কোরআন ও হাদিসের আলোতে সূরা সাফ সকল তথ্য আল,সাফ আলমল ও ফজিলত, সূরা সাফ কতো বার পাঠ করলে কোন আলম ও ফজিলত, সূরা সাফ নাযিলের কারন গুলো কি কি

0

 সূরা সাফ বাংলা উচ্চারণ সহ অনুবাদ,সূরা সাফ বাংলা উচ্চারণ, সূরা আল সাফ বাংলা তরজমা,সূরা সাফ বাংলা তাফসীর, আমল সূরা আল সাফ, সকল আমল সূরা আল সাফ


 

আজকের বিষয়: সূরা সাফ সকল তথ্য আল কোরআন ও হাদিসের আলোতে,পৃথিবীর জানা অজানা কিছু তথ্য আল সাফ আলমল ও ফজিলত, সূরা সাফ কতো বার পাঠ করলে কোন আলম ও ফজিলত, সূরা সাফ নাযিলের কারন গুলো কি কি ,কুরআন ৬১ সূরা আল - সাফ

নামকরণ
সূরার চতুর্থ আয়াতের () আয়াতাংশ থেকে এর নাম গৃহীত হয়েছে । অর্থাৎ এটি সেই সূরা যাতে ‘সফ’ শব্দটি আছে ।

নাযিল হওয়ার সময়-কাল

কোন নির্ভরযোগ্য বর্ননা থেকে এর নাযিল হওয়ার সময় -কাল জানা যায় না । কিন্তু এর বিষয়বস্তু নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করলে অনুমান করা যায় যে, সূরাটি সম্ভবত ওহুদ যুদ্ধের সমসাময়িককালে নাযিল হয়ে থাকবে । কারণ এর মধ্যে যেসব পরিবেশ -পরিস্থিতির প্রতি ইংগিত রয়েছে । তা সেই সময়ের সাথেই সংশ্লিষ্ট ।

(ads1)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#f50707)

বিষয়বস্তু ও মূল বক্তব্য

এ সূরার বিষয়বস্তু হলো ঈমানের ব্যাপারে মুসলমানদেরকে নিষ্ঠা ঐকান্তিকতা অবলম্বন এবং আল্লাহর পথে জীবন কুরবানী করতে উদ্ধুদ্ধ করা । এতে দুর্বল ঈমানের মুসলামনদেরও সম্বোধন করা হয়েছে । যারা ঈমানের মিথ্যা দাবী করে ইসলামে প্রবেশ করেছিল তাদেরকেও সম্বোধন করা হয়েছে আবার যারা ঈমানের ব্যাপারে একনিষ্ঠ ছিল তাদেরকেও সম্বোধন করা হয়েছে । কোন কোন আয়াতে শুধু প্রথম দুটি শ্রেনীকে সম্বোধন করা হয়েছে । কোন কোন আয়াতে শুধু মুনাফিকদের সম্বোধন করা হয়েছে । আবার কোন কোন আয়াতে নিষ্ঠাবান মু’মিনদের প্রতি লক্ষ করে কথা বলা হয়েছে । কোন স্থানে কাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য পেশ করা হয়েছে তা বক্তব্যের ধরণ থেকেই বুঝা যায় ।

শুরুতে সমস্ত ঈমানদারদের এই মর্মে সাবধান করা হয়েছে যে, যারা বলে এক কথা কিন্তু করে অন্য রকম কাজ, তারা আল্লাহ তা’আলার দৃষ্টিতে অত্যন্ত ঘৃণিত । আর যারা ন্যায়ের পথে লড়াই করার জন্য মজবুত প্রাচীরের মত দুর্ভেদ্য হয়ে দাঁড়ায় আল্লাহ তা’আলার নিকট তারা অত্যন্ত প্রিয় ।

৫ থেকে ৭ আয়াতে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মাতের লোকদেরকে সাবধান করা হয়েছে । এখানে বলা হয়েছে বনী ইসরাঈল জাতি মূসা (আ) এবং ঈসা আলাইহিস সালামের সাথে যে আচরণ করেছে তোমাদের রসূল এবং তোমাদের দীনের সাথে তোমাদের আচরণ সেই রকম হওয়া উচিত নয় । হযরত মুসা(আ ) আল্লাহর রসূল একথা জানা সত্ত্বেও তিনি যতদিন জিবীত ছিলেন ততদিন তারা তাঁকে কষ্ট-যন্ত্রণা দিয়েছে এবং হযরত ঈসার (আ) কাছ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনাবলী দেখতে পাওয়ার পরও তাকে অস্বীকার করা থেকে বিরত হয়নি । এর ফল দাঁড়িয়েছে এই যে, ঐ জাতির লোকদের মেজাজের ধরন-প্রকৃতিই বাঁকা হয়ে গিয়েছে এবং হিদায়াত লাভের তাওফিক বা শুভবুদ্ধি থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছে । এটা এমন কোন বাঞ্ছনীয় বা ঈর্ষানীয় অবস্থা নয় যে, অন্য কোন জাতি তা লাভের জন্য উদগ্রীব হবে ।

এরপর ৮ ও ৯ আয়াতে চ্যালেঞ্জ করে ঘোষণা করা হয়েছে যে, ইহুদী ও খৃস্টান এবং তাদের সাথে ষড়যন্ত্রকারী মুনাফিকরা আল্লাহর এই নূরকে নিভিয়ে দেয়ার যতই চেষ্টা -সাধনা করুক না কেন তা পুরা শানশওকতের সাথে গোটা পৃথিবীতে অবশ্যই বিস্তার লাভ করবে । মুশরিকরা যতই অপছন্দ করুক না কেন আল্লাহর মহান রসূলের আনীত দীন বা জীবনব্যবস্থা অন্য সব জীবনব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবশ্যই বিজয়ী হবে ।

