সূরা মুনাফিকূন বাংলা উচ্চারণ সহ অনুবাদ,সূরা মুনাফিকূন বাংলা উচ্চারণ, সূরা আল মুনাফিকূন বাংলা তরজমা,সূরা মুনাফিকূন বাংলা তাফসীর, আমল সূরা আল মুনাফিকূন, সকল আমল সূরা আল মুনাফিকূন

0

আজকের বিষয়: সূরা মুনাফিকূন সকল তথ্য আল কোরআন ও হাদিসের আলোতে,পৃথিবীর জানা অজানা কিছু তথ্য আল মুনাফিকূন আলমল ও ফজিলত, সূরা মুনাফিকূন কতো বার পাঠ করলে কোন আলম ও ফজিলত, সূরা মুনাফিকূন নাযিলের কারন গুলো কি কি ,কুরআন ৬৩ সূরা আল - মুনাফিকূন

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
اِذَا جَآءَکَ الۡمُنٰفِقُوۡنَ قَالُوۡا نَشۡہَدُ اِنَّکَ لَرَسُوۡلُ اللّٰہِ ۘ  وَاللّٰہُ یَعۡلَمُ اِنَّکَ لَرَسُوۡلُہٗ ؕ  وَاللّٰہُ یَشۡہَدُ اِنَّ الۡمُنٰفِقِیۡنَ لَکٰذِبُوۡنَ ۚ ١ اِتَّخَذُوۡۤا اَیۡمَانَہُمۡ جُنَّۃً فَصَدُّوۡا عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ؕ اِنَّہُمۡ سَآءَ مَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ٢ ذٰلِکَ بِاَنَّہُمۡ اٰمَنُوۡا ثُمَّ کَفَرُوۡا فَطُبِعَ عَلٰی قُلُوۡبِہِمۡ فَہُمۡ لَا یَفۡقَہُوۡنَ ٣ وَاِذَا رَاَیۡتَہُمۡ تُعۡجِبُکَ اَجۡسَامُہُمۡ ؕ وَاِنۡ یَّقُوۡلُوۡا تَسۡمَعۡ لِقَوۡلِہِمۡ ؕ کَاَنَّہُمۡ خُشُبٌ مُّسَنَّدَۃٌ ؕ یَحۡسَبُوۡنَ کُلَّ صَیۡحَۃٍ عَلَیۡہِمۡ ؕ ہُمُ الۡعَدُوُّ فَاحۡذَرۡہُمۡ ؕ قٰتَلَہُمُ اللّٰہُ ۫ اَنّٰی یُؤۡفَکُوۡنَ ٤ وَاِذَا قِیۡلَ لَہُمۡ تَعَالَوۡا یَسۡتَغۡفِرۡ لَکُمۡ رَسُوۡلُ اللّٰہِ لَوَّوۡا رُءُوۡسَہُمۡ وَرَاَیۡتَہُمۡ یَصُدُّوۡنَ وَہُمۡ مُّسۡتَکۡبِرُوۡنَ ٥ سَوَآءٌ عَلَیۡہِمۡ اَسۡتَغۡفَرۡتَ لَہُمۡ اَمۡ لَمۡ تَسۡتَغۡفِرۡ لَہُمۡ ؕ لَنۡ یَّغۡفِرَ اللّٰہُ لَہُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الۡفٰسِقِیۡنَ ٦ ہُمُ الَّذِیۡنَ یَقُوۡلُوۡنَ لَا تُنۡفِقُوۡا عَلٰی مَنۡ عِنۡدَ رَسُوۡلِ اللّٰہِ حَتّٰی یَنۡفَضُّوۡا ؕ وَلِلّٰہِ خَزَآئِنُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَلٰکِنَّ الۡمُنٰفِقِیۡنَ لَا یَفۡقَہُوۡنَ ٧ یَقُوۡلُوۡنَ لَئِنۡ رَّجَعۡنَاۤ اِلَی الۡمَدِیۡنَۃِ لَیُخۡرِجَنَّ الۡاَعَزُّ مِنۡہَا الۡاَذَلَّ ؕ  وَلِلّٰہِ الۡعِزَّۃُ وَلِرَسُوۡلِہٖ وَلِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَلٰکِنَّ الۡمُنٰفِقِیۡنَ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ٪ ٨ یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تُلۡہِکُمۡ اَمۡوَالُکُمۡ وَلَاۤ اَوۡلَادُکُمۡ عَنۡ ذِکۡرِ اللّٰہِ ۚ وَمَنۡ یَّفۡعَلۡ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ ٩ وَاَنۡفِقُوۡا مِنۡ مَّا رَزَقۡنٰکُمۡ مِّنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّاۡتِیَ اَحَدَکُمُ الۡمَوۡتُ فَیَقُوۡلَ رَبِّ لَوۡلَاۤ اَخَّرۡتَنِیۡۤ اِلٰۤی اَجَلٍ قَرِیۡبٍ ۙ فَاَصَّدَّقَ وَاَکُنۡ مِّنَ الصّٰلِحِیۡنَ ١۰ وَلَنۡ یُّؤَخِّرَ اللّٰہُ نَفۡسًا اِذَا جَآءَ اَجَلُہَا ؕ  وَاللّٰہُ خَبِیۡرٌۢ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ ٪ ١١


আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ  


নামকরণ
প্রথম আয়াতের () অংশ থেকে এ সূরার নাম গ্রহণ করা হয়েছে । এটি এ সূরার নাম এবং বিষয়বস্তু শিরোনামও । কারণ এ সূরায় মুনাফিকদের কর্মপদ্ধতির সমালোচনা করা হয়েছে ।

(ads1)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#f50707)

নাযিল হওয়ার সময়-কাল
বনী মুসতালিক যুদ্ধভিযান থেকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ফিরে আসার সময় পথিমধ্যে অথবা মদীনায় পৌছার অব্যবহিত পরে এ সূরা নাযিল হয়েছিল । ৬ হিজরীর শা’বান মাসে বনী মুসতালিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল একথা আমরা সূরা নূরের ভূমিকায় ব্যাখ্যা -বিশ্লেষণসহ বর্ণনা করেছি । এভাবে এর নাযিল হওয়ার সময় সঠিকভাবে নির্দিষ্ট হয়ে যায় । এ বিষয়ে আমরা পরে আরো আলোচনা করব ।

ঐতিহাসিক পটভূমি
যে বিশেষ ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে এ সূরা নাযিল হয়েছিল তা আলোচনার পূর্বে মদীনার মুনাফিকদের ইতিহাসের দিকে একবার দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন । কারণ ঐ সময়ে যে ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল তা আদৌ কোন আকস্মিক দুর্ঘটনা ছিল না । বরং তার পেছনে ছিল একটি পুরো ধারাবাহিক ঘটনা প্রবাহ যা পরিশেষে এতদূর পর্যন্ত গড়িয়েছিল ।

পবিত্র মদীনা নগরীতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনের পূর্বে আওস ও খাযরাজ গোত্র দুটি পারস্পরিক গৃহযুদ্ধে ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তির নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব মেনে নিতে প্রায় ঐকমত্যে পৌঁছেছিল । তারা যথারীতি তাকে বাদশাহ বানিয়ে তার অভিষেক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিও শুরু করেছিল । এমন কি তার জন্য রাজ মুকুটও তৈরী করা হয়েছিল । এ ব্যক্তি ছিল খাযরাজ গোত্রের নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালূল । মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেন, খাযরাজ গোত্রে তার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব ছিল সর্বসম্মত এবং আওস ও খাযরাজ ইতিপূর্বে আর কখনো একযাগে এক ব্যক্তির নেতৃত্ব মেনে নেয়নি । (ইবনে হিশাম, ২য় খণ্ড , পৃষ্ঠা ২৩৪) ।

এই পরিস্থিতিতে ইসলামের বাণী মদীনায় পৌছে এবং এই দুটি গোত্রের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ ইসলাম গ্রহণ করতে শুরু করে । হিজরাতের আগে আকাবার দ্বিতীয় বাইয়াতের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যখন মদীনায় আগমনের জন্য আহবান জানানো হচ্ছিল তখন হযরত আব্বাস ইবনে উবাদা ইবনে নাদলা (রা) আনসারী এ আহবান জানাতে শুধু এ কারণে দেরী করতে চাচ্ছিলেন যাতে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইও বাইয়াত ও দাওয়াতে শামিল হয় এবং এভাবে মদীনা যেন সর্বসম্মতিক্রমে ইসলামের কেন্দ্র হয়ে ওঠে । কিন্তু যে প্রতিনিধি দল বাইয়াতের জন্য হাজির হয়েছিল তারা এই যুক্তি ও কৌশলকে কোন গুরুত্বই দিলেন না এবং এতে অংশগ্রহণকারী দুই গোত্রের ৭৫ ব্যক্তি সব রকম বিপদ মাথা পেতে নিয়ে নবী (সা) কে দাওয়াত দিতে প্রস্তুত হয়ে গেল । (ইবনে হিশাম, দ্বিতীয় খন্ড , পৃষ্ঠা ৮৯ ) আমরা সূরা আনফালের ভূমিকায় এ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পেশ করেছি ।

