Header Ads Widget


 

সাহু সিজদা দেওয়ার নিয়ম,সাহু সিজদা কখন দিতে হয়,সাহু সিজদা কিভাবে দিতে হয়,সাহু সিজদার সঠিক পদ্ধতি,সাহু সিজদা দিতে ভুলে গেলে,সাহু সিজদার নিয়ম,সাহু সিজদা কেন দিতে হয়,সাহু সিজদা কিভাবে দিতে হয়

সাহু সিজদা দেওয়ার নিয়ম,সাহু সিজদা কখন দিতে হয়,সাহু সিজদা কিভাবে দিতে হয়,সাহু সিজদার সঠিক পদ্ধতি,সাহু সিজদা দিতে ভুলে গেলে,সাহু সিজদার নিয়ম,সাহু সিজদা কেন দিতে হয়,সাহু সিজদা কিভাবে দিতে হয়


আজকের বিষয়: সিজদায়ে সাহু সিজদায়ে তিলাওয়াত ও সেজদায়ে শোকর,সাহু সিজদা করার নিয়ম,সাহু সিজদা,সাহু সিজদা কিভাবে করতে হয়,সাহু সিজদার সহিহ নিয়ম,সাহু সিজদা করার সঠিক নিয়ম,সাহু সিজদা দেওয়ার নিয়ম,সাহু সিজদা কখন দিতে হয়

সিজদায়ে সাহু’ মানে ভুলের সিজদা। নামাজে কোনো ওয়াজিব ভুলক্রমে ছেড়ে দিলে সিজদায়ে সাহু দিতে হয়। তখন সিজদায়ে সাহু দেওয়া ওয়াজিব। সিজদায়ে সাহুর মাধ্যমে নামাজে পূর্ণতা আনা হয়। সিজদায়ে সাহু কখন, কেন ও কীভাবে দেবে—এর সংক্ষিপ্ত নিয়মাবলী।

♦  নামাজের কোনো ওয়াজিব কাজ কেউ ইচ্ছা করে ছেড়ে দিলে গুনাহগার হবে। নামাজও নষ্ট হয়ে যাবে।পুনরায় আদায় করতে হবে। সিজদায়ে সাহু দ্বারা তখন নামাজ পূর্ণ হবে না।

♦ নামাজের কোনো ওয়াজিব কাজ ভুলক্রমে ছুটে গেলে, সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব। (বুখারি, হাদিস: ৩৮৬, আবু দাউদ, হাদিস: ৮৭৪, আল-মুজামুল আওসাত: ৭৮০৮)



♦ ফরজের প্রথম দুই রাকাত বা যেকোনো এক রাকাতে সুরায়ে ফাতিহা পড়তে গেলে অথবা সেরূপ নফল ও বিতরের যেকোনো রাকাতে ভুলক্রমে সুরায়ে ফাতিহা পড়া না হলে, সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে। (মুসলিম, হাদিস: ৮৯৩)

♦ ফরজের প্রথম দুই রাকাতে কেরাত পড়া ভুলে গেলে, শেষ দুই রাকাতে তা পড়ে নেবে। তবে সিজদায়ে সাহু দেবে। (মুসলিম: ৮৯৫, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ১/৪০৯)

♦ ফরজের দুই রাকাত বা এক রাকাতে কিরাত মেলাতে ভুলে গেলে সাহু সিজদা দিতে হবে। (নাসায়ি: ১২৪৩)

♦ কেউ যদি এক সিজদা করে পরের রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যায়, তখন ওই রাকাত দুই সিজদা দিয়ে সম্পন্ন করে ছুটে যাওয়া সিজদাও এর সঙ্গে মিলিয়ে নেবে। শেষে সিজদায়ে সাহু করবে, এতে করে নামাজ হয়ে যাবে। (প্রাগুক্ত)

♦ যদি তিন বা চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজে প্রথম বৈঠক ভুলে যায়, তা ফরজ নামাজ হোক বা নফল নামাজ, সিজদায়ে সাহু দিতে হবে। (আবু দাউদ, হাদিস: ৮৮২)


আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ  


♦  তাশাহহুদ পড়তে ভুলে গেলে, সাহু সিজদা দিতে হবে। (নাসায়ি, হাদিস: ১২৪৩)

♦ বিতর নামাজের তৃতীয় রাকাতে রুকুর আগে কুনুত পড়তে ভুলে গেলে সাহু সিজদা দিতে হবে। (বায়হাকি, হাদিস: ৪০৪২,)