অতপর ১০ থেকে ১৩ পর্যন্ত আয়াতে ঈমানদারদের বলা হয়েছে যে, দুনিয়া এবং আখেরাতে সফলতা লাভের পথ মাত্র একটি । তাহলো খাঁটি ও সরল মনে আল্লাহ তার রসূলের ওপর ঈমান আনো এবং জান-মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করো । এর ফল হিসেবে আখেরাতে পাবে আল্লাহর আযাব থেকে মুক্তি, গোনাহসমূহের মাগফিরাত এবং চিরদিনের জন্য জান্নাত । আর দুনিয়াতে পুরষ্কার হিসেবে পাবে আল্লাহর সাহায্য সহযোগিতা এবং বিজয় ও সফলতা ।


আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ  


৬১ . আস সাফ - ( الـصّـف ) | সারিবদ্ধ সৈন্যদল
মাদানী, মোট আয়াতঃ ১৪

يمِ

سَبَّحَ لِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ۚ وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ

ছাব্বাহা লিল্লা-হি মা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি ওয়া হুওয়াল ‘আঝীঝুল হাকীম।

Mufti Taqi Usmani
All that is in the heavens and all that is in the earth proclaim Allah’s purity, and He is the All-Mighty, the All-Wise.

মুফতী তাকী উসমানী
যা কিছু আছে আকাশমণ্ডলী ও যা-কিছু আছে পৃথিবীতে, সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করেছে। তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। ১

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাবান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সমস্তই আল্লাহ্ র পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

মাওলানা জহুরুল হক
আল্লাহ্‌র মহিমা ঘোষণা করছে যা-কিছু আছে মহাকাশমন্ডলে ও যা-কিছু আছে পৃথিবীতে, আর তিনি মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।

তাফসীরঃ
১. ‘সৃষ্টি জগতের প্রতিটি জিনিস আল্লাহ তাআলার তাসবীহ পাঠ করে (অর্থাৎ তার পবিত্রতা ঘোষণা করে)’ এ কথাটি পূর্বে একাধিক স্থানে গত হয়েছে, যেমন সূরা নূর (২৪ : ৩৬, ৪১) ও সূরা হাশর (৫৯ : ২৪)। সূরা বনী ইসরাঈল (১৭ : ৪৪)-এ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমরা তাদের তাসবীহ বুঝতে পার না। পূর্বে সূরা হাদীদ (৫৭), সূরা হাশর (৫৯) এবং সামনে সূরা জুমুআ (৬২) ও সূরা তাগাবুন (৬৪)-কে আল্লাহ তাআলা এই সত্য বর্ণনার মাধ্যমেই শুরু করেছেন যে, সবকিছুই আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। বাহ্যত এর দ্বারা এ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা উদ্দেশ্য যে, তোমাদেরকে তাওহীদের উপর ঈমান আনয়ন ও ইবাদত-বন্দেগী করার নির্দেশ দানের ভেতর আল্লাহ তাআলার নিজের কোন ফায়দা নেই। কেননা তাঁর কোন কিছুর প্রতি ঠেকা নেই। তোমরা তাঁর ইবাদত কর আর নাই কর বিশ্বজগতের প্রতিটি বস্তু তাঁর সামনে নতশির হয়ে আছে।

(ads2)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#f50707)

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لِمَ تَقُوۡلُوۡنَ مَا لَا تَفۡعَلُوۡنَ

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলিমা তাকূলূনা মা-লা-তাফ‘আলূন।

Mufti Taqi Usmani
O you who believe, why do you say what you do not do?

মুফতী তাকী উসমানী
হে মুমিনগণ! তোমরা এমন কথা কেন বল, যা কর না? ২

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
মুমিনগণ! তোমরা যা কর না, তা কেন বল?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হে মু’মিনগণ! তোমরা যা কর না তা তোমরা কেন বল ?

মাওলানা জহুরুল হক
ওহে যারা ঈমান এনেছ! কেন তোমরা তা বল যা তোমরা কর না?

