সূরা শুআরা ডাউনলোড, নামাজের শেষে সুরা শুআরা পাঠের গুরুত্ব, ৫ ওয়াক্ত সালাতে শুআরা পড়ার গুরুত্ব,৫ ওয়াক্ত নামাজে শুআরা আমল ও ফজিলত, ৫০৫ বার সূরা শুআরা, ৯৯৯ বার সূরা শুআরা,

0


 ২৬ . আশ শুআরা' - ( الشعراء ) | কবিগণ

মাক্কী, মোট আয়াতঃ ২২৭

আরো পড়ুন :-

স্মরণ শক্তি বৃদ্ধির দোয়া,মেধা বৃদ্ধির দোয়া,স্মৃতি শক্তি বাড়ানোর দোয়া!নামাজের পর ২১ বাড় পড়ুন

গর্ভের সন্তান কখন নষ্ট করা যাবে?,কতদিনের বাচ্চা নষ্ট করলে গুনাহ হবে না?, বাচ্চা নষ্ট করা জায়েজ আছে?, 

দোয়াটি পড়লে সাথে সাথে রাগ কমে যায়, রাগ কমানোর দোয়া,শিশুদের রাগ কমানোর আমল

(ads1)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#b50404)

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ


طسم


তা-ছীম মীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তোয়া-সীম-মীম। ১


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ত্বা, সীন, মীম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তা-সীন-মীম।


তাফসীরঃ

১. সূরা বাকারায় শুরুতে বলা হয়েছিল যে, বিভিন্ন সূরার প্রারম্ভে যে বিচ্ছিন্ন হরফসমূহ ব্যবহৃত হয়েছে, তাকে ‘আল-হুরূফুল মুকাত্তাআত’ বলে। এর প্রকৃত মর্ম আল্লাহ তাআলা ছাড়া কেউ জানে না।



تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْمُبِينِ


তিলকা আ-য়া-তুল কিতা-বিল মুবীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এগুলি সত্যকে সুস্পষ্টকারী কিতাবের আয়াত।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এইগুলি সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।



لَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ أَلَّا يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ


লা‘আল্লাকা বা-খি‘উন নাফছাকা আল্লা-ইয়াকূনূমু’মিনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

(হে রাসূল!) তারা ঈমান (কেন) আনছে না, এই দুঃখে হয়ত তুমি আত্মবিনাশী হয়ে যাবে!


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা বিশ্বাস করে না বলে আপনি হয়তো মর্মব্যথায় আত্নঘাতী হবেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা মু’মিন হচ্ছে না বলে তুমি হয়ত মনোকষ্টে আত্মবিনাশী হয়ে পড়বে।



إِن نَّشَأْ نُنَزِّلْ عَلَيْهِم مِّنَ السَّمَاءِ آيَةً فَظَلَّتْ أَعْنَاقُهُمْ لَهَا خَاضِعِينَ


ইন নাশা’ নুনাঝঝিল ‘আলাইহিম মিনাছছামাইআ-ইয়াতান ফাজাল্লাত আ‘না-কুহুম লাহা খা-দি‘ঈন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আমি ইচ্ছা করলে আকাশ থেকে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ করতাম, ফলে তার সামনে তাদের ঘাড় নুয়ে যেত। ২


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি যদি ইচ্ছা করি, তবে আকাশ থেকে তাদের কাছে কোন নিদর্শন নাযিল করতে পারি। অতঃপর তারা এর সামনে নত হয়ে যাবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি ইচ্ছা করলে আকাশ হতে এদের নিকট এক নিদর্শন প্রেরণ করতাম, ফলে এদের গ্রীবা বিনত হয়ে পড়ত এর প্রতি।


তাফসীরঃ

২. অর্থাৎ, তাদেরকে ঈমান আনতে বাধ্য করাটা আল্লাহ তাআলার পক্ষে কিছু কঠিন ছিল না। কিন্তু এ দুনিয়ায় মানুষ পাঠানোর উদ্দেশ্য তো এ নয় যে, তাদেরকে জবরদস্তিমূলকভাবে মুমিন বানানো হবে। বরং মানুষের কাছে দাবি হল, কোন রকম জোর-জবরদস্তি ছাড়াই তারাই নিজ বুদ্ধি-বিবেক খাটিয়ে এবং নিদর্শনাবলীর মধ্যে চিন্তা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঈমান আনুক। তারা এরূপ করে কিনা সে পরীক্ষার জন্যই আল্লাহ তাআলা মানুষকে এ দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। কাজেই তারা যদি ঈমান না আনে, তবে ক্ষতি তাদেরই। সেজন্য আপনার এতটা দুঃখ কাতর হওয়া উচিত নয় যে, আপনি একেবারে আত্মনাশী হয়ে পড়বেন।



وَمَا يَأْتِيهِم مِّن ذِكْرٍ مِّنَ الرَّحْمَـٰنِ مُحْدَثٍ إِلَّا كَانُوا عَنْهُ مُعْرِضِينَ


ওয়ামা-ইয়াতীহিম মিন যিকরিম মিনার রাহমা-নি মুহদাছিনইল্লা-কা-নূ‘আনহু মু‘রিদীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

(তাদের অবস্থা তো এই যে,) তাদের সামনে দয়াময় আল্লাহর পক্ষ হতে যখনই নতুন কোন উপদেশ আসে, তখনই তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখনই তাদের কাছে রহমান এর কোন নতুন উপদেশ আসে, তখনই তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখনই এদের কাছে দয়াময়ের নিকট হতে কোন নূতন উপদেশ আসে, তখনই এরা তা হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়।



فَقَدْ كَذَّبُوا فَسَيَأْتِيهِمْ أَنبَاءُ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ


ফাকাদ কাযযাবূফাছাইয়া’তীহিম আমবাউ মা-কা-নূবিহী ইয়াছতাহঝিউন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এভাবে তারা তো সত্য প্রত্যাখ্যান করেছে। সুতরাং তারা যে বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, অচিরেই তার প্রকৃত সংবাদ তাদের কাছে এসে যাবে ৩।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতএব তারা তো মিথ্যারোপ করেছেই; সুতরাং যে বিষয় নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত, তার যথার্থ স্বরূপ শীঘ্রই তাদের কাছে পৌছবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা তো অস্বীকার করেছে। সুতরাং এরা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত তার প্রকৃত বার্তা তাদের নিকট শীঘ্রই এসে পড়বে।


তাফসীরঃ

৩. ‘সংবাদ’ বলে ঠাট্টা-বিদ্রূপের শাস্তি বোঝানো হয়েছে, যা তাদেরকে নগদ দুনিয়াতেই কিংবা আখিরাতে দেওয়া হবে। শাস্তিকে ‘সংবাদ’ বলা হয়েছে এ কারণে যে, কুরআন সে সম্পর্কে সংবাদ দান করেছে। অথবা সংবাদ দ্বারা যেমন অজ্ঞাত বিষয়ে জ্ঞান লাভ হয়, তেমনি সেই শাস্তি দ্বারা কুরআনের সত্যতা সম্পর্কে চাক্ষুষ জ্ঞান লাভ হবে বলে তাকে ‘সংবাদ’ শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে। -অনুবাদক



أَوَلَمْ يَرَوْا إِلَى الْأَرْضِ كَمْ أَنبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ زَوْجٍ كَرِيمٍ


আওয়ালাম ইয়ারাও ইলাল আরদিকাম আমবাতনা-ফীহা-মিন কুল্লি ঝাওজিন কারীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তারা কি ভূমির প্রতি লক্ষ্য করেনি, আমি তাতে সর্বপ্রকার উৎকৃষ্ট বস্তু হতে কত কিছু উৎপন্ন করেছি?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা কি ভুপৃষ্ঠের প্রতি দৃষ্টিপাত করে না? আমি তাতে সর্বপ্রকার বিশেষ-বস্তু কত উদগত করেছি।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা কি যমীনের দিকে লক্ষ্য করে না ? আমি এতে প্রত্যেক প্রকারের কত উৎকৃষ্ট উদ্ভিদ উদ্গত করেছি।



إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ


ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়াতাওঁ ওয়ামা-কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই এর মধ্যে আছে নিদর্শন। তথাপি তাদের অধিকাংশেই ঈমান আনে না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় এতে আছে নিদর্শন, কিন্তু এদের অধিকাংশই মু’মিন নয়।



وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ


ওয়া ইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আঝীঝুর রাহীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক তিনিই পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আপনার পালনকর্তা তো পরাক্রমশালী পরম দয়ালু।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।


১০


وَإِذْ نَادَىٰ رَبُّكَ مُوسَىٰ أَنِ ائْتِ الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ


ওয়া ইযনা-দা-রাব্বুকা মূছা-আনি’তিল কাওমাজ্জা-লিমীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

(সেই সময়ের বৃত্তান্ত শোন), যখন তোমার প্রতিপালক মূসাকে ডেকে বলেছিলেন, তুমি ওই জালেম সম্প্রদায়ের কাছে যাও


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখন আপনার পালনকর্তা মূসাকে ডেকে বললেনঃ তুমি পাপিষ্ঠ সম্প্রদায়ের নিকট যাও;


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক মূসাকে ডাকিয়া বললেন, ‘তুমি জালিম সম্প্রদায়ের নিকট যাও,


১১


قَوْمَ فِرْعَوْنَ ۚ أَلَا يَتَّقُونَ


কাওমা ফির‘আওনা আলা-ইয়াত্তাকূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

ফেরাউনের সম্প্রদায়ের কাছে। তারা কি আল্লাহকে ভয় করে না?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ফেরাউনের সম্প্রদায়ের নিকট; তারা কি ভয় করে না?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘ফির‘আওনের সম্প্রদায়ের নিকট; এরা কি ভয় করে না ?’


১২


قَالَ رَبِّ إِنِّي أَخَافُ أَن يُكَذِّبُونِ


কা-লা রাব্বি ইন্নী-আখা-ফুআইঁ ইউকাযযি বূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

মূসা বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার আশঙ্কা তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সে বলল, হে আমার পালনকর্তা, আমার আশংকা হচ্ছে যে, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে দেবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তখন সে বলেছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক ! আমি আশংকা করি যে, এরা আমাকে অস্বীকার করবে,


১৩


وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَىٰ هَارُونَ


ওয়া ইয়াদীকুসাদরী ওয়ালা-ইয়ানতলিকুলিছা-নী ফাআরছিল ইলা-হা-রূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আমার অন্তর সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে এবং আমার জিহ্বাও স্বচ্ছন্দে চলে না। সুতরাং হারূনের কাছেও (নবুওয়াতের) বার্তা পাঠান


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং আমার মন হতবল হয়ে পড়ে এবং আমার জিহবা অচল হয়ে যায়। সুতরাং হারুনের কাছে বার্তা প্রেরণ করুন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হয়ে পড়ছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নেই ! সুতরাং হারূনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠাও।


১৪


وَلَهُمْ عَلَيَّ ذَنبٌ فَأَخَافُ أَن يَقْتُلُونِ


ওয়ালাহুম ‘আলাইইয়া যামবুন ফাআখা-ফুআইঁ ইয়াকতুলূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আর আমার বিরুদ্ধে তো তাদের একটা অভিযোগও আছে। ৪ তাই আমার ভয়, তারা আমাকে হত্যা করবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমার বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ আছে। অতএব আমি আশংকা করি যে, তারা আমাকে হত্যা করবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমার বিরুদ্ধে তো এদের এক অভিযোগ আছে, আমি আশংকা করি এরা আমাকে হত্যা করবে।’


তাফসীরঃ

৪. একবার এক কিবতী এক ইসরাঈলীর উপর জুলুম করছিল। ঘটনাটি হযরত মূসা আলাইহিস সালামের সামনে পড়ে যায়। তিনি মজলুমকে বাঁচানোর জন্য জালেমকে একটি ঘুষি মারেন। সেই এক ঘুষিতে লোকটির মৃত্যু হয়ে যায়। ফলে তার উপর স্থানীয় কিবতীকে হত্যা করার অভিযোগ উত্থাপিত হয়। আয়াতের ইশারা সে দিকেই। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সামনে সূরা কাসাস (সূরা নং ২৮)-এ আসছে।


১৫


قَالَ كَلَّا ۖ فَاذْهَبَا بِآيَاتِنَا ۖ إِنَّا مَعَكُم مُّسْتَمِعُونَ


কা-লা কাল্লা- ফাযহাবা-বিআ-য়া-তিনাইন্না মা‘আকুম মুছতামি‘উন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহ বললেন, কখনও নয়। তোমরা আমার নিদর্শনাবলী নিয়ে যাও। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সঙ্গে আছি, সবকিছু শুনতে থাকব।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহ বলেন, কখনই নয় তোমরা উভয়ে যাও আমার নিদর্শনাবলী নিয়ে। আমি তোমাদের সাথে থেকে শোনব।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহ্ বললেন, ‘না, কখনই নয়, অতএব তোমরা উভয়ে আমার নিদর্শনসহ যাও, আমি তো তোমাদের সঙ্গে আছি, শ্রবণকারী।


১৬


فَأْتِيَا فِرْعَوْنَ فَقُولَا إِنَّا رَسُولُ رَبِّ الْعَالَمِينَ


ফা’তিইয়া-ফির‘আওনা ফাকূলা ইন্না-রাছূলুরাব্বিল ‘আ-লামীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং তোমরা ফির‘আউনের কাছে যাও এবং বল, আমরা রাব্বুল আলামীনের রাসূল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতএব তোমরা ফেরআউনের কাছে যাও এবং বল, আমরা বিশ্বজগতের পালনকর্তার রসূল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘অতএব তোমরা উভয়ে ফির‘আওনের নিকট যাও এবং বল, ‘আমরা তো জগতসমূহের প্রতিপালকের রাসূল,


১৭


أَنْ أَرْسِلْ مَعَنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ


আন আরছিল মা‘আনা-বানীইছরাঈল।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

(আমরা এই বার্তা নিয়ে এসেছি যে,) তুমি বনী ইসরাঈলকে আমাদের সঙ্গে যেতে দাও। ৫


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যাতে তুমি বনী-ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমাদের সঙ্গে যেতে দাও বনী ইসরাঈলকে।’


তাফসীরঃ

৫. বনী ইসরাঈল অর্থ ইসরাঈলের বংশধর। ইসরাঈল হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের আরেক নাম। তাঁর বংশধরগণকেই বনী ইসরাঈল বলা হয়। তারা ফিলিস্তিনের কানআন এলাকায় বাস করত। কিন্তু হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম যখন মিসরের শাসনক্ষমতা লাভ করেন, তখন তিনি তাঁর খান্দান তথা বনী ইসরাঈলের সকলকে মিসরে নিয়ে যান। সেখানে তারা দীর্ঘকাল বসবাস করে। সূরা ইউসুফে এ ঘটনা বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। প্রথম দিকে তো তারা সম্মান ও শান্তির সাথেই বসবাস করছিল। কিন্তু হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের পর পরিস্থিতির ক্রম অবনতি ঘটে। এক পর্যায়ে মিসরের রাজাগণ, যাদেরকে ফির‘আউন বলা হত, তাদেরকে দাসরূপে ব্যবহার করতে শুরু করে এবং তাদের প্রতি নানা রকম জুলুম-নির্যাতন চালাতে থাকে।


১৮


قَالَ أَلَمْ نُرَبِّكَ فِينَا وَلِيدًا وَلَبِثْتَ فِينَا مِنْ عُمُرِكَ سِنِينَ


কা-লা আলাম নুরাব্বিকা ফীনা-ওয়ালীদাওঁ ওয়ালাবিছতা ফীনা-মিন ‘উমুরিকা ছিনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

ফেরাউন (একথার উত্তরে হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে) বলল, আমরা কি তোমাকে তোমার শিশুকালে আমাদের মধ্যে লালন-পালন করিনি? ৬ তুমি তো তোমার জীবনের বহু বছর আমাদের মাঝেই কাটিয়েছ।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ফেরাউন বলল, আমরা কি তোমাকে শিশু অবস্থায় আমাদের মধ্যে লালন-পালন করিনি? এবং তুমি আমাদের মধ্যে জীবনের বহু বছর কাটিয়েছ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন বলল, ‘আমরা কি তোমাকে শৈশবে আমাদের মধ্যে লালন-পালন করি নাই ? আর তুমি তো তোমার জীবনের বহু বৎসর আমাদের মধ্যে কাটাইয়াছ,


তাফসীরঃ

৬. সূরা তোয়াহা (২০ : ৩৯) এ ঘটনা বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।


১৯


وَفَعَلْتَ فَعْلَتَكَ الَّتِي فَعَلْتَ وَأَنتَ مِنَ الْكَافِرِينَ


ওয়া ফা‘আলতা ফা‘লাতাকাল্লাতী ফা‘আলতা ওয়াআনতা মিনাল কা-ফিরীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আর তোমার যে কা- তুমি করেছিলে সে তো করেছই। ৭ বস্তুত তুমি একজন অকৃতজ্ঞ লোক।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তুমি সেই-তোমরা অপরাধ যা করবার করেছ। তুমি হলে কৃতঘ্ন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং তুমি তোমার কর্ম যা করার তা তো করেছ ; তুমি অকৃতজ্ঞ।’


তাফসীরঃ

৭. পূর্বে ৩নং টীকায় যে ঘটনার কথা সংক্ষেপে বলা হয়েছে এ ইঙ্গিত তারই প্রতি।


২০


قَالَ فَعَلْتُهَا إِذًا وَأَنَا مِنَ الضَّالِّينَ


কা-লা ফা‘আলতুহা ইযাওঁ ওয়া আনা মিনাদ্দাল্লীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

মূসা বলল, আমি সে কাজটি এমন অবস্থায় করেছিলাম যখন আমি ছিলাম অজ্ঞ। ৮


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

মূসা বলল, আমি সে অপরাধ তখন করেছি, যখন আমি ভ্রান্ত ছিলাম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা বলল, ‘আমি তো এটা করেছিলাম তখন, যখন ছিলাম অনবধান।


তাফসীরঃ

৮. অর্থাৎ, একটা মাত্র ঘুষিতেই লোকটা মারা যাবে সে কথা আমার জানা ছিল না।


২১


فَفَرَرْتُ مِنكُمْ لَمَّا خِفْتُكُمْ فَوَهَبَ لِي رَبِّي حُكْمًا وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُرْسَلِينَ


ফাফারারতুমিনকুমলাম্মা-খিফতুকুম ফাওয়াহাবালী রাববী হুকমাওঁ ওয়া জা‘আলানী মিনাল মুরছালীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর আমি যখন তোমাদেরকে ভয় করলাম, তখন তোমাদের থেকে পালিয়ে গেলাম। তারপর আমার প্রতিপালক আমাকে হেকমত দান করলেন এবং আমাকে রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত করলেন। ৯


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর আমি ভীত হয়ে তোমাদের কাছ থেকে পলায়ন করলাম। এরপর আমার পালনকর্তা আমাকে প্রজ্ঞা দান করেছেন এবং আমাকে পয়গম্বর করেছেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এরপর আমি যখন তোমাদের ভয়ে ভীত হলাম তখন আমি তোমাদের নিকট হতে পালিয়ে গিয়েছিলাম। তৎপর আমার প্রতিপালক আমাকে জ্ঞান দান করেছেন এবং আমাকে রাসূল করেছেন।


তাফসীরঃ

৯. কিবতী হত্যার কারণে হুলিয়া জারি হলে হযরত মূসা আলাইহিস সালাম পালিয়ে মাদইয়ান চলে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে তাকে নবুওয়াত দান করা হয়। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সামনের সূরা কাসাস (সূরা নং ২৮)-এ আসছে।


২২


وَتِلْكَ نِعْمَةٌ تَمُنُّهَا عَلَيَّ أَنْ عَبَّدتَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ


ওয়া তিলকা নি‘মাতুন তামুননুহা-‘আলাইইয়া আন ‘আব্বাত্তা বানীইছরাঈল।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের খোঁটা দিচ্ছ, তার স্বরূপ তো এই যে, তুমি বনী ইসরাঈলকে দাস বানিয়ে রেখেছ।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের কথা বলছ, তা এই যে, তুমি বনী-ইসলাঈলকে গোলাম বানিয়ে রেখেছ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করছো, তা তো এই যে, তুমি বনী ইসরাঈলকে দাসে পরিণত করেছ।’


২৩


قَالَ فِرْعَوْنُ وَمَا رَبُّ الْعَالَمِينَ


কা-লা ফির‘আওনুওয়ামা-রাব্বুল ‘আ-লামীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

ফেরাউন বলল, রাব্বুল আলামীন আবার কী?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ফেরাউন বলল, বিশ্বজগতের পালনকর্তা আবার কি?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন বলল, ‘জগতসমূহের প্রতিপালক আবার কী ?’


