ছ কিছুরও ক্ষমতা রাখে না।


১৪


اِنۡ تَدۡعُوۡہُمۡ لَا یَسۡمَعُوۡا دُعَآءَکُمۡ ۚ  وَلَوۡ سَمِعُوۡا مَا اسۡتَجَابُوۡا لَکُمۡ ؕ  وَیَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ یَکۡفُرُوۡنَ بِشِرۡکِکُمۡ ؕ  وَلَا یُنَبِّئُکَ مِثۡلُ خَبِیۡرٍ ٪


ইন তাদ‘ঊহুম লা-ইয়াছমা‘ঊ দু‘আআকুম ওয়ালাও ছামি‘ঊ মাছতাজা-বূলাকুম ওয়া ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ইয়াকফুরূনা বিশিরকিকুম ওয়া লা-ইউনাব্বিউকা মিছলু খাবীর।


Mufti Taqi Usmani

If you call them, they do not hear your call, and even if they were to hear, they would not respond to you. And on the Day of Judgment they will deny your having held them as Allah’s partners. And none can inform you like Him who is Aware.


মুফতী তাকী উসমানী

তোমরা তাদেরকে ডাকলে তারা তোমাদের ডাক শুনবেই না আর শুনলেও তোমাদেরকে কোন সাড়া দিতে পারবে না। কিয়ামতের দিন তারা নিজেরাই তোমাদের শিরককে অস্বীকার করবে। যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে অবগত সত্তার মত সঠিক সংবাদ তোমাকে আর কেউ দিতে পারবে না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমরা তাদেরকে ডাকলে তারা তোমাদের সে ডাক শুনে না। শুনলেও তোমাদের ডাকে সাড়া দেয় না। কেয়ামতের দিন তারা তোমাদের শেরক অস্বীকার করবে। বস্তুতঃ আল্লাহর ন্যায় তোমাকে কেউ অবহিত করতে পারবে না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা তাদেরকে আহ্বান করলে তারা তোমাদের আহ্বান শুনবে না এবং শুনলেও তোমাদের আহবানে সাড়া দিবে না। তোমরা তাদেরকে যে শরীক করেছ তা এরা কিয়ামতের দিন অস্বীকার করবে। সর্বজ্ঞের ন্যায় কেউই তোমাকে অবহিত করতে পারে না।


মাওলানা জহুরুল হক

যদি তোমরা তাদের ডাক তারা তোমাদের ডাক শুনবে না, আর তারা যদিও শুনতে পায় তবু তারা তোমাদের প্রতি সাড়া দেবে না। আর কিয়ামতের দিনে তারা অস্বীকার করবে তোমাদের শরীক করার কথা। আর কেউ তোমাকে জানাতে পারে না পূর্ণ- ওয়াকিফহালের।


১৫


یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اَنۡتُمُ الۡفُقَرَآءُ اِلَی اللّٰہِ ۚ وَاللّٰہُ ہُوَ الۡغَنِیُّ الۡحَمِیۡدُ


ইয়াআইয়ুহান্না-ছুআনতুমুল ফুকারাউ ইলাল্লা-হি ওয়াল্লা-হু হুওয়াল গানিইয়ুল হামীদ।


Mufti Taqi Usmani

O men, you are the ones who need Allah, and Allah is Free-of-All-Needs, the Ever-Praised.


মুফতী তাকী উসমানী

হে মানুষ! তোমরা সকলেই আল্লাহর মুখাপেক্ষী, কিন্তু আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন এবং তিনি আপনিই প্রশংসার উপযুক্ত। ৬


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে মানুষ, তোমরা আল্লাহর গলগ্রহ। আর আল্লাহ; তিনি অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মানুষ! তোমরা তো আল্লাহ্ র মুখাপেক্ষী; কিন্তু আল্লাহ্, তিনি অভাবমুক্ত, প্রশংসার্হ।


মাওলানা জহুরুল হক

ওহে মানবজাতি! তোমরা তো আল্লাহ্‌র মুখাপেক্ষী, -- আর আল্লাহ্‌, তিনি স্বয়ংসমৃদ্ধ, পরম প্রশংসিত।


তাফসীরঃ

৬. অর্থাৎ কেউ তাঁর ইবাদত করুক বা না করুক, তাঁর প্রশংসায় লিপ্ত হোক বা না হোক তার কোন ঠেকা আল্লাহ তাআলার নেই। তিনি এসবের মুখাপেক্ষী নন। তিনিই বেনিয়ায এবং তিনি সত্তাগতভাবেই প্রশংসার উপযুক্ত।


১৬


اِنۡ یَّشَاۡ یُذۡہِبۡکُمۡ وَیَاۡتِ بِخَلۡقٍ جَدِیۡدٍ ۚ


ইয়ঁইয়াশা’ ইউযহিবকুম ওয়া ইয়া’তি বিখালকিন জাদীদ।


Mufti Taqi Usmani

If He so wills, He can do away with you and bring a new creation.


মুফতী তাকী উসমানী

তিনি চাইলে তোমাদের সকলকে ধ্বংস করে দিতে পারেন এবং অস্তিত্বে আনয়ন করতে পারেন এক নতুন সৃষ্টিকে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে বিলুপ্ত করে এক নতুন সৃষ্টির উদ্ভব করবেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে অপসৃত করতে পারেন এবং এক নূতন সৃষ্টি আনয়ন করতে পারেন।


মাওলানা জহুরুল হক

যদি তিনি চান তবে তিনি তোমাদের গত করে দেবেন এবং নিয়ে আসবেন এক নতুন সৃষ্টি, --


১৭


وَمَا ذٰلِکَ عَلَی اللّٰہِ بِعَزِیۡزٍ


ওয়ামা-যা-লিকা ‘আলাল্লা-হি বি‘আঝীঝ।


Mufti Taqi Usmani

For Allah, that is not something difficult.


মুফতী তাকী উসমানী

আর এ কাজ আল্লাহর জন্য কিছুমাত্র কঠিন নয়।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এটা আল্লাহর পক্ষে কঠিন নয়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এটা আল্লাহ্ র পক্ষে কঠিন নয়।


মাওলানা জহুরুল হক

আর এটি আল্লাহ্‌র জন্যে মোটেই কঠিন নয়।


১৮


وَلَا تَزِرُ وَازِرَۃٌ وِّزۡرَ اُخۡرٰی ؕ وَاِنۡ تَدۡعُ مُثۡقَلَۃٌ اِلٰی حِمۡلِہَا لَا یُحۡمَلۡ مِنۡہُ شَیۡءٌ وَّلَوۡ کَانَ ذَا قُرۡبٰی ؕ اِنَّمَا تُنۡذِرُ الَّذِیۡنَ یَخۡشَوۡنَ رَبَّہُمۡ بِالۡغَیۡبِ وَاَقَامُوا الصَّلٰوۃَ ؕ وَمَنۡ تَزَکّٰی فَاِنَّمَا یَتَزَکّٰی لِنَفۡسِہٖ ؕ وَاِلَی اللّٰہِ الۡمَصِیۡرُ


ওয়ালা-তাঝিরু ওয়া-ঝিরাতুওঁবিঝরা উখরা- ওয়া ইন তাদ‘উ মুছকালাতুন ইলাহিম লিহা-লা-ইউহমাল মিনহু শাইয়ুওঁ ওয়ালাও কা-না যা-কুরবা- ইন্নামাতুনযিরুল্লাযীনা ইয়াখশাওনা রাব্বাহুম বিলগাইবি ওয়া আকামুসসালা-তা ওয়া মান তাঝাক্কা-ফাইন্নামা-ইয়াতাঝাক্কা-লিনাফছিহী ওয়া ইলাল্লা-হিল মাসীর।


Mufti Taqi Usmani

No bearer will bear the burden of any other person. If a person carrying a heavy load calls (someone) to (share) his load, nothing from it shall be carried (by the latter), even though he be a near of kin. You can warn only those who fear their Lord, while He is unseen, and establish Salāh. Whoever gets purified gets purified for his own benefit. And to Allah is the final return.


মুফতী তাকী উসমানী

কোন ভার বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না এবং যার উপর ভারী বোঝা চাপানো থাকবে সে অন্য কাউকে তা বহন করার জন্য ডাকলে, তা থেকে কিছুই বহন করা হবে না যদিও সে (অর্থাৎ যাকে বোঝা বহনের জন্য ডাকা হবে সে) কোন নিকটাত্নীয় হয়। (হে নবী!) তুমি তো কেবল তাদেরকেই সতর্ক করতে পার, যারা তাদের প্রতিপালককে না দেখে ভয় করে এবং যারা নামায কায়েম করে। কেউ পবিত্র হলে সে তো নিজেরই কল্যাণার্থে পবিত্র হয়। শেষ পর্যন্তআল্লাহরই কাছে (সকলের) প্রত্যাবর্তন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। কেউ যদি তার গুরুতর ভার বহন করতে অন্যকে আহবান করে কেউ তা বহন করবে না-যদি সে নিকটবর্তী আত্নীয়ও হয়। আপনি কেবল তাদেরকে সতর্ক করেন, যারা তাদের পালনকর্তাকে না দেখেও ভয় করে এবং নামায কায়েম করে। যে কেউ নিজের সংশোধন করে, সে সংশোধন করে, স্বীয় কল্যাণের জন্যেই আল্লাহর নিকটই সকলের প্রত্যাবর্তন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কোন বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না; কোন ভারাক্রান্ত ব্যক্তি যদি কাউকেও এটা বহন করতে আহবান করে তবে এর কিছুই বহন করা হবে না-সে নিকট-আত্মীয় হলেও। তুমি কেবল তাদেরকেই সতর্ক করতে পার যারা তাদের প্রতিপালককে না দেখে ভয় করে এবং সালাত কায়েম করে। যে কেউ নিজকে পরিশোধন করে সে তো পরিশোধন করে নিজেরই কল্যাণের জন্যে। আল্লাহ্ র ই দিকে প্রত্যাবর্তন।


