সূরা যুখরুফ বাংলা উচ্চারণ সহ অনুবাদ,সূরা যুখরুফ বাংলা উচ্চারণ, সূরা আল যুখরুফ বাংলা তরজমা,সূরা যুখরুফ বাংলা তাফসীর, আমল সূরা আল যুখরুফ, সকল আমল সূরা আল যুখরুফ

0
সূরা যুখরুফ বাংলা উচ্চারণ সহ অনুবাদ,সূরা যুখরুফ বাংলা উচ্চারণ, সূরা আল যুখরুফ বাংলা তরজমা,সূরা যুখরুফ বাংলা তাফসীর, আমল সূরা আল যুখরুফ, সকল আমল সূরা আল যুখরুফ

আয্‌-যুখরুফ - ( الزخرف ) | সোনাদানা

মাক্কী, মোট আয়াতঃ ৮৯


بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ


حٰمٓ ۚۛ


হা-মীম।


Mufti Taqi Usmani

Hā Mīm.


মুফতী তাকী উসমানী

হা-মীম।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হা-মীম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হা-মীম।


মাওলানা জহুরুল হক

হা মীম!



وَالۡکِتٰبِ الۡمُبِیۡنِ ۙۛ


ওয়াল কিতা-বিল মুবীন।


Mufti Taqi Usmani

By the manifest Book,


মুফতী তাকী উসমানী

শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের,


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের;


মাওলানা জহুরুল হক

সুস্পষ্ট গ্রন্থখানা সন্বন্ধে ভেবে দেখো --



اِنَّا جَعَلۡنٰہُ قُرۡءٰنًا عَرَبِیًّا لَّعَلَّکُمۡ تَعۡقِلُوۡنَ ۚ


ইন্না-জা‘আলনা-হু কুরআ-নান ‘আরাবিইইয়াল লা‘আল্লাকুম তা‘কিলূন।


Mufti Taqi Usmani

We have made it an Arabic Qur’ān, so that you may understand.


মুফতী তাকী উসমানী

আমি একে বানিয়েছি আরবী কুরআন, যাতে তোমরা বুঝতে পার।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি একে করেছি কোরআন, আরবী ভাষায়, যাতে তোমরা বুঝ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি এটা অবতীর্ণ করেছি আরবী ভাষায় কুরআন, যাতে তোমরা বুঝতে পার।


মাওলানা জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ আমরা এটিকে এক আরবী ভাষণ করেছি যেন তোমরা বুঝতে পারো।



وَاِنَّہٗ فِیۡۤ اُمِّ الۡکِتٰبِ لَدَیۡنَا لَعَلِیٌّ حَکِیۡمٌ ؕ


ওয়া ইন্নাহূফীউম্মিল কিতা-বি লাদাইনা-লা‘আলিইয়ুন হাকীম।


Mufti Taqi Usmani

And it is, in the Mother of the Book (the Preserved Tablet) with us, surely sublime, full of wisdom.


মুফতী তাকী উসমানী

প্রকৃতপক্ষে এটা আমার নিকট মূল গ্রন্থে ১ (অর্থাৎ লাওহে মাহফুজে) উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, হেকমত- পূর্ণ কিতাব। ২


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নিশ্চয় এ কোরআন আমার কাছে সমুন্নত অটল রয়েছে লওহে মাহফুযে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এটা তো রয়েছে আমার নিকট উম্মুল কিতাবে; এটা মহান, জ্ঞানগর্ভ।


মাওলানা জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ এটি রয়েছে আমাদের কাছে আদিগ্রন্থে, মহোচ্চ, জ্ঞানসমৃদ্ধ।


তাফসীরঃ

১. উম্মুল-কিতাব বা মূলগ্রন্থ হল লাওহে মাহফুজ (সুরক্ষিত ফলক)। কুরআন মাজীদসহ সমস্ত আসমানী কিতাব দুনিয়ায় নাযিল হওয়ার আগে লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত ছিল। তাই তাকে উম্মুল-কিতাব বলা হয়ে থাকে। -অনুবাদক


২. কুরআন মাজীদ অনাদি কাল থেকেই ‘লাওহে মাহফুজে বিদ্যমান ছিল। সেখান থেকে তা এক সঙ্গে সম্পূর্ণটা দুনিয়ার আসমানে এবং সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজন অনুপাতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর নাযিল হয়।



اَفَنَضۡرِبُ عَنۡکُمُ الذِّکۡرَ صَفۡحًا اَنۡ کُنۡتُمۡ قَوۡمًا مُّسۡرِفِیۡنَ


আফানাদরিবু‘আনকুমুযযিকরা সাফহান আন কুনতুম কাওমাম মুছরিফীন।


Mufti Taqi Usmani

Shall We then take the advice away from you because you are a transgressing people?


মুফতী তাকী উসমানী

আমি কি বিমুখ হয়ে তোমাদের থেকে এ কিতাব প্রত্যাহার করে নেব এ কারণে যে, তোমরা এক সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়? ৩


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমরা সীমাতিক্রমকারী সম্প্রদায়-এ কারণে কি আমি তোমাদের কাছ থেকে কোরআন প্রত্যাহার করে নেব?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি কি তোমাদের হতে এই উপদেশবাণী সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে নিব এই কারণে যে, তোমরা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায় ?


মাওলানা জহুরুল হক

কী! আমরা কি তোমাদের থেকে স্মারক গ্রন্থখানা সর্বতোভাবে সরিয়ে নেব যেহেতু তোমরা হচ্ছ এক সীমালংঘনকারী জাতি?


তাফসীরঃ

৩. এটা আল্লাহ তাআলার অপার রহমতের দাবি যে, যারা অবাধ্যতায় সকল সীমা ছাড়িয়ে গেছে তাদেরকেও হেদায়াতের পথ দেখানো হবে। বোঝানো হচ্ছে, তোমরা পছন্দ কর বা নাই কর, আমি তোমাদেরকে হেদায়াতের পথ জানানো ও উপদেশ দান থেকে বিরত হব না।



وَکَمۡ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ نَّبِیٍّ فِی الۡاَوَّلِیۡنَ


ওয়া কাম আরছালনা-মিন নাবিইয়িন ফিল আওওয়ালীন।


Mufti Taqi Usmani

How many a messenger We have sent to the earlier people!


মুফতী তাকী উসমানী

আমি তো পূর্ববর্তীদের মাঝেও কত নবী পাঠিয়েছি!


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

পূর্ববর্তী লোকদের কাছে আমি অনেক রসূলই প্রেরণ করেছি।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পূর্ববর্তীদের নিকট আমি বহু নবী প্রেরণ করেছিলাম।


মাওলানা জহুরুল হক

আর নবীদের কতজনকে যে আমরা পূর্ববর্তীদের কাছে পাঠিয়েছিলাম?



وَمَا یَاۡتِیۡہِمۡ مِّنۡ نَّبِیٍّ اِلَّا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ


ওয়ামা-ইয়া’তীহিম মিন নাবিইয়িন ইল্লা-কা-নূবিহী ইয়াছতাহঝি’ঊন।


Mufti Taqi Usmani

No messenger came to them, but they used to mock at him.


মুফতী তাকী উসমানী

তাদের কাছে এমন কোন নবী আসেনি, যাকে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখনই তাদের কাছে কোন রসূল আগমন করেছেন, তখনই তারা তাঁর সাথে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং যখনই এদের নিকট কোন নবী এসেছে এরা তাকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছে।


মাওলানা জহুরুল হক

আর নবীদের এমন কেউ তাদের কাছে আসেন নি যাঁকে তারা বিদ্রূপ না করত।



فَاَہۡلَکۡنَاۤ اَشَدَّ مِنۡہُمۡ بَطۡشًا وَّمَضٰی مَثَلُ الۡاَوَّلِیۡنَ


ফাআহলাকনাআশাদ্দা মিনহুম বাতশাওঁ ওয়া মাদা-মাছালুল আওওয়ালীন।


Mufti Taqi Usmani

So We have destroyed those who were stronger than these (people of Makkah) in power, and the example of the earlier people has already passed.


মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর যারা এদের (অর্থাৎ মক্কাবাসীদের) অপেক্ষা বেশি শক্তিশালী ছিল। তাদেরকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি। আর সেই পূর্ববর্তীদের অবস্থা তো গত হয়েছে। ৪


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সুতরাং আমি তাদের চেয়ে অধিক শক্তি সম্পন্নদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছি। পূর্ববর্তীদের এ ঘটনা অতীত হয়ে গেছে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যারা এদের অপেক্ষা শক্তিতে প্রবল ছিল, তাদেরকে আমি ধ্বংস করেছিলাম; আর এইভাবে চলে এসেছে পূর্ববর্তীদের অনুরূপ দৃষ্টান্ত।


মাওলানা জহুরুল হক

তারপর এদের চাইতে বলবীর্যে বেশী শক্তিশালীদেরও আমরা ধ্বংস করেছিলাম, আর পূর্ববর্তীদের দৃষ্টান্ত অতীতে রয়েছে।


তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ পূর্ববর্তী কত অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের ধ্বংসের দৃষ্টান্ত গত হয়েছে এবং পূর্বে বলা হয়েছে, তারা শক্তিমত্তায় তোমাদের চেয়ে উপরে ছিল। তোমরা তা দ্বারা শিক্ষা গ্রহণ করতে পার যে, আল্লাহর ধরা থেকে যখন তারাই বাঁচতে পারেনি, তখন তোমরাও বাঁচতে পারবে না? (-অনুবাদক, তাফসীরে উসমানী থেকে।)



وَلَئِنۡ سَاَلۡتَہُمۡ مَّنۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ لَیَقُوۡلُنَّ خَلَقَہُنَّ الۡعَزِیۡزُ الۡعَلِیۡمُ ۙ


ওয়া লাইন ছাআলতাহুম মান খালাকাছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদালাইয়াকূলুন্না খালাকাহুন্নাল ‘আঝীঝুল ‘আলীম।


Mufti Taqi Usmani

Should you ask them as to who has created the heavens and the earth, they will certainly say, “They are created by the All-Mighty, the All-Knowing,”


মুফতী তাকী উসমানী

তুমি যদি তাদেরকে (মুশরিকদেরকে) জিজ্ঞেস কর, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছে, তবে তারা অবশ্যই বলবে, এগুলো সৃষ্টি করেছেন সেই পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ (আল্লাহ)।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন কে নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, এগুলো সৃষ্টি করেছেন পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি যদি এদেরকে জিজ্ঞাসা কর, ‘কে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে?’ এরা অবশ্যই বলবে, ‘এইগুলি তো সৃষ্টি করেছেন পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ আল্লাহ্’,


মাওলানা জহুরুল হক

আর তুমি যদি তাদের জিজ্ঞাসা কর -- "কে মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন?" -- তারা নিশ্চয়ই বলবে -- "এগুলো সৃষ্টি করেছেন মহাশক্তিশালী সর্বজ্ঞাতা --


১০


الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمُ الۡاَرۡضَ مَہۡدًا وَّجَعَلَ لَکُمۡ فِیۡہَا سُبُلًا لَّعَلَّکُمۡ تَہۡتَدُوۡنَ ۚ


আল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আরদা মাহদাওঁ ওয়া জা‘আলা লাকুম ফীহা-ছুবুলাল লা‘আল্লাকুম তাহতাদূন।


Mufti Taqi Usmani

the One who has made the earth a cradle for you, and has made for you pathways therein, so that you may be guided,


মুফতী তাকী উসমানী

যিনি তোমাদের জন্য ভূমিকে বানিয়েছেন বিছানা এবং তোমাদের জন্য তাতে বিভিন্ন পথ সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পার।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন বিছানা এবং তাতে তোমাদের জন্যে করেছেন পথ, যাতে তোমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পার।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন শয্যা এবং এতে করেছেন তোমাদের চলার পথ, যাতে তোমরা সঠিক পথ পেতে পার ;


মাওলানা জহুরুল হক

যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করেছেন এক খাটিয়া, আর এতে তৈরী করেছেন তোমাদের কারণে পথসমূহ, যাতে তোমরা পথের দিশা পেতে পার,


১১


وَالَّذِیۡ نَزَّلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءًۢ بِقَدَرٍ ۚ فَاَنۡشَرۡنَا بِہٖ بَلۡدَۃً مَّیۡتًا ۚ کَذٰلِکَ تُخۡرَجُوۡنَ


ওয়াল্লাযী নাঝঝালা মিনাছ ছামাই মাআম বিকাদারিন ফাআনশারনা-বিহী বালদাতাম মাইতান কাযা-লিকা তুখরাজুন।


Mufti Taqi Usmani

and the One who has sent down water from the sky in due measure. Then We have revived with it a dead town. In the same way, you will be brought forth (alive from the graves),


মুফতী তাকী উসমানী

যিনি আসমান থেকে বারি বর্ষণ করেন পরিমিতভাবে। তারপর আমি তার মাধ্যমে এক মৃত অঞ্চলকে নতুন জীবন দান করি। এভাবেই তোমাদেরকে (কবর থেকে) বের করে নতুন জীবন দান) করা হবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং যিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন পরিমিত। আতঃপর তদ্দ্বারা আমি মৃত ভূ-ভাগকে পুনরুজ্জীবিত করেছি। তোমরা এমনিভাবে উত্থিত হবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং যিনি আকাশ হতে বারি বর্ষণ করেন পরিমিতভাবে। এরপর আমি তা দিয়ে সঞ্জীবিত করি নির্জীব জনপদকে। এইভাবেই তোমাদেরকে বের করা হবে।


মাওলানা জহুরুল হক

আর যিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন পরিমাপ মতো, তারপর তা দিয়ে আমরা প্রাণবন্ত করি মৃত দেশকে, এইভাবেই তোমাদের পুনরুত্থিত করা হবে।


১২


وَالَّذِیۡ خَلَقَ الۡاَزۡوَاجَ کُلَّہَا وَجَعَلَ لَکُمۡ مِّنَ الۡفُلۡکِ وَالۡاَنۡعَامِ مَا تَرۡکَبُوۡنَ ۙ


ওয়াল্লাযী খালাকাল আঝওয়া-জা কুল্লাহা- ওয়াজা‘আলা লাকুম মিনাল ফুলকি ওয়াল আন‘আমি মাতারকাবূন।


Mufti Taqi Usmani

and the One who has created all the pairs, and has made for you the boats and the cattle that you ride,


মুফতী তাকী উসমানী

এবং যিনি সর্বপ্রকার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য নৌযান ও চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা আরোহন করে থাক। ৫


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং যিনি সবকিছুর যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং নৌকা ও চতুস্পদ জন্তুকে তোমাদের জন্যে যানবাহনে পরিণত করেছেন,


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যিনি সকল প্রকারের জোড়া যুগল সৃষ্টি করেন এবং যিনি তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেন এমন নৌযান ও আন‘আম, যাতে তোমরা আরোহণ কর,


মাওলানা জহুরুল হক

আর যিনি সমস্ত-কিছু জোড়ায়-জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন, আর তোমাদের জন্য নৌকা-জাহাজ ও গবাদি-পশুর মধ্যে বানিয়েছেন সেগুলো যা তোমরা চড়ো, --


তাফসীরঃ

৫. মানুষ যেসব বাহনে আরোহণ করে তা দু’রকম। (এক) এমন সব বাহন, যার নির্মাণে মানুষের কোনও না কোনও রকমের ভূমিকা থাকে। নৌযান দ্বারা এ জাতীয় বাহনের দিকে ইশারা করা হয়েছে। (দুই) দ্বিতীয় প্রকারের বাহন এমন, যার তৈরিতে মানুষের কোনও রকম ভূমিকা থাকে না, যেমন ঘোড়া, উট ও সওয়ারীর অন্যান্য জন্তু। চতুষ্পদ জন্তু বলে এ জাতীয় বাহনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আয়াতে বোঝানো উদ্দেশ্য যে, উভয় প্রকারের যানবাহন মানুষের প্রতি আল্লাহ তাআলার অনেক বড় নি‘আমত। মানুষ যেসব পশুতে আরোহণ করে, তা মানুষ অপেক্ষা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে থাকে, কিন্তু আল্লাহ তাআলা সেগুলোকে মানুষের এমন বশীভূত করে দিয়েছেন যে, একটি শিশুও লাগাম ধরে তাদেরকে যেখানে ইচ্ছা নিয়ে যেতে পারে। যে সকল যানবাহন তৈরিতে মানুষের কিছুটা ভূমিকা থাকে, যেমন নৌকা, জাহাজ, রেলগাড়ি প্রভৃতি, তার কাঁচামালও আল্লাহ তাআলারই সৃষ্টি। আল্লাহ তাআলাই মানুষকে এমন যোগ্যতা ও ক্ষমতা দান করেছেন, যার বলে সে তা দ্বারা এসব যানবাহন তৈরি করতে পারছে।

(ads1)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#f50707)

১৩


لِتَسۡتَوٗا عَلٰی ظُہُوۡرِہٖ ثُمَّ تَذۡکُرُوۡا نِعۡمَۃَ رَبِّکُمۡ اِذَا اسۡتَوَیۡتُمۡ عَلَیۡہِ وَتَقُوۡلُوۡا سُبۡحٰنَ الَّذِیۡ سَخَّرَ لَنَا ہٰذَا وَمَا کُنَّا لَہٗ مُقۡرِنِیۡنَ ۙ


লিতাছতায়ূ‘আলা-জু হূরিহী ছু ম্মা তাযকুরূনি‘মাতা রাব্বিকুম ইযাছতাওয়াইতুম ‘আলাইহি ওয়া তাকূলূছুবহা-নাল্লাযী ছাখখারা লানা-হাযা-ওয়ামা-কুন্না-লাহূমুকরিনীন।


Mufti Taqi Usmani

so that you may mount upon their back, then recall the favour of your Lord after having mounted upon it and say, “Pure is the One who has subjugated this for us, and We were not able to have control over it,


মুফতী তাকী উসমানী

যাতে তোমরা তার পিঠে চড়তে পার, তারপর যখন তোমরা তাতে চড়ে বস, তখন তোমাদের প্রতিপালকের নি‘আমত স্মরণ কর এবং বল, পবিত্র সেই সত্তা, যিনি এই বাহনকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। অন্যথায় একে বশীভূত করার ক্ষমতা আমাদের ছিল না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যাতে তোমরা তাদের পিঠের উপর আরোহণ কর। অতঃপর তোমাদের পালনকর্তার নেয়ামত স্মরণ কর এবং বল পবিত্র তিনি, যিনি এদেরকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন এবং আমরা এদেরকে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাতে তোমরা এদের পৃষ্ঠে স্থির হয়ে বসিতে পার. তারপর তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ স্মরণ কর যখন তোমরা এর ওপর স্থির হয়ে বস ; এবং বল, ‘পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি এদেরকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, যদিও আমরা সমর্থ ছিলাম না এদেরকে বশীভূত করতে।


মাওলানা জহুরুল হক

যেন তোমরা তাদের পিঠের উপরে মজবুত হয়ে বসতে পার, তারপর তোমাদের প্রভুর অনুগ্রহ স্মরণ করো যখন তোমরা তাদের উপরে বস, আর বলো -- "সকল মহিমা তাঁর যিনি এদের আমাদের বশ করেছেন, অথচ আমরা এতে সমর্থ ছিলাম না,


১৪


وَاِنَّاۤ اِلٰی رَبِّنَا لَمُنۡقَلِبُوۡنَ


ওয়া ইন্নাইলা-রাব্বিনা লামুনকালিবূন।


Mufti Taqi Usmani

and of course, towards our Lord we have to return.”


মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই আমাদেরকে আমাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যেতে হবে। ৬


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমরা অবশ্যই আমাদের পালনকর্তার দিকে ফিরে যাব।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকট অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করব।’


মাওলানা জহুরুল হক

আর অবশ্য আমরা আমাদের প্রভুর দিকেই তো ফিরে যাব।


তাফসীরঃ

৬. এটা যানবাহনে চড়ার দুআ। চড়ার সময় এ দুআ পড়তে হয়। এতে প্রথমত স্বীকার করা হয়েছে যে, যানবাহন আল্লাহ তাআলার নেয়ামত। তিনি এ নি‘আমত দান না করলে মানুষের পক্ষে একে আয়ত্ত করা সম্ভব ছিল না আর সেক্ষেত্রে মানুষকে অশেষ কষ্টের সম্মুখীন হতে হত। দ্বিতীয়ত দুআর শেষ বাক্যে এ দিকে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে যে, যে-কোনও সফরকালে তাকে মনে রাখতে হবে, তার একটি আখেরী সফরও আছে, যখন তাকে এ দুনিয়া ছেড়ে নিজ প্রতিপালকের কাছে চলে যেতে হবে। তখন তাঁর কাছে নিজের সমস্ত কাজের হিসাব দিতে হবে। কাজেই এখানে থাকা অবস্থায় এমন কোন কাজ করা উচিত হবে না, যদ্দরুন সেখানে লজ্জিত হতে হয়।


১৫


وَجَعَلُوۡا لَہٗ مِنۡ عِبَادِہٖ جُزۡءًا ؕ  اِنَّ الۡاِنۡسَانَ لَکَفُوۡرٌ مُّبِیۡنٌ ؕ٪


ওয়া জা‘আলূলাহূমিন ‘ইবা-দিহী জুঝআন ইন্নাল ইনছা-না লাকাফূরুম মুবীন।


Mufti Taqi Usmani

They have attributed to Him (that He is composed of) parts, (and that too) out of His servants. Surely, man is clearly ungrateful.


মুফতী তাকী উসমানী

এবং তারা (অর্থাৎ মুশরিকগণ) তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে তাঁর অংশ (অর্থাৎ সন্তান) স্থির করে নিয়েছে। ৭ নিশ্চয়ই মানুষ প্রকাশ্য অকৃতজ্ঞ।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকে আল্লাহর অংশ স্থির করেছে। বাস্তবিক মানুষ স্পষ্ট অকৃতজ্ঞ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা তাঁর বান্দাদের মধ্য হতে তাঁর অংশ সাব্যস্ত করেছে। মানুষ তো স্পষ্টই অকৃতজ্ঞ।


মাওলানা জহুরুল হক

তথাপি তারা তাঁর বান্দাদের মধ্যে থেকে তাঁর সঙ্গে অংশীদার বানিয়েছে। নিঃসন্দেহ মানুষ তো স্পষ্টই অকৃতজ্ঞ।


তাফসীরঃ

৭. আরবের মুশরিকরা বিশ্বাস করত ফেরেশতাগণ আল্লাহ তাআলার কন্যা। এখান থেকে তাদের সেই বিশ্বাস খণ্ডন করা হচ্ছে। তাদের এ বিশ্বাস যে ভ্রান্ত, সামনের আয়াতসমূহে (২১নং আয়াত পর্যন্ত) সে সম্পর্কে চারটি দলীল পেশ করা হয়েছে। (এক) আল্লাহ তাআলার কোন সন্তান থাকা সম্ভব নয়। কেননা সন্তান পিতা-মাতার অংশ হয়ে থাকে। কারণ সন্তান তাদের শুক্র ও ডিম্বানু দ্বারা সৃষ্টি হয়। কাজেই আল্লাহ তাআলার কোন অংশ থাকতে পারে না। তিনি সর্বপ্রকার অংশত্ব হতে পবিত্র। সুতরাং তার কোন সন্তান থাকা অসম্ভব। (দুই) মুশরিকদের নিজেদের অবস্থা হল, তারা নিজেদের জন্য কন্যা সন্তানের জন্মকে লজ্জার ব্যাপার গণ্য করে। কারও কন্যা সন্তান জন্ম নিলে সে যারপরনাই দুঃখিত হয়। আজব ব্যাপার হল, যারা নিজেদের জন্য কন্যা সন্তানকে গ্লানিকর মনে করে, তারাই আবার আল্লাহ সম্পর্কে বিশ্বাস পোষণ করে যে, তার কন্যা সন্তান আছে। (তিন) তাদের এই বিশ্বাস অনুযায়ী ফেরেশতাগণ নারী সাব্যস্ত হয়। অথচ তারা নারী নয়। (চার) যদিও প্রকৃতপক্ষে নারী হওয়াটা লজ্জার কোন বিষয় নয়। কিন্তু সাধারণত পুরুষ অপেক্ষা নারীর যোগ্যতা কম হয়ে থাকে। তাদের দৃষ্টি থাকে বেশ-ভূষা ও অলংকারাদির দিকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা নিজের কথাটাও ভালোভাবে স্পষ্ট করতে পারে না। সুতরাং কথার কথা যদি আল্লাহ তাআলার কোন সন্তান গ্রহণের ইচ্ছা থাকতও, তবে নারীকে কেন বেছে নেবেন?


১৬


اَمِ اتَّخَذَ مِمَّا یَخۡلُقُ بَنٰتٍ وَّاَصۡفٰکُمۡ بِالۡبَنِیۡنَ


আমিত্তাখাযা মিম্মা-ইয়াখলুকুবানাতিওঁ ওয়া আসফা-কুম বিলবানীন।


Mufti Taqi Usmani

Is it that He has adopted daughters from those whom He has created, and chosen you for (having) sons?


মুফতী তাকী উসমানী

তবে কি আল্লাহ আপন মাখলুকের মধ্য হতে নিজের জন্য কন্যা বেছে নিয়েছেন আর তোমাদের জন্য পছন্দ করেছেন পুত্র?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তিনি কি তাঁর সৃষ্টি থেকে কন্যা সন্তান গ্রহণ করেছেন এবং তোমাদের জন্য মনোনীত করেছেন পুত্র সন্তান?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি কি তাঁর সৃষ্টি হতে নিজের জন্যে কন্যা সন্তান গ্রহণ করেছেন এবং তোমাদেরকে বিশিষ্ট করেছেন পুত্র সন্তান দিয়ে ?


মাওলানা জহুরুল হক

তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার মধ্যে থেকে কি তিনি কন্যাদের গ্রহণ করেছেন আর তোমাদের জন্য নির্ধারিত করেছেন পুত্রদের?


১৭


وَاِذَا بُشِّرَ اَحَدُہُمۡ بِمَا ضَرَبَ لِلرَّحۡمٰنِ مَثَلًا ظَلَّ وَجۡہُہٗ مُسۡوَدًّا وَّہُوَ کَظِیۡمٌ


ওয়া ইযা-বুশশিরা আহাদুহুম বিমা-দারাবা লিররাহমা-নি মাছালান জাল্লা ওয়াজহুহূ মুছওয়াদ্দাওঁ ওয়া হুওয়া কাজীম।


Mufti Taqi Usmani

When one of them is given the good news of (the birth of) that which he has attributed to RaHmān (i.e. the daughters), his face turns black, and he becomes choked with sorrow.


মুফতী তাকী উসমানী

অথচ তাদের কাউকে যখন তার (অর্থাৎ কন্যা জন্মের) সুসংবাদ দেওয়া হয়, যাকে তারা দয়াময় আল্লাহর প্রতি আরোপ করে রেখেছে, ৮ তখন তার চেহারা মলিন হয়ে যায় এবং সে মনে মনে তাপিত হতে থাকে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা রহমান আল্লাহর জন্যে যে, কন্যা-সন্তান বর্ণনা করে, যখন তাদের কাউকে তার সংবাদ দেয়া হয়, তখন তার মুখমন্ডল কালো হয়ে যায় এবং ভীষণ মনস্তাপ ভোগ করে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

দয়াময় আল্লাহ্ র প্রতি এরা যা আরোপ করে এদের কাউকেও সেই সন্তানের সংবাদ দেওয়া হলে তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে দুঃসহ মর্ম যাতনায় ক্লিষ্ট হয়।


মাওলানা জহুরুল হক

আর যখন তাদের কাউকে সুসংবাদ দেওয়া হয় তাই দিয়ে যার দৃষ্টান্ত সে স্থাপন করে পরম করুণাময়ের প্রতি, তার চেহারা তখন কালো হয়ে যায় আর সে অতিমাত্রায় ক্ষুদ্ধ্ব হয়।


তাফসীরঃ

৮. আক্ষরিক অর্থ হবে ‘যাকে তারা দয়াময় আল্লাহর অনুরূপ সাব্যস্ত করেছে’। অর্থাৎ তারা ফিরিশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা বলে তাদেরকে তাঁর সদৃশ বানিয়ে দিয়েছে, যেহেতু সন্তান পিতা সদৃশ হয়ে থাকে, সেই সন্তান অর্থাৎ কন্যা সন্তানেরই জন্মের সুসংবাদ তাদেরকে দেওয়া হলে তাদের মুখ কালো হয়ে যায়। -অনুবাদক


১৮


اَوَمَنۡ یُّنَشَّؤُا فِی الۡحِلۡیَۃِ وَہُوَ فِی الۡخِصَامِ غَیۡرُ مُبِیۡنٍ


আওয়া মাইঁ ইউনাশশাউ ফিল হিলয়াতি ওয়া হুওয়া ফিল খিসা-মি গাইরু মুবীন।


Mufti Taqi Usmani

Is it that (Allah has chosen) those (as His offspring) who are grown up in ornaments and who cannot express themselves in debate clearly?


মুফতী তাকী উসমানী

তাছাড়া (আল্লাহ কি এমন সন্তান পছন্দ করেছেন) যে অলংকারের ভেতর লালিত-পালিত হয় এবং যে তর্ক-বিতর্কে নিজের কথা খুলে বলতে পারে না?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা কি এমন ব্যক্তিকে আল্লাহর জন্যে বর্ণনা করে, যে অলংকারে লালিত-পালিত হয় এবং বিতর্কে কথা বলতে অক্ষম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা কি আল্লাহ্ র প্রতি আরোপ করে এমন সন্তান, যে অলঙ্কারে মণ্ডিত হয়ে লালিত-পালিত হয় এবং তর্ক-বিতর্ককালে স্পষ্ট বক্তব্যে অসমর্থ ?


মাওলানা জহুরুল হক

তবে কি যে গহনাগাটিতে রক্ষিত আর যে বিতর্ককালে স্পষ্টবাদিতা বিহীন?


১৯


وَجَعَلُوا الۡمَلٰٓئِکَۃَ الَّذِیۡنَ ہُمۡ عِبٰدُ الرَّحۡمٰنِ اِنَاثًا ؕ اَشَہِدُوۡا خَلۡقَہُمۡ ؕ سَتُکۡتَبُ شَہَادَتُہُمۡ وَیُسۡـَٔلُوۡنَ


ওয়াজা‘আলুল মালাইকাতাল্লাযীনা হুম ‘ইবা-দুররাহমা-নি ইনা-ছান আশাহিদূ খালকাহুম ছাতুকতাবুশাহা-দাতুহুম ওয়া ইউছআলূন।


Mufti Taqi Usmani

They have held angels, who are the servants of RaHmān, as females. Have they witnessed their creation? Their testimony will be recorded, and they will be questioned.


মুফতী তাকী উসমানী

অধিকন্তু তারা ফেরেশতাদেরকে, যারা কিনা আল্লাহর বান্দা, নারী গণ্য করেছে। তবে কি তাদের সৃজনকালে তারা উপস্থিত ছিল? তাদের এ দাবি লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা নারী স্থির করে ফেরেশতাগণকে, যারা আল্লাহর বান্দা। তারা কি তাদের সৃষ্টি প্রত্যক্ষ করেছে? এখন তাদের দাবী লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা দয়াময় আল্লাহ্ র বান্দা ফেরেশতাদেরকে নারী গণ্য করেছে ; এদের সৃষ্টি কি এরা প্রত্যক্ষ করেছিল ? এদের উক্তি অবশ্য লিপিবদ্ধ করা হবে এবং এদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে।


মাওলানা জহুরুল হক

আর তারা ফিরিশতাদের, যারা খোদ পরম করুণাময়ের দাস, কন্যা বানায়। কী! এদের সৃষ্টি কি তারা দেখেছিল? তাদের সাক্ষ্য শীঘ্রই লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।


২০


وَقَالُوۡا لَوۡ شَآءَ الرَّحۡمٰنُ مَا عَبَدۡنٰہُمۡ ؕ  مَا لَہُمۡ بِذٰلِکَ مِنۡ عِلۡمٍ ٭  اِنۡ ہُمۡ اِلَّا یَخۡرُصُوۡنَ ؕ


ওয়া কা-লূলাও শাআররাহমা-নুমা-‘আবাদনা-হুম মা-লাহুম বিযা-লিকা মিন ‘ইলমিন ইন হুম ইল্লা-ইয়াখরুসূন।


Mufti Taqi Usmani

They say, “Had the RaHmān so willed, we would not have worshipped them.” They have no knowledge of that. They do nothing but make conjectures.


মুফতী তাকী উসমানী

এবং তারা বলে, দয়াময় আল্লাহ চাইলে আমরা তাদের (ফেরেশতাদের) ইবাদত করতাম না। তাদের এ সম্পর্কে কোন জ্ঞানই নেই। তাদের কাজ কেবল অনুমানে ঢিল ছোঁড়া।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা বলে, রহমান আল্লাহ ইচছা না করলে আমরা ওদের পূজা করতাম না। এ বিষয়ে তারা কিছুই জানে না। তারা কেবল অনুমানে কথা বলে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা বলে, ‘দয়াময় আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে আমরা এদের পূজা করতাম না।’ এ বিষয়ে এদের কোন জ্ঞান নেই ; এরা তো কেবল মনগড়া বলিতেছে।


মাওলানা জহুরুল হক

আর তারা বলে -- "পরম করুণাময় যদি চাইতেন তবে আমরা এ-সবের উপাসনা করতাম না।" তাদের এ ব্যাপারে কোনো জ্ঞান নেই, তারা তো শুধু ঝুটা আন্দাজই করছে।


২১


اَمۡ اٰتَیۡنٰہُمۡ کِتٰبًا مِّنۡ قَبۡلِہٖ فَہُمۡ بِہٖ مُسۡتَمۡسِکُوۡنَ


আম আ-তাইনা-হুম কিতা-বাম মিন কাবলিহী ফাহুম বিহী মুছতামছিকূন।


Mufti Taqi Usmani

Or have We given to them a book before this, and they are adhering to it?


মুফতী তাকী উসমানী

আমি কি এর আগে তাদেরকে কোন কিতাব দিয়েছিলাম, যা তারা আঁকড়ে ধরে আছে? ৯


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি কি তাদেরকে কোরআনের পূর্বে কোন কিতাব দিয়েছি, অতঃপর তারা তাকে আঁকড়ে রেখেছে?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি কি এদেরকে কুরআনের পূর্বে কোন কিতাব দান করেছি যা এরা দৃঢ়ভাবে ধারণ করে আছে ?


মাওলানা জহুরুল হক

অথবা তাদের কি এর আগে আমরা কোনো গ্রন্থ দিয়েছি, ফলে তারা তাতে আকঁড়ে রয়েছে?


তাফসীরঃ

৯. আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে কোন আকীদা-বিশ্বাস পোষণের ভিত্তি হতে পারে দুটি (এক) বিষয়টি এমন সুস্পষ্ট ও সর্বজন বোধগম্য হওয়া যে, বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি মাত্রই তার বাস্তবতা স্বীকার করতে বাধ্য থাকে; (দুই) বিষয়টি সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে কোন আসমানী কিতাবের মাধ্যমে সুস্পষ্ট বিবৃতি থাকা। মুশরিকরা যেসব আকীদা-বিশ্বাস পোষণ করত, তার এ রকম কোন ভিত্তি ছিল না। বরং তা ছিল সম্পূর্ণ যুক্তি-বিরুদ্ধ। তাদের কোন আসমানী কিতাবও ছিল না, যার ভেতর সেসব আকীদার বিবরণ থাকবে।


২২


بَلۡ قَالُوۡۤا اِنَّا وَجَدۡنَاۤ اٰبَآءَنَا عَلٰۤی اُمَّۃٍ وَّاِنَّا عَلٰۤی اٰثٰرِہِمۡ مُّہۡتَدُوۡنَ


বাল কা-লূইন্না-ওয়াজাদনাআ-বাআনা ‘আলাউম্মাতিওঁ ওয়া ইন্না-‘আলাআছা-রিহিম মুহতাদূন।


Mufti Taqi Usmani

Instead, they say, “We have found our fathers on a certain way, and we are on their footprints, fully guided.”


মুফতী তাকী উসমানী

না, বরং তারা বলে, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে একটা মতাদর্শের অনুসারী পেয়েছি। আমরা তাদের পদছাপ ধরে সঠিক পথেই চলছি।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বরং তারা বলে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পেয়েছি এক পথের পথিক এবং আমরা তাদেরই পদাংক অনুসরণ করে পথপ্রাপ্ত।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বরং এরা বলে, ‘আমরা তো আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পেয়েছি এক মতাদর্শের অনুসারী এবং আমরা তাদেরই পদাংক অনুসরণ করছি।’


মাওলানা জহুরুল হক

না, তারা বলে -- "আমরা তো আমাদের পিতৃপুরুষদের একটি সম্প্রদায়ভুক্ত পেয়েছি, আর আমরা নিঃসন্দেহে তাদেরই পদচিহ্নের উপরে পরিচালিত হয়েছি।"


২৩


وَکَذٰلِکَ مَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ قَبۡلِکَ فِیۡ قَرۡیَۃٍ مِّنۡ نَّذِیۡرٍ اِلَّا قَالَ مُتۡرَفُوۡہَاۤ ۙ اِنَّا وَجَدۡنَاۤ اٰبَآءَنَا عَلٰۤی اُمَّۃٍ وَّاِنَّا عَلٰۤی اٰثٰرِہِمۡ مُّقۡتَدُوۡنَ


ওয়া কাযা-লিকা মাআরছালনা-মিন কাবলিকা ফী কারইয়াতিম মিন নাযীরিন ইল্লা-কালা মুতরাফূহা ইন্না-ওয়াজাদনাআ-বাআনা ‘আলাউম্মাতিওঁ ওয়া ইন্না-‘আলা আ-ছা-রিহিম মুকতাদূ ন।


Mufti Taqi Usmani

Similarly, We did not send a warner to a town before you, but its affluent people said, “We have found our fathers on a certain way, and we are following their footprints.”