২৪


قَالَ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا ۖ إِن كُنتُم مُّوقِنِينَ


কা-লা রাব্বুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়ামা-বাইনাহুমা- ইন কুনতুম মূকিনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

মূসা বলল, তিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর প্রতিপালক যদি তোমাদের বাস্তবিকই বিশ্বাস করার থাকে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

মূসা বলল, তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা বলল, ‘তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর প্রতিপালক, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হও।’


২৫


قَالَ لِمَنْ حَوْلَهُ أَلَا تَسْتَمِعُونَ


কা-লা লিমান হাওলাহূ আলা-তাছতামি‘উন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

ফেরাউন তার আশপাশের লোকদেরকে বলল, তোমরা শুনছ কি না? ১০


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ফেরাউন তার পরিষদবর্গকে বলল, তোমরা কি শুনছ না?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন তার পারিষদবর্গকে লক্ষ্য করে বলল, ‘তোমরা শুনছো তো !’


তাফসীরঃ

১০. ফেরাউন যে প্রশ্ন করেছিল তার সারমর্ম ছিল, ‘রাব্বুল আলামীন’ এর স্বরূপ কী, তা ব্যাখ্যা কর। আর হযরত মূসা আলাইহিস সালামের দেওয়া উত্তরের সারমর্ম হল, আল্লাহ তাআলার সত্তা কেমন, তাঁর স্বরূপ কী, তা জানা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। হাঁ, তাঁকে চেনা যায় তাঁর সিফাত বা গুণাবলীর দ্বারা। তাই হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উত্তরে আল্লাহ তাআলার সিফাতই উল্লেখ করেছেন। তা শুনে ফির‘আউন মন্তব্য করল, এ লোকটা বদ্ধ পাগল। প্রশ্ন করেছি কী, আর উত্তর দেয় কী! প্রশ্ন ছিল স্বরূপ সম্পর্কে, কিন্তু উত্তরে তাঁর গুণ বর্ণনা করছে। [অথবা এর অর্থ, দেখ তার ধৃষ্টতা! কেবল আসমান-যমীনের রব বলেই ক্ষান্ত হচ্ছে না। তাকে আমার ও আমাদের বাপ-দাদাদেরও রব বলছে। পাগল না হলে কেউ আমার মুখের উপর এমন ভয়ংকর কথা বলতে পারে? -অনুবাদক]


২৬


قَالَ رَبُّكُمْ وَرَبُّ آبَائِكُمُ الْأَوَّلِينَ


কা-লা রাব্বুকুম ওয়ারাব্বুআবাইকুমুল আওওয়ালীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

মূসা বলল, তিনি তোমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদেরও প্রতিপালক।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

মূসা বলল, তিনি তোমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরও পালনকর্তা।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা বলল, ‘তিনি তোমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদের পূর্বপুরুষগণেরও প্রতিপালক।’


২৭


قَالَ إِنَّ رَسُولَكُمُ الَّذِي أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُونٌ


কা-লা ইন্না রাছূলাকুমুল্লাযী উরছিলা ইলাইকুম লামাজনূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

ফেরাউন বলল, তোমাদের এই রাসূল, যাকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে, একেবারেই উন্মাদ! ১১


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ফেরাউন বলল, তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের রসূলটি নিশ্চয়ই বদ্ধ পাগল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন বলল, ‘তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের রাসূল তো নিশ্চয়ই পাগল।’


তাফসীরঃ

১১. অর্থাৎ তোমরা শুনছ সে কী বলছে, আসমান-যমীনে আমি ছাড়া আরও নাকি রব আছে! তোমরা কি বিশ্বাস কর তার এ কথা? এই বলে সে তাদেরকে উত্তেজিত করতে চাচ্ছিল।


২৮


قَالَ رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَمَا بَيْنَهُمَا ۖ إِن كُنتُمْ تَعْقِلُونَ


কা-লা রাব্বুল মাশরিকিওয়াল মাগরিবি ওয়ামা-বাইনাহুমা- ইন কুনতুম তা‘কিলূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

মূসা বলল, তিনি প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের প্রতিপালক এবং এ দুয়ের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছুরও যদি তোমরা বুদ্ধির সদ্ব্যবহার কর। ১২


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

মূসা বলল, তিনি পূর্ব, পশ্চিম ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সব কিছুর পালনকর্তা, যদি তোমরা বোঝ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা বলল, ‘তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের এবং এদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর প্রতিপালক; যদি তোমরা বুঝতে !’


তাফসীরঃ

১২. অর্থাৎ তোমরা আমাকে উন্মাদ বলছ কি, নিজেদের আকলের খবর নাও। বুদ্ধি সুস্থ থাকলে সৃষ্টিকে স্রষ্টা বানাতে না। বরং বুঝতে পারতে এই মহাবিশ্ব ও এর অন্তর্গত অগণ্য সৃষ্টির সুষ্ঠু-সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা যিনি করেন, রব কেবল তিনিই। আর এ কাজ আল্লাহ ছাড়া আর কেউ করতে পারে না। সুতরাং তাকে ছাড়া আর কাউকে রব বানিয়ে তার ইবাদত করারও কোন বৈধতা নেই। এই যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য শুনে ফিরআউন সম্পূর্ণ নিরুত্তর হয়ে গেল। অগত্যা ক্ষমতাদর্পী শাসকেরা যা করে থাকে, সেও তাই করল। হুমকি দিল মূসা আলাইহিস সালাম এসব কথা থেকে ক্ষান্ত না হলে সে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। -অনুবাদক


২৯


قَالَ لَئِنِ اتَّخَذْتَ إِلَـٰهًا غَيْرِي لَأَجْعَلَنَّكَ مِنَ الْمَسْجُونِينَ


কা-লা লাইনিততাখাযতা ইলা -হান গাইরী লাআজ‘আলান্নাকা মিনাল মাছজূনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

সে বলল, (মনে রেখ) তুমি যদি আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে মাবুদ বলে গ্রহণ কর, তবে আমি তোমাকে অবশ্যই যারা জেলে পড়ে আছে, তাদের অন্তর্ভুক্ত করব।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ফেরাউন বলল, তুমি যদি আমার পরিবর্তে অন্যকে উপাস্যরূপে গ্রহণ কর তবে আমি অবশ্যই তোমাকে কারাগারে নিক্ষেপ করব।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন বলল, ‘তুমি যদি আমার পরিবর্তে অন্যকে ইলাহ রূপে গ্রহণ কর আমি তোমাকে অবশ্যই কারারুদ্ধ করব।’


৩০


قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكَ بِشَيْءٍ مُّبِينٍ


কা-লা আওয়ালাও জি’তুকা বিশাইয়িম মুবীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

মূসা বলল, আমি যদি (সত্যকে) পরিস্ফুটকারী কোন জিনিস তোমার নিকট উপস্থিত করি, তবুও কি?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

মূসা বলল, আমি তোমার কাছে কোন স্পষ্ট বিষয় নিয়ে আগমন করলেও কি?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা বলল, ‘আমি যদি তোমার নিকট কোন স্পষ্ট নিদর্শন আনয়ন করি, তবুও ?’


৩১


قَالَ فَأْتِ بِهِ إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ


কা-লা ফা’তি বিহীইন কুননতা মিনাসসা-দিকীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

ফেরাউন বলল, আচ্ছ, তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে তা উপস্থিত কর।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ফেরাউন বলল, তুমি সত্যবাদী হলে তা উপস্থিত কর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন বলল, ‘তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে তা উপস্থিত কর।’


৩২


فَأَلْقَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعْبَانٌ مُّبِينٌ


ফাআলকা-‘আসা-হু ফাইযা-হিয়া ছু‘বা-নুম মুবীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করল, তৎক্ষণাৎ তা সাক্ষাৎ অজগর হয়ে গেল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর তিনি লাঠি নিক্ষেপ করলে মুহূর্তের মধ্যে তা সুস্পষ্ট অজগর হয়ে গেল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরপর মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করলে তৎক্ষণাৎ তা এক সাক্ষাৎ অজগর হল।


৩৩


وَنَزَعَ يَدَهُ فَإِذَا هِيَ بَيْضَاءُ لِلنَّاظِرِينَ


ওয়া নাঝা‘আ ইয়াদাহূফাইযা-হিয়া বাইদাউ লিন্না-জিরীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং সে তার হাত (বগলের ভেতর থেকে) টেনে বের করল, অমনি তা দর্শকদের সামনে সাদা হয়ে গেল। ১৩


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আর তিনি তার হাত বের করলেন, তৎক্ষণাৎ তা দর্শকদের কাছে সুশুভ্র প্রতিভাত হলো।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং মূসা হাত বের করল আর তৎক্ষণাৎ তা দর্শকদের দৃষ্টিতে শুভ্র উজ্জ্বল প্রতিভাত হল।


তাফসীরঃ

১৩. ‘সাদা হয়ে গেল’ মানে উজ্জ্বল হয়ে গেল।


৩৪


قَالَ لِلْمَلَإِ حَوْلَهُ إِنَّ هَـٰذَا لَسَاحِرٌ عَلِيمٌ


কা-লা লিলমালায়ি হাওলাহূ ইন্না হা-যা-লাছা-হিরুন ‘আলীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

ফেরাউন তার আশপাশের নেতৃবর্গকে বলল, নিশ্চয়ই সে একজন সুদক্ষ যাদুকর।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ফেরাউন তার পরিষদবর্গকে বলল, নিশ্চয় এ একজন সুদক্ষ জাদুকর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন তার পারিষদবর্গকে বলল, ‘এ তো এক সুদক্ষ জাদুকর !


৩৫


يُرِيدُ أَن يُخْرِجَكُم مِّنْ أَرْضِكُم بِسِحْرِهِ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ


ইউরীদুআইঁ ইউখরিজাকুম মিন আরদিকুম বিছিহরিহী ফামা-যা-তা’মুরূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

সে তার যাদুবলে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে উৎখাত করতে চায়। এবার বল, তোমাদের অভিমত কী? ১৪


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সে তার জাদু বলে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বহিস্কার করতে চায়। অতএব তোমাদের মত কি?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এ তোমাদেরকে তোমাদের দেশ হতে তার জাদুবলে বহিষ্কার করতে চায়। এখন তোমরা কী করতে বল ?’


তাফসীরঃ

১৪. স্বৈরতন্ত্রী একনায়ক হওয়া সত্ত্বেও তাদের মতামত চাওয়া দ্বারা হয়ত তাদের মনোরঞ্জন করা উদ্দেশ্য ছিল। কেননা তার ভয় হয়েছিল, মূসা আলাইহিস সালামের মহা মুজিযা দেখে মিসরবাসী তার প্রতি বিশ্বাসী ও তার অনুসারী হয়ে যেতে পারে। -অনুবাদক


৩৬


قَالُوا أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَابْعَثْ فِي الْمَدَائِنِ حَاشِرِينَ


কা-লূ আরজিহ ওয়া আখা-হু ওয়াব‘আছফিল মাদা-ইনি হা-শিরীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলল, তাকে ও তার ভাইকে কিছুটা সময় দিন এবং নগরে-নগরে সংবাদবাহক পাঠিয়ে দিন


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা বলল, তাকে ও তার ভাইকে কিছু অবকাশ দিন এবং শহরে শহরে ঘোষক প্রেরণ করুন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা বলল, ‘তাকে ও তার ভাইকে কিছু অবকাশ দাও এবং নগরে নগরে সংগ্রাহকদেরকে পাঠাও,

আরো পড়ুন :-

স্মরণ শক্তি বৃদ্ধির দোয়া,মেধা বৃদ্ধির দোয়া,স্মৃতি শক্তি বাড়ানোর দোয়া!নামাজের পর ২১ বাড় পড়ুন

গর্ভের সন্তান কখন নষ্ট করা যাবে?,কতদিনের বাচ্চা নষ্ট করলে গুনাহ হবে না?, বাচ্চা নষ্ট করা জায়েজ আছে?, 

দোয়াটি পড়লে সাথে সাথে রাগ কমে যায়, রাগ কমানোর দোয়া,শিশুদের রাগ কমানোর আমল

(ads1)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#b50404)

৩৭


يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَحَّارٍ عَلِيمٍ


ইয়া’তূকা বিকুল্লি ছাহহা-রিন ‘আলীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যারা যত সুদক্ষ যাদুকর আছে, তাদেরকে আপনার কাছে নিয়ে আসবে (তারপর মূসা ও তাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হোক)।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা যেন আপনার কাছে প্রত্যেকটি দক্ষ জাদুকর কে উপস্থিত করে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যেন তারা তোমার নিকট প্রতিটি অভিজ্ঞ জাদুকর উপস্থিত করে।’


৩৮


فَجُمِعَ السَّحَرَةُ لِمِيقَاتِ يَوْمٍ مَّعْلُومٍ


ফাজুমি‘আছ ছাহারাতুলিমীকা-তি ইয়াওমিম মা‘লূম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং নির্ধারিত এক দিন সুনির্দিষ্ট সময়ে যাদুকরদের একত্র করা হল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর এক নির্দিষ্ট দিনে জাদুকরদেরকে একত্রিত করা হল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরপর এক নির্ধারিত দিনে নির্দিষ্ট সময়ে জাদুকরদেরকে একত্র করা হল,


৩৯


وَقِيلَ لِلنَّاسِ هَلْ أَنتُم مُّجْتَمِعُونَ


ওয়া কীলা লিন্না-ছি হাল আনতুম মুজতামি‘ঊন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং মানুষকে বলা হল, তোমরা সমবেত হচ্ছ তো?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং জনগণের মধ্যে ঘোষণা করা হল, তোমরাও সমবেত হও।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং লোকদেরকে বলা হল, ‘তোমরাও সমবেত হতেছ কি ?


৪০


لَعَلَّنَا نَتَّبِعُ السَّحَرَةَ إِن كَانُوا هُمُ الْغَالِبِينَ


লা‘আল্লানা-নাত্তাবি‘উছ ছাহারাতা ইন কা-নূহুমুল গা-লিবীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

হয়ত আমরা যাদুকরদের অনুগামী হতে পারব যদি তারাই জয়ী হয়।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যাতে আমরা জাদুকরদের অনুসরণ করতে পারি-যদি তারাই বিজয়ী হয়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যেন আমরা জাদুকরদের অনুসরণ করতে পারি, যদি এরা বিজয়ী হয়।’


৪১


فَلَمَّا جَاءَ السَّحَرَةُ قَالُوا لِفِرْعَوْنَ أَئِنَّ لَنَا لَأَجْرًا إِن كُنَّا نَحْنُ الْغَالِبِينَ


ফালাম্মা- জাআছছাহারাতুকা-লূলিফির‘আওনা আইন্না লানা- লাআজরান ইন কুন্নানাহনুল গা-লিবীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তারপর যখন যাদুকরগণ আসল, তখন তারা ফির‘আউনকে বলল, এটা তো নিশ্চিত যে, আমরা বিজয়ী হলে আমাদের জন্য কোন পুরস্কার থাকবে?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখন যাদুকররা আগমণ করল, তখন ফেরআউনকে বলল, যদি আমরা বিজয়ী হই, তবে আমরা পুরস্কার পাব তো?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরপর জাদুকরেরা এসে ফিরা‘আওনকে বলল, ‘আমরা যদি বিজয়ী হই আমাদের জন্যে পুরস্কার থাকবে তো ?


৪২


قَالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ إِذًا لَّمِنَ الْمُقَرَّبِينَ


কা-লা না‘আম ওয়া ইন্নাকুম ইযাল্লামিনাল মুকারবাবীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

ফির‘আউন বলল, হাঁ এবং তখন তোমরা অবশ্যই আমার ঘনিষ্টজনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। ১৫


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ফেরাউন বলল, হঁ্যা এবং তখন তোমরা আমার নৈকট্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফিরা‘আওন বলল, ‘হ্যাঁ, তখন তোমরা অবশ্যই আমার ঘনিষ্ঠদের শামিল হবে।’


তাফসীরঃ

১৫. অর্থাৎ কেবল আর্থিক পুরস্কারই নয়, পারিষদ হিসেবে বিশেষ মর্যাদাও তোমাদের দেওয়া হবে। -অনুবাদক


৪৩


قَالَ لَهُم مُّوسَىٰ أَلْقُوا مَا أَنتُم مُّلْقُونَ


কা-লা লাহুম মূছাআলকূমাআনতুম মুলকূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

মুসা যাদুকরদেরকে বলল, তোমাদের যা নিক্ষেপ করার তা নিক্ষেপ কর। ১৬


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

মূসা (আঃ) তাদেরকে বললেন, নিক্ষেপ কর তোমরা যা নিক্ষেপ করবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা এদেরকে বলল, ‘তোমাদের যা নিক্ষেপ করার তা নিক্ষেপ কর।’


তাফসীরঃ

১৬. এটা ছিল আল্লাহ-নির্ভরতাপ্রসূত আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ। অর্থাৎ সূচনা তোমরাই কর এবং তোমাদের যতদূর যা করার ক্ষমতা আছে, তা কর। আমি ওসবের কোন পরওয়া করি না। আল্লাহর সত্য নবী হিসেবে আমার এ বিশ্বাস আছে যে, আল্লাহ তাআলাই আমাকে সাহায্য করবেন এবং সত্যেরই জয় হবে। -অনুবাদক


৪৪


فَأَلْقَوْا حِبَالَهُمْ وَعِصِيَّهُمْ وَقَالُوا بِعِزَّةِ فِرْعَوْنَ إِنَّا لَنَحْنُ الْغَالِبُونَ


ফাআলকাও হিবা-লাহুম ওয়া ‘ইসিইইয়াহুম ওয়া কা-লূবি‘ইঝঝাতি ফির‘আওনা ইন্নালানাহনুল গা-লিবূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তখন তারা তাদের রশি ও লাঠি মাটিতে ফেলে দিল ১৭ এবং বলল, ফির‘আউনের ইজ্জতের শপথ! আমরাই বিজয়ী হব।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর তারা তাদের রশি ও লাঠি নিক্ষেপ করল এবং বলল, ফেরাউনের ইযযতের কসম, আমরাই বিজয়ী হব।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরপর এরা এদের রজ্জু ও লাঠি নিক্ষেপ করল এবং এরা বলল, ‘ফির‘আওনের ইজ্জতের শপথ ! আমরাই বিজয়ী হব।’


তাফসীরঃ

১৭. সূরা তোয়াহায় (২০ : ৬৬) বর্ণিত হয়েছে, যাদুকরগণ যে রশি ও লাঠিগুলো নিক্ষেপ করেছিল, তাদের যাদুর কারসাজিতে হঠাৎ মনে হচ্ছিল, যেন তা দৌড়াদৌড়ি করছে।


৪৫


فَأَلْقَىٰ مُوسَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ


ফাআলকা-মূছা-‘আসা-হু ফাইযা-হিইয়া তালকাফুমা-ইয়া’ফিকূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর মুসা নিজ লাঠি মাটিতে নিক্ষেপ করল। অমনি তা (অজগর হয়ে) তারা মিছামিছি যা তৈরি করেছিল তা গ্রাস করতে লাগল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর মূসা তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করল, হঠাৎ তা তাদের অলীক কীর্তিগুলোকে গ্রাস করতে লাগল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরপর মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করল, সহসা তা এদের অলীক সৃষ্টিগুলিকে গ্রাস করতে লাগল।


৪৬


فَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سَاجِدِينَ


ফাউলকিয়াছ ছাহারাতুছা-জিদীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

অনন্তর যাদুকরদেরকে সিজদায় পাতিত করা হল। ১৮


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তখন জাদুকররা সেজদায় নত হয়ে গেল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তখন জাদুকরেরা সিজ্দাবনত হয়ে পড়ল।


তাফসীরঃ

১৮. লক্ষ্য করার বিষয় হল, কুরআন মাজীদ এস্থলে ‘তারা সিজদায় পতিত হল’ না বলে, ভাষা ব্যবহার করেছে ‘তাদেরকে সিজদায় পাতিত করা হল’। এটা করা হয়েছে এজন্য যে, এর দ্বারা তাদের সিজদার প্রকৃতির দিকে ইশারা করা হয়েছে। অর্থাৎ তারা এমনিতেই সিজদা করেনি। হযরত মুসা আলাইহিস সালামের মুজিযাই তাদেরকে সিজদা করিয়েছে। সে মুজিযা এতই শক্তিশালী ছিল যে, তার প্রভাবে তারা সিজদা করতে বাধ্য হয়ে যায়।


৪৭


قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ الْعَالَمِينَ


কা-লূ আ-মান্না-বিরাব্বিল ‘আ-লামীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলতে লাগল, আমরা ঈমান আনলাম রাব্বুল আলামীনের প্রতি


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা বলল, আমরা রাব্বুল আলামীনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং বলল, ‘আমরা ঈমান আনয়ন করলাম জগতসমূহের প্রতিপালকের প্রতি-