মাওলানা জহুরুল হক

আর কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বইবে না। আর গুরুভারে পীড়িত কেউ যদি তার বোঝার জন্যে ডাকে, তা থেকে কিছুই বয়ে নেওয়া হবে না, যদিও সে নিকটা‌ত্মীয় হয়। তুমি তো সাবধান করতে পার কেবলমাত্র তাদের যারা তাদের প্রভুকে ভয় করে আড়ালে, আর নামায কায়েম করে। আর যে কেউ নিজেকে পবিত্র করে, সে তো তবে পবিত্র করে তার নিজেরই জন্যে। আর আল্লাহ্‌র কাছেই প্রত্যাবর্তন।


১৯


وَمَا یَسۡتَوِی الۡاَعۡمٰی وَالۡبَصِیۡرُ ۙ


ওয়ামা-ইয়াছতাবিল আ‘মা-ওয়াল বাসীর।


Mufti Taqi Usmani

The blind and the sighted are not equal,


মুফতী তাকী উসমানী

অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান হতে পারে না


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

দৃষ্টিমান ও দৃষ্টিহীন সমান নয়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সমান নয় অন্ধ ও চক্ষুষ্মান,


মাওলানা জহুরুল হক

আর অন্ধ ও চক্ষুষ্মান একসমান নয়,


২০


وَلَا الظُّلُمٰتُ وَلَا النُّوۡرُ ۙ


ওয়ালাজ্জুলুমা-তুওয়ালান্নূর।


Mufti Taqi Usmani

nor are darkness and light,


মুফতী তাকী উসমানী

এবং অন্ধকার ও আলোও না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সমান নয় অন্ধকার ও আলো।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর না অন্ধকার ও আলো,


মাওলানা জহুরুল হক

আর অন্ধকার ও আলোকও নয়,


২১


وَلَا الظِّلُّ وَلَا الۡحَرُوۡرُ ۚ


ওয়ালাজ্জিল্লুওয়ালাল হারূর।


Mufti Taqi Usmani

nor shade and heat of the sun.


মুফতী তাকী উসমানী

আর না ছায়া ও রোদ।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সমান নয় ছায়া ও তপ্তরোদ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর না ছায়া ও রৌদ্র,


মাওলানা জহুরুল হক

আর ছায়া ও উত্তপ্ত নৈশ-বায়ুপ্রবাহও নয়।


২২


وَمَا یَسۡتَوِی الۡاَحۡیَآءُ وَلَا الۡاَمۡوَاتُ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یُسۡمِعُ مَنۡ یَّشَآءُ ۚ وَمَاۤ اَنۡتَ بِمُسۡمِعٍ مَّنۡ فِی الۡقُبُوۡرِ


ওয়ামা-ইয়াছতাবিল আহইয়াউ ওয়ালাল আমওয়া-তু ইন্নাল্লা-হা ইউছমি‘উ মাইঁ ইয়াশাউ ওয়ামাআনতা বিমুছমি‘ইম মান ফিল কুবূর।


Mufti Taqi Usmani

And the living and the dead are not alike. Allah makes to hear whomsoever He wills. And you cannot make to hear those who are in the graves.


মুফতী তাকী উসমানী

এবং সমান হতে পারে না জীবিত ও মৃত। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা কথা শুনিয়ে দেন। যারা কবরে আছে, তুমি তাদেরকে কথা শোনাতে পারবে না। ৭


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আরও সমান নয় জীবিত ও মৃত। আল্লাহ শ্রবণ করান যাকে ইচ্ছা। আপনি কবরে শায়িতদেরকে শুনাতে সক্ষম নন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং সমান নয় জীবিত ও মৃত। আল্লাহ্ই যাকে ইচ্ছা শোনান; তুমি শোনাতে সমর্থ হবে না যারা কবরে রয়েছে তাদেরকে।


মাওলানা জহুরুল হক

আর জীবন্ত এবং মৃতও একসমান নয়। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা করেন তাকে শুনিয়ে থাকেন, আর যারা কবরে রয়েছে তাদের তুমি শোনাতে সক্ষম নও।


তাফসীরঃ

৭. যারা জিদ ও হঠকারিতার দ্বারা নিজেদের জন্য সত্য গ্রহণের সকল দুয়ার বন্ধ করে রেখেছে, তাদেরকে প্রথমত অন্ধের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং তাদের কুফরীকে অন্ধকারের সাথে। এর শাস্তি স্বরূপ তাদেরকে জাহান্নামের যে শাস্তি ভোগ করতে হবে তাকে তুলনা করা হয়েছে রোদের সাথে। এর বিপরীতে সত্যের অনুসারীদেরকে চক্ষুষ্মানের সাথে, তাদের দীনকে আলোর সাথে এবং জান্নাতে তারা যে নি‘আমত লাভ করবে তাকে ছায়ার দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে। তারপর বলা হয়েছে, যারা সত্য গ্রহণের যোগ্যতা খতম করে ফেলেছে তারা তো মৃততুল্য। মৃতদেরকে আপনি নিজ এখতিয়ারে কিছু শোনাতে পারবেন না। এভাবে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সান্তনা দেওয়া হয়েছে যে, তারা সত্য কবুল না করলে আপনি সেজন্য আক্ষেপ করবেন না। তাছাড়া তাদের দ্বারা কবুল করানোর কোন দায়িত্বও আপনার উপর অর্পিত হয়নি।


২৩


اِنۡ اَنۡتَ اِلَّا نَذِیۡرٌ


ইন আনতা ইল্লা-নাযীর।


Mufti Taqi Usmani

You are but a warner.


মুফতী তাকী উসমানী

তুমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আপনি তো কেবল একজন সতর্ককারী।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি একজন সতর্ককারী মাত্র।


মাওলানা জহুরুল হক

তুমি একজন সতর্ককারী বৈ তো নও।


২৪


اِنَّاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ بِالۡحَقِّ بَشِیۡرًا وَّنَذِیۡرًا ؕ وَاِنۡ مِّنۡ اُمَّۃٍ اِلَّا خَلَا فِیۡہَا نَذِیۡرٌ


ইন্নাআরছালনা-কা বিলহাক্কিবাশীরাওঁ ওয়া নাযীরাওঁ ওয়া ইম মিন উম্মাতিন ইল্লাখালা-ফীহা-নাযীর।


Mufti Taqi Usmani

Surely We have sent you with truth as a bearer of good news and as a warner, and there was no community without a warner having passed among them.


মুফতী তাকী উসমানী

আমি তোমাকে সত্যবাণীসহ প্রেরণ করেছি একজন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। এমন কোন জাতি নেই, যাদের কাছে কোন সতর্ককারী আসেনি।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি আপনাকে সত্যধর্মসহ পাঠিয়েছি সংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। এমন কোন সম্প্রদায় নেই যাতে সতর্ককারী আসেনি।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তো তোমাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে; এমন কোন সম্প্রদায় নেই যার নিকট সতর্ককারী প্রেরিত হয় নাই।


মাওলানা জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ আমরা তোমাকে পাঠিয়েছি সত্যের সঙ্গে -- সুসংবাদদাতারূপে ও সতর্ককারীরূপে। আর এমন কোন সম্প্রদায় নেই যাদের মধ্যে একজন সতর্ককারী না গেছেন।


২৫


وَاِنۡ یُّکَذِّبُوۡکَ فَقَدۡ کَذَّبَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ۚ جَآءَتۡہُمۡ رُسُلُہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ وَبِالزُّبُرِ وَبِالۡکِتٰبِ الۡمُنِیۡرِ


ওয়া ইয়ঁইউকাযযিবূকা ফাকাদ কাযযাবাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম জাআতহুম রুছুলহুম বিলবাইয়িনা-তি ওয়া বিঝঝুবুরি ওয়া বিলকিতা-বিল মুনীর।


Mufti Taqi Usmani

If they reject you, (it is not something new, because) those before them have (also) rejected (messengers). Their messengers came to them with clear proofs and with scriptures and with the enlightening book.


মুফতী তাকী উসমানী

তারা যদি তোমার প্রতি মিথ্যাবাদী বলে, তবে তাদের আগে যারা ছিল, তারাও (অর্থাৎ সেই কাফেরগণও রাসূলগণকে মিথ্যাবাদী বলেছিল। তাদের রাসূলগণ তাদের কাছে এসেছিল সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী, সহীফা ও দীপ্তিমান কিতাবসহ।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা যদি আপনার প্রতি মিথ্যারোপ করে, তাদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যারোপ করেছিল। তাদের কাছে তাদের রসূলগণ স্পষ্ট নিদর্শন, সহীফা এবং উজ্জল কিতাবসহ এসেছিলেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা যদি তোমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে তবে এদের পূর্ববর্তীগণও তো মিথ্যা আরোপ করেছিল-তাদের নিকট এসেছিল তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শন, গ্রন্থাদি ও দীপ্তিমান কিতাবসহ।


মাওলানা জহুরুল হক

আর এরা যদি তোমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে তাহলে এদের আগে যারা ছিল তারাও মিথ্যা আরোপ করেছিল, তাদের কাছে তাদের রসূলগণ এসেছিলেন সুস্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে, আর ধর্মগ্রন্থাবলী নিয়ে ও উজ্জ্বল গ্রন্থ নিয়ে।


২৬


ثُمَّ اَخَذۡتُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا فَکَیۡفَ کَانَ نَکِیۡرِ ٪


ছু ম্মা আখাযতুল্লায ীনা কাফারূফাকাইফা কা-না নাকীর।


Mufti Taqi Usmani

Then I seized those who disbelieved. So, how was My censure !


মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর যারা অস্বীকৃতির পন্থা অবলম্বন করেছিল আমি তাদেরকে পাকড়াও করি। সুতরাং দেখ আমার শাস্তি কেমন (ভয়ানক) ছিল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর আমি কাফেরদেরকে ধৃত করেছিলাম। কেমন ছিল আমার আযাব!


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরপর আমি কাফিরদেরকে শাস্তি দিয়েছিলাম। কী ভয়ংকর আমার শাস্তি!


মাওলানা জহুরুল হক

তারপর আমি তাদের পাকড়াও করলাম যারা অবিশ্বাস পোষণ করেছিল, সুতরাং কেমন হয়েছিল তাদের প্রতি আমার বিতৃষ্ণা!


২৭


اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً ۚ فَاَخۡرَجۡنَا بِہٖ ثَمَرٰتٍ مُّخۡتَلِفًا اَلۡوَانُہَا ؕ وَمِنَ الۡجِبَالِ جُدَدٌۢ بِیۡضٌ وَّحُمۡرٌ مُّخۡتَلِفٌ اَلۡوَانُہَا وَغَرَابِیۡبُ سُوۡدٌ


আলাম তারা-আন্নাল্লাহা আনঝালা মিনাছছামাই মা-আন ফাআখরাজনা-বিহী ছামারাতিম মুখতালিফান আলওয়া-নুহা- ওয়া মিনাল জিবা-লি জুদাদুম বীদুওঁ ওয়া হুম রুম মুখতালিফুন আলওয়া-নুহা-ওয়া গারা-বীবুছূদ।


Mufti Taqi Usmani

Did you not see that Allah has sent down water from the sky? Then We brought forth with it fruits having different colours. And among the mountains there are tracks, white and red- of different colours, and ( others) utterly black.


মুফতী তাকী উসমানী

তুমি কি দেখনি আল্লাহ আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেছেন, তারপর আমি তা দ্বারা বিচিত্র বর্ণের ফল-ফলাদি উৎপন্ন করেছি? আর পাহাড়ের মধ্যেও আছে বিচিত্র বর্ণের অংশ সাদা, লাল ও নিকষ কালো।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তুমি কি দেখনি আল্লাহ আকাশ থেকে বৃষ্টিবর্ষণ করেন, অতঃপর তদ্দ্বারা আমি বিভিন্ন বর্ণের ফল-মূল উদগত করি। পর্বতসমূহের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বর্ণের গিরিপথ-সাদা, লাল ও নিকষ কালো কৃষ্ণ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি কি দেখ না, আল্লাহ্ আকাশ হতে বৃষ্টিপাত করেন; এবং আমি এটা দিয়ে বিচিত্র বর্ণের ফলমূল উদ্গত করি। আর পাহাড়ের মধ্যে আছে বিচিত্র বর্ণের পথ-শুভ্র, লাল ও নিকষ কাল।


মাওলানা জহুরুল হক

তুমি কি দেখতে পাও নি যে নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন? তারপর আমরা তার দ্বারা উৎপাদন করি ফলফসল -- যার রঙচঙ নানান ধরনের। আর পাহাড়গুলোতে আছে স্তর, সাদা ও লাল, বিচিত্র তার বর্ণ, আর নিকষ কালো।


২৮


وَمِنَ النَّاسِ وَالدَّوَآبِّ وَالۡاَنۡعَامِ مُخۡتَلِفٌ اَلۡوَانُہٗ کَذٰلِکَ ؕ اِنَّمَا یَخۡشَی اللّٰہَ مِنۡ عِبَادِہِ الۡعُلَمٰٓؤُا ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَزِیۡزٌ غَفُوۡرٌ


ওয়া মিনান্না-ছি ওয়াদ্দাওয়াব্বি ওয়াল আন ‘আ-মি মুখতালিফুন আলওয়া-নুহূকাযা-লিকা ইন্নামা-ইয়াখশাল্লা-হা মিন ‘ইবা-দিহিল ‘উলামাউ ইন্নাল্লা-হা ‘আঝীঝুন গাফূর।


Mufti Taqi Usmani

And among humans and beasts and cattle, there are those having different colours as well. Only those of His slaves fear Allah who are knowledgeable. Surely Allah is Mighty, Forgiving.


মুফতী তাকী উসমানী

এবং মানুষ, পশু ও চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যেও আছে অনুরূপ বর্ণ-বৈচিত্র্য। আল্লাহকে তো কেবল তারাই ভয় করে, যারা জ্ঞানের অধিকারী। ৮ নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, অতি ক্ষমাশীল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অনুরূপ ভাবে বিভিন্ন বর্ণের মানুষ, জন্তু, চতুস্পদ প্রাণী রয়েছে। আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই কেবল তাঁকে ভয় করে। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাময়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এইভাবে রং-বেরং-এর মানুষ, জন্তু ও আন‘আম রয়েছে। আল্লাহ্ র বান্দাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী তারাই তাঁকে ভয় করে; আল্লাহ্ পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।


মাওলানা জহুরুল হক

আর লোকেদের ও জীবজন্তুর ও গবাদি-পশুর মধ্যেও তাদের রঙচঙে এ ধরনের বৈচিত্র রয়েছে। নিঃসন্দেহ তাঁর বান্দাদের মধ্যের আলীম-পন্ডিত ব্যক্তিবর্গ আল্লাহ্‌কে ভয় করে। আল্লাহ্ নিশ্চয়ই মহাশক্তিশালী, পরিত্রাণকারী।


তাফসীরঃ

৮. অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার মাহাত্ম্য ও গৌরব সম্পর্কে যাদের জ্ঞান ও উপলব্ধি আছে কেবল তারাই বিশ্ব-জগতের এসব আশ্চর্যজনক সৃষ্টি দেখে এর দ্বারা তাঁর অপার শক্তি ও তাঁর তাওহীদের সপক্ষে প্রমাণ পেশ করে এবং এর ফলশ্রুতিতে তাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত হয় এবং তারা তাঁর প্রতি বিনয়-বিগলিত হয়। আর যাদের সেই জ্ঞান ও উপলব্ধি নেই তারা সৃষ্টিজগতের এসব বিস্ময়কর বস্তুরাজির গভীরে পৌঁছা সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব ও তাঁর তাওহীদ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না।


২৯


اِنَّ الَّذِیۡنَ یَتۡلُوۡنَ کِتٰبَ اللّٰہِ وَاَقَامُوا الصَّلٰوۃَ وَاَنۡفَقُوۡا مِمَّا رَزَقۡنٰہُمۡ سِرًّا وَّعَلَانِیَۃً یَّرۡجُوۡنَ تِجَارَۃً لَّنۡ تَبُوۡرَ ۙ


ইন্নাল্লাযীনা ইয়াতলূনা কিতা-বাল্লা-হি ওয়াআকা-মুসসালা-তা ওয়াআনফাকূ মিম্মারাঝাকনা-হুম ছিররাওঁ ওয়া‘আলা-নিয়াতাইঁ ইয়ারজূনা তিজা-রাতাল্লান তাবূর।


Mufti Taqi Usmani

Surely those who recite Allah’s Book and have established Salāh and have spent, secretly and openly, from what We have provided to them - they hope for a trade that will never crash,


মুফতী তাকী উসমানী

যারা আল্লাহর কিতাব তেলাওয়াত করে, নামায কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা থেকে (সৎকাজে) ব্যয় করে গোপনে ও প্রকাশ্যে, তারা এমন ব্যবসায়ের আশাবাদী, যাতে কখনও লোকসান হয় না,


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, নামায কায়েম করে, এবং আমি যা দিয়েছি, তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন ব্যবসা আশা কর, যাতে কখনও লোকসান হবে না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যারা আল্লাহ্ র কিতাব তিলাওয়াত করে, সালাত কায়েম করে, আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা হতে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারাই আশা করে এমন ব্যবসায়ের, যার ক্ষয় নেই।


মাওলানা জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা আল্লাহ্‌র গ্রন্থ পাঠ করে আর নামায কায়েম করে, আর আমরা তাদের যে জীবনোপকরণ দান করেছি তা থেকে তারা গোপনে ও প্রকাশ্যভাবে খরচ করে থাকে, তারা এমন একটি বাণিজ্যের আশা রাখে যা কখনো বিনষ্ট হবে না, --


৩০


لِیُوَفِّیَہُمۡ اُجُوۡرَہُمۡ وَیَزِیۡدَہُمۡ مِّنۡ فَضۡلِہٖ ؕ اِنَّہٗ غَفُوۡرٌ شَکُوۡرٌ


লিইউওয়াফিফইয়াহুম উজূরাহুম ওয়া ইয়াঝীদাহুম মিন ফাদলিহী ইন্নাহূগাফূরুন শাকূর।


Mufti Taqi Usmani

so that He pays them their rewards in full, and gives them more out of His grace. Surely He is Most-Forgiving, Very-Appreciative.