তাফসীরঃ
২. ইমাম আহমাদ (রহ.) ও বাগাবী (রহ.) বর্ণনা করেন যে, কোন কোন সাহাবী নিজেদের মধ্যে বলাবলি করেছিলেন, কোন কাজ আল্লাহ তাআলার কাছে সর্বাপেক্ষা বেশি পছন্দ তা যদি জানতে পারতাম, তবে তার জন্য প্রয়োজনে প্রাণ দিয়ে দিতাম। একথা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছলে তিনি তাদেরকে ডেকে পাঠালেন এবং তাদের সামনে এ সূরাটি পাঠ করলেন (তাফসীরে মাযহারী ও ইবনে কাছীর)। এতে প্রথমে তাদেরকে কথা বলার এই আদব শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, এরূপ কোন কথা বলা উচিত নয়, যা দ্বারা দাবি মত কিছু বোঝা যায়। অর্থাৎ শুনলে মনে হয় দাবি করছে, অমুক কাজটি সে অবশ্যই করবে, অথচ সে কাজটি তো তার পক্ষে করা সম্ভব নাও হতে পারে। ফলে তার দাবি মিথ্যা হয়ে যাবে এবং সকলের কাছে প্রমাণ হবে, লোকটি যা বলেছিল তা করতে পারেনি। হাঁ যদি নিজের উপর ভরসা না করে বিনয়ের সঙ্গে কোন কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়, তাতে কোন দোষ নেই। অতঃপর তাদের কামনা অনুযায়ী জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জিহাদের কাজটি আল্লাহ তাআলার বড় পছন্দ এবং এর জন্য আল্লাহ তাআলা যে পুরস্কার স্থির করে রেখেছেন তাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকাশ থাকে যে, কুরআন ও হাদীসে বিভিন্ন কাজ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তা আল্লাহ তাআলার কাছে সর্বাপেক্ষা বেশি প্রিয়। আপাতদৃষ্টিতে তা পরস্পর বিরোধী মনে হয়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার মধ্যে কোন বিরোধ নেই। কেননা অবস্থা, পরিবেশ-পরিস্থিতি ও ব্যক্তিভেদে একেকবার একেকটি কাজকে সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয় সাব্যস্ত করা হয়েছে। যেমন যখন জিহাদ চলতে থাকে, তখনকার জন্য সেটাই সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট ও পছন্দনীয় কাজ। আবার কখনও পিতা-মাতার খেদমত বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে, তখন সেটাই সবচেয়ে উত্তম কাজ সাব্যস্ত হবে।

کَبُرَ مَقۡتًا عِنۡدَ اللّٰہِ اَنۡ تَقُوۡلُوۡا مَا لَا تَفۡعَلُوۡنَ

কাবুরা মাকতান ‘ইনদাল্লা-হি আন তাকূলূমা-লা-তাফ‘আলূন।

Mufti Taqi Usmani
It is severely hateful in Allah’s sight that you say what you do not do.

মুফতী তাকী উসমানী
আল্লাহর কাছে এ বিষয়টা অতি অপছন্দনীয় যে, তোমরা এমন কথা বলবে, যা তোমরা কর না।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তোমরা যা কর না, তা বলা আল্লাহর কাছে খুবই অসন্তোষজনক।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমরা যা কর না তোমাদের তা বলা আল্লাহ্ র দৃষ্টিতে অতিশয় অসন্তোষজনক।

মাওলানা জহুরুল হক
আল্লাহ্‌র কাছে অত্যন্ত ঘৃণিত যে তোমরা এমন সব বল যা তোমরা কর না।

اِنَّ اللّٰہَ یُحِبُّ الَّذِیۡنَ یُقَاتِلُوۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِہٖ صَفًّا کَاَنَّہُمۡ بُنۡیَانٌ مَّرۡصُوۡصٌ

ইন্নাল্লা-হা ইউহিব্বুল্লাযীনা ইউকা-তিলূনা ফী ছাবীলিহী সাফফান কাআন্নাহুম বুনয়া-নুম মারসূস।

Mufti Taqi Usmani
Surely Allah loves those who fight in His way in firm rows, as if they were solid edifice.

মুফতী তাকী উসমানী
বস্তুত আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন, যারা তাঁর পথে এভাবে সারিবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করে, যেন তারা শিশাঢালা প্রাচীর।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন, যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে লড়াই করে, যেন তারা সীসাগালানো প্রাচীর।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যারা আল্লাহ্ র পথে সংগ্রাম করে সারিবদ্ধভাবে সুদৃঢ় প্রাচীরের মত, আল্লাহ্ তো তাদেরকে ভালবাসেন।

মাওলানা জহুরুল হক
নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ ভালবাসেন তাদের যারা তাঁর পথে যুদ্ধ করে সারিবদ্ধভাবে, যেন তারা একটি জমাট গাঁথুনি।

وَاِذۡ قَالَ مُوۡسٰی لِقَوۡمِہٖ یٰقَوۡمِ لِمَ تُؤۡذُوۡنَنِیۡ وَقَدۡ تَّعۡلَمُوۡنَ اَنِّیۡ رَسُوۡلُ اللّٰہِ اِلَیۡکُمۡ ؕ فَلَمَّا زَاغُوۡۤا اَزَاغَ اللّٰہُ قُلُوۡبَہُمۡ ؕ وَاللّٰہُ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الۡفٰسِقِیۡنَ

ওয়া ইযকা-লা মূছা-লিকাওমিহী ইয়া-কাওমি লিমা তু’যূনানী ওয়া কাততা‘লামূনা আন্নী রাছূলুল্লা-হি ইলাইকুম ফালাম্মা-ঝা-গূআঝা-গাল্লা-হু কুলূবাহুম ওয়াল্লা-হু লাইয়াহদিল কাওমাল ফা-ছিকীন।

Mufti Taqi Usmani
And (remember) when Mūsā said to his people, “O my people, why do you hurt me, while you know that I am a messenger of Allah sent towards you.” So, when they adopted deviation, Allah let their hearts become deviate. And Allah does not guide the sinful people.

