ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা কি বিদআত, ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন বনাম ইসলামে জন্মদিন পালনের বিধান,জন্মদিন পালনে ধর্মের বার্তা

ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা কি বিদআত, ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন বনাম ইসলামে জন্মদিন পালনের বিধান,জন্মদিন পালনে ধর্মের বার্তা ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা কি বি
Please wait 0 seconds...
Scroll Down and click on Go to Link for destination
Congrats! Link is Generated

 

নবী-রাসূলগণ সহ অন্য যে কোনো ব্যক্তির জন্মদিন পালন করার রীতি বা ঐতিহ্য আমরা কুরআন ও হাদীসের মাঝে খুঁজে পাই না। নবী (সা) তাঁর জীবদ্দশায় নিজের জন্মদিন পালন করেছন বা কোনো সাহাবীর জন্মদিন পালন করেছেন এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। কোনো সাহাবী (রা) নবীজির (সা) জন্মদিবসে বিশেষ কোনো আমল করেছেন বা বিশেষ ভাবে “আনন্দ” প্রকাশ করেছেন এমন বর্ণনাও আমাদের অজানা।

(ads2)


“সাহাবীগণ প্রতি বছর ১২ই রবিউল আউয়ালে নবীজির (সা) জন্মদিবস উপলক্ষে বিশেষ দুআ-দরুদ বা মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছেন” এরকম বা এর আশেপাশের কোনো কথাও হাদীস শরীফে অনুপস্থিত। যদিও বর্তমানে একদল লোক ১২ই রবিউল আউয়ালকে ঈদের দিন বানিয়ে ফেলেছে। তাদের কারো মতে এইদিন ঈদ পালন করা ফরজ। তাদের কারো বক্তব্য হচ্ছে কেউ ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করলে বিনা হিসাবে জান্নাতে যেতে পারবে।



সীরাতের কোনো একটি ঘটনার উপর লিখুন ও পুরষ্কার জিতুন!

সীরাহ ভাবনা প্রতিযোগিতা


এসকল বিভ্রান্তি ও বিদআতের বিপরীতে ইসলামের অবস্থান সম্পর্কে আজকের এই লেখায় আমরা জানার চেষ্টা করব। আমরা আরো দেখব জন্মদিন পালন করার রীতি আসলে ইসলামের স্বর্ণযুগে ছিল না। বরং জন্মদিন পালনের রীতিটি ধার করা হয়েছে হিন্দু, খৃষ্টান ও ইহুদীদের ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে।


ইসলামে জন্মদিন পালনের রীতি

ইসলামে জন্মদিন বা জন্মদিন পালন বলতে কিছু নেই। বছরের যে দিনটিতে কেউ জন্ম গ্রহণ করেছে, সেই দিনকে তার জন্য বিশেষ কোন দিন মনে করা। কিংবা এই উপলক্ষ্যে আনন্দ-ফুর্তি করা। অথবা কোন আমল করার বিষয়ে কুরআন-সুন্নায় কোন ভিত্তি পাওয়া যায়না।


খাইরুল কুরূনেও (সাহাবী ও তাবেঈন রাযি. এর স্বর্ণযুগ) জন্মদিন পালনের কোন অস্তিত্ব ছিল না। যদি জন্মদিন বলতে ইসলামে কোন কিছু থাকত, তাহলে হাদীস ও ইতিহাসের কিতাব গুলোতে সাহাবী ও তাবাঈন রাযি. এর জন্মদিন পালনের কোন না কোন ঘটনা থাকত। অথচ তাদের জন্মদিন পালনের কোন প্রমাণ কোন সূত্রেই পাওয়া যায়না। এমন কি জন্মদিনের বিশেষ কোন গুরুত্বই তাদের কাছে ছিল না। এর প্রমাণ মেলে তাদের জীবনির দিকে দৃষ্টিপাত করলে।