মুফতী তাকী উসমানী

যাতে আল্লাহ তাদেরকে তাদের পূর্ণ প্রতিফল দেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বেশি দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল, অত্যন্ত গুণগ্রাহী।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

পরিণামে তাদেরকে আল্লাহ তাদের সওয়াব পুরোপুরি দেবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বেশী দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এইজন্যে যে, আল্লাহ্ তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দিবেন এবং তিনি নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে আরও বেশি দিবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী।


মাওলানা জহুরুল হক

যেন তিনি তাদের পারিশ্রমিক পুরোপুরি তাদের দিতে পারেন এবং তাঁর করুণাভান্ডার থেকে তাদের বাড়িয়ে দিতে পারেন। নিঃসন্দেহ তিনি পরিত্রাণকারী, গুণগ্রাহী।


৩১


وَالَّذِیۡۤ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡکَ مِنَ الۡکِتٰبِ ہُوَ الۡحَقُّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَیۡنَ یَدَیۡہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ بِعِبَادِہٖ لَخَبِیۡرٌۢ بَصِیۡرٌ


ওয়াল্লাযী আওহাইনাইলাইকা মিনাল কিতা-বি হুওয়াল হাক্কুমুসাদ্দিকাল লিমা-বাইনা ইয়াদাইহি ইন্নাল্লা-হা বি‘ইবা-দিহী লাখাবীরুম বাসীর।


Mufti Taqi Usmani

The Book We have revealed to you is the Truth, confirming what was (revealed) before it. Surely Allah, in respect of His slaves, is All-Aware, All-Seeing.


মুফতী তাকী উসমানী

(হে নবী!) আমি ওহীর মাধ্যমে তোমার প্রতি যে কিতাব নাযিল করেছি তা সত্য, যা তার পূর্ববর্তী সমস্ত কিতাবের সমর্থকরূপে এসেছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ নিজ বান্দাদের সম্পর্কে পরিপূর্ণ অবগত, সবকিছুর দ্রষ্টা।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি আপনার প্রতি যে কিতাব প্রত্যাদেশ করেছি, তা সত্য-পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়ন কারী নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে সব জানেন, দেখেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তোমার প্রতি যে কিতাব অবতীর্ণ করেছি তা সত্য, এটা পূর্ববর্তী কিতাবের প্রত্যায়নকারী। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের সমস্ত কিছু জানেন ও দেখেন।


মাওলানা জহুরুল হক

আর আমরা তোমার কাছে গ্রন্থ থেকে যা প্রত্যাদিষ্ট করেছি তা সত্য, সমর্থন করছে যা এর আগে রয়েছে। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের সন্বন্ধে পূর্ণ-ওয়াকিবহাল, সর্বদ্রষ্টা।


৩২


ثُمَّ اَوۡرَثۡنَا الۡکِتٰبَ الَّذِیۡنَ اصۡطَفَیۡنَا مِنۡ عِبَادِنَا ۚ  فَمِنۡہُمۡ ظَالِمٌ لِّنَفۡسِہٖ ۚ  وَمِنۡہُمۡ مُّقۡتَصِدٌ ۚ  وَمِنۡہُمۡ سَابِقٌۢ بِالۡخَیۡرٰتِ بِاِذۡنِ اللّٰہِ ؕ  ذٰلِکَ ہُوَ الۡفَضۡلُ الۡکَبِیۡرُ ؕ


ছু ম্মা আওরাছনাল কিতা-বাল্লাযীনাসতাফাইনা মিন ‘ইবা-দিনা- ফামিনহুম জালিমুললিনাফছিহী ওয়া মিনহুম মুকতাছিদুওঁ ওয়া মিনহুম ছা-বিকুম বিলখাইরা-তি বিইযনিল্লা-হি যা-লিকা হুওয়াল ফাদলুল কাবীর।


Mufti Taqi Usmani

Then We conveyed the Book as an heritage to those of Our slaves whom We chose. Now, some of them are those who wrong their own selves, and some of them are mediocre, and some of them are those who outpace (others) in righteous deeds with Allah’s permission. That is the great bounty,


মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর আমি এ কিতাবের ওয়ারিশ বানিয়েছি আমার বান্দাদের মধ্যে তাদেরকে, যাদেরকে আমি মনোনীত করেছি। ৯ তাদের মধ্যে কতক তো নিজের প্রতি অত্যাচারী, কতক মধ্যপন্থী এবং কতক এমন যারা আল্লাহর ইচ্ছায় সৎকর্মে অগ্রগামী। এটা (আল্লাহর) বিরাট অনুগ্রহ।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর আমি কিতাবের অধিকারী করেছি তাদেরকে যাদেরকে আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে মনোনীত করেছি। তাদের কেউ কেউ নিজের প্রতি অত্যাচারী, কেউ মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর নির্দেশক্রমে কল্যাণের পথে এগিয়ে গেছে। এটাই মহা অনুগ্রহ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরপর আমি কিতাবের অধিকারী করলাম আমার বান্দাদের মধ্য হতে যাদেরকে আমি মনোনীত করেছি; তবে তাদের কেউ নিজের প্রতি অত্যাচারী, কেউ মধ্যপন্থী এবং কেউ আল্লাহ্ র ইচ্ছায় কল্যাণকর কাজে অগ্রগামী। এটাই মহাঅনুগ্রহ-


মাওলানা জহুরুল হক

তারপর আমরা গ্রন্থখানা উত্তরাধিকার করতে দিয়েছি তাদের যাদের আমরা নির্বাচন করেছি আমাদের দাসদের মধ্য থেকে, তবে তাদের মধ্যে কেউ নিজেদের অন্তরা‌ত্মার প্রতি অন্যায়কারী, আর তাদের মধ্যে কেউ হচ্ছে মধ্যমপন্থী, আর তাদের মধ্যে রয়েছে আল্লাহ্‌র অনুমতিক্রমে ভালোকাজে অগ্রগামী। এইটিই হচ্ছে মহান অনুগ্রহ প্রাচুর্য্য।


তাফসীরঃ

৯. এর দ্বারা মুসলিমদেরকে বোঝানো হয়েছে। বলা হচ্ছে যে, এ কুরআন সরাসরি তো নাযিল হয়েছে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি। অতঃপর আল্লাহ তাআলা এর ওয়ারিশ বানিয়েছেন মুসলিমগণকে, যাদেরকে তিনি এ কিতাবের প্রতি ঈমান আনার জন্য মনোনীত করেছেন। কিন্তু ঈমান আনার পর এরা তিনভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একটি দল তো এমন, যারা ঈমান আনার পর তার দাবি অনুযায়ী পুরোপুরি কাজ করেনি। তারা তাদের কোন-কোন দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছে এবং বিভিন্ন গুনাহে লিপ্ত হয়েছে। তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা নিজেদের প্রতি জুলুম ও অত্যাচার করেছে। কেননা ঈমানের তো দাবি ছিল তারা প্রথম যাত্রাতেই জান্নাতে প্রবেশ করবে, কিন্তু তারা গুনাহ করে নিজেদেরকে শাস্তির উপযুক্ত বানিয়ে ফেলেছে। ফলে আইন অনুযায়ী তাদেরকে প্রথমে নিজেদের গুনাহের শাস্তি ভোগ করতে হবে। তারপর তারা জান্নাতে যাবে। দ্বিতীয় দল, যাদেরকে মধ্যপন্থী বলা হয়েছে, তারা হল সেই সকল মুসলিম, যারা ফরয ও ওয়াজিবসমূহ নিয়মিত আদায় করে এবং গুনাহ হতেও বেঁচে থাকে, কিন্তু নফল ইবাদত ও মুস্তাহাব আমল তেমন একটা করে না। আর তৃতীয় দল হল সেইসব লোকেরা যারা কেবল ফরয ও ওয়াজিব পালন করেই ক্ষান্ত থাকে না, বরং তারা নফল ইবাদত ও মুস্তাহাব আমলেও অত্যন্ত যত্নবান থাকে। এ তিনও প্রকারের লোক মুসলিমদেরই। তারা সকলেই জান্নাতে যাবে ইনশাআল্লাহ। যারা গুনাহগার নয় তারা তো প্রথমেই, আর যারা গুনাহগার তারা মাগফিরাত লাভের পর।


৩৩


جَنّٰتُ عَدۡنٍ یَّدۡخُلُوۡنَہَا یُحَلَّوۡنَ فِیۡہَا مِنۡ اَسَاوِرَ مِنۡ ذَہَبٍ وَّلُؤۡلُؤًا ۚ وَلِبَاسُہُمۡ فِیۡہَا حَرِیۡرٌ


জান্না-তু‘আদনিইঁ ইয়াদখুলূনাহা-ইউহাল্লাওনা ফীহা-মিন আছা-বিরা মিন যাহাবিওঁ ওয়ালু’লুওয়া- ওয়া লিবা-ছুহুম ফীহা-হারীর।


Mufti Taqi Usmani

gardens of eternity they enter. They will be ornamented with bracelets of gold and with pearls, and their dress therein will be (of) silk.