মুফতী তাকী উসমানী
সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন মূসা তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কেন আমাকে কষ্ট দিচ্ছ, অথচ তোমরা জান আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রাসূল হয়ে এসেছি? ৩ অতঃপর তারা যখন বক্রতা অবলম্বন করল, তখন আল্লাহ তাদের অন্তরকে বক্র করে দিলেন। ৪ আল্লাহ অবাধ্য সম্প্রদায়কে হেদায়াতপ্রাপ্ত করেন না।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
স্মরণ কর, যখন মূসা (আঃ) তাঁর সম্প্রদায়কে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা কেন আমাকে কষ্ট দাও, অথচ তোমরা জান যে, আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রসূল। অতঃপর তারা যখন বক্রতা অবলম্বন করল, তখন আল্লাহ তাদের অন্তরকে বক্র করে দিলেন। আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
স্মরণ কর, মূসা তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায় ! তোমরা আমাকে কেন কষ্ট দিতেছ যখন তোমরা জান যে, আমি তোমাদের নিকট আল্লাহ্ র রাসূল ? এরপর এরা যখন বক্র পথ অবলম্বন করল তখন আল্লাহ্ এদের হৃদয়কে বক্র করে দিলেন। আল্লাহ্ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।

মাওলানা জহুরুল হক
আর স্মরণ করো! মূসা তাঁর স্বজাতিকে বলেছিলেন, "হে আমার লোকদল! কেন তোমরা আমাকে কষ্ট দিচ্ছ যখন তোমরা জেনে গিয়েছ যে আমি নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট আল্লাহ্‌র প্রেরিত-পুরুষ?" তারপর তারা যখন বিমুখ হয়ে গিয়েছিল তখন আল্লাহ্ তাদের হৃদয়কে বিমুখ করে দিলেন। আর আল্লাহ্ সত্যত্যাগী জাতিকে সৎপথে চালান না।

তাফসীরঃ
৩. অর্থাৎ তারা যে বুঝে-শুনেই জিদ ধরেছিল ও হঠকারিতা প্রদর্শন করেছিল, আল্লাহ তাআলা তার শাস্তি স্বরূপ তাদের অন্তর বাঁকা করে দিলেন। ফলে এরপর আর সত্য গ্রহণ করার কোন সুযোগই তাদের থাকল না।

৪. হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে তার সম্প্রদায় কতভাবে কষ্ট দিয়েছিল তা বিস্তারিতভাবে সূরা বাকারায় (২ : ৫৯) গত হয়েছে।

وَاِذۡ قَالَ عِیۡسَی ابۡنُ مَرۡیَمَ یٰبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ اِنِّیۡ رَسُوۡلُ اللّٰہِ اِلَیۡکُمۡ مُّصَدِّقًا لِّمَا بَیۡنَ یَدَیَّ مِنَ التَّوۡرٰىۃِ وَمُبَشِّرًۢا بِرَسُوۡلٍ یَّاۡتِیۡ مِنۡۢ بَعۡدِی اسۡمُہٗۤ اَحۡمَدُ ؕ فَلَمَّا جَآءَہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ قَالُوۡا ہٰذَا سِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ

ওয়া ইযকা-লা ‘ঈছাবুন মারইয়ামা ইয়া-বানীইছরাঈলা ইন্নী রাছূলুল্লা-হি ইলাকুম মুসাদ্দিকাল লিমা বাইনা ইয়াদাইইয়া মিনাত্তাওরা-তি ওয়া মুবাশশিরাম বিরাছূলিইঁ ইয়া’তী মিম বা‘দিছমূহূআহমাদু ফালাম্মা-জাআহুম বিলবাইয়িনা-তি কা-লূহা-যা-ছিহরুম মুবীন।

(ads1)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#f50707)

Mufti Taqi Usmani
(Remember) when ‘Īsā, son of Maryam, said, “O children of Isrā’īl, I am a messenger of Allah sent towards you, confirming the Torah that is (sent down) before me, and giving you the good news of a messenger who will come after me, whose name will be AHmad.” But when he came to them with manifest signs, they said, “This is a clear magic.”

মুফতী তাকী উসমানী
এবং স্মরণ কর সেই সময়কে, যখন ঈসা ইবনে মারয়াম বলেছিল, হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রাসূল হয়ে এসেছি, আমার পূর্বে যে তাওরাত (নাযিল হয়ে-) ছিল, তার সমর্থনকারীরূপে এবং সেই রাসূলের সুসংবাদদাতারূপে, যিনি আমার পরে আসবেন এবং যার নাম হবে ‘আহমাদ’। ৫ অতঃপর সে যখন সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলীসহ আসল তখন তারা বলতে লাগল, এ তো এক স্পষ্ট যাদু।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
স্মরণ কর, যখন মরিয়ম-তনয় ঈসা (আঃ) বললঃ হে বনী ইসরাইল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রসূল, আমার পূর্ববর্তী তওরাতের আমি সত্যায়নকারী এবং আমি এমন একজন রসূলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আগমন করবেন। তাঁর নাম আহমদ। অতঃপর যখন সে স্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আগমন করল, তখন তারা বললঃ এ তো এক প্রকাশ্য যাদু।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
স্মরণ কর, মারইয়াম-তনয় ‘ঈসা বলেছিল, ‘হে বনী ইস্রাঈল! অবশ্যই আমি তোমাদের নিকট আল্লাহ্ র রাসূল এবং আমার পূর্ব হতে তোমাদের নিকট যে তাওরাত রয়েছে আমি তার প্রত্যায়নকারী এবং আমার পরে আহ্মাদ নামে যে রাসূল আসবেন আমি তার সুসংবাদদাতা। পরে সে যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ এদের নিকট এলো তখন এরা বলিতে লাগল, ‘এটা তো এক স্পষ্ট জাদু।’

মাওলানা জহুরুল হক
আর স্মরণ করো! মরিময়পুত্র ঈসা বলেছিলেন -- "হে ইসরাইলের বংশধরগণ! আমি নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট আল্লাহ্‌র রসূল, আমার সমক্ষে তওরাতে যা রয়েছে আমি তার সমর্থনকারী, আর সুসংবাদদাতা এমন এক রসূল সন্বন্ধে যিনি আমার পরে আসবেন, তাঁর নাম 'আহ্‌মদ’।" তারপর যখন তিনি তাদের কাছে এলেন স্পষ্ট প্রমাণাবলীসহ, তারা বললে -- "এ তো এক স্পষ্ট জাদু!"