সাহাবা ও তাবেঈন রাযি.এর জীবনির দিকে লক্ষ্য করলে স্পষ্ট হয়। তারা কোন সনে জন্মগ্রহণ করেছেন তা কারো কারোটা জানা গেলেও, কোন মাসের কোন তারিখে জন্ম করেছেন তা জানা খুবই দুস্কর। এমনকি আমাদের প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রবিউল আওয়াল মাসের কত তারিখে জন্মগ্রহণ করেছেন, এটা হাদীস দ্বারা নিশ্চিত ভাবে জানা যায় না। ফলে সীরাতপ্রণেতাদের মধ্যে নবীজির (সা) জন্মতারিখ নিয়ে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়। আমাদের মাঝে অতি প্রসিদ্ধ বারই রবিউল আউয়ালও সর্ব সম্মত মত নয়।


ইসলামে জন্মদিন পালন গুরুত্ববহন করলে কমপক্ষে সে সময় সাহাবিদের সন্তান সন্তুতি জন্মগ্রহণ করেছেন তাদের জন্মতারিখ সংরক্ষিত থাকত। তারা জন্মদিন ঘটা করে পালন করতেন। অথচ জন্মদিন পালন তো দূরের কথা তাদের জন্মতারিখই সংরক্ষণ করা হয়নি। এটা যদি পালনীয় বিষয় হতো বা গুরুত্ব বহন করত তাহলে অবশ্যই তারা তাদের সন্তানদের জন্ম তারিখ সংরক্ষণ করতেন। এর মাধ্যমে এ কথা প্রমাণিত হয় জন্মদিন বলতে বর্তমানে যা বুঝায় ইসলামে এর কোন অস্তিত্বই ছিল না। আর রবিউল আউয়াল মাসের জন্য বিশেষ কোনো আমল বা দরূদও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়।


১২ রবিউল আউয়াল বিশেষ ভাবে পালিত হওয়ার সূচনা কথা

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, নবীজির (সা) জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ শতভাগ নিশ্চিত করে বলার মত প্রামাণ্য কোনো বর্ণনা নাই। নবীজির (সা) জন্ম কোন তারিখে হয়েছিল তা নিয়ে ১২ টির অধিক মত রয়েছে। অনেক গবেষকই তন্মধ্যে ৯ রবিউল আউয়ালকে জন্ম তারিখ এবং ২ রবিউল আউয়ালকে ইন্তিকালের তারিখ হিসাবে বেশি সহীহ আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু এ বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। কারণ আমাদের দেশে ঘটা করে যেভাবে নবীজির (সা) জন্ম দিনের স্মরণে “ঈদ” পালন করা হয়, নবীজির (সা) যুগে এবং পরবর্তী সাহাবীগণ ও তাবেয়ীগণের যুগে এই প্রথা ছিল না। ইসলামে জন্ম ও মৃত্যু দিবস পালন করার কোনো অনুমতি নেই। কোনো সাহাবী, তাবেয়ী, ইমাম, উলামায়ে উম্মাহ কেউ এমনটি করেন নি; বরং করাকে বিদআত বলেছেন। সুতরাং তা পরিত্যাজ্য।


৪০০ হিজরীর দিকে সর্বপ্রথম মিসরের ফাতেমীয় শীয়া শাসকগণ রবিউল আউয়াল মাসে ‘মীলাদ’ বা রাসূলুল্লাহ (সা) এর জন্ম দিবস পালনের প্রচলন করে। ৬০০ হিজরীতে ইরাকের ইরবিল শহরে ৮ ও ১২ রবিউল আউয়াল ‘মীলাদ’ বা ‘ঈদ মীলাদুন্নবী’ নামে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর জন্ম উদযাপন শুরু হয়। অপরদিকে ভারত ও অন্যান্য দেশে ১২ রবিউল আউয়ালে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর ওফাত উপলক্ষ্যে ‘ফাতেহা’ বা ‘ফাতেহায়ে দোয়াজদহম’ উদযাপন শুরু হয়।

(ads1)