মুফতী তাকী উসমানী

এবং (হে রাসূল!) আমি তোমার পূর্বে যখনই কোন জনপদে কোন সতর্ককারী (রাসূল) পাঠিয়েছি, তখন সেখানকার বিত্তবানেরা একথাই বলেছে যে, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে একটা মতাদর্শের অনুসারী পেয়েছি। আমরা তাদেরই পদছাপ অনুসরণ করে চলছি।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এমনিভাবে আপনার পূর্বে আমি যখন কোন জনপদে কোন সতর্ককারী প্রেরণ করেছি, তখনই তাদের বিত্তশালীরা বলেছে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পেয়েছি এক পথের পথিক এবং আমরা তাদেরই পদাংক অনুসরণ করে চলছি।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এইভাবে তোমার পূর্বে কোন জনপদে যখনই আমি কোন সতর্ককারী প্রেরণ করেছি তখন এর সমৃদ্ধিশালী ব্যক্তিরা বলত, ‘আমরা তো আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পেয়েছি এক মতাদর্শের অনুসারী এবং আমরা তাদেরই পদাংক অনুসরণ করছি।’


মাওলানা জহুরুল হক

আর এইভাবেই তোমার আগে কোনো জনপদে আমরা সতর্ককারীদের কাউকেও পাঠাই নি, যার বড়লোকেরা না বলেছে -- "আমরা নিশ্চয়ই আমাদের পিতৃপুরুষদের একটি সম্প্রদায়ভুক্ত পেয়েছি, আর আমরা আলবৎ তাদেরই পদাংকের অনুসারী।"


২৪


قٰلَ اَوَلَوۡ جِئۡتُکُمۡ بِاَہۡدٰی مِمَّا وَجَدۡتُّمۡ عَلَیۡہِ اٰبَآءَکُمۡ ؕ قَالُوۡۤا اِنَّا بِمَاۤ اُرۡسِلۡتُمۡ بِہٖ کٰفِرُوۡنَ


কা-লা আওয়ালাও জি’তুকুম বিআহ দা-মিম্মা-ওয়াজাত্তুম ‘আলাইহি আ-বাআকুম কালূইন্না-বিমাউরছিলতুম বিহী কা-ফিরূন।


Mufti Taqi Usmani

He said, “Even if I bring to you something better in guidance than that on which you have found your fathers?” They said, “We totally disbelieve in what you are sent with.”


মুফতী তাকী উসমানী

নবী বলল, তোমরা তোমাদের বাপ- দাদাদেরকে যে মতাদর্শের উপর পেয়েছ, আমি যদি তোমাদের কাছে তার চেয়ে উৎকৃষ্ট হেদায়াতের বাণী নিয়ে আসি (তবুও কি তোমরা সেই মতাদর্শই অনুসরণ করবে)? তারা উত্তর দিল, তোমাদেরকে যে বাণীসহ পাঠানো হয়েছে, আমরা তা অস্বীকার করি।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সে বলত, তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে বিষয়ের উপর পেয়েছ, আমি যদি তদপেক্ষা উত্তম বিষয় নিয়ে তোমাদের কাছে এসে থাকি, তবুও কি তোমরা তাই বলবে? তারা বলত তোমরা যে বিষয়সহ প্রেরিত হয়েছ, তা আমরা মানব না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেই সতর্ককারী বলত, ‘তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে পথে পেয়েছ, আমি যদি তোমাদের জন্যে তদপেক্ষা উৎকৃষ্ট পথনির্দেশ আনয়ন করি তবুও কি তোমরা তাদের পদাংক অনুসরণ করবে ? তারা বলত, ‘তোমরা যাসহ প্রেরিত হয়েছ আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি।’


মাওলানা জহুরুল হক

তিনি বলেছিলেন -- "কী! যদিও আমি তোমাদের কাছে তার চাইতেও ভালো পথনির্দেশ নিয়ে এসেছি যার উপরে তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছিলে?" তারা বললে, "তোমাদের যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে আমরা তাতে নিশ্চয়ই অবিশ্বাসী।


২৫


فَانۡتَقَمۡنَا مِنۡہُمۡ فَانۡظُرۡ کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُکَذِّبِیۡنَ ٪


ফানতাকামনা-মিনহুম ফানজুর কাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল মুকাযযিবীন।


Mufti Taqi Usmani

So, We took revenge from them. Now look, how was the end of those who rejected (Our messengers).


মুফতী তাকী উসমানী

ফলে আমি তাদেরকে শাস্তি দান করলাম। সুতরাং দেখে নাও, অবিশ্বাসীদের পরিণাম কেমন হয়েছে?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর আমি তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিয়েছি। অতএব দেখুন, মিথ্যারোপকারীদের পরিণাম কিরূপ হয়েছে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরপর আমি এদের হতে প্রতিশোধ নিলাম। দেখ, মিথ্যাচারীদের পরিণাম কী হয়েছে।


মাওলানা জহুরুল হক

সুতরাং আমরা তাদের পরিণতি দিয়েছিলাম, অতএব চেয়ে দেখো -- কেমন হয়েছিল মিথ্যাচারীদের পরিণাম!


২৬


وَاِذۡ قَالَ اِبۡرٰہِیۡمُ لِاَبِیۡہِ وَقَوۡمِہٖۤ اِنَّنِیۡ بَرَآءٌ مِّمَّا تَعۡبُدُوۡنَ ۙ


ওয়া ইযকা-লা ইবরাহীমুলিআবীহি ওয়া কাওমিহীইন্নানী বারাউম মিম্মা-তা‘বুদূন।


Mufti Taqi Usmani

(Recall) when Ibrāhīm said to his father and to his people, “I disown that which you worship,


মুফতী তাকী উসমানী

সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, তোমরা যাদের ইবাদত কর, তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই,


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখন ইব্রাহীম তার পিতা ও সম্প্রদায়কে বলল, তোমরা যাদের পূজা কর, তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, ইব্রাহীম তার পিতা এবং সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘তোমরা যাদের পূজা কর তাদের সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নেই;


মাওলানা জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! ইব্রাহীম তাঁর পিতৃকে ও তাঁর স্বজাতিকে বললেন, "তোমরা যার পূজা কর তা থেকে আমি অবশ্যই মুক্ত,


২৭


اِلَّا الَّذِیۡ فَطَرَنِیۡ فَاِنَّہٗ سَیَہۡدِیۡنِ


ইল্লাল্লাযী ফাতারানী ফাইন্নাহূছাইয়াহদীন।


Mufti Taqi Usmani

except the One who has originated me; so He will guide me.”


মুফতী তাকী উসমানী

সেই সত্তা ব্যতিরেকে, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনিই আমাকে পথ দেখান।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তবে আমার সম্পর্ক তাঁর সাথে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। অতএব, তিনিই আমাকে সৎপথ প্রদর্শন করবেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘সম্পর্ক আছে শুধু তাঁরই সঙ্গে, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই আমাকে সৎপথে পরিচালিত করবেন।’


মাওলানা জহুরুল হক

তাঁকে ব্যতীত যিনি আমাকে আদিতে সৃষ্টি করেছেন, কাজেই নিশ্চয় তিনি শীঘ্রই আমাকে পথ দেখাবেন।


২৮


وَجَعَلَہَا کَلِمَۃًۢ بَاقِیَۃً فِیۡ عَقِبِہٖ لَعَلَّہُمۡ یَرۡجِعُوۡنَ


ওয়া জা‘আলাহা-কালিমাতাম বা-কিয়াতান ফী ‘আকিবিহী লা‘আল্লাহুম ইয়ারজি‘ঊন।


Mufti Taqi Usmani

He made it a word lasting among his posterity, so that they may return.


মুফতী তাকী উসমানী

ইবরাহীম এ বিশ্বাসকে এমনই এক বাণী বানিয়ে দিল, যা তার আওলাদের মধ্যে স্থায়ী হয়ে থাকল, ১০ যাতে মানুষ (শিরক থেকে) ফিরে আসে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এ কথাটিকে সে অক্ষয় বাণীরূপে তার সন্তানদের মধ্যে রেখে গেছে, যাতে তারা আল্লাহর দিকেই আকৃষ্ট থাকে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এই ঘোষণাকে সে স্থায়ী বাণীরূপে রেখে গেছে তার পরবর্তীদের জন্যে, যাতে এরা প্রত্যাবর্তন করে।


মাওলানা জহুরুল হক

আর তিনি এটিকে তাঁর বংশধরদের মধ্যে একটি চিরন্তন বাণী বানিয়েছিলেন, যেন তারা ফিরতে পারে।


তাফসীরঃ

১০. অর্থাৎ তাওহীদের বিশ্বাস ও لَا اِلٰهَ اِلَّا الله এর বাণীকে জোরদার প্রচার ও ওসিয়তের মাধ্যমে নিজ বংশধরদের মধ্যে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করে দিলেন যে, কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর আওলাদের মধ্যে একদল না একদল দৃঢ়ভাবে এ বাণীকে আঁকড়ে ধরে রাখবে। সুতরাং বিশেষভাবে তার পুত্র হযরত ইসমাঈল ‘আলাইহিস সালামের মহান বংশধর শেষ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ্বব্যাপী এ বাণীর এমনই জয়ডঙ্কা বাজিয়ে দিয়েছেন যে, বিশ্বাসে, উচ্চারণে ও কর্মে কিয়ামত পর্যন্তের জন্য এর পরাক্রম প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। -অনুবাদক


২৯


بَلۡ مَتَّعۡتُ ہٰۤؤُلَآءِ وَاٰبَآءَہُمۡ حَتّٰی جَآءَہُمُ الۡحَقُّ وَرَسُوۡلٌ مُّبِیۡنٌ


বাল মাত্তা‘তুহাউলাইওয়াআ-বাআহুম হাত্তা-জাআহুমুল হাক্কু ওয়া রাছুলুম মুবীন।


Mufti Taqi Usmani

But, I gave these and their fathers enjoyment, until the truth came to them, and a messenger as well who explains (it).


মুফতী তাকী উসমানী

(তা সত্ত্বেও বহু লোক ফিরে আসল না) তথাপি আমি তাদেরকে ও তাদের বাপ-দাদাদেরকে জীবন ভোগ করতে দেই। পরিশেষে তাদের কাছে আসল সত্য এবং সুস্পষ্ট হেদায়াত দানকারী রাসূল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

পরন্ত আমিই এদেরকে ও এদের পূর্বপুরুষদেরকে জীবনোপভোগ করতে দিয়েছি, অবশেষে তাদের কাছে সত্য ও স্পষ্ট বর্ণনাকারী রসূল আগমন করেছে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বরঞ্চ আমিই এদেরকে এবং এদের পূর্বপুরুষদেরকে দিয়েছিলাম ভোগের সামগ্রী, অবশেষে এদের নিকট এলো সত্য এবং স্পষ্ট বর্ণনাকারী রাসূল।


মাওলানা জহুরুল হক

বস্তুতঃ আমি এদের ও এদের পূর্বপুরুষদের উপভোগ করতে দিয়েছিলাম, যে পর্যন্ত না তাদের কাছে এসেছিল মহাসত্য ও একজন স্পষ্ট প্রতীয়মান রসূল।


৩০


وَلَمَّا جَآءَہُمُ الۡحَقُّ قَالُوۡا ہٰذَا سِحۡرٌ وَّاِنَّا بِہٖ کٰفِرُوۡنَ


ওয়া লাম্মা-জাআহুমুল হাক্কুকা-লূহা-যা-ছিহরুওঁ ওয়া ইন্না-বিহী কা-ফিরূন।


Mufti Taqi Usmani

But when the truth came to them, they said, “This is magic, and we totally disbelieve in it.”


মুফতী তাকী উসমানী

যখন সে সত্য তাদের কাছে আসল, তখন তারা বলল, এটা তো যাদু। আমরা এটা অস্বীকার করি।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখন সত্য তাদের কাছে আগমন করল, তখন তারা বলল, এটা যাদু, আমরা একে মানি না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন এদের নিকট সত্য এলো, এরা বলল, ‘এটা তো জাদু এবং আমরা এটা প্রত্যাখ্যান করি।’


মাওলানা জহুরুল হক

আর এখন যেহেতু তাদের কাছে মহাসত্য এসেই গেছে, তারা বলছে, "এ এক জাদু, আর আমরা অবশ্যই এতে অবিশ্বাসী।"


৩১


وَقَالُوۡا لَوۡلَا نُزِّلَ ہٰذَا الۡقُرۡاٰنُ عَلٰی رَجُلٍ مِّنَ الۡقَرۡیَتَیۡنِ عَظِیۡمٍ


ওয়া কা-লূলাওলা-নুঝঝিলা হা-যাল কুরআন-নু‘আলা-রাজুলিম মিনাল কারইয়াতাইনি ‘আজীম।


Mufti Taqi Usmani

They say, “Why was this Qur’ān not revealed on a great man from (either of) the two towns?”


মুফতী তাকী উসমানী

এবং বলল, এ কুরআন দুই জনপদের কোন বড় ব্যক্তির উপর নাযিল করা হল না কেন? ১১


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা বলে, কোরআন কেন দুই জনপদের কোন প্রধান ব্যক্তির উপর অবতীর্ণ হল না?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং এরা বলে, ‘এই কুরআন কেন নাযিল করা হল না দুই জনপদের কোন প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তির ওপর ?’


মাওলানা জহুরুল হক

আর তারা বলে, "এই কুরআনখানা দুটো জনপদের মধ্যের কোনো এক প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে কেন অবতীর্ণ হল না?"


তাফসীরঃ

১১. ‘দুই জনপদ’ দ্বারা ‘মক্কা মুকাররমা’ ও ‘তায়েফ’ বোঝানো হয়েছে। এতদঞ্চলে এ দু’টিই ছিল বড় শহর। তাই মুশরিকরা বলল, এ দুই শহরের কোন বিত্তবান সর্দারের উপরই কুরআন নাযিল হওয়া উচিত ছিল।


৩২


اَہُمۡ یَقۡسِمُوۡنَ رَحۡمَتَ رَبِّکَ ؕ نَحۡنُ قَسَمۡنَا بَیۡنَہُمۡ مَّعِیۡشَتَہُمۡ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَرَفَعۡنَا بَعۡضَہُمۡ فَوۡقَ بَعۡضٍ دَرَجٰتٍ لِّیَتَّخِذَ بَعۡضُہُمۡ بَعۡضًا سُخۡرِیًّا ؕ وَرَحۡمَتُ رَبِّکَ خَیۡرٌ مِّمَّا یَجۡمَعُوۡنَ


আহুম ইয়াকছিমূনা রাহমাতা রাব্বিকা নাহনুকাছামনা-বাইনাহুম মা‘ঈশাতাহুম ফিল হায়া-তিদ্দুনইয়া-ওয়া রাফা‘না-বা‘দাহুম ফাওকা বা‘দিন দারাজা-তিল লিইয়াত্তাখিযা বা‘দুহুম বা‘দান ছুখরিইইয়াওঁ ওয়া রাহমাতুরাব্বিকা খাইরুম মিম্মা-ইয়াজমা‘ঊন।


Mufti Taqi Usmani

Is it they who allocate the mercy of your Lord? We have allocated among them their livelihood in the worldly life, and have raised some of them over others in ranks, so that some of them may put some others to work. And the mercy of your Lord is much better than what they accumulate.


মুফতী তাকী উসমানী

তবে কি তারাই তোমার প্রতিপালকের রহমত বণ্টন করবে? ১২ পার্থিব জীবনে তাদের জীবিকাও তো আমিই বণ্টন করেছি এবং আমিই তাদের একজনকে অপরজনের উপর মর্যাদায় উন্নত করেছি, যাতে তাদের একে অন্যের দ্বারা কাজ নিতে পারে। তোমার প্রতিপালকের রহমত তো তারা যা (অর্থ-সম্পদ) সঞ্চয় করে, তা অপেক্ষা অনেক শ্রেয়। ১৩


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা কি আপনার পালনকর্তার রহমত বন্টন করে? আমি তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বন্টন করেছি পার্থিব জীবনে এবং একের মর্যাদাকে অপরের উপর উন্নীত করেছি, যাতে একে অপরকে সেবক রূপে গ্রহণ করে। তারা যা সঞ্চয় করে, আপনার পালনকর্তার রহমত তদপেক্ষা উত্তম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা কি তোমার প্রতিপালকের করুণা বণ্টন করে ? আমিই এদের মধ্যে এদের জীবিকা বণ্টন করি, পার্থিব জীবনে এবং একজনকে অপরের ওপর মর্যাদায় উন্নত করি, যাতে একে অপরের দিয়ে কাজ করিয়ে নিতে পারে ; এবং এরা যা জমা করে তা হতে তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ উৎকৃষ্টতর।


মাওলানা জহুরুল হক

তারাই কি তোমার প্রভুর করুণা ভাগ-বাঁটা করে? আমরাই এই দুনিয়ার জীবনে তাদের জীবিকা তাদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে দিই, এবং তাদের কাউকে অপরের উপরে মর্যাদায় উন্নত করি, যেন তাদের কেউ-কেউ অপরকে সেবারত করে নিতে পারে। আর তোমার প্রভুর করুণা বেশি ভাল তার চাইতে যা তারা জমা করে।


তাফসীরঃ

১২. এখানে রহমত দ্বারা নবুওয়াত বোঝানো উদ্দেশ্য। বলা হচ্ছে যে, তারা যে বলছে, কুরআন নাযিল হওয়া উচিত ছিল মক্কা বা তায়েফের কোন বড় ব্যক্তির উপর, তার অর্থ দাঁড়ায়, তারা যেন বলতে চাচ্ছে, নবুওয়াত কাকে দান করা হবে আর কাকে দান করা হবে না, এর ফায়সালা করার অধিকার তাদেরই।