৪৮


رَبِّ مُوسَىٰ وَهَارُونَ


রাব্বি মূছা-ওয়াহা-রূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যিনি মুসা ও হারূনের প্রতিপালক।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যিনি মূসা ও হারুনের রব।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যিনি মূসা ও হারূনেরও প্রতিপালক।’


৪৯


قَالَ آمَنتُمْ لَهُ قَبْلَ أَنْ آذَنَ لَكُمْ ۖ إِنَّهُ لَكَبِيرُكُمُ الَّذِي عَلَّمَكُمُ السِّحْرَ فَلَسَوْفَ تَعْلَمُونَ ۚ لَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُم مِّنْ خِلَافٍ وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ أَجْمَعِينَ


কা-লা আ-মানতুম লাহূকাবলা আন আ-যানা লাকুম ইন্নাহূলাকাবীরু কুমুল্লাযী ‘আল্লামাকুমুছ ছিহরা ফালাছাওফা তা‘লামূনা লাউকাত্তি‘আন্না আইদিয়াকুম ওয়া আরজুলাকুম মিন খিলা-ফিওঁ ওয়ালাউসালিলবান্নাকুম আজমা‘ঈন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

ফেরাউন বলল, আমি অনুমতি দেওয়ার আগেই তোমরা মূসার প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয়ই সে তোমাদের সকলের গুরু, যে তোমাদেরকে যাদু শিক্ষা দিয়েছে। আচ্ছা, তোমরা এখনই জানতে পারবে। আমি অবশ্যই তোমাদের সকলের এক দিকের হাত ও অন্য দিকের পা কেটে ফেলব এবং তোমাদের সকলকে শূলে চড়িয়ে ছাড়ব।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ফেরাউন বলল, আমার অনুমতি দানের পূর্বেই তোমরা কি তাকে মেনে নিলে? নিশ্চয় সে তোমাদের প্রধান, যে তোমাদেরকে জাদু শিক্ষা দিয়েছে। শীঘ্রই তোমরা পরিণাম জানতে পারবে। আমি অবশ্যই তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কর্তন করব। এবং তোমাদের সবাইকে শূলে চড়াব।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন বলল, ‘কী ! আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেওয়ার পূর্বেই তোমরা এতে বিশ্বাস করলে ? সে-ই তো তোমাদের প্রধান যে তোমাদেরকে জাদু শিক্ষা দিয়েছে। শীঘ্রই তোমরা এটার পরিণাম জানিবে। আমি অবশ্যই তোমাদের হাত এবং তোমাদের পা বিপরীত দিক হতে কর্তন করব এবং তোমাদের সকলকে শূলবিদ্ধ করবই।’


৫০


قَالُوا لَا ضَيْرَ ۖ إِنَّا إِلَىٰ رَبِّنَا مُنقَلِبُونَ


কা-লূলা-দাইরা ইন্নাইলা-রাব্বিনা- মুনকালিবূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যাদুকরগণ বলল, আমাদের কোন ক্ষতি নেই। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা আমাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যাব।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা বলল, কোন ক্ষতি নেই। আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তন করব।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা বলল, ‘কোন ক্ষতি নেই, আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকটই প্রত্যাবর্তন করব।


৫১


إِنَّا نَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لَنَا رَبُّنَا خَطَايَانَا أَن كُنَّا أَوَّلَ الْمُؤْمِنِينَ


ইন্না-নাতমা‘উ আইঁ ইউগফিরালানা- রাব্বুনা- খাতাইয়া-নাআন কুন্না আওওয়ালাল মু’মিনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আমরা আশা করি, আমাদের প্রতিপালক এ কারণে আমাদের পাপরাশি ক্ষমা করবেন যে, আমরা সকলের আগে ঈমান এনেছি।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমরা আশা করি, আমাদের পালনকর্তা আমাদের ক্রটি-বিচ্যুতি মার্জনা করবেন। কারণ, আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারীদের মধ্যে অগ্রণী।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমরা তো আশা করি, আমাদের প্রতিপালক আমাদের অপরাধ মার্জনা করবেন, কারণ আমরা মু’মিনদের মধ্যে অগ্রণী।’


৫২


۞ وَأَوْحَيْنَا إِلَىٰ مُوسَىٰ أَنْ أَسْرِ بِعِبَادِي إِنَّكُم مُّتَّبَعُونَ


ওয়া আওহাইনাইলা-মূছাআন আছরিবি‘ইবা-দী ইন্নাকুম মুত্তাবা‘ঊন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আমি মূসার কাছে ওহী পাঠালাম, আমার বান্দাদেরকে নিয়ে তুমি রাতারাতি রওয়ানা হয়ে যাও। তোমাদের কিন্তু অবশ্যই পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি মূসাকে আদেশ করলাম যে, আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাত্রিযোগে বের হয়ে যাও, নিশ্চয় তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি মূসার প্রতি ওহী করেছিলাম এই মর্মে : ‘আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাত্রিকালে বের হও, তোমাদের তো পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।’


৫৩


فَأَرْسَلَ فِرْعَوْنُ فِي الْمَدَائِنِ حَاشِرِينَ


ফাআরছালা ফির‘আওনুফিল মাদাইনি হা-শিরীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর ফির‘আউন শহরে শহরে সংবাদবাহক পাঠিয়ে দিল


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর ফেরাউন শহরে শহরে সংগ্রাহকদেরকে প্রেরণ করল,


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরপর ফির‘আওন শহরে শহরে লোক সংগ্রহকারী পাঠাইল,


৫৪


إِنَّ هَـٰؤُلَاءِ لَشِرْذِمَةٌ قَلِيلُونَ


ইন্না হাউলাই লাশিরযিমাতুন কালীলূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

(এই বলে যে,) তারা (অর্থাৎ বনী ইসরাঈল) ছোট্ট একটা দলের অল্পকিছু লোক।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নিশ্চয় এরা (বনী-ইসরাঈলরা) ক্ষুদ্র একটি দল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এই বলে, ‘এরা তো ক্ষুদ্র একটি দল


৫৫


وَإِنَّهُمْ لَنَا لَغَائِظُونَ


ওয়া ইন্নাহুম লানা-লাগাইজূ ন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই তারা আমাদের প্রচণ্ডভাবে ক্রুদ্ধ করে তুলেছে!


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং তারা আমাদের ক্রোধের উদ্রেক করেছে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং ‘এরা তো আমাদের ক্রোধ উদ্রেক করেছে ;


৫৬


وَإِنَّا لَجَمِيعٌ حَاذِرُونَ


ওয়া ইন্না-লাজামী‘উন হা-যিরূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আর আমরা সতর্ক (সশস্ত্র) একটি বড় দল (সুতরাং সকলে সম্মিলিতভাবে তাদের পশ্চাদ্ধাবন কর)।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং আমরা সবাই সদা শংকিত।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং আমরা তো সকলেই সদাশংকিত।’


৫৭


فَأَخْرَجْنَاهُم مِّن جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ


ফাআখরাজনা-হুম মিন জান্না-তিওঁ ওয়া ‘উয়ূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এভাবে আমি তাদেরকে বের করে আনলাম উদ্যানরাজি ও প্রস্রবণ হতে


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর আমি ফেরআউনের দলকে তাদের বাগ-বাগিচা ও ঝর্ণাসমূহ থেকে বহিষ্কার করলাম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পরিণামে আমি ফির‘আওন গোষ্ঠীকে বহিষ্কার করলাম এদের উদ্যানরাজি ও প্রস্রবণ হতে


৫৮


وَكُنُوزٍ وَمَقَامٍ كَرِيمٍ


ওয়া কুনূঝিওঁ ওয়া মাকা-মিন কারীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং ধনভাণ্ডার ও মর্যাদাপূর্ণ স্থানসমূহ থেকে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং ধন-ভান্ডার ও মনোরম স্থানসমূহ থেকে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং ধনভাণ্ডার ও সুরম্য সৌধমালা হতে।


৫৯


كَذَٰلِكَ وَأَوْرَثْنَاهَا بَنِي إِسْرَائِيلَ


কাযা-লিকা ওয়া আওরাছনা-হা-বানীইছরাঈল।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এ রকমই হয়েছিল তাদের ব্যাপার। আর (অন্য দিকে) আমি বনী ইসরাঈলকে বানিয়ে দিলাম তার উত্তরাধিকারী। ১৯


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরূপই হয়েছিল এবং বনী-ইসলাঈলকে করে দিলাম এসবের মালিক।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরূপই ঘটেছিল এবং বনী ইসরাঈলকে করেছিলাম এই সমুদয়ের অধিকারী।


তাফসীরঃ

১৯. এর ব্যাখ্যার জন্য দেখুন সূরা আরাফ (৭ : ১৩৭)-এর টীকা। [এর দুই অর্থ হতে পারে (ক) ফির‘আউন ও তার সম্প্রদায় উদ্যানরাজি, প্রস্রবণ ইত্যাদি পার্থিব যে নি‘আমতরাজী ভোগ করছিল এবং শেষ পর্যন্ত যা পেছনে ফেলে গিয়ে সাগরে নিমজ্জিত হয়েছিল, অনুরূপ নি‘আমত পরবর্তীকালে আমি বনী ইসরাঈলকে দান করেছিলাম। তারা শামের বরকতপূর্ণ ভূমিতে এসব নি‘আমতের অধিকারী হল। (খ) কোন কোন মুফাসসিরের মতে বনী ইসরাঈলকে ফির‘আউনী সম্প্রদায়ের পরিত্যক্ত সম্পদেরই উত্তরাধিকারী করা হয়েছিল। অর্থাৎ তাদের নিমজ্জিত হওয়ার পর বনী ইসরাঈল মিসরে প্রত্যাবর্তন করে সেখানে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। আর ঐতিহাসিকভাবে এটা প্রমাণিত না হলেও আরও পরে মিসর যখন হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের সাম্রাজ্যভুক্ত হয়ে যায়, তখন প্রকারান্তরে তা বনী ইসরাঈলেরই অধিকারে আসে। হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তো বনী ইসরাঈলেরই নবী ও বাদশাহ ছিলেন। -অনুবাদক, তাফসীরে উসমানীর বরাতে, দেখুন সূরা আরাফ ৭ : ১৩৭; সূরা শুআরা (২৬ : ৫৯) ও সূরা দুখান (৪৪ : ২৮)-এর টীকাসমূহ]


৬০


فَأَتْبَعُوهُم مُّشْرِقِينَ


ফাআতবা‘ঊহুম মুশরিকীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

সারকথা সূর্যোদয় মাত্রই তারা তাদের পশ্চাদ্ধাবনের উদ্দেশ্যে বের হয়ে পড়ল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর সুর্যোদয়ের সময় তারা তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা সূর্যোদয়কালে তাদের পশ্চাতে এসে পড়ল।


৬১


فَلَمَّا تَرَاءَى الْجَمْعَانِ قَالَ أَصْحَابُ مُوسَىٰ إِنَّا لَمُدْرَكُونَ


ফালাম্মা-তারাআল জাম‘আ-নি কা-লা আসহা-বুমূছাইন্না-লামুদরাকূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তারপর যখন উভয় দল একে অন্যকে দেখতে পেল, তখন মুসার সঙ্গীগণ বলল, এখন আমরা নির্ঘাত ধরা পড়ব। ২০


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখন উভয় দল পরস্পরকে দেখল, তখন মূসার সঙ্গীরা বলল, আমরা যে ধরা পড়ে গেলাম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরপর যখন দুই দল পরস্পরকে দেখল, তখন মূসার সঙ্গীরা বলল, ‘আমরা তো ধরা পড়ে গেলাম।’


তাফসীরঃ

২০. হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে চলতে থাকলেন। এক পর্যায়ে তাদের সামনে সাগর বাধা হয়ে দাঁড়াল। অপর দিকে ফির‘আউনও তার বাহিনী নিয়ে তাদের কাছাকাছি পৌঁছে গেল। হযরত মূসা আলাইহিস সালামের সঙ্গীগণ উপলব্ধি করল এখন আর বাঁচার কোন পথ নেই। হতাশ হয়ে তারা বলল উঠল, আমরা তো ধরা পড়ে গেলাম।


৬২


قَالَ كَلَّا ۖ إِنَّ مَعِيَ رَبِّي سَيَهْدِينِ


কা-লা কাল্লা- ইন্না মা‘ইয়া রাববী ছাইয়াহদীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

মুসা বলল, কখনও নয়। আমার সঙ্গে নিশ্চিতভাবেই আমার প্রতিপালক আছেন। তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

মূসা বলল, কখনই নয়, আমার সাথে আছেন আমার পালনকর্তা। তিনি আমাকে পথ বলে দেবেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা বলল, ‘কখনই নয় ! আমার সঙ্গে আছেন আমার প্রতিপালক ; সত্বর তিনি আমাকে পথনির্দেশ করবেন।’


৬৩


فَأَوْحَيْنَا إِلَىٰ مُوسَىٰ أَنِ اضْرِب بِّعَصَاكَ الْبَحْرَ ۖ فَانفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرْقٍ كَالطَّوْدِ الْعَظِيمِ


ফাআওহাইনাইলা-মূছাআনিদরিব বি‘আসাকাল বাহ রা ফানফালাকা ফাকা-না কুল্লু ফিরকিন কাততাওদিল ‘আজীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং আমি মূসার কাছে ওহী পাঠালাম, তুমি তোমার লাঠি দ্বারা সাগরে আঘাত কর। ফলে সাগর বিদীর্ণ হল এবং প্রত্যেক ভাগ বড় পাহাড়ের মত উঁচু হয়ে গেল। ২১


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর আমি মূসাকে আদেশ করলাম, তোমার লাঠি দ্বারা সমূদ্রকে আঘাত কর। ফলে, তা বিদীর্ণ হয়ে গেল এবং প্রত্যেক ভাগ বিশাল পর্বতসদৃশ হয়ে গেল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরপর মূসার প্রতি ওহী করলাম, ‘তোমার যষ্টি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত কর।’ ফলে তা বিভক্ত হয়ে প্রত্যেক ভাগ বিশাল পর্বতসদৃশ হয়ে গেল ;


তাফসীরঃ

২১. আল্লাহ তাআলা পানিকে কয়েক ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগকে পাহাড়ের মত উঁচু করে দিলেন। ফলে তার ফাঁকে ফাঁকে শুকনো পথ তৈরি হয়ে গেল।


৬৪


وَأَزْلَفْنَا ثَمَّ الْآخَرِينَ


ওয়া আঝলাফনা-ছাম্মাল আ-খারীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

অন্য দলটিকেও আমি সেথায় উপনীত করলাম। ২২


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি সেথায় অপর দলকে পৌঁছিয়ে দিলাম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি সেখানে উপনীত করলাম অপর দলটিকে,


তাফসীরঃ

২২. ফির‘আউনের বাহিনী সাগরের বুকে রাস্তা দেখতে পেয়ে মনে করল তারাও তা দিয়ে পার হয়ে যাবে। যেই না তারা মধ্য সাগরে পৌঁছল, আল্লাহ তাআলা সাগরকে তার আসল অবস্থায় ফিরিয়ে দিলেন। ফলে ফির‘আউন গোটা বাহিনীসহ তাতে ডুবে মরল। এ ঘটনা সূরা ইউনুসে (১০ : ৯১, ৯২) বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।


৬৫


وَأَنجَيْنَا مُوسَىٰ وَمَن مَّعَهُ أَجْمَعِينَ


ওয়া আনজাইনা-মূছা-ওয়ামাম মা‘আহূআজমা‘ঈন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং মূসা ও তার সঙ্গী সকলকে রক্ষা করলাম।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং মূসা ও তাঁর সংগীদের সবাইকে বাঁচিয়ে দিলাম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং আমি উদ্ধার করলাম মূসা ও তার সঙ্গী সকলকে,


৬৬


ثُمَّ أَغْرَقْنَا الْآخَرِينَ


ছু ম্মা আগরাকনাল আ-খারীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তারপর অন্যদেরকে করলাম নিমজ্জিত।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর অপর দলটিকে নিমজ্জত কললাম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তৎপর নিমজ্জিত করলাম অপর দলটিকে।


৬৭


إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ


ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাওঁ ওয়ামা-কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয় এর মধ্যে শিক্ষার বিষয় রয়েছে। তা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশেই ঈমান আনে না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নিশ্চয় এতে একটি নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী ছিল না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু এদের অধিকাংশই মু’মিন নয়।


৬৮


وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ


ওয়া ইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আঝীঝুর রাহীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু ২৩


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আপনার পালনকর্তা অবশ্যই পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।


তাফসীরঃ

২৩. এসব নবী ও তাঁর সম্প্রদায়ের বৃত্তান্ত দ্বারা একদিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সান্তনা দেওয়া হয়েছে যে, অত্যন্ত মমতার সাথে আপন সম্প্রদায়কে দীনের দাওয়াত দান ও তার বিপরীতে কওমের পক্ষ হতে দুঃখ-কষ্ট ভোগের এ ধারা প্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে, এটা আপনার জন্য অভিনব কিছু নয়। সুতরাং নিজ সম্প্রদায়ের আচরণে আপনি বেশি দুঃখিত হবেন না। সেই সঙ্গে পুনরাবৃত্তির সঙ্গে জানানো হয়েছে যে, এসব ঘটনার মধ্যে মানুষের জন্য যথার্থ শিক্ষা আছে। কিন্তু অল্পসংখ্যক লোকই তা দেখে ঈমান আনে আর অধিকাংশেই আনে না। কিন্তু আপনার প্রতিপালক তো পরাক্রমশালী ও দয়াময়। সুতরাং তিনি ঈমানদারদের প্রতি দয়াবরবশ হয়ে চূড়ান্ত বিজয় তাদেরকেই দান করেন। আর সেই দয়ার কারণেই অবিশ্বাসীদেরকেও প্রথমেই শাস্তি দান করেন না; বরং তাদেরকে চিন্তা-ভাবনা করার অবকাশ দেন। শেষ পর্যন্ত কোনওক্রমেই যখন ঈমান আনে না, তখন নিজ পরাক্রমশালীতার প্রকাশ ঘটান এবং তাদেরকে চূড়ান্ত শাস্তি দান করেন। -অনুবাদক


৬৯


وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ إِبْرَاهِيمَ


ওয়াতলু‘আলাইহিম নাবাআ ইবরা-হীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

(হে নবী!) তাদেরকে শোনাও ইবরাহীমের বৃত্তান্ত।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আর তাদেরকে ইব্রাহীমের বৃত্তান্ত শুনিয়ে দিন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এদের নিকট ইব্রাহীমের বৃত্তান্ত বর্ণনা কর।


৭০


إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ مَا تَعْبُدُونَ


ইযকা-লা লিআবীহি ওয়া কাওমিহী মা-তা‘বুদূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যখন সে তার পিতা ও সম্প্রদায়কে বলল, তোমরা কিসের ইবাদত কর।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখন তাঁর পিতাকে এবং তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, তোমরা কিসের এবাদত কর?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে যখন তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘তোমরা কিসের ‘ইবাদত কর ?’


৭১


قَالُوا نَعْبُدُ أَصْنَامًا فَنَظَلُّ لَهَا عَاكِفِينَ


কা-লূনা‘বুদুআসনা-মান ফানাজালুল লাহা -‘আ-কিফীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলল, আমরা প্রতিমাদের ইবাদত করি এবং তাদেরই সামনে ধর্ণা দিয়ে থাকি।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা বলল, আমরা প্রতিমার পূজা করি এবং সারাদিন এদেরকেই নিষ্ঠার সাথে আঁকড়ে থাকি।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা বলল, ‘আমরা মূর্তির পূজা করি এবং আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে এদের পূজায় নিরত থাকব।’


৭২


قَالَ هَلْ يَسْمَعُونَكُمْ إِذْ تَدْعُونَ


কা-লা হাল ইয়াছমা‘উনাকুম ইযতাদ‘ঊন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

ইবরাহীম বলল, তোমরা যখন তাদেরকে ডাক, তখন তারা কি তোমাদের কথা শোনে?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ইব্রাহীম (আঃ) বললেন, তোমরা যখন আহবান কর, তখন তারা শোনে কি?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘তোমরা প্রার্থনা করলে এরা কি শুনে ?’


৭৩


أَوْ يَنفَعُونَكُمْ أَوْ يَضُرُّونَ


আও ইয়ানফা‘ঊনাকুম আও ইয়াদুররূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

কিংবা তারা কি তোমাদের কোন উপকার বা ক্ষতি করতে পারে?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অথবা তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘অথবা এরা কি তোমাদের উপকার কিংবা অপকার করতে পারে ?’