মুফতী তাকী উসমানী

স্থায়ী বসবাসের জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করবে। সেখানে তাদেরকে সোনার বালা ও মোতির দ্বারা অলংকৃত করা হবে আর সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশম।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা প্রবেশ করবে বসবাসের জান্নাতে। তথায় তারা স্বর্ণনির্মিত, মোতি খচিত কংকন দ্বারা অলংকৃত হবে। সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের।

(ads2)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#084dc4)

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করবে, সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ-নির্মিত কংকন ও মুক্তা দিয়ে অলংকৃত করা হবে এবং সেখানে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের।


মাওলানা জহুরুল হক

নন্দন কানন -- তারা এটিতে প্রবেশ করবে, সেখানে তাদের অলঙ্কৃত করানো হবে সোনা ও মুক্তোর কঙ্কন দিয়ে, আর তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ সেখানে হবে রেশমের।


৩৪


وَقَالُوا الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡۤ اَذۡہَبَ عَنَّا الۡحَزَنَ ؕ  اِنَّ رَبَّنَا لَغَفُوۡرٌ شَکُوۡرُۨ ۙ


ওয়া কা-লুল হামদুলিল্লা-হিল্লাযী আযহাবা ‘আন্নাল হাঝানা ইন্না রাব্বানালাগাফূরুন শাকূর।


Mufti Taqi Usmani

And they will say, “Praise be to Allah who has removed all sorrow from us. Surely our Lord is Most-Forgiving, Very-Appreciative,


মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলবে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের থেকে সমস্ত দুঃখ দূর করেছেন। নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালক অতি ক্ষমাশীল, অত্যন্ত গুণগ্রাহী।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আর তারা বলবে-সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের দূঃখ দূর করেছেন। নিশ্চয় আমাদের পালনকর্তা ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তারা বলবে, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহ্ র , যিনি আমাদের দুঃখ-দুর্দশা দূরীভূত করেছেন; আমাদের প্রতিপালক তো ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী;


মাওলানা জহুরুল হক

আর তারা বলবে -- "সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র, যিনি আমাদের থেকে দুঃখ-দুর্দশা দূর করে দিয়েছেন। আমাদের প্রভু অবশ্যই পরিত্রাণকারী, গুণগ্রাহী, --


৩৫


الَّذِیۡۤ اَحَلَّنَا دَارَ الۡمُقَامَۃِ مِنۡ فَضۡلِہٖ ۚ لَا یَمَسُّنَا فِیۡہَا نَصَبٌ وَّلَا یَمَسُّنَا فِیۡہَا لُغُوۡبٌ


আল্লাযীআহাল্লানা-দা-রাল মুকা-মাতি মিন ফাদলিহী লা-ইয়ামাছছুনা-ফীহানাসাবুওঁ ওয়ালা-ইয়ামাছছুনা ফীহা-লুগূব।


Mufti Taqi Usmani

who, out of His grace, has made us land at a home of eternal living where we are neither touched by weariness, nor are we touched by boredom.”


মুফতী তাকী উসমানী

যিনি স্বীয় অনুগ্রহে আমাদেরকে স্থায়ী অবস্থানের নিবাসে এনে দাখিল করেছেন, যেখানে আমাদেরকে কখনও কোনও কষ্ট স্পর্শ করবে না এবং কোন ক্লান্তিও আমাদের দেখা দেবে না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যিনি স্বীয় অনুগ্রহে আমাদেরকে বসবাসের গৃহে স্থান দিয়েছেন, তথায় কষ্ট আমাদেরকে স্পর্শ করে না এবং স্পর্শ করে না ক্লান্তি।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যিনি নিজ অনুগ্রহে আমাদেরকে স্থায়ী আবাস দিয়েছেন যেখানে ক্লেশ আমাদেরকে স্পর্শ করে না এবং ক্লান্তিও স্পর্শ করে না।’


মাওলানা জহুরুল হক

যিনি তাঁর অনুগ্রহপ্রাচুর্য বশতঃ আমাদের বসবাস করিয়েছেন স্থায়ী বাসস্থানে, সেখানে পরিশ্রম আমাদের স্পর্শ করবে না, আর সেখানে আমাদের স্পর্শ করবে না পরিশ্রান্তি।


৩৬


وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَہُمۡ نَارُ جَہَنَّمَ ۚ  لَا یُقۡضٰی عَلَیۡہِمۡ فَیَمُوۡتُوۡا وَلَا یُخَفَّفُ عَنۡہُمۡ مِّنۡ عَذَابِہَا ؕ  کَذٰلِکَ نَجۡزِیۡ کُلَّ کَفُوۡرٍ ۚ


ওয়াল্লাযীনা কাফারূলাহুম না-রু জাহান্নামা লা-ইউকদা-‘আলাইহিম ফাইয়ামূতূ ওয়ালা-ইউখাফফাফু‘আনহুম মিন ‘আযা-বিহা- কাযা-লিকা নাজঝী কুল্লা কাফূর।


Mufti Taqi Usmani

As for those who disbelieve, for them shall be the fire of Jahannam; neither they will be sentenced to death, so that they could die, nor will its torment be lightened for them. It is in this way that We punish every infidel.


মুফতী তাকী উসমানী

যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। সেখানে তাদের কর্ম সাবাড় করা হবে না যে, তাদের মৃত্যু ঘটবে এবং তাদের থেকে জাহান্নামের শাস্তিও লাঘব করা হবে না। প্রত্যেক অকৃতজ্ঞ (কাফের)কে আমি এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আর যারা কাফের হয়েছে, তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাদেরকে মৃত্যুর আদেশও দেয়া হবে না যে, তারা মরে যাবে এবং তাদের থেকে তার শাস্তিও লাঘব করা হবে না। আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিন্তু যারা কুফরী করে তাদের জন্যে আছে জাহান্নামের আগুন। এদের মৃত্যুর আদেশ দেওয়া হবে না যে, এরা মরিবে এবং এদের হতে জাহান্নামের শাস্তিও লাঘব করা হবে না। এইভাবে আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে শাস্তি দিয়ে থাকি।


মাওলানা জহুরুল হক

পক্ষান্তরে যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, তা নিঃশেষ হয়ে যাবে না তাদের জন্যে, যার ফলে তারা মরে যেতে পারে, আর তাদের উপর থেকে এর শাস্তির কিছুটাও কমানো হবে না! এইভাবেই আমরা প্রতিদান দিই প্রত্যেক অবিশ্বাসীকে।


৩৭


وَہُمۡ یَصۡطَرِخُوۡنَ فِیۡہَا ۚ  رَبَّنَاۤ اَخۡرِجۡنَا نَعۡمَلۡ صَالِحًا غَیۡرَ الَّذِیۡ کُنَّا نَعۡمَلُ ؕ  اَوَلَمۡ نُعَمِّرۡکُمۡ مَّا یَتَذَکَّرُ فِیۡہِ مَنۡ تَذَکَّرَ وَجَآءَکُمُ النَّذِیۡرُ ؕ  فَذُوۡقُوۡا فَمَا لِلظّٰلِمِیۡنَ مِنۡ نَّصِیۡرٍ ٪


ওয়া হুম ইয়াসতারিখূনা ফীহা- রাব্বানাআখরিজনা-না‘মাল সা-লিহান গাইরাল্লাযী কুন্না-না‘মালু আওয়ালাম নু‘আম্মির কুম মা-ইয়াতাযাক্কারু ফীহি মান তাযাক্কারা ওয়াজাআ কুমুন নাযীরু ফাযূকূফামা-লিজ্জা-লিমীনা মিন নাসীর।


Mufti Taqi Usmani

And they will be crying therein, “Our Lord, take us out (from here), and we will act righteously, not in the way we have been doing before.” (Allah will say to them,) “Did We not give you an age in your life in which lesson could have been learnt by the one who wished to take lesson? And (furthermore) the warner had (also) come to you. So, have a taste, because the wrongdoers will have no supporter.


মুফতী তাকী উসমানী

তারা তাতে আর্তনাদ করে বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে মুক্তি দান করুন, আমরা আগে যে কাজ করতাম তা ছেড়ে ভালো কাজ করব। (উত্তরে তাদেরকে বলা হবে) আমি কি তোমাদেরকে এমন দীর্ঘ আয়ু দেইনি যে, তখন কেউ সতর্ক হতে চাইলে সতর্ক হতে পারত? এবং তোমাদের কাছে সতর্ককারীও এসেছিল। ১০ সুতরাং এখন মজা ভোগ কর। কেননা এমন জালেমদের কোন সাহায্যকারী নেই।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সেখানে তারা আর্ত চিৎকার করে বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, বের করুন আমাদেরকে, আমরা সৎকাজ করব, পূর্বে যা করতাম, তা করব না। (আল্লাহ বলবেন) আমি কি তোমাদেরকে এতটা বয়স দেইনি, যাতে যা চিন্তা করার বিষয় চিন্তা করতে পারতে? উপরন্তু তোমাদের কাছে সতর্ককারীও আগমন করেছিল। অতএব আস্বাদন কর। জালেমদের জন্যে কোন সাহায্যকারী নেই।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেখানে তারা আর্তনাদ করে বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে নিষ্কৃতি দাও, আমরা সৎকর্ম করব, পূর্বে যা করতাম তা করব না।’ আল্লাহ্ বলবেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে এতো দীর্ঘ জীবন দান করি নাই যে, তখন কেউ সতর্ক হতে চাইলে সতর্ক হতে পারতে? তোমাদের নিকট তো সতর্ককারীও এসেছিল। সুতরাং শাস্তি আস্বাদন কর; জালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই।’


মাওলানা জহুরুল হক

আর সেখানে তারা আর্তনাদ করবে -- "আমাদের প্রভু! আমাদের বের করে আনো, আমরা ভালো কাজ করব, -- তা ব্যতীত যা আমরা করতাম।" "আমরা কি তোমাদের দীর্ঘজীবন দিই নি যেন, যে মনোযোগ দিতে চায় সে সেখানে মনোযোগ দিতে পারে, আর তোমাদের কাছে সতর্ককারীও এসেছিলেন? তাই আস্বাদন কর, আর অন্যায়কারীদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।"