১৩. এখানে রহমত বলতে নবুওয়াত বোঝানো হয়েছে। বোঝানো হচ্ছে, নবুওয়াত তো বহু উচ্চ স্তরের জিনিস। এটা বণ্টনের দায়িত্ব তো তাদের উপর ন্যস্ত করার প্রশ্নই আসে না। এমনকি পার্থিব অর্থ-সম্পদ, যা নবুওয়াত অপেক্ষা অনেক নিুস্তরের জিনিস, তা বণ্টনের দায়িত্বও আমি তাদের উপর ছাড়িনি। কেননা তারা এরও যোগ্য ছিল না। বরং আমি নিজেই এর জন্য এমন ব্যবস্থা করেছি যদ্দরুন তাদের প্রত্যেকেই নিজ প্রয়োজন সমাধার জন্য অন্যের কাছে ঠেকা থাকে। এই পারস্পরিক নির্ভরশীলতার ভিত্তিতে মানুষের রোজগারের মধ্যেও তারতম্য রাখা হয়েছে। সেই তারতম্যের কারণেই এক ব্যক্তি অন্যের প্রয়োজন সমাধা করে দেয়। আয়াতে যে বলা হয়েছে, ‘যাতে তাদের একে অন্যের দ্বারা কাজ নিতে পারে’, তার মর্ম এটাই। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য ‘মাআরিফুল কুরআনে’ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় যে আলোচনা করা হয়েছে, তা দেখা যেতে পারে।


৩৩


وَلَوۡلَاۤ اَنۡ یَّکُوۡنَ النَّاسُ اُمَّۃً وَّاحِدَۃً لَّجَعَلۡنَا لِمَنۡ یَّکۡفُرُ بِالرَّحۡمٰنِ لِبُیُوۡتِہِمۡ سُقُفًا مِّنۡ فِضَّۃٍ وَّمَعَارِجَ عَلَیۡہَا یَظۡہَرُوۡنَ ۙ


ওয়া লাওলাআইঁ ইয়াকূনান্না-ছুউম্মাতাওঁ ওয়া-হিদাতাল লাজা‘আলনা-লিমাইঁ ইয়াকফুরু বিররাহমা-নি লিবুইঊতিহিম ছুকু ফাম মিন ফিদ্দাতিওঁ ওয়া মা‘আ-রিজা ‘আলাইহাইয়াজহারূন।


Mufti Taqi Usmani

Were it not that all people would become of a single creed (i.e. disbelief), We would have caused, for those who disbelieve in RaHmān, roofs of their houses to be made of silver, and the stairs as well, on which they would climb,


মুফতী তাকী উসমানী

সমস্ত মানুষ একই মতাবলম্বী (অর্থাৎ কাফের) হয়ে যাবে এই আশঙ্কা না থাকলে, যারা দয়াময় আল্লাহকে অস্বীকার করে, আমি তাদের ঘরের ছাদও করে দিতাম রুপার এবং তারা যে সিঁড়ি দিয়ে চড়ে তাও।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যদি সব মানুষের এক মতাবলম্বী হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, তবে যারা দয়াময় আল্লাহকে অস্বীকার করে আমি তাদেরকে দিতাম তাদের গৃহের জন্যে রৌপ্য নির্মিত ছাদ ও সিঁড়ি, যার উপর তারা চড়ত।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সত্য প্রত্যাখ্যানে মানুষ এক-মতাবলম্বী হয়ে পড়বে, এই আশংকা না থাকলে দয়াময় আল্লাহ্কে যারা অস্বীকার করে, এদেরকে আমি দিতাম এদের গৃহের জন্যে রৌপ্য-নির্মিত ছাদ ও সিঁড়ি যাতে এরা আরোহণ করে,


মাওলানা জহুরুল হক

আর মানুষ যদি একই সম্প্রদায়ের হয়ে না যেতো তাহলে যারা পরম করুণাময়কে অস্বীকার করে তাদের জন্য আমরা নিশ্চয় বানাতাম -- তাদের ঘরগুলোর জন্য রূপোর ছাদ ও সিড়ি যাঁ দিয়ে তারা ওঠে,


৩৪


وَلِبُیُوۡتِہِمۡ اَبۡوَابًا وَّسُرُرًا عَلَیۡہَا یَتَّکِـُٔوۡنَ ۙ


ওয়া লিবুইউতিহিম আবওয়া-বাওঁ ওয়া ছুরুরান ‘আলাইহা-ইয়াত্তাকিঊন।


Mufti Taqi Usmani

and doors of their homes, and the coaches on which they would recline,


মুফতী তাকী উসমানী

আর তাদের ঘরের দরজাগুলি এবং সেই পালঙ্কগুলিও, যাতে তারা হেলান দিয়ে বসে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং তাদের গৃহের জন্যে দরজা দিতাম এবং পালংক দিতাম যাতে তারা হেলান দিয়ে বসত।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং এদের গৃহের জন্যে দরজা ও পালঙ্ক-যাতে এরা হেলান দিয়ে বিশ্রাম করতে পারে,


মাওলানা জহুরুল হক

আর তাদের ঘরবাড়ির জন্য দরজাগুলো ও পালংক যার উপরে তারা শয়ন করে,


৩৫


وَزُخۡرُفًا ؕ  وَاِنۡ کُلُّ ذٰلِکَ لَمَّا مَتَاعُ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ؕ  وَالۡاٰخِرَۃُ عِنۡدَ رَبِّکَ لِلۡمُتَّقِیۡنَ ٪


ওয়া যুখরুফাওঁ ওয়া ইন কুল্লুযা-লিকা লাম্মা-মাতা‘উল হায়াতিদ্দুনইয়া- ওয়াল আ-খিরাতু‘ইনদা রাব্বিকা লিলমুত্তাকীন।


Mufti Taqi Usmani

and (would have made some of these things) of gold-ornaments. And all this is nothing but an enjoyment of the worldly life. And the Hereafter, with your Lord, is (destined) for the God-fearing.


মুফতী তাকী উসমানী

বরং করতেন সোনার তৈরি। প্রকৃতপক্ষে এসব পার্থিব জীবনের সামগ্রী ছাড়া কিছুই নয়। ১৪ আর তোমার প্রতিপালকের নিকট মুত্তাকীদের জন্য আছে আখেরাত।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং স্বর্ণনির্মিতও দিতাম। এগুলো সবই তো পার্থিব জীবনের ভোগ সামগ্রী মাত্র। আর পরকাল আপনার পালনকর্তার কাছে তাঁদের জন্যেই যারা ভয় করে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং স্বর্ণ-নির্মিতও। আর এই সকলই তো শুধু পার্থিব জীবনের ভোগ-সম্ভার। মুত্তাকীদের জন্যে তোমার প্রতিপালকের নিকট রয়েছে আখিরাতের কল্যাণ।


মাওলানা জহুরুল হক

আর সোনাদানা। আর এ সমস্তই এই দুনিয়ার জীবনের ভোগসম্ভার বৈ তো নয়। আর পরকাল তোমার প্রভুর কাছে ধর্মভীরুদের জন্যেই।


তাফসীরঃ

১৪. বোঝানো উদ্দেশ্য, দুনিয়ার ধন-দৌলত আল্লাহ তাআলার কাছে অতি তুচ্ছ জিনিস। তা এতই মূল্যহীন যে, কাফেরদের প্রতি অসন্তুষ্ট থাকা সত্ত্বেও তিনি সোনা-রুপা দিয়ে তাদের আঙিনা ভরে দিতে পারেন। মানুষ সোনা-রুপার হীনতা বুঝতে না পেরে কাফেরদের ধন-সম্পদ দেখে নিজেরাও কাফের হয়ে যাবে এই আশঙ্কা না থাকলে আল্লাহ তাআলা কাফেরদের ঘর-বাড়ি ও সমস্ত আসবাবপত্র সোনা-রুপার বানিয়ে দিতেন। কেননা তা তো ধ্বংস ও নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার বস্তু। প্রকৃত সম্পদ হল আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও আখেরাতের স্থায়ী জীবনের সুখণ্ডশান্তি আর তা কেবল মুত্তাকীগণই লাভ করবে। সুতরাং কুরআন কোন বিত্তবান ব্যক্তির উপর নাযিল হোক এটা বিলকুল অসার দাবি।


৩৬


وَمَنۡ یَّعۡشُ عَنۡ ذِکۡرِ الرَّحۡمٰنِ نُقَیِّضۡ لَہٗ شَیۡطٰنًا فَہُوَ لَہٗ قَرِیۡنٌ


ওয়া মাইঁ ইয়া‘শু ‘আন যিকরির রাহমা-নি নুকাইয়িদ লাহূশাইতা-নান ফাহুওয়া লাহূ কারীন।


Mufti Taqi Usmani

Whoever makes himself blind against the advice of RaHmān, We assign for him a devil who accompanies him all the time.


মুফতী তাকী উসমানী

যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর যিকির থেকে অন্ধ হয়ে যাবে, তার জন্য নিয়োজিত করি এক শয়তান, যে তার সঙ্গী হয়ে যায়। ১৫


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্যে এক শয়তান নিয়োজিত করে দেই, অতঃপর সে-ই হয় তার সঙ্গী।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহ্ র স্মরণে বিমুখ হয় আমি তার জন্যে নিয়োজিত করি এক শয়তান, এরপর সে-ই হয় তার সহচর।


মাওলানা জহুরুল হক

আর যে পরম করুণাময়ের স্মরণ থেকে বেখেয়াল হয় তার জন্য আমরা ধার্য করি একজন শয়তান, ফলে সে হয় তার জন্য একটি সহচর।


তাফসীরঃ

১৫. এর দ্বারা জানা গেল নিশ্চিন্তে পাপ করতে থাকা ও সেজন্য অনুতপ্ত না হওয়া অতি গুরুতর ব্যাপার। তার একটা কুফল এই যে, শয়তান তার উপর চড়াও হয় এবং তাকে পুণ্যের কাজে আসতে না দিয়ে সর্বদা পাপ-কর্মে মগ্ন রাখে। এভাবে সে একজন পাপিষ্ঠরূপে জীবন যাপন করতে থাকে আল্লাহ তাআলা আমাদের রক্ষা করুন।


৩৭


وَاِنَّہُمۡ لَیَصُدُّوۡنَہُمۡ عَنِ السَّبِیۡلِ وَیَحۡسَبُوۡنَ اَنَّہُمۡ مُّہۡتَدُوۡنَ


ওয়া ইন্নাহুম লাইয়াসুদ্দূনাহুম ‘আনিছছাবীলি ওয়া ইয়াহছাবূনা আন্নাহুম মুহতাদূন।


Mufti Taqi Usmani

And they (the devils) prevent such people from the (right) way, while they deem themselves to be on the right path,


মুফতী তাকী উসমানী

তারা (অর্থাৎ শয়তানেরা) তাদেরকে সৎপথ থেকে বিরত রাখে আর তারা মনে করে আমরা সঠিক পথেই আছি।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

শয়তানরাই মানুষকে সৎপথে বাধা দান করে, আর মানুষ মনে করে যে, তারা সৎপথে রয়েছে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

শয়তানেরাই মানুষকে সৎপথ হতে বিরত রাখে, অথচ মানুষ মনে করে তারা সৎপথে পরিচালিত হচ্ছে।


মাওলানা জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ তারা তাদের পথ থেকে অবশ্যই ফিরিয়ে রাখে, অথচ তারা মনে করে যে তারা সৎপথে চালিত হচ্ছে, --


৩৮


حَتّٰۤی اِذَا جَآءَنَا قَالَ یٰلَیۡتَ بَیۡنِیۡ وَبَیۡنَکَ بُعۡدَ الۡمَشۡرِقَیۡنِ فَبِئۡسَ الۡقَرِیۡنُ


হাত্তাইযা-জাআনা কা-লা ইয়া-লাইতা বাইনী ওয়া বাইনাকা বু‘দাল মাশরিকাইনি ফাবি‘ছাল কারীন।


Mufti Taqi Usmani

until when such a person will come to us, he will say (to the devil), “Would that there were the distance of East and West between me and you, because you were the worst companion.”


মুফতী তাকী উসমানী

পরিশেষে এরূপ ব্যক্তি যখন আমার কাছে আসবে তখন (সে তার সঙ্গী শয়তানকে) বলবে, আহা! আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব ও পশ্চিমের ব্যবধান থাকত। কেননা তুমি বড় মন্দ সঙ্গী ছিলে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অবশেষে যখন সে আমার কাছে আসবে, তখন সে শয়তানকে বলবে, হায়, আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব-পশ্চিমের দূরত্ব থাকত। কত হীন সঙ্গী সে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অবশেষে যখন সে আমার নিকট উপস্থিত হবে, তখন সে শয়তানকে বলবে, ‘হায়! আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব ও পশ্চিমের ব্যবধান থাকত!’ কত নিকৃষ্ট সহচর সে !


মাওলানা জহুরুল হক

যে পর্যন্ত না সে আমাদের কাছে আসে তখন সে বলবে -- "হায় আফসোস! আমার মধ্যে ও তোমার মধ্যে যদি দূরত্ব হতো দুটি পূর্বাঞ্চলের! সুতরাং কত নিকৃষ্ট সহচর!"


৩৯


وَلَنۡ یَّنۡفَعَکُمُ الۡیَوۡمَ اِذۡ ظَّلَمۡتُمۡ اَنَّکُمۡ فِی الۡعَذَابِ مُشۡتَرِکُوۡنَ


ওয়া লাইঁ ইয়ানফা‘আকুমুল ইয়াওমা ইযজালামতুম আন্নাকুম ফিল ‘আযা-বি মুশতারিকূন।


Mufti Taqi Usmani

And (it will be said to such people,) “Since you were wrongdoers, it will never benefit you today that you are sharing the punishment with each other.”


মুফতী তাকী উসমানী

আজ একথা কিছুতেই তোমাদের কোন উপকারে আসবে না, যেহেতু তোমরা সীমালংঘন করেছিলে। তোমরা শাস্তিতে একে অন্যের অংশীদার। ১৬


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমরা যখন কুফর করছিলে, তখন তোমাদের আজকের আযাবে শরীক হওয়া কোন কাজে আসবে না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর আজ তোমাদের এই অনুতাপ তোমাদের কোন কাজেই আসবে না, যেহেতু তোমরা সীমালংঘন করেছিলে ; তোমরা তো সকলেই শাস্তিতে শরীক।


মাওলানা জহুরুল হক

আর -- "যেহেতু তোমরা অন্যায়াচরণ করেছিলে তাই শাস্তিভোগের মধ্যে তোমরা অংশীদার হওয়া সত্ত্বেওে আজকের দিনে তোমাদের কোনো ফায়দা হবে না।"


তাফসীরঃ

১৬. দুনিয়ার নিয়ম হল একই কষ্ট একত্রে একাধিক ব্যক্তি ভোগ করলে তাতে প্রত্যেকের মনে কষ্টের অনুভূতি একটু লাঘব হয়। এই ভেবে প্রত্যেকে একটু সান্তনা বোধ করে যে, কষ্ট আমি একা পাচ্ছি না, অন্যেও আমার সঙ্গে শরীক আছে। কিন্তু জাহান্নামের ব্যাপার এর বিপরীত। সেখানে প্রত্যেকের কষ্ট এত বেশি হবে যে, সেই শাস্তিতে অন্যকে লিপ্ত দেখলেও কষ্টবোধ বিন্দুমাত্র লাঘব হবে না।


৪০


اَفَاَنۡتَ تُسۡمِعُ الصُّمَّ اَوۡ تَہۡدِی الۡعُمۡیَ وَمَنۡ کَانَ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ


আফাআনতা তুছমি‘উস সুম্মা আও তাহ দিল ‘উমইয়া ওয়া মান কা-না ফী দালা-লিম মুবীন।


Mufti Taqi Usmani

So, can you (O prophet) make the deaf to hear, or can you show the way to the blind and the one who is in open error?


মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি কি বধিরকে শোনাতে পারবে কিংবা অন্ধ এবং যারা সুস্পষ্ট গোমরাহীতে লিপ্ত তাদেরকে সুপথে আনতে পারবে?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আপনি কি বধিরকে শোনাতে পারবেন? অথবা যে অন্ধ ও যে স্পষ্ট পথ ভ্রষ্টতায় লিপ্ত, তাকে পথ প্রদর্শণ করতে পারবেন?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি কি শোনাতে পারবে বধিরকে বা যে অন্ধ ও যে ব্যক্তি স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছে, তাকে কি পারবে সৎপথে পরিচালিত করতে ?


মাওলানা জহুরুল হক

কি! তুমি কি তবে বধিরকে শোনাতে পারবে, অথবা অন্ধকে এবং যে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে তাকে পথ দেখাতে পারবে?


৪১


فَاِمَّا نَذۡہَبَنَّ بِکَ فَاِنَّا مِنۡہُمۡ مُّنۡتَقِمُوۡنَ ۙ


ফাইম্মা-নাযহাবান্না বিকা ফাইন্না-মিনহুম মুনতাকিমূন।


Mufti Taqi Usmani

So, even if We take you away, We will surely take vengeance on them.


মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং আমি হয়ত তোমাকে দুনিয়া থেকে তুলে নেব, তারপর তাদেরকে শাস্তিদান করব


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর আমি যদি আপনাকে নিয়ে যাই, তবু আমি তাদের কাছে থেকে প্রতিশোধ নেব।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি যদি তোমাকে নিয়ে যাই, তবু আমি এদেরকে শাস্তি দিব ;


মাওলানা জহুরুল হক

কিন্ত আমরা যদি তোমাকে নিয়ে নিই, আমরা তবুও তাদের থেকে শেষ-পরিণতি আদায় করব,


৪২


اَوۡ نُرِیَنَّکَ الَّذِیۡ وَعَدۡنٰہُمۡ فَاِنَّا عَلَیۡہِمۡ مُّقۡتَدِرُوۡنَ


আও নুরিইয়ান্নাকাল্লাযী ওয়া ‘আদনা-হুম ফাইন্না ‘আলাইহিম মুকতাদিরূন।


Mufti Taqi Usmani

Or (if) We show you (in your life) that (punishment) with which We have threatened them, then We have full control over them.


মুফতী তাকী উসমানী

কিংবা তোমাকেও তা (অর্থাৎ সেই শাস্তি) দেখিয়ে দেব, যার ওয়াদা আমি তাদের সাথে করেছি। তাদের উপর তো আমার (দু’টির যে-কোনটি করার) পূর্ণ ক্ষমতা আছে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অথবা যদি আমি তাদেরকে যে আযাবের ওয়াদা দিয়েছি, তা আপনাকে দেখিয়ে দেই, তবু তাদের উপর আমার পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অথবা আমি এদেরকে যে শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করেছি, আমি তোমাকে তা প্রত্যক্ষ করাই, বস্তুত এদের ওপর আমার তো পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে।


মাওলানা জহুরুল হক

অথবা আমরা নিশ্চয় তোমাকে দেখিয়ে দেব যা আমরা তাদের ওয়াদা করেছিলাম, কেননা আমরা আলবৎ তাদের উপরে ক্ষমতাবান।


৪৩


فَاسۡتَمۡسِکۡ بِالَّذِیۡۤ اُوۡحِیَ اِلَیۡکَ ۚ اِنَّکَ عَلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ


ফাছতামছিক বিল্লাযীঊহিয়া ইলাইকা ইন্নাকা ‘আলা-সিরা-তিম মুছতাকীম।


Mufti Taqi Usmani

So, hold fast to that which has been revealed to you. Surely, you are on the straight path.


মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং তোমার প্রতি যে ওহী নাযিল করা হয়েছে, তা দৃঢ়ভাবে ধরে রাখ। নিশ্চয়ই তুমি সরল পথে আছ।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতএব, আপনার প্রতি যে ওহী নাযিল করা হয়, তা দৃঢ়ভাবে অবলম্বন করুন। নিঃসন্দেহে আপনি সরল পথে রয়েছেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুতরাং তোমার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তা দৃঢ়ভাবে অবলম্বন কর। তুমি সরল পথেই রহিয়াছ।


মাওলানা জহুরুল হক

সেজন্য তোমার কাছে যা প্রত্যাদেশ দেওয়া হচ্ছে তাতে আঁকড়ে ধরো। নিঃসন্দেহ তুমি সরল-সঠিক পথের উপরে রয়েছো।


৪৪


وَاِنَّہٗ لَذِکۡرٌ لَّکَ وَلِقَوۡمِکَ ۚ وَسَوۡفَ تُسۡـَٔلُوۡنَ


ওয়া ইন্নাহূলাযিকরুল্লাকা ওয়া লিকাওমিকা ওয়া ছাওফা তুছআলূন।


Mufti Taqi Usmani

And certainly this (Qur’ān) is a word of honour for you and your people, and you will be questioned.


মুফতী তাকী উসমানী

বস্তুত এ ওহী তোমার ও তোমার কওমের জন্য সুখ্যাতির উপায়। তোমাদের সকলকে জিজ্ঞেস করা হবে (তোমরা এর কী হক আদায় করেছ?)।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এটা আপনার ও আপনার সম্প্রদায়ের জন্যে উল্লেখিত থাকবে এবং শীঘ্রই আপনারা জিজ্ঞাসিত হবেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কুরআন তো তোমার ও তোমার সম্প্রদায়ের জন্যে সম্মানের বস্তু ; তোমাদেরকে অবশ্যই এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে।


মাওলানা জহুরুল হক

আর এইটি নিশ্চয়ই তো একটি স্মরণীয় গ্রন্থ তোমার জন্য ও তোমার লোকদের জন্য, আর শীঘ্রই তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।


৪৫


وَسۡـَٔلۡ مَنۡ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ قَبۡلِکَ مِنۡ رُّسُلِنَاۤ اَجَعَلۡنَا مِنۡ دُوۡنِ الرَّحۡمٰنِ اٰلِـہَۃً یُّعۡبَدُوۡنَ ٪


ওয়াছআল মান আরছালনা-মিন কাবলিকা মিররুছুলিনাআজা‘আলনা-মিন দূনিররাহমা-নি আ-লিহাতাইঁ ইউ‘বাদূন।


Mufti Taqi Usmani

Ask Our messengers whom We sent before you whether We had appointed gods to be worshipped besides RaHmān.


মুফতী তাকী উসমানী

তোমার আগে আমি যে রাসূলগণকে পাঠিয়েছি, তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, ১৭ আমি কি দয়াময় আল্লাহ ছাড়া আরও কোন মাবুদ স্থির করেছিলাম, যাদের ইবাদত করা যায়?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আপনার পূর্বে আমি যেসব রসূল প্রেরণ করেছি, তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন, দয়াময় আল্লাহ ব্যতীত আমি কি কোন উপাস্য স্থির করেছিলাম এবাদতের জন্যে?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার পূর্বে আমি যে সকল রাসূল প্রেরণ করেছিলাম তাদেরকে তুমি জিজ্ঞাসা কর, আমি কি দয়াময় আল্লাহ্ ব্যতীত কোন দেবতা স্থির করেছিলাম যার ‘ইবাদত করা যায় ?


মাওলানা জহুরুল হক

আর তোমার আগে আমাদের রসূলদের মধ্যের যাঁদের আমরা পাঠিয়েছিলাম তাঁদের জিজ্ঞেস করো -- আমরা কি পরম করুণাময়কে বাদ দিয়ে উপাসনার জন্য উপাস্যদের দাঁড় করিয়েছিলাম?


তাফসীরঃ

১৭. অর্থাৎ তোমার পূর্ববর্তী নবীগণের উপর যে কিতাব নাযিল হয়েছিল, তা দেখে নাও যে, তাদেরকে কী শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল? (নিঃসন্দেহে তোমার মত তাদেরকেও তাওহীদেরই শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল। কোন নবীর শিক্ষায় শিরকের কোন স্থান নেই। -অনুবাদক)


৪৬


وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا مُوۡسٰی بِاٰیٰتِنَاۤ اِلٰی فِرۡعَوۡنَ وَمَلَا۠ئِہٖ فَقَالَ اِنِّیۡ رَسُوۡلُ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ

(ads2)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#f50707)

ওয়া লাকাদ আরছালনা-মূছা-বিআ-য়া-তিনাইলা-ফিরআ‘ওনা ওয়া মালাইহী ফাকা-লা ইন্নী রাছূলুরাব্বিল ‘আ-লামীন।


Mufti Taqi Usmani

We sent Mūsā with Our signs to Fir’aun (Pharaoh) and his chiefs; so he said, “I am the messenger of the Lord of the worlds.”


মুফতী তাকী উসমানী

আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলীসহ ফির‘আউন ও তার অমাত্যবর্গের কাছে পাঠিয়েছিলাম। সে তাদেরকে বলেছিল, আমি রাব্বুল আলামীনের প্রেরিত রাসূল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলী দিয়ে ফেরাউন ও তার পরিষদবর্গের কাছে প্রেরণ করেছিলাম, অতঃপর সে বলেছিল, আমি বিশ্ব পালনকর্তার রসূল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসাকে তো আমি আমার নিদর্শনসহ ফির‘আওন ও তার পারিষদবর্গের নিকট পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, ‘আমি তো জগতসমূহের প্রতিপালকের প্রেরিত।’


মাওলানা জহুরুল হক

আর আমরা নিশ্চয় মূসাকে আমাদের নির্দেশাবলী দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম ফির'আউন ও তার প্রধানদের কাছে, কাজেই তিনি বলেছিলেন -- "আমি নিশ্চয় বিশ্বজগতের প্রভুর বাণীবাহক।"


৪৭


فَلَمَّا جَآءَہُمۡ بِاٰیٰتِنَاۤ اِذَا ہُمۡ مِّنۡہَا یَضۡحَکُوۡنَ


ফালাম্মা-জাআহুম বিআ-য়া-তিনাইযা হুম মিনহা-ইয়াদহাকূন।


Mufti Taqi Usmani

So, when he came to them with Our signs, they at once started laughing at them.


মুফতী তাকী উসমানী

অনন্তর সে যখন তাদের সামনে আমার নিদর্শনসমূহ পেশ করল, অমনি তারা তা নিয়ে ঠাট্টা করতে লাগল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর সে যখন তাদের কাছে আমার নিদর্শনাবলী উপস্থাপন করল, তখন তারা হাস্যবিদ্রুপ করতে লাগল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে এদের নিকট আমার নিদর্শনসহ আসা মাত্র এরা তা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করতে লাগল।


মাওলানা জহুরুল হক

কিন্ত যখন তিনি আমাদের নির্দেশাবলী নিয়ে তাদের কাছে এলেন তখন দেখো, তারা এসব নিয়ে হাসিঠাট্টা করতে লাগল।


৪৮


وَمَا نُرِیۡہِمۡ مِّنۡ اٰیَۃٍ اِلَّا ہِیَ اَکۡبَرُ مِنۡ اُخۡتِہَا ۫ وَاَخَذۡنٰہُمۡ بِالۡعَذَابِ لَعَلَّہُمۡ یَرۡجِعُوۡنَ


ওয়ামা-নূরীহিম মিন আ-য়া-তিন ইল্লা-হিয়া আকবারু মিন উখতিহা- ওয়া আখাযনা-হুম বিল ‘আযা-বি লা‘আল্লাহুম ইয়ারজি‘ঊন।


Mufti Taqi Usmani

And We did not show them a sign, but it used to be greater than the one that preceded it. And We seized them with punishment, so that they may return.


মুফতী তাকী উসমানী

আমি তাদেরকে যে নিদর্শনই দেখাতাম, তা তার আগের নিদর্শন অপেক্ষা বড় হত। আমি তাদেরকে শাস্তিও দিলাম, যাতে তারা ফিরে আসে। ১৮


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি তাদেরকে যে নিদর্শনই দেখাতাম, তাই হত পূর্ববর্তী নিদর্শন অপেক্ষা বৃহৎ এবং আমি তাদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলাম, যাতে তারা ফিরে আসে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি এদেরকে এমন কোন নিদর্শন দেখাই নাই যা এর অনুরূপ নিদর্শন অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ নয়। আমি এদেরকে শাস্তি দিলাম যাতে এরা প্রত্যাবর্তন করে।


মাওলানা জহুরুল হক

আর আমরা তাদের এমন কোনো নিদর্শন দেখাই নি যা ছিল না তার ভগিনী থেকে আরো বড়, আর আমরা তাদের পাকড়াও করেছিলাম শাস্তি দিয়ে যেন তারা ফিরে আসে।


তাফসীরঃ

১৮. মিসরবাসীকে উপর্যুপরি বিভিন্ন বালা-মুসিবতে আক্রান্ত করা হয়েছিল। আয়াতের ইশারা তারই দিকে। সূরা আরাফে (৭ : ১৩৩-১৩৫) তা বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।


৪৯


وَقَالُوۡا یٰۤاَیُّہَ السّٰحِرُ ادۡعُ لَنَا رَبَّکَ بِمَا عَہِدَ عِنۡدَکَ ۚ اِنَّنَا لَمُہۡتَدُوۡنَ


ওয়াকা-লূইয়াআইয়ুহাছছা-হিরুদ‘উলানা-রাব্বাকা বিমা-‘আহিদা ‘ইনদাকা ইন্নানালামুহতাদূ ন।


Mufti Taqi Usmani

And they said, “O magician, pray for us to your Lord by the covenant He has made with you; we will certainly come to guidance.”


মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলতে লাগল, হে যাদুকর! তোমার প্রতিপালক তোমাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার অছিলা দিয়ে তাঁর কাছে আমাদের জন্য দুআ কর। নিশ্চয়ই আমরা সুপথে চলে আসব।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা বলল, হে যাদুকর, তুমি আমাদের জন্যে তোমার পালনকর্তার কাছে সে বিষয় প্রার্থনা কর, যার ওয়াদা তিনি তোমাকে দিয়েছেন; আমরা অবশ্যই সৎপথ অবলম্বন করব।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা বলেছিল, হে জাদুকর! তোমার প্রতিপালকের নিকট তুমি আমাদের জন্যে তা প্রার্থনা কর যা তিনি তোমার সঙ্গে অঙ্গীকার করেছেন, তা হলে আমরা অবশ্যই সৎপথ অবলম্বন করব।’


মাওলানা জহুরুল হক

আর তারা বলেছিল -- "ওহে জাদুকর! তোমার প্রভুকে আমাদের জন্য ডাকো যেমন তিনি তোমার কাছে অংগীকার করেছিলেন, আমরা অবশ্যই তখন সৎপথাবলন্বী হব।"


৫০


فَلَمَّا کَشَفۡنَا عَنۡہُمُ الۡعَذَابَ اِذَا ہُمۡ یَنۡکُثُوۡنَ


ফালাম্মা-কাশাফনা-‘আনহুমুল ‘আযা-বা ইযা-হুম ইয়ানকুছূ ন।


Mufti Taqi Usmani

Then, once We removed the punishment from them, in no time they broke their promise.


মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর আমি যখন তাদের থেকে শাস্তি অপসারিত করতাম, অমনি তারা ওয়াদা ভঙ্গ করত।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর যখন আমি তাদের থেকে আযাব প্রত্যাহার করে নিলাম, তখনই তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করতে লাগলো।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরপর যখন আমি এদের হতে শাস্তি বিদূরিত করলাম তখনই এরা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে বসল।


মাওলানা জহুরুল হক

তারপর আমরা যখন তাদের থেকে শাস্তিটা সরিয়ে নিলাম তখন দেখো! তারা অংগীকার ভঙ্গ করে বসল।


৫১


وَنَادٰی فِرۡعَوۡنُ فِیۡ قَوۡمِہٖ قَالَ یٰقَوۡمِ اَلَیۡسَ لِیۡ مُلۡکُ مِصۡرَ وَہٰذِہِ الۡاَنۡہٰرُ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِیۡ ۚ  اَفَلَا تُبۡصِرُوۡنَ ؕ


ওয়ানা-দা-ফির‘আওনুফী কাওমিহী কা-লা ইয়া-কাওমি আলাইছা লী মুলকুমিসরা ওয়া হাযিহিল আনহা-রু তাজরী মিন তাহতী আফালা-তুবসিরূন।


Mufti Taqi Usmani

And Fir’aun (Pharaoh) proclaimed among his people, saying, “Does not the kingdom of Egypt belong to me, and these rivers are flowing right underneath me? Do you, then, not discern?


মুফতী তাকী উসমানী

ফির‘আউন তার সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বলে ঘোষণা করল, হে আমার কওম! মিসরের রাজত্ব কি আমার হাতে নয়? এবং (দেখ) এইসব নদ-নদী আমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তোমরা কি দেখতে পাচ্ছ না? ১৯


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ফেরাউন তার সম্প্রদায়কে ডেকে বলল, হে আমার কওম, আমি কি মিসরের অধিপতি নই? এই নদী গুলো আমার নিম্নদেশে প্রবাহিত হয়, তোমরা কি দেখ না?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন তার সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বলে ঘোষণা করল, হে আমার সম্প্রদায় ! মিসর রাজ্য কি আমার নয় ? আর এই নদীগুলি আমার পাদদেশে প্রবাহিত ; তোমরা এটা দেখ না ?


মাওলানা জহুরুল হক

আর ফির'আউন তার লোকদলের মধ্যে ঘোষণা করে বললে -- "হে আমার স্বজাতি! মিশরের রাজ্য কি আমার নয়, আর এইসব নদনদী যা আমার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে? তোমরা কি তবে দেখতে পাচ্ছ না?


তাফসীরঃ

১৯. অর্থাৎ তোমরা কি দেখছ না কত বড় আমার রাজত্ব ও ঐশ্বর্য এবং কী বিপুল আমার ক্ষমতা আর আমার বিপরীতে কত ক্ষুদ্র এই মূসা? এবার তোমরাই বল, তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ কী আমার মতো সম্রাটের পক্ষে শোভা পায় এবং এটা কি কোনো যুক্তির কথা? বস্তুত ক্ষমতা ও ঐশ্বর্যের মোহ এভাবেই মানুষের অন্তর্দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করে রাখে। ফলে সত্যগ্রহণের নসীব তার হয় না। -অনুবাদক


৫২


اَمۡ اَنَا خَیۡرٌ مِّنۡ ہٰذَا الَّذِیۡ ہُوَ مَہِیۡنٌ ۬ۙ وَّلَا یَکَادُ یُبِیۡنُ


আম আনা খাইরুম মিন হা-যাল্লাযী হুওয়া মাহীনুওঁ ওয়ালা-ইয়াকা-দুইউবীন।


Mufti Taqi Usmani

Or (do you not see that) I am much better than this one (Mūsā) who is worthless and can hardly express himself?


মুফতী তাকী উসমানী

বরং আমিই ওই ব্যক্তি অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, যে অতি হীন এবং পরিষ্কার করে কথা বলাও যার পক্ষে কঠিন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি যে শ্রেষ্ট এ ব্যক্তি থেকে, যে নীচ এবং কথা বলতেও সক্ষম নয়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তো শ্রেষ্ঠ এই ব্যক্তি হতে, যে হীন এবং স্পষ্ট কথা বলতেও অক্ষম !


মাওলানা জহুরুল হক

"বস্তুতঃ আমি বেশি ভাল এর চেয়ে যে স্বয়ং হীন-ঘৃণ্য, ও স্পষ্টবাদিতার যার ক্ষমতা নেই।


৫৩


فَلَوۡلَاۤ اُلۡقِیَ عَلَیۡہِ اَسۡوِرَۃٌ مِّنۡ ذَہَبٍ اَوۡ جَآءَ مَعَہُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ مُقۡتَرِنِیۡنَ


ফালাওলাউলকিয়া ‘আলাইহি আছবিরাতুমমিনযাহাবিন আও জাআ মা‘আহুল মালাইকাতুমুকতারিনীন।


Mufti Taqi Usmani

So why were the bracelets of gold not sent down to him, or (why) did the angels not come along with him as companions?”


মুফতী তাকী উসমানী

আচ্ছা, (সে যদি নবী হয়, তবে) তাকে কেন সোনার কাঁকন দেওয়া হল না। কিংবা তার সাথে দলবদ্ধভাবে ফেরেশতা আসল না কেন?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তাকে কেন স্বর্ণবলয় পরিধান করানো হল না, অথবা কেন আসল না তার সঙ্গে ফেরেশতাগণ দল বেঁধে?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘মূসাকে কেন দেওয়া হল না স্বর্ণ-বলয় বা তার সঙ্গে কেন এলো না ফেরেশতাগণ দলবদ্ধভাবে ?’


মাওলানা জহুরুল হক

তবে কেন সোনার কঙ্কন তার প্রতি ছোড়া হল না, অথবা তার সঙ্গে কেন ফিরিশতারা এল না সারিবদ্ধভাবে।


৫৪


فَاسۡتَخَفَّ قَوۡمَہٗ فَاَطَاعُوۡہُ ؕ اِنَّہُمۡ کَانُوۡا قَوۡمًا فٰسِقِیۡنَ


ফাছতাখাফফা কাওমাহূফাআতা-‘ঊহু ইন্নাহুম কা-নূকাওমান ফা-ছিকীন।


Mufti Taqi Usmani

Thus he made fool of his people, and they obeyed him. Surely they were a sinful people.