একদল অতি আবেগী লোক ১২ রবিউল আউয়ালকে সকল ঈদের সেরা ঈদ আখ্যা দিয়ে ঈদ পালন করে থাকেন। সুন্নাহ পরিপন্থি এই কাজের পিছনে তাদের যুক্তি হচ্ছে “দয়াল নবীজির (সা) জন্ম দিনে খুশি হবা না তো কী হব? তাই এই দিন সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ঈদ”। যেই ঈদ নবীজির (সা) নবুয়তী জীবনে তিনি একবারও পালন করেন নি, সাহাবীগণ পালন করেন নি, তাবেয়ীগণ পালন করেন নি। এরা নবীজির (সা) জন্ম তারিখটি নিশ্চিত না হওয়া সত্ত্বেও এই দিনকে ঈদ বানিয়ে নিয়েছে। মীলাদুন্নবী উদযাপনের জন্য খরচ করলে জান্নাতে হযরত আবু বকরের (রা) সঙ্গী হওয়া যাবে এমন বানোয়াট কথা প্রচার করে।


অন্যান্য ধর্মে জন্মদিন পালনের রীতি

আসুন এবার দেখা যাক জন্মদিন পালনের বিষয়টি কিভাবে বা কাদের থেকে এসেছে। আমাদের দেশে যেভাবে কেক কেটে জন্মদিন পালন করা হচ্ছে। এর উৎপত্তি আমাদের দেশে না, পশ্চিমাদেশে। ধারণা কারা হয়, হযরত ঈসা (আ) এর জন্মের বহু পূর্ব থেকে জন্মদিনকে উৎসব হিসেবে পালন কারা হত।


পেগান সংস্কৃতির লোকেরা অদৃশ্য আত্মাকে ভয় পেত, বিশেষভাবে জন্ম দিনে। তাদের প্রায় সকলেরই বিশ্বাস ছিল যে, এই অদৃশ্য আত্মারা আরো বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে যখন কোন ব্যক্তি তাদের দৈনন্দিন জীবনে কোন পরিবর্তন আসে। যেমনঃ বছর বয়স বাড়া। তাই ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে এটি উৎযাপন করা হত। তারা হাসি-তামাশা করে সে ব্যক্তির চার পাশ ঘিরে রাখত যাতে খারাপ আত্না তার কোন ক্ষতি করতে না পারে। উপহারের পরিবর্তে, পরের বারের জন্মদিনটা যেন শুভ ও মঙ্গলময় হয় সকলে সেই কামনাই করতেন।


আর জন্মদিন সম্পর্কে যতটুকু জানা যায় এর সূচনা কনো মুসলিম থেকে হয়নি। বরং হয়েছে ফেরাউন থেকে। বাইবেলের বুক অব জেনেসিসে এসেছে,


“তৃতীয় দিনটা ছিল ফেরাউনের জন্ম দিন। ফেরাউন তার সব দাসদের জন্য ভোজের আযোজন করলেন। সেই সময়ে ফেরাউন রুটিওয়ালা ও দ্রাক্ষারস পরিবেশককে কারাগার থেকে মুক্তি দিলেন”। (আদি পুস্তক-৪০:২০)


আনুমানিক খৃষ্টপূর্ব তিন হাজার পঞ্চাশ থেকে চার হাজার বছর পূর্বের এ ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।


ইহুদি ধর্মে জন্মদিন পালন

ইহুদি ধর্মে মানুষকে উৎসাহিত করা হয়েছে বন্ধু-বান্ধব আত্মীয় সজনদের জমায়েত করে ধর্মীয়ভাবে আনন্দ উদযাপনের সাথে জন্মদিন পালনের জন্য। ইহুদিদের অনেক রাবায়ি (আলেম) মনে করেন, কোন ব্যক্তির জন্য তার জন্মদিনটি তার জন্য দোয়া কবুলের একটি বিশেষ দিন। আধুনিক জন্মদিনে ধর্মনিরপেক্ষ অনেক বিষয় থাকলেও এটা ধর্মীয় আচারেরই সার নির্যাস।