এরপর নবী (সা) যখন মদীনায় পৌছলেন তখন আনসারদের ঘরে ঘরে ইসলাম এতটা প্রসার লাভ করেছিল যে, আবদুল্লাহ ইবনে উবাই নিরূপায় হয়ে পড়েছিল । নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব রক্ষার জন্য তার নিজের জন্য ইসলাম গ্রহণ করা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না । তাই সে তার বহু সংখ্যক সহযোগী ও সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে ইসলাম গ্রহণ করে । এদের মধ্যে উভয় গোত্রের প্রবীণ ও নেতৃত্ব পর্যায়ের লোকেরা । অথব তাদের সবার অন্তর জ্বলে পুড়ে ছাড়খার হয়ে যাচ্ছিল । বিশেষ করে আবদুল্লাহ ইবনে উবায়ের অন্তরজ্বালা ও দুঃখ ছিল অত্যন্ত তীব্র । কারণ সে মনে করতো, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার রাজত্ব ও বাদশাহী ছিনিয়ে নিয়েছেন । তার এই মুনাফেকীপূর্ণ ঈমান এবং নেতৃত্ব হারানোর দুঃখ কয়েক বছর ধরে বিচিত্র ভঙ্গিতে প্রকাশ পেতে থাকল । একদিকে তার অবস্থা ছিল এই যে, প্রতি জুমআর দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন খুতবা দেয়ার জন্য মিম্বরে উঠে বসতেন তখন আবদুল্লাহ ইবনে উবাই উঠে বলতো, “ভাইসব, আল্লাহর রসূল আপনাদের মধ্যে বিদ্যমান । তাঁর কারণে আল্লাহ তা’আলা আপনাদেরকে সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন । তাই আপনারা সবাই তাঁকে সাহায্য, সহযোগিতা করুন । এবং তিনি যা বলেন গভীর মনযোগ সহকারে শুনুন এবং তার আনুগত্য করুন । “(ইবনে হিশাম, তৃতীয় খন্ড , পৃষ্ঠা, ১১১) । অপরদিকে অবস্থা ছিল এই যে, প্রতিদিনই তার মুনাফেকীর মুখোশ খুলে পড়ছিল এবং সৎ ও নিষ্ঠাবান মুসলমানদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছিল যে, সে ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা ইসলাম , রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং ঈমানদারদের বিরুদ্ধে চরম শত্রুতা পোষণ করে ।

একবার নবী (সা) কোন এক পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন । এই সময় পথে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই তাঁর সাথে অভদ্র আচরণ করে । তিনি হযরত সা’দ ইবনে উবাদাকে বিষয়টি জানালে সা’দ বললেন, “হে আল্লাহর রসূল, আপনি এ ব্যক্তির প্রতি একটু নম্রতা দেখান । আপনার আগমনের পূর্বে আমরা তার জন্য রাজমুকুট তৈরী করেছিলাম । এখন সে মনে করে, আপনি তার নিকট থেকে রাজত্ব ছিনিয়ে নিয়েছেন । “ (ইবনে হিশাম, তৃতীয় খন্ড , পৃষ্ঠা ২৩৭, ২৩৮) ।

বদর যুদ্ধের পর বনী কাইনুকা গোত্রের ইহুদীরা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও অকারণে বিদ্রোহ করলে রসূলুল্লাহ (সা) তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন । তখন এই ব্যক্তি তাদের সমর্থনে কোমর বেঁধে কাজ শুরু করে । সে নবীর (সা) বর্ম ধরে বলতে লাগলো, এই গোত্রটির সাতশত বীরপুরুষ যোদ্ধা শত্রুর মোকাবেলায় সবসময় আমাকে সাহায্য করেছে, আজ একদিনেই আপনি তাদের হত্যা করতে যাচ্ছেন? আল্লাহর শপথ, আপনি যতক্ষণ আমার এই মিত্রদের ক্ষমা না করবেন আমি ততক্ষণ আপনাকে ছাড়বো না । (ইবনে হিশাম, তৃতীয় খন্ড , পৃষ্ঠা ৫১-৫২) ।

উহুদ যুদ্ধের সময় এই ব্যক্তি খোলাখুলি বিশ্বাসঘাতকতা করেছে । যুদ্ধের ঠিক পূর্ব মুহুর্তে সে তার তিনশত সঙ্গী -সাথীকে নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে থেকে ফিরে এসেছে । কি সাংঘাতিক নাযুক মুহূর্তে সে এই আচরণ করেছে তা এই একটি বিষয় থেকেই অনুমান করা যায় যে, কুরাইশরা তিন হাজার লোকের একটি বাহিনী নিয়ে মদীনার ওপরে চড়াও হয়েছিল আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাত্র এক হাজার লোক নিয়ে তাদের মোকাবিলা ও প্রতিরোধের জন্য বেরিয়েছিলেন । এক হাজার লোকের মধ্যে থেকেও এই মুনাফিক তিনশত লোককে আলাদা করে যুদ্ধের ময়দান থেকে সরিয়ে নিয়ে গেল এবং নবী (সা) কে শুধু সাতশত লোকের একটি বাহিনী নিয়ে তিন হাজার শত্রুর মোকাবিলা করতে হলো ।

এ ঘটনার পর মদীনার সব মুসলমান নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারলো যে, এ লোকটি কট্রর মুনাফিক । তার যেসব সংগীসাথী এই মুনাফিকীতে তার সাথে শরীক ছিল তাদেরকেও তারা চিনে নিল । এ কারণে উহুদ যুদ্ধের পর প্রথম জুম’আর দিনে নবীর (সা) খোতবা দেয়ার পূর্বে এ ব্যক্তি যখন বক্তৃতা করতে দাঁড়ালো তখন লোকজন তার জামা টেনে ধরে বললঃ “তুমি বসো, তুমি একথা বলার উপযুক্ত নও । “ মদীনাতে এই প্রথমবারের মত প্রকাশ্যে এ ব্যক্তিকে অপমানিত করা হলো । এতে সে ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ ও রাগান্বিত হলো এবং মানুষের ঘাড় ও মাথার উপর দিয়ে ডিঙিয়ে ডিঙিয়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে গেল । মসজিদের দরজার কাছে কিছু সংখ্যক আনসার তাকে বললেন, “তুমি একি আচরণ করছো? ফিরে চলো এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আবেদন করো । “ এতে সে ক্রোধে ফেটে পড়লো এবং বললো! “তাকে দিয়ে আমি কোন প্রকার ক্ষমা প্রার্থনা করাতে চাই না” । (ইবনে হিশাম, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১১১) ।

(ads1)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#f50707)

হিজরী ৪ সনে বনু নাযীর যুদ্ধ সংঘটিত হয় । সেই সময় এই ব্যক্তি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা আরো খোলাখুলিভাবে ইসলামের বিরুদ্ধে ইসলামের শত্রুদের সাহায্য সহযোগিতা দান করে । একদিনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর জান কবুল সাহাবীগণ এসব ইহুদী শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন । অপরদিকে এই মুনাফিকরা গোপনে গোপনে ইহুদীদের কাছে খবর পাঠাচ্ছিল যে, তোমরা রুখে দাঁড়াও । আমরা তোমাদের সাথে আছি । তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হলে আমরা তোমাদের সাহায্য করবো এবং তোমাদেরকে বহিষ্কার করা হলে আমরাও তোমাদের সাথে বেরিয়ে যাব । আল্লাহ তা’আলা তাদের এই গোপন গাঁটছড়া বাঁধার বিষয়টি প্রকাশ করে দিলেন । সূরা হাশরের দ্বিতীয় রুকূ’তে এ বিষয়েই আলোচনা করা হয়েছে ।