তাফসীরঃ

১০. মানুষকে গড়ে যে আয়ু দেওয়া হয় তা কম দীর্ঘ নয়। এ আয়ুতে মানুষ তার জীবনের বিভিন্ন ধাপ পার হয়। এসব ধাপের বাঁকে-বাঁকে তার জন্য শিক্ষা গ্রহণের বহু উপাদান আছে। সে সত্যে উপনীত হতে চাইলে এ আয়ু তার জন্যে যথেষ্ট। তদুপরি এ আয়ুর ভেতর তার কাছে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একের পর এক সতর্ককারীও আসতে থাকে। সাধারণভাবে সতর্ককারী বলে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামকে এবং এ উম্মতের জন্য মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বোঝানো হয়েছে। তারা মানুষকে আখেরাত সম্পর্কে সতর্ক করার কাজে কোন ত্রুটি করেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর তাঁর সাহাবীগণ এবং প্রতি যুগে উলামায়ে কেরামও এ দায়িত্ব পালন করছেন। কোন কোন মুফাসসির ‘সতর্ককারী’-এর ব্যাখ্যা করেন যে, মানুষ তাঁর জীবনের ধাপে-ধাপে মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মত যে সকল অবস্থার সম্মুখীন হয় সেটাই তার সতর্ককারী। সুতরাং বার্ধক্যের সূচনায় যখন চুল পাকতে শুরু করে, তখন সেটাও তার জন্য সতর্ককারী হয়ে আসে। কারও যখন নাতি-নাতনি জন্ম নেয়, তখন তা তাকে সতর্ক করে দেয় যে, তোমার মৃত্যুক্ষণ ঘনিয়ে আসছে। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে মানুষ যে রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়, সেসবও মানুষকে মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় ও সাবধান করে যে, এখনই আখেরাতের সাফল্য লাভের ব্যবস্থা করে নাও, সময় কিন্তু ফুরিয়ে গেল!


৩৮


اِنَّ اللّٰہَ عٰلِمُ غَیۡبِ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ اِنَّہٗ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ


ইন্নাল্লা-হা ‘আ-লিমুগাইবিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ইন্নাহূ‘আলীমুম বিযা-তিস সুদূ র।


Mufti Taqi Usmani

Surely Allah is the Knower of the unseen in the heavens and the earth. Indeed He fully knows what lies in the hearts.


মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর গুপ্ত বিষয়ে জ্ঞাত। নিশ্চয়ই অন্তরে লুকায়িত বিষয়াবলী সম্পর্কে তিনি পূর্ণ ওয়াকিফহাল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহ আসমান ও যমীনের অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে জ্ঞাত। তিনি অন্তরের বিষয় সম্পর্কেও সবিশেষ অবহিত।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই আল্লাহ্ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয় অবগত আছেন। অন্তরে যা রয়েছে সে সম্বন্ধে তিনি সবিশেষ অবহিত।


মাওলানা জহুরুল হক

আল্লাহ্ নিশ্চয়ই মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয়-বস্তুর সম্যক জ্ঞাতা। তিনি বুকের ভেতরে যা রয়েছে সে-সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা।


৩৯


ہُوَ الَّذِیۡ جَعَلَکُمۡ خَلٰٓئِفَ فِی الۡاَرۡضِ ؕ فَمَنۡ کَفَرَ فَعَلَیۡہِ کُفۡرُہٗ ؕ وَلَا یَزِیۡدُ الۡکٰفِرِیۡنَ کُفۡرُہُمۡ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ اِلَّا مَقۡتًا ۚ وَلَا یَزِیۡدُ الۡکٰفِرِیۡنَ کُفۡرُہُمۡ اِلَّا خَسَارًا


হুওয়াল্লাযী জা‘আলাকুম খালাইফা ফিল আরদি ফামান কাফারা ফা‘আলাইহি কুফরুহূ ওয়ালা-ইয়াঝীদুল কা-ফিরীনা কুফরুহুম ‘ইনদা রাব্বিহিম ইল্লা-মাকতাওঁ ওয়ালাইয়াঝীদুল কা-ফিরীনা কুফরুহুম ইল্লা-খাছা-রা-।


Mufti Taqi Usmani

He is the One who has made you successors (of the past generations) on the earth. So the one who becomes infidel, his infidelity will go against himself. Their infidelity adds nothing to the infidels but anger from their Lord, and their infidelity adds nothing to the infidels but loss.


মুফতী তাকী উসমানী

তিনিই পৃথিবীতে তোমাদেরকে (পূর্ববর্তীদের) স্থলাভিষিক্ত করেছেন। যে ব্যক্তি কুফর করবে তার কুফর তারই উপর পতিত হবে। কাফেরদের জন্য তাদের কুফরী তাদের প্রতিপালকের ক্রোধ ছাড়া কিছু বৃদ্ধি করে না এবং কাফেরদের জন্য তাদের কুফরী ক্ষতি ছাড়া কিছু বৃদ্ধি করে না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে স্বীয় প্রতিনিধি করেছেন। অতএব যে কুফরী করবে তার কুফরী তার উপরই বর্তাবে। কাফেরদের কুফর কেবল তাদের পালনকর্তার ক্রোধই বৃদ্ধি করে এবং কাফেরদের কুফর কেবল তাদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছেন। সুতরাং কেউ কুফরী করলে তার কুফরীর জন্যে সে নিজেই দায়ী হবে। কাফিরদের কুফরী কেবল এদের প্রতিপালকের ক্রোধই বৃদ্ধি করে এবং কাফিরদের কুফরী এদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।


মাওলানা জহুরুল হক

তিনিই সেইজন যিনি পৃথিবীতে তোমাদের প্রতিনিধি বানিয়েছেন। সুতরাং যে অস্বীকার করে তার বিরুদ্ধেই তাহলে যাবে তার অবিশ্বাস। আর অবিশ্বাসীদের জন্য তাদের অবিশ্বাস তাদের প্রভুর নজরে কিছুই বাড়ায় না বিতৃষ্ণা ব্যতীত, আর অবিশ্বাসীদের জন্য তাদের অবিশ্বাস ক্ষতি ব্যতীত আর কিছুই বাড়ায় না।

(ads1)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#084dc4)

৪০


قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ شُرَکَآءَکُمُ الَّذِیۡنَ تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ؕ اَرُوۡنِیۡ مَاذَا خَلَقُوۡا مِنَ الۡاَرۡضِ اَمۡ لَہُمۡ شِرۡکٌ فِی السَّمٰوٰتِ ۚ اَمۡ اٰتَیۡنٰہُمۡ کِتٰبًا فَہُمۡ عَلٰی بَیِّنَتٍ مِّنۡہُ ۚ بَلۡ اِنۡ یَّعِدُ الظّٰلِمُوۡنَ بَعۡضُہُمۡ بَعۡضًا اِلَّا غُرُوۡرًا


কুল আরাআইতুম শুরাকাআকুমুল্লাযীনা তাদ‘ঊনা মিন দূ নিল্লা-হি আরূনী মা-যাখালাকূমিনাল আরদিআম লাহুম শিরকুন ফিছ ছামা-ওয়া-তি আম আ-তাইনা-হুম কিতা-বান ফাহুম ‘আলা-বাইয়িনাতিম মিনহু বাল ইয়ঁইয়া‘ইদুজ্জা-লিমূনা বা‘দুহুম বা‘দান ইল্লা-গুরূরা


Mufti Taqi Usmani

Say, “Tell me about your (presumed) co-gods whom you invoke beside Allah. Show me that part of the earth that they have created. Or do they have a share in the (creation) of the heavens?” Or have We given them a book so that they are upon a clear proof from it? No, but the wrongdoers promise one another nothing but delusion.


মুফতী তাকী উসমানী

(হে নবী!) তাদেরকে বল, আচ্ছা তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে যেই মনগড়া শরীকদের পূজা করছ তাদের বিষয়টা ভেবে দেখেছ কি? আমাকে একটু দেখাও তো তারা পৃথিবীর কোন অংশটা তৈরি করেছে? কিংবা আকাশমণ্ডলীতে (অর্থাৎ তার সৃজনে) তাদের কী অংশীদারিত্ব আছে? নাকি আমি তাদেরকে কোন কিতাব দিয়েছি, যার সুস্পষ্ট কোন নির্দেশনার উপর তারা প্রতিষ্ঠিত আছে? ১১ না, বরং এসব জালেম একে অন্যকে কেবল মিথ্যা প্রতিশ্রুতিই দিয়ে থাকে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বলুন, তোমরা কি তোমাদের সে শরীকদের কথা ভেবে দেখেছ, যাদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা ডাক? তারা পৃথিবীতে কিছু সৃষ্টি করে থাকলে আমাকে দেখাও। না আসমান সৃষ্টিতে তাদের কোন অংশ আছে, না আমি তাদেরকে কোন কিতাব দিয়েছি যে, তারা তার দলীলের উপর কায়েম রয়েছে, বরং জালেমরা একে অপরকে কেবল প্রতারণামূলক ওয়াদা দিয়ে থাকে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘তোমরা আল্লাহ্ র পরিবর্তে যাদেরকে ডাক সেই সকল শরীকের কথা ভেবে দেখেছ কি ? তারা পৃথিবীতে কিছু সৃষ্টি করে থাকলে আমাকে দেখাও; বা আকাশমণ্ডলীর সৃষ্টিতে এদের কোন অংশ আছে কি ? না কি আমি এদেরকে এমন কোন কিতাব দিয়েছি যার প্রমাণের ওপর এরা নির্ভর করে ?’ বস্তুত জালিমরা একে অপরকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে।-