মুফতী তাকী উসমানী

এভাবেই সে নিজ সম্প্রদায়কে বেকুব বানাল এবং তারাও তার কথা মেনে নিল। প্রকৃতপক্ষে তারা সকলে ছিল পাপিষ্ঠ সম্প্রদায়। ২০


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর সে তার সম্প্রদায়কে বোকা বানিয়ে দিল, ফলে তারা তার কথা মেনে নিল। নিশ্চয় তারা ছিল পাপাচারী সম্প্রদায়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এইভাবে সে তার সম্প্রদায়কে হতবুদ্ধি করে দিল, ফলে এরা তার কথা মেনে নিল। এরা তো ছিল এক সত্যত্যাগী সম্প্রদায়।


মাওলানা জহুরুল হক

এইভাবে সে তার স্বজাতিকে ধাপ্পা দিয়েছিল, ফলে তারা তাকে মেনে চলল। নিঃসন্দেহ তারা ছিল সীমালংঘনকারী জাতি।


তাফসীরঃ

২০. এ আয়াতে যেমন ফির‘আউনকে, তেমনি তার কওমকেও গুনাহগার বলা হয়েছে। ফির‘আউনকে গুনাহগার বলার কারণ, সে তার রাজত্বকে ঈশ্বরত্বের নিদর্শন সাব্যস্ত করে নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবি করেছিল এবং এভাবে সে নিজ সম্প্রদায়কে বেকুব বানিয়েছিল। তার সম্প্রদায়কে গুনাহগার বলা হয়েছে এ কারণে যে, তারা এরূপ চরম বিভ্রান্ত ব্যক্তিকে নিজেদের রাজা মেনেনিয়েছিল এবং যাবতীয় গোমরাহী কাজে তার অনুসরণ করেছিল। এর দ্বারা জানা গেল, কোন পথভ্রষ্ট লোক যদি কোন জাতির উপর আধিপত্য বিস্তার করে আর তারা তার পতন ঘটানোর চেষ্টা করার পরিবর্তে তার প্রতিটি অন্যায় কাজে তার আনুগত্য করে যায়, তবে তার মত তারাও সমান অপরাধী সাব্যস্ত হবে।


৫৫


فَلَمَّاۤ اٰسَفُوۡنَا انۡتَقَمۡنَا مِنۡہُمۡ فَاَغۡرَقۡنٰہُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ ۙ


ফালাম্মাআ-ছাফূনানতাকামনা-মিনহুম ফাআগরাকনা-হুম আজমা‘ঈন।


Mufti Taqi Usmani

So, when they provoked Our anger, We took vengeance on them, and drowned them all together,


মুফতী তাকী উসমানী

তারা যখন আমাকে অসন্তুষ্ট করল আমি তাদেরকে শাস্তি দিলাম এবং তাদেরকে করলাম নিমজ্জিত।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর যখন আমাকে রাগাম্বিত করল তখন আমি তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিলাম এবং নিমজ্জত করলাম। তাদের সবাইকে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন এরা আমাকে ক্রোধান্বিত করল আমি এদেরকে শাস্তি দিলাম এবং নিমজ্জিত করলাম এদের সকলকে।


মাওলানা জহুরুল হক

অতএব তারা যখন আমাদের রাগিয়ে তুললো তখন আমরা তাদের থেকে শেষ-পরিণতি গ্রহণ করলাম, ফলে তাদের একসঙ্গে ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।


৫৬


فَجَعَلۡنٰہُمۡ سَلَفًا وَّمَثَلًا لِّلۡاٰخِرِیۡنَ ٪


ফাজা‘আলনা-হুম ছালাফাওঁ ওয়া মাছালালিলল আ-খিরীন।


Mufti Taqi Usmani

and made them a people of the past, and an example for the later generations.


মুফতী তাকী উসমানী

এবং তাদেরকে বানিয়ে দিলাম এক বিগত জাতি এবং অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর আমি তাদেরকে করে দিলাম অতীত লোক ও দৃষ্টান্ত পরবর্তীদের জন্যে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তৎপর পরবর্তীদের জন্যে আমি এদেরকে করে রাখলাম অতীত ইতিহাস ও দৃষ্টান্ত।


মাওলানা জহুরুল হক

সুতরাং আমরা তাদের বানিয়ে দিয়েছিলাম এক অতীত ইতিহাস এবং পরবর্তীদের জন্য এক দৃষ্টান্ত।


৫৭


وَلَمَّا ضُرِبَ ابۡنُ مَرۡیَمَ مَثَلًا اِذَا قَوۡمُکَ مِنۡہُ یَصِدُّوۡنَ


ওয়ালাম্মা-দুরিবাবনুমারইয়ামা মাছালান ইযা-কাওমুকা মিনহু ইয়াসিদ্দূন।


Mufti Taqi Usmani

When the example of the son of Maryam was cited, your people started at once shouting at it (in joy),


মুফতী তাকী উসমানী

যখন (ঈসা) ইবনে মারয়ামের উদাহরণ দেওয়া হল, অমনি তোমার সম্প্রদায় তা নিয়ে হৈ-চৈ শুরু করে দিল। ২১


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখনই মরিয়ম তনয়ের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করা হল, তখনই আপনার সম্প্রদায় হঞ্জগোল শুরু করে দিল


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন মারইয়াম-তনয়ের দৃষ্টান্ত উপস্থিত করা হয়, তখন তোমার সম্প্রদায় তাতে শোরগোল আরম্ভ করে দেয়,


মাওলানা জহুরুল হক

আর যখন মরিয়মের পুত্রের দৃষ্টান্ত ছোঁড়া হয় তখন দেখো, তোমার স্বজাতি তাতে শোরগোল তোলে।


তাফসীরঃ

২১. মূর্তিপূজকদেরকে লক্ষ করে যখন সূরা আম্বিয়ার এক আয়াতে বলা হল, ‘নিশ্চিতভাবে জেনে রেখ, তোমরা এবং আল্লাহর পরিবর্তে যে উপাস্যদের পূজা তোমরা কর, সকলেই জাহান্নামের ইন্ধন (২১ : ৯৮), তখন এক কাফের তার উপর প্রশ্ন তুলল, বহু লোক হযরত ঈসা আলাইহিস সালামেরও উপাসনা করে। এ আয়াতের দাবি অনুযায়ী তিনিও কি তবে জাহান্নামের ইন্ধন? অথচ মুসলিমদের বিশ্বাস তিনি আল্লাহ তাআলার একজন মনোনীত নবী ছিলেন। তার এ কথা শুনে অন্যান্য কাফেরগণ আনন্দে হল্লা করে উঠল যে, এই ব্যক্তি বড় খাসা প্রশ্ন করেছে। অথচ তার প্রশ্নটি ছিল একেবারেই অবান্তর। কেননা আয়াতের সম্বোধন ছিল মূর্তিপূজকদের প্রতি, খ্রিস্টানদের প্রতি নয় এবং তাতে মূর্তি ছাড়া এমন লোকও আয়াতের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যারা মানুষকে নিজেদের উপাসনা করতে বলত। সুতরাং হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের কথা এর মধ্যে আসেই না। সে ঘটনার পটভূমিতেই আলোচ্য আয়াতসমূহ নাযিল হয়েছিল। এর শানে নুযুল সম্পর্কে অন্য রকম বর্ণনাও আছে। যেমন, এক কাফের বলেছিল, হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে যেমন আল্লাহর পুত্র সাব্যস্ত করা হয়েছে, তেমনি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও একদিন নিজেকে আল্লাহর পুত্র বলে ঘোষণা করবেন। তার সে মন্তব্যেও অন্যান্য কাফেরগণ খুশীতে চিৎকার করে উঠেছিল। তার জবাবে এ আয়াত নাযিল হয়। তবে উভয় বর্ণনার মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব নেই। অসম্ভব নয় যে, উভয় ঘটনাই ঘটেছিল এবং আল্লাহ তাআলা এ আয়াতের মাধ্যমে একত্রে উভয়েরই জবাব দিয়েছেন।


৫৮


وَقَالُوۡۤاءَ اٰلِہَتُنَا خَیۡرٌ اَمۡ ہُوَ ؕ مَا ضَرَبُوۡہُ لَکَ اِلَّا جَدَلًا ؕ بَلۡ ہُمۡ قَوۡمٌ خَصِمُوۡنَ


ওয়া কা-লূআ আ-লিহাতুনা-খাইরুন আম হুওয়া মা-দারাবূহু লাকা ইল্লা-জাদালান বাল হুম কাওমুন খাসিমূন।


Mufti Taqi Usmani

and said, “Are Our gods better or is he?” They did not cite it (the example) but for the sake of disputation. Rather, they are a quarrelsome people.


মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলল, আমাদের উপাস্যগণ শ্রেষ্ঠ, না সে? তারা কেবল কূটতর্কের জন্যই এ দৃষ্টান্ত তোমার সামনে পেশ করে। প্রকৃতপক্ষে তারা কলহপ্রিয় লোক।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং বলল, আমাদের উপাস্যরা শ্রেষ্ঠ, না সে? তারা আপনার সামনে যে উদাহরণ উপস্থাপন করে তা কেবল বিতর্কের জন্যেই করে। বস্তুতঃ তারা হল এক বিতর্ককারী সম্প্রদায়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং বলে, ‘আমাদের উপাস্যগুলি শ্রেষ্ঠ না ‘ঈসা ?’ এরা কেবল বাক-বিতণ্ডার উদ্দেশ্যেই তোমাকে এই কথা বলে। বস্তুত এরা তো এক বিতণ্ডাকারী সম্প্রদায়।


মাওলানা জহুরুল হক

আর তারা বলে -- "আমাদের দেবদেবীরা অধিকতর ভাল, না সে? তারা তোমার কাছে এ কথা তোলে না তর্কবিতর্ক করার জন্যে ব্যতীত? বস্তুত তারা হচ্ছে বিবাদপ্রিয় জাতি।


৫৯


اِنۡ ہُوَ اِلَّا عَبۡدٌ اَنۡعَمۡنَا عَلَیۡہِ وَجَعَلۡنٰہُ مَثَلًا لِّبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ ؕ


ইন হুওয়া ইল্লা- ‘আবদুন আন‘আমনা- ‘আলাইহি ওয়া জা‘আলনা-হুমাছালাল লিবানীইছরাঈল।


Mufti Taqi Usmani

He (‘Īsā) is no more than a servant (of Allah) whom We favoured and made an example for the children of Isrā’īl.


মুফতী তাকী উসমানী

সে (অর্থাৎ হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম) তো আমার এক বান্দাই ছিল, যার প্রতি আমি অনুগ্রহ করেছিলাম এবং বনী ইসরাঈলের জন্য তাকে বানিয়েছিলাম এক দৃষ্টান্ত।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সে তো এক বান্দাই বটে আমি তার প্রতি অনুগ্রহ করেছি এবং তাকে করেছি বণী-ইসরাঈলের জন্যে আদর্শ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে তো ছিল আমারই এক বান্দা, যাকে আমি অনুগ্রহ করেছিলাম এবং করেছিলাম বনী ইসরাঈলের জন্যে দৃষ্টান্ত।


মাওলানা জহুরুল হক

তিনি একজন বান্দা বৈ তো নন যাঁর প্রতি আমরা অনুগ্রহ করেছি, এবং তাঁকে আমরা ইসরাঈলের বংশধরদের জন্য আদর্শস্বরূপ বানিয়েছিলাম।


৬০


وَلَوۡ نَشَآءُ لَجَعَلۡنَا مِنۡکُمۡ مَّلٰٓئِکَۃً فِی الۡاَرۡضِ یَخۡلُفُوۡنَ


ওয়া লাও নাশাউ লাজা‘আলনা-মিনকুম মালাইকাতান ফিল আরদিইয়াখলুফূন।


Mufti Taqi Usmani

And if We will, We may create angels from you who succeed you on the earth.


মুফতী তাকী উসমানী

আমি চাইলে তোমাদের মধ্য হতে ফেরেশতা সৃষ্টি করতে পারতাম, যারা পৃথিবীতে একে অন্যের স্থলাভিষিক্ত হয়ে থাকত। ২২


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি ইচ্ছা করলে তোমাদের থেকে ফেরেশতা সৃষ্টি করতাম, যারা পৃথিবীতে একের পর এক বসবাস করত।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি ইচ্ছা করলে তোমাদের মধ্য হতে ফেরেশতা সৃষ্টি করতে পারতাম, যারা পৃথিবীতে উত্তরাধিকারী হত।


মাওলানা জহুরুল হক

আর আমরা যদি চাইতাম তবে নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের মধ্যে ফিরিশ্‌তাদের নিয়োগ করতাম পৃথিবীতে প্রতিনিধি হবার জন্য!


তাফসীরঃ

২২. হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের প্রসঙ্গ আসলে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে দিলেন যে, তিনি কখনও নিজেকে আল্লাহ বলে দাবি করেননি এবং আল্লাহ তাআলা তাঁকে নিজ পুত্রও সাব্যস্ত করেননি; বরং তিনি তাকে নিজ কুদরতের এক নিদর্শনরূপে পাঠিয়েছিলেন। তাঁকে সৃষ্টি করেছিলেন বিনা পিতায়। খ্রিস্টান সম্প্রদায় এ কারণেই তাঁকে আল্লাহর পুত্র বলে থাকে, অথচ বিনা পিতায় জন্ম নেওয়া ঈশ্বরত্বের প্রমাণ নয়। হযরত আদম আলাইহিস সালাম তো পিতা ও মাতা উভয় ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছিলেন। তাঁকে তো কেউ খোদা বলে না। প্রকৃতপক্ষে তাঁর জন্ম ছিল আল্লাহ তাআলার কুদরতের প্রকাশ। আল্লাহ তাআলা চাইলে এর চেয়েও আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটাতে পারেন। তিনি মানুষ থেকে ফেরেশতার জন্ম দিতে পারেন, যারা মানুষেরই মত একে অন্যের স্থলাভিষিক্ত হবে।


৬১


وَاِنَّہٗ لَعِلۡمٌ لِّلسَّاعَۃِ فَلَا تَمۡتَرُنَّ بِہَا وَاتَّبِعُوۡنِ ؕ ہٰذَا صِرَاطٌ مُّسۡتَقِیۡمٌ


ওয়া ইন্নাহূলা‘ইলমুল লিছছা-‘আতি ফালা-তামতারুন্না বিহা-ওয়াত্তাবি‘ঊনি হা-যাসিরাতুম মুছতাকীম।


Mufti Taqi Usmani

And he (‘Īsā) is a source of knowledge of the Hour (the Day of Judgment); so do not be in doubt about it, and follow me. This is the straight way.


মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই সে (অর্থাৎ ঈসা আলাইহিস সালাম) কিয়ামতের এক আলামত। ২৩ সুতরাং তোমরা সে সম্বন্ধে সন্দেহ করো না এবং আমার অনুসরণ কর। এটাই সরল পথ।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সুতরাং তা হল কেয়ামতের নিদর্শন। কাজেই তোমরা কেয়ামতে সন্দেহ করো না এবং আমার কথা মান। এটা এক সরল পথ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘ঈসা তো কিয়ামতের নিশ্চিত নিদর্শন; সুতরাং তোমরা কিয়ামতে সন্দেহ কর না এবং আমাকে অনুসরণ কর। এটাই সরল পথ।


মাওলানা জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ এ-ই হচ্ছে ঘড়িধন্টা সন্বন্ধে নিশ্চিত জ্ঞান; সুতরাং এ-সন্বন্ধে তোমরা সন্দেহ করো না, আর আমাকে অনুসরণ করো। এটিই হচ্ছে সহজ-সঠিক পথ।


তাফসীরঃ

২৩. অর্থাৎ বিনা পিতায় হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের জন্ম নেওয়াটা কিয়ামতে মানুষের পুনরায় জীবিত হওয়ারও একটা দলীল। কেননা পুনরায় জীবিত হওয়াকে কাফেরগণ কেবল এ কারণেই অস্বীকার করত যে, এটা অত্যন্ত বিস্ময়কর ও অস্বাভাবিক ব্যাপার। তো হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম যে বিনা পিতায় জন্মগ্রহণ করেছেন এটাও একটা বিস্ময়কর ও অস্বাভাবিক ব্যাপার ছিল, কিন্তু আল্লাহ তাআলার কুদরতে এটা ঘটেছে। এভাবেই আল্লাহ তাআলার কুদরতে মৃতগণ পুনরায় জীবিত হয়ে উঠবে। এটা আয়াতের এক ব্যাখ্যা। হযরত হাকীমুল উম্মত থানবী (রহ.) ‘বয়ানুল কুরআন’ গ্রন্থে এ ব্যাখ্যাই গ্রহণ করেছেন। অনেক মুফাসসির আয়াতটির ব্যাখ্যা করেছেন এ রকম যে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম কিয়ামতের অন্যতম আলামত। অর্থাৎ তিনি কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে আসমান থেকে পুনরায় পৃথিবীতে নেমে আসবেন। তাঁর পুনরায় আগমন দ্বারা বোঝা যাবে কিয়ামত খুব কাছে এসে গেছে।


৬২


وَلَا یَصُدَّنَّکُمُ الشَّیۡطٰنُ ۚ اِنَّہٗ لَکُمۡ عَدُوٌّ مُّبِیۡنٌ


ওয়ালা-ইয়াসুদ্দান্নাকুমুশ শাইতা-নু ইন্নাহূলাকুম ‘আদুওউম মুবীন।


Mufti Taqi Usmani

And let not the ShaiTān (Satan) prevent you (from following this way). He is surely an open enemy for you.


মুফতী তাকী উসমানী

শয়তান যেন কিছুতেই তোমাদেরকে এ পথ থেকে ফিরিয়ে রাখতে না পারে। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

শয়তান যেন তোমাদেরকে নিবৃত্ত না করে। সে তোমাদের প্রকাশ্য শুত্রু।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

শয়তান যেন তোমাদেরকে কিছুতেই নিবৃত্ত না করে, সে তো তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।


মাওলানা জহুরুল হক

আর শয়তান যেন তোমাদের কিছুতেই ফিরিয়ে না দেয়, নিঃসন্দেহ সে হচ্ছে তোমাদের জন্য প্রকাশ্য শত্রু।


৬৩


وَلَمَّا جَآءَ عِیۡسٰی بِالۡبَیِّنٰتِ قَالَ قَدۡ جِئۡتُکُمۡ بِالۡحِکۡمَۃِ وَلِاُبَیِّنَ لَکُمۡ بَعۡضَ الَّذِیۡ تَخۡتَلِفُوۡنَ فِیۡہِ ۚ فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوۡنِ


ওয়া লাম্মা-জাআ ‘ঈছা-বিলবাইয়িনা-তি কা-লা কাদ জি’তুকুম বিলহিকমাতি ওয়া লিউবাইয়িনা লাকুম বা‘দাল্লাযী তাখতালিফূনা ফীহি ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়াআতী‘ঊন।


Mufti Taqi Usmani

When ‘Īsā came with clear proofs, he said, “I have come to you with wisdom, and to explain to you some of those matters in which you differ. So, fear Allah, and obey me.