৭৪


قَالُوا بَلْ وَجَدْنَا آبَاءَنَا كَذَٰلِكَ يَفْعَلُونَ


কা-লূবাল ওয়া জাদনাআ-বাআনা-কাযা-লিকা ইয়াফ‘আলূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলল, আসল কথা হল, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে এমনই করতে দেখেছি।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা বললঃ না, তবে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি, তারা এরূপই করত।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা বলল, ‘না, তবে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এরূপই করতে দেখেছি।’


৭৫


قَالَ أَفَرَأَيْتُم مَّا كُنتُمْ تَعْبُدُونَ


কা-লা আফারাআইতুম মা-কুনতুম তা‘বুদূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

ইবরাহীম বলল, তোমরা কি কখনও গভীরভাবে লক্ষ্য করে দেখছ তোমরা কিসের ইবাদত করছ?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ইব্রাহীম বললেন, তোমরা কি তাদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ, যাদের পূজা করে আসছ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘তোমরা কি ভেবে দেখেছ, কিসের পূজা করছো,


৭৬


أَنتُمْ وَآبَاؤُكُمُ الْأَقْدَمُونَ


আনতুম ওয়া আ-বাউকুমুল আকদামূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তোমরা এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষগণ? ২৪


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমরা এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষেরা ?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমরা এবং তোমাদের অতীত পিতৃপুরুষেরা?


তাফসীরঃ

২৪. অর্থাৎ তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষ যে প্রতিমাদের উপাসনা করছ তোমরা কি চিন্তা করে দেখেছ তারা ইবাদত লাভের উপযুক্ত কিনা? একটু যদি চিন্তা করতে, স্পষ্টভাবেই বুঝতে পারতে, নিজ হাতে গড়া জড়প্রতিমার পূজা করা চরম মূর্খতা ও নির্বুদ্ধিতার কাজ এবং তখন তোমরা নিজেরাই ঘৃণাভরে তাদের পরিত্যাগ করতে। -অনুবাদক


৭৭


فَإِنَّهُمْ عَدُوٌّ لِّي إِلَّا رَبَّ الْعَالَمِينَ


ফাইন্নাহুম ‘আদুওউললী ইল্লা-রাব্বাল ‘আ-লামীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এরা সব আমার শত্রু এক রাব্বুল আলামীন ছাড়া।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বিশ্বপালনকর্তা ব্যতীত তারা সবাই আমার শত্রু।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এরা সকলেই আমার শত্রু, জগতসমূহের প্রতিপালক ব্যতীত;


৭৮


الَّذِي خَلَقَنِي فَهُوَ يَهْدِينِ


আল্লাযী খালাকানী ফাহুওয়া ইয়াহদীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনিই আমার পথপ্রদর্শন করেন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনিই আমাকে পথপ্রদর্শন করেন,


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই আমাকে পথ প্রদর্শন করেন।


৭৯


وَالَّذِي هُوَ يُطْعِمُنِي وَيَسْقِينِ


ওয়াল্লাযী হুওয়া ইউত‘ইমুনী ওয়া ইয়াছকীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং আমাকে খাওয়ান ও পান করান।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যিনি আমাকে আহার এবং পানীয় দান করেন,


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তিনিই আমাকে দান করেন আহার্য ও পানীয়।


৮০


وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ


ওয়া ইযা-মারিদতুফাহুওয়া ইয়াশফীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং আমি যখন পীড়িত হই, আমাকে শেফা দান করেন। ২৫


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই আরোগ্য দান করেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং রোগাক্রান্ত হলে তিনিই আমাকে রোগমুক্ত করেন ;


তাফসীরঃ

২৫. হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের আদব-কায়দা লক্ষ্য করুন। অসুস্থতাকে তো নিজের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে বলছেন, ‘আমি পীড়িত’ হই। কিন্তু আরোগ্য দানকে আল্লাহ তাআলার কাজরূপে উল্লেখ করে বলেন, ‘তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন’। এর দ্বারা এদিকেও ইশারা হতে পারে যে, রোগ-ব্যাধি মানুষের কোন ত্রুটির কারণে হয়ে থাকে আর শেফা সরাসরি আল্লাহ তাআলার দান।


৮১


وَالَّذِي يُمِيتُنِي ثُمَّ يُحْيِينِ


ওয়াল্লাযী ইউমীতুনী ছুম্মা ইউহঈন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং যিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন, ফের আমাকে জীবিত করবেন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন, অতঃপর পুনর্জীবন দান করবেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং তিনিই আমার মৃত্যু ঘটাবেন, এরপর পুনর্জীবিত করবেন।


৮২


وَالَّذِي أَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لِي خَطِيئَتِي يَوْمَ الدِّينِ


ওয়াল্লাযীআতমা‘উ আইঁ ইয়াগফিরালী খাতীআতী ইয়াওমাদ দীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং যার কাছে আমি আশা রাখি, হিসাব-নিকাশের দিন তিনি আমার অপরাধসমূহ ক্ষমা করবেন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি আশা করি তিনিই বিচারের দিনে আমার ক্রটি-বিচ্যুতি মাফ করবেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং আশা করি, তিনি কিয়ামত দিবসে আমার অপরাধ মার্জনা করে দিবেন।


৮৩


رَبِّ هَبْ لِي حُكْمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ


রাব্বি হাবলী হুকমাওঁ ওয়া আল হিকনী বিসসা-লিহীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

হে আমার প্রতিপালক! আমাকে হেকমত দান করুন এবং আমাকে নেককার লোকদের অন্তর্ভুক্ত করুন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে আমার পালনকর্তা, আমাকে প্রজ্ঞা দান কর এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত কর


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমার প্রতিপালক ! আমাকে জ্ঞান দান কর এবং সৎকর্মপরায়ণদের শামিল কর।


৮৪


وَاجْعَل لِّي لِسَانَ صِدْقٍ فِي الْآخِرِينَ


ওয়াজ‘আললী লিছা-না সিদকিন ফিল আ-খিরীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং পরবর্তীকালীন লোকদের মধ্যে আমার পক্ষে এমন রসনা সৃষ্টি করুন, যা আমার সততার সাক্ষ্য দেবে। ২৬


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে সত্যভাষী কর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে যশস্বী কর,


তাফসীরঃ

২৬. অর্থাৎ এমন সৎকর্ম ও সুকীর্তির তাওফীক দান করুন, যাতে পরবর্তী প্রজন্ম আমার সুখ্যাতি করে ও আমার অনুসরণ করতে আগ্রহী হয়। অথবা এর অর্থ, শেষ যমানায় যেন আমার বংশধরদের মধ্যে নবী ও আমার অনুসারী হয়, যারা আমার দীনকে নবজীবন দান করবে। আল্লাহ তাআলা তাঁর এ দুআ এমনভাবে কবুল করেছেন যে, আজ সকল আসমানী ধর্মের অনুসারীরা এমনকি যারা তার আদর্শ হতে বিচ্যুত, তারা পর্যন্ত তার অকুণ্ঠ প্রশংসা করে এবং নিজেদেরকে তার দীনের পরিচয়ে পরিচিত করতে গর্ববোধ করে। শেষনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো নিজেকে তাঁরই দুআর ফসল বলে প্রকাশ করতেন এবং তিনি ও তার অনুসারীগণ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের এমনই স্মৃতিচারণকারী যে, পাঁচ ওয়াক্তের নামাযে তারা নিত্যদিন উচ্চারণ করেন كَمَا صَلَّيْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيْمَ كَمَا بَارَكْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيْمَ (-অনুবাদক, তাফসীরে উসমানী অবলম্বনে)


৮৫


وَاجْعَلْنِي مِن وَرَثَةِ جَنَّةِ النَّعِيمِ


ওয়াজ‘আলনী মিওঁ ওয়ারাছাতি জান্নাতিন না‘ঈম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং আমাকে সেই সকল লোকের অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা হবে নি‘আমতপূর্ণ জান্নাতের অধিকারী।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং আমাকে নেয়ামত উদ্যানের অধিকারীদের অন্তর্ভূক্ত কর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং আমাকে সুখময় জান্নাতের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর,


৮৬


وَاغْفِرْ لِأَبِي إِنَّهُ كَانَ مِنَ الضَّالِّينَ


ওয়াগফির লিআবী ইন্নাহূকা-না মিনাদ্দাল্লীন,


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং আমার পিতাকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই তিনি পথভ্রষ্টদের একজন। ২৭


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং আমার পিতাকে ক্ষমা কর। সে তো পথভ্রষ্টদের অন্যতম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আর আমার পিতাকে ক্ষমা কর, তিনি তো পথভ্রষ্টদের শামিল ছিলেন।


তাফসীরঃ

২৭. সূরা মারয়ামে (১৯ : ৪৭) গেছে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম পিতার সঙ্গে ওয়াদা করেছিলেন, তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে তার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করবেন। কিন্তু যখন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা আসল এবং তিনি জানতে পারলেন, পিতা কখনও ঈমান আনবে না, তখন তিনি ক্ষান্ত হয়ে গেলেন এবং তার সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কচ্ছেদ ঘোষণা করলেন। যেমন সূরা তাওবায় বলা হয়েছে (৯ : ১১৪)।


৮৭


وَلَا تُخْزِنِي يَوْمَ يُبْعَثُونَ


ওয়ালা-তুখঝিনী ইয়াওমা ইউব‘আছূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং আমাকে সেই দিন লাঞ্ছিত করবেন না, যে দিন মানুষকে পুনরায় জীবিত করা হবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং পূনরুত্থান দিবসে আমাকে লাঞ্ছিত করো না,


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং আমাকে লাঞ্ছিত কর না পুনরুত্থান দিবসে


৮৮


يَوْمَ لَا يَنفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ


ইয়াওমা লা-ইয়ানফা‘উ মা-লুওঁ ওয়ালা-বানূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যে দিন কোন অর্থ-সম্পদ কাজে আসবে না এবং সন্তান-সন্ততিও না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যে দিবসে ধন-সম্পদ ও সন্তান সন্ততি কোন উপকারে আসবে না;


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন কাজে আসবে না ;


৮৯


إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ


ইল্লা-মান আতাল্লা-হা বিকালবিন ছালীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তবে যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে সুস্থ মন নিয়ে (সে মুক্তি পাবে)।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

কিন্তু যে সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে আসবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘সেদিন উপকৃত হবে কেবল সে, যে আল্লাহ্ র নিকট আসবে বিশুদ্ধ অন্তকরণ নিয়ে ।’


৯০


وَأُزْلِفَتِ الْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَ


ওয়া উঝলিফাতিল জান্নাতুলিলমুত্তাকীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

জান্নাতকে মুত্তাকীদের কাছে নিয়ে আসা হবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

জান্নাত আল্লাহভীরুদের নিকটবর্তী করা হবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুত্তাকীদের নিকটবর্তী করা হবে জান্নাত,


৯১


وَبُرِّزَتِ الْجَحِيمُ لِلْغَاوِينَ


ওয়া বুররিঝাতিল জাহীমুলিলগা-বীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং জাহান্নামকে পথভ্রষ্টদের সামনে উন্মুক্ত করা হবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং বিপথগামীদের সামনে উম্মোচিত করা হবে জাহান্নাম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং পথভ্রষ্টদের জন্যে উন্মোচিত করা হবে জাহান্নাম ;


৯২


وَقِيلَ لَهُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ تَعْبُدُونَ


ওয়াকীলা লাহুম আইনামা-কুনতুম তা‘বুদূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং তাদেরকে বলা হবে, তোমরা যাদের ইবাদত করতে তারা কোথায়?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তাদেরকে বলা হবেঃ তারা কোথায়, তোমরা যাদের পূজা করতে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এদেরকে বলা হবে, ‘তারা কোথায়, তোমরা যাদের ‘ইবাদত করতে-


৯৩


مِن دُونِ اللَّهِ هَلْ يَنصُرُونَكُمْ أَوْ يَنتَصِرُونَ


মিন দূ নিল্লাহি হাল ইয়ানসুরূনাকুম আও ইয়ানতাসিরূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহকে ছেড়ে তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারবে কিংবা পারবে কি তারা আত্মরক্ষা করতে?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহর পরিবর্তে? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে, অথবা তারা প্রতিশোধ নিতে পারে?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আল্লাহ্ র পরিবর্তে ? এরা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে বা এরা কি আত্মরক্ষা করতে সক্ষম ?


৯৪


فَكُبْكِبُوا فِيهَا هُمْ وَالْغَاوُونَ


ফাকুবকিবূফীহা-হুম ওয়ালগা-ঊন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর তাদেরকে ও পথভ্রষ্টদেরকে অধোমুখী করে নিক্ষেপ করা হবে জাহান্নামে ২৮


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর তাদেরকে এবং পথভ্রষ্টদেরকে আধোমুখি করে নিক্ষেপ করা হবে জাহান্নামে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরপর এদেরকে এবং পথভ্রষ্টদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে অধোমুখী করে,


তাফসীরঃ

২৮. অর্থাৎ বিপথগামীদের সাথে তাদের মিথ্যা উপাস্যদেরকেও জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তাদের মধ্যে কতক তো এমন যারা নিজেরাও নিজেদেরকে উপাস্য বলে দাবি করেছিল, যে কারণে তারা জাহান্নামে যাওয়ারই উপযুক্ত। আর কতক হল পাথরের মূর্তি। সেগুলোকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে পূজারীদেরকে দেখানোর জন্য যে, তোমরা যাদেরকে মাবুদ মনে করতে, দেখে নাও তাদের দশা কী হয়েছে।


৯৫


وَجُنُودُ إِبْلِيسَ أَجْمَعُونَ


ওয়াজুনূদুইবলীছা আজমা‘উন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং ইবলীসের সমস্ত বাহিনীকেও। ২৯


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং ইবলীস বাহিনীর সকলকে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং ইবলিসের বাহিনীর সকলকেও।


তাফসীরঃ

২৯. ‘ইবলীসের বাহিনী’ হল দুষ্ট জিনেরা অথবা জিন ও ইনসানের মধ্যে যারা তার অনুসরণ করে তারা। -অনুবাদক


৯৬


قَالُوا وَهُمْ فِيهَا يَخْتَصِمُونَ


কা-লূওয়া হুম ফীহা-ইয়াখতাসিমূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

সেখানে তারা পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ে (তাদের উপাস্যদেরকে) বলবে


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা তথায় কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হয়ে বলবেঃ


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা সেখানে বিতর্কে লিপ্ত হয়ে বলবে,


৯৭


تَاللَّهِ إِن كُنَّا لَفِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ


তাল্লা-হি ইন কুন্না-লাফী দালা-লিম মুবীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহর কসম! আমরা তো সেই সময় স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিলাম


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহর কসম, আমরা প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিলাম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আল্লাহ্ র শপথ ! আমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতেই ছিলাম,


৯৮


إِذْ نُسَوِّيكُم بِرَبِّ الْعَالَمِينَ


ইযনুছাওবীকুম বিরাব্বিল ‘আ-লামীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যখন আমরা তোমাদেরকে ‘রাব্বুল আলামীনের’ সমকক্ষ গণ্য করতাম।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখন আমরা তোমাদেরকে বিশ্ব-পালনকর্তার সমতুল্য গন্য করতাম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যখন আমরা তোমাদেরকে জগতসমূহের প্রতিপালকের সমকক্ষ গণ্য করতাম।


৯৯


وَمَا أَضَلَّنَا إِلَّا الْمُجْرِمُونَ


ওয়ামাআদাল্লানাইল্লাল মুজরিমূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আমাদেরকে তো বড় বড় অপরাধীরাই বিভ্রান্ত করেছিল। ৩০


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমাদেরকে দুষ্টকর্মীরাই গোমরাহ করেছিল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমাদেরকে দুষ্কৃতিকারীরাই বিভ্রান্ত করেছিল।


তাফসীরঃ

৩০. অপরাধী বলে কাফেরদের বড় বড় নেতাদের বোঝানো হয়েছে, যারা নিজেরাও কুফর ধরে রেখেছে, অন্যদেরকেও তাতে উৎসাহিত করেছে এবং তাদের দেখাদেখি আরও অনেকে কুফরের পথ বেছে নিয়েছে।


১০০


فَمَا لَنَا مِن شَافِعِينَ


ফামা-লানা-মিন শা-ফি‘ঈন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

পরিণামে আমাদের না আছে কোন রকম সুপারিশকারী।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতএব আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘পরিণামে আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই।


১০১


وَلَا صَدِيقٍ حَمِيمٍ


ওয়ালা সাদীকিন হামীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আর না এমন কোন সহৃদয় বন্ধু।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং কোন সহৃদয় বন্ধু ও নেই।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং কোন সহৃদয় বন্ধুও নেই।


১০২


فَلَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ


ফালাও আন্না লানা-কাররাতান ফানাকূনা মিনাল মু’মিনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

হায়! আমাদের যদি একবার (দুনিয়ায়) ফিরে যাওয়ার সুযোগ লাভ হত, তবে আমরা অবশ্যই মুমিন হয়ে যেতাম। ৩১


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হায়, যদি কোনরুপে আমরা পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ পেতাম, তবে আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়ে যেতাম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হায়, যদি আমাদের একবার প্রত্যাবর্তনের সুযোগ ঘটত, তা হলে আমরা মু’মিনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম!


তাফসীরঃ

৩১. এটা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সেই ভাষণ যা তিনি নিজ সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে দিয়েছিলেন। ঘটনার অবশিষ্টাংশ এস্থলে উল্লেখ করা হয়নি। পূর্বে সূরা আম্বিয়ায় (২১ : ৫১) তা বিস্তারিত চলে গেছে। কিছুটা সামনে সূরা সাফফাতে (৩৭ : ৮৩) আসছে।


১০৩


إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ


ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাওঁ ওয়ামা-কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই এর মধ্যে শিক্ষার বিষয় আছে। তা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশে ঈমান আনে না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নিশ্চয়, এতে নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু এদের অধিকাংশ মু’মিন নয়।


১০৪


وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ


ওয়া ইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আঝীঝুর রাহীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।


১০৫


كَذَّبَتْ قَوْمُ نُوحٍ الْمُرْسَلِينَ


কাযযাবাত কাওমুনূহিনিল মুরছালীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নূহের সম্প্রদায় রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নূহের সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যারোপ করেছে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নূহের সম্প্রদায় রাসূলগণের প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছিল।


১০৬


إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ نُوحٌ أَلَا تَتَّقُونَ


ইযকা-লা লাহুম আখূহুম নূহুন ‘আলা-তাত্তাকূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যখন তাদের ভাই নূহ তাদেরকে বলেছিল, তোমরা কি আল্লাহকে ভয় কর না?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখন তাদের ভ্রাতা নূহ তাদেরকে বললেন, তোমাদের কি ভয় নেই?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন এদের ভাই নূহ্ এদেরকে বলল, ‘তোমরা কি সাবধান হবে না ?


১০৭


إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ


ইন্নী লাকুম রাছূলুন আমীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই আমি তোমদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত বার্তাবাহক।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তো তোমাদের জন্যে এক বিশ্বস্ত রাসূল।


১০৮


فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ


ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়া আতী‘ঊন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।


১০৯


وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ الْعَالَمِينَ


ওয়ামাআছআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা-‘আলা-রাব্বিল ‘আলামীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আমি এ কাজের বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। আমার প্রতিদান বিশ্বজগতের প্রতিপালক নিজ দায়িত্বে রেখেছেন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান তো বিশ্ব-পালনকর্তাই দেবেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তোমাদের নিকট এটার জন্যে কোন প্রতিদান চাহি না ; আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকটই আছে।


১১০


فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ


ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়াআতী‘ঊন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার কথা মান।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘সুতরাং তোমরা আল্লাহ্কে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।’


১১১


۞ قَالُوا أَنُؤْمِنُ لَكَ وَاتَّبَعَكَ الْأَرْذَلُونَ


কা-লূআনু’মিনুলাকা ওয়াত্তাবা‘আকাল আরযালূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলল, আমরা কি তোমার প্রতি ঈমান আনব, অথচ তোমার অনুসরণ করছে কেবল নিম্নস্তরের লোকজন?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা বলল, আমরা কি তোমাকে মেনে নেব যখন তোমার অনুসরণ করছে ইতরজনেরা?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা বলল, ‘আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব অথচ ইতরজনেরা তোমার অনুসরণ করছে?’