কিন্তু তার ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের মুখোশ খুলে পড়ার পরও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কার্যকলাপ ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে এড়িয়ে যাচ্ছিলেন । কারণ মুনাফিকদের একটা বড় দল তার সহযোগী ছিল । আওস ও খাযরাজ গোত্রদ্বয়ের বহু সংখ্যক নেতা তার সহায্যকারী ছিল । কম করে হলেও মদীনার গোটা জনবসতির এক তৃতীয়াংশ ছিল তার সাঙ্গপাঙ্গ । উহুদ যুদ্ধের সময় এ বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছিল । এই পরিস্থিতিতে বাইরের শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করার সাথে সাথে আভ্যন্তরীণ শত্রুর সাথেও যুদ্ধের ঝুঁকি নেয়া কোন অবস্থায়ই সমীচীন ছিল না । এ কারণে তাদের মুনাফিকী সম্পর্কের অবহিত থাকা সত্ত্বেও নবী (সা) দীর্ঘদিন পর্যন্ত বাহ্যিকভাবে ঈমানের দাবী অনুসারেই তাদের সাথে আচরণ করেছেন । অপরদিকে এসব লোকেরও এতটা শক্তি ও সাহস ছিল না যে, তারা প্রকাশ্যে কাফের হয়ে ঈমানদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করত অথবা খোলাখুলি কোন হামলাকারী শত্রুর সাথে মিলিত হয়ে ময়দানে অবতীর্ণ হতো । বাহ্যত তারা নিজেদের একটা মজবুত গোষ্ঠী তৈরী করে নিয়েছিল । কিন্তু তাদের মধ্যে বহু দুর্বলতা ছিল । সূরা হাশরের ১২ থেকে ১৪ আয়াতে আল্লাহ তা’আলা স্পষ্টভাবে সেইসব দুর্বলতার কথাই তুলে ধরেছেন । তাই তারা মনে করতো মুসলমান সেজে থাকার মধ্যেই তাদের কল্যাণ নিহিত । তারা মসজিদে আসত, নামায পড়তো এবং যাকাতও দিতো । তাছাড়া মুখে ঈমানের লম্বা চওড়া দাবী করতো, সত্যিকার মুসলমানদের যা করার আদৌ কোন প্রয়োজন পড়তো না । নিজেদের প্রতিটি মুনাফিকী আচরণের পক্ষে হাজারটা মিথ্যা যুক্তি তাদের কাছে ছিল । এসব কাজ দ্বারা তারা নিজেদের স্বগোত্রীয় আনসারদেরকে এই মর্মে মিথ্যা আশ্বাস দিত যে, আমরা তোমাদের সাথেই আছি । আনসারদের ভ্রাতৃত্ব বন্ধন থেকে বিচ্ছিন্ন হলে তাদের অনেক ক্ষতি হতো । এসব কৌশল অবলম্বন করে তারা যেসব ক্ষতি থেকে নিজেদের রক্ষা করেছিল । তাছাড়া তাদের ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ থেকে মুসলমানদের ভেতরে কলহ কোন্দাল ও ফাসাদ সৃষ্টির এমন সব সুযোগও তারা কাজে লাগাচ্ছিল যা অন্য কোন জায়গায় থেকে লাভ করতে পারত না ।

এসব কারণে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই এবং তার সাঙ্গপাঙ্গ মুনাফিকরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বনী মুসতালিক যুদ্ধাভিযানে শরীক হওয়ার সুযোগ লাভ করেছিল এবং এই সুযোগে একই সাথে এমন দুটি মহাফিতনা সৃষ্টি করেছিল যা মুসলমানদের সংহতি ও ঐক্যকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারত । কিন্তু পবিত্র কুরআনের শিক্ষা এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র সাহচর্য থেকে ঈমানদাগণ যে সর্বোত্তম প্রশিক্ষণ লাভ করেছিলেন তার কল্যাণে যথা সময়ে এ ফিতনার মুলোৎপাটন হয়ে যায় এবং এসব মুনাফিক নিজেরাই অপমানিত ও লাঞ্ছিত হয় । এ দুটি ফিতনার মধ্যে একটির উল্লেখ করা হয়েছে সূরা নূরে । আর অপর ফিতনাটির উল্লেখ করা হয়েছে আলোচ্য এই সূরাটিতে ।

বুখারী , মুসলিম, আহমাদ, নাসায়ী, তিরমিযী, বায়হাকী, তাবারানী, ইবনে মারদুইয়া, আবদুর রাযযাক, ইবনে জারীর, তাবারী, ইবনে সা’দ এবং মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক বহু সংখ্যক সনদসূত্রে এই ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন । যে অভিযানের সময় এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল কিছু সংখ্যক রেওয়াতে তার নাম উল্লেখ করা হয়নি । আবার কোন কোন রেওয়ায়াতে তাবুক যুদ্ধের সময়কার ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে । কিন্তু মাগাযী (যুদ্ধ বিষয়ক ইতিহাস) ও সীরাত (নবী জীবন) বিশেষজ্ঞগণ এ বিষয়ে একমত যে, এ ঘটনা বনী মুসতালিক যুদ্ধের সময় সংঘটিত হয়েছিল । বিভিন্ন রেওয়ায়াত একত্রিত করলে ঘটনার যে বাস্তব চিত্র পাওয়া যায় তা হচ্ছেঃ

বনী মুসতালিক গোত্রকে পরাস্ত করার পর ইসলামী সেনাবাহিনী তখনও মুরাইসী নামক কূপের আশেপাশের জনবসতিতে অবস্থান করেছিল । ইতিমধ্যে হঠাৎ পানি নিয়ে দুই ব্যক্তির মধ্যে বচসা হয় । তাদের মধ্যে একজনের নাম ছিল জাহ্জাহ্ ইবনে মাসউদ, গিফারী । তিনি ছিলেন হযরত উমরের (রা) কর্মচারী । তিনি তাঁর ঘোড়ার দেখাশোনা ও তত্বাবধান করতেন । অন্যজন ছিলেন সিনান ইবনে ওয়াবার ইল জুহানী । ১ তাঁর গোত্র খাযরাজ গোতের মিত্র ছিল । মৌখিক বাদানুবাদ শেষ পর্যন্ত হাতাহাতিতে পরিণত হয় এবং জাহজাহ সিনানকে একটি লাথি মারে । প্রাচীন ইয়ামানী ঐতিহ্য অনুসারে আনসারগণ এ ধরনের আচরণকে অত্যন্ত অপমানজনক ও লাঞ্ছনকর মনে করতেন । এতে সিনান সাহায্যের জন্য আনসারদেরকে আহবান জানায় এবং জাহজাহও মুহাজিরদের আহবান জানায় । এই ঝগড়ার খবর শোনামাত্র আবদুল্লাহ ইবনে উবাই আওস ও খাযরাজ গোত্রের লোকদের উত্তেজিত করতে শুরু করে । সে চিৎকার করে বলতে থাকে দ্রুত এসো, নিজের মিত্রদের সাহায্য করো । অপরদিকে থেকে কিছু সংখ্যক মুহাজিরও এগিয়ে আসেন । বিষয়টি আরো অনেক দূর পর্যন্ত গড়াতে পারতো । ফলে আনসার ও মুহাজিরগণ সম্মিলিতভাবে সবেমাত্র যে স্থানটিতে এক দুশমন গোত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাদের পরাজিত করেছিলেন এবং তখনও তাদের এলাকাতেই অবস্থান করেছিলেন সে স্থানটিতেই পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের লিপ্ত হয়ে পড়তেন । কিন্তু শোরগোল শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এগিয়ে গেলেন এবং বললেনঃ

“কি ব্যাপার ! জাহেলিয়াতের আহবান শুনতে পাচ্ছি কেন? জাহেলিয়াতের আহবানের সাথে তোমাদের কি সম্পর্ক? এসব ছেড়ে দাও, এগুলো দুর্গন্ধময় নোংরা জিনিস । ২ এতে উভয়পক্ষের সৎ ও নেক্কার লোকজন অগ্রসর হয়ে ব্যাপারটি মিটমাট করে দিলেন এবং সিনান জাহজাহকে মাফ করে আপোষ করে নিলেন ।

১. বিভিন্ন রেওয়ায়াতে উভয়ের বিভিন্ন নাম বর্ণনা করা হয়েছে । আমরা ইবনে হিশামের বর্ণনা থেকে এ নাম গ্রহণ করেছি ।