মুফতী তাকী উসমানী

যখন ঈসা সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আসল, তখন সে (মানুষকে) বলল, আমি তোমাদের কাছে নিয়ে এসেছি জ্ঞানের কথা এবং এসেছি তোমরা যেসব বিষয়ে মতভেদ কর, তা তোমাদের কাছে পরিষ্কার করে দেওয়ার জন্য। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ঈসা যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ আগমন করল, তখন বলল, আমি তোমাদের কাছে প্রজ্ঞা নিয়ে এসেছি এবং তোমরা যে, কোন কোন বিষয়ে মতভেদ করছ তা ব্যক্ত করার জন্যে এসেছি, অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার কথা মান।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘ঈসা যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ এলো তখন সে বলেছিল, ‘আমি তো তোমাদের নিকট এসেছি প্রজ্ঞাসহ এবং তোমরা যে কতক বিষয়ে মতভেদ করছো, তা স্পষ্ট করে দিবার জন্যে। সুতরাং তোমরা আল্লাহ্কে ভয় কর এবং আমার অনুসরণ কর।


মাওলানা জহুরুল হক

আর যখন ঈসা স্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে এলেন তখন তিনি বললেন -- "আমি তোমাদের কাছে জ্ঞান নিয়ে এসেছি, আর তোমরা যে-সব বিষয়ে মতভেদ করছ তার কোনো কোনোটি তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট করে দিতে, সুতরাং তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয়-ভক্তি করো ও আমাকে মেনে চল।


৬৪


اِنَّ اللّٰہَ ہُوَ رَبِّیۡ وَرَبُّکُمۡ فَاعۡبُدُوۡہُ ؕ ہٰذَا صِرَاطٌ مُّسۡتَقِیۡمٌ


ইন্নাল্লা-হা হুওয়া রাববী ওয়া রাব্বুকুম ফা‘বুদূ হু হা-যা-সিরাতুম মুছতাকীম।


Mufti Taqi Usmani

Surely, it is Allah who is my Lord and your Lord; so worship Him. This is the straight way.”


মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব্ব এবং তোমাদেরও রব্ব। সুতরাং তাঁরই ইবাদত কর। এটাই সরল পথ।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নিশ্চয় আল্লাহই আমার পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তাঁর এবাদত কর। এটা হল সরল পথ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আল্লাহ্ই তো আমার প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক, অতএব তোমরা তাঁর ‘ইবাদত কর ; এটাই সরল পথ।’


মাওলানা জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ -- তিনি আমার প্রভু ও তোমাদেরও প্রভু, সেজন্য তাঁরই উপাসনা কর। এটিই সহজ-সঠিক পথ।


৬৫


فَاخۡتَلَفَ الۡاَحۡزَابُ مِنۡۢ بَیۡنِہِمۡ ۚ فَوَیۡلٌ لِّلَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا مِنۡ عَذَابِ یَوۡمٍ اَلِیۡمٍ


ফাখতালাফাল আহঝা-বুমিম বাইনিহিম ফাওয়াইলুলিলল্লাযীনা জালামূমিন ‘আযা-বি ইয়াওমিন আলীম।


Mufti Taqi Usmani

Then different groups, out of them, fell into disagreement. Woe to the wrongdoers because of the punishment of a painful day!


মুফতী তাকী উসমানী

তারপরও তাদের মধ্যে কয়েকটি দল মতভেদ সৃষ্টি করল। সুতরাং সে জালেমদের জন্য আছে দুর্ভোগ যন্ত্রণাময় দিবসের শাস্তির।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর তাদের মধ্যে থেকে বিভিন্ন দল মতভেদ সৃষ্টি করল। সুতরাং যালেমদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক দিবসের আযাবের দুর্ভোগ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরপর এদের বিভিন্ন দল মতানৈক্য সৃষ্টি করল, সুতরাং জালিমদের জন্যে দুর্ভোগ মর্মন্তুদ দিবসের শাস্তির।


মাওলানা জহুরুল হক

কিন্ত বিভিন্ন দল নিজেদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি করল, কাজেই ধিক্ তাদের প্রতি যারা অন্যায়াচরণ করেছিল -- এক মর্মন্তুদ দিনের শাস্তির কারণে!


৬৬


ہَلۡ یَنۡظُرُوۡنَ اِلَّا السَّاعَۃَ اَنۡ تَاۡتِیَہُمۡ بَغۡتَۃً وَّہُمۡ لَا یَشۡعُرُوۡنَ


হাল ইয়ানজুরূনা ইল্লাছছা-‘আতা আন তা’তিয়াহুম বাগতাতাওঁ ওয়া হুম লা-ইয়াশ‘উরূন।


Mufti Taqi Usmani

They are waiting for nothing but for the Hour to come upon them suddenly, while they would not even imagine (it).


মুফতী তাকী উসমানী

তারা কেবল কিয়ামতের অপেক্ষা করছে যা এমন অকস্মাৎ তাদের সামনে এসে যাবে যে, তারা টেরও পাবে না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা কেবল কেয়ামতেরই অপেক্ষা করছে যে, আকস্মিকভাবে তাদের কাছে এসে যাবে এবং তারা খবর ও রাখবে না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা তো এদের অজ্ঞাতসারে আকস্মিকভাবে কিয়ামত আসারই অপেক্ষা করছে।


মাওলানা জহুরুল হক

তারা কি চেয়ে রয়েছে শুধু ঘড়িঘান্টার জন্য যেন তাদের উপরে এটি এসে পড়ে আকস্মিকভাবে যখন তারা টেরও না পায়।


৬৭


اَلۡاَخِلَّآءُ یَوۡمَئِذٍۭ بَعۡضُہُمۡ لِبَعۡضٍ عَدُوٌّ اِلَّا الۡمُتَّقِیۡنَ ؕ٪


আলআখিল্লাউ ইয়াওমাইযিম বা‘দুহুম লিবা‘দিন ‘আদুওউন ইল্লাল মুত্তাকীন।


Mufti Taqi Usmani

Friends, on that day, will become enemies to one another, except the God-fearing,


মুফতী তাকী উসমানী

সে দিন বন্ধুবর্গ একে অন্যের শত্রু হয়ে যাবে। কেবল মুত্তাকীগণ ছাড়া


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বন্ধুবর্গ সেদিন একে অপরের শত্রু হবে, তবে খোদাভীরুরা নয়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বন্ধুরা সেই দিন হয়ে পড়বে একে অপরের শত্রু, মুত্তাকীরা ব্যতীত।


মাওলানা জহুরুল হক

সেইদিন বন্ধুরা -- তাদের কেউ-কেউ অপরের শত্রু হয়ে পড়বে, তবে ধর্মপরায়ণরা ব্যতীত।


৬৮


یٰعِبَادِ لَا خَوۡفٌ عَلَیۡکُمُ الۡیَوۡمَ وَلَاۤ اَنۡتُمۡ تَحۡزَنُوۡنَ ۚ


ইয়া-‘ইবাদি লা-খাওফুন ‘আলাইকুমুল ইয়াওমা ওয়ালাআনতুম তাহঝানূন।


Mufti Taqi Usmani

(to whom it will be said) “O my servants, there is no fear for you today, nor will you grieve-


মুফতী তাকী উসমানী

(যাদেরকে লক্ষ করে বলা হবে) হে আমার বান্দাগণ! আজ তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা হবে না দুঃখিতও।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে আমার বান্দাগণ, তোমাদের আজ কোন ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিতও হবে না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে আমার বান্দাগণ! আজ তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিতও হবে না।


মাওলানা জহুরুল হক

"হে আমার বান্দারা! আজকের দিনে তোমাদের জন্য কোনো ভয় নেই আর তোমরা দুঃখও করবে না, --


৬৯


اَلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا بِاٰیٰتِنَا وَکَانُوۡا مُسۡلِمِیۡنَ ۚ


আল্লাযীনা আ-মানূবিআ-য়া-তিনা-ওয়া কা-নূমুছলিমীন।


Mufti Taqi Usmani

-O those (servants) who believed in Our signs, and remained obedient.


মুফতী তাকী উসমানী

(আমার সেই বান্দাগণ,) যারা আমার আয়াতসমূহে ঈমান এনেছিল এবং ছিল অনুগত!


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমরা আমার আয়াতসমূহে বিশ্বাস স্থাপন করেছিলে এবং তোমরা আজ্ঞাবহ ছিলে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যারা আমার আয়াতে বিশ্বাস করেছিল এবং আত্মসমর্পণ করেছিল-


মাওলানা জহুরুল হক

"যারা আমাদের নির্দেশাবলীতে বিশ্বাস করেছিলে এবং মুসলিম হয়েছিলে, --


৭০


اُدۡخُلُوا الۡجَنَّۃَ اَنۡتُمۡ وَاَزۡوَاجُکُمۡ تُحۡبَرُوۡنَ


উদখুলুল জান্নাতা আনতুম ওয়া আঝওয়া-জুকুম তুহবারূন।


Mufti Taqi Usmani

- Enter the Paradise, you and your spouses, showered with bliss.”


মুফতী তাকী উসমানী

তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর এবং তোমাদের স্ত্রীগণও আনন্দোজ্জ্বল চেহারায়।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

জান্নাতের প্রবেশ কর তোমরা এবং তোমাদের বিবিগণ সানন্দে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা এবং তোমাদের সহধর্মিণীগণ সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ কর।


মাওলানা জহুরুল হক

তোমরা বেহেশতে প্রবেশ করো -- তোমরা ও তোমাদের সঙ্গিনীরা তোমাদের আনন্দিত করা হবে।


৭১


یُطَافُ عَلَیۡہِمۡ بِصِحَافٍ مِّنۡ ذَہَبٍ وَّاَکۡوَابٍ ۚ  وَفِیۡہَا مَا تَشۡتَہِیۡہِ الۡاَنۡفُسُ وَتَلَذُّ الۡاَعۡیُنُ ۚ  وَاَنۡتُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ ۚ


ইউতা-ফু‘আলাইহিম বিসিহা-ফিম মিন যাহাবিওঁ ওয়া আকওয়া-বিওঁ ওয়া ফীহা-মাতাশতাহীহিল আনফুছুওয়া তালাযযুল আ‘ইউনু ওয়া আনতুম ফীহা-খা-লিদূ ন।


Mufti Taqi Usmani

Circulated among them will be the bowls of gold, and glasses. And there will be whatever souls desire and that which eyes enjoy. “And you will be living in it for ever.


মুফতী তাকী উসমানী

সোনার পেয়ালা ও পানপাত্র নিয়ে তাদের সামনে ঘোরাঘুরি করা হবে এবং সে জান্নাতে তাদের জন্য এমন সব কিছুই থাকবে, যার চাহিদা মনে জাগবে এবং যা দ্বারা চোখ প্রীতি লাভ করবে। আর এই জান্নাতে তোমরা সর্বদা থাকবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তাদের কাছে পরিবেশন করা হবে স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র এবং তথায় রয়েছে মনে যা চায় এবং নয়ন যাতে তৃপ্ত হয়। তোমরা তথায় চিরকাল অবস্থান করবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র নিয়ে তাদেরকে প্রদক্ষিণ করা হবে ; সেখানে রয়েছে সমস্ত কিছু, যা অন্তর চায় এবং যাতে নয়ন তৃপ্ত হয়। সেখানে তোমরা স্থায়ী হবে।


মাওলানা জহুরুল হক

তাদের সামনে পরিবেশন করা হবে সোনার খাঞ্চা ও পানপাত্র, আর তাতে থাকবে যা অন্তর কামনা করে ও চোখ তৃপ্ত হয়, আর তোমরা তাতে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে।


৭২


وَتِلۡکَ الۡجَنَّۃُ الَّتِیۡۤ اُوۡرِثۡتُمُوۡہَا بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ


ওয়া তিলকাল জান্নাতুল্লাতীঊরিছতুমূহা-বিমা-কুনতুম তা‘মালূন।


Mufti Taqi Usmani

That is the Paradise you are made to inherit because of what you used to do.


মুফতী তাকী উসমানী

এটাই সেই জান্নাত তোমাদেরকে যার অধিকারী করা হয়েছে তোমাদের কর্মের বিনিময়ে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এই যে, জান্নাতের উত্তরাধিকারী তোমরা হয়েছ, এটা তোমাদের কর্মের ফল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এটাই জান্নাত, তোমাদেরকে যার অধিকারী করা হয়েছে, তোমাদের কর্মের ফলস্বরূপ।


মাওলানা জহুরুল হক

আর এইটিই সেই জান্নাত, তোমাদের এটি উত্তরাধিকার করতে দেওয়া হয়েছে তোমরা যা করতে তার জন্যে।


৭৩


لَکُمۡ فِیۡہَا فَاکِہَۃٌ کَثِیۡرَۃٌ مِّنۡہَا تَاۡکُلُوۡنَ


লাকুম ফীহা-ফা-কিহাতুন কাছীরাতুম মিনহা-তা’কুলূন।


Mufti Taqi Usmani

For you there are fruits in abundance from which you will eat.”


মুফতী তাকী উসমানী

এখানে রয়েছে তোমাদের জন্য পর্যাপ্ত ফল, যা থেকে তোমরা খাবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তথায় তোমাদের জন্যে আছে প্রচুর ফল-মূল, তা থেকে তোমরা আহার করবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেখানে তোমাদের জন্যে রয়েছে প্রচুর ফলমূল, তা হতে তোমরা আহার করবে।


মাওলানা জহুরুল হক

তোমাদের জন্য সেখানে রয়েছে প্রচুর ফলমূল, তা থেকে তোমরা আহার করবে।


৭৪


اِنَّ الۡمُجۡرِمِیۡنَ فِیۡ عَذَابِ جَہَنَّمَ خٰلِدُوۡنَ ۚۖ


ইন্নাল মুজরিমীনা ফী ‘আযা-বি জাহান্নামা খা-লিদূন।


Mufti Taqi Usmani

The sinners (on the other hand) will be in the punishment of Jahannam (Hell), living there forever.


মুফতী তাকী উসমানী

তবে অপরাধীগণ স্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নিশ্চয় অপরাধীরা জাহান্নামের আযাবে চিরকাল থাকবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই অপরাধীরা জাহান্নামের শাস্তিতে থাকবে স্থায়িভাবে ;


মাওলানা জহুরুল হক

অপরাধীরা নিশ্চয় জাহান্নামের শাস্তির মধ্যে অবস্থান করবে,


৭৫


لَا یُفَتَّرُ عَنۡہُمۡ وَہُمۡ فِیۡہِ مُبۡلِسُوۡنَ ۚ


লা-ইউফাত্তারু ‘আনহুম ওয়া হুম ফীহি মুবলিছূন।


Mufti Taqi Usmani

It will not be lightened for them, and they will be there, devoid of all hopes.


মুফতী তাকী উসমানী

সে শাস্তি তাদের জন্য লাঘব করা হবে না এবং তারা সেখানে হতাশ হয়ে পড়বে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তাদের থেকে আযাব লাঘব করা হবে না এবং তারা তাতেই থাকবে হতাশ হয়ে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এদের শাস্তি লাঘব করা হবে না এবং এরা এতে হতাশ হয়ে পড়বে।


মাওলানা জহুরুল হক

তাদের থেকে তা লাঘব করা হবে না, আর তাতে তারা হতাশ হয়ে পড়বে।


৭৬


وَمَا ظَلَمۡنٰہُمۡ وَلٰکِنۡ کَانُوۡا ہُمُ الظّٰلِمِیۡنَ


ওয়ামা-জালামনা-হুম ওয়ালা-কিন কা-নূহুমুজ্জা-লিমীন।


Mufti Taqi Usmani

We did not do injustice to them, rather, they themselves were the unjust.


মুফতী তাকী উসমানী

আমি তাদের উপর জুলুম করিনি, বরং তারা নিজেরাই ছিল জালেম।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি তাদের প্রতি জুলুম করিনি; কিন্তু তারাই ছিল জালেম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি এদের প্রতি জুলুম করি নাই, বরং এরা নিজেরাই ছিল জালিম।


মাওলানা জহুরুল হক

আর আমরা তাদের প্রতি অন্যায় করি নি, বরঞ্চ তারা নিজেরাই অন্যায় করেছিল।


৭৭


وَنَادَوۡا یٰمٰلِکُ لِیَقۡضِ عَلَیۡنَا رَبُّکَ ؕ قَالَ اِنَّکُمۡ مّٰکِثُوۡنَ


ওয়ানা-দাও ইয়া-মা-লিকুলিইয়াকদি ‘আলাইনা-রাব্বুকা কা-লা ইন্নাকুম মা-কিছূন।


Mufti Taqi Usmani

And they will call (Mālik, the keeper of the Hell,) “O Mālik, let your Lord do away with us.” He will say, “You have to stay on.”


মুফতী তাকী উসমানী

তারা (জাহান্নামের প্রধান ফেরেশতাকে) ডেকে বলবে, হে মালেক! তোমার প্রতিপালক আমাদের জীবন সাঙ্গ করে দিন। ২৪ সে বলবে, তোমাদেরকে এ অবস্থায়ই থাকতে হবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা ডেকে বলবে, হে মালেক, পালনকর্তা আমাদের কিসসাই শেষ করে দিন। সে বলবে, নিশ্চয় তোমরা চিরকাল থাকবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা চিৎকার করে বলবে, ‘হে মালিক, তোমার প্রতিপালক যেন আমাদেরকে নিঃশেষ করে দেন।’ সে বলবে, ‘তোমরা তো এভাবেই থাকবে।’


মাওলানা জহুরুল হক

আর তারা ডেকে বলবে -- "হে মালিক! তোমার প্রভু আমাদের নিঃশেষ করে ফেলুন।" সে বলবে -- "তোমরা নিশ্চয় অপেক্ষা করবে।"


তাফসীরঃ

২৪. জাহান্নামের তত্ত্বাবধান কার্যে যে ফেরেশতাকে নিযুক্ত করা হয়েছে, তার নাম মালেক। জাহান্নামবাসীগণ শাস্তি সইতে না পেরে মালেককে বলবে, আপনি আল্লাহ তাআলার কাছে আমাদের জন্য আবেদন করুন, যেন তিনি আমাদের মৃত্যু দিয়ে দেন। আমরা এ আযাব সইতে পারছি না। উত্তরে মালেক বলবে, তোমাদেরকে এরূপ শাস্তি ভোগরত অবস্থায়ই জাহান্নামে জীবিত থাকতে হবে।


৭৮


لَقَدۡ جِئۡنٰکُمۡ بِالۡحَقِّ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَکُمۡ لِلۡحَقِّ کٰرِہُوۡنَ


লাকাদ জি’না-কুম বিল হাক্কিওয়ালা-কিন্না আকছারাকুম লিলহাক্কিকা-রিহূন।


Mufti Taqi Usmani

(O disbelievers,) indeed We have brought to you the truth, but it is the truth that most of you detest.


মুফতী তাকী উসমানী

আমি তো তোমাদের কাছে সত্য উপস্থিত করেছিলাম। কিন্তু তোমাদের অধিকাংশেই সত্য অপছন্দ করে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি তোমাদের কাছে সত্যধর্ম পৌঁছিয়েছি; কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই সত্যধর্মে নিস্পৃহ!


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহ্ বলবেন, ‘আমি তো তোমাদের নিকট সত্য পৌঁঁছিয়েছিলাম, কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই ছিল সত্যবিমুখ।’


মাওলানা জহুরুল হক

আমরা তো তোমাদের কাছে সত্য নিয়েই এসেছিলাম, কিন্ত তোমাদের অধিকাংশই সত্যের প্রতি বিমুখ ছিলে।


৭৯


اَمۡ اَبۡرَمُوۡۤا اَمۡرًا فَاِنَّا مُبۡرِمُوۡنَ ۚ


আম আবরামূআমরান ফাইন্না মুবরিমুন।


Mufti Taqi Usmani

Is it that they have firmly resolved to do something (harmful to Our messenger)? Then, We have firmly resolved (to frustrate their plan.)