♦ প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের সঙ্গে দরুদ ইত্যাদি পড়ে ফেলে, তাহলে সাহু সিজদা দিতে হবে। (মুসলিম, হাদিস: ৮৯৫)

সাহু সিজদা যেভাবে দেবে
সাহু সিজদা যার ওপর ওয়াজিব হয়েছে, সে শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ে ডান দিকে এক সালাম ফেরাবে। এরপর তাকবির বলে নামাজের মতো দুইটি সিজদা করে বসে যাবে এবং তাশাহহুদ, দরুদ, দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে সালাম ফেরাবে। সালামের আগে সিজদা করলে নামাজ হয়ে যাবে। তবে তা মাকরুহে তানজিহি। (মুসনাদে আহমদ: ১৮১৮৮, বুখারি, হাদিস: ১১৫০, ১১৫৩, তিরমিজি, হাদিস: ৩৬১)


আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ  


প্রশ্ন:

আমাদের দেশে বহুল প্রচলিত সিজদায়ে সাহুর নিয়ম নাকি ঠিক নয়। সহীহ হাদীছে নাই ? বিস্তারিত দলীল সহ জানাবেন।

উত্তর: وبالله سبحانه التوفيق

উক্ত দাবী সঠিক নয়; বরং আমাদের দেশে প্রচলিত সিজদায়ে সাহুর নিয়ম সঠিক। যা সহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত।

সিজদায়ে সাহুর সঠিক নিয়ম :

সিজদায়ে সাহু দেওয়া ওয়াজিব হয় এমন কোনভুল করলে, শেষ বৈঠকে শুধু আত্তাহিয়্যাতু পড়ে, ডান দিকে একবার সালাম ফিরিয়ে الله اكبر বলে, পরপর দুইটা সিজদা করবে। ২ সিজদার মাঝখানে অবশ্যই কমপক্ষে ১ তাসবীহ পরিমান সোজা হয়ে বসতে হবে। সিজদাদ্বয় করার পর বসে আবার আত্তাহিয়্যাতু-দুরুদ-দুআ মাছূরা পড়ে দুই দিকে সালাম ফিরাবে।

উল্লেখ্য, ডান দিকে সালাম না ফিরিয়ে সিজদায়ে সাহু করলেও আদায় হবে। কিন্তু মাকরূহে তানযীহী হবে।

সালাম ফিরানোর পর সাহু সেজদা করার এরকম অসংখ্য সহীহ বর্ণনা হাদীসের কিতাবসমূহে বর্ণিত। 

যেমন-

(ক) সালাম ফিরানোর পর সিজদায়ে সাহু করবে:

(১)

عن عبد الله رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الظهر خمسا فقيل له أزيد في الصلاة فقال وما ذاك قال صليت خمسافسجد سجدتين بعد ما سلم. (صحيح البخاري : 1168)

আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত পাঁচ রাক‘আত আদায় করলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, সালাত কি বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি বললেন, এ প্রশ্ন কেন? (প্রশ্নকারী) বললেন, আপনি তো পাঁচ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। অতএব তিনি সালাম ফিরানোর পর দু’টি সিজদা করলেন। (সহীহ বুখারী: ১২২৬)

(২)

و ما وقع في حديث ابن مسعود من الزيادة ، وهي : إذا شك أحدكم في صلاته فليتحر الصواب ، فليتم عليه ، ثم ليسلم ، ثم يسجد سجدتين.

তোমাদের কেউ সালাত সম্বন্ধে সন্দেহে পতিত হলে সে যেন নিঃসন্দেহ হবার চেষ্টা করে এবং সে অনুযায়ী সালাত পূর্ণ করে। অতঃপর যেন সালাম ফিরিয়ে দু’টি সিজদা দেয়। (সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২)

(৩) হযরত ছাওবান (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা) ইরশাদ করেছেনঃ প্রত্যেক ভুলের কারণে দুই সিজদা দিতে হবে সালাম ফিরানোর পর। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-১০৩৮, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১২১৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২২৪১৭)

(৪) হযরত আব্দুল্লাহ বিন যাফর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা) ইরশাদ করেছেনঃ যার নামাযে সমস্যা হয়ে যায়, সে যেন দু’টি সিজদা করে সালাম ফিরানোর পর। (সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-১৫৫০)

(খ) সালাম ফিরিয়ে সিজদায়ে সাহু করে, আবার যথারীতি সব কিছু পড়ে সালাম ফিরাবে :

(১)

