আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা ও তার স্বীকৃতি, একত্ববাদের তাৎপর্য ও গুরুত্ব, তাওহিদ ও একত্ববাদের শিক্ষা

0

 

হজরত আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সাক্ষ্য দেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- বান্দা যখন (ঘোষণা দেন)- ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহ মহান), তখন মহান আল্লাহ (স্বীকৃতি দিয়ে) বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে। আমি ছাড়া আর কোন ইলাই নেই এবং আমিই মহান।


বান্দা যখন বলে, ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক), তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে, আমি একা ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই।


বান্দা যখন বলে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু লা শারিকা লাহু’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই), তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে। আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই এবং আমার কোনো শরিক নেই।


বান্দা যখন বলে, ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনিই সার্বভৌমত্বের মালিক এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁর), তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে, আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, সার্বভৌমত্ব আমারই এবং সকল প্রশংসা আমারই।


বান্দা যখন বলে, ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহ ছাড়া ক্ষতি রোধ করার এবং কল্যাণ হাসিলের কোনো শক্তি নেই), তখন তিনি বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে। আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই এবং আমি ছাড়া ক্ষতি রোধ করার এবং কল্যাণ হাসিলের কোনো শক্তি নেই।


আবু ইসহাক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আল-আগার রাদিয়াল্লাহু আনহু আরো কিছু বলেছিলেন, যা আমি হৃদয়ঙ্গম করতে পারিনি। তাই আমি হজরত আবু জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, তিনি কী বলেছিলেন? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ যাকে মৃত্যুর সময় এই বাক্য বলার সৌভাগ্য দান করবেন, জাহান্নামের আগুন তাকে স্পর্শ করতে পারবে না।’ (ইবনে মাজাহ ৩৭৯৪)




তাওহিদ অর্থ : একত্ববাদের ঘোষণা দেওয়া, কোনো জিনিসকে একক সাব্যস্ত করা। এক আল্লাহর কথা বলা।


তাওহিদের সংজ্ঞা : ‘আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে তাঁর যাবতীয় বিধান বাস্তব জীবনে যথাযথভাবে প্রয়োগের নাম তাওহিদ। ’ (দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম, পৃ. ৪৪, ই. ফা. বা.)


আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ, তিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই।



তিনি দয়াময়, অতি দয়ালু। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৬৩)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়। ’ (সুরা : ইখলাস, আয়াত : ১)


আসমান ও জমিনের একাধিক ইলাহ নেই, বরং আল্লাহ তাআলাই একমাত্র ইলাহ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি আসমান ও পৃথিবীতে আল্লাহ ছাড়া বহু ইলাহ থাকত, তবে উভয়েই ধ্বংস হয়ে যেত। ’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ২২)


আল্লাহ তাআলার সঙ্গে যে একাধিক ইলাহকে শরিক করে, তার ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘কেউ আল্লাহর সঙ্গে শরিক সাব্যস্ত করলে আল্লাহ তার জন্য অবশ্যই জান্নাত হারাম করে দেন এবং তার ঠিকানা জাহান্নাম। ’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৭২)


আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে অংশীদার স্থাপন করার নাম শিরক। আল্লাহর সঙ্গে এই ‘অংশীদার স্থাপন’ গর্হিত অপরাধ। এটি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধ তিনি ক্ষমা করেন না। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করবেন না। এটি ছাড়া (বাকি গুনাহ) যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আর কেউ আল্লাহর সঙ্গে শরিক করলে সে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয়। ’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১১৬)


আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, বরং আমরা সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী। কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি। তিনিও কাউকে জন্ম দেননি। কোরআনে এসেছে, ‘বলে দাও, সব প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, তাঁর রাজত্বে কোনো অংশীদার নেই, অক্ষমতা থেকে রক্ষার জন্য তাঁর কোনো অভিভাবকের প্রয়োজন নেই। তাঁর মহিমা বর্ণনা করো, ঠিক যেভাবে তাঁর মহিমা বর্ণনা করা উচিত। ’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১১১)


অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন। সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি, আর তাঁর সমতুল্য কেউই নয়। ’ (সুরা : ইখলাস, আয়াত : ২-৪)


প্রার্থনা : আল্লাহ! আমাদের প্রকৃত তাওহিদের ওপর অটল থেকে সব ধরনের শিরক ও কুফুরি থেকে রক্ষা করে মৃত্যু দান করুন।


Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
Post a Comment (0)

islamicinfohub Top Post Ad1

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !
To Top