তাফসীরঃ
৫. ‘আহমাদ’ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরই নাম। হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এ নামেই তাঁর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছিলেন। অনেক বিকৃতি সত্ত্বেও ইওহোন্নার ইনজিলে অদ্যাবধি এ রকম একটি সুসংবাদ দেখতে পাওয়া যায়। ইওহোন্নার ইনজিলে আছে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর হাওয়ারী (শিষ্যবর্গ)-কে বলছেন, “আমি পিতার নিকট চাহিব আর তিনি তোমাদের নিকটে চিরকাল থাকিবার জন্য আর একজন সাহায্যকারীকে পাঠাইয়া দিবেন” (ইওহোন্না ১৪:১৬)। এখানে যে শব্দের অর্থ করা হয়েছে সাহায্যকারী, হিব্রু ভাষায় সে মূল শব্দটি ছিল ‘ পারাক্লীত’ (চবৎরপষুঃধং) আর তার অর্থ হল ‘প্রশংসনীয় ব্যক্তি’, যা কিনা ‘আহমাদ’-এরই আভিধানিক অর্থ। কিন্তু শব্দটিকে পরিবর্তন করে (Periclytas) করে ফেলা হয়েছে, যার অর্থ সাহায্যকারী। কোন কোন অনুবাদে এর অর্থ করা হয়েছে ‘প্রতিনিধি’ বা ‘সুপারিশকারী’। পারাক্লীত শব্দটির প্রতি লক্ষ্য করলে শ্লোকটির তরজমা হবে, “তিনি তোমাদের নিকট সেই প্রশংসনীয় ব্যক্তি (আহমাদ)-কে পাঠিয়ে দিবেন, যিনি সর্বদা তোমাদের সঙ্গে থাকবেন”। এর দ্বারা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, শেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষ কোন অঞ্চল বা বিশেষ কোন কালের জন্য প্রেরিত হবেন না; বরং তার নবুওয়াত কিয়ামত পর্যন্ত সর্বাঞ্চলের মানুষের জন্য কার্যকর থাকবে। তাছাড়া বার্ণাবাসের ইনজিলে বেশ কয়েক জায়গায় দেখতে পাওয়া যায় যে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম নিয়েই সুসংবাদ দিয়েছেন। খ্রিস্টান জাতি যদিও এ ইনজিলকে নির্ভরযোগ্য মনে করে না, কিন্তু আমাদের কাছে প্রসিদ্ধ চার ইনজিল অপেক্ষা বার্ণাবাসের ইনজিলই বেশি নির্ভরযোগ্য। আমি এর বিস্তারিত দলীল-প্রমাণ ‘ঈসাইয়্যাত কিয়া হ্যায়’ নামক পুস্তকে উল্লেখ করেছি। [বইটি ‘খৃস্টধর্মের স্বরূপ’ নামে বাংলায় অনূদিত ও প্রকাশিত হয়েছে।]

وَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ الۡکَذِبَ وَہُوَ یُدۡعٰۤی اِلَی الۡاِسۡلَامِ ؕ وَاللّٰہُ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ

ওয়া মান আজলামুমিম্মানিফ তারা-‘আলাল্লা-হিল কাযিবা ওয়া হুওয়া ইউদ‘আইলাল ইছলা-মি ওয়াল্লা-হু লা-ইয়াহদিল কাওমাজ্জা-লিমীন।

Mufti Taqi Usmani
And who is more unjust than the one who forges a lie against Allah, while he is invited to Islām? And Allah does not guide the unjust people.

মুফতী তাকী উসমানী
সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে, অথচ তাকে ইসলামের দিকে ডাকা হয়? ৬ আল্লাহ এরূপ জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়াতপ্রাপ্ত করেন না।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যে ব্যক্তি ইসলামের দিকে আহুত হয়েও আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলে; তার চাইতে অধিক যালেম আর কে? আল্লাহ যালেম সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যে ব্যক্তি ইসলামের দিকে আহূত হয়েও আল্লাহ্ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে তার অপেক্ষা অধিক জালিম আর কে ? আল্লাহ্ জালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।

মাওলানা জহুরুল হক
আর তার চাইতে কে বেশী অন্যায়কারী যে আল্লাহ্‌র বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, অথচ তাকে আহ্বান করা হচ্ছে ইসলামের দিকে? আর আল্লাহ্ অন্যায়াচারী জাতিকে সৎপথে চালান না।

তাফসীরঃ
৬. যাকে ইসলামের দিকে ডাকা হয়, আর সে কোন রাসূলের রিসালাতকে অস্বীকার করে, সে মূলত আল্লাহ তাআলা সম্পর্কেই মিথ্যা রচনা করে। কেননা আল্লাহ তাআলা তাকে নবী বানিয়েছেন, আর সে বলছে তাকে নবী বানানো হয়নি, এটা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা ছাড়া আর কী?