– وَعَنْ زِيَادِ بْنِ عَلَاقَةَ قَالَ: صَلَّى بنا الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ فَلَمَّا صَلَّى رَكْعَتَيْنِ قَامَ وَلَمْ يَجْلِسْ، فَسَبَّحَ بِهِ مَنْ خَلْفَهُ، فَأَشَارَ إلَيْهِمْ أَنْ قُومُوا، فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ صَلَاتِهِ سَلَّمَ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ قَالَ: “هَكَذَا صَنَعَ بِنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ”. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَصَحَّحَهُ

যিয়াদ ইবনু আলাকাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ) আমাদের নিয়ে নামায আদায় করালেন। তিনি দুই রাক’আত আদায় করে না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন। তার পিছনের লোকেরা তাকে শুনিয়ে ‘সুবহানাল্লাহ’ বলল। তিনি তাদেরকে ইশারায় বললেন, দাঁড়িয়ে যাও। নামায শেষ করে তিনি সালাম ফিরালেন, তারপর দুটি ভুলের সিজদা করলেন এবং আবার সালাম ফিরালেন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটিই করেছেন। ( জামে তিরমিযি: ৩৬৫)

(২)

عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ – أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ صَلَّى بِهِمْ فسها، فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ تَشَهَّدَ ثُمَّ سَلَّمَ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيُّ.

‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে নিয়ে সলাত আদায়কালে ভুল করেন। ফলে তিনি দু‘টি সাহু সিজদা করেন। অতঃপর তাশাহহুদ পড়ে সালাম ফিরান। (সুনানে আবু দাউদ : ১০৩৯)

(৩)

عن عبد الله رضي الله عنه السهو ان يقوم في قعود او يقعد في قيام او يسلم في الركعتين فانه يسلم ثم يسجد سجدتي السهو ويتشهد ويسلم ( طحاوي في شرح معاني الاثار، باب سجود السهو في الصلاة) ١/٢٩١.

আবদুল্লাহ (রা) (ইব্‌ন মাসঊদ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন : সাহু (ভুল) বলা হয়, বসার স্থলে দাঁড়িয়ে যাওয়া কিংবা দাঁড়ানোর স্থলে বসা কিংবা (চার রাক’আত সালাতে) দুই রাক’আতে সালাম ফিরিয়ে দেয়া। এরূপ-যার হয়, সে যেন সালামের পরে দুই সিজ্দা সাহু করে, তারপর তাশাহ্হুদ পড়ে সালাম ফিরাবে। ( শরহু মাআনিল আছার লিত তহাবী, ২৩৭০, ১/২৯১)

হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঈদ (রা) ছাড়াও হযরত আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের (রা), হযরত আনাস বিন মালিক (রা), হযরত সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (রা) প্রমূখ সাহাবাগণ থেকে সালাম ফিরানোর পর সাহু সিজদা করা প্রমানিত। (শরহু মাআনিল আছার লিত তহাবী, হাদীস নং-২৫৬৪)

وقد اختلف أهل العلم في هذا الباب على اربعة اوجه ، فطائفة رأت السجود كله بعد السلام عملا بهذا الحديث وممن روينا ذلك عنه من الصحابة على بن ابي طالب وسعد …(الاعتبار في الناسخ والمنسوخ من الاثار ، ص: ٨٥)

(গ) শুধু ডান দিকে এক সালাম ফিরিয়ে সিজদায়ে সাহু করবে :

উপরোক্ত হাদীছসমূহ হতে প্রমাণিত হলো যে, সালাম ফিরানোর পর সিজদায়ে সাহু করবে, এরপর আবার যথারীতি সবকিছু পড়ে সালাম ফিরাবে।

তাহলে মোট দুই দফা সালাম ফিরাবে :

১. সিজদায়ে সাহুর পূর্বে;

২. সিজদায়ে সাহুর পর শেষ সালাম।

সিজদায়ে সাহুর পর শেষ সালাম ২টি হবে; তাতে কারো কোন দ্বিমত নাই।

এখন জানার বিষয় হল, সিজদায়ে সাহুর পূর্বের সালাম কয়টি ? ১টি নাকি ২টি ?