২. এই সময় নবীর (সা) বলা একথাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । ইসলামের সঠিক মর্মবাণীকে বুঝতে হলে একথাটি যথাযথভাবে বুঝে নেয়ার প্রয়োজন । ইসলামের নীতি হচ্ছে , দুই ব্যক্তি যদি তাদের বিবাদের ব্যাপারে সাহায্যের জন্য মানুষকে আহবান জানাতে চায় তাহলে সে বলবে, মুসলমান ভাইয়েরা, এগিয়ে এসো, আমাদের সাহায্য করো । অথবা বলবে, হে লোকেরা, আমাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আস । কিন্তু তাদের প্রত্যেকে যদি নিজ গোত্র, স্বজন, বংশ ও বর্ণ অথবা অঞ্চলের নাম নিয়ে আহবান জানায় তাহলে তা জাহেলিয়াতের আহবান হয়ে দাঁড়ায় । এ আহবানের সারা দিয়ে আগমনকারী যদি কে অত্যাচারী আর কে অত্যাচারিত তা না দেখে এবং হক ও ইনসাফের ভিত্তিতে অত্যাচারিতকে সাহায্যে করার পরিবর্তে নিজ নিজ গোষ্ঠীর লোককে সাহায্য করার জন্য পরস্পরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় তাহলে তা একটি জাহেলিয়াতপূর্ণ কাজ । এ ধরনের কাজ দ্বারা দুনিয়াতে বিপর্যয় সৃষ্টি হয় । তাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একে নোংরা ও ঘৃণিত জিনিস বলে আখ্যায়িত করে মুসলমানদের বলেছেন যে, এরূপ জাহেলিয়াতের আহবানের সাথে তোমাদের কি সম্পর্ক? তোমরা ইসলামের ভিত্তিতে একটি জাতি হয়েছিলে । এখন আনসার ও মুহাজিরদের নাম দিয়ে তোমাদের কি করে আহবান জানানো হচ্ছে, আর সেই আহবান শুনে তোমরা কোথায় ছুটে যাচ্ছে? আল্লামা সুহাইলী “রাওদুল উনুফ” গ্রন্থে লিখেছেনঃ কোন ঝগড়া -বিবাদ বা মতানৈক্যের ক্ষেত্রে জাহেলিয়াপূর্ণ আহবান জানানোকে ইসলামী আইনশাস্ত্রবিদগণ রীতিমত ফৌজদারী অপরাধ বলে চিহ্নিত করেছেন । একদল আইনবিদের মতে এর শাস্তি পঞ্চাশটি বেত্রাঘাত এবং আরেক দলের মতে দশটি । তৃতীয় আরেক দলের মতে, তাকে অবস্থার আলোকে শাস্তি দেয়া দরকার । কোন কোন ক্ষেত্রে শুধু তিরস্কার ও শাসনই যথেষ্ট । আবার কোন কোন ক্ষেত্রে এ ধরনের আহবান উচ্চারণকারীকে বন্দী করা উচিত । সে যদি বেশী দুষ্কর্মশীল হয় তাহলে তাকে বেত্রাঘাত করতে হবে ।

কিন্তু যাদের অন্তরে মুনাফিকী ছিল তারা সবাই এরপর আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের কাছে সমবেত হয়ে তাকে বললোঃ “এতদিন আমরা তোমার দিকে তাকিয়ে ছিলাম । তুমি প্রতিরোধও করে আসছিলে । কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, তুমি আমাদের বিরুদ্ধে এসব কাঙাল ও নিস্বদের সাহায্যকারী হয়ে গিয়েছো । “ আবদুল্লাহ ইবনে উবাই আগে থেকেই অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছিল । একথা শুনে সে আরো জ্বলে উঠল । সে বলতে শুরু করলঃ এসব তোমাদের নিজেদেরই কাজের ফল । তোমরা এসব লোককে নিজের দেশে আশ্রয় দিয়েছো, নিজেদের অর্থ-সম্পদ তাদের বন্টন করে দিয়েছো । এখন তারা ফুলে ফেঁপে উঠেছে এবং আমাদেরই প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে । আমাদের এবং কুরাইশদের এই কাঙালদের বা মুহাম্মাদের (সা) (সঙ্গীসাথীদের ) অবস্থা বুঝাতে একটি উপমা হুবহু প্রযোজ্য । উপমাটি হলো, তুমি নিজের কুকুরকে খাইয়ে দাইয়ে মোটা তাজা করো, যাতে তা একদিন তোমাকেই ছিড়ে ফেড়ে খেতে পারে । তোমরা যদি তাদের থেকে সাহায্যের হাত গুটিয়ে নাও তাহলে তারা কোথায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে । আল্লাহর শপথ, মদীনা ফিরে গিয়ে আমাদের মধ্যে যারা মর্যাদাবান লোক তারা হীনও লাঞ্ছিত লোকদের বের করে দেবে । “

এ বৈঠকে ঘটনাক্রমে হযরত যায়েদ ইবনে আরকমাও উপস্থিত ছিলেন । তখন তিনি একজন কম বয়স্ক বালক ছিলেন । এসব কথা শোনার পর তিনি তাঁর চাচার কাছে তা বলে দেন । তাঁর চাচা ছিলেন আনসারদের একজন নেতা । তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে সব বলে দেন । নবী (সা) যায়েদকে ডেকে জিজ্ঞেস করলে তিনি যা শুনেছিলেন আদ্যপান্ত খুলে বললেন । নবী (সা) বললেনঃ তুমি বোধ হয় ইবনে উবাইয়ের প্রতি অসন্তুষ্ট । সম্ভবত তোমার শুনতে ভুল হয়েছে । ইবনে উবাই একথা বলছে বলে হয়তো তোমার সন্দেহ হয়েছে । কিন্তু যায়েদ বললেন, হে আল্লাহর রসূল , তা নয় । আল্লাহর শপথ আমি নিজে তাকে এসব কথা বলতে শুনেছি । অতপর নবী (সা) ইবনে উবাইকে ডেকে জিজ্ঞেস করলে সে সরাসরি অস্বীকার করলো । সে বারবারের শপথ করে বলতে লাগলো আমি একথা কখনো বলি নাই । আনসারদের লোকজনও বললেনঃ হে আল্লাহর নবী , এতো একজন ছেলে মানুষের কথা, হয়তো তার ভুল হয়েছে ।

(ads2)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#f50707)

তিনি আমাদের নেতা ও সম্মানিত ব্যক্তি । তার কথার চেয়ে একজন বালকের কথার প্রতি বেশী আস্থাশীল হবেন না । বিভিন্ন গোত্রের প্রবীণ ও বৃদ্ধ ব্যক্তিরাও যায়েদকে তিরস্কার করলো । বেচারা যায়েদ এতে দুঃখিত ও মনঃক্ষুণ্ন হয়ে নিজের জায়গায় চুপচাপ বসে থাকলেন । কিন্তু নবী (সা) যায়দে ও আবদুল্লাহ ইবনে উবাই উভয়কেই জানতেন । তাই প্রকৃত ব্যাপার কি তা তিনি ঠিকই উপলব্ধি করতে পরলেন ।

১. যারা ইসলাম গ্রহণ করে মদীনায় চলে আসছিল মদীনার মুনাফিকরা তাদের সবাইকে () বলে আখ্যায়িত করতো । শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে কম্বল বা মোটা বস্ত্র পরিধানকারী । কিন্তু গরীব মুহাজিরদেরকে হেয় ও অবজ্ঞা করার জন্যই তারা এ শব্দটি ব্যবহার করতো । যে অর্থ বুঝাতে তারা শব্দটি বলত, ‘কাঙাল’ শব্দ দ্বারা তা অধিকতর বিশুদ্ধভাবে ব্যক্ত হয় ।

২. এ ঘটনা থেকে ফিকাহ শাস্ত্রবিদগণ এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন যে, ধর্মীয়, নৈতিক ও জাতীয় স্বার্থের খাতিরে কেউ যদি কারো ক্ষতিকর কথা অন্য করো কাছে বলে তা হলে চোগলখুরীর পর্যায়ে পড়ে না । ফিতনা -ফাসাদ ও বিপর্যয় সৃষ্টি এবং মানুষের পরস্পরের মধ্যে সংঘর্ষ বাধিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে যে চোগলখুরী করা হয় সেই চোখলখুরীকে ইসলামী শরীয়াত হারাম ঘোষণা করেছে ।


আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ  


হযরত ‘উমর এ বিষয়টি জানতে পেরে নবীর (সা) কাছে এসে বললেনঃ “আমাকে অনুমতি দিন , আমি এই মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দেই । অথবা এরূপ অনুমতি দেয়া যদি সমীচীন মনে না করেন তাহলে আনসারদের নিজেদের মধ্যে থেকে মুআয ইবনে জাবাল অথবা আববাদ ইবনে বিশর, অথবা সা’দ ইবনে মু’আয অথবা মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাকে নির্দেশ দিন ১ সে তাকে হত্যা করুক । “কিন্তু নবী (সা) বললেনঃ “এ কাজ করো না । লোকে বলবে, মুহাম্মাদ (সা) নিজের সংগী-সাথীদেরকেই হত্যা করেছে” । এরপর নবী(সা) তৎক্ষনাৎ যাত্রা শুরু করার নির্দেশ দিয়ে দিলেন । অথব নবী (সা) এর স্বভাবিক রীতি ও অভ্যাস অনুসারে তা যাত্রার সময় ছিল না । ক্রমাগত ৩০ ঘন্টা পর্যন্ত যাত্রা অব্যাহত থাকলো । এমন কি লোকজন ক্লান্তিতে নিস্তেজ ও দুর্বল হয়ে পড়লো ।