یُرِیۡدُوۡنَ لِیُطۡفِـُٔوۡا نُوۡرَ اللّٰہِ بِاَفۡوَاہِہِمۡ وَاللّٰہُ مُتِمُّ نُوۡرِہٖ وَلَوۡ کَرِہَ الۡکٰفِرُوۡنَ

ইউরীদূনা লিইউতফিউ নূরাল্লা-হি বিআফওয়া-হিহিম ওয়াল্লা-হুমুতিম্মুনূরিহী ওয়ালাও কারিহাল কা-ফিরূন।

Mufti Taqi Usmani
They wish to extinguish the light of Allah with their mouths, but Allah is to perfect His light, even though the disbelievers dislike (it).

মুফতী তাকী উসমানী
তারা তাদের মুখ দিয়ে আল্লাহর নূর নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তার নূরকে অবশ্যই পরিপূর্ণ করবেন, তা কাফেরদের জন্য যতই অপ্রীতিকর হোক।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তারা মুখের ফুঁৎকারে আল্লাহর আলো নিভিয়ে দিতে চায়। আল্লাহ তাঁর আলোকে পূর্ণরূপে বিকশিত করবেন যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এরা আল্লাহ্ র নূর ফুৎকারে নিভাইতে চায়, কিন্তু আল্লাহ্ তাঁর নূর পূর্ণরূপে উদ্ভাসিত করবেন, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।

মাওলানা জহুরুল হক
ওরা চায় আল্লাহ্‌র আলোককে তাদের মুখ দিয়ে নিভিয়ে দিতে। কিন্ত আল্লাহ্ তাঁর আলোককে পূর্ণাঙ্গ করতেই যাচ্ছেন, যদিও অবিশ্বাসীরা অপছন্দ করে।

ہُوَ الَّذِیۡۤ اَرۡسَلَ رَسُوۡلَہٗ بِالۡہُدٰی وَدِیۡنِ الۡحَقِّ لِیُظۡہِرَہٗ عَلَی الدِّیۡنِ کُلِّہٖ وَلَوۡ کَرِہَ الۡمُشۡرِکُوۡنَ ٪

হুওয়াল্লাযীআরছালা রাছূলাহূবিলহুদা-ওয়া দীনিল হাক্কি লিইউজহিরাহূ‘আলাদ্দীনি কুল্লিহী ওয়া লাও কারিহাল মুশরিকূন।

Mufti Taqi Usmani
He is the One who has sent His Messenger with guidance and the religion of truth, so that He makes it prevail over all religions, even though the mushriks (those who ascribe partners to Allah) dislike (it).

মুফতী তাকী উসমানী
তিনিই তো নিজ রাসূলকে হেদায়াত ও সত্য দীনসহ প্রেরণ করেছেন, তাকে সকল দীনের উপর বিজয়ী করার জন্য, ৭ তা মুশরিকদের জন্য যতই অপ্রীতিকর হোক।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তিনি তাঁর রসূলকে পথ নির্দেশ ও সত্যধর্ম নিয়ে প্রেরণ করেছেন, যাতে একে সবধর্মের উপর প্রবল করে দেন যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তিনিই তাঁর রাসূলকে প্রেরণ করেছেন হিদায়াত ও সত্য দীনসহ সকল দীনের ওপর একে বিজয়ী করার জন্যে, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।

মাওলানা জহুরুল হক
তিনিই সেইজন যিনি তাঁর রসূলকে পাঠিয়েছেন পথনির্দেশ ও সত্য ধর্ম দিয়ে যেন তিনি একে প্রাধান্য দিতে পারেন ধর্মের -- তাদের সবক’টির উপরে, যদিও বহুখোদাবাদীরা অপছন্দ করে।

তাফসীরঃ
৭. দলীল-প্রমাণের ময়দানে তো ইসলাম সর্বদা বিজয়ীই আছে এবং থাকবেও। আর বাহ্যিক শক্তিতে মুসলিমদের বিজয়ী থাকার বিষয়টা বিভিন্ন শর্তের সাথে যুক্ত। সে সকল শর্ত বিদ্যমান থাকায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, খোলাফায়ে রাশেদীন এবং তারপরও কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহ সকলের উপর বিজয়ী ছিল। অতঃপর তাদের দ্বারা সে সব শর্ত পূরণ না হওয়ার কারণে বিজয়ও তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। পরিশেষে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভবিষ্যদ্বাণী মোতাবেক শেষ যামানায় আবার ইসলাম ও মুসলিম জাতি সারা বিশ্বে বিজয় লাভ করবে।

১০

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ہَلۡ اَدُلُّکُمۡ عَلٰی تِجَارَۃٍ تُنۡجِیۡکُمۡ مِّنۡ عَذَابٍ اَلِیۡمٍ

ইয়া-আইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূহাল আদুল্লুকুমআলা-তিজা-রাতিন তুনজীকুমমিন‘আযা-বিন আলীম।

Mufti Taqi Usmani
O you who believe, shall I tell you about a trade that saves you from a painful punishment?

মুফতী তাকী উসমানী
হে মুমিনগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যবসায়ের সন্ধান দেব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাময় শাস্তি থেকে রক্ষা করবে? ৮

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
মুমিনগণ, আমি কি তোমাদেরকে এমন এক বানিজ্যের সন্ধান দিব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তি দেবে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হে মু’মিনগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক বাণিজ্যের সন্ধান দিব যা তোমাদেরকে রক্ষা করবে মর্মন্তুদ শাস্তি হতে ?