বলাবাহুল্য, ১টি সালাম হবে। আর সেটা শুধু ডান দিকে হবে।

কারণ, যদি সিজদায়ে সাহুর আগে ২টি সালাম হয় তাহলে সালাম মোট হবে ৪টি। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো এক নামাযে ৪টি সালাম করেননি।

অতএব, ৪টি সালাম হতে পারবে না।

বলাবাহুল্য, শেষ সালাম ২টির কম হবে না, আবার বেশিও হবে না। তাহলে সে হিসেবে অবশ্যই সিজদায়ে সাহুর পূর্বের সালাম ১টি হওয়াই নির্দিষ্ট হয়।

তাছাড়া সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম এর বর্ণিত হাদীছের ব্যাখ্যায় হযরত আবূ হুরায়রাহ রাযি. বলেন:

قال أبو هريرة: «فتقدم النبي صلى الله عليه وسلم فصلى ما بقي من صلاته ثم سلم، ثم سجد سجدتين، ثم سلم » معناه: سلم عن يمينه، ثم سجد سجدتين، ثم سلم عن شماله.



অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রাহ রাযি. বলেন: “অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে গেলেন, এরপর তার নামাযের অবশিষ্ট অংশ আদায় করলেন। তারপর সালাম ফিরিয়ে দুটি সিজদা করলেন, এরপর সালাম ফিরালেন।” এর মানে হলো, তিনি তার ডান দিকে সালাম ফিরিয়ে দুটি সিজদা করলেন, এরপর বাম দিকে সালাম ফিরালেন।

قال في “الدر المختار”: “(يجب بعد سلام واحد عن يمينه فقط) لأنه المعهود، وبه يحصل التحليل وهو الأصح . وعليه : لو أتى بتسليمتين ، سقط عنه السجود. ولو سجد قبل السلام : جاز ، وكره تنزيها”.

قال ابن عابدين في حاشيته عليه (2/ 78): “(قوله واحد) هذا قول الجمهور، منهم شيخ الإسلام، وفخر الإسلام. وقال في الكافي: إنه الصواب، وعليه الجمهور، وإليه أشار في الأصل اهـ إلا أن مختار فخر الإسلام : كونه تلقاء وجهه من غير انحراف.

وقيل يأتي بالتسليمتين، وهو اختيار شمس الأئمة ، وصدر الإسلام أخي فخر الإسلام ، وصححه في الهداية والظهيرية والمفيد والينابيع، كذا في شرح المنية. قال في البحر: وعزاه أي الثاني في البدائع : إلى عامتهم، فقد تعارض النقل عن الجمهور اهـ.

(قوله عن يمينه) احتراز عما اختاره فخر الإسلام ، من أصحاب القول الأول كما علمته.

وفي الحلية: اختار الكرخي وفخر الإسلام وشيخ الإسلام وصاحب الإيضاح : أن يسلم تسليمة واحدة. ونص في المحيط على أنه الأصوب. وفي الكافي على أنه الصواب.

قال فخر الإسلام: وينبغي على هذا أن لا ينحرف في هذا السلام، يعني فيكون سلامه مرة واحدة تلقاء وجهه.

وغيره من أهل هذا القول : على أنه يسلم مرة واحدة عن يمينه خاصة. اهـ.

:والحاصل :

أن القائلين بالتسليمة الواحدة : قائلون بأنها عن اليمين ؛ إلا فخر الإسلام منهم : فإنه يقول إنها تلقاء وجهه ، وهو المصرح به في شروح الهداية أيضا ، كالمعراج و “العناية” و”الفتح”.

(قوله لأنه المعهود) تعليل لكونه عن يمينه .

(وقوله وبه يحصل التحليل) : تعليل لكونه واحدا، ويأتي وجهه قريبا…

 (قوله وعليه لو أتى إلخ) : هذا جعله في البحر قولا رابعا. واستظهر في النهر أنه مفرع على القول بالواحدة، وتبعه الشارح، ويؤيده ما وجهوا به القول بالواحدة من أن السلام الأول لشيئين: للتحليل وللتحية؛ والسلام الثاني للتحية فقط ، أي تحية بقية القوم ، لأن التحليل لا يتكرر؛ وهنا سقط معنى التحية عن السلام ، لأنه يقطع الإحرام ، فكان ضم الثاني إليه عبثا، ولو فعله فاعل لقطع الإحرام. قال في الحلية بعد عزوه ذلك إلى فخر الإسلام حتى إنه لا يأتي بعده بسجود السهو كما نقله في الذخيرة عن شيخ الإسلام، ومشى عليه في الكافي وغيره. اهـ.

وفي المعراج قال شيخ الإسلام: لو سلم تسليمتين لا يأتي بسجود السهو بعد ذلك ، لأنه كالكلام. اهـ. قلت: وعليه فيجب ترك التسليمة الثانية .

(قوله جاز) هو ظاهر الرواية، وفي المحيط: وروي عن أصحابنا : أنه لا يجزئه ، ويعيده .. ” انتهى.