মাওলানা জহুরুল হক

তুমি বলো -- "তোমরা কি ভেবে দেখেছ তোমাদের অংশীদেবতাদের কথা যাদের তোমরা আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে ডাক? আমাকে দেখাও তো পৃথিবীর কোনো অংশ তারা সৃষ্টি করেছে, না কি তাদের কোনো শরিকানা রয়েছে মহাকাশমন্ডলে?" না কি আমরা তাদের এমন কোনো গ্রন্থ দিয়েছি যার থেকে তারা স্পষ্ট প্রমাণের উপরে রয়েছে? না, অন্যায়াচারীরা তাদের একে অন্যকে প্রতারণা করা ব্যতীত অন্য প্রতি‌শ্রুতি দেয় না।


তাফসীরঃ

১১. যে-কোন দাবি প্রতিষ্ঠিত করতে হলে তার জন্য পন্থা দু’টিই হতে পারে (এক) বুদ্ধি-বিবেকের সাহায্যে তার পক্ষে কোন যুক্তি পেশ করা, (দুই) যার হুকুম মানা অবশ্য কর্তব্য, এমন কোন সত্তার তরফ থেকে সে দাবির সপক্ষে আদেশ লাভ। আল্লাহর সঙ্গে যারা মনগড়া মাবুদ দাঁড় করিয়েছে, তাদের কাছে এ দু’টোর কোনওটিই নেই। না কোনও যুক্তি আছে, যেহেতু কোনওভাবেই তারা প্রমাণ করতে পারবে না তাদের মনগড়া প্রভুগণ আসমান-যমীনের কোন অংশ তৈরি করেছে বা তার সৃজনে কোনওভাবে শরীক থেকেছে। আর না আছে তাদের কাছে কোন আসমানী কিতাব, যা দ্বারা আল্লাহ তাদেরকে আদেশ করেছেন তারা যেন অমুক অমুক দেবতাকে আল্লাহর শরীক মেনে তাদের পূজায় লিপ্ত থাকে।


৪১


اِنَّ اللّٰہَ یُمۡسِکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ اَنۡ تَزُوۡلَا ۬ۚ وَلَئِنۡ زَالَتَاۤ اِنۡ اَمۡسَکَہُمَا مِنۡ اَحَدٍ مِّنۡۢ بَعۡدِہٖ ؕ اِنَّہٗ کَانَ حَلِیۡمًا غَفُوۡرًا


ইন্নাল্লা-হা ইউমছিকুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা আন তাঝূলা- ওয়ালাইন ঝালাতাইন আমছাকাহুমা-মিন আহাদিম মিম বা‘দিহী ইন্নাহূকা-না হালীমান গাফূরা-।


Mufti Taqi Usmani

Undoubtedly, Allah holds back the heavens and the earth from leaving their existing state, and if they were to leave, there is none who can hold them back, except Him. Surely He is Forbearing, Most-Forgiving.


মুফতী তাকী উসমানী

বস্তুত আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে ধরে রেখেছেন, যাতে তারা স্থানচ্যুত হতে না পারে। যদি তারা স্থানচ্যুত হয়, তবে আল্লাহ ছাড়া এমন কেউ নেই, যে তাদের ধরে রাখতে পারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি সহনশীল, পরম ক্ষমাশীল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নিশ্চয় আল্লাহ আসমান ও যমীনকে স্থির রাখেন, যাতে টলে না যায়। যদি এগুলো টলে যায় তবে তিনি ব্যতীত কে এগুলোকে স্থির রাখবে? তিনি সহনশীল, ক্ষমাশীল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহ্ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে সংরক্ষণ করেন, যাতে এরা স্থানচ্যুত না হয়, এরা স্থানচ্যুত হলে তিনি ব্যতীত কে এদেরকে রক্ষা করবে ? তিনি তো অতি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।


মাওলানা জহুরুল হক

আল্লাহ্ আলবৎ মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে ধরে রেখেছেন পাছে তারা কক্ষচ্যুত হয়, আর যদি বা তারা কক্ষচ্যুত হয় তাহলে তিনি ব্যতীত তাদের ধরে রাখবার মতো কেউ নেই। নিঃসন্দেহ তিনি অতি অমায়িক, পরিত্রাণকারী।


৪২


وَاَقۡسَمُوۡا بِاللّٰہِ جَہۡدَ اَیۡمَانِہِمۡ لَئِنۡ جَآءَہُمۡ نَذِیۡرٌ لَّیَکُوۡنُنَّ اَہۡدٰی مِنۡ اِحۡدَی الۡاُمَمِ ۚ  فَلَمَّا جَآءَہُمۡ نَذِیۡرٌ مَّا زَادَہُمۡ اِلَّا نُفُوۡرَۨا ۙ


ওয়া আকছামূবিল্লা-হি জাহদা আইমা-নিহিম লাইন জাআহুম নাযীরুল্লাইয়াকূনুন্না আহদামিন ইহদাল উমামি ফালাম্মা-জাআহুম নাযীরুম মা-ঝা-দাহুম ইল্লা-নুফূরা-।


Mufti Taqi Usmani

They had sworn forceful oaths that if a warner would come to them, they would be more receptive to guidance than any other community. But when a warner came to them, it added nothing to them but aversion,


মুফতী তাকী উসমানী

(পূর্বে) তারা অত্যন্ত জোরালো শপথ করেছিল যে, যদি তাদের কাছে কোন সতর্ককারী (নবী) আসে তবে তারা অন্যান্য উম্মত অপেক্ষা অধিকতর হেদায়াত গ্রহীতা হবে, ১২ কিন্তু যখন তাদের কাছে এক সতর্ককারী আসল, তখন তার আগমন তাদের সত্য-বিমুখতাই বৃদ্ধি করল


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা জোর শপথ করে বলত, তাদের কাছে কোন সতর্ককারী আগমন করলে তারা অন্য যে কোন সম্প্রদায় অপেক্ষা অধিকতর সৎপথে চলবে। অতঃপর যখন তাদের কাছে সতর্ককারী আগমন করল, তখন তাদের ঘৃণাই কেবল বেড়ে গেল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা দৃঢ়তার সঙ্গে আল্লাহ্ র শপথ করে বলত যে, এদের নিকট কোন সতর্ককারী আসলে এরা অন্য সকল সম্প্রদায় অপেক্ষা সৎপথের অধিকতর অনুসারী হবে; কিন্তু এদের নিকট যখন সতর্ককারী এলো তখন তা কেবল এদের বিমুখতাই বৃদ্ধি করল-


মাওলানা জহুরুল হক

আর তারা আল্লাহ্‌র নামে শপথ খায় তাদের সব চাইতে জোরালো শপথের দ্বারা যে যদি তাদের কাছে একজন সতর্ককারী আসতেন তাহলে তারা নিশ্চয়ই অন্যান্য সম্প্রদায়ের যে কোনোটির চেয়ে অধিকতর সৎপথাবলন্বী হতো। কিন্তু যখন তাদের কাছে একজন সতর্ককারী এলেন তখন তাতে বিতৃষ্ণা ব্যতীত তাদের আর কিছুই বাড়লো না, --


তাফসীরঃ

১২. সম্ভবত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের আগে কুরাইশ কাফেরগণ ইয়াহুদী ও নাসারাদের সাথে বিতর্ক প্রসঙ্গে জোরদার কসম খেয়েছিল যে, আমাদের কাছে কোন নবী আসলে আমরা অন্য সব জাতি অপেক্ষা হেদায়াত বেশি কবুল করব ও তাঁর অনুসরণে সবার অগ্রগামী থাকব, কিন্তু যখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাব ঘটল তখন তারা তাঁর কথায় একদম ভ্রুক্ষেপ করল না; উল্টো তাঁর বিরুদ্ধে নানা রকমের চক্রান্ত আঁটতে থাকল।


৪৩


اسۡتِکۡـبَارًا فِی الۡاَرۡضِ وَمَکۡرَ السَّیِّیَٴ ؕ وَلَا یَحِیۡقُ الۡمَکۡرُ السَّیِّیٴُ اِلَّا بِاَہۡلِہٖ ؕ فَہَلۡ یَنۡظُرُوۡنَ اِلَّا سُنَّتَ الۡاَوَّلِیۡنَ ۚ فَلَنۡ تَجِدَ لِسُنَّتِ اللّٰہِ تَبۡدِیۡلًا ۬ۚ وَلَنۡ تَجِدَ لِسُنَّتِ اللّٰہِ تَحۡوِیۡلًا


ইছতিকবা-রান ফিল আরদিওয়ামাকরাছ ছাইয়িয়ি ওয়ালা-ইয়াহীকুল মাকরুছ ছাইয়িইউ ইল্লা-বিআহলিহী ফাহাল ইয়ানজু রূনা ইল্লা-ছুন্নাতাল আওওয়ালীনা ফালান তাজিদা লিছুন্নাতিল্লা-হি তাবদীলাওঁ ওয়ালান তাজিদা লিছুন্নাতিল্লা-হি তাহবীলা-।


Mufti Taqi Usmani

because of their showing arrogance in the land and plotting of evil. And the evil plot engulfs none but its own people (who make it). So, they are looking for nothing but the (divine) practice with the earlier people. So you will never find in Allah’s practice any change, and you will never find in Allah’s practice any diversion.