১১২


قَالَ وَمَا عِلْمِي بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ


কা-লা ওয়ামা-‘ইলমী বিমা-কা-নূইয়া‘মালূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নূহ বলল, তারা কী কাজ করে তার আমি কি জানি? ৩২


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নূহ বললেন, তারা কি কাজ করছে, তা জানা আমার কি দরকার?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নূহ্ বলল, ‘এরা কী করত তা আমার জানা নেই।’


তাফসীরঃ

৩২. কাফেরগণ সর্বদা হযরত নূহ আলাইহিস সালামকে তাঁর অনুসারীদেরকে নিয়ে খোঁচাত। বলত, তাঁর অনুসারীরা সব নিম্নস্তরের লোক। ক্ষুদ্র পেশায় নিয়োজিত থাকার কারণে তাদের কোন সামাজিক মান নেই। হযরত নূহ আলাইহিস সালাম জবাবে বলতেন, তাদের পেশা কী ও কী কাজ করে তার সাথে আমার কী সম্পর্ক। আমার তা জানার ও তার খোঁজ নেওয়ার কী দরকার? তারা ঈমান এনেছে এটাই বড় কথা। আল্লাহ কারও পেশা কী তা জিজ্ঞেস করবেন না? তিনি জিজ্ঞেস করবেন ঈমান ও আমল সম্পর্কে।


১১৩


إِنْ حِسَابُهُمْ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّي ۖ لَوْ تَشْعُرُونَ


ইন হিছা-বুহুম ইল্লা-‘আলা-রাববী লাও তাশ‘উরূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তাদের হিসাব নেওয়া অন্য কারও নয়, কেবল আমার প্রতিপালকেরই কাজ। ৩৩ হায়! তোমরা যদি বুঝতে!


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তাদের হিসাব নেয়া আমার পালনকর্তারই কাজ; যদি তোমরা বুঝতে!


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এদের হিসেব গ্রহণ তো আমার প্রতিপালকেরই কাজ; যদি তোমরা বুঝতে!


তাফসীরঃ

৩৩. কাফেরদের উপরিউক্ত আপত্তির ভেতর এই ইঙ্গিতও ছিল যে, নিম্নস্তরের লোক হওয়ায় ওদের বুদ্ধিশুদ্ধিও কম। কাজেই কিছু চিন্তা-ভাবনা করে যে ঈমান এনেছে এমন নয়; বরং উপস্থিত কোন সুবিধা দেখেছে আর আপনার সাথে জুটে গেছে। এ বাক্যে তাদের সে মন্তব্যের জবাব দেওয়া হয়েছে যে, যদি ধরেও নেওয়া যায় তারা খাঁটি মনে ঈমান আনেনি, তাদের অন্তরে অন্য কোন ভাবনা আছে, তবুও আমি তাদের তাড়াতে পারি না; বরং মুমিন হিসেবে তাদের মূল্যায়ন করা আমার কর্তব্য। কেননা মনে কি আছে না আছে তা যাচাই করার দায়িত্ব আমার নয়। তার হিসাব আল্লাহ তাআলাই নিবেন।


১১৪


وَمَا أَنَا بِطَارِدِ الْمُؤْمِنِينَ


ওয়ামাআনা বিতা-রিদিল মু’মিনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আমি মুমিনদেরকে আমার কাছ থেকে তাড়িয়ে দিতে পারি না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি মুমিনগণকে তাড়িয়ে দেয়ার লোক নই।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘মু’মিনদেরকে তাড়াইয়া দেওয়া আমার কাজ নয়।


১১৫


إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ مُّبِينٌ


ইন আনা ইল্লা-নাযীরুম মুবীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র, যে (তোমাদের সামনে) সত্য সুস্পষ্ট করে দিচ্ছে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি তো শুধু একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তো কেবল একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।’


১১৬


قَالُوا لَئِن لَّمْ تَنتَهِ يَا نُوحُ لَتَكُونَنَّ مِنَ الْمَرْجُومِينَ


কা-লূলাইল্লাম তানতাহি ইয়া-নূহুলাতাকূনান্না মিনাল মারজূমীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলল, হে নূহ! তুমি যদি ক্ষান্ত না হও, তবে পাথরের আঘাতে নিহতদের অন্তর্ভুক্ত হবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা বলল, হে নূহ যদি তুমি বিরত না হও, তবে তুমি নিশ্চিতই প্রস্তরাঘাতে নিহত হবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা বলল, ‘হে নূহ্ ! তুমি যদি নিবৃত্ত না হও তবে তুমি অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে নিহতদের শামিল হবে।’


১১৭


قَالَ رَبِّ إِنَّ قَوْمِي كَذَّبُونِ


কা-লা রাব্বি ইন্না কাওমী কাযযাবূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নূহ বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় আমাকে মিথ্যাবাদী ঠাওরিয়েছে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নূহ বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় তো আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নূহ্ বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক ! আমার সম্প্রদায়ই তো আমাকে অস্বীকার করছে।


১১৮


فَافْتَحْ بَيْنِي وَبَيْنَهُمْ فَتْحًا وَنَجِّنِي وَمَن مَّعِيَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ


ফাফতাহবাইনী ওয়া বাইনাহুম ফাতহাও ওয়া নাজজিনী ওয়ামাম মা‘ইয়া মিনাল মু’মিনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং আপনি আমার ও তাদের মধ্যে সুস্পষ্ট ফায়সালা করে দিন এবং আমাকে ও আমার মুমিন সঙ্গীদেরকে রক্ষা করুন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতএব, আমার ও তাদের মধ্যে কোন ফয়সালা করে দিন এবং আমাকে ও আমার সংগী মুমিনগণকে রক্ষা করুন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘সুতরাং তুমি আমার ও এদের মধ্যে স্পষ্ট মীমাংসা করে দাও এবং আমাকে ও আমার সঙ্গে যেসব মুু’মিন আছে, তাদেরকে রক্ষা কর।’


১১৯


فَأَنجَيْنَاهُ وَمَن مَّعَهُ فِي الْفُلْكِ الْمَشْحُونِ


ফাআনজাইনা-হু ওয়ামাম মা‘আহূফিল ফুলকিল মাশহূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর আমি তাকে ও তার সঙ্গীদেরকে বোঝাই নৌকায় রক্ষা করলাম।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর সঙ্গিগণকে বোঝাই করা নৌকায় রক্ষা করলাম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরপর আমি তাকে ও তার সঙ্গে যারা ছিল, তাদেরকে রক্ষা করলাম বোঝাই নৌযানে।


১২০


ثُمَّ أَغْرَقْنَا بَعْدُ الْبَاقِينَ


ছু ম্মা আগরাকনা-বা‘দুল বা-কীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তারপর অবশিষ্ট সকলকে নিমজ্জিত করলাম। ৩৪


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরপর অবশিষ্ট সবাইকে নিমজ্জত করলাম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তৎপর অবশিষ্ট সকলকে নিমজ্জিত করলাম।


তাফসীরঃ

৩৪. হযরত নূহ আলাইহিস সালামকে নিমজ্জিত করার ঘটনা বিস্তারিতভাবে সূরা হুদে চলে গেছে। ১১ : ২৫-৪৮ টীকাসহ দ্রষ্টব্য।


১২১


إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ


ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাওঁ ওয়ামা কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই এর মধ্যে আছে শিক্ষার বিষয়। তা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশেই ঈমান আনে না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এতে অবশ্যই রয়েছে নিদর্শন, কিন্তু এদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।


১২২


وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ


ওয়া ইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আঝীঝুর রাহীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।


১২৩


كَذَّبَتْ عَادٌ الْمُرْسَلِينَ


কাযযাবাত ‘আ-দুনিল মুরছালীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আদ জাতি রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আদ সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আদ সম্প্রদায় রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল।


১২৪


إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ هُودٌ أَلَا تَتَّقُونَ


ইযকা-লা লাহুম আখূহুম হূদুন ‘আলা-তাত্তাকূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তাদের ভাই হুদ যখন তাদেরকে বলল, তোমরা কি আল্লাহকে ভয় কর না?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তখন তাদের ভাই হুদ তাদেরকে বললেনঃ তোমাদের কি ভয় নেই?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন এদের ভাই হ‚দ এদেরকে বলল, ‘তোমরা কি সাবধান হবে না ?


১২৫


إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ


ইন্নী লাকুম রাছূলুন আমীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি তোমাদের বিশ্বস্ত রসূল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তো তোমাদের জন্যে এক বিশ্বস্ত রাসূল।


১২৬


فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ


ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়াআতী‘ঊন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে মান।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘অতএব আল্লাহ্কে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।


১২৭


وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ الْعَالَمِينَ


ওয়ামাআছআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা-‘আলা-রাব্বিল ‘আলামীন।

আরো পড়ুন :-

স্মরণ শক্তি বৃদ্ধির দোয়া,মেধা বৃদ্ধির দোয়া,স্মৃতি শক্তি বাড়ানোর দোয়া!নামাজের পর ২১ বাড় পড়ুন

গর্ভের সন্তান কখন নষ্ট করা যাবে?,কতদিনের বাচ্চা নষ্ট করলে গুনাহ হবে না?, বাচ্চা নষ্ট করা জায়েজ আছে?, 

দোয়াটি পড়লে সাথে সাথে রাগ কমে যায়, রাগ কমানোর দোয়া,শিশুদের রাগ কমানোর আমল

(ads2)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#b50404)

অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আমি এ কাজের বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক নিজ দায়িত্বে রেখেছেন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি তোমাদের কাছে এর জন্যে প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো পালনকর্তা দেবেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তোমাদের নিকট এটার জন্যে কোন প্রতিদান চাহি না, আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট আছে।


১২৮


أَتَبْنُونَ بِكُلِّ رِيعٍ آيَةً تَعْبَثُونَ


আতাবনূনা বিকুল্লি রী‘ইন আ-য়াতান তা‘বাছূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তোমরা কি প্রতিটি উঁচু স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করার অহেতুক কাজ করছ। ৩৫


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমরা কি প্রতিটি উচ্চস্থানে অযথা নিদর্শন নির্মান করছ?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমরা কি প্রতিটি উচ্চ স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করছো নিরর্থক ?


তাফসীরঃ

৩৫. ‘অহেতুক কাজ করছ’এর দুটি ব্যাখ্যা হতে পারে। (ক) প্রতিটি উঁচু স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজটা একটা নিরর্থক কাজ। কেননা এর পেছনে মহৎ কোন উদ্দেশ্য ছিল না। কেবল মানুষকে দেখানো ও বড়ত্ব ফলানোর উদ্দেশ্যেই এসব নির্মাণ করা হত। (খ) হযরত দাহহাক (রহ.) সহ কতিপয় মুফাসসির থেকে এর ব্যাখ্যা বর্ণিত আছে যে, তারা উঁচু ইমারতের উপর থেকে নিচের যাতায়াতকারীদের সাথে অশোভন আচরণ করত। সেটাকেই আয়াতে ‘অহেতুক কাজ’ শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে। (রূহুল মাআনী)


১২৯


وَتَتَّخِذُونَ مَصَانِعَ لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُونَ


ওয়া তাত্তাখিযূনা মাসা-নি‘আ লা‘আল্লাকুম তাখলুদূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আর তোমরা এমন শিল্পমণ্ডিত ইমারত নির্মাণ করছ, যেন তোমরা চিরজীবী হয়ে থাকবে। ৩৬


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করছ, যেন তোমরা চিরকাল থাকবে?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আর তোমরা প্রাসাদ নির্মাণ করছো এই মনে করে যে, তোমরা চিরস্থায়ী হবে।


তাফসীরঃ

৩৬. আয়াতে ব্যবহৃত مَصَانِعَ শব্দটির মূল অর্থ এমন সব জিনিস, যা শৈল্পিক দক্ষতার প্রদর্শনীস্বরূপ নির্মাণ করা হয়। কাজেই শান-শওকত ও জাকজমকপূর্ণ ঘর-বাড়ি, দালান-কোঠা, দুর্গ, দীঘি, রাস্তাঘাট ইত্যাদি সবই এর অন্তর্ভুক্ত; যদি উদ্দেশ্য হয়ে থাকে দর্প দেখানো ও বাহাদুরি ফলানো। আদ জাতি এসব করত বলে হযরত হুদ আলাইহিস সালাম আপত্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি বোঝাচ্ছিলেন যে, এটা কেমন কথা তোমরা নাম-ডাক কামানো ও বড়ত্ব ফলানোকেই জীবনের উদ্দেশ্য বানিয়ে নিয়েছ এবং যত দৌড়-ঝাঁপ, তা একে কেন্দ্র করেই করছ। ভাবখানা এই, যেন তোমরা চিরকাল এই দুনিয়ায় থাকবে। কখনও তোমাদের মৃত্যু হবে না এবং আল্লাহ তাআলার সামনে তোমাদের কখনও দাঁড়াতে হবে না।


১৩০


وَإِذَا بَطَشْتُم بَطَشْتُمْ جَبَّارِينَ


ওয়া ইযা-বাতাশতুম বাতাশতুম জাব্বা-রীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আর যখন কাউকে ধৃত কর, তখন তাকে ধৃত কর কঠোর অত্যাচারীরূপে। ৩৭


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখন তোমরা আঘাত হান, তখন জালেম ও নিষ্ঠুরের মত আঘাত হান।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং যখন তোমরা আঘাত হান তখন আঘাত হেনে থাক কঠোরভাবে।


তাফসীরঃ

৩৭. অর্থাৎ, একদিকে তো তোমরা খ্যাতি কুড়ানোর উদ্দেশ্যে ওইসব ইমারত তৈরি করছ ও তার পেছনে পানির মত অর্থ ঢালছ, অন্যদিকে গরীবদেরকে শোষণ করছ ও তাদের প্রতি চরম দলন-নিপীড়ন চালাচ্ছ। নানা ছল-ছুতায় তাদের ধর-পাকড় কর এবং কাউকে ধরলে তার প্রাণ ওষ্ঠাগত করে ফেল। কুরআন মাজীদ হযরত হুদ আলাইহিস সালামের এ উক্তি উদ্ধৃত করে আমাদেরকে সাবধান করছে, আমাদের কার্যকলাপ যেন তাদের মত না হয়। আমরাও যেন দুনিয়ার ডাঁটফাটকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আখেরাত থেকে গাফেল না হই এবং অর্থ-সম্পদের নেশায় পড়ে গরীবদেরকে নির্যাতনের যাতাকলে পিষ্ট না করি।


১৩১


فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ


ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়া আতী‘ঊন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এখন তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতএব, আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুগত্য কর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘অতএব তোমরা আল্লাহ্কে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।


১৩২


وَاتَّقُوا الَّذِي أَمَدَّكُم بِمَا تَعْلَمُونَ


ওয়াত্তাকুল্লাযী আমাদ্দাকুম বিমা-তা‘লামূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং ভয় কর তাঁকে, যিনি এমন সব জিনিস দ্বারা তোমাদের শক্তিবৃদ্ধি করেছেন যা তোমরা জান।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে সেসব বস্তু দিয়েছেন, যা তোমরা জান।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘ভয় কর তাঁকে যিনি তোমাদেরকে দান করেছেন সেই সমুদয়, যা তোমরা জান।


১৩৩


أَمَدَّكُم بِأَنْعَامٍ وَبَنِينَ


আমাদ্দাকুম বিআন‘আ-মিওঁ ওয়াবানীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন গবাদি পশু ও সন্তান-সন্ততি।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমাদেরকে দিয়েছেন চতুষ্পদ জন্তু ও পুত্র-সন্তান,


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন আন‘আম ও সন্তান-সন্ততি


১৩৪


وَجَنَّاتٍ وَعُيُونٍ


ওয়া জান্নাতিওঁ ওয়া ‘উইয়ূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং উদ্যানরাজি ও প্রস্রবণ।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং উদ্যান ও ঝরণা।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘উদ্যান ও প্রস্রবণ;


১৩৫


إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ


ইন্নীআখা-ফু‘আলাইকুম ‘আযা-বা ইয়াওমিন ‘আজীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

প্রকৃতপক্ষে আমি তোমাদের ব্যাপারে ভয় করি এক মহা দিবসের শাস্তির।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি তোমাদের জন্যে মহাদিবসের শাস্তি আশংকা করি।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তো তোমাদের জন্যে আশংকা করি মহাদিবসের শাস্তির।’


১৩৬


قَالُوا سَوَاءٌ عَلَيْنَا أَوَعَظْتَ أَمْ لَمْ تَكُن مِّنَ الْوَاعِظِينَ


কা-লূছাওয়াউন ‘আলাইনা আওয়া ‘আজতা আম লাম তাকুম মিনাল ওয়া‘ইজীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলল, তুমি উপদেশ দাও বা না দাও আমাদের জন্য উভয়ই সমান।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা বলল, তুমি উপদেশ দাও অথবা উপদেশ নাই দাও, উভয়ই আমাদের জন্যে সমান।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা বলল, ‘তুমি উপদেশ দাও বা না-ই দাও, উভয়ই আমাদের জন্যে সমান।


১৩৭


إِنْ هَـٰذَا إِلَّا خُلُقُ الْأَوَّلِينَ


ইন হা-যাইল্লা-খুলুকুল আওওয়ালীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এটা তো সেই বিষয়ই, যাতে পূর্ববর্তীগণ অভ্যস্ত ছিল। ৩৮


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এসব কথাবার্তা পূর্ববর্তী লোকদের অভ্যাস বৈ নয়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এটা তো পূর্ববর্তীদেরই স্বভাব।


তাফসীরঃ

৩৮. ‘যাতে পূর্ববর্তীগণ অভ্যস্ত ছিল’এর দুই ব্যাখ্যা হতে পারে। (এক) তুমি দুনিয়ার জাঁকজমকের প্রতি বীতস্পৃহা করে আমাদেরকে আখেরাতমুখী হতে বলছ এটা নতুন কোন বিষয় নয়। পূর্বেও যুগে-যুগে বহু লোক এভাবে নবুওয়াতের মিথ্যা দাবি করেছে এবং তোমার মত এ জাতীয় কথাবার্তা বলেছে। সুতরাং তোমার এসব কথা একটা গতানুগতিক বিষয়, যা কর্ণপাতযোগ্য নয়। (দুই) অথবা এর এ ব্যাখ্যাও হতে পারে যে, আমরা যা কিছু করছি, তা নতুন কোন ব্যাপার নয়। প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ এ রকম করে আসছে। অর্থাৎ, এটাই মানুষের স্বাভাবিক নিয়ম। কাজেই এটা দূষনীয় নয় এবং এর উপর আপত্তি তোলা সঙ্গত নয়।


১৩৮


وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ


ওয়ামা-নাহনুবিমু‘আযযাবীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আমরা আদৌ শাস্তিপ্রাপ্ত হওয়ার নই।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমরা শাস্তিপ্রাপ্ত হব না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমরা শাস্তিপ্রাপ্তদের শামিল নই।’


১৩৯


فَكَذَّبُوهُ فَأَهْلَكْنَاهُمْ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ


ফাকাযযাবূহু ফাআহলাকনা-হুম ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাও ওয়ামা-কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

মোটকথা তারা হুদকে অস্বীকার করে। ফলে আমি তাদেরকে ধ্বংস করে দেই। ৩৯ নিশ্চয়ই এর ভেতর আছে শিক্ষার বিষয়। তা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশেই ঈমান আনে না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতএব, তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলতে লাগল এবং আমি তাদেরকে নিপাত করে দিলাম। এতে অবশ্যই নিদর্শন আছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরপর এরা তাকে প্রত্যাখ্যান করল এবং আমি এদেরকে ধ্বংস করলাম। এতে অবশ্যই আছে নিদর্শন ; কিন্তু এদের অধিকাংশই মু’মিন নয়।


তাফসীরঃ

৩৯. আদ জাতি ও হযরত হুদ আলাইহিস সালামের বৃত্তান্ত পূর্বে বিস্তারিতভাবে চলে গেছে। দেখুন সূরা আরাফ (৭ : ৬৫) ও সূরা হুদ (১১ : ৫০-৫৯), টীকাসহ।


১৪০


وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ


ওয়া ইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আঝীঝুর রাহীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং আপনার পালনকর্তা, তিনি তো প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।


১৪১


كَذَّبَتْ ثَمُودُ الْمُرْسَلِينَ


কাযযাবাত ছামূদুল মুরছালীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

ছামুদ জাতি রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল। ৪০


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সামুদ সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সামূদ সম্প্রদায় রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল।


তাফসীরঃ

৪০. ছামুদ জাতি ও তাদের নবী হযরত সালেহ (আ.)-এর বৃত্তান্ত পূর্বে বিস্তারিত গত হয়েছে। দেখুন সূরা আরাফ (৭ : ৭৩) ও সূরা হুদ (১১ : ৬১-৬৮) এবং সংশ্লিষ্ট টীকাসমূহ।


১৪২


إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ صَالِحٌ أَلَا تَتَّقُونَ


ইযকা-লা লাহুম আখূহুম সা-লিহুন ‘আলা-তাত্তাকূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যখন তাদের ভাই সালেহ তাদেরকে বলল, তোমরা কি আল্লাহকে ভয় কর না?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখন তাদের ভাই সালেহ, তাদেরকে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন এদের ভাই সালিহ্ এদেরকে বলল, ‘তোমরা কি সাবধান হবে না ?