হিন্দুধর্মে জন্মদিন পালন

হিন্দু ধর্মের শাস্ত্রীয় বিবরণ ও জ্যোতিষ গণনার ভিত্তিতে লোক বিশ্বাস অনুযায়ী শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল ৩২২৮ খ্রীষ্টপূর্বাব্দের ১৮ অথবা ২১ জুলাই। এ দিনটি জন্মাষ্টমী নামে পরিচিত। হিন্দু পঞ্জিকা মতে, সৌর ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে যখন রোহিণী নক্ষত্রের প্রাধান্য হয়, তখন জন্মাষ্টমী পালিত হয়। উৎসবটি গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্টার অনুসারে, প্রতি বছর মধ্য-আগস্ট থেকে মধ্য-সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোনো এক সময়ে পড়ে। ভাদ্র ও মাঘ মাসের শুক্লা চতুর্থীকে গণেশ চতুর্থী বলা হয়। গণেশ চতুর্থী বা গণেশোৎসব যা হিন্দু দেবতা গণেশের বাৎসরিক পূজা-উৎসব। হিন্দু বিশ্বাসে এই দিনটি গণেশের জন্মদিন।


হিন্দু ধর্মে দ্বাদশ অথবা ত্রয়োদশ বছরে জন্মদিন পালিত হয় ‘পৈত পরিধান উৎসব’ হিসেবে। বয়স পূর্তিতে শিশু একটি বড় সূতার কুণ্ডলী কাঁধের একপার্শ্বে ঝুলিয়ে রেখে পরিধান করে। এছাড়াও,এ উৎসবটি উপনয়ণ নামে স্বীকৃত। হিন্দুদের বর্ণপ্রথায় উচ্চতর বর্ণ হিসেবে ব্রাহ্মণ পরিবারের সংস্কৃতিতে এ উৎসবটি মূলতঃ বালকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

(ads2)


বৌদ্ধধর্মে জন্মদিন

আমরা সবাই বুদ্ধ পূর্ণিমার কথা জানি। বুদ্ধ পূর্ণিমা বা বৈশাখী পূর্ণিমা হল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্রতম উৎসব। এই পুণ্যোৎসব বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে উদযাপিত হয়। বৌদ্ধধর্ম মতে এই পবিত্র তিথিতে বুদ্ধজন্মগ্রহণ করেছিল। বোধি বা সিদ্ধিলাভ করেছিল এবং মহাপরিনির্বাণ লাভ করেছিল। এই দিনে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা স্নান করে, শুচিবস্ত্র পরিধান করে মন্দিরে বুদ্ধের বন্দনায় রত থাকে।


ভক্তরা প্রতিটি মন্দিরে বহু প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করে, ফুলের মালা দিয়ে মন্দিরগৃহ সুশোভিত করে বুদ্ধের আরাধনায় নিমগ্ন হয়। এছাড়া বুদ্ধরা এই দিনে বুদ্ধ পূজার পাশাপাশি পঞ্চশীল, অষ্টশীল, সূত্রপাঠ, সূত্রশ্রবণ, সমবেদ প্রার্থনাও করে থাকে।


খৃষ্টানধর্মে জন্মদিন

ক্রিস্টমাস খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। প্রতিবছর ২৫ ডিসেম্বর রোমান ক্যাথলিক ও প্রটেস্টান্ট চার্চের অনুসারীরা যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষে এ উৎসব পালন করে। খ্রিস্টিয় ২০০ সাল থেকে এ উৎসব পালন শুরু হয়। ৩৫৪ সালে দিনটিকে যিশুর জন্মদিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং এ ঘোষণা ৪৪০ সালে পোপ স্বীকার করেন। মূলত পৌত্তলিক রোমানদের উৎসবের বিপরীতে ক্রিস্টমাস পালন শুরু হয়। মূলকথা বলতে গেলে জন্মদিনের ব্যাপক প্রচলন খৃষ্টানদের মাধ্যমেই ছড়িয়েছে।