তখন তিনি একস্থানে তাবু করে অবস্থান করলেন । ক্লান্ত শ্রান্ত লোকজন মাটিতে পিঠ ঠেকানো মাত্র সবাই গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল । এ কাজ তিনি এ জন্য করলেন যাতে , মুরইসী কূপের পাশে যে ঘটনা ঘটেছিল মানুষের মন-মগজ থেকে তা মুছে যায় । পথিমধ্যে আনসারদের একজন নেতা হযরত উসাইদ ইবনে হুদায়ের তাঁর কাছে গিয়ে বললেনঃ “হে আল্লাহর রসূল, আজ আপনি এমন সময় যাত্রার নির্দেশ দিয়েছেন যা সফরের জন্য উপযুক্ত নয় । আপনি তো এ রকম সময়ে কখনো সফর শুরু করতেন না?”নবী (সা) বললেনঃ তোমাদের সেই লোকটি কি কথা প্রচার করেছে তা কি তুমি শোন নাই? তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ কোন লোকটি? তিনি বললেনঃআবদুল্লাহ ইবনে উবাই । উসাইদ জিজ্ঞেস করলেন, সে কি বলেছে?তিনি বললেনঃ “সে বলেছে মদীনায় পৌছার পর সম্মানী লোকেরা হীন ও নীচ লোকদের বহিষ্কার করবে । তিনি আরয করলেন, হে আল্লাহর রসূল । সম্মানিত ও মর্যাদাবান তো আপনি । আর হীন ও নীচ তো সে নিজে । আপনি যখন ইচ্ছা তাকে বহিষ্কার করতে পারেন” ।

১. বিভিন্ন রেওয়াওয়াতে আনসারদের বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির নাম উল্লেখিত হয়েছে । হযরত উমর (রা) নবীর (সা) কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছিলেন “আমি মুহাজির হওয়ার কারণে আমার হাতে সে নিহত হলে ফিতনা ও বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশংকা থাকলে এসব লোকদের মধ্য থেকে কোন একজনকে দিয়ে এ কাজ করিয়ে নিন” ।

কথাটা আস্তে আস্তে আনসারদের সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়লো এবং ইবনে উবাইয়ের বিরুদ্ধে তাদের মনে ভীষণ ক্রোধের সৃষ্টি হলো । লোকজন ইবনে উবাইকে বললো, তুমি গিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামের কাছে ক্ষমা চাও । কিন্তু সে ক্রদ্ধ স্বরে জবাব দিলঃ তোমরা বললে তার প্রতি ঈমান আন । আমি ঈমান আনলাম । তোমরা বললে, অর্থ-সম্পদের যাকাত দাও । আমি যাকাতও দিয়ে দিলাম । এখন তো শুধু মুহাম্মাদকে আমার সিজদা করা বাকী আছে । এসব কথা শুনে তার প্রতি ঈমানদার আনসারদের অসন্তুষ্টি আরো বৃদ্ধি পেল এবং চারদিক থেকে তার প্রতি ধিক্কার ও তিরস্কার বর্ষিত হতে থাকলো । যে সময় এ কাফেলা মদীনায় প্রবেশ করছিল তখন আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের পুত্র (তার নামও) আবদুল্লাহ খোলা তরবারি হাতে পিতার সামনে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেনঃ “আপনিই তো বলেছেন, মদীনায় ফিরে গিয়ে সম্মানিত ব্যক্তিরা হীন ও নীচ লোকদের সেখান থেকে বহিষ্কার করবে । এখন আপনি জানতে পারবেন সম্মান আপনার , না আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের । আল্লাহর কসম! যতক্ষণ পর্যন্ত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুমতি না দেবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি মদীনায় প্রবেশ করতে পারবেন না” । এতে ইবনে উবাই চিৎকার করে বলে উঠল “হে খাযরাজ গোত্রের লোকজন , দেখো, আমার নিজের ছেলেই আমাকে মদীনায় প্রবেশ করতে বাধা দিচ্ছে” । লোকজন গিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ খবর দিলে তিনি বললেনঃ “আবদুল্লাহকে গিয়ে বলো তার পিতাকে যেন নিজের বাড়ীতে প্রবেশ করতে দেয়” । তখন আবদুল্লাহ বললেনঃ “নবী (সা) অনুমতি দিয়েছেন তাই এখন আপনি প্রবেশ করতে পারেন” ।

এই সময় নবী (সা) হযরত উমরকে (রা) বললেনঃ “হে উমর , এখন তোমার মতামত কি? যে সময় তুমি বলেছিলে, আমাকে তাকে হত্যা করার অনুমতি দিন, সে সময় তুমি যদি তাকে হত্যা করতে তাহলে অনেকেই নাক সিটকাতো এবং নানা রকম কথা বলতো । কিন্তু আজ যদি আমি তার হত্যার আদেশ দেই তাহলে তাকে হত্যা পর্যন্ত করা যেতে পারে” । হযরত উমর বললেনঃ “আল্লাহর শপথ , এখন আমি বুঝতে পেরেছি আল্লাহর রসূলের কথা আমার কথার চেয়ে অধিক যুক্তিসঙ্গত ছিল” । ১ এই পরিস্থিতি ও পটভূমিতে অভিযান শেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মদীনায় পৌছার পর এ সূরাটি নাযিল হয় ।

১. এ থেকে শরীয়াতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাসায়ালা সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানা যায় । এক, ইবনে উবাই যে কর্মনীতি গ্রহণ করেছিল এবং যে ধরনের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিল মুসলিম মিল্লাতের অন্তরভুক্ত থেকে কেউ যদি এ ধরনের আচরণ করে তাহলে সে হত্যাযোগ্য অপরাধী । দুই, শুধু আইনের দৃষ্টিতে কোন ব্যক্তি হত্যার উপযুক্ত হলেই যে তাকে অবশ্যই হত্যা করতে হবে তা জরুরী নয় ।

এরূপ কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে দেখতে হবে, তাকে হত্যা করার ফলে কোন বড় ধরনের ফিতনা মাথা চড়া দিয়ে উঠবে কিনা । পরিবেশ-পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করে অন্ধভাবে আইনের প্রয়োগ কোন কোন সময় আইন প্রয়োগের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী ফলাফল নিয়ে আসে । যদি একজন মুনাফিক ও ফিতনাবাজের পেছনে কোন উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি থাকে তাহলে তাকে শাস্তি দিয়ে আরো বেশী ফিতনাকে মাথাচড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ দেয়ার চেয়ে উত্তম হচ্ছে ,

যে রাজনৈতিক শক্তির জোরে সে দুষ্কর্ম করছে কৌশল ও বুদ্ধিমত্তার সাথে তার মূলোৎপটন করা । এই সুদূর প্রসারী লক্ষেই নবী (সা) তখনো আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে শাস্তি দেননি যখন তিনি তাকে শাস্তি দিতে সক্ষম ছিলেন । বরং তার সাথে সবসময় নম্র আচরণ করেছেন । শেষ পর্যন্ত দুই তিন বছরের মধ্যেই মদীনায় মুনাফিকদের শক্তি চিরদিনের জন্য নির্মূল হয়ে গেল ।



৬৩ . আল মুনাফিকূন - ( الـمنافقون ) | কপট বিশ্বাসীগণ
মাদানী, মোট আয়াতঃ ১১

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

اِذَا جَآءَکَ الۡمُنٰفِقُوۡنَ قَالُوۡا نَشۡہَدُ اِنَّکَ لَرَسُوۡلُ اللّٰہِ ۘ  وَاللّٰہُ یَعۡلَمُ اِنَّکَ لَرَسُوۡلُہٗ ؕ  وَاللّٰہُ یَشۡہَدُ اِنَّ الۡمُنٰفِقِیۡنَ لَکٰذِبُوۡنَ ۚ

ইযা-জাআকাল মুনা-ফিকূনা কা-লূনাশহাদুইন্নাকা লারাছূলুল্লা-হ । ওয়াল্লা-হু ইয়া‘লামুইন্নাকা লারাছূলুহূ ওয়াল্লা-হু ইয়াশহাদুইন্নাল মুনা-ফিকীনা লাকা-যিবূন।

Mufti Taqi Usmani
When the hypocrites come to you, they say, “We bear witness that you are indeed the messenger of Allah.”-Allah knows that you are really His messenger-But Allah testifies that the hypocrites are actually liars.