মুফতী তাকী উসমানী

পৃথিবীতে তাদের আত্মগর্ব এবং (সত্যের বিরোধিতায় তাদের) কূট চক্রান্তের কারণে, অথচ কূট-চক্রান্ত খোদ তার উদ্যোক্তাদেরকেই পরিবেষ্টন করে নেয়। ১৩ তবে কি তারা পূর্ববর্তীদের ক্ষেত্রে যা কার্যকর হয়েছিল সেই নিয়মেরই অপেক্ষা করছে? ১৪ কিন্তু তোমরা আল্লাহর স্থিরীকৃত নিয়মে কোন পরিবর্তন পাবে না এবং তোমরা আল্লাহর স্থিরীকৃত নিয়মকে কখনও টলতেও দেখবে না। ১৫


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

পৃথিবীতে ঔদ্ধত্যের কারণে এবং কুচক্রের কারণে। কুচক্র কুচক্রীদেরকেই ঘিরে ধরে। তারা কেবল পূর্ববর্তীদের দশারই অপেক্ষা করছে। অতএব আপনি আল্লাহর বিধানে পরিবর্তন পাবেন না এবং আল্লাহর রীতি-নীতিতে কোন রকম বিচ্যুতিও পাবেন না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য প্রকাশ এবং ক‚ট ষড়যন্ত্রের কারণে। ক‚ট ষড়যন্ত্র এর উদ্যোক্তাদেরকেই পরিবেষ্টন করে। তবে কি এরা প্রতীক্ষা করতেছে পূর্ববর্তীদের প্রতি প্রযুক্ত বিধানের ? কিন্তু তুমি আল্লাহ্ র বিধানের কখনও কোন পরিবর্তন পাবে না এবং আল্লাহ্ র বিধানের কোন ব্যতিক্রমও দেখবে না।


মাওলানা জহুরুল হক

উদ্ধত ব্যবহারে এই পৃথিবীতে ও কুটিল ষড়যন্ত্রে। আর কুটিল ষড়যন্ত্র অন্য কাউকে ঘেরাও করে না তার কর্তাদের ব্যতীত। কাজেই তারা কি পূর্ববর্তীদের নজির ছাড়া আর কিছুর প্রতীক্ষা করে? কিন্তু তুমি তো আল্লাহ্‌র বিধানের কোনো পরিবর্তন কখনও পাবে না, আর তুমি কখনো আল্লাহ্‌র বিধানের কোনো ব্যতিক্রম পাবে না।


তাফসীরঃ

১৩. দূরভিসন্ধিমূলকভাবে কারও বিরুদ্ধে অন্যায় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দুনিয়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা বুমেরাং হয়ে থাকে। পরের জন্য কুয়া খুদলে সাধারণত নিজেকেই তাতে পড়তে হয়। সুতরাং কাফেরগণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে যত ষড়যন্ত্র করেছিল শেষ পর্যন্ত তার কুফল তাদের নিজেদেরকেই ভোগ করতে হয়েছে আর দুনিয়ায় কদাপি তার ক্ষতি থেকে বেঁচে গেলেও আখেরাতের শাস্তি তো অবধারিত আর সে শাস্তি দুনিয়ার শাস্তির চেয়ে অনেক বেশি কঠিন।


১৪. অর্থাৎ বিগত জাতিসমূহের মধ্যে যারা তাদের নবীর বিরুদ্ধাচরণ করেছে, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে অবশ্যই শাস্তি দান করেছেন। বিরুদ্ধাচারীর ব্যাপারে এটাই তাঁর নিয়ম। চাই সে শাস্তি দুনিয়ায় দেওয়া হোক বা আখেরাতে। তা এসব কাফেরও কি আল্লাহ তাআলার সেই নিয়ম কার্যকর হওয়ারই অপেক্ষা করছে? ঈমান আনার জন্য কি তারা আযাবের প্রতীক্ষায় আছে?


১৫. নিয়মে পরিবর্তনের অর্থ হল, কাফেরদেরকে আযাবের পরিবর্তে সওয়াব দেওয়া। আর নিয়ম টলার অর্থ কাফেরদের স্থলে মুমিনদেরকে শাস্তি দেওয়া। আল্লাহ তাআলার নিয়মে এর কোনওটিই হওয়া সম্ভব নয়।


৪৪


اَوَلَمۡ یَسِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَیَنۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ وَکَانُوۡۤا اَشَدَّ مِنۡہُمۡ قُوَّۃً ؕ وَمَا کَانَ اللّٰہُ لِیُعۡجِزَہٗ مِنۡ شَیۡءٍ فِی السَّمٰوٰتِ وَلَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ اِنَّہٗ کَانَ عَلِیۡمًا قَدِیۡرًا


আওয়ালাম ইয়াছীরূফিল আরদিফাইয়ানজুরূকাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল্লাযীনা মিন কাবলিহিম ওয়া কা-নূআশাদ্দা মিনহুম কুওওয়াতাওঁ ওয়ামা-কা-নাল্লা-হু লিইউ‘জিঝাহূ মিন শাইয়িন ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ালা-ফিল আরদি ইন্নাহূকা-না ‘আলীমান কাদীরা-।


Mufti Taqi Usmani

Did they not travel in the land and see how was the end of those before them? They were stronger than these in power. Allah is not such that something in the heavens or the earth can frustrate Him. Surely He is All-Knowing, All-Powerful.


মুফতী তাকী উসমানী

তারা কি পৃথিবীতে কখনও সফর করেনি, তাহলে তারা দেখতে পেত তাদের পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদের পরিণাম কী হয়েছিল, যদিও তারা এদের অপেক্ষা বেশি শক্তিমান ছিল? আল্লাহ এমন নন যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর কোন বস্তু তাকে ব্যর্থ করতে পারে। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না? করলে দেখত তাদের পূর্ববর্তীদের কি পরিণাম হয়েছে। অথচ তারা তাদের অপেক্ষা অধিকতর শক্তিশালী ছিল। আকাশ ও পৃথিবীতে কোন কিছুই আল্লাহকে অপারগ করতে পারে না। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ সর্বশক্তিমান।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা কি পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করে নাই ? তা হলে এদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কী হয়েছিল তা দেখতে পেত। এরা তো এদের অপেক্ষা অধিকতর বলশালী ছিল। আল্লাহ্ এমন নন যে, আকাশমণ্ডলী এবং পৃথিবীর কোন কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে; তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।


মাওলানা জহুরুল হক

তারা কি তবে পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করে না, তাহলে তারা দেখতে পেতো কেমন হয়েছিল তাদের পরিণাম যারা ছিল এদের অগ্রগামী, আর তারা ছিল এদের চেয়েও শক্তিতে প্রবল? আর আল্লাহ্ এমন নন যে তাঁর থেকে কোন-কিছু এড়িয়ে যেতে পারে মহাকাশমন্ডলীতে, আর পৃথিবীতেও নয়। নিঃসন্দেহ তিনি হচ্ছেন সর্বজ্ঞাতা, পরম ক্ষমতাবান।


৪৫


وَلَوۡ یُؤَاخِذُ اللّٰہُ النَّاسَ بِمَا کَسَبُوۡا مَا تَرَکَ عَلٰی ظَہۡرِہَا مِنۡ دَآبَّۃٍ وَّلٰکِنۡ یُّؤَخِّرُہُمۡ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ۚ  فَاِذَا جَآءَ اَجَلُہُمۡ فَاِنَّ اللّٰہَ کَانَ بِعِبَادِہٖ بَصِیۡرًا ٪


ওয়ালাও ইউআ-খিযু ল্লা-হুন্না-ছা বিমা-কাছাবূমা-তারাকা ‘আলা-জাহরিহা-মিন দাব্বাতিওঁ ওয়ালা-কিইঁ ইউআখখিরুহুম ইলাআজালিম মুছাম্মান ফাইযা-জাআ আজালুহুম ফাইন্নাল্লা-হা কা-না বি‘ইবা-দিহী বাসীরা।


Mufti Taqi Usmani

If Allah were to take mankind to task for what they did, He would have not left a living creature on its back, but He delays them upto an appointed time. So when their time will come, then Allah is the One who will see His slaves.


মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহ মানুষকে তাদের প্রতিটি কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও করতে শুরু করলে ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী কাউকে ছাড়তেন না। বস্তুত তিনি এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দিচ্ছেন। যখন তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদ এসে যাবে তখন আল্লাহ স্বয়ং তাঁর বান্দাদের দেখে নিবেন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যদি আল্লাহ মানুষকে তাদের কৃতকর্মের কারণে পাকড়াও করতেন, তবে ভুপৃষ্ঠে চলমানকাউকে ছেড়ে দিতেন না। কিন্তু তিনি এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দেন। অতঃপর যখন সে নির্দিষ্ট মেয়াদ এসে যাবে তখন আল্লাহর সব বান্দা তাঁর দৃষ্টিতে থাকবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহ্ মানুষকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে শাস্তি দিলে ভূপৃষ্ঠে কোন জীব- জন্তুকেই রেহাই দিতেন না, কিন্তু তিনি এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দিয়ে থাকেন। এরপর তাদের নির্দিষ্ট কাল এসে গেলে আল্লাহ্ তো আছেন তাঁর বান্দাদের সম্যক দ্রষ্টা।


মাওলানা জহুরুল হক

আর আল্লাহ্ যদি লোকেদের পাকড়াও করতেন তারা যা অর্জন করেছে সেজন্য, তাহলে এর পিঠে তিনি জীবজন্তুদের কাউকেও ছাড়তেন না, কিন্তু তিনি এক নির্ধারিত কাল পর্যন্ত তাদের অবকাশ দিয়ে থাকেন। সুতরাং যখন তাদের নির্ধারিত কাল এসে যায় তখন আল্লাহ্ আলবৎ তাঁর বান্দাদের প্রতি সর্বদ্রষ্টা।


Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
Post a Comment (0)

islamicinfohub Top Post Ad1

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !
To Top