এখন দেখা যাচ্ছে, জন্মদিন পালন শুধু বিধর্মীদের সংস্কৃতিই নয় বরং ধর্মীয়ভাবেও এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ইসলামে যেহেতু জন্মদিনের কোন ভিত্তি পাওয়া যায়নি পক্ষান্তরে এটা বিধর্মীদের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আচার হওয়ায় এটি পালন করা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়েজ। হাদীস শরীফে এসেছে,


“عن ابن عمر قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ” من تشبه بقوم فهو منهم


হযরত ইবনে উমার রাযি. হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের অনুরূপ অবলম্বন করে,সে তাঁদেরই দলভুক্ত। (সুনানে আবূ দাঊদঃ ৪০৩১)


এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়, মানুষ অন্যের অনুকরণ করে থাকে তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা থেকে। জন্মদিন পালন যদি ইহুদি ও খৃষ্টানদের কৃষ্টিকালচারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কিংবা ভালোবাসা থেকে হয় তাহলে সেটা শুধু হারামের মাঝেই সীমাবদ্ধ ধাকবে না বরং কুফরি পর্যন্ত পৌঁছে দিবে। (ইমদাদুল আহকাম)


অন্যকোনো পন্থায় জন্মদিন পালন

জন্মদিন পালনের মূল বিষয়টি যেহেতু বিধর্মীদের থেকে এসেছে আর বিষয়টি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত। তাই বলা যায়, এর মূল জিনিসটিই ইসলামে প্রত্যাখ্যাত। তা যে কোন পদ্ধতিতেই হোক। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,


{اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ } [الأعراف : 3]


তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষথেকে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তার অনুসরণ কর। তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য সাথিদের অনুসরণ করনা। তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ কর। (সূরা আ’রাফঃ৩)


অপর একটি আয়াতে আল্লাহ বলেনঃ


{ثُمَّ جَعَلْنَاكَ عَلَى شَرِيعَةٍ مِنَ الْأَمْرِ فَاتَّبِعْهَا وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ } [الجاثية : 18]


এরপর আমি আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করেছি দ্বীনের বিশেষ বিধানের উপরঃ সুতরাং আপনি এর অনুসরণ করুন, মূর্খদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেননা। (সূরা যাসিয়াঃ১৮)


এখন কেউ যদি বলে আমি জন্মদিন হিসেবে শুকরিয়া স্বরূপ কিছু আমল করবো তাহলে এই ব্যাপারে কথা হলো, ইসলামে যে বিষয়টি নেই তা ইসলামের অন্তর্ভুক্ত করা বিদআত। যা প্রত্যাখ্যাত। হাদীস শরীফে এসেছে –


হযরত আয়েশা রাযি. হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কেউ আমাদের এ শরীয়তে সংগত নয় এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটালে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৫৫০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৫৮৯)

(ads1)

হযরত যাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবার মাঝে বলতেন, যাকে আল্লাহ হেদায়াত দেন তাকে ভ্রষ্টকারী কেউ নেই। আর যাকে পথভ্রষ্টকরেন তার জন্য হেদায়াত কারী কেউ নাই। নিশ্চয়ই সবচেয়ে খাটি কথা হল আল্লাহর কিতাব ও সর্বোত্তম দিশারী হল মুহাম্মাদ সা এর সুন্নাত এবং সর্ব নিকৃষ্ট কর্মহল (দ্বীনের মাঝে) নতুন কিছু উদ্ভাবন করা। প্রত্যেক নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত; প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতাই জাহান্নামী। (সুনানে নাসাঈঃ১৫৭৭)