১৪৩


إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ


ইন্নী লাকুম রাছূলুন আমীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তো তোমাদের জন্যে এক বিশ্বস্ত রাসূল।


১৪৪


فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ


ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়া আতী‘ঊন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতএব, আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘অতএব তোমরা আল্লাহ্কে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর,


১৪৫


وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ الْعَالَمِينَ


ওয়ামাআছআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা-‘আলা-রাব্বিল ‘আলামীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আমি এ কাজের জন্য তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক নিজ দায়িত্বে রেখেছেন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি এর জন্যে তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব-পালনকর্তাই দেবেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তোমাদের নিকট এটার জন্যে কোন প্রতিদান চাই না, আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকটই আছে।


১৪৬


أَتُتْرَكُونَ فِي مَا هَاهُنَا آمِنِينَ


আতুতরাকূনা ফী মা-হা-হুনাআ-মিনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এখানে যেসব নি‘আমত আছে, তোমাদেরকে কি তার ভেতর সর্বদা নিরাপদে রেখে দেওয়া হবে?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমাদেরকে কি এ জগতের ভোগ-বিলাসের মধ্যে নিরাপদে রেখে দেয়া হবে?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমাদেরকে কি নিরাপদ অবস্থায় ছেড়ে রাখা হবে, যা এইখানে আছে এতে-


১৪৭


فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ


ফী জান্না-তিওঁ ওয়া ‘উইয়ূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

উদ্যানরাজি ও প্রস্রবণসমূহের ভেতর?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

উদ্যানসমূহের মধ্যে এবং ঝরণাসমূহের মধ্যে ?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘উদ্যানে, প্রস্রবণে


১৪৮


وَزُرُوعٍ وَنَخْلٍ طَلْعُهَا هَضِيمٌ


ওয়া ঝুরূ‘ইওঁ ওয়া নাখলিন তাল‘উহা-হাদীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং ক্ষেত-খামার ও এমন খেজুর বাগানের ভেতর, যার গুচ্ছ পরস্পর সন্নিবিষ্ট?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

শস্যক্ষেত্রের মধ্যে এবং মঞ্জুরিত খেজুর বাগানের মধ্যে ?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘ও শস্যক্ষেত্রে এবং সুকোমল গুচ্ছবিশিষ্ট খর্জুর বাগানে ?


১৪৯


وَتَنْحِتُونَ مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا فَارِهِينَ


ওয়া তানহিতূনা মিনাল জিবা-লি বুঊতান ফা-রিহীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তোমরা কি (সর্বদা) জাঁকজমকের সাথে পাহাড় কেটে গৃহ নির্মাণ করতে থাকবে?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমরা পাহাড় কেটে জাঁক জমকের গৃহ নির্মাণ করছ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমরা তো নৈপুণ্যের সঙ্গে পাহাড় কেটে গৃহ নির্মাণ করছো।


১৫০


فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ


ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়া আতী‘ঊন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবার আল্লাহকে ভয় কর ও আমাকে মেনে চল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুগত্য কর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমরা আল্লাহ্কে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর


১৫১


وَلَا تُطِيعُوا أَمْرَ الْمُسْرِفِينَ


ওয়ালা-তুতী‘ঊআমরাল মুছরিফীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

সীমালঙ্ঘনকারীদের কথা মত চলো না


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং সীমালংঘনকারীদের আদেশ মান্য কর না;


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং সীমালংঘনকারীদের আদেশ মান্য কর না ;


১৫২


الَّذِينَ يُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ وَلَا يُصْلِحُونَ


আল্লাযীনা ইউফছিদূনা ফিল আরদিওয়ালা-ইউসলিহূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যারা যমীনে অশান্তি বিস্তার করে এবং সংশোধনমূলক কাজ করে না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে এবং শান্তি স্থাপন করে না;


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যারা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে, শান্তি স্থাপন করে না।’


১৫৩


قَالُوا إِنَّمَا أَنتَ مِنَ الْمُسَحَّرِينَ


কা-লূইন্নামাআনতা মিনাল মুছাহহারীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলল, নিশ্চয়ই যাদের উপর কঠিন যাদু করা হয়েছে, তুমি তাদেরই একজন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা বলল, তুমি তো জাদুগ্রস্থুরেদ একজন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা বলল, ‘তুমি তো জাদুগ্রস্তদের অন্যতম।


১৫৪


مَا أَنتَ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا فَأْتِ بِآيَةٍ إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ


মাআনতা ইল্লা-বাশারুম মিছলুনা ফা’তি বিআয়া-তিন ইন কুনতা মিনাসসা-দিকীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তোমার স্বরূপ তো এ ছাড়া কিছুই নয় যে, তুমি আমাদেরই মত একজন মানুষ। সুতরাং তুমি সত্যবাদী হলে কোন নিদর্শন হাজির কর। ৪১


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তুমি তো আমাদের মতই একজন মানুষ বৈ নও। সুতরাং যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে কোন নিদর্শন উপস্থিত কর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তুমি তো আমাদের মত একজন মানুষ, কাজেই তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে একটি নিদর্শন উপস্থিত কর।’


তাফসীরঃ

৪১. ‘কোন নিদর্শন হাজির কর’অর্থাৎ মুজিযা দেখাও। তারা নিজেরাই ফরমায়েশ করেছিল যে, পাহাড়ের ভেতর থেকে একটি উটনী বের করে দাও। সুতরাং তাদের কথামত আল্লাহ তাআলার নির্দেশে পাহাড় থেকে একটি উটনী বের হয়ে আসল।


১৫৫


قَالَ هَـٰذِهِ نَاقَةٌ لَّهَا شِرْبٌ وَلَكُمْ شِرْبُ يَوْمٍ مَّعْلُومٍ


কা-লা হা-যিহী না-কাতুল লাহা-শিরবুওঁ ওয়ালাকুম শিরবুইয়াওমিম মা‘লূম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

সালেহ বলল, (নাও) এই যে এক উটনী। এর জন্য থাকবে পানি পানের পালা আর তোমাদের জন্য থাকবে পানি পানের পালা এক নির্ধারিত দিনে। ৪২


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সালেহ বললেন এই উষ্ট্রী, এর জন্যে আছে পানি পানের পালা এবং তোমাদের জন্যে আছে পানি পানের পালা নির্দিষ্ট এক-এক দিনের।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সালিহ্ বলল, ‘এই একটি উষ্ট্রী, এটার জন্যে আছে পানি পানের পালা এবং তোমাদের জন্যে আছে নির্ধারিত দিনে পানি পানের পালা ;


তাফসীরঃ

৪২. উটনী বের করে আনার মুজিযাটি যেহেতু তারাই চেয়ে আনিয়েছিল, তাই তাদেরকে বলা হয়, এ উটনীটির কিন্তু কিছু অধিকার থাকবে। তার মধ্যে একটা অধিকার হল, তোমাদের কুয়া থেকে একদিন কেবল সে পানি পান করবে এবং একদিন তোমরা পান করবে। এভাবে তার ও তোমাদের মধ্যে পালা বণ্টন থাকবে। তবে তোমাদের পালার দিন তোমরা যত ইচ্ছা পানি পাত্রাদিতে ভরে রাখতে পারবে।


১৫৬


وَلَا تَمَسُّوهَا بِسُوءٍ فَيَأْخُذَكُمْ عَذَابُ يَوْمٍ عَظِيمٍ


ওয়ালা-তামাছছূহা-বিছূইন ফাইয়া’খুযাকুম ‘আযা-বুইয়াওমিন ‘আজীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আর কোন অসদুদ্দেশ্যে একে স্পর্শ করো না। অন্যথায় এক মহাদিবসের শাস্তি তোমাদেরকে পাকড়াও করবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমরা একে কোন কষ্ট দিও না। তাহলে তোমাদেরকে মহাদিবসের আযাব পাকড়াও করবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং এর কোন অনিষ্ট সাধন কর না; করলে মহাদিবসের শাস্তি তোমাদের ওপর আপতিত হবে।’


১৫৭


فَعَقَرُوهَا فَأَصْبَحُوا نَادِمِينَ


ফা‘আকারূহা-ফাআছবাহূনা-দিমীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর (এই ঘটল যে) তারা উটনীটির পায়ের রগ কেটে ফেলল। তারপর তারা অনুতপ্ত হল। ৪৩


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা তাকে বধ করল ফলে, তারা অনুতপ্ত হয়ে গেল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিন্তু এরা একে বধ করল, পরিণামে এরা অনুতপ্ত হল।


তাফসীরঃ

৪৩. তাদের সে অনুতাপ তওবার উদ্দেশ্যে ছিল না। আল্লাহ তাআলার হুকুম অমান্য করেছিল বলে যে তাদের মনে অনুশোচনা জেগেছিল তা নয়; বরং উটনী হত্যার কারণে যে শীঘ্রই আযাব এসে যাবে, আর বেশিদিন দুনিয়ার মজা লোটা যাবে না, সে কারণেই অনুতপ্ত হয়েছিল। -অনুবাদক


১৫৮


فَأَخَذَهُمُ الْعَذَابُ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ


ফাআখাযাহুমুল ‘আযা-বু ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাওঁ; ওয়ামা-কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর শাস্তি তাদেরকে পাকড়াও করল। ৪৪ নিশ্চয়ই এর মধ্যে শিক্ষার বিষয় আছে। তা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশেই ঈমান আনে না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরপর আযাব তাদেরকে পাকড়াও করল। নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরপর শাস্তি এদেরকে গ্রাস করল। এতে অবশ্যই রয়েছে নিদর্শন, কিন্তু এদের অধিকাংশই মু’মিন নয়।


তাফসীরঃ

৪৪. সূরা হুদ (১১ : ৬৮)-এ বলা হয়েছে, ছামুদ জাতিকে যে শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিল, তা ছিল এক ভয়াল-বিরাট আওয়াজ, যার ধাক্কায় তাদের কলিজা ফেটে গিয়েছিল। আর সূরা আরাফে আছে, তাদেরকে প্রচণ্ড ভূমিকম্পে আক্রান্ত করা হয়েছিল। বস্তুত তাদের উপর উভয় রকম শাস্তিই আপতিত হয়েছিল। এর বিস্তারিত বিবরণ সূরা আরাফে (৭ : ৭৩-৭৯) চলে গেছে। সে সূরার ৩৯নং টীকা দেখুন।


১৫৯


وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ


ওয়া ইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আঝীঝুর রাহীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।


১৬০


كَذَّبَتْ قَوْمُ لُوطٍ الْمُرْسَلِينَ


কাযযাবাত কাওমুলূতিনিল মুরছালীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

লূতের সম্প্রদায় রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

লূতের সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

লূতের সম্প্রদায় রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল,


১৬১


إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ لُوطٌ أَلَا تَتَّقُونَ


ইযকা-লা লাহুম আখূহুম লূতুন আলা-তাত্তাকূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যখন তাদের ভাই লূত তাদেরকে বলল, তোমরা কি আল্লাহকে ভয় কর না?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখন তাদের ভাই লূত তাদেরকে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না ?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন এদের ভাই লূত এদেরকে বলল, ‘তোমরা কি সাবধান হবে না ?


১৬২


إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ


ইন্নী লাকুম রাছূলুন আমীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তো তোমাদের জন্যে এক বিশ্বস্ত রাসূল।


১৬৩


فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ


ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়া আতী‘ঊন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘সুতরাং তোমরা আল্লাহ্কে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।


১৬৪


وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ الْعَالَمِينَ


ওয়ামাআছআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা-‘আলা-রাব্বিল ‘আলামীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আমি এ কাজের জন্য তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক নিজ দায়িত্বে রেখেছেন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি এর জন্যে তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব-পালনকর্তা দেবেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি এটার জন্যে তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাই না, আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকটই আছে।


১৬৫


أَتَأْتُونَ الذُّكْرَانَ مِنَ الْعَالَمِينَ


আতা’তূনাযযুকরা-না মিনাল ‘আ-লামীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

বিশ্বজগতের সমস্ত মানুষের মধ্যে তোমরাই কি এমন, যারা পুরুষে উপগমন কর। ৪৫


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সারা জাহানের মানুষের মধ্যে তোমরাই কি পুরূষদের সাথে কুকর্ম কর?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘বিশ্বজগতের মধ্যে তো তোমরাই পুরুষের সঙ্গে উপগত হও,


তাফসীরঃ

৪৫. হযরত লূত আলাইহিস সালামকে যে জাতির কাছে নবী করে পাঠানো হয়েছিল, তাদের পুরুষগণ বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত ছিল। তারা স্বভাবসম্মত নিয়মের বিপরীতে পুরুষ-পুরুষে মিলিত হয়ে যৌন চাহিদা মেটাত। তাদের ঘটনা বিস্তারিতভাবে সূরা হুদ (১১ : ৭৭-৮৩) ও সূরা হিজর (১৫ : ৫৮-৭৬)-এ চলে গেছে। আমরা সূরা আরাফে এ সম্প্রদায় ও হযরত লুত আলাইহিস সালামের পরিচিতি সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি। (দ্রষ্টব্য ৭ : ৮০)


১৬৬


وَتَذَرُونَ مَا خَلَقَ لَكُمْ رَبُّكُم مِّنْ أَزْوَاجِكُم ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ عَادُونَ


ওয়া তাযারূনা মা-খালাকা লাকুম রাব্বুকুম মিন আঝওয়া-জিকুম বাল আনতুম কাওমুন ‘আ-দূ ন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আর বর্জন করে থাক তোমাদের স্ত্রীগণকে, যাদেরকে তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন? প্রকৃতপক্ষে তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্যে যে স্ত্রীগনকে সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে বর্জন কর? বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে যে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে তোমরা বর্জন করে থাক। তোমরা তো সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।’


১৬৭


قَالُوا لَئِن لَّمْ تَنتَهِ يَا لُوطُ لَتَكُونَنَّ مِنَ الْمُخْرَجِينَ


কা-লূলাইল্লাম তানতাহি ইয়া-লূতুলাতাকূনান্না মিনাল মুখরাজীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলল, হে লূত! তুমি যদি ক্ষান্ত না হও, তবে জনপদ থেকে যাদেরকে বহিষ্কার করা হয়, তুমিও তাদের একজন হয়ে যাবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা বলল, হে লূত, তুমি যদি বিরত না হও, তবে অবশ্যই তোমাকে বহিস্কৃত করা হবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা বলল, ‘হে লূত ! তুমি যদি নিবৃত্ত না হও, তবে অবশ্যই তুমি নির্বাসিত হবে।’


১৬৮


قَالَ إِنِّي لِعَمَلِكُم مِّنَ الْقَالِينَ


কা-লা ইন্নী লি‘আমালিকুম মিনাল কা-লীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

লূত বলল, জেনে রেখ, যারা তোমাদের এ কাজকে ঘৃণা করে, আমি তাদেরই একজন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

লূত বললেন, আমি তোমাদের এই কাজকে ঘৃণা করি।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

লূত বলল, ‘আমি তো তোমাদের এই কর্মকে ঘৃণা করি।


১৬৯


رَبِّ نَجِّنِي وَأَهْلِي مِمَّا يَعْمَلُونَ


রাব্বি নাজজিনী ওয়া আহলী মিম্মা-ইয়া‘মালূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

হে আমার প্রতিপালক! তারা যে কার্যকলাপ করছে আমাকে ও আমার পরিবারবর্গকে তা থেকে রক্ষা করুন। ৪৬


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এবং আমার পরিবারবর্গকে তারা যা করে, তা থেকে রক্ষা কর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমার প্রতিপালক ! আমাকে এবং আমার পরিবার-পরিজনকে, এরা যা করে, তা হতে রক্ষা কর।


তাফসীরঃ

৪৬. অর্থাৎ এ জাতীয় ঘৃণ্য কার্যকলাপে কাউকে লিপ্ত হতে দেখলে যে দুঃখ-বেদনা সৃষ্টি হয় তা থেকে আমাদেরকে মুক্তি দিন এবং এ অপকর্মের কারণে সে জাতির উপর যে শাস্তি অবতীর্ণ হওয়ার ছিল তা থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুন।


১৭০


فَنَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ أَجْمَعِينَ


ফানাজ্জাইনা-হু ওয়া আহলাহূআজমা‘ঈন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং আমি তাকে ও তার পরিবারের সকলকে রক্ষা করলাম


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে রক্ষা করলাম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরপর আমি তাকে এবং তার পরিবার-পরিজন সকলকে রক্ষা করলাম


১৭১


إِلَّا عَجُوزًا فِي الْغَابِرِينَ


ইল্লা-‘আজুঝান ফিল গা-বিরীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এক বৃদ্ধাকে ছাড়া, যে পেছনে অবস্থানকারীদের মধ্যে থেকে গেল। ৪৭


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এক বৃদ্ধা ব্যতীত, সে ছিল ধ্বংস প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এক বৃদ্ধা ব্যতীত, যে ছিল পশ্চাতে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত।


তাফসীরঃ

৪৭. ‘এক বৃদ্ধা’ বলতে হযরত লূত আলাইহিস সালামের স্ত্রীকে বোঝানো হয়েছে। সে নবী-পত্নী হয়েও নবীর প্রতি ঈমান তো আনেইনি, উল্টো তাঁর সম্প্রদায়ের কদর্য কাজে সে তাদের সহযোগিতা করছিল। আযাব আসার আগে যখন হযরত লূত আলাইহিস সালামকে শহর ত্যাগ করে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হল, তখন সে পিছনে রয়ে গিয়েছিল। কাজেই আযাব আপতিত হলে জনপদবাসীদের সাথে সেও তার শিকার হয়ে যায়।


১৭২


ثُمَّ دَمَّرْنَا الْآخَرِينَ


ছু ম্মা দাম্মারনাল আ-খারীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তারপর অবশিষ্ট সকলকে আমি ধ্বংস করে দিলাম।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরপর অন্যদেরকে নিপাত করলাম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরপর অপর সকলকে ধ্বংস করলাম।


১৭৩


وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِم مَّطَرًا ۖ فَسَاءَ مَطَرُ الْمُنذَرِينَ


ওয়া আমতারনা-‘আলাইহিম মাতারান ফাছাআ মাতারুল মুনযারীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তাদের উপর বর্ষণ করলাম এক মারাত্মক বৃষ্টি। ৪৮ যাদেরকে ভয় দেখানো হয়েছিল তাদের জন্য তা ছিল অতি মন্দ বৃষ্টি।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তাদের উপর এক বিশেষ বৃষ্টি বর্ষণ করলাম। ভীতি-প্রদর্শিত দের জন্যে এই বৃষ্টি ছিল কত নিকৃষ্ট।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাদের ওপর শাস্তিমূলক বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম, ভীতি প্রদর্শিতদের জন্যে এই বৃষ্টি ছিল কত নিকৃষ্ট।


তাফসীরঃ

৪৮. অর্থাৎ পাথরের বৃষ্টি। সূরা হিজরে স্পষ্টই বলা হয়েছে যে, তাদেরকে পাথরের বৃষ্টি দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল।


১৭৪


إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ


ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাওঁ ওয়ামা-কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই এর মধ্যে আছে শিক্ষা। তা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশেই ঈমান আনে না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু এদের অধিকাংশই মু’মিন নয়।


১৭৫


وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ


ওয়া ইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আঝীঝুর রাহীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

জেনে রেখ, তোমার প্রতিপালক পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।


১৭৬


كَذَّبَ أَصْحَابُ الْأَيْكَةِ الْمُرْسَلِينَ


কাযযাবা আসহা-বুল আইকাতিল মুরছালীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আয়কাবাসীগণ রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল। ৪৯


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বনের অধিবাসীরা পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আয়কাবাসীরা রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল,


তাফসীরঃ

৪৯. ‘আয়কা’ অর্থ নিবিড় বন। হযরত শুআইব (আ.)কে যে সম্প্রদায়ের কাছে পাঠানো হয়েছিল, তারা এ রকম বনের পাশেই বাস করত। কোন কোন মুফাসসির বলেন, এ জনপদেরই নাম ছিল ‘মাদইয়ান’। কারও মতে ‘আয়কা’ ও ‘মাদইয়ান’ এক নয়; বরং স্বতন্ত্র দু’টি জনপদ। হযরত শুআইব আলাইহিস সালাম উভয়ের প্রতিই প্রেরিত হয়েছিলেন। এ সম্প্রদায়ের ঘটনা বিস্তারিতভাবে সূরা আরাফে চলে গেছে (৭ : ৮৫-৯৩)। টীকাসহ দ্রষ্টব্য।


১৭৭


إِذْ قَالَ لَهُمْ شُعَيْبٌ أَلَا تَتَّقُونَ


ইযকা-লা লাহুম শু‘আইবুন আলা-তাত্তাকূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যখন শুআইব তাদেরকে বলল, তোমরা কি আল্লাহকে ভয় কর না?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখন শো’আয়ব তাদের কে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন শু‘আয়ব এদেরকে বলেছিল, তোমরা কি সাবধান হবে না?