মাওলানা জহুরুল হক
ওহে যারা ঈমান এনেছ! আমি কি তোমাদের সন্ধান দেব এমন এক পণ্যদ্রব্যের যা তোমাদের উদ্ধার করবে মর্মন্তুদ শাস্তি থেকে?

তাফসীরঃ
৮. ব্যবসায়ে দ্বিপাক্ষিক লেনদেন থাকে। অর্থাৎ এক পক্ষ অপর পক্ষকে কোন মাল দিয়ে বিনিময়ে তার মূল্য গ্রহণ করে। সে রকমই মুমিনগণ নিজের জান-মাল আল্লাহ তাআলাকে সমর্পণ করে এবং আল্লাহ তাআলা বিনিময়ে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতবাসী বানান। এটা বান্দার প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ যে, তিনি নিজের দেওয়া জান-মালকেই ক্রেতা হিসেবে জান্নাতের বিনিময়ে গ্রহণ করেন। দেখুন সূরা তাওবা (৯ : ১১১)।

১১

تُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ وَتُجَاہِدُوۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ بِاَمۡوَالِکُمۡ وَاَنۡفُسِکُمۡ ؕ  ذٰلِکُمۡ خَیۡرٌ لَّکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ ۙ

তু’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী ওয়া তুজা-হিদূ না ফী ছাবীলিল্লা-হি বিআমওয়া-লিকুম ওয়া আনফুছিকুম যা-লিকুম খাইরুল্লাকুম ইন কুনতুম তা‘লামূন।

Mufti Taqi Usmani
That you believe in Allah and His Messenger, and carry out Jihād in His way with your riches and your lives. That is much better for you, if you but know.

মুফতী তাকী উসমানী
(তা এই যে,) তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটা তোমাদের পক্ষে শ্রেয় যদি তোমরা উপলব্ধি কর।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তা এই যে, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ও জীবনপণ করে জেহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম; যদি তোমরা বোঝ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তা এই যে, তোমরা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলে বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহ্ র পথে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্যে শ্রেয় যদি তোমরা জানতে!

(ads2)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#f50707)

মাওলানা জহুরুল হক
তোমরা আল্লাহ্‌তে ও তাঁর রসূলে বিশ্বাস করবে, আর আল্লাহ্‌র পথে সংগ্রাম করবে তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের জীবন দিয়ে। এইটিই হচ্ছে তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা জানতে!

১২

یَغۡفِرۡ لَکُمۡ ذُنُوۡبَکُمۡ وَیُدۡخِلۡکُمۡ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ وَمَسٰکِنَ طَیِّبَۃً فِیۡ جَنّٰتِ عَدۡنٍ ؕ  ذٰلِکَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡمُ ۙ

ইয়াগফিরলাকুম যুনূবাকুম ওয়া ইউদখিলকুম জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু ওয়া মাছা-কিনা তাইয়িবাতান ফী জান্না-তি ‘আদনিন যা-লিকাল ফাওঝুল ‘আজীম।

Mufti Taqi Usmani
(If you do this,) He will forgive your sins, and will admit you to gardens beneath which rivers flow, and to pleasant dwellings in gardens of eternity. That is the great achievement.

মুফতী তাকী উসমানী
এর ফলে আল্লাহ তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করবেন এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাবেন এমন উদ্যানে, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত থাকবে এবং এমন উৎকৃষ্ট বাসগৃহে, যা স্থায়ী জান্নাতে অবস্থিত। এটাই মহা সাফল্য।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তিনি তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করবেন এবং এমন জান্নাতে দাখিল করবেন, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত এবং বসবাসের জান্নাতে উত্তম বাসগৃহে। এটা মহাসাফল্য।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আল্লাহ্ তোমাদের পাপ ক্ষমা করে দিবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, এবং স্থায়ী জান্নাতের উত্তম বাসগৃহে। এটাই মহাসাফল্য।

মাওলানা জহুরুল হক
তিনি তোমাদের পরিত্রাণ করবেন তোমাদের দোষত্রুটি থেকে, আর তোমাদের প্রবেশ করাবেন জান্নাতে যাদের নিচে দিয়ে বয়ে চলেছে ঝরনারাজি, আর নন্দন কাননের উৎকৃষ্ট গৃহসমূহে। এটিই মহাসাফল্য!

১৩

وَاُخۡرٰی تُحِبُّوۡنَہَا ؕ نَصۡرٌ مِّنَ اللّٰہِ وَفَتۡحٌ قَرِیۡبٌ ؕ وَبَشِّرِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ

উখরা-তুহিববূনাহা- নাসরুম মিনাল্লা-হি ওয়া ফাতহুন কারীব ওয়া বাশশিরিল মু’মিনীন।

Mufti Taqi Usmani
And (He will give you) another thing, which you love: Help from Allah, and victory, near at hand.