وأما إعادة التشهد بعد سجود السهو : فهو مذهب الحنفية أيضا . كما في “بدائع الصنائع” (1/715) . 

আবার সালাম ফিরানোর পূর্বেও সাহ সেজদা করা যায় ।



# আব্দুল্লাহ ইবনু বুহায়না আল আসাদী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে , একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যুহরের সালাতে (দ্বিতীয় রাকাআতে) বসার পরিবর্তে দাঁড়িয়ে গেলেন । সালাত শেষ করার পর সালাম ফিরানোর আগে তিনি বসা অবস্থায় তাকবীর সহকারে দুটি সিজদা করলেন । তাঁর সাথের লোকেরাও সিজদা করলো । ভুলে বর্জিত বসার পরিবর্তে এ সিজদা । (সহীহ । ইবনু মাজাহ ১২০৬ , ১২০৭ । বুখারী । মুসলিম ।)

এই অনুচ্ছেদে আব্দুর রহমান ইবনু আওফ (রা) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে । আবু হুরায়রা ও আব্দুল্লাহ ইবনু সায়িব (রা) হতে বর্ণিত আছে , তারা উভয়েই সালামের পূর্বে সাহু সিজদা করতেন । সনদ সহীহ । সায়িব তিনি ইবনু উমাইর । আবু ঈসা (রহ) বলেন : বুহায়নার হাদীসটি হাসান সহীহ ।

কিছু আলেম এই হাদীসের উপর আমল করেন । ইমাম শাফেঈ এই মত পোষণ করেন । তার মতে সকল সাহু সিজদাই সালামের পূর্বে । তিনি আরও বলেন , এই হাদীস অন্যান্য হাদীসের নাসিখ । কেননা এটাই রাসূলুল্লাহ (সা) এর সর্বশেষ আমল । ইমাম আহমাদ ও ইসহাক্ব বলেন , কোন ব্যক্তি যদি দ্বিতীয় রাকাআতের পর দাড়িয়ে যায় তাহলে ইবনু বুহায়নার হাদীস অনুযায়ী সালামের পূর্বেই সাহু সিজদা করবে ।

قال النووي في المجموع: مذهبنا الواجب تسليمة واحدة، ولا تجب الثانية، وبه قال جمهور العلماء أو كلهم.

তবে ;

হানাফি ফিকহের মতে,

সিজদায়ে সাহু দেওয়া ওয়াজিব হয় এমন কোনভুল করলে, শেষ বৈঠকে শুধু আত্তাহিয়্যাতু পড়ে, ডান দিকে একবার সালাম ফিরিয়ে الله اكبر বলে, পরপর দুইটা সিজদা করবে। ২ সিজদার মাঝখানে অবশ্যই কমপক্ষে ১ তাসবীহ পরিমান সোজা হয়ে বসতে হবে। সিজদাদ্বয় করার পর বসে আবার আত্তাহিয়্যাতু-দুরুদ-দুআ মাছূরা পড়ে দুই দিকে সালাম ফিরাবে।

উল্লেখ্য, ডান দিকে সালাম না ফিরিয়ে সিজদায়ে সাহু করলেও আদায় হবে। কিন্তু মাকরূহে তানযীহী হবে।

অবশ্য ইমামের পেছনে নামায পড়া অবস্থায় ইমাম যেভাবে সিজদায়ে সাহু দিবে মুক্তাদিকেও সেভাবেই সিজদায়ে সাহু দিতে হবে। এতে মুক্তাদির নামাযে কোন সমস্যা হবে না।

قال ابن المنذر: أجمع كل من أحفظ عنه من أهل العلم أن صلاة من اقتصر على تسليمة واحدة جائزة. وحكى الطحاوي، والقاضي أبو الطيب، وآخرون عن الحسن بن صالح أنه أوجب التسليمتين جميعاً، وهي رواية عن أحمد. انتهى.

উত্তর প্রদান:

মুফতী মাসুম বিল্লাহ

সিনিয়র মুহাদ্দিছ ও মুফতী

জামিআ ইসলামিয়া দারুল উলূম ঢাকা

প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে ও

আল কোরআনের সূরা সমূহ বাংলা অনুবাদ, ফজিলত, আয়ত, রুকু আরবি ও বাংলা উচ্চারণ  

আমাদের নতুন ইসলামিক নিউজ ও জিজ্ঞাসা ভিত্তিক সাইড

Islamic Info Hub ( www.islamicinfohub.com ) আজই ভিজিড করুন !! 


Post a Comment

0 Comments