১৭৮


إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ


ইন্নী লাকুম রাছূলুন আমীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তো তোমাদের জন্যে এক বিশ্বস্ত রাসূল।


১৭৯


فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ


ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়া আতী‘ঊন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার কথা মান।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘সুতরাং তোমরা আল্লাহ্কে ভয় কর ও আমার আনুগত্য কর।


১৮০


وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ الْعَالَمِينَ


ওয়ামাআছআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা-‘আলা-রাব্বিল ‘আলামীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আমি এ কাজের বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। আমার প্রতিদান তো জগতসমূহের প্রতিপালক নিজ দায়িত্বে রেখেছেন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব-পালনকর্তাই দেবেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তোমাদের নিকট এটার জন্যে কোন প্রতিদান চাহি না। আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকটই আছে।


১৮১


۞ أَوْفُوا الْكَيْلَ وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُخْسِرِينَ


আওফুল কাইলা ওয়ালা-তাকূনূমিনাল মুখছিরীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তোমরা মাপে পুরোপুরি দিও। যারা মাপে ঘাটতি করে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। ৫০


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

মাপ পূর্ণ কর এবং যারা পরিমাপে কম দেয়, তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমরা মাপে পূর্ণ মাত্রায় দিবে ; যারা মাপে ঘাটতি করে তোমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।


তাফসীরঃ

৫০. আয়কাবাসীগণ কুফর ও শিরকে তো লিপ্ত ছিলই। সেই সঙ্গে তাদের আরেকটি দোষ ছিল, তারা বেচাকেনায় মানুষকে ঠকাত, মাপে হেরফের করত।


১৮২


وَزِنُوا بِالْقِسْطَاسِ الْمُسْتَقِيمِ


ওয়াঝিনূবিলকিছতা-ছিল মুছতাকীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

ওজন করো সঠিক দাঁড়িপাল্লায়।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সোজা দাঁড়ি-পাল্লায় ওজন কর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং ওজন করবে সঠিক দাঁড়িপাল¬ায়।


১৮৩


وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ


ওয়ালা-তাবখাছুন্না-ছা আশইয়াআহুম ওয়ালা-তা‘ছাও ফিল আরদিমুফছিদীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

মানুষকে তাদের মালামাল কমিয়ে দিও না এবং যমীনে অশান্তি বিস্তার করে বেড়িও না। ৫১


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

মানুষকে তাদের বস্তু কম দিও না এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে ফিরো না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘লোকদেরকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিবে না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটাবে না।


তাফসীরঃ

৫১. তাদের আরও একটি অপরাধ ছিল, তারা দস্যুবৃত্তি করত। রাস্তাঘাটে প্রকাশ্যে পথিকদের মালামাল লুট করত।


১৮৪


وَاتَّقُوا الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالْجِبِلَّةَ الْأَوَّلِينَ


ওয়াত্তাকুল্লাযী খালাকাকুম ওয়াল জিবিল্লাতাল আওওয়ালীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং সেই সত্তাকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকেও সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মকেও।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তী লোক-সম্প্রদায়কে সৃষ্টি করেছেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং ভয় কর তাঁকে যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন।’


১৮৫


قَالُوا إِنَّمَا أَنتَ مِنَ الْمُسَحَّرِينَ


কা-লূইন্নামাআনতা মিনাল মুছাহহারীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলল, নিশ্চয়ই যাদের উপর কঠিন যাদু করা হয়েছে তুমি তাদেরই একজন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা বলল, তুমি তো জাদুগ্রস্তদের অন্যতম।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা বলল, ‘তুমি তো জাদুগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত ;


১৮৬


وَمَا أَنتَ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا وَإِن نَّظُنُّكَ لَمِنَ الْكَاذِبِينَ


ওয়ামাআনতা ইল্লা-বাশারুম মিছলুনা-ওয়া ইন নাজুন্নুকা লামিনাল কা-যিবীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তুমি তো আমাদের মত একজন মানুষই। তোমার সম্পর্কে আমাদের বিশ্বাস এটাই যে, তুমি মিথ্যাবাদীদের একজন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তুমি আমাদের মত মানুষ বৈ তো নও। আমাদের ধারণা-তুমি মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তুমি আমাদের মতই একজন মানুষ। আমরা মনে করি, তুমি মিথ্যাবাদীদের অন্যতম।


১৮৭


فَأَسْقِطْ عَلَيْنَا كِسَفًا مِّنَ السَّمَاءِ إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ


ফাআছকিত‘আলাইনা-কিছাফাম মিনাছছামাই ইন কুনতা মিনাসসা-দিকীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে আমাদের উপর আকাশের একটি খণ্ড ফেলে দাও।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতএব, যদি সত্যবাদী হও, তবে আকাশের কোন টুকরো আমাদের উপর ফেলে দাও।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে আকাশের এক খণ্ড আমাদের ওপর ফেলিয়া দাও।’


১৮৮


قَالَ رَبِّي أَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُونَ


কা-লা রাববীআ‘লামুবিমা-তা‘মালূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

শুআইব বলল, আমার প্রতিপালক ভালোভাবে জানেন তোমরা যা করছ। ৫২


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

শো’আয়ব বললেন, তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আমার পালনকর্তা ভালরূপে অবহিত।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘আমার প্রতিপালক ভাল জানেন তোমরা যা কর।’


তাফসীরঃ

৫২. অর্থাৎ, তোমরা যে আকাশের একটি খণ্ড ফেলে তোমাদেরকে শাস্তি দেওয়ার জন্য আমাকে বলছ, এটা আমার এখতিয়ারে নয়। শাস্তি দান আল্লাহ তাআলার কাজ। কাকে কখন কী শাস্তি দেওয়া হবে সে ফায়সালা তাঁরই হাতে। তিনি যখন যে রকম শাস্তি দিতে চান, তা ঠিকই দেবেন। কেননা তোমাদের যাবতীয় কার্যকলাপ তাঁর ভালোভাবে জানা আছে।


১৮৯


فَكَذَّبُوهُ فَأَخَذَهُمْ عَذَابُ يَوْمِ الظُّلَّةِ ۚ إِنَّهُ كَانَ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ


ফাকাযযাবূহু ফাআখাযাহুম ‘আযা-বুইয়াওমিজজু ল্লাতি ইন্নাহূকা-না ‘আযা-বা ইয়াওমিন ‘আজীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

মোটকথা তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করল। পরিণামে মেঘাচ্ছন্ন দিনের শাস্তি তাদেরকে আক্রান্ত করল। ৫৩ নিশ্চয়ই তা ছিল এক ভয়ানক দিনের শাস্তি।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলে দিল। ফলে তাদেরকে মেঘাচ্ছন্ন দিবসের আযাব পাকড়াও করল। নিশ্চয় সেটা ছিল এক মহাদিবসের আযাব।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরপর এরা তাকে প্রত্যাখ্যান করল, পরে এদেরকে মেঘাচ্ছন্ন দিবসের শাস্তি গ্রাস করল। এটা তো ছিল এক ভীষণ দিবসের শাস্তি !


তাফসীরঃ

৫৩. একটানা কয়েক দিন প্রচণ্ড গরমের পর তাদের জনপদের কাছে একখণ্ড মেঘ এসে পৌঁছল। প্রথম দিকে তার নিচে শীতল হাওয়া বইছিল। সে হাওয়ায় দেহ জুড়ানোর আশায় জনপদের সমস্ত লোক মেঘখণ্ডটির নিচে জড়ো হল। অনন্তর হঠাৎ করে সেই মেঘ তাদের উপর অগ্নিবর্ষণ শুরু করল। এভাবে তাদের সকলকে ধ্বংস করে দেওয়া হল।


১৯০


إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ


ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাওঁ ওয়ামা-কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই এর ভেতর আছে শিক্ষা। তা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশেই ঈমান আনে না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এতে অবশ্যই রয়েছে নিদর্শন, কিন্তু এদের অধিকাংশই মু’মিন নয়।


১৯১


وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ


ওয়া ইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আঝীঝুর রাহীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

জেনে রেখ, তোমার প্রতিপালক পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।


১৯২


وَإِنَّهُ لَتَنزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ


ওয়া ইন্নাহূলাতানঝীলুরাব্বিল ‘আ-লামীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই এ কুরআন রাব্বুল আলামীনের পক্ষ হতে অবতীর্ণ।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এই কোরআন তো বিশ্ব-জাহানের পালনকর্তার নিকট থেকে অবতীর্ণ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই আল-কুরআন জগতসমূহের প্রতিপালক হতে অবতীর্ণ।


১৯৩


نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ


নাঝালা বিহির রূহুলআমীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

রূহুল-আমীন তা নিয়ে অবতরণ করেছে। ৫৪


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বিশ্বস্ত ফেরেশতা একে নিয়ে অবতরণ করেছে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

জিব্রাঈল এটা নিয়ে অবতরণ করেছে


তাফসীরঃ

৫৪. ‘রূহুল-আমীন’ হযরত জিবরীল (আ.)-এর উপাধি। অর্থ ‘বিশ্বস্ত আত্মা’।


১৯৪


عَلَىٰ قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنذِرِينَ


‘আ-লা কালবিকা লিতাকূনা মিনাল মুনযিরীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

(হে নবী!) তোমার অন্তরে অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে তুমি সতর্ককারীদের (অর্থাৎ নবীদের) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আপনার অন্তরে, যাতে আপনি ভীতি প্রদর্শণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হন,


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার হৃদয়ে, যাতে তুমি সতর্ককারী হতে পার।


১৯৫


بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُّبِينٍ


বিলিছা-নিন ‘আরাবিইয়িম মুবীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নাযিল হয়েছে এমন আরবী ভাষায়, যা বাণীকে সুস্পষ্ট করে দেয়। ৫৫


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অবতীর্ণ করা হয়েছে স্স্পুষ্ট আরবী ভাষায়।


তাফসীরঃ

৫৫. এর দ্বারা বোঝা গেল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরে কুরআন মাজীদের কেবল ‘ভাব’ নাযিল করা হয়নি, যা তিনি নিজ ভাষায় প্রকাশ করেছেন। বরং ভাবের সাথে এর বিশুদ্ধ, অলংকারপূর্ণ আরবী ভাষাও তাঁর প্রতি ওহী মারফত নাযিল করা হয়েছে। -অনুবাদক


১৯৬


وَإِنَّهُ لَفِي زُبُرِ الْأَوَّلِينَ


ওয়া ইন্নাহূলাফী ঝুবুরিল আওওয়ালীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

পূর্ববর্তী (আসমানী) কিতাবসমূহেও এর (অর্থাৎ এই কুরআনের) উল্লেখ রয়েছে। ৫৬


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নিশ্চয় এর উল্লেখ আছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে অবশ্যই এটার উল্লেখ আছে।


তাফসীরঃ

৫৬. অর্থাৎ, তাওরাত, যাবুর ও ইনজীলসহ আরও যে সমস্ত কিতাব পূর্ববর্তী রাসূলগণের প্রতি নাযিল হয়েছিল, তাতে আখেরী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাব ও তাঁর প্রতি কুরআন নাযিল হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী ছিল। সেসব কিতাবের অনেক বিষয় রদবদল করে ফেলা হয়েছে। তা সত্ত্বেও অনেকগুলি ভবিষ্যদ্বাণী এখনও পর্যন্ত তাতে দেখতে পাওয়া যায়। হযরত মাওলানা রহমাতুল্লাহ কীরানবী (রহ.) তাঁর বিখ্যাত ‘ইজহারুল হক’ গ্রন্থের শেষ অধ্যায়ে সেসব ভবিষ্যদ্বাণী বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় এই লেখক (আল্লামা তাকী উসমানী)-এর হাতে গ্রন্থখানি উর্দূ ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তাতে প্রয়োজনীয় টীকাণ্ডটিপ্পনীও সংযোজন করা হয়েছে। অনেক দিন হল তা ‘বাইবেল সে কুরআন তাক’ নামে পাঠকের হাতে পৌঁছে গেছে।


১৯৭


أَوَلَمْ يَكُن لَّهُمْ آيَةً أَن يَعْلَمَهُ عُلَمَاءُ بَنِي إِسْرَائِيلَ


আওয়ালাম ইয়াকুল্লাহুম আ-য়াতান আইঁ ইয়া‘লামাহূ‘উলামাউ বানীইছরাঈল।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

বনী ইসরাঈলের উলামা এ সম্পর্কে অবগত আছে এটা কি তাদের জন্য একটা প্রমাণ নয়? ৫৭


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তাদের জন্যে এটা কি নিদর্শন নয় যে, বনী-ইসরাঈলের আলেমগণ এটা অবগত আছে?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বনী ইস্রাঈলের পণ্ডিতগণ এটা অবগত আছে-এটা কি এদের জন্যে নিদর্শন নয় ?


তাফসীরঃ

৫৭. বনী ইসরাঈলের যে ভাগ্যবান ব্যক্তিবর্গ ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তারা তো স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করতই যে, ইয়াহুদী ও নাসারাদের কিতাবে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন সম্পর্কে সুসংবাদ জানানো হয়েছে এবং তাঁর আলামতসমূহও উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি বনী ইসরাঈলের যে সকল আলেম ইসলাম গ্রহণ করেনি, তারাও মাঝে-মধ্যে একান্ত আলাপচারিতার সময় এ সত্য স্বীকার করত, যদিও প্রকাশ্যে তার নানা রকম অপব্যাখ্যা করত এবং এখনও করে যাচ্ছে।


১৯৮


وَلَوْ نَزَّلْنَاهُ عَلَىٰ بَعْضِ الْأَعْجَمِينَ


ওয়ালাও নাঝঝালনা-হু ‘আলা-বা‘দিল আ‘জামীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আমি যদি এ কিতাব কোন আযমী ব্যক্তির উপর অবতীর্ণ করতাম


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যদি আমি একে কোন ভিন্নভাষীর প্রতি অবতীর্ণ করতাম,


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি যদি এটা কোন আ‘জামীর প্রতি অবতীর্ণ করতাম


১৯৯


فَقَرَأَهُ عَلَيْهِم مَّا كَانُوا بِهِ مُؤْمِنِينَ


ফাকারাআহূ‘আলাইহিম মা-কা-নূবিহী মু’মিনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আর সে তাদের সামনে তা পড়ে দিত, তবুও তারা তাতে ঈমান আনত না। ৫৮


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর তিনি তা তাদের কাছে পাঠ করতেন, তবে তারা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করত না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তা সে এদের নিকট পাঠ করত, তবে এরা এতে ঈমান আনত না ;


তাফসীরঃ

৫৮. অর্থাৎ, কুরআন মাজীদ যে একটি মুজিযা ও মনুষ্যশক্তির ঊর্ধ্বের বিষয় তা আরও বেশি পরিষ্কার এভাবে করা যেত যে, আরবী ভাষায় এই কিতাবকে অন্য কোন ভাষাভাষী ব্যক্তির প্রতি নাযিল করা হত আর অনারবী সেই লোক আরবী ভাষা না জানা সত্ত্বেও আরবী কুরআন পড়ে শুনিয়ে দিত। কিন্তু সেটা করলেই কি এসব লোক ঈমান আনত? কখনও আনত না। কেননা বিষয়টা তো এমন নয় যে, কুরআন মাজীদের সত্যতা সম্পর্কিত দলীল-প্রমাণে কোনরূপ দুর্বলতা আছে আর সে কারণেই তারা ঈমান আনছে না। বরং তাদের ঈমান না আনার কারণ কেবল তাদের জেদী মানসিকতা। তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে যত শক্তিশালী দলীলই সামনে আসুক না কেন তারা কিছুতেই ঈমান আনবে না।


২০০


كَذَٰلِكَ سَلَكْنَاهُ فِي قُلُوبِ الْمُجْرِمِينَ


কাযা-লিকা ছালাকনা-হু ফী কুলূবিল মুজরিমীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এভাবেই আমি অপরাধীদের অন্তরে তা ঢুকিয়ে দিয়েছি। ৫৯


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এমনিভাবে আমি গোনাহগারদের অন্তরে অবিশ্বাস সঞ্চার করেছি।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এইভাবে আমি অপরাধীদের অন্তরে অবিশ্বাস সঞ্চার করেছি।


তাফসীরঃ

৫৯. অর্থাৎ, যদিও কুরআন মাজীদ হেদায়াতের কিতাব এবং সত্যসন্ধানীদের অন্তরে এর প্রভাবও অপরিসীম, যে কারণে এ কিতাব তাদের হেদায়াত লাভের মাধ্যম হয়ে যায়, কিন্তু কাফেরগণ তো সত্যের সন্ধানী নয়; বরং তারা সত্য কবুল করবে না বলে জিদ ধরে আছে, তাই আমিও তাদের অন্তরে কুরআন এভাবেই প্রবেশ করাই যে, তার কোন আছর তাতে পড়ে না।


২০১


لَا يُؤْمِنُونَ بِهِ حَتَّىٰ يَرَوُا الْعَذَابَ الْأَلِيمَ


লা-ইউ’মিনূনা বিহী হাত্তা-ইয়ারাউল ‘আযা-বাল আলীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তারা তাতে ঈমান আনবে না, যতক্ষণ না তারা যন্ত্রণাময় শাস্তি দেখতে পাবে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে না, যে পর্যন্ত প্রত্যক্ষ না করে মর্মন্তুদ আযাব।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা এতে ঈমান আনবে না যতক্ষণ না এরা মর্মন্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ করে;


২০২


فَيَأْتِيَهُم بَغْتَةً وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ


ফাইয়া’তিয়াহুম বাগতাতাওঁ ওয়াহুম লা-ইয়াশ‘উরূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং তা তাদের সামনে এমন আকস্মিকভাবে এসে পড়বে যে, তারা বুঝতেই পারবে না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর তা আকস্মিকভাবে তাদের কাছে এসে পড়বে, তারা তা বুঝতে ও পারবে না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফলে তা এদের নিকট এসে পড়বে আকস্মিকভাবে ; এরা কিছুই বুঝতে পারবে না।


২০৩


فَيَقُولُوا هَلْ نَحْنُ مُنظَرُونَ


ফাইয়াকূলূহাল নাহনুমুনজারূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তখন তারা বলে উঠবে, আমাদেরকে কিছুটা অবকাশ দেওয়া হবে কি?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তখন তারা বলবে, আমরা কি অবকাশ পাব না?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তখন এরা বলবে, ‘আমাদেরকে কি অবকাশ দেওয়া হবে ?’


২০৪


أَفَبِعَذَابِنَا يَسْتَعْجِلُونَ


আফাবি‘আযা-বিনা -ইয়াছতা‘জিলূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তারা কি আমার শাস্তির জন্য তড়িঘড়ি করছে? ৬০


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা কি আমার শাস্তি দ্রুত কামনা করে?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা কি তবে আমার শাস্তি ত্বরান্বিত করতে চায় ?


তাফসীরঃ

৬০. উপরে যে আযাবের কথা বলা হয়েছে কাফেরগণ তাতে মোটেই বিশ্বাস করত না। তারা ঠাট্টাচ্ছলে বলত, আমাদেরকে যদি শাস্তি দেওয়া হয়, তবে এখনই দেওয়া হোক না! এ আয়াতে তারই জবাব দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, কাউকে যে তড়িঘড়ি করে শাস্তি দেওয়া হয় না এটা কেবল আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ। তিনি অবাধ্যদেরকে প্রথমে সতর্ক করেন। সে উদ্দেশ্যে তাদের কাছে পথপ্রদর্শক পাঠান। তাদেরকে সুযোগ দেন, যাতে পথপ্রদর্শকের দাওয়াত সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করতে ও সত্য গ্রহণে প্রস্তুত হতে পারে।


২০৫


أَفَرَأَيْتَ إِن مَّتَّعْنَاهُمْ سِنِينَ


আফারাআইতাইম্মাততা‘না-হুম ছিনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আচ্ছা বল তো, আমি যদি একটানা কয়েক বছর তাদেরকে ভোগ-বিলাসের উপকরণ দিতে থাকি।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আপনি ভেবে দেখুন তো, যদি আমি তাদেরকে বছরের পর বছর ভোগ-বিলাস করতে দেই,


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি ভেবে দেখ যদি আমি তাদেরকে দীর্ঘকাল ভোগ-বিলাস করতে দেই,


২০৬


ثُمَّ جَاءَهُم مَّا كَانُوا يُوعَدُونَ


ছু ম্মা জাআহুম মা-কা-নূইউ‘আদূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তারপর তাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখানো হচ্ছে তা তাদের নিকট এসে পড়ে


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতঃপর যে বিষয়ে তাদেরকে ওয়াদা দেয়া হত, তা তাদের কাছে এসে পড়ে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং পরে এদেরকে যে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল তা এদের নিকট এসে পড়ে,


২০৭


مَا أَغْنَىٰ عَنْهُم مَّا كَانُوا يُمَتَّعُونَ


মাআগনা-‘আনহুম মা-কা-নূইউমাত্তা‘ঊন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তবে ভোগ-বিলাসের যে উপকরণ তাদেরকে দেওয়া হচ্ছিল, তখন (অর্থাৎ শাস্তির সময়) তা তাদের কোন উপকারে আসবে কি? ৬১


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তখন তাদের ভোগ বিলাস তা তাদের কি কোন উপকারে আসবে?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তখন এদের ভোগ-বিলাসের উপকরণ এদের কোন কাজে আসবে কি ?