মুফতী তাকী উসমানী
এবং তোমাদেরকে দান করবেন তোমাদের পছন্দনীয় আরও একটি জিনিস (আর তা হল) আল্লাহর পক্ষ হতে সাহায্য এবং আসন্ন বিজয় এবং (হে রাসূল!) মুমিনদেরকে (এর) সুসংবাদ শুনিয়ে দাও।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এবং আরও একটি অনুগ্রহ দিবেন, যা তোমরা পছন্দ কর। আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য এবং আসন্ন বিজয়। মুমিনদেরকে এর সুসংবাদ দান করুন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এবং তিনি দান করবেন তোমাদের বাঞ্ছিত আরও একটি অনুগ্রহ : আল্লাহ্ র সাহায্য ও আসন্ন বিজয়; মু’মিনদেরকে সুসংবাদ দাও।

মাওলানা জহুরুল হক
আর অন্য একটি যা তোমরা ভালবাস -- আল্লাহ্‌র কাছ থেকে সাহায্য ও আসন্ন বিজয়। আর সুসংবাদ দাও মুমিনদের।



بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِ

১৪

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا کُوۡنُوۡۤا اَنۡصَارَ اللّٰہِ کَمَا قَالَ عِیۡسَی ابۡنُ مَرۡیَمَ لِلۡحَوَارِیّٖنَ مَنۡ اَنۡصَارِیۡۤ اِلَی اللّٰہِ ؕ  قَالَ الۡحَوَارِیُّوۡنَ نَحۡنُ اَنۡصَارُ اللّٰہِ فَاٰمَنَتۡ طَّآئِفَۃٌ مِّنۡۢ بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ وَکَفَرَتۡ طَّآئِفَۃٌ ۚ  فَاَیَّدۡنَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا عَلٰی عَدُوِّہِمۡ فَاَصۡبَحُوۡا ظٰہِرِیۡنَ ٪

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূকূনূআনসা-রাল্লা-হি কামা-কা-লা ‘ঈছাবনুমারইয়ামা লিলহাওয়া-বিইয়ীনা মান আনসা-রী-ইলাল্লা-হি কা-লাল হাওয়া-রিইয়ূনা নাহনুআনসারুল্লা-হি ফাআ-মানাত্তাইফাতুমমিম বানীইছরাঈলা ওয়া কাফারাততাইফাতুন ফাআইঁয়াদনাল্লাযীনা আ-মানূ‘আলা-‘আদুওবিহিম ফাআসবাহূ জা-হিরীন।

Mufti Taqi Usmani
O you who believe, be supporters of (the religion of) Allah, just as ‘Īsā, son of Maryam, said to the Disciples, “Who are my supporters towards Allah?” The Disciples said, “We are the supporters of (the religion of) Allah.” So a group from the children of Isrā’īl believed, and another group disbelieved. Then We supported those who believed against their enemy, and they became victors.

মুফতী তাকী উসমানী
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর (দীনের) সাহায্যকারী হয়ে যাও, যেমন ঈসা ইবনে মারয়াম (আলাইহিস সালাম) হাওয়ারীদেরকে ৯ বলেছিলেন, আল্লাহর পথে কে আমার সাহায্যকারী হবে? হাওয়ারীগণ বলল, আমরা আল্লাহর (দীনের) সাহায্যকারী। তারপর বনী ইসরাঈলের একদল ঈমান আনল এবং একদল কুফর অবলম্বন করল। সুতরাং যারা ঈমান এনেছিল, আমি তাদেরকে তাদের শত্রুর বিরুদ্ধে সাহায্য করলাম, ফলে তারা বিজয়ী হল।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হয়ে যাও, যেমন ঈসা ইবনে-মরিয়ম তার শিষ্যবর্গকে বলেছিল, আল্লাহর পথে কে আমার সাহায্যকারী হবে? শিষ্যবর্গ বলেছিলঃ আমরা আল্লাহর পথে সাহায্যকারী। অতঃপর বনী-ইসরাঈলের একদল বিশ্বাস স্থাপন করল এবং একদল কাফের হয়ে গেল। যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, আমি তাদেরকে তাদের শত্রুদের মোকাবেলায় শক্তি যোগালাম, ফলে তারা বিজয়ী হল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহ্ র দীনের সাহায্যকারী হও, যেমন মারইয়াম-তনয় ঈসা হাওয়ারীগণকে বলেছিল, ‘আল্লাহ্ র পথে কে আমার সাহায্যকারী হবে ?’ হাওয়ারীগণ বলেছিল, ‘আমরাই আল্লাহ্ র পথে সাহায্যকারী।’ এরপর বনী ইস্রাঈলের একদল ঈমান আনিল এবং একদল কুফরী করল। তখন আমি যারা ঈমান এনেছিল, তাদের শত্রুদের মুকাবিলায় তাদেরকে শক্তিশালী করলাম, ফলে তারা বিজয়ী হল।

মাওলানা জহুরুল হক
ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা আল্লাহ্‌র সাহায্যকারী হও, যেমন মরিয়ম-পুত্র ঈসা শিষ্যদের বলেছিলেন -- "কারা আল্লাহ্‌র তরফে আমার সাহায্যকারী হবে?" শিষ্যেরা বলেছিল, "আমরাই আল্লাহ্‌র সাহায্যকারী।" সুতরাং ইসরাইলের বংশধরদের মধ্যের একদল বিশ্বাস করেছিল এবং একদল অবিশ্বাস করেছিল। সেজন্য যারা ঈমান এনেছিল তাদের আমরা সাহায্য করেছিলাম তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে, ফলে পরক্ষণেই তারা উপরহাত হয়েছিল।

তাফসীরঃ
৯. হাওয়ারী বলা হয় হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের সঙ্গীগণকে, যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিলেন, যেমন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গীগণকে সাহাবী বলে।

প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে ও

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ  

আমাদের নতুন ইসলামিক নিউজ ও জিজ্ঞাসা ভিত্তিক সাইড

Islamic Info Hub ( www.islamicinfohub.com ) আজই ভিজিড করুন !! 


Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
Post a Comment (0)

islamicinfohub Top Post Ad1

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !
To Top