মুফতী তাকী উসমানী
যখন মুনাফিকরা তোমার কাছে আসে তখন বলে আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি আপনি আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ জানেন আপনি অবশ্যই তাঁর রাসূল এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন মুনাফিকরা মিথ্যাবাদী।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
মুনাফিকরা আপনার কাছে এসে বলেঃ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রসূল। আল্লাহ জানেন যে, আপনি অবশ্যই আল্লাহর রসূল এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যখন মুনাফিকরা তোমার নিকট আসে তারা বলে, ‘আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহ্ র রাসূল।’ আল্লাহ্ জানেন যে, তুমি নিশ্চয়ই তাঁর রাসূল এবং আল্লাহ্ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।

মাওলানা জহুরুল হক
মুনাফিকরা যখন তোমার কাছে আসে তারা তখন বলে -- "আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তুমিই তো নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌র রসূল।" আর আল্লাহ্ জানেন যে তুমি নিশ্চয়ই তাঁর রসূল। বস্তুত আল্লাহ্ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে মুনাফিকগোষ্ঠীই আলবৎ মিথ্যাবাদী।

اِتَّخَذُوۡۤا اَیۡمَانَہُمۡ جُنَّۃً فَصَدُّوۡا عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ؕ اِنَّہُمۡ سَآءَ مَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ

ইত্তাখাযূ আইমা-নাহুম জুন্নাতান ফাসাদ্দূ‘আন ছাবীলিল্লা-হি ইন্নাহুম ছাআ মা-কা-নূ ইয়া‘মালূন।

Mufti Taqi Usmani
They have made their oaths a shield, and thus they have prevented (others) from the way of Allah. Surely evil is what they have been doing.

মুফতী তাকী উসমানী
তারা তাদের শপথগুলিকে ঢাল বানিয়ে নিয়েছে। ১ অতঃপর তারা অন্যদেরকে আল্লাহর পথ থেকে নিবৃত্ত রাখে। বস্তুত তারা যা করছে তা অতি মন্দ!

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তারা তাদের শপথসমূহকে ঢালরূপে ব্যবহার করে। অতঃপর তারা আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে। তারা যা করছে, তা খুবই মন্দ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এরা এদের শপথগুলিকে ঢালরূপে ব্যবহার করে আর এরা আল্লাহ্ র পথ হতে মানুষকে নিবৃত্ত করে। এরা যা করতেছে তা কত মন্দ!

মাওলানা জহুরুল হক
তারা তাদের শপথগুলোকে আবরণীরূপে গ্রহণ করে, যাতে তারা আল্লাহ্‌র পথ থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে। নিঃসন্দেহ তারা যা করে চলেছে তা কত মন্দ!

তাফসীরঃ
১. ঢাল দ্বারা যেমন তরবারির আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা হয়, তেমনি তারা নিজেদের রক্ষার জন্য শপথ করে। তারা মনে করে শপথের মাধ্যমে যদি নিজেদের মুমিন বলে বিশ্বাস করানো যায়, তবে দুনিয়ায় কাফেরদেরকে যে শোচনীয় পরিণাম ভোগ করতে হয়, তা থেকে তারা বেঁচে যাবে।

ذٰلِکَ بِاَنَّہُمۡ اٰمَنُوۡا ثُمَّ کَفَرُوۡا فَطُبِعَ عَلٰی قُلُوۡبِہِمۡ فَہُمۡ لَا یَفۡقَہُوۡنَ

যা-লিকা বিআন্নাহুম আ-মানূছুম্মা কাফারূফাতুবি‘আ ‘আলা- কুলূবিহিম ফাহুম লাইয়াফকাহূন।

Mufti Taqi Usmani
That is because they declared faith (in Islam apparently), then disbelieved (secretly). Therefore a seal has been set on their hearts, and thus they do not understand.

মুফতী তাকী উসমানী
তা এ কারণে যে, তারা (শুরুতে বাহ্যিকভাবে) ঈমান এনেছে, তারপর আবার কুফর অবলম্বন করেছে। তাই তাদের অন্তরে মোহর করে দেওয়া হয়েছে। ফলে তারা (সত্য) বোঝেই না।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এটা এজন্য যে, তারা বিশ্বাস করার পর পুনরায় কাফের হয়েছে। ফলে তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেয়া হয়েছে। অতএব তারা বুঝে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এটা এইজন্যে যে, এরা ঈমান আনবার পর কুফরী করেছে। ফলে এদের হৃদয় মোহর করে দেওয়া হয়েছে; পরিণামে এরা বুঝে না।

মাওলানা জহুরুল হক
এটি এই জন্য যে তারা ঈমান আনে, তারপর অবিশ্বাস করে; সেজন্য তাদের হৃদয়ের উপরে মোহর মেরে দেয়া হয়েছে, পরিণামে তারা বুঝতে-সুঝতে পারে না।

(ads2)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#f50707)

وَاِذَا رَاَیۡتَہُمۡ تُعۡجِبُکَ اَجۡسَامُہُمۡ ؕ وَاِنۡ یَّقُوۡلُوۡا تَسۡمَعۡ لِقَوۡلِہِمۡ ؕ کَاَنَّہُمۡ خُشُبٌ مُّسَنَّدَۃٌ ؕ یَحۡسَبُوۡنَ کُلَّ صَیۡحَۃٍ عَلَیۡہِمۡ ؕ ہُمُ الۡعَدُوُّ فَاحۡذَرۡہُمۡ ؕ قٰتَلَہُمُ اللّٰہُ ۫ اَنّٰی یُؤۡفَکُوۡنَ

ওয়া ইযা-রাআইতাহুম তু‘জিবুকা আজছা-মুহুম ওয়াইঁয় ইয়াকূলূতাছমা‘ লিকাওলিহিম কাআন্নাহুম খুশুবুমমুছান্নাদাতুইঁ ইয়াহছাবূনা কুল্লা সাইহাতিন ‘আলাইহিম হুমুল ‘আদুওউ ফাহ যারহুম কা-তালাহুমুল্লা-হু আন্না-ইউ’ফাকূন।

Mufti Taqi Usmani
And if you see them, their physiques would attract you, and if they speak, you would (like to) listen to their speech (because of their eloquence). (Yet, being devoid of substance,) it is as if they were propped up beams of timber. They deem every shout (they hear) to be against them (out of cowardice). They are the enemy; so beware of them. May Allah destroy them. How perverted are they!

মুফতী তাকী উসমানী
তুমি যখন তাদেরকে দেখ, তখন তাদের দেহাকৃতি তোমার কাছে বড় ভালো লাগে এবং তারা যখন কথা বলে তুমি তাদের কথা শুনতে থাক, ২ তারা যেন (কোন কিছুতে) ঠেকনা দেওয়া কাঠ। ৩ তারা যে-কোন হাঁক-ডাককে নিজেদের বিরুদ্ধে মনে করে। ৪ তারাই (তোমাদের) শত্রু। তাদের ব্যাপারে সাবধান থাক। ৫ তাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করুন। তারা বিভ্রান্ত হয়ে কোন দিকে চলছে?

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আপনি যখন তাদেরকে দেখেন, তখন তাদের দেহাবয়ব আপনার কাছে প্রীতিকর মনে হয়। আর যদি তারা কথা বলে, তবে আপনি তাদের কথা শুনেন। তারা প্রাচীরে ঠেকানো কাঠসদৃশ্য। প্রত্যেক শোরগোলকে তারা নিজেদের বিরুদ্ধে মনে করে। তারাই শত্রু, অতএব তাদের সম্পর্কে সতর্ক হোন। ধ্বংস করুন আল্লাহ তাদেরকে। তারা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছে ?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তুমি যখন এদের দিকে তাকাও এদের দেহাকৃতি তোমার নিকট প্রীতিকর মনে হয় এবং এরা যখন কথা বলে, তুমি সাগ্রহে এদের কথা শোনো, যদিও এরা দেওয়ালে ঠেকান কাঠের স্তম্ভসদৃশ; এরা যে কোন শোরগোলকে মনে করে এদেরই বিরুদ্ধে। এরাই শত্রু, অতএব এদের সম্পর্কে সতর্ক হও ; আল্লাহ্ এদেরকে ধ্বংস করুন ! বিভ্রান্ত হয়ে এরা কোথায় চলেছে!

মাওলানা জহুরুল হক
আর তুমি যখন তাদের দেখ তখন তাদের গা-গতর তোমাকে তাজ্জব বানিয়ে দেয়, আর যদি তারা কথা বলে তবে তুমি তাদের বুলি শোনে থাক। তারা যেন এক-একটি কাঠের কুদোঁ ঠেস দিয়ে রাখা। তারা মনে করে প্রত্যেকটি শোরগোল তাদেরই বিরুদ্ধে। তারাই হচ্ছে শত্রু, ফলে তাদের সন্বন্ধে সাবধান হও। আল্লাহ্ তাদের ধ্বংস করুন! কোথা থেকে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে!