কেউ আমল করার জন্য এক বছর অপেক্ষা করুক এটা ইসলাম কামনা করে না। নির্দিষ্ট কোন দিনের জন্য আমলকে বাচিয়ে রাখা ইসলামের কর্মপন্থার বিরোধী। বরং নিয়মিত আমল স্বল্প হলেও আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দ। এ ব্যপারে হাদীসে শরীফে এসেছে


হযরত আয়েশা রাযি. হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালার নিকট পছন্দনীয় আমল হচ্ছে নিয়মিত আমল, চাই তা কম হোকনা কেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬০৯৯, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৮৩)


ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন – একটি বিকৃতি ও গর্হিত বিদআত

আমাদের দেশ সহ আশেপাশের অনেক মুসলিম সমাজে ১২ রবিউল আউয়ালকে “সকল ঈদের শ্রেষ্ঠ ঈদ – ঈদে মিলাদুন্নবী” হিসাবে পালন করা হয়। ঈদ মুসলিমদের জন্য আনন্দ প্রকাশের একটি শরয়ী বিধান। এই বিধানের বিকৃতি করে বিদআতপন্থী একদল নামধারী আলেম ১২ রবিউল আউয়ালকে সকল ঈদের চেয়ে সেরা ঈদ হিসাবে উদযাপন করেন। মনগড়া বানোয়াট কথাবার্তা ও অপব্যাখ্যার মাধ্যমে তারা প্রমাণ করার হাস্যকর চেষ্টা করে যে এই ঈদ পালন করা ফরজ। অনেকে আগ বাড়িয়ে এমনটাও বলে যে, এই ঈদকে অস্বীকার করলে ঈমানই থাকবে না। শহরের দেয়ালে দেয়ালে লিখে রাখে “সাইয়্যেদুল আইয়াদ শরীফ পালন করা ফরজ”। “সাইয়্যেদুল আইয়াদ শরীফ পালন করলে বিনা হিসাবে জান্নাতে যাওয়া যায়”। নাউযুবিল্লাহ!


বিনা হিসাবে জান্নাতে যাওয়ার কী সুন্দর শর্টকাট! এসকল বিদআতীদের পিছনে আছে অসংখ্য মানুষ। শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে এইসব রেওয়াজ-রসম পালন করার লোকের অভাব নাই। নবীজির (সা) সুন্নতের অনুসরনের চেয়ে তাদের কাছে নব আবিষ্কৃত এই বিদআতের অনুসরণ করা অধিক প্রিয়। নবীজির (সা) সুন্নতের অনুসরণের ধার না ধারতে পারলেও, তথা কথিত জশনে জুলুসে অংশ নিয়ে নবীপ্রেম প্রমাণে তারা বেশি ব্যস্ত।


আপনি যদি এদেরকে প্রশ্ন করেন সাহাবীগণ বছর বছর এই দিবস পালন করেন নি কেন? তাবেয়ীগণ কেন নবীপ্রেম প্রকাশ করলেন না? চার মাযহাবের ইমামগণ কেন করলেন না? ইমাম বুখারী, মুসলিম প্রমুখ ইমামগণ কেন আপনাদের মত নবীপ্রেমে (!) জাগ্রত হতে পারলেন না? এগুলোর উত্তরে তারা গালাগালি করবে। আপনাকে ইহুদীদের দালাল বলবে। বলবে নবীর (সা) জন্মদিনে যে খুশি হয় না, সে এজিদের বংশধর। শত শত অযৌক্তিক কথায় আপনাকে বিভ্রান্ত করে ছাড়বে। তাদের মোহরাঙ্কিত অন্তরে এই সরল কথাটা ঢুকে না যে, ইসলামী শরীয়তের উৎস হচ্ছে কুরআন-হাদীস। তারা নানান অপব্যাখ্যার মাধ্যমে সাদাকে কালো আর কালোকে সাদা প্রমাণে তৎপর। অপব্যাখ্যা এমনই নোংরা একটা বিষয় যে, এর মাধ্যমে বহু জাতি-গোত্র পথভ্রষ্ট হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সকল প্রকার বিদআত থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

Post a Comment

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.