মুফতী তাকী উসমানী

তবে কি তারা কিছু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে? তাহলে আমিও কিছু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত করে ফেলবো। ২৫


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা কি কোন ব্যবস্থা চুড়ান্ত করেছে? তাহলে আমিও এক ব্যবস্থা চুড়ান্ত করেছি।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা কি কোন ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ? বরং আমিই তো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকারী।


মাওলানা জহুরুল হক

অথবা তারা কি কোনো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত করে ফেলেছে? কিন্ত বাস্তবে আমরাই সিদ্ধান্তকারী।


তাফসীরঃ

২৫. মক্কা মুকাররমার কাফেরগণ গোপনে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছিল। কখনও পরিকল্পনা করছিল তাঁকে গ্রেফতার করবে, কখনও ফন্দি আঁটছিল যে, তাকে হত্যা করবে, যেমন সূরা আনফালে (৮ : ৩০) বর্ণিত হয়েছে। এ রকমই কোন ষড়যন্ত্রের পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হয়েছিল। এতে জানানো হয়েছে, তারা যদি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে কিছু করার ষড়যন্ত্র করে থাকে, তবে আল্লাহ তাআলারও সিদ্ধান্ত রয়েছে, সে ষড়যন্ত্র বুমেরাং হয়ে তাদেরই বিরুদ্ধে যাবে।


৮০


اَمۡ یَحۡسَبُوۡنَ اَنَّا لَا نَسۡمَعُ سِرَّہُمۡ وَنَجۡوٰىہُمۡ ؕ بَلٰی وَرُسُلُنَا لَدَیۡہِمۡ یَکۡتُبُوۡنَ


আম ইয়াহছাবূনা আন্না-লা-নাছমা‘উ ছির রাহুম ওয়া নাজওয়া-হুম বালা-ওয়া রুছুলুনালাদাইহিম ইয়াকতুবূন।


Mufti Taqi Usmani

Do they think that We do not hear their secrets and their whispers? Yes of course, Our messengers (angels) are with them who record (whatever they plan).


মুফতী তাকী উসমানী

তারা কি মনে করেছে আমি তাদের গোপন কথাবার্তা ও তাদের কানাকানি শুনতে পাই না? অবশ্যই পাই? তাছাড়া আমার ফেরেশতাগণ তাদের কাছেই রয়েছে, যারা (সবকিছু) লিপিবদ্ধ করছে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা কি মনে করে যে, আমি তাদের গোপন বিষয় ও গোপন পরামর্শ শুনি না? হঁ্যা, শুনি। আমার ফেরেশতাগণ তাদের নিকটে থেকে লিপিবদ্ধ করে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা কি মনে করে যে, আমি এদের গোপন বিষয় ও মন্ত্রণার খবর রাখি না? অবশ্যই রাখি। আমার ফেরেশতাগণ তো এদের নিকট থেকে সবকিছু লিপিবদ্ধ করে।


মাওলানা জহুরুল হক

অথবা তারা কি মনে করে যে আমরা তাদের লুকোনো বিষয় ও তাদের গোপন আলোচনা শুনি না? অবশ্যই, আর আমাদের দূতরা তাদের সঙ্গে থেকে লিখে চলেছে।


৮১


قُلۡ اِنۡ کَانَ لِلرَّحۡمٰنِ وَلَدٌ ٭ۖ فَاَنَا اَوَّلُ الۡعٰبِدِیۡنَ


কুল ইন কা-না লিররাহমা-নি ওয়ালাদুন ফাআনা-আওওয়ালুল ‘আ-বিদীন।


Mufti Taqi Usmani

Say, “Had there been a son for the RaHmān, I would have been the first to worship.”


মুফতী তাকী উসমানী

(হে রাসূল!) বলে দাও, দয়াময় আল্লাহর কোন সন্তান থাকলে আমিই সর্বপ্রথম ইবাদতকারী হতাম। ২৬


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বলুন, দয়াময় আল্লাহর কোন সন্তান থাকলে আমি সর্ব প্রথম তার এবাদত করব।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘দয়াময় আল্লাহ্ র কোন সন্তান থাকলে আমি হতাম তার উপাসকগণের অগ্রণী ;


মাওলানা জহুরুল হক

তুমি বলো -- "যদি পরম করুণাময়ের কোনো সন্তান থাকত তবে আমিই হচ্ছি উপাসনাকারীদের মধ্যে অগ্রণী।"


তাফসীরঃ

২৬. এর মানে এ নয় যে, আল্লাহ তাআলার সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বরং এটা একটা কথার কথা হিসেবে বলা হয়েছে (যদিও বাস্তবে তা অসম্ভব)। এর মানে হচ্ছে, তোমাদের আকীদা-বিশ্বাসকে অস্বীকার করছি দলীল-প্রমাণের ভিত্তিতে; হঠকারিতা ও জিদের বশে নয়। কাজেই যদি দলীল-প্রমাণ দ্বারা আল্লাহ তাআলার কোন সন্তান থাকা সাব্যস্ত হত, তবে আমি কখনওই তা অস্বীকার করতাম না। বরং আমিই সর্বপ্রথম সেই সন্তানের প্রতি বিশ্বাসী ও তার ইবাদতকারী হতাম।


৮২


سُبۡحٰنَ رَبِّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ رَبِّ الۡعَرۡشِ عَمَّا یَصِفُوۡنَ


ছুবহা-না রাব্বিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিরাব্বিল ‘আরশি ‘আম্মা-ইয়াসিফূন।


Mufti Taqi Usmani

Pure is the Lord of the heavens and the earth, the Lord of the Throne, from what they attribute (to Him).


মুফতী তাকী উসমানী

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মালিক এবং আরশের মালিক তারা যা-কিছু বলছে তা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা যা বর্ণনা করে, তা থেকে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের পালনকর্তা, আরশের পালনকর্তা পবিত্র।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এরা যা আরোপ করে তা হতে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর অধিপতি এবং আরশের অধিকারী পবিত্র মহান।’


মাওলানা জহুরুল হক

সকল মহিমা হোক মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর প্রভুর! তিনি আরশের প্রভু, তারা যা আরোপ করে তা থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে।


৮৩


فَذَرۡہُمۡ یَخُوۡضُوۡا وَیَلۡعَبُوۡا حَتّٰی یُلٰقُوۡا یَوۡمَہُمُ الَّذِیۡ یُوۡعَدُوۡنَ


ফাযারহুম ইয়াখূদূওয়া ইয়াল‘আবূহাত্তা-ইউলা-কূইয়াওমা হুমুল্লাযী ইঊ‘আদূন।


Mufti Taqi Usmani

So, let them indulge (in their fallacy) and play, until they face their Day that they are promised.


মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং (হে রাসূল!) তাদেরকে আপন অবস্থায় ছেড়ে দাও, তারা ওই সব কথায় মেতে থাকুক ও হাসি-তামাশা করতে থাকুক, যতক্ষণ না তারা সেই দিনের সম্মুখীন হয়, যে দিনের প্রতিশ্রুতি তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে।

(ads1)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#f50707)

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতএব, তাদেরকে বাকচাতুরী ও ক্রীড়া-কৌতুক করতে দিন সেই দিবসের সাক্ষাত পর্যন্ত, যার ওয়াদা তাদেরকে দেয়া হয়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতএব এদেরকে যে দিবসের কথা বলা হয়েছে তার সম্মুখীন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তুমি এদেরকে বাক-বিতণ্ডা ও ক্রীড়া-কৌতুক করতে দাও।


মাওলানা জহুরুল হক

সুতরাং তাদের ছেড়ে দাও আঁকুপাঁকু করতে ও ছেলেখেলা খেলতে যে পর্যন্ত না তারা তাদের দিনের মুখোমুখি হয় যেটি সন্বন্ধে তাদের ওয়াদা করা হয়েছিল।


৮৪


وَہُوَ الَّذِیۡ فِی السَّمَآءِ اِلٰہٌ وَّفِی الۡاَرۡضِ اِلٰہٌ ؕ وَہُوَ الۡحَکِیۡمُ الۡعَلِیۡمُ


ওয়া হুওয়াল্লাযী ফিছ ছামাই ইলা-হুওঁ ওয়া ফিল আরদিইলা-হুওঁ ওয়া হুওয়াল হাকীমুল ‘আলীম।


Mufti Taqi Usmani

He is the One who is God to be worshipped in the sky, and God to be worshipped on the earth. And He is the Wise, the All-Knowing.


মুফতী তাকী উসমানী

তিনিই (অর্থাৎ আল্লাহই) আসমানেও মাবুদ এবং যমীনেও মাবুদ এবং তিনিই হেকমতের মালিক, জ্ঞানেরও মালিক।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তিনিই উপাস্য নভোমন্ডলে এবং তিনিই উপাস্য ভুমন্ডলে। তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ,


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই ইলাহ্ নভোমণ্ডলে, তিনিই ইলাহ্ ভূতলে এবং তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।


মাওলানা জহুরুল হক

আর তিনিই সেইজন যিনি মহাকাশে উপাস্য আর দুনিয়াতেও উপাস্য। আর তিনিই পরমজ্ঞানী, সর্বজ্ঞাতা।


৮৫


وَتَبٰرَکَ الَّذِیۡ لَہٗ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَیۡنَہُمَا ۚ وَعِنۡدَہٗ عِلۡمُ السَّاعَۃِ ۚ وَاِلَیۡہِ تُرۡجَعُوۡنَ


ওয়া তাবা-রাকাল্লাযী লাহূমুলকুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়ামা-বাইনাহুমা- ওয়া ‘ইনদাহূ‘ইল মুছ ছা-‘আতি ওয়া ইলাইহি তুর জা‘ঊন।


Mufti Taqi Usmani

Glorious is the One to whom belongs the kingdom of the heavens and the earth and whatever lies between them. With Him is the knowledge of the Hour; and towards Him you are to be returned.


মুফতী তাকী উসমানী

মহিমান্বিত তিনি, যার হাতে আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও এ দু’য়ের অন্তর্গত সবকিছুর রাজত্ব। তাঁরই কাছে আছে কিয়ামতের জ্ঞান এবং তাঁরই কাছে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বরকতময় তিনিই, নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু যার। তাঁরই কাছে আছে কেয়ামতের জ্ঞান এবং তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কত মহান তিনি, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর সার্বভৌম অধিপতি ! কিয়ামতের জ্ঞান কেবল তাঁহারই আছে এবং তাঁহারই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।


মাওলানা জহুরুল হক

আর পুণ্যময় তিনি যাঁর অধিকারে রয়েছে মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব আর যা-কিছু রয়েছে এ দুইয়ের মধ্যে, আর তাঁরই কাছে রয়েছে ঘড়িঘান্টার জ্ঞান, আর তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।


৮৬


وَلَا یَمۡلِکُ الَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِہِ الشَّفَاعَۃَ اِلَّا مَنۡ شَہِدَ بِالۡحَقِّ وَہُمۡ یَعۡلَمُوۡنَ


ওয়ালা-ইয়ামলিকুল্লাযীনা ইয়াদ‘ঊনা মিন দূনিহিশশাফা-‘আতা ইল্লা-মান শাহিদা বিলহাক্কি ওয়া হুম ইয়া‘লামূন।


Mufti Taqi Usmani

And those whom they invoke besides Him have no power to intercede; but those who bear witness to the truth, while they have knowledge (may intercede for the believers with Allah’s permission).


মুফতী তাকী উসমানী

তারা তাঁকে ছেড়ে যেসব উপাস্যকে ডাকে তাদের সুপারিশ করার কোন এখতিয়ার থাকবে না, তবে যারা জেনেশুনে সত্যের সাক্ষ্য দিয়েছে, তারা ব্যতীত। ২৭


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তিনি ব্যতীত তারা যাদের পুজা করে, তারা সুপারিশের অধিকারী হবে না, তবে যারা সত্য স্বীকার করত ও বিশ্বাস করত।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহ্ র পরিবর্তে এরা যাদেরকে ডাকে, সুপারিশের ক্ষমতা তাদের নেই, তবে যারা সত্য উপলব্ধি করে এর সাক্ষ্য দেয়, তারা ব্যতীত।


মাওলানা জহুরুল হক

আর তাঁকে বাদ দিয়ে তারা যাদের ডাকে তাদের কোনো ক্ষমতা নেই সুপারিশ করার, তিনি ব্যতীত যিনি সত্যের সাথে সাক্ষ্য দেন, আর তারা জানে।


তাফসীরঃ

২৭. অর্থাৎ ‘আল্লাহ তাআলার দরবারে তারা সুপারিশ করবে’ এই বিশ্বাসে যারা প্রতিমাদেরকে আল্লাহ তাআলার প্রভুত্বের অংশীদার বানিয়েছে, তাদের জেনে রাখা উচিত, প্রকৃতপক্ষে ওদের সুপারিশ করার কোন এখতিয়ার নেই। হাঁ যে ব্যক্তি কারও সম্পর্কে সত্য সাক্ষ্য দেবে এবং পরিপূর্ণভাবে জেনেশুনে বলবে যে, সে বাস্তবিকই মুমিন ছিল, তার সাক্ষ্য অবশ্যই গৃহীত হবে। এ আয়াতের আরেক ব্যাখ্যা এ রকম, ‘যারা সত্যের সাক্ষ্য দিয়েছে’, অর্থাৎ যারা ঈমান এনে আল্লাহ তাআলার একত্ব ও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছে। এরূপ লোকদেরকে আল্লাহ তাআলা সুপারিশ করার অনুমতি দেবেন এবং তাদের সুপারিশ কবুল হবে।


৮৭


وَلَئِنۡ سَاَلۡتَہُمۡ مَّنۡ خَلَقَہُمۡ لَیَقُوۡلُنَّ اللّٰہُ فَاَنّٰی یُؤۡفَکُوۡنَ ۙ


ওয়া লায়িন ছাআলতাহুম মান খালাকাহুম লা ইয়াকূলুন্নাল্লা-হু ফাআন্না-ইউ’ফাকূন।


Mufti Taqi Usmani

And if you ask them as to who has created them, they will certainly say, “Allah”. Then, to where are they driven back (by their false desires)?


মুফতী তাকী উসমানী

তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, তাদেরকে কে সৃষ্টি করেছে, তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ! এতদসত্ত্বেও কে কোথা হতে তাদেরকে উল্টো দিকে চালাচ্ছে?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, কে তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তবে অবশ্যই তারা বলবে, আল্লাহ, অতঃপর তারা কোথায় ফিরে যাচ্ছে ?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যদি তুমি এদেরকে জিজ্ঞাসা কর, কে এদেরকে সৃষ্টি করেছে, এরা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ্’। তবুও এরা কোথায় ফিরে যেতেছে ?


মাওলানা জহুরুল হক

আর তুমি যদি তাদের জিজ্ঞাসা কর -- কে তাদের সৃষ্টি করেছেন, তারা নিশ্চয়ই বলবে -- "আল্লাহ্‌"। তাহলে কোথায়-কেমনে তারা ফিরে যাচ্ছে!


৮৮


وَقِیۡلِہٖ یٰرَبِّ اِنَّ ہٰۤؤُلَآءِ قَوۡمٌ لَّا یُؤۡمِنُوۡنَ ۘ


ওয়া কীলিহী ইয়া-রাব্বি ইন্না হাউলাই কাওমুল লা-ইউ’মিনূন।


Mufti Taqi Usmani

And (Allah has the knowledge) of his (prophet’s) saying, “O my Lord, these are a people who do not believe.”


মুফতী তাকী উসমানী

(আল্লাহ রাসূলের) একথা সম্পর্কেও অবগত যে, হে আমার রব্ব! এরা এমন সম্প্রদায়, যারা ঈমান আনবে না। ২৮


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

রসূলের এই উক্তির কসম, হে আমার পালনকর্তা, এ সম্প্রদায় তো বিশ্বাস স্থাপন করে না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি অবগত আছি রাসূলের এই উক্তি : ‘হে আমার প্রতিপালক! এই সম্প্রদায় তো ঈমান আনবে না।’


মাওলানা জহুরুল হক

আর তাঁর উক্তি -- "হে আমার প্রভু! তারা তো এক জাতি যারা ঈমান আনছে না।"


তাফসীরঃ

২৮. এ আয়াতটির দ্বারা স্পষ্ট করা হচ্ছে যে, কাফেরদের উপর আল্লাহ তাআলার গযব নাযিল হওয়ার পক্ষে বড় বড় কারণ বর্তমান রয়েছে। একদিকে তো তাদের কঠিন-কঠিন অপরাধ, শাস্তি নাযিলের জন্য যার যে-কোন একটাই যথেষ্ট। অন্যদিকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এহেন অভিযোগ। যিনি রহমাতুল লিল আলামীন ও শাফিউল মুযনিবীন হয়ে জগতে এসেছেন, তিনিই যখন সুপারিশের বদলে অভিযোগ করছেন, তখন বোঝাই যাচ্ছে, তারা তাঁকে কী পরিমাণ দুঃখ-কষ্ট দিয়ে থাকবে। অন্যথায় দয়ার নবী কিছুতেই এমন ব্যথাতুর অভিযোগ করতেন না।


৮৯


فَاصۡفَحۡ عَنۡہُمۡ وَقُلۡ سَلٰمٌ ؕ  فَسَوۡفَ یَعۡلَمُوۡنَ ٪


ফাসফাহ‘আনহুম ওয়া কুল ছালা-মুন ফাছাওফা ইয়া‘লামূন।


Mufti Taqi Usmani

So, turn away from them, and say, “Salām !” (good-bye!). Then, soon they will come to know (the end of their attitude).


মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি তাদেরকে অগ্রাহ্য করো এবং বলে দাও, ‘সালাম’। ২৯ কেননা অচিরেই তারা সব জানতে পারবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতএব, আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন এবং বলুন, ‘সালাম’। তারা শীঘ্রই জানতে পারবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুতরাং তুমি এদেরকে উপেক্ষা কর এবং বল, ‘সালাম’; এরা শীঘ্রই জানতে পারবে।


মাওলানা জহুরুল হক

সুতরাং তুমি তাদের থেকে ফিরে যাও এবং বলো -- 'সালাম!’ তারপর শীঘ্রই তারা জানতে পারবে।


তাফসীরঃ

২৯. এস্থলে ‘সালাম’ বলার দ্বারা বোঝানো উদ্দেশ্য, তাদের সাথে সম্পূর্ণরূপে সম্পর্ক ছিন্ন করা চাই। অর্থাৎ তোমাদের এরূপ কূট-তর্ক ও হঠকারিতার পর তোমাদের সাথে বাড়তি আলোচনার কোন অর্থ নেই। সুতরাং সৌজন্যের সাথে তোমাদের থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছি।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
Post a Comment (0)

islamicinfohub Top Post Ad1

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !
To Top