তাফসীরঃ
২. অর্থাৎ তাদের বাহ্যিক গড়ন-পেটন ও বেশভূষা বড়ই আকর্ষণীয়। কথা অত্যন্ত মধুর, শুধু শুনতেই মনে চায়। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তারা মুনাফেকীর কদর্যতায় আচ্ছন্ন। বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায়, আবদুল্লাহ ইবনে উবাই দৈহিক দিক থেকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় পুরুষ ছিল। তার কথাবার্তাও ছিল বেশ অলঙ্কারপূর্ণ। কিন্তু ছিল তো মুনাফেকদের সর্দার।

৩. অর্থাৎ কাঠ যদি কোন প্রাচীরের সাথে হেলান দেওয়ানো অবস্থায় থাকে, তবে দেখতে যতই চমৎকার লাগুক না কেন, তা দিয়ে কোন উপকার হয় না। এ রকমই মুনাফেকদেরকে যতই সুন্দর ও আকর্ষণীয় মনে হোক, প্রকৃতপক্ষে তারা সম্পূর্ণ অকেজো। তাদের দিয়ে কোন উপকার হয় না। তারা যখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে বসত তখন তাদের শরীর মজলিসে থাকত বটে, কিন্তু মন-মস্তিষ্ক তাঁর অভিমুখী থাকত না। এ হিসেবেও তাদেরকে নিষ্প্রাণ কাঠের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

৪. অর্থাৎ তাদের অন্তর যেহেতু অপরাধী ছিল তাই মুসলিমদের মধ্যে কোন শোরগোল হলেই তারা মনে করত তাদের বিরুদ্ধে কিছু করা হচ্ছে।

৫. অর্থাৎ মুনাফিকরা আপনার ও মুমিনদের ঘোর শত্রু, যদিও তারা মুখে ইসলাম প্রকাশ করে। প্রকৃতপক্ষে তারা কাফেরদের গুপ্তচর। কাজেই তাদের ব্যাপারে সাবধান থাকুন। তাদেরকে একদম বিশ্বাস করবেন না। -অনুবাদক

وَاِذَا قِیۡلَ لَہُمۡ تَعَالَوۡا یَسۡتَغۡفِرۡ لَکُمۡ رَسُوۡلُ اللّٰہِ لَوَّوۡا رُءُوۡسَہُمۡ وَرَاَیۡتَہُمۡ یَصُدُّوۡنَ وَہُمۡ مُّسۡتَکۡبِرُوۡنَ

ওয়াইযা-কীলালাহুম তা‘আ-লাও ইয়াছতাগফিরলাকুমরাছূলুল্লা-হি লাওওয়াও রুঊছাহুম ওয়া রাআইতাহুম ইয়াসুদ্দূনা ওয়া হুম মুছতাকবিরূন।

Mufti Taqi Usmani
And when it is said to them, “Come on, so that Allah’s Messenger may pray for your forgiveness”, they twist their heads (in aversion), and you see them turning away in arrogance.

মুফতী তাকী উসমানী
যখন তাদেরকে বলা হয়, এসো আল্লাহর রাসূল তোমাদের জন্য মাগফিরাতের দুআ করবেন, তখন তারা মাথা মোচড় দেয় ৬ এবং তুমি তাদেরকে দেখবে তারা অহংকার বশে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যখন তাদেরকে বলা হয়ঃ তোমরা এস, আল্লাহর রসূল তোমাদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করবেন, তখন তারা মাথা ঘুরিয়ে নেয় এবং আপনি তাদেরকে দেখেন যে, তারা অহংকার করে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যখন এদেরকে বলা হয়, ‘তোমরা আস, আল্লাহ্ র রাসূল তোমাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন,’ তখন এরা মাথা ফিরিয়ে নেয় এবং তুমি এদেরকে দেখতে পাও, এরা দম্ভভরে ফিরে যায়।

মাওলানা জহুরুল হক
আর যখন তাদের বলা হয় -- "এসো, আল্লাহ্‌র রসূল তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন", তারা তখন তাদের মাথা নাড়ে, আর তুমি দেখতে পাও তারা ফিরিয়ে রাখছে। আর তারা গর্বিত বোধ করছে।

তাফসীরঃ
৬. لَوَّوْا رُؤُوْسَهُمْ-এর অর্থ মাথা ফিরানোও হতে পারে এবং মাথা নাড়ানোও হতে পারে। হযরত শায়খুল হিন্দ (রহ.) সম্ভবত এ কারণেই এর অর্থ করেছেন মাথা মোচড় দেওয়া। এর দ্বারা এক রকম প্রতারণার ধারণা সৃষ্টি হয় আর এটাই তাদের চরিত্রের সঠিক চিত্রাঙ্কন।

سَوَآءٌ عَلَیۡہِمۡ اَسۡتَغۡفَرۡتَ لَہُمۡ اَمۡ لَمۡ تَسۡتَغۡفِرۡ لَہُمۡ ؕ لَنۡ یَّغۡفِرَ اللّٰہُ لَہُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الۡفٰسِقِیۡنَ

ছাওয়াউন ‘আলাইহিম আছতাগফারতা লাহুম আম লাম তাছতাগফিরলাহুম লাই ইয়াগফিরাল্লা-হু লাহুম ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াহদিল কাওমাল ফা-ছিকীন।

Mufti Taqi Usmani
It is equal in their case, whether you (O prophet,) pray for their forgiveness or do not pray, Allah will never forgive them. Indeed Allah does not guide the sinning people.

মুফতী তাকী উসমানী
(হে রাসূল!) তুমি তাদের জন্য মাগফিরাতের দুআ কর বা না কর উভয়ই তাদের জন্য সমান। আল্লাহ কিছুতেই তাদেরকে ক্ষমা করবেন না। ৭ আল্লাহ এমন অবাধ্যদেরকে কিছুতেই হেদায়াতপ্রাপ্ত করেন না।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আপনি তাদের জন্যে ক্ষমাপ্রার্থনা করুন অথবা না করুন, উভয়ই সমান। আল্লাহ কখনও তাদেরকে ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তুমি এদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা কর বা না কর, উভয়ই এদের জন্যে সমান। আল্লাহ্ এদেরকে কখনও ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ্ পাপাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।

মাওলানা জহুরুল হক
তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা নাই কর -- এ তাদের জন্য একসমান। আল্লাহ্ কখনো তাদের ক্ষমা করবেন না। নিশ্চয় সত্যত্যাগী লোকদলকে আল্লাহ্ সৎপথে চালান না।

তাফসীরঃ
৭. অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের মুনাফেকী থেকে তাওবা করে প্রকৃত মুমিন না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদেরকে ক্ষমা করা হবে না।

ہُمُ الَّذِیۡنَ یَقُوۡلُوۡنَ لَا تُنۡفِقُوۡا عَلٰی مَنۡ عِنۡدَ رَسُوۡلِ اللّٰہِ حَتّٰی یَنۡفَضُّوۡا ؕ وَلِلّٰہِ خَزَآئِنُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَلٰکِنَّ الۡمُنٰفِقِیۡنَ لَا یَفۡقَہُوۡنَ

হুমুল্লাযীনা ইয়াকূলূনা লা-তুনফিকূ‘আলা-মান ‘ইনদা রাছূলিল্লা-হি হাত্তা-ইয়ানফাদ্দূ ওয়া লিল্লা-হি খাঝাইনুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়ালা-কিন্নাল মুনা-ফিকীনা লাইয়াফকাহূন।

Mufti Taqi Usmani
They are those who say, “Do not spend on those who are with Allah’s Messenger until they disperse. And to Allah belong the treasures of the heavens and the earth, but the hypocrites do not understand.

মুফতী তাকী উসমানী
তারাই বলে, যারা রাসূলুল্লাহর কাছে আছে, তাদের জন্য ব্যয় করো না, যতক্ষণ না তারা নিজেরাই সরে পড়ে, ৮ অথচ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর ধন-ভাণ্ডার তো আল্লাহরই। কিন্তু মুনাফিকরা বোঝে না।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তারাই বলেঃ আল্লাহর রাসূলের সাহচর্যে যারা আছে তাদের জন্যে ব্যয় করো না। পরিণামে তারা আপনা-আপনি সরে যাবে। ভূ ও নভোমন্ডলের ধন-ভান্ডার আল্লাহরই কিন্তু মুনাফিকরা তা বোঝে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এরাই বলে, ‘তোমরা আল্লাহ্ র রাসূলের সহচরদের জন্যে ব্যয় কর না, যাতে এরা সরে পড়ে।’ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর ধনভাণ্ডার তো আল্লাহ্ র ই; কিন্তু মুনাফিকরা তা বুঝে না।

মাওলানা জহুরুল হক
ওরাই তো তারা যারা বলে -- "আল্লাহ্‌র রসূলের সঙ্গে যারা রয়েছে তাদের জন্য খরচ করো না যে পর্যন্ত না তারা সরে পড়ে।" আর মহাকাশমন্ডলের ও পৃথিবীর ধনভান্ডার তো আল্লাহ্‌রই, কিন্ত মুনাফিকগোষ্ঠী বোঝে না।