তাফসীরঃ

৬১. শীঘ্র শাস্তি না আসার কারণে কাফেরগণ বলত, আল্লাহ তাআলা তো আমাদেরকে বেশ সুখণ্ডশান্তিতে রেখেছেন। আমরা ভ্রান্ত পথে থাকলে তিনি আমাদেরকে সুখে রাখবেন কেন? এ আয়াতে জবাব দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা দ্রুত শাস্তি দেন না তোমাদেরকে শুধরে যাওয়ার সুযোগ দানের লক্ষ্যে। তিনি একটা কাল পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে রাখেন। এর ভেতর কিছু লোক শুধরে গেলে তো ভাল। অন্যথায় যখন সময় শেষ হয়ে যাবে তখন তারা পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য কি কাজের তা বুঝতে পারবে। দুনিয়ায় সর্বোচ্চ অবকাশ দেওয়া হয় মৃত্যু পর্যন্ত। মৃত্যুর পর যখন শাস্তি সামনে এসে যাবে, তখন জাগতিক প্রাচুর্য কোন কাজেই আসবে না। আখেরাতের বিপরীতে দুনিয়ার জীবন তো নিতান্তই মূল্যহীন তখন এটা ভালো করেই বুঝে আসবে। কিন্তু সেই সময়ের বুঝ কী উপকার দেবে?


২০৮


وَمَا أَهْلَكْنَا مِن قَرْيَةٍ إِلَّا لَهَا مُنذِرُونَ


ওয়ামাআহলাকনা-মিন কারইয়াতিন ইল্লা-লাহা-মুনযিরূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আমি কোন জনপদকে ধ্বংস করিনি, এ ব্যতিরেকে যে, (পূর্বে) তাদের জন্য ছিল সতর্ককারী।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি কোন জনপদ ধ্বংস করিনি; কিন্তু এমতাবস্থায় যে, তারা সতর্ককারী ছিল।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি এমন কোন জনপদ ধ্বংস করি নাই যার জন্যে সতর্ককারী ছিল না ;


২০৯


ذِكْرَىٰ وَمَا كُنَّا ظَالِمِينَ


যিকরা-ওয়ামা-কুন্না-জা-লিমীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যাতে তারা তাদেরকে উপদেশ দান করে। আমি তো জালিম নই।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

স্মরণ করানোর জন্যে, এবং আমার কাজ অন্যায়াচরণ নয়।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এটা উপদেশস্বরূপ, আর আমি অন্যায়াচারী নই,


২১০


وَمَا تَنَزَّلَتْ بِهِ الشَّيَاطِينُ


ওয়ামা তানাঝঝালাত বিহিশশাইয়া-তীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আর এ কুরআন নিয়ে শয়তানগণ অবতরণ করেনি। ৬২


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এই কোরআন শয়তানরা অবতীর্ণ করেনি।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

শয়তানেরা তাসহ অবতীর্ণ হয় নাই।


তাফসীরঃ

৬২. কুরআন মাজীদ সম্পর্কে কাফেরগণ যেসব কথা বলত এবার তা রদ করা হচ্ছে। মৌলিকভাবে তাদের দাবি ছিল দু’টি। (এক) কেউ কেউ বলত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন কাহেন বা অতীন্দ্রিয়বাদী। (দুই) কারও দাবি ছিল তিনি একজন কবি এবং কুরআন মাজীদ একখানি কাব্যগ্রন্থ (নাউযুবিল্লাহ)। আল্লাহ তাআলা এখান থেকে তাদের দু’টো দাবিই খণ্ডন করছেন। কাহেন (অতীন্দ্রিয়বাদী) বলা হত সেইসব লোককে যাদের দাবি ছিল, তাদের হাতে জিন্ন আছে, যারা তাদের বশ্যতা স্বীকার করে এবং গায়েবী সংবাদ তাদেরকে এনে দেয়। এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা কাহেনদের স্বরূপ তুলে ধরেছেন যে, তাদের কাছে যে সকল জিন্ন আসে, তারা মূলত শয়তান। কুরআন মাজীদে যেসব বিষয়বস্তু বর্ণিত হয়েছে, তা শয়তানদের জন্য আদৌ প্রীতিকর নয়, তারা তা কখনও কামনা করতে পারে না। [অর্থাৎ জিন-শয়তানের স্বভাবই হল অসৎপথে চলা, ফিতনা-ফাসাদ বিস্তার করা ও অন্যকে বিপথগামী করা। অপরদিকে কুরআন হল সৎপথের নির্দেশনা ও অন্ধকারের আলোক-বর্তিকা। অর্থাৎ তাদের স্বভাবের সম্পূর্ণ বিপরীত। কাজেই এর ভারবহন করা ও নবী-রাসূলদের কাছে একে নিয়ে আসার কাজটি তাদের স্বভাব-চরিত্রের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। -অনুবাদক] তাছাড়া এতে যেসব পুণ্যের কথা আছে, তা বলার মত ক্ষমতাও তাদের নেই। কবি সংক্রান্ত দাবির রদ সামনে ২২৪ নং আয়াতে আসছে।


২১১


وَمَا يَنبَغِي لَهُمْ وَمَا يَسْتَطِيعُونَ


ওয়ামা-ইয়ামবাগী লাহুম ওয়ামা-ইয়াছতাতী‘ঊন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এটা তাদের জন্য সংগত নয় এবং তারা এর ক্ষমতাও রাখে না।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা এ কাজের উপযুক্ত নয় এবং তারা এর সামর্থ্য রাখে না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা এই কাজের যোগ্য নয় এবং এরা এটার সামর্থ্যও রাখে না।


২১২


إِنَّهُمْ عَنِ السَّمْعِ لَمَعْزُولُونَ


ইন্নাহুম ‘আনিছছাম‘ই লামা‘ঝূলূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তাদেরকে তো (ওহী) শোনা থেকেও দূরে রাখা হয়েছে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তাদেরকে তো শ্রবণের জায়গা থেকে দূরে রাখা রয়েছে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এদেরকে তো শ্রবণের সুযোগ হতে দূরে রাখা হয়েছে।


২১৩


فَلَا تَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَـٰهًا آخَرَ فَتَكُونَ مِنَ الْمُعَذَّبِينَ


ফালা-তাদ‘উ মা‘আল্লা-হি ইলা-হান আ-খারা ফাতাকূনা মিনাল মু‘আযযাবীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে মাবুদ মানবে না, পাছে তুমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত হও, যারা হবে শাস্তিপ্রাপ্ত।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতএব, আপনি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে আহবান করবেন না। করলে শাস্তিতে পতিত হবেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতএব তুমি অন্য কোন ইলাহ্কে আল্লাহ্ র সঙ্গে ডাকিও না, ডাকিলে তুমি শাস্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।


২১৪


وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ


ওয়া আনযির ‘আশীরাতাকাল আকরাবীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং (হে নবী!) তুমি তোমার নিকটতম খান্দানকে সতর্ক করে দাও। ৬৩


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আপনি নিকটতম আত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দিন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার নিকট-আত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও।


তাফসীরঃ

৬৩. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দীনের তাবলীগ ও প্রকাশ্যে প্রচারকার্য চালানোর নির্দেশ সর্বপ্রথম যে আয়াত দ্বারা দেওয়া হয়, এটাই সেই আয়াত, এতে সর্বাপেক্ষা নিকটবর্তী খান্দান থেকে তাবলীগের সূচনা করতে বলা হয়েছে। সুতরাং এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা পাহাড়ে উঠে নিজ খান্দানের নিকটবর্তী লোকদেরকে ডাক দিলেন এবং তারা সেখানে সমবেত হলে, সত্য দীনের প্রতি তাদেরকে দাওয়াত দিলেন। এ আয়াতে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, যারা ইসলামী দাওয়াতের কাজ করবে, তাদের কর্তব্য প্রথমে নিজ পরিবার ও খান্দান থেকেই তা শুরু করা।


২১৫


وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ


ওয়াখফিদজানা-হাকা লিমানিততাবা‘আকা মিনাল মু’মিনীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আর যে মুমিনগণ তোমার অনুসরণ করে, তাদের জন্য বিনয়ের সাথে মমতার ডানা নুইয়ে দাও।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং আপনার অনুসারী মুমিনদের প্রতি সদয় হোন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং যারা তোমার অনুসরণ করে সেই সমস্ত মু’মিনদের প্রতি বিনয়ী হও।


২১৬


فَإِنْ عَصَوْكَ فَقُلْ إِنِّي بَرِيءٌ مِّمَّا تَعْمَلُونَ


ফাইন ‘আসাওকা ফাকুল ইন্নী বারীউম মিম্মা-তা‘মালূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আর তারা যদি তোমার অবাধ্যতা করে তবে বলে দাও, তোমরা যা-কিছু করছ তার সাথে আমার কোন সম্বন্ধ নেই।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যদি তারা আপনার অবাধ্য করে, তবে বলে দিন, তোমরা যা কর, তা থেকে আমি মুক্ত।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা যদি তোমার অবাধ্যতা করে, তুমি বল, ‘তোমরা যা কর তা হতে আমি দায়মুক্ত।’


২১৭


وَتَوَكَّلْ عَلَى الْعَزِيزِ الرَّحِيمِ


ওয়া তাওয়াক্কাল ‘আলাল ‘আঝীঝির রাহীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আর ভরসা রাখ মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু, (আল্লাহ)-এর প্রতি


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আপনি ভরসা করুন পরাক্রমশালী, পরম দয়ালুর উপর,


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি নির্ভর কর পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু আল্লাহ্ র ওপর,


২১৮


الَّذِي يَرَاكَ حِينَ تَقُومُ


আল্লাযী ইয়ারা-কা হীনা তাকূম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি (ইবাদতের জন্য) দাঁড়াও।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যিনি আপনাকে দেখেন যখন আপনি নামাযে দন্ডায়মান হন,


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি দণ্ডায়মান হও,


২১৯


وَتَقَلُّبَكَ فِي السَّاجِدِينَ


ওয়া তাকাল্লুবাকা ফিছছা-জিদীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং দেখেন সিজদাকারীদের মধ্যে তোমার যাতায়াতকেও।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং নামাযীদের সাথে উঠাবসা করেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং দেখেন সিজ্দাকারীদের সঙ্গে তোমার উঠাবসা।


২২০


إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ


ইন্নাহূহুওয়াছ ছামী‘উল ‘আলীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই তিনিই সব কথা শোনেন, সকল বিষয় জানেন।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।


২২১


هَلْ أُنَبِّئُكُمْ عَلَىٰ مَن تَنَزَّلُ الشَّيَاطِينُ


হাল উনাব্বিউকুম ‘আলা-মান তানাঝঝালুশ শাইয়া-তীন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আমি কি তোমাদেরকে বলে দেব শয়তানেরা কার কাছে অবতরণ করে?


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি আপনাকে বলব কি কার নিকট শয়তানরা অবতরণ করে?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদেরকে কি আমি জানাব কাহার নিকট শয়তানরা অবতীর্ণ হয় ?


২২২


تَنَزَّلُ عَلَىٰ كُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍ


তানাঝঝালু‘আলা-কুল্লি আফফা-কিন আছীম।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

অবতরণ করে প্রত্যেক এমন ব্যক্তির কাছে, যে চরম মিথ্যুক, ঘোর পাপিষ্ঠ।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক মিথ্যাবাদী, গোনাহগারের উপর।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেকটি ঘোর মিথ্যাবাদী ও পাপীর নিকট।


২২৩


يُلْقُونَ السَّمْعَ وَأَكْثَرُهُمْ كَاذِبُونَ


ইউলকূ নাছছাম‘আ ওয়া আকছারুহুম কা-যিবূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তারা শোনাকথা তাদের দিকে ছুঁড়ে দেয় এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী। ৬৪


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা শ্রুত কথা এনে দেয় এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা কান পেতে থাকে এবং এদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।


তাফসীরঃ

৬৪. অর্থাৎ, শয়তানদের কথায় ভরসা কোন ভালো মানুষ করে না। মিথ্যুক ও পাপিষ্ঠ কিসিমের লোকই তাদেরকে বিশ্বাস করে। আর ‘তারা গায়েবী বিষয় জানে’, শয়তানদের এ দাবি বিলকুল মিথ্যা। তাদের জন্য তো আসমানে যাওয়ার পথই বন্ধ। কাজেই তারা গায়েব জানবে কোত্থেকে? যা ঘটে তা এই যে, তারা ফেরেশতাদের কথা চুরি করে শুনতে চেষ্টা করে। কদাচিত কোন কথা তাদের কানে পড়ে যায় আর অমনি সেটা লুফে নেয় এবং তার সাথে আরও শতটা মিথ্যা মিশ্রিত করে। তারপর সেগুলো তাদের ভক্তদেরকে এসে শোনায়। এই হল তাদের গায়েব জানার রহস্য, মিথ্যাই যার সারাৎসার।


২২৪


وَالشُّعَرَاءُ يَتَّبِعُهُمُ الْغَاوُونَ


ওয়াশশু‘আরাঊ ইয়াত্তাবি‘উহুমুল গা-ঊন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আর কবিগণ তাদের অনুগামী হয় তো যতসব বিপথগামী লোক।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বিভ্রান্ত লোকেরাই কবিদের অনুসরণ করে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং কবিদেরকে অনুসরণ করে বিভ্রান্তরাই।


২২৫


أَلَمْ تَرَ أَنَّهُمْ فِي كُلِّ وَادٍ يَهِيمُونَ


আলাম তারা আন্নাহুম ফী কুল্লি ওয়াদিইঁ ইয়াহীমূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তুমি দেখনি তারা প্রত্যেক উপত্যকায় উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়? ৬৫


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তুমি কি দেখ না যে, তারা প্রতি ময়দানেই উদভ্রান্ত হয়ে ফিরে?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি কি দেখ না এরা উদ্ভ্রান্ত হয়ে প্রত্যেক উপত্যকায় ঘুরে বেড়ায় ?


তাফসীরঃ

৬৫. এটা কাফেরদের দ্বিতীয় মন্তব্যের রদ। তারা বলত, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন কবি এবং কুরআন মাজীদ একখানি কাব্যগ্রন্থ (নাউযুবিল্লাহ)। আল্লাহ তাআলা বলছেন, কবিত্ব তো এক কাল্পনিক জিনিস। অনেক সময় বাস্তবের সাথে তার কোন সম্পর্ক থাকে না বরং তারা কল্পনার জগতে ঘোরাঘুরি করে। সে ঘোরাঘুরির কোন দিক-জ্ঞান থাকে না। থাকে না ণত্ব-ষত্ব বোধ। নানা রকম অতিশয়োক্তি করে। উপমা, উৎপ্রেক্ষা ও প্রতীক-রূপকের প্রয়োগে তাদের বাড়াবাড়ির কোন সীমা থাকে না। কাজেই যারা কবিত্বকেই নিজেদের পরম আরাধ্য বানিয়ে নেয়, তাদেরকে কেউ নিজের দীনী অভিভাবক বানায় না। আর বানালেও বানায় এমন শ্রেণীর লোক যারা বিপথগামিতাই পছন্দ করে এবং বাস্তব জগত ছেড়ে কল্পনার জগত নিয়েই মেতে থাকতে চায়।


২২৬


وَأَنَّهُمْ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ


ওয়া আন্নাহুম ইয়াকূলূনা মা-লা-ইয়াফ‘আলূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

আর তারা এমন কথা বলে যা নিজেরা করে না। ৬৬


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং এমন কথা বলে, যা তারা করে না।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তারা তো বলে যা তারা করে না।


তাফসীরঃ

৬৬. অর্থাৎ, বড়ত্ব জাহির ও মুরুব্বীগিরি ফলানোর জন্য এমন দাবি করে, এমন সব কথাবার্তা বলে, যার কোন প্রতিফলন তাদের নিজেদের জীবনে থাকে না।


২২৭


إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَذَكَرُوا اللَّهَ كَثِيرًا وَانتَصَرُوا مِن بَعْدِ مَا ظُلِمُوا ۗ وَسَيَعْلَمُ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَيَّ مُنقَلَبٍ يَنقَلِبُونَ


ইল্লাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ওয়া যাকারুল্লা-হা কাছীরাওঁ ওয়ানতাসারূমিম বা‘দি মা-জু লিমূ ওয়া ছাইয়া‘লামুল লাযীনা জালামূ আইইয়া মুনকালাবিইঁ ইয়ানকালিবূন।


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

তবে সেই সকল লোক ব্যতিক্রম, যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে, আল্লাহকে বেশি পরিমাণে স্মরণ করেছে এবং নিজেরা নির্যাতিত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করেছে। ৬৭ যারা জুলুম করেছে তারা অচিরেই জানতে পারবে কোন পরিণামের দিকে ফিরে যাচ্ছে।


মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তবে তাদের কথা ভিন্ন, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং আল্লাহ কে খুব স্মরণ করে এবং নিপীড়িত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে। নিপীড়নকারীরা শীঘ্রই জানতে পারবে তাদের গন্তব্যস্থল কিরূপ।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিন্তু এরা ব্যতীত, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং আল্লাহ্কে অধিক স্মরণ করে ও অত্যাচারিত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে। অত্যাচারীরা শীঘ্রই জানিবে কোন্ স্থলে এরা প্রত্যাবর্তন করবে।


তাফসীরঃ

৬৭. এই ব্যতিক্রমের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কাব্য চর্চা যদি উপরে বর্ণিত দোষ থেকে মুক্ত থাকে, তাতে থাকে ঈমানের ঝলক ও ‘আমলে সালেহ’-এর ব্যঞ্জনা আর কবি তার কাব্য প্রতিভাকে দীন ও ঈমানের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করে, তার কবি-কল্পনা বেদীনী কার্যকলাপে ইন্ধন না যোগায়, তবে এমন কাব্যচর্চায় দোষ নেই। জুলুমের প্রতিশোধ গ্রহণের বিষয়টাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এ কারণে যে, সেকালে প্রচারণার সর্বাপেক্ষা কার্যকর মাধ্যম ছিল কবিতা। কোন কবি কারও বিরুদ্ধে একটা ব্যঙ্গ কবিতা রচনা করে দিত আর অমনি তা মানুষের মুখে মুখে রটে যেত। এমনটাই করেছিল কোন কোন দুর্মুখ কাফের কবি। তারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে এ জাতীয় কিছু কবিতা চালিয়ে দিয়েছিল। হযরত হাসসান ইবনে সাবিত (রাযি.) ও হযরত আবদুল্লাহু ইবনে রাওয়াহা (রাযি.) প্রমুখ সাহাবী কবি তার জবাব দেওয়াকে নিজেদের ঈমানী দায়িত্ব মনে করলেন। সুতরাং তারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে কাসীদা রচনায় লেগে পড়লেন। তাঁরা তার মাধ্যমে যেমন কাফেরদের ব্যঙ্গ ও আপত্তির দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছিলেন, তেমনি কাফেরগণ আসলে কী বস্তু সেটাও উন্মোচিত করে দিয়েছিলেন। তাদের সে কবিতাগুলো শত্রুর বিরুদ্ধে তীরের চেয়েও বেশি কার্যকর হয়েছিল। এ আয়াতে তাঁদের সে কবিত্বের সমর্থন করা হয়েছে।


আরো পড়ুন :-

স্মরণ শক্তি বৃদ্ধির দোয়া,মেধা বৃদ্ধির দোয়া,স্মৃতি শক্তি বাড়ানোর দোয়া!নামাজের পর ২১ বাড় পড়ুন

গর্ভের সন্তান কখন নষ্ট করা যাবে?,কতদিনের বাচ্চা নষ্ট করলে গুনাহ হবে না?, বাচ্চা নষ্ট করা জায়েজ আছে?, 

দোয়াটি পড়লে সাথে সাথে রাগ কমে যায়, রাগ কমানোর দোয়া,শিশুদের রাগ কমানোর আমল

(ads1)

(getButton) #text=(আল কোরআন বাংলা অনুবাদ সহ এক সাথে ) #icon=(link) #color=(#b50404)

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
Post a Comment (0)

islamicinfohub Top Post Ad1

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !
To Top