তাফসীরঃ
৮. সূরার পরিচিতিতে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর যে ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, এটা তারই অংশ। তখন আবদুল্লাহ ইবনে উবাই তার সঙ্গীদেরকে বলেছিল, মুসলিমদের পেছনে অর্থ ব্যয় বন্ধ করে দাও। তাহলে দেখবে কিছুদিন পর তাঁর (অর্থাৎ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) সাহাবীগণ তাকে ছেড়ে চলে যাবে (নাউযুবিল্লাহ)।

یَقُوۡلُوۡنَ لَئِنۡ رَّجَعۡنَاۤ اِلَی الۡمَدِیۡنَۃِ لَیُخۡرِجَنَّ الۡاَعَزُّ مِنۡہَا الۡاَذَلَّ ؕ  وَلِلّٰہِ الۡعِزَّۃُ وَلِرَسُوۡلِہٖ وَلِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَلٰکِنَّ الۡمُنٰفِقِیۡنَ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ٪

ইয়াকূলূনা লাইর রাজা‘নাইলাল মাদীনাতি লাইউখরিজান্নাল আ‘আঝঝুমিনহাল আযাল্লা ওয়া লিল্লা-হিল ‘ইঝঝাতুওয়া লিরাছূলিহী ওয়া লিলমু’মিনীনা ওয়ালা-কিন্নাল মুনা-ফিকীনা লা-ইয়া‘লামূন।

Mufti Taqi Usmani
They say, “If we return to Madīnah, the more honorable ones will drive out the meaner ones from there.” And to Allah belongs the honour, and to His Messenger, and to the believers, but the hypocrites do not know.

মুফতী তাকী উসমানী
তারা বলে, আমরা মদীনায় ফিরে গেলে, যারা মর্যাদাবান তারা হীনদেরকে সেখান থেকে বের করে দেবে। ৯ অথচ মর্যাদা তো কেবল আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের এবং মুমিনদেরই আছে। কিন্তু মুনাফিকরা জানে না।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তারাই বলেঃ আমরা যদি মদীনায় প্রত্যাবর্তন করি তবে সেখান থেকে সবল অবশ্যই দুর্বলকে বহিস্কৃত করবে। শক্তি তো আল্লাহ তাঁর রসূল ও মুমিনদেরই কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এরা বলে, ‘আমরা মদীনায় প্রত্যাবর্তন করলে সেখান হতে অবশ্যই প্রবল দুর্বলকে বহিষ্কার করবে।’ কিন্তু শক্তি তো আল্লাহ্ র ই, আর তাঁর রাসূল ও মু’মিনদের। তবে মুনাফিকরা এটা জানে না।

মাওলানা জহুরুল হক
তারা বলে -- "আমরা যদি মদীনায় ফিরে যাই তাহলে প্রবলরা দুর্বলদের সেখান থেকে অবশ্যই বের করে দেবে।" কিন্ত ক্ষমতা তো আল্লাহ্‌রই আর তাঁর রসূলের আর মুমিনদের, কিন্ত মুনাফিকরা জানে না।

তাফসীরঃ
৯. এটাই সে কথা যা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই অবশ্যই বলেছিল, কিন্তু জিজ্ঞেস করা হলে সাফ অস্বীকার করে দিয়েছিল, যেমন সূরার পরিচিতিতে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تُلۡہِکُمۡ اَمۡوَالُکُمۡ وَلَاۤ اَوۡلَادُکُمۡ عَنۡ ذِکۡرِ اللّٰہِ ۚ وَمَنۡ یَّفۡعَلۡ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ

ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা-তুলহিকুম আমওয়া-লুকুম ওয়ালাআওলা-দুকুম ‘আন যিকরিল্লা-হি ওয়া মাইঁ ইয়াফ‘আল যা-লিকা ফাউলাইকা হুমুল খা-ছিরূন।

Mufti Taqi Usmani
O you who believe, your riches and your children must not divert you from the remembrance of Allah. And those who do that are the losers.

মুফতী তাকী উসমানী
হে মুমিনগণ! তোমাদের অর্থ-সম্পদ ও তোমাদের সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে গাফেল করতে না পারে। যারা এ রকম করবে (অর্থাৎ গাফেল হবে) তারাই (ব্যবসায়) ক্ষতিগ্রস্ত।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এ কারণে গাফেল হয়, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘হে মু’মিনগণ ! তোমাদের ঐশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহ্ র স্মরণে উদাসীন না করে, যারা উদাসীন হবে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।

মাওলানা জহুরুল হক
ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের ধনসম্পত্তি ও তোমাদের সন্তানসন্ততি যেন তোমাদের আল্লাহ্‌র স্মরণ থেকে ফিরিয়ে না রাখে। আর যে তেমন করে -- তারাই তো তবে খোদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

(ads1)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#f50707)

১০

وَاَنۡفِقُوۡا مِنۡ مَّا رَزَقۡنٰکُمۡ مِّنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّاۡتِیَ اَحَدَکُمُ الۡمَوۡتُ فَیَقُوۡلَ رَبِّ لَوۡلَاۤ اَخَّرۡتَنِیۡۤ اِلٰۤی اَجَلٍ قَرِیۡبٍ ۙ فَاَصَّدَّقَ وَاَکُنۡ مِّنَ الصّٰلِحِیۡنَ

ওয়া আনফিকূমিম্মা-রাঝাকনা-কুম মিন কাবলি আইঁ ইয়া’তিয়া আহাদাকুমুল মাওতু ফাইয়াকূলা রাব্বি লাওলা আখখারতানী ইলা আজালিন কারীবিন ফাআসসাদ্দাকা ওয়া আকুম মিনাসসা-লিহীন।

Mufti Taqi Usmani
And spend out of what We have given to you before death overtakes one of you and he says, “My Lord, would you not give me respite to a near term, so that I should pay Sadaqah (alms) and become one of the righteous?”

মুফতী তাকী উসমানী
আমি তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা থেকে (আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী) ব্যয় কর, এর আগে যে, তোমাদের কারও মৃত্যু এসে যাবে আর তখন বলবে, হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে কিছু কালের জন্য সুযোগ দিলে না কেন, তাহলে আমি দান-সদকা করতাম এবং নেক লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় কর। অন্যথায় সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে আরও কিছুকাল অবকাশ দিলে না কেন? তাহলে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তোমরা তা হতে ব্যয় করবে তোমাদের কারও মৃত্যু আসার পূর্বে। অন্যথায় মৃত্যু আসলে সে বলবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আরও কিছুকালের জন্যে অবকাশ দিলে আমি সাদাকা দিতাম এবং সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হতাম!’

মাওলানা জহুরুল হক
আর আমরা তোমাদের যা জীবনোপকরণ দিয়েছি তা থেকে তোমরা খরচ করো তোমাদের কোনো একজনের কাছে মৃত্যু এসে পড়ার আগেই, পাছে তাকে বলতে হয় -- "আমার প্রভু! কেন তুমি আমাকে এক আসন্নকাল পর্যন্ত অবকাশ দাও নি, তাহলে তো আমি দান-খয়রাত করতাম এবং আমি সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারতাম।"

১১

وَلَنۡ یُّؤَخِّرَ اللّٰہُ نَفۡسًا اِذَا جَآءَ اَجَلُہَا ؕ  وَاللّٰہُ خَبِیۡرٌۢ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ ٪

ওয়া লাইঁ ইউআখখিরাল্লা-হু নাফছান ইযা-জাআ আজালুহা- ওয়াল্লা-হু খাবীরুম বিমা-তা‘মালূন।

Mufti Taqi Usmani
But Allah will never give respite to anyone, once his appointed time will come. And Allah is All-Aware of what you do.

মুফতী তাকী উসমানী
যখন কারও নির্ধারিত কাল এসে যাবে তখন আল্লাহ তাকে কিছুতেই অবকাশ দিবেন না। আর তোমরা যা-কিছু কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ অবহিত।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
প্রত্যেক ব্যক্তির নির্ধারিত সময় যখন উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ কাউকে অবকাশ দেবেন না। তোমরা যা কর, আল্লাহ সে বিষয়ে খবর রাখেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
কিন্তু যখন কারও নির্ধারিত কাল উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ্ তাকে কিছুতেই অবকাশ দিবেন না। তোমরা যা কর আল্লাহ্ সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।

প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে ও

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ  

আমাদের নতুন ইসলামিক নিউজ ও জিজ্ঞাসা ভিত্তিক সাইড

Islamic Info Hub ( www.islamicinfohub.com ) আজই ভিজিড করুন !! 

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
Post a Comment (0)

islamicinfohub Top Post Ad1